২১তম পর্ব —
যে পরিচয় আজও অজানা
পরদিন সকাল।
জানালার পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করছে। অথচ আভার চোখে ঘুম নেই। গত রাতের পাঠানো ছবিটা এখনো তার ফোনের গ্যালারিতে খোলা।
দুটি নবজাতক শিশু।
একই হাসপাতাল।
একই তারিখ।
আর ছবির নিচে লেখা সেই রহস্যময় বাক্য।
আভা ছবিটা আরও একবার বড় করে দেখল। ছবির এক কোণে হাসপাতালের নামের কিছু অংশ বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু পুরোটা স্পষ্ট নয়।
সে ছবিটা বাবাকে দেখাবে বলে ফোন হাতে নিল। পরক্ষণেই সামিরার কথাটা মনে পড়ল।
'তোর বাবাকে বলিস না যে আমি তোকে ফোন করেছিলাম।'
আভা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
নিজের জীবনের রহস্য জানতে গিয়েও কেন তাকে এত কিছু লুকিয়ে চলতে হচ্ছে?
ঠিক তখনই মা ঘরে ঢুকলেন।
—কী রে, সকাল থেকে ফোন নিয়ে বসে আছিস কেন?
আভা তাড়াতাড়ি ফোনটা নামিয়ে রাখল।
—এমনিই মা।
—এমনিই? মুখটা দেখে তো মনে হচ্ছে সারারাত ঘুমাসনি।
—ঘুমিয়েছি তো।
মাহমুদা বেগম মেয়ের পাশে বসে চুলে হাত বুলিয়ে দিলেন।
—আভা, একটা কথা বলব?
—বলো।
—তোর বাবা আর আমি চাই, ঢাকায় যাওয়ার আগে তুই একটু নিজের মনটা হালকা কর। নতুন জায়গায় গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করবি। পুরোনো কোনো চিন্তা নিয়ে নিজেকে কষ্ট দিস না।
আভা মায়ের মুখের দিকে তাকাল।
—মা, মানুষ কি চাইলেই অতীত ভুলে যেতে পারে?
মাহমুদা বেগমের হাতটা মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
—সব অতীত ভুলে যেতে হয় না মা। কিছু অতীতকে মেনে নিয়েই সামনে এগোতে হয়।
আভা আর কিছু বলল না।
কিন্তু মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, মা যেন এমন কিছু জানেন, যা এখনো তাকে বলা হয়নি।
### অন্যদিকে — আরিয়ানের বাড়ি
সকালে নাশতার টেবিলে বসে আরিয়ান ফোন দেখছিল।
তার ছোট ভাই আদনান পাশের চেয়ার টেনে বসে বলল,
—ভাইয়া, আজকাল তোকে দেখি ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসিস।
আরিয়ান ফোনটা নামিয়ে রাখল।
—তোর পড়াশোনা নেই?
আদনান হেসে বলল,
—আছে। কিন্তু তোর প্রেমের খবরটা জানাও জরুরি।
—বেশি কথা বলিস না।
—আচ্ছা, নামটা অন্তত বল!
আরিয়ান এবার বিরক্ত হয়ে তাকাল।
—আদনান!
আদনান হেসে উঠে গেল।
ঠিক তখনই আরিয়ানের ফোনে একটি কল এল।
স্ক্রিনে নাম দেখে সে কিছুটা অবাক হলো।
আপু।
আরিয়ান কল রিসিভ করল।
—হ্যালো, আপু!
ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এল।
—কী রে, ছোট সাহেব! বোনের কথা মনে আছে?
—তোমার কথা আবার ভুলে যাই কীভাবে?
—কথায় তো অনেক কিছুই বলিস। কিন্তু ফোন করার সময় কোথায়?
আরিয়ান হেসে বলল,
—আচ্ছা, এবার থেকে নিয়মিত ফোন করব।
—শুধু কথা দিলেই হবে না। একটা খবর আছে।
—কী খবর?
—আমি দেশে ফিরছি।
আরিয়ান অবাক হয়ে গেল।
—সত্যি? কবে?
—খুব শিগগিরই।
—আম্মু আব্বু জানে?
—হ্যাঁ, ওদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
আরিয়ান খুশি হয়ে বলল,
—তাহলে তো বাড়ি আবার জমে যাবে!
ওপাশ থেকে তার বোন হেসে বলল,
—শুধু বাড়ি জমবে না, তোর জীবনেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
—মানে?
—সময় হলে বুঝবি।
কথাটা বলেই সে কল কেটে দিল।
আরিয়ান কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার বোনের কণ্ঠে আজ কেমন যেন অদ্ভুত একটা গাম্ভীর্য ছিল।
### দুপুর — একটি অপ্রত্যাশিত মেসেজ
আভা নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ ফোনে নোটিফিকেশন এল।
অচেনা নম্বর।
"আজ বিকেল পাঁচটায় পুরোনো বাজারের পাশের চায়ের দোকানে আসবে। তোমার জন্মের দিনের ব্যাপারে কিছু কথা আছে।"
আভা মেসেজটা পড়ে স্থির হয়ে গেল।
সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,
"আপনি কে?"
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল,
"যার কাছে তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের একটি উত্তর আছে।"
আভা আবার লিখল,
"আপনাকে আমি বিশ্বাস করব কেন?"
এবার উত্তর আসতে একটু সময় লাগল।
"বিশ্বাস করতে হবে না। শুধু একবার দেখা করো।"
আভা ফোনটা হাতে নিয়ে বসে রইল।
সে কি যাবে?
নাকি বাবাকে সব জানাবে?
অনেকক্ষণ ভেবে সে সামিরাকে ফোন করল।
—হ্যালো, আন্টি।
—কী হয়েছে মা?
—আজ একজন আমাকে দেখা করতে বলেছে।
—কে?
—জানি না। বলেছে, আমার জন্মের দিনের ব্যাপারে কিছু জানে।
ওপাশে সামিরা চুপ হয়ে গেলেন।
—তুই কোথায় দেখা করতে বলেছে?
আভা জায়গাটার নাম বলল।
সামিরা দ্রুত বললেন,
—না, আভা। একা কোথাও যাবি না।
—কেন?
—কারণ আমি জানি না, এখন কাকে বিশ্বাস করা নিরাপদ।
—আন্টি, আপনি কি লোকটাকে চেনেন?
সামিরা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—আমি একটা নাম সন্দেহ করছি। তবে নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলতে চাই না।
আভা বলল,
—তাহলে আমি কী করব?
—তোর বাবাকে জানাস। আর কোনোভাবেই একা দেখা করতে যাস না।
কথাটা শুনে আভা আর কিছু বলল না।
তার মনে হলো, রহস্যটা এখন আর শুধু পুরোনো কিছু ছবি আর কাগজের মধ্যে আটকে নেই। কেউ একজন সত্যিই তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
### বিকেল — আরিয়ানের সঙ্গে কথা
আভা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ আরিয়ানের কল এল।
—হ্যালো।
—কী করছ?
—কিছু না।
—তোমার কিছু না কথাটা শুনলেই মনে হয় তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছ।
আভা হালকা হাসল।
—তুমি এত বুঝতে পারো কীভাবে?
—সবাইকে বুঝতে পারি না।
—তাহলে?
—কিছু মানুষকে বুঝতে ইচ্ছে করে।
আভা চুপ করে গেল।
আরিয়ান আবার বলল,
—শোনো, একটা খবর আছে।
—কী?
—আমার আপু দেশে ফিরছে।
—সত্যি? খুব ভালো খবর তো!
—হুম। অনেক দিন পর সবাই একসঙ্গে থাকব।
—তোমার আপুর সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেবে?
—অবশ্যই। তবে তার আগে তোমাকে ঢাকায় আসতে হবে।
আভা হেসে বলল,
—তুমি কি আমাকে ঢাকায় আসার জন্য অপেক্ষা করছ?
আরিয়ান একটু থেমে বলল,
—শুধু ঢাকায় আসার জন্য না। তোমাকে আবার আগের মতো হাসতে দেখার অপেক্ষাও করছি।
আভা এবার আর হাসল না।
ধীরে বলল,
—আরিয়ান, সবাই সব সময় আগের মতো থাকতে পারে না।
—জানি। তবুও কিছু মানুষকে হারাতে ইচ্ছে করে না।
আভা চুপ করে রইল।
আরিয়ান বুঝতে পারল, মেয়েটার মনের ভেতর কিছু একটা চলছে।
—কোনো সমস্যা হয়েছে?
—না।
—আভা, একটা কথা বলি?
—বলো।
—তুমি যদি কখনো মনে করো, তোমার পাশে কাউকে প্রয়োজন, তাহলে মনে রেখো, অন্তত একজন মানুষ তোমার কথা শুনতে প্রস্তুত আছে।
আভা মৃদু স্বরে বলল,
—ধন্যবাদ।
কল শেষ হলো।
আভা ফোনটা বুকের কাছে ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।
তার জীবনে এত রহস্যের ভিড়েও আরিয়ানের কথাগুলো যেন সামান্য স্বস্তি এনে দেয়।
### সন্ধ্যা — সামিরার পুরোনো ডায়েরি
সামিরা নিজের ঘরে বসে পুরোনো ডায়েরির পাতাগুলো উল্টাচ্ছিলেন।
একটি পাতায় এসে তাঁর হাত থেমে গেল।
সেখানে কয়েক বছর আগের একটি লেখা।
"১৭ জুন। আজ এমন একটি ঘটনা ঘটল, যার কথা কাউকে বলা সম্ভব নয়। দুটি শিশুর জন্ম হয়েছে। অথচ হাসপাতালের সেই রাতের পর থেকে সবকিছু বদলে গেছে। রাশেদকে কথা দিয়েছি, বিষয়টি গোপন রাখব। কিন্তু কত দিন?"
সামিরা লেখাটার ওপর হাত রাখলেন।
তাঁর চোখে পানি জমল।
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
—আপা, ভেতরে আসব?
সামিরা তাড়াতাড়ি ডায়েরি বন্ধ করলেন।
—আয়।
ঘরে প্রবেশ করল একজন মধ্যবয়সী নারী। হাতে চায়ের কাপ।
—আপা, আপনার শরীর ভালো নেই মনে হচ্ছে। কী হয়েছে?
—কিছু না।
—কিছু না হলে আপনি এত চিন্তা করছেন কেন?
সামিরা চুপ করে রইলেন।
নারীটি চায়ের কাপ টেবিলে রেখে বললেন,
—আপা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
—বল।
—আভার ব্যাপারে আবার কি কিছু শুরু হয়েছে?
সামিরা এবার তাঁর দিকে তাকালেন।
—তুমি কীভাবে জানলে?
নারীটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
—কারণ আমিও তো সেই রাতের কিছু ঘটনা জানি।
সামিরা বিস্মিত হলেন।
—তুমি এত দিন কিছু বলোনি কেন?
নারীটি নিচু স্বরে বললেন,
—কারণ সেই রাতে শুধু দুটি শিশুর জন্ম হয়নি, আপা। দুটি পরিবারের ভাগ্যও বদলে গিয়েছিল।
সামিরা স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
—তুমি কী বলতে চাইছ?
নারীটি উত্তর না দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
সামিরা আবার ডায়েরিটা খুললেন।
এবার তাঁর মনে হলো, হয়তো তিনি নিজেও এত দিন পুরো সত্যিটা জানতেন না।
### রাত — একটি পুরোনো ছবি
রাতের খাবারের পর আভা নিজের ঘরে ফিরে এল।
বাবা তখনো নিচে বসে কাজ করছিলেন।
আভা ফোন খুলতেই নতুন একটি মেসেজ এল।
সেই অচেনা নম্বর।
"তোমাকে একটি ছবি পাঠাচ্ছি। ভালো করে দেখো।"
এরপর একটি ছবি এল।
ছবিতে হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনজন মানুষ।
একজন রাশেদ আহমেদ।
একজন সামিরা।
আর তৃতীয় ব্যক্তির মুখ ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
আভা ছবিটা বড় করে দেখল।
হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল লোকটির হাতে থাকা ঘড়ির দিকে।
এমন একটি ঘড়ি সে আগেও দেখেছে।
কোথায় দেখেছে মনে করতে পারছে না।
ঠিক তখনই নিচ থেকে বাবার কণ্ঠ শোনা গেল।
—আভা! একটু নিচে আয় মা।
আভা ফোন হাতে নিয়েই নিচে নেমে গেল।
বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
—কিছু বলবে, বাবা?
রাশেদ আহমেদ মেয়ের হাতে ফোন দেখে জিজ্ঞেস করলেন,
—কী হয়েছে? এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?
আভা আর লুকাল না।
সে ছবিটা বাবার সামনে ধরল।
—এই লোকটাকে তুমি চেনো?
ছবিটা দেখেই রাশেদ আহমেদের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
তিনি ফোনটা হাতে নিয়ে ছবির দিকে তাকিয়ে রইলেন।
—এই ছবিটা তুই কোথায় পেলি?
—একজন পাঠিয়েছে।
—কে?
—জানি না। কিন্তু বাবা, এই লোকটা কে?
রাশেদ আহমেদ কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে বললেন,
—এই মানুষটাকে আমি কখনো ভুলতে পারব না।
আভার বুক ধক করে উঠল।
—কে তিনি?
বাবা ধীরে ধীরে বললেন,
—তিনি সেই মানুষ, যিনি তোর জন্মের রাতের পর আমাদের জীবন থেকে হঠাৎ হারিয়ে গিয়েছিলেন।
আভা বিস্ময়ে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।
—তাহলে এত বছর পর তিনি আবার ফিরে এসেছেন?
রাশেদ আহমেদ উত্তর দিলেন না।
শুধু ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ঠিক তখনই তাঁর ফোনে একটি কল এল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম।
ডা. নাসির উদ্দিন।
রাশেদ আহমেদ কল রিসিভ করলেন।
—হ্যালো, ডাক্তার সাহেব?
ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।
—রাশেদ, এত বছর পর তোমাকে একটা কথা জানাতেই ফোন করেছি।
—কী কথা?
—যে রাতের ঘটনাটা তোমরা সবাই ভুলে থাকতে চেয়েছিলে, সেই রাতের আসল নথি আমি খুঁজে পেয়েছি।
রাশেদ আহমেদ উঠে দাঁড়ালেন।
—কোথায় পেয়েছেন?
—আমার পুরোনো চেম্বারে। আর নথিতে এমন একটি তথ্য আছে, যেটা জানার পর তোমার অনেক পুরোনো ধারণা বদলে যাবে।
—কী তথ্য?
ডাক্তার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—সেদিন হাসপাতাল থেকে যে দুটি শিশুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাদের একজনের পরিচয় নিয়ে বড় ধরনের ভুল হয়েছিল।
কথাটা শুনে রাশেদ আহমেদের হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
আভা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
—বাবা, কী হয়েছে?
রাশেদ আহমেদ কোনো উত্তর দিলেন না।
শুধু ধীরে ধীরে সোফায় বসে পড়লেন।
### শেষ দৃশ্য — অজানা এক সত্য
ঢাকার একটি নির্জন ঘরে সেই নীল পোশাকের তরুণীটি ফোন হাতে বসে আছে।
ফোনে একটি মেসেজ এসেছে।
প্রেরক—ডা. নাসির উদ্দিন।
"পুরোনো নথি পাওয়া গেছে। এবার আর সত্যিটা লুকানো সম্ভব হবে না।"
তরুণীটি মেসেজ পড়ে চোখ বন্ধ করল।
তারপর নিজের কাছে থাকা ছবিটি হাতে নিল।
ছবির পেছনে লেখা—
১৭ জুন — আভা ও ______।
তরুণীটি ফিসফিস করে বলল,
—আভা, এবার হয়তো আমাদের দেখা হওয়ার সময় এসেছে।
তারপর ফোনের গ্যালারি খুলে আরেকটি ছবি বের করল।
ছবিতে ছোট্ট একটি শিশু। ছবির নিচে লেখা একটি নাম—
সামিরা।
তরুণীটির চোখে পানি জমে উঠল।
—এত বছর পরও কি আমাকে চিনতে পারবি?
কিন্তু প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার মতো কেউ সেখানে ছিল না।
অন্যদিকে আভা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার মনে একটাই প্রশ্ন—
যদি সত্যিই তার জন্মের রাতের পরিচয় ভুল হয়ে থাকে, তাহলে এত বছর ধরে সে কাকে নিজের পরিবার বলে জেনে এসেছে?
চলবে...