#প্রেমের_বাজিমাত
#লেখনিতে_রোজ_ও_রুশা
#পাঠ_১
❌কপি করা নিষেধ ❌
>>>>>
একটা ৫ বছরের মেয়ে বায়না ধরেছে ১০ বছরের ছেলেকে বিয়ে করবে। ভাবা যায়? যেখানে বিয়ে সম্পর্কেই কিছু বুঝে না মেয়েটা। ছেলেটার ক্ষেত্রেও তাই। কিভাবে এই ধারণাগুলো এই ছোট মাথায় এলো? এদিকে মেয়েকে সারাদিন বিয়ের কথা ভুলাতে তৌহিদা, জিহান কত জায়গায় ঘুরাঘুরি করেছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এই পুচকে মেয়ের মাথায় কিভাবে এই কথা এঁটেছে, যে ভুলতেই পারছে না! পারবেই বা কী করে? এদিকে যে প্রাণপ্রিয় বান্ধবী উরফে ননদ তার মেয়ের মাথায় এগুলো ঢুকিয়েছে। তা কি আর কারো জানা! অল্প বয়সে বিয়ে হলে যা হয় আর কি!! মেয়েটাকে জিহান তালুকদার জিজ্ঞেস করে—
""আম্মু, তোমায় এগুলো কথা কে বলেছে? বাবা কে বলো তো।
কাজল তো মহা বিপদে পড়েছে। এই পুচকে মেয়েকে যা জিজ্ঞেস করে, তাই তুতলিয়ে সব বলে দেয়। বেচারি কাজল তো একবার নিজ স্বামী জাওয়াদ খানের দিকে তাকায়, তো আরেকবার পিচ্চি পরিটার দিকে। একবার বলে দিলে সব শেষ।
বেচারি পানি মুখে নিতেই বলে উঠে ৫ বছরের পিচ্চি পরিটা। বয়স ৫ হলে কী হবে, পিচ্চি পরিটার যে কথা এখনো অনেক আটকে আটকে আসে মুখে। এটার জন্য অবশ্য ডাক্তার দেখাচ্ছে জিহান তালুকদার। তুতলানো কথাগুলো অধিক মাত্রায় শুনতে ভালো লাগে সবার কাছে।
' পা পা পাপা, বিয়ে কলবো লাভান বর কে। বিয়ে কললে তো লাভান বর এর সাতে ঘুমাতে পালবো। তাই বিয়ে কলবো।
" মেয়ের কথায় চোখ বড় বড় হয়ে যায় জিহান তালুকদারের। বিয়ে করলে একসাথে ঘুমাতে পারবে মানে কী? হায়, এই মেয়ের মাথায় কে এগুলো ঢুকিয়েছে? জিহান তালুকদারের ধারণা তার বউ আর একমাত্র আদরের ছোট্ট ফুপাতো বোন —উরফে শালার বউয়ের কাজ এটা। ক’দিন ধরে দুই বান্ধবী কী বিয়ান বিয়ান বলে ডাকাডাকি করছিল। জিহান তালুকদার নিজের বউয়ের দিকে তাকাতেই কাঁদো কাঁদো সুরে বলে দিয়েছে, সে কিছু জানে না। এবার কাজলের দিকে তাকাতেই সেও কিছু বলতে যাবে, তার আগেই তুতলিয়ে তুতলিয়ে বলে উঠে পিচ্চি পরিটা—
""পা পা পাপা তুমি চুন্দরী মা কে কিতু বলো না। আমি তো চুন্দরী মার কতা বলি নি। আমাকে চুন্দরী মা বলে দিয়েচে, চুন্দরী মার কতা বললে তুমি বোকা দিবে। তাওলে আমি তো বুলিনি। তুমি আমাল চুন্দরী মাকে বকা দিচ্চো কেনো পা পাপা!
" এবার জাওয়াদ খান অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। সে তো আগেই ধারণা করেছে এটা তার পিচ্চি বউয়ের কাজ। এবার বন্ধু উরফে একমাত্র বোনের স্বামীর দিকে চেয়ে বলে উঠে—
"শালা, আরো বিয়ে কর পিচ্চি মেয়েকে। সামলাস এবার বউয়ের সাথে মেয়েকে। আমার জীবনটা তো শেষ করলি। নিজের বোনকে ঘাড়ে চেপে দিয়ে। এখন বুঝ শালা!
- জিহান তালুকদার এবার কাজলের সামনে এসে কান টেনে ধরে বলে উঠে—
---এই ফাজিল, তোর মতো বাঁদর বানাতে চাচ্ছিস আমার মেয়েকে? বল, এগুলো কেন শিখালি?
" সর তো হারামি, তোর বউ শিখিয়ে দিয়েছে। তোর বউকে জিজ্ঞেস কর। আমায় কেন বকছিস! হারামি কানটা তো ছাড়। জাওয়াদ দেখছো না, তোমার বন্ধু আমার কানটা ছিঁড়ে ফেলছে তো!
বউ কে এভাবে কান ধরে টানতে দেখে জাওয়াদ খাম বলে উঠে --
" এই শালা, আমার পিচ্চি বউয়ের কান ছাড়। তোর বউয়েরটা ধর। বেশ করেছে শিখিয়ে দিয়েছে। আরো শিখাক তোর মেয়েকে। সব দোষ তোর। আমার বোনটাও তো পিচ্চি। তাও বিয়ে করেছিস! এখন নিজের মেয়ের বেলায় এমন কেন? তারা আমাদের থেকে আধুনিক যুগের হবে। আমাদের থেকে ১০ বছর এগিয়ে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক নয় কি শালা?
" মিষ্টি হাসি দিয়ে কাজল তার স্বামীর বুকে ঝাপটে ধরে। আর তার বোন তৌহিদাও ভাইয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে!!!
ইস, কতই না সুন্দর দৃশ্য। মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
কথায় আছে না, যায় দিন ভালো - আসে দিন খারাপ। আসলে তাই।
চাঁদের আলোয় আঁধার ধরণী যখন নিস্তব্ধ, তখন চাঁদর গায়ে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণে ব্যস্ত কাজল খান। হঠাৎ ফোন কল এসে জানান দেয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা। হাতের স্মার্টফোনটি টেবিলের উপর রেখে নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দেয় কাজল খান । আজ শান্তির একটা ঘুম দিবে।
>>>>>>
জানুয়ারির শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠে এক অন্যরকম সুন্দর। চারিপাশে ফুলের কী বাহার। নাম জানা - না - জানা কত ফুলের সমাহার। সব চেয়ে আকর্ষণ করে বাগান বিলাস ফুলের গাছগুলো। রাস্তার ধার দিয়ে কিছু পথচারীদের দেখা যায় ছবি তুলতে। তার মধ্যে অবশ্য প্রেমিক-প্রেমিকাই বেশি। কিন্তু তারা একেবারে শালীনভাবে ছবি তুলছে।
(বি:দ্র) _____[ ঢাকা শহরের চলাফেরা নিয়ে কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কিছু প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে। অবশ্য আমি রাজনৈতিক বিষয় কিছু বুঝি না। তাই কাল্পনিকভাবে লিখছি। কেউ বাস্তবের সাথে মিলাতে যাবেন না। ধন্যবাদ ]
>>>>>>
" ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে ছাত্রদের প্রভাব ব্যাপক। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন সক্রিয়। যা ক্যাম্পাস জীবনে আন্দোলন, মিছিল, সেমিনার এবং হল-কেন্দ্রিক কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। যদিও সম্প্রতি হলগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। ছেলেমেয়েরা যায় পড়ালেখা করতে। কিন্তু তাদের কোনো কোনো সময় স্বীকার হতে হয় বাজে পরিস্থিতির সাথে। গত ৩ বছর আগেও কী বাজে অবস্থা ছিল হলগুলোতে। গাদাগাদি করে এক রুমে ৬/৭ জন থাকত ২ জনের রুমে। আর সন্ধ্যার পরে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়া হয়ে উঠত অ্যাডাল্টদের মিনি বাসর সাইড । তাই তো কড়াকড়িভাবে এই এরিয়ার এম এল এ এর কাছে দায়িত্ব পড়ে। আর দক্ষতার সাথে ঢাকার অ্যাডভোকেট MLA কাজল খান নিজ ছেলের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেন । যা সুনিষ্ঠার সাথে পালন করে শেহতাজ খান নাভান। তার অবশ্য একটা আলাদা পরিচয় আছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা সে। যার এক ডাকে সারাদেশের স্টুডেন্ট একত্র হয়ে যায়। নাভান ভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র। সবচেয়ে বড় কথা পুরো ভার্সিটি কেম্পাসের মেয়েরা শেহতাজ খান নাভান বলতে পাগল। ফর্সা গালে খোঁচা খোঁচা কুচকুচে দাড়ি। গিটার ঝুলিয়ে দামি বাইক নিয়ে যখন ভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে তখন ছেলে-মেয়ে উভয়েই হা হয়ে তাকিয়ে থাকে। মাশা-আল্লাহ, আল্লাহর সৃষ্টি কতই না সুন্দর। যেমন তার অ্যাটিটিউড, তেমন গানের গলা। আর গিটারটা তো অসম্ভব সুন্দর বাজায়। গানটা সে খুব কম গায়। কিন্তু যখন গায় তখন চারিদিকে হইহই পড়ে যায়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে তার অ্যাডামস অ্যাপল, ঠোঁট, চুল আর সিক্স পেক ওয়ালা বডি। তাকে একবার দেখলে দ্বিতীয় বার তাকাতেই মন চাইবে । কিন্তু এই ছেলের মুডের কারণে মেয়েরা পাত্তা পায় না। তার মেয়ে ফ্রেন্ড বলতে তেমন কেউ নেই। আছে বন্ধু কম ভাই বেশি দুইজন জানে জিগার দোস্ত ও একটা মেয়ে ফ্রেন্ড। ভার্সিটির এরিয়ায় তার একজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে, তার নাম নিলয় চৌধুরী।
~~~~~~
ভার্সিটি ক্যাম্পাসে বাইক নিয়ে ঢুকতেই সব মেয়েরা হা হয়ে আছে শেহতাজ খান নাভানের উপর। এতে যে সে খুব বিরক্ত তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কী, মেয়েরা যে এই সুদর্শন ছেলেকে কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছে এটাই কম কিসের! নাভান এদিক-সেদিক তাকিয়ে কাউকে বিরক্ত নিয়ে খুঁজতেই তার সামনে এসে হাজির হয় নিলয় চৌধুরী। বেশ রাগান্বিত স্বর তার। কিন্তু মুখে হাসি দেখে বুঝা যাচ্ছে তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক। মিষ্টি ভাষায় তারা কথা বলছে। কিন্তু তা যে নয়। সবাইকে দেখায় এক আর আড়ালে তারা আর এক । নিলয় থুতনি ঘষে তীক্ষ্ণ চোখে বলে উঠে—
" শেহতাজ খান নাভান, তুই আবারও আমার পিছু নিয়েছিস? আমাদের কিন্তু চুক্তি হয়েছে তুই তোর ডিপার্টমেন্টে থাকবি আর আমি আমার। আমাদের এরিয়া দুই ভাগে বিভক্ত। কথার বরখেলাপ করছিস তুই?
এবার নাভান চুলগুলো পিছনের দিকে ব্রাশ করে কপাল ঘষে নিলয় চৌধুরীর মতো করে বলে উঠে—
" উফফফ সো স্যাড মি: নিলয় চৌধুরী,,, আবারও হেরে গেলি। ভুলে যাস না তোর এরিয়ার ধার ধারে না এই শেহতাজ খান নাভান। যেখানে পুরো ঢাকা শহর শেহতাজ খানের এক কথায় উঠবে বসবে, আর তুই তোর সো-কল্ড এরিয়ার কথা বলছিস? হাউ ফানি!
নিলয় যেন এবার বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু না, সে নিজের রাগ কন্ট্রোল করে। সামনে নির্বাচন। এখন রেগে কিছু করলে সব হারাতে হবে। আর তার বাবার সম্মানও নষ্ট হবে। সে বখাটে, মেয়েবাজ হতে পারে। কিন্তু বাবার সম্মান নষ্ট হোক তা সে চায় না। যা করে আড়ালেই করে।
সব কিছুর প্রতিনিধি থাকে। আগে যেমন প্রতি ডিপার্টমেন্টে ছিল, কিন্তু এখন তা না। নির্বাচনের জন্য দল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেটা যে কোনো জায়গার হতে পারে। নির্বাচন মানেই দল গঠন ও ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রিয় প্রতিনিধি ঠিক করা। গত তিন বছরে একবারের জন্য নিলয় এই প্রতিনিধি পায়নি। তার একমাত্র কারণ শেহতাজ খান নাভান।
এবার বেশ আঁটসাঁট বেঁধে নেমেছে নিলয়। এখানে হলগুলো দুই ভাগ করা। বলতে গেলে দুই এরিয়ার যার এক এরিয়ার দায়িত্বে আছে শেহতাজ খান নাভান, আরেক এরিয়ার দায়িত্বে রয়েছে নিলয় চৌধুরী । যার হলে স্টুডেন্ট বেশি তার তো দল ভারী থাকবেই। নাভান কটাক্ষ করে মুখে চু চু শব্দ করে বলে—
" মেয়েদের বডি দেখিয়েও দ্য বিগ স্টাইলিশ হ্যান্ডসাম বয় নিলয় চৌধুরী মেয়েদের তার কব্জে নিতে পারে না। সো স্যাড!
নিলয় পাল্টা উত্তরে বলে উঠে—
" এইসব তুই করছিস। আই অ্যাম ড্যাম সিউর। তা না হলে সবাই আমার হলে উঠে, সকাল হতে না হতেই তোর হলে চলে যায় কেন? আর তুই তাদের সিট দিচ্ছিস কেন?
পিছন থেকে অধীর খান কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলে উঠে--
" ভাই নিলয়, শীতকাল এসেছে, তোকে একটা পরামর্শ দেই। আমি আবার ফ্রিতে জ্ঞান দেই। তার জন্য অবশ্য চার্জ নেই না। যাই হোক, তোকে একটা সেই পরামর্শ দেই। তুই চাইলে ট্রিট দিতে পারিস, আমি কিছু মনে করবো না।
ঠোঁটে হাসি রেখে আবার বলে উঠে—
" শীতকাল এসেছে, দিনে সবজি বেচবি আর রাতে পিঠা বেচবি। এই রাজনীতি তোর জন্য না ভাই।
আর পড়াশোনায়ও তো ঘোড়ার ডিম পাশ। থাকার ভিতরে খালি বডিটা!! মগজে বুদ্ধি না থাকলে বটি থুক্কু বডি দিয়ে কী হবে?
-এবার মনে হয় নাভানও হাসলো। কিন্তু না, এই মুডি ছেলেটা তো হাসেই না। এই যে অধীর কত মজার কথা বলে। অন্য সবাই হেসে মাঠে গড়াগড়ি খায়। কিন্তু নাভান নির্লিপ্ত হয়ে বসে থাকে। মাঝে মাঝে অধীরের মনে হয় নাভানের লাভ ফাংশন আর হাসার ফাংশন মহান আল্লাহ তায়ালা দেয়নি। তখন অধীর নিজেকে শান্তনা দেয়—
" থাক বন্ধু, আমার দেখতে তো মাশা-আল্লাহ। কত গুণের অধিকারী। বাইক রাইডার চ্যাম্পিয়ন, নিজের একটা ব্যবসা রয়েছে যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও নাম উজ্জ্বল করছে। থাক, আল্লাহ তো সবাইকে সব দেয় না।
তখন নিজের মনে অধীর আবারও বলে উঠে—
***যদি থাকে নসিবে!!বন্ধু একদিন প্রেমে পড়িয়া একা একা হাসিবে!!***
___ নিলয় বেচারা একটু বেশি অপমানিত হলো যেন। অধীর স্পষ্টবাদী ছেলে, যা বলে ডিরেক্ট। নিলয় আর না দাঁড়িয়ে হুমকি স্বরে বলে উঠে—
" ভাবিস না আমি আমার জায়গা থেকে সরে যাবো। শেষ জিতটা দেখবি আমার হবে। আর তোর ক্ষমতার থেকে কিন্তু আমার ক্ষমতা কম না। আমার বাবা মন্ত্রী ভুলে যাস না। আমি মন্ত্রী আজমির চৌধুরীর ছেলে!!
নিলয়ের উদ্দেশ্যে আবারও অধীর বলে উঠে—
***দুল দুল দুলনি!! মানুষ চিনতে শেখোনি!! বাঁশ খাবে যখনি!! শিক্ষা হবে তখনি!! ***
না, আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না নিলয়। নিলয় যেতে নাভান অধীরের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত স্বরে বলে—
" তোর ফোন কই?
"কেনো?
" দে ফোনটা দে?
পকেট হাতড়ে ফোনটা নাভানের দিকে বাড়িয়ে দিতে গম্ভীর মুখে বলে উঠে নাভান—
" যে ফোন দরকারের সময় কাজে আসে না সেই ফোনের দরকার নেই!!
- বেচারা অধীর না বুঝে হাসিমুখে ফোনটা দিতেই ফোনটা হাতে নিয়ে পুকুরে ছুরে মারে নাভান । বেচারা অধীর ছুটে যায় ফোন উঠাতে। হুজুগের বশে ভুলে বসেছে নাভান লেকে ফোনটা ছুরে ফেলেছে। কী আর! ঝপাস শব্দে পানিতে পড়ে অধীর। চারিদিকের ছেলে-মেয়েরা ছুটে আসে দেখতে। এসে দেখে অধীর রাগি চোখে নাভানের দিকে চেয়ে আছে। তাদের বুঝতে বাকি নেই আবারও নাভানের রাগের স্বীকার হতে হয়েছে অধীরকে। তাদের খুনসুটি সবাই দেখে উপভোগ করে। দুইজন দুই মেরুর। একজন প্রাণবন্ত আরেকজন গম্ভীর। অধীর যখন বুঝতে পারে হুজুগের বসে সে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে দিয়েছে, তখন কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে কোমড়ে দুই হাত রেখে নাভানকে উদ্দেশ্য করে বলে—
"এটা কী করলি তুই? শালা আমার ফোনটাকে কেন হত্যা করলি? এর দায়ে তোর নামে আমি অ্যাডভোকেট কাজল খানের কাছে মামলা দিবো।
ছেলে-মেয়েরা অধীরের কথা শুনে হাসে। মায়ের কাছে ছেলের নামে মামলা দিবে। তাও ফোনের জন্য? লাইক সিরিয়াসলি ? বাইক স্টার্ট দিতে দিতে নাভান বলে উঠে-
" যদি তোর বডি মেয়েদের চোখে ধর্ষণ না করাতে চাস তো জলদি উঠে আয়।
- ব্যাস আর কে পায় অধীরকে। নিজের শরীর দু হাত আড়া- আড়ি ভাজ করে মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলে—
" এই নির্লজ্জ শাকচুন্নিরা দূর' হ' । আমি তোদের চোখে ধর্ষণ হতে চাই না। এটা আমার বউয়ের হক।
বেচারা বউকে তখন কী জবাব দিব, তার থেকে বড় কথা নজর লাগবে তোদের। আমায় আজ কিউটি পাই নজর টিকা দেয়নি। ও মাই গড।
' বলে ছুট লাগায় নাভানের বাইকের পিছু। বেশি দৌড়াতে হয় না অধীরকে। বাইকের স্পিড স্লো হতেই অধীর লাফ দিয়ে উঠে পড়ে।
>>>>>>
_চল না জানু প্লিজ। দুই বছরের ব্যাপার প্লিজ, আমি অনেক কষ্ট করে পাপাকে রাজি করিয়েছি।
- হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপাল বিশ্বের প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে পর্যটনের এক আকর্ষণীয় জায়গা। নেপালের পোখারা অঞ্চলের ধাম্পুস গ্রামটি অন্নপূর্ণা রেঞ্জের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রাম্য পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। নেপালের এই শহরে গত ৫ বছর ধরে এসেছে তারা রাশিয়া থেকে। মেহরিমা ইসলাম হেরা। নামের মতো যেন সুন্দর মেয়েটা। শুধু সুন্দর বললে ভুল হবে। অত্যাধিক সুন্দর এই মেয়ে। রাশিয়ান দেশে জন্মগ্রহণ করার কারণে কি এই সৌন্দর্য? নাকি আল্লাহ তাকে এমন সৌন্দর্যের অধিকারী বানিয়েছে ভালোবেসে, যত্ন করে। না, আল্লাহ তো তার একার না। আল্লাহর সৃষ্টি সব কিছুই সুন্দর, তার মধ্যে একজন সে। অধিক সৌন্দর্যের অধিকারী মেহরিমা ইসলাম হেরা। হেরার মা নেই, বাবা তার ব্যবসার কাজে দেশে দেশে ঘুরে। রুশারও মা নেই। তার বাবা ইতালিতে থাকে। হেরার বাবার সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব। তাই তো মা-হারা দুই মেয়েকে একসাথে রাখে। মেয়েদের যখন যা লাগে, তাই বলতে দেরি হয়, দিতে দেরি হয় না। অত্যাধিক ভালোবাসে মেয়েদের। তাই তো মেয়ের কথা রাখতে বাংলাদেশে যেতেও রাজি হয়ে যান জাওয়াদ খান। রুশা মেয়েটাও অধিক মাত্রায় সুন্দরী। হেরার চুলগুলো কোমর অব্দি আর রুশার চুল বিদেশি স্টাইলে ছোট। দুজনই আগুন সুন্দরী বলা যায়।
হেরা সারাদিন ঘুরঘুর করছে মেয়েটাকে রাজি করানোর জন্য। কিন্তু এই মেয়ে যা ভাব ধরেছে যেন বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ আছে, তা তার অজানা। হেরার তো মন চাচ্ছে থাপ্পড় দিয়ে গালে ব্লাশন ফুটিয়ে তুলতে। কিন্তু না, এই মেয়ের কাছে সব। সে রাজি তো বাংলাদেশ কনফার্ম হবে যাওয়া তার জন্য। হেরার গানের গলা বরাবরই ভালো। সে চায় বাংলা গান, নাট্যশিল্প এগুলো খুব ভালো করে শিখতে। কিন্তু বিদেশে তা হবে না। তাই তো এত তোড়জোড়!
" তোর এই নেপাল শহর ছেড়ে কোন দুঃখে বাংলাদেশে যেতে মন চাচ্ছে? তার চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ আমাদের জন্য অভিশাপ ভুলে গেলি?
" না, ভুলি নি। এর জন্যই তো যাওয়া।
কথাখানা মনে মনে বলে উঠে মেহরিমা ইসলাম হেরা। রুশা এবার সন্দেহভাজন চোখে তাকায়।
" কি ব্যাপার বল তো! তুই নাট্যশিল্পকলা নিয়ে পড়ছিস ভালো কথা। এখানেও তো কত ভার্সিটি আছে। এমনকি ছোট বাবা বলেছে তোকে অন্য দেশে যেতে। কিন্তু তুই ঘুরে ফিরে বাংলাদেশে কেন? কাহিনি কী মামা? শোন, মনের মধ্যে কূটনীতি কিছু চললে ফটাফট বলে ফেল।
রুশার কথার পৃষ্ঠে হেরা বলে উঠে—
"ছি" রুশা, তুই এত দিনে আমায় এই চিনলি? এই জীবন রেখে কী লাভ আমার? যা, আজ থেকে আমি আমার রাস্তায় তুই তোর রাস্তায় চলবি। যেখানে বিশ্বাস নেই সেখানে থেকে কী লাভ?
" হইছে নাটকবাজ মহিলা। নাট্যকার হইতে পারবি তুই। আর পড়াশোনাও তো এই সাবজেক্ট নিয়ে।
" আমি কিছু বললেই এগুলো কথা বলিস! তোর মতো সারাদিন তো উপন্যাসের নায়কদের উপর ক্রাশ খাই না। যাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের নিয়ে সকাল সন্ধ্যা ভাবিস। ছে!! ছোটলোকি ব্যাপার স্যাপার--
হেরার কথায় তড়াৎ গতিতে রুশা বলে উঠে—
" এই তুই উপন্যাসের নায়কের ডায়লগ বললি কেন? একদম আমার হিরোর ডায়লগ বলবি না কপিবাজ মহিলা।
- এবার হেরা বেশ রেগে যায়। খাটের উপর পা ভাঁজ করে বসে চোখ ছোট ছোট করে বলে উঠে—
" এই লুচ্চা মহিলা, আমি খাই তোর উপন্যাসের নায়করা খায়। আমি গাড়ি দিয়ে চলি, তারাও চলে। আমি কথা বলি, তারাও কথা বলে। আরে মহিলা ক,খ,গ,ঙ, অ থেকে ঔ এর ভিতরে যা শব্দ গঠন হবে তাই কি কপি নাকি!! তাহলে তাদের উগান্ডা দেশের ভাষা ব্যবহার করতে বলিস। তোর উপন্যাসের নায়ক ভাগ্য ভালো হাগে না, তা না হলে বলতি আমি ওইটারও কপি করি। গেট আউট।
' এই আবার আউট বললি কেন? আউট বলে আমার কল্পনার হিরো!!
" না, আর সহ্য করা যায় না। এই মেয়েটার স্বভাব এমনই। কে জানি বলেছে অল্প বয়সি যুবক-যুবতীদের মাথা নষ্ট করার একমাত্র মাধ্যম উপন্যাস পড়া। হুম, সে একদম ঠিক কথাই বলেছে। প্রমাণসহ তার একমাত্র জানে জিগার দোস্ত রুশা সিকদার তো আছেই। মেয়েটা এত উপন্যাস পড়ে, এর জন্য তো কোনো ছেলেকেই পছন্দ হয় না। আরে ভাই, ওটা তো নিজে লিখে একটা ক্যারেক্টার তৈরি করে। আর বাস্তবতা তো আলাদা। এই পাগল মেয়েকে তা কে বোঝাবে?
হেরা রাগি চোখে তাকিয়ে মোনাজাতের মতো করে বলে উঠে—
' ও মোর আল্লাহ, এই ডায়লগগুলো পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলো। দয়া করে রহম করো আল্লাহ।
চলবে.......