ফন্ট সাইজ:
থিম:
চোখের আড়ালে ভালোবাসা

পর্ব 2

লেখক: মেহেজাবিন আভা

২য় পর্ব —

---------------

নতুন স্কুলে প্রথম কয়েকটা দিন আভার বেশ অচেনা অচেনা লাগত।
শহরের স্কুলের পরিবেশ থেকে একেবারেই আলাদা ছিল এখানকার সবকিছু। তবুও আভার শান্ত স্বভাব আর ভদ্র ব্যবহার খুব দ্রুতই সবার নজরে পড়ে গেল।
কিছুদিন যেতে না যেতেই তার চারজন ভালো বন্ধু হয়ে গেল—ইসরাত, নাইমা, তানু আর তিথি।
চারজন চাররকম।
ইসরাত ছিল সবচেয়ে চঞ্চল। সারাক্ষণ হাসি-ঠাট্টা আর গল্পে ব্যস্ত।
নাইমা ছিল শান্ত ও বুঝদার। বন্ধুদের কোনো সমস্যা হলে সবার আগে পাশে দাঁড়াত।
তানু ছিল দুষ্টু প্রকৃতির। সুযোগ পেলেই সবাইকে নিয়ে মজা করত, আর আভাকে একটু ক্ষেপাতে পারলে তো কথাই নেই।
আর তিথি ছিল একটু লাজুক ও নরম মনের। বেশি কথা না বললেও বন্ধুদের জন্য তার ভালোবাসাটা ছিল গভীর।
চারজনের মাঝে আভা ছিল একেবারেই আলাদা।
শান্ত। ভদ্র। চুপচাপ।
তবে পড়াশোনায় ছিল দুর্দান্ত।
ক্লাসে কোনো প্রশ্ন করা হলে আভা খুব বেশি কথা না বলেও সুন্দরভাবে উত্তর দিতে পারত। ধীরে ধীরে স্যার-ম্যাডামদের কাছেও সে খুব প্রিয় হয়ে উঠল।
আর শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকারাই নয়…
আভা যে পুরো স্কুলের নজর কাড়ছে, সেটা সে নিজেও জানত না।
আভা সাধারণত স্কুলে মাস্ক পরে থাকত। এমনকি কোনো স্যার বললেও সহজে মাস্ক খুলত না।
তবে তার চোখ দুটোই যেন যথেষ্ট ছিল।
সেই চোখের দিকে তাকিয়েই অনেকেই চুপচাপ আভার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
কেউ দূর থেকে তাকিয়ে থাকত।
কেউ সুযোগ পেলেই আভার পাশ দিয়ে হাঁটত।
কেউ আবার বন্ধুর কাছে আভার কথা বলতে বলতে লজ্জায় হেসে ফেলত।
বলতে গেলে, আভা তখন পুরো স্কুলেরই একরকম ক্রাশ।
কিন্তু এসবের কিছুই আভার মাথায় ঢুকত না।
কে তাকে পছন্দ করল, কে তাকিয়ে থাকল—এসব নিয়ে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না।
তার নিজের একটা ছোট্ট পৃথিবী ছিল।
পড়াশোনা, বন্ধু আর পরিবার—এই নিয়েই সে ভালো ছিল।
তবে সবার ভিড়ে একজন ছিল একটু অন্যরকম।
তার নাম আরিয়ান।
আরিয়ানও আভার ক্লাসমেট।
আভাকে প্রথম দেখার পর থেকেই ছেলেটা কেমন যেন বদলে গিয়েছিল। আভা স্কুলে এলেই তার চোখ অজান্তেই আভার দিকে চলে যেত।
আভা হাসলে তার মন ভালো হয়ে যেত।
আভা কারও সঙ্গে কথা বললে দূর থেকে তাকিয়ে থাকত।
কিন্তু নিজের মনের কথাটা কখনো বলার সাহস পেত না।
দিনের পর দিন আভার প্রতি তার ভালো লাগাটা আরও গভীর হতে থাকল।
তবুও আভা কিছুই বুঝতে পারেনি।
একদিন স্কুলে একটা গ্রুপ ক্লাসের আয়োজন করা হলো। সেদিনই প্রথম আরিয়ানের সঙ্গে আভার ভালোভাবে কথা হয়।
প্রথমে খুব সাধারণ কিছু কথা।
তারপর পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা।
তারপর একটু একটু করে গল্প।
সেদিনের সেই ছোট্ট পরিচয়টাই যেন তাদের বন্ধুত্বের শুরু হয়ে গেল।
এরপর থেকে আরিয়ান আর আভা প্রায়ই একসঙ্গে কথা বলত।
কখনো পড়াশোনা নিয়ে।
কখনো বন্ধুদের নিয়ে।
কখনো একেবারে অকারণ কোনো বিষয় নিয়েও।
আরিয়ান প্রতিদিন একটু একটু করে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ছিল আভার প্রতি।
কিন্তু আভার কাছে আরিয়ান ছিল শুধুই একজন খুব ভালো বন্ধু।
সে কখনো ভাবেনি, তার এই বন্ধুটাই তাকে মনে মনে এতটা ভালোবাসে।
আরিয়ানও কিছু বলেনি।
হয়তো ভয় ছিল—
যদি বলে ফেলে, তাহলে এই সুন্দর বন্ধুত্বটুকুও যদি হারিয়ে যায়?
তাই নিজের ভালোবাসাটা নিজের মধ্যেই রেখে দিল সে।
আর আভা?
সে তো তখনও একদম নিশ্চিন্ত।
সে জানতই না, তার খুব কাছের একজন মানুষ প্রতিদিন নীরবে তাকে ভালোবেসে যাচ্ছে।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন