১৭তম পর্ব —
অতীতের দরজায় প্রথম কড়া নাড়া
___________
রাতটা যেন কিছুতেই শেষ হতে চাইছিল না।
বাবার বলা শেষ কথাগুলো বারবার কানে বাজছিল আভার।
“ঢাকায় যাওয়ার পর এমন কিছু জানতে পারবে, যা আমাদের পরিবারের পুরোনো ইতিহাস বদলে দিতে পারে।”
কী এমন ঘটনা, যার সঙ্গে তার ছোটবেলার সম্পর্ক? আর সামিরাই বা কে? জন্মের পর থেকেই তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষ, অথচ আভা কখনো তার নামও শোনেনি!
বিছানায় শুয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল আভা। সামিরার পাঠানো মেসেজটা এখনো সেখানেই পড়ে আছে।
সামিরা: “তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে, আভা। তবে সবকিছু মেসেজে বলা সম্ভব নয়। সময় হলে দেখা হবে।”
আভা কয়েকবার মেসেজটার উত্তর লিখেও মুছে ফেলল। শেষ পর্যন্ত শুধু লিখল—
আভা: “আপনি আমার সম্পর্কে এত কিছু জানেন কীভাবে?”
মেসেজ পাঠানোর পর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল সে। কিন্তু কোনো উত্তর এল না।
একসময় ফোনটা পাশে রেখে চোখ বন্ধ করল আভা। কিন্তু ঘুম যেন আজ তার কাছ থেকে অনেক দূরে।
সকালে নাশতার টেবিলে বসে আভা লক্ষ করল, মা-বাবা দুজনেই কেমন যেন চুপচাপ।
মা রুটি আর ডিম এগিয়ে দিতে দিতে বললেন,
—কী হয়েছে তোর? আজ এত চুপচাপ কেন?
—কিছু হয়নি।
—রাতে ঠিকমতো ঘুমাসনি?
আভা মায়ের দিকে তাকাল।
—মা, সামিরা আন্টির সঙ্গে কি তোমার এখনো কথা হয়?
প্রশ্নটা শুনে মাহমুদা বেগমের হাত থেমে গেল। তিনি একবার স্বামীর দিকে তাকালেন, তারপর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বললেন,
—অনেক দিন কথা হয় না।
—কেন?
—সব মানুষের সঙ্গে তো আর সব সময় যোগাযোগ থাকে না, মা।
আভা আরেকটু কাছে ঝুঁকে বলল,
—কিন্তু উনি আমাকে চেনেন। আমার ছোটবেলার কথাও জানেন। অথচ আমি উনাকে চিনি না কেন?
এবার রাশেদ আহমেদ পত্রিকাটা ভাঁজ করে টেবিলে রাখলেন।
—আভা, একটা কথা মনে রাখবে। সব সত্য একসঙ্গে জানা যায় না। কিছু সত্য জানার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হয়।
—কিন্তু আমার নিজের জীবন নিয়ে কী হয়েছে, সেটা জানার অধিকার কি আমার নেই?
বাবা মেয়ের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
—অবশ্যই আছে। আর সেই কারণেই তোমাকে সব বলব। তবে ঢাকায় যাওয়ার আগে নয়।
আভা আর কিছু বলল না। চুপচাপ নাশতা শেষ করে নিজের ঘরে চলে গেল।
দুপুরের দিকে আভার ফোনে ইসরাতের কল এল।
—এই মিস ঢাকাবাসী! কী করছিস?
আভা হালকা হেসে বলল,
—কিছু না। তুই?
—আমরা সবাই মিলে বসে আছি। তোর কথা হচ্ছিল।
—আমার কথা আবার কী?
ওপাশ থেকে তানুর গলা শোনা গেল,
—তোর কথা ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই নাকি? তুই চলে গেলে আমাদের আড্ডা কে জমাবে, সেটা ভাবছি!
নাইমা বলল,
—তানু, একটু চুপ করবি? আভা, আমরা ভাবছিলাম তোকে নিয়ে একদিন কোথাও ঘুরতে যাব। যাওয়ার আগে সবাই মিলে একটা সুন্দর দিন কাটাতে চাই।
তিথিও ধীর গলায় বলল,
—হ্যাঁ, তুই চলে যাওয়ার আগে আমাদের সবার একসঙ্গে সময় কাটানো দরকার।
আভার মনটা একটু নরম হয়ে এল।
—ঠিক আছে। তোরা যেখানে বলবি, সেখানেই যাব।
ইসরাত সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
—তাহলে ঠিক আছে। আরিয়ান আর ইরফানকেও জানাব।
আভা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—যা ভালো মনে হয় করিস।
তানু হেসে উঠল।
—কী রে! আরিয়ানের নাম শুনে চুপ হয়ে গেলি কেন?
—তানু!
—আচ্ছা বাবা, আর বলব না।
ফোনের ওপাশে সবাই হেসে উঠল। অনেক দিন পর আভার মনটা একটু হালকা লাগল।
বিকেলের দিকে বাড়ির সামনে একটি গাড়ি এসে থামল।
আভা তখন নিজের ঘরে বসে ডায়েরি লিখছিল। গাড়ির শব্দ শুনে জানালার কাছে এগিয়ে গেল। দেখল, কয়েকজন মানুষ গাড়ি থেকে নামছেন। তাদের মধ্যে একজন তরুণীও আছেন। হাতে ছোট একটি ব্যাগ, মুখে মিষ্টি হাসি।
কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে মায়ের ডাক এল।
—আভা, একটু নিচে আয় মা। অতিথি এসেছে।
ডায়েরিটা বন্ধ করে নিচে নেমে এল আভা।
বসার ঘরে ঢুকতেই মাহমুদা বেগম বললেন,
—এ হলো আরিশা। আরিশা, এই আমার মেয়ে আভা।
তরুণীটি মিষ্টি করে হেসে বলল,
—তোমার কথা অনেক শুনেছি। অবশেষে দেখা হলো!
আভা সালাম দিয়ে পাশে বসল।
—আপনি কেমন আছেন?
—ভালো আছি। তুমি কেমন আছ?
—আলহামদুলিল্লাহ।
রাশেদ আহমেদ বললেন,
—আরিশা, তোমার আসার কথা তো আরও কয়েক দিন পরে ছিল।
আরিশা হেসে বলল,
—কাজটা একটু আগেই শেষ হয়ে গেছে, আব্বু-আম্মুর সঙ্গেও কথা হলো। তাই চলে এলাম। আর কত দিন বাইরে থাকব বলুন!
আভা বুঝতে পারল, আরিশা আরিয়ানের বড় বোন। আরিয়ান আগেই বলেছিল, তার বোন দুই বছর পর বাড়ি ফিরছে।
কিছুক্ষণ গল্পের পর আরিশা আভার দিকে তাকিয়ে বলল,
—শুনেছি তোমরা ঢাকায় চলে যাচ্ছ?
আভা একটু অবাক হলো।
—জি। বাবার চাকরির বদলি হয়েছে।
—বাহ! তাহলে তো ঢাকায় আমাদের আবার দেখা হবে। আমি তো ঢাকাতেই থাকি।
মাহমুদা বেগম হেসে বললেন,
—ও এখনো নতুন জায়গায় যাওয়ার কথা ভেবে মন খারাপ করছে।
আরিশা আভার দিকে তাকিয়ে বলল,
—নতুন জায়গায় গেলে প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগবেই। কিন্তু বিশ্বাস করো, নতুন জায়গায় অনেক সুন্দর স্মৃতিও তৈরি হয়।
আভা মৃদু হাসল।
—দেখা যাক।
কথার একপর্যায়ে আরিশা নিজের ব্যাগ থেকে একটি ছোট বাক্স বের করল।
—এটা তোমার জন্য।
আভা অবাক হয়ে বলল,
—আমার জন্য?
—হ্যাঁ। কিছু না, ছোট্ট একটা উপহার। প্রথম দেখা বলে কিছু একটা দিতে ইচ্ছে হলো।
আভা বাক্সটা হাতে নিয়ে ধন্যবাদ জানাল।
বাক্সের ভেতরে সুন্দর একটি ডায়েরি আর কলম। ডায়েরির প্রচ্ছদে ছোট ছোট ফুলের নকশা।
আভা মুগ্ধ হয়ে বলল,
—খুব সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ।
আরিশা হেসে বলল,
—তোমার বাবার কাছ থেকে শুনলাম তুমি ডায়েরি লিখতে পছন্দ করো।
আভা এবার বাবার দিকে তাকাল। বাবা শুধু মুচকি হাসলেন।
সন্ধ্যার একটু আগে আরিশার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে আরিয়ানের নাম দেখে সে কল রিসিভ করল।
—হ্যালো, ভাই সাহেব! কোথায় তুমি?
ওপাশ থেকে আরিয়ানের কণ্ঠ ভেসে এল,
—বাসায়। তুমি কোথায়?
—তোমাদের বাসার কাছেই। একটু পর আসছি।
—কী! তুমি চলে এসেছ?
—হ্যাঁ। আর তোমাকে একটা খবর দিতে হবে।
—কী খবর?
আরিশা মুচকি হেসে আভার দিকে তাকাল।
—তোমার এক পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
—কোন পরিচিত মানুষ?
—যার নাম শুনলে তোমার গলার স্বর একটু বদলে যায়।
আরিশা কথাটা বলেই হেসে উঠল।
ওপাশ থেকে আরিয়ান বিরক্ত গলায় বলল,
—আপু, প্লিজ! আবার শুরু কোরো না।
—আচ্ছা, আচ্ছা। পরে কথা হবে।
কল কেটে দিয়ে আরিশা আভার দিকে তাকাল।
—তোমার সঙ্গে আমার ভাইয়ের পরিচয় আছে, তাই না?
আভা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
—জি। আমরা একই স্কুলে পড়ি।
—শুধু একই স্কুলে?
আভা কোনো উত্তর দিল না।
আরিশা আর কিছু না বলে হেসে উঠল।
এদিকে আরিয়ানের ঘরে তখন অন্য পরিবেশ।
ফোনটা রেখে আরিয়ান বিছানায় বসে ছিল। ছোট ভাই আরহাম ঘরে ঢুকে বলল,
—ভাইয়া, আপু নাকি চলে এসেছে?
—হ্যাঁ।
—তাহলে এতক্ষণ ধরে ফোনে কী নিয়ে কথা বলছিলে?
—এমনিই।
আরহাম ভাইয়ের পাশে বসে বলল,
—তোমার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে কোনো বিশেষ খবর পেয়েছ।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে তাকাল।
—তুই নিজের পড়াশোনা কর।
আরহাম হেসে বলল,
—বুঝেছি। ভাবির খবর!
—আরহাম!
—আচ্ছা, যাচ্ছি!
হাসতে হাসতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল আরহাম।
আরিয়ান জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। আভা কয়েক দিন ধরে স্কুলে আগের মতো আসছে না। কথা বললেও আগের মতো স্বাভাবিক নয়। আর কিছুদিন পর সে ঢাকায় চলে যাবে।
কথাটা ভাবতেই বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি তৈরি হলো।
সে ফোন হাতে নিয়ে আভার নাম্বার বের করল। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে মেসেজ লিখল।
আরিয়ান: “আপু এসেছে। তোমাদের বাসায় গিয়েছিল নাকি?”
কিছুক্ষণ পর আভার উত্তর এল।
আভা: “হ্যাঁ। একটু আগে এসেছে।”
আরিয়ান: “তোমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে?”
আভা: “হুম।”
আরিয়ান: “কেমন লাগল?”
আভা কিছুক্ষণ ভেবে লিখল,
আভা: “ভালো। খুব সুন্দর করে কথা বলেন।”
আরিয়ান মেসেজটা পড়ে মুচকি হাসল।
আরিয়ান: “তাহলে ভালো। উনি কিন্তু তোমার কথা অনেক জিজ্ঞেস করেছেন।”
আভা আর কোনো উত্তর দিল না।
আরিয়ান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। একটা ছোট্ট মেসেজের অপেক্ষাও যে এত দীর্ঘ মনে হতে পারে, তা আগে কখনো বুঝতে পারেনি সে।
রাতের খাবারের পর আভা নিজের ঘরে বসে নতুন ডায়েরিটা খুলল।
প্রথম পাতায় নিজের নাম লিখল।
আভা আহমেদ।
তারপর কিছুক্ষণ কলম হাতে নিয়ে বসে রইল। কী লিখবে বুঝতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত লিখল—
“জীবনের কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো মানুষ নিজেই জানে না। অথচ সেই উত্তরগুলোই একদিন তার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে। আমি জানি না সামিরা কে, কেন তিনি আমার ছোটবেলার কথা জানেন, কিংবা বাবা-মা কেন তাঁর নাম শুনলে চুপ হয়ে যান। শুধু জানি, আমার জীবনের এমন কিছু অধ্যায় আছে, যেগুলো সম্পর্কে আমি নিজেই অন্ধকারে।”
লেখা শেষ করে ডায়েরি বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখনই ফোনে একটি নতুন মেসেজ এল।
অপরিচিত নম্বর।
সামিরা: “আভা, আজ তোমার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি এখনো তোমাকে কিছু বলেননি, তাই না?”
আভা দ্রুত উত্তর দিল।
আভা: “না। আপনি আমাকে সবকিছু খুলে বলছেন না কেন?”
কয়েক মিনিট পর উত্তর এল।
সামিরা: “কারণ তোমার জানার আগে তোমার বাবার কিছু কথা বলা প্রয়োজন। তবে একটা কথা বলি, তুমি যে ছবিটা দেখেছ, সেটি তোমার ছোটবেলার একমাত্র ছবি নয়।”
আভার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল।
সে দ্রুত লিখল,
আভা: “তাহলে আরও ছবি আছে?”
সামিরা: “আছে। আর সেই ছবিগুলোর একটিতে এমন একজন মানুষ আছে, যাকে তুমি হয়তো নিজের পরিবারের মানুষ বলেই জানো না।”
আভা আর দেরি করল না।
আভা: “কে তিনি?”
কিন্তু এবার কোনো উত্তর এল না।
আভা ফোনটা হাতে নিয়ে বসে রইল। তার মনে হলো, সামিরা যেন তাকে কোনো সত্যের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু পুরো পথটা দেখাচ্ছেন না।
পরদিন সকালে রাশেদ আহমেদ অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর ফোনে একটি কল এল।
স্ক্রিনে নাম দেখে তিনি কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলেন।
সামিরা।
তিনি ঘরের বাইরে এসে কল রিসিভ করলেন।
—হ্যালো।
ওপাশ থেকে সামিরার কণ্ঠ শোনা গেল।
—রাশেদ ভাই, আর দেরি করা ঠিক হবে না।
রাশেদ আহমেদ নিচু গলায় বললেন,
—আমি জানি।
—আভা সবকিছু জানতে চাইছে। ওর কাছে আমি আর কত দিন চুপ করে থাকব?
—আর কিছুদিন সময় দাও। ঢাকায় পৌঁছানোর পর সব বলব।
—আপনি কি নিশ্চিত, মাহমুদা আপা সবকিছু মেনে নিতে পারবেন?
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
—সেটা জানি না। কিন্তু এবার আর সত্যিটা লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
—তাহলে একটা কথা মনে রাখবেন, রাশেদ ভাই। আভা যেন অন্য কারও কাছ থেকে ঘটনাটা না জানতে পারে।
কল কেটে গেল।
রাশেদ আহমেদ ফোনটা নামিয়ে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
ঠিক তখনই পেছন থেকে মাহমুদা বেগমের কণ্ঠ ভেসে এল।
—সামিরা ফোন করেছিল?
রাশেদ ঘুরে তাকালেন।
—হ্যাঁ।
—ও কি আবার সেই কথাই বলেছে?
—হ্যাঁ। এবার আর লুকিয়ে রাখা যাবে না।
মাহমুদা বেগমের চোখে উদ্বেগ ফুটে উঠল।
—কিন্তু আভা যদি সব জানার পর আমাদের ভুল বোঝে?
রাশেদ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বললেন,
—আমরা যা করেছি, তার পেছনে কারণ ছিল, মাহমুদা। কিন্তু কারণ থাকলেই কি সব ভুল ঠিক হয়ে যায়?
মাহমুদা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না।
দূরে নিজের ঘরে বসে আভা ডায়েরি লিখছিল। সে জানত না, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন তার বাবা-মায়ের কাছেই আছে।
আর সেই উত্তর জানার সময়ও খুব বেশি দূরে নয়।
বিকেলে আভা ছাদে উঠল।
আকাশে মেঘ জমেছে। হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছে। হাতে নতুন ডায়েরি।
হঠাৎ নিচের গেট খোলার শব্দে সে নিচে তাকাল।
গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান।
তার পাশে আরিশা। দুজনেই বাড়ির ভেতরে ঢোকার আগে কিছু একটা নিয়ে কথা বলছে।
একসময় আরিয়ান মাথা তুলে তাকাল।
দোতলার ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা আভাকে দেখতে পেল সে।
দুজনের চোখাচোখি হলো।
আরিয়ান কিছু বলল না। শুধু মৃদু হাসল।
আভাও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
কিন্তু সিঁড়ির দিকে যাওয়ার আগে একবার পেছনে তাকাল সে।
আরিয়ান তখনো দাঁড়িয়ে আছে।
হয়তো কিছু বলতে চায়। হয়তো শুধু আরেকবার দেখতে চায়।
আভা জানে না, সামনে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। শুধু এটুকু জানে, খুব শিগগিরই এই পরিচিত বাড়ি, ছাদ, গাছপালা আর মানুষগুলোকে ছেড়ে যেতে হবে।
আর ঢাকায় গিয়ে হয়তো এমন এক সত্যের মুখোমুখি হতে হবে, যা তার জীবনের সব হিসাব পাল্টে দেবে।
কিন্তু সামিরার কাছে থাকা সেই পুরোনো ছবিতে আসলে কে আছে? আর আভার জন্মের পর এমন কী ঘটেছিল, যা আজও তার বাবা-মা লুকিয়ে রেখেছেন?
চলবে…