ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের বাজিমাত

২য় পর্ব

লেখক: রোজ ও রুশা

#প্রেমের_বাজিমাত

#লেখনিতে_রোজ_ও_রুশা

#পাঠ_২

❌কপি করা নিষেধ ❌

>>>>>>

_রুশা ও হেরা বাংলাদেশ এসেছে আজ ১ সাপ্তাহ। এর মধ্যে তাদের ভর্তির সকল রকম ফর্মালিটি পূরণ করা হয়েছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধা ঘন্টা দুরুত্বে ফ্ল্যাট নিয়েছে। রুশা বেচারি তো নখ কাটছে আর রুমে পাইচারি করছে। ফ্ল্যাট থাকতে তারা হলে উঠতে যাবে কেনো? এমনি এক আপুর কাছ থেকে শুনেছিলো—

-- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিট পাওয়া খুব কঠিন!

কেউ শাহবাগ থেকেও হলে সিট পায়। আবার কেউ পঞ্চগড় থেকে এসেও সিট পায় না। হল পলিটিক্স খুবই ভয়াবহ। বড় আপুদের জামা - কাপড় ধোয়া, রান্না করা,তাদের মালামাল এনে দেওয়া । এভাবে টানা কয়েক মাস কাজ করার পর আপুদের মন জয় করে হয়তো একটা লিগ্যাল সিট পাবেন । আর তা না হলে গনরুমে অসহ্য কষ্ট সহ্য করতে হবে। আমি জানি না আপনি কি করেন। আপনি যদি ঢাবিতে সত্যিই ভর্তির ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে আপনার জন্য একটা উপায় আছে। প্রথমে আপনার ঢাবির পরিচিত কোনো বড় ভাই বা বোনের কাছে বিষয়টি বলবেন। এরপরে যখন হলে উঠবেন তখন ওই হলের বড় আপুদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবেন।রোকেয়া,কুয়েত- মৈত্রী, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে খুব ভয়াবহ রাজনীতি চলে। আর শামসুন্নাহার হল,সুফিয়া কামাল হলে রাজনীতি কিছুটা কম।

-- মোদ্দা কথা আপনি যদি ঢাকার স্থানীয় হন, তাহলে সবাই আপনাকে পরামর্শ দিবে হলে না উঠতে। কারন দেশের অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মেয়েরা এসে গনরুমে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আপনি হলে উঠতে খুব বেগ পেতে হবে।আর আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা যদি খারাপ হয় তাহলে হয়তো গনরুমে উঠতে পারেন। তবে সেখানে কষ্ট এবং বড় আপুদের নির্যাতন সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।

-- ২৫-৪০ জন পর্যন্ত /ছাত্রী থাকে। ছেলে মেয়ে উভয়দেরই এরকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গন রুমে কোনো খাট নেই। ফ্লোরের উপর একটির পর একটি তোশক পেতে ছাত্র/ছাত্রীরা শুয়ে থাকে। শোয়ার ব্যবস্থা ইঞ্চিখানেক দুরুত্ব হওয়ায় রাতে প্রচুর গরম লাগে। তাই মাঝে মাঝে হলের ছাদে ছাত্র/ছাত্রীরা গিয়ে ঘুমাই।

##

গণরুমগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস, বই,ব্যাগ,পোশাক ইত্যাদি রাখার ব্যবস্থা নেই। তাই অনেক সময় প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস চুরি হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। সিট গুলো পাশাপাশি হওয়ায় মশারিও অনেকাংশে ব্যবহার করার জায়গা থাকে না। তাই রাতভর মশার কামড়ে ঘুমাতে পারে না ছাত্র/ছাত্রিরা। এর ওপর বাড়তি হিসেবে আছে ছারপোকা। অনেকে তাই না ঘুমিয়ে ঘরের জানালা দিয়ে অপেক্ষা করে রাত পোহানোর। রাতের ঘুম সকালে পূরণ করার ব্যর্থ চেষ্টা থাকে তাঁদের।

-- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আগামীর ভবিষ্যৎ। তাই গণরুমে বসবাসকারী এই ছাত্রদের বসবাসের মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে তাদের সামনের দিনের পথচলা সহজ হবে।

কিন্তু তারা এদিকে লক্ষ করে না।দায়িত্ব দিয়ে রাখে রাজনীতি দলের লিডারদের উপর।

রুশা এক লাফে খাটের উপর বসে কাদো কাদো গলায় বলে উঠে—

-- মামা আমি যাবো না। এতো সুন্দর জীবন আমার।আমি কেন ছার পোকার কামড় আর ওই মহিলাদের কাজ করতে যাবো ? তর শখ থাকলে বল আমার যা কাপর আছে সব আমি তোকে দেই পরিষ্কার করতে। দরকার পরলে ভাড়া করে এনে দিবো । তাও আমি ওই হলে যাবো না!

" কাদো কাদো মুখ করে বলে কথাটা রুশা। হেরা মনে মনে বলে--

এই মেয়ে এতো কথা বলে। কই হেরাও তো বক বক করে তাই বলে এতো ওভার না। না!! বাংলাদেশ যখন এসেছে তখন পাবনা থেকে এই রুসুন রানীকে ঘুরিয়ে আনতে হবে । পাগলের সাথে দেখা করে যদি একটু পাগলামি বন্ধ হয়। হেরা নিজের কাপড় ভাজ করতে করতে বলে উঠে—

-- শোন রসুন রানী ,জানিস সামনে না বই মেলা হবে কিছুদিন পর । যাবি ?

বই মেলার কথা শুনে মেয়েটা সব ভুলে হেরার সাথে ঘেসে বসে হাস্যমুখ নিয়ে বলে উঠে—

"সত্যি বলছিস? এই পাখি বল না, কবে নিয়ে যাবি?

" নিয়ে যেতে পারি । কিন্তু, আমার কথা সব শুনতে হবে ।এসেছি ইনজয় করতে, তাই যদি না করতে পারিস তাহলে এসে লাভ কি?

হেরা থেমে আবার বলতে থাকে—

" আরে আমি থাকতে কিছু হবে না তোর। আমরা ঝামেলায় জরাবো না। জাস্ট সাধারন স্টুডেন্ট দের মতো চলবো।

-- হেরা যা মেয়ে তা রুশার থেকে কে ভালো জানে।তাই তো এতো ভয়। শান্ত মাথায় সব বুঝায় হেরা তার রসুন রানীকে। মেয়েটাও বুঝে । সত্যি বলতে বাংলাদেশের কালচার তাদের খুব ভালো লাগে। আর নাট্যশিল্পকলা তো সব দেশ থেকে এগিয়ে আছে। তাই তো এখানে আসা তার। কিন্তু তারা যে বাহিরের দেশ থেকে এসেছে তা গোপন রাখছে সবার কাছ থেকে। বাংলাদেশের মানুষ একটু অন্যরকম,কিছু মানুষ আছে টাকা পয়সা দেখলে পিছন পিছন ঘুরে । তো কিছু মানুষ আছে ,নিচু ক্লাসের মানুষের সাথে খারাপ বিহেভ করে। তাই তো তারা জানাতে চায় না তারা আসলে কি সোসাইটি থেকে বিলং করে।

>>>>>

- এদিকে অ্যাডভোকেট কাজল খান অধীর এর রুমে এসে তার জ্বর চেক করছে । নাভান কে পাঠিয়েছে মেডিসিন আনতে। নাভান ও গম্ভির মুখ করে চলে গেছে মেডিছিন আনতে। রাত তখন ১১ টার কাটায়,জ্বরের ঘরে ছেলেটা কেমন করছে । কাজল খান ছেলের কপালে চুমু খেয়ে মাথায় জলপট্টি দিতে থাকে। বির বির করে অধীর বলে উঠে—

" কিউটি পাই ! তোমার ছেলে আমার এই অবস্থার জন্য দায়ী।তোমার ছেলের জন্য আমার ফোন টা ইন্তেকাল করেছে। তোমার ছেলের জন্য ওই শাকচুন্নিরা আমার বডিতে মুখ লাগিছে। যার জন্য আমার শরীর ব্যাথা করছে। তোমার ওই পেচা মুখো ছেলের মুখে কি জন্মের সময় মধু দাও নি!কিউটি পাই। নাকি দাম বেশি দেখে কিনতে পারো নি,, তুমি কি আগে গরিব * স ছিলে?

- ছেলের এমন দুষ্ট কথায় কাজল খান মনে হয় মজা পাচ্ছে। এই ছেলেটাই তো তার হাসির কারন। নাভান তো কথাই বলে না ঠিক মতো। যা বলবেন তিনি সব শুনবে! কিন্তু গম্ভির মুখে,, আরে একটু হাসলে কি এমন হয়! ১০ বছর বয়স থেকে ছেলেটার মুখে আজ অব্দি হাসি দেখতে পায় নি কাজল খান । ভাবনার মাঝে নাভান মায়ের হাতে মেডিছিন ধরিয়ে দিয়ে বলে—

" তুমি যাও রুমে" আমি আছি!!

"ছেলের কথায় কাজল খান ছেলের মুখপানে তাকায়। ইস ছেলেটা কি যে সুন্দর হয়েছে। একবার চোখ রাখলে চোখ ফিরাতে মন চায় না। তার কলিজা এই ছেলে। এই ছেলের কিছু হলে সে -যে বাচবে না। এই ছেলেই যে তার দুনিয়া। ইদানিং ছেলেটার গম্ভির ভাব টা বেশি দেখা যায়। আগের থেকে কি ছেলেটা আরো সুন্দর হয়েছে,? হুম হয়েছে। এই যে এখন ছেলেটা কেমন মুখে হালকা দাড়ি রেখেছে তাই তো আরো ভয়ংকর সুন্দর লাগছে। মাঝে মাঝে ভাবে কতো মেয়ে পাগল জানি তার ছেলের বউ হবার জন্য। ছেলের হাত নিয়ে কাণি আঙুলে দাতের কামড় দেয় কাজল খান । শব্দ করে চমু খায় ছেলের কপালে ---

" আমার আব্বাজান,আমার কলিজা।

এবার অধীর বেশ রেগে যায়,ক্ষিপ্ত গলায় বলে—

" কিউটি পাই, এতো দামি জিনিস ওরে দিলা কেন?

আমি কলিজা হবো ।

ছেলের কথায় কাজল খান হাসে,হাস্য মুখে বলে উঠে—

" আচ্ছা একজন ফুসফুস একজন কলিজা। হয়েছে নে এবার মেডিছিন খা।

" নাটক -বাজ পুরুষ।

- কথা খানা বিরবির করে বললেও অধীর শুনে ফেলেছে। তার কান অব্দি কথা খানা যায় নি ঠিকি কিন্তু , অধীর নাভান ঠোঁট নাড়ানোতে বুঝে ফেলেছে সে কি বলেছে! শুধু কি ঠোঁট নাড়ানো সে তো নাভান ইশারায় দিলে সব বুঝে ফেলে।

ছেলেদের খাবার খাইয়ে কাজল খান নিজের রুমে চলে যায়। আর নাভান অধীরের পাশে বসে থাকে।ছেলেটার শরীর মেয়েদের থেকে নাজুক । একটু শরীরে বৃষ্টির ফোটাও পরতে পারে না,,,, জ্বর ঠান্ডা সাথে সাথে এসে ছেলেটাকে কাবু করে ফেলে । নাভান মনে মনে কয়েক টা গালি দেয়। সামান্য একটা ফোনের জন্য পানিতে ঝাপ "লাইক" পানিতে!! তখন মেয়েদের কথা না বললে হয়তো এই ছেলে পানিতেই দাঁড়িয়ে বক বক করে যেতো। মাঝে মাঝে নাভান ভাবে এই ছেলে একটা আহাম্মক । হুম আহাম্মকি তো । শুধু বক বক আর দাত কেলাতে জানে। আর কিছুই শিখাতে পারে নি এই ছেলেকে। নাভান বেলকনিতে গিয়ে গিটার হাতে নেয়, চোখ বন্ধ করে একটা সেড টিউন তোলে। যেই সুরে কাউকে অনুভব করে।

বাবা তোমায় ছাড়া কেউ দেয় না সাড়া

আমি দিশেহারা, পলকেই...

________

আজ সকাল টা একটু অন্যরকম। গত সাতদিন ধরে সূর্য মামার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। আজ কেমন ঝিলিক দিয়ে রোদ উঠেছে। ঢাকার কর্মবেস্ততা শুরু হয়ে গেছে। রিক্সা করে দুই বান্ধবী ভার্সিটিতে যাচ্ছে। রুশার হাত চেপে ধরে আছে হেরা । যতই নিজেকে সাহসি প্রমান করাক ,আসলে সেও ভিতু। কিন্তু উচিত কথার জবাব দিতে ভিতু না একেবারে। রুশা হেরার কথা মতো স্কাট আর টি-শার্ট পরেছে, দুজনেই সেম কিন্তু কালার ভিন্ন। বেচারি রুশার কপালে কি আছে তা একমাত্র উপর আল্লাহ জানে। এই স্কাট টা সে পরতে কম্ফোর্ট ফিল করে না। সে তো জিন্স আর লং কুর্তি পরতে কম্ফোর্ট। সামনে হাওয়াই মিঠাই দেখে ছুট লাগায় রুশা । বেচারি হেরা মহা বিপদে এই মেয়ে তো তাকে পাখি বলে ,আর এই মেয়ে পাখির মতো ফুরুত ফারুত উড়ে যায় । তারো বাচ্চা মন দুজনি সমবয়সি আর বাংলাদেশে এসে এসব দেখে তারো তো ইচ্ছে করছে ছুটে এটা সেটা কিনতে-খেতে । কিন্তু না ,তাহলে মানুষ কি বলবে.? তাইতো খুব কষ্টে নিজের ইচ্ছেগুলো দমিয়ে রেখেছে। নেপালে অনেক সুন্দর জায়গা আছে কিন্তু অনেক রিক্সি জায়গা । তাইতো তারা তেমন বের হতো না। তাছাড়া এসব হাওয়াই মিঠাই রাস্তার সাইডে পাওয়া যায় না,এই যে উপরে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহো বাগান বিলাসের সমারোহ পাশে লেক,আর পাকা রাস্তা,, কি সুন্দর ফুল পরে রাস্তায় বিছিয়ে রয়েছে,,,হেরার তো মনে হচ্ছে সে ভিন্ন এক জগতে এসেছে,,দুই বান্ধবি কম বোন বেশি যুবতী চেটে পুটে খেয়ে মুখ লাল করে ফেলেছে,,,,কেম্পাসে ঢুকতে সবাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে দুই রমনীর দিকে,,, রুশা সবার এমন তাকানো দেখে হেরাকে উদেশ্য করে বলে --

" এই পাখি" আমার মুখে কি দাড়ি টাড়ি গজিয়েছে? দেখ কেমন ডেপডেপ করে তাকিয়ে আছে সবাই আমাদের দিকে।

" রুশার কথায় চারিদিকে তাকিয়ে হেরাও থতমত খেয়ে যায় । সত্যি সবাই তাকিয়ে আছে । তার কারন কি? বুঝতে পারে না দুই রমনী। হেরার হাত কেমন চটচটে হয়ে গেছে । চারিদিক ঘুরে পানির কল পেতেই তার কাছে যায় হাত ধুতে। হাত ধুয়ে যেই পিছে ফিরতে যায় তখনি ধপ্পাস।

-- আরে আরে কি ভাবছেন নায়কের সাথে ধাক্কা লেগেছে? আরে ভাই এটা গল্প নয় এটা বাস্তব।ধাক্কা লেগেছে ঠিকি পরেছে ঠিকি কিন্তু কার সাথে আর কে কার উপর পরেছে? এমন কাহিনি ঘটেছে বলে রুশা তার কল্পনায় ডুব দেয়। চোখ বন্ধ করে বির বির করে বলে—

" হেরা পাখি রে আমার হিরো পেয়েগেছি মনে হয়। এবার উঠে আমায় দিবে এক থাপ্পড় । এক থাপ্পড়ে প্রেম,,, উফফফ হাউ রুমান্টিক। পাখি আমার লজ্জা লাগছে আমি তাকাতে পারছি না!

- আবার! এই মেয়ে আবার কল্পনার জগতে হাড়িয়ে গেছে। এদিকে দুই মেয়ের উপর চাপা পরে তার কোমড় এর হাড্ডি গুরা গুড়া হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

রুশা উপরের বেক্তির বক্ষতলে হাতদিতেই লাফ দিয়ে উঠে যায় । উপরের মেয়েটি বুকে থু থু দিয়ে হাপাতে থাকে আরেকটু হলে তার ইজ্জতভ্রষ্ট হয়ে যেতো। ভাগ্যিস এটা মেয়ে। বেচারি রুশা তো বেক্কল মার্কা হাসি দেয় । কল্পনার জগৎ থেকে বের হয় হেরার ধমকে।

- রসুর বাচ্চা থাপড়িয়ে তর গালে ব্লাসন স্টিকার লাগিয়ে দিবো। উঠ বলছি।

এবার দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি ঘুরে গিয়ে হেরাকে তুলে দাড় করায় । কিন্তু রুশাকে তুলে না। বেচারি বেশ ভয় পেয়েছে তা তার মুখবয়ব দেখেই বুঝা যাচ্ছে। হেরা মেয়েটিকে ধন্যবাদ দেয়।

" ধন্যবাদ তোমায়। বাই দ্যা ওয়ে তোমার নাম কি?

মেয়েটি মায়া ভরা চোখে তাদের দিকে ডেপ ডেপ করে তাকিয়েছে, কিছু না বলতে দেখে হেরা আবার বলে।

" এই ভাবুক রানী কই হারিয়ে গেলে?

রুশার কথায় ধ্যান ভাঙে মেয়েটির। ছোট ছোট চোখ করে তাকিতে থাকে তার দিকে ছোট গলায় বলে উঠে--

আ আমার নাম সুর্বনা রোজ ।

মিষ্টি হাসি দিয়ে হেরা বলে উঠে—

বাহ " সত্যি তুমি আস্ত একটা গোলাপ। আমার নাম মেহরিমা ইসলাম হেরা।

হেরা রুশাকে পরিচয় করাতে যাবে তার আগেই কথার ফোড়ন কেটে রুশা বলে উঠে—

" আমি শানজেনা মেহেরিন রুশা ,ও আমার বোন বেশি বেষ্টি কম,,

রুশা হাত বাড়াতে রোজ নামের মেয়েটি দু কদম পিছিয়ে যায়। যা দেখে হেরা ম্লান হাসে। আর রুশা তিক্ষ্ণ চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে পট পট করে বলে উঠে—

- আরে বইন আমি মেয়ে মানুষ,ছেলে মানুষ নই, যে প্রথম ধাক্কাতে প্রেমে পরে যাবে, হাত ধরাতে চুমু খেতে চাইবো। নাও মোলাকাত করো!

রোজ নাক মুখ কুচকে বলে উঠে—

" তোমার হাত এমনি বেশি চলে,,,একটুর জন্য!!

না লজ্জায় মেয়েটি বলতে পারলো না!!রুশা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলে—

" আরে সব কিছু ঠিক ছিলো, ভার্সিটির প্রথম দিন আসলাম ভালো কথা। ধাক্কাও খেলাম ভালো কথা । কিন্তু হিরোর জায়গায় হিরোইন আসলো কোথা থেকে ?

ছোট লোকি ব্যাপার হয়ে গেলো আমার সাথে!!না এটা মানতে পারছিনা। সবাই আমার সিনারি দেখে ফেলেছে,, কিন্তু আমি পারলাম না কারো সিনারি দেখতে।

হেরা দাতে দাত পিশে দেয় এক লাথি রুশার পায়ে।

" ও জায়ানক্রিতিক গো,ও রিদ খান গো,তোমার ভালোবাসাকে আঘাত করেছে গো,,,

চুপ রুসুন রানী আর একটা কথা বললে, থাপড়িয়ে ব্লাসনের স্টিকার লাগাবো তোর টসটসা গালে।

রুশা গালে দুই হাত দিয়ে না বুঝায় । হেরা যে বেশ রেগে গেছে তা তার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কখন সত্যি গালে ব্লাসনের স্টিকার লাগিয়ে দিবে তার থেকে ভালো চুপ থাকা। হেরা রোজকে সরি বলে। মেয়েটিও সরি একসেপ্ট করে। করবেই না কেনো হেরা কতো সুন্দর করে বাচ্চা বাচ্চা ফেস করে, সরি বলেছে। রোজ মনে হয় বাংলাদেশে এই প্রথম এতো রিয়েল সুন্দরী দেখতে পেয়েছে। রুশা মেয়েটি আর হেরা মেয়েটা হাইটে ৫ ফুট ৩ । সেও তাদের মতই লম্বা। রোজ হেরার সাথে কথা বলছে আর তাদের পরখ করছে। হেরা মেয়েটা অত্যাদিক সুন্দরী। চোখ গুলোতে কি মেয়েটা লেন্স পরেছে মনে হচ্ছে অত্যাধিক কালো। নাকি মেয়েটার চোখেই অত্যাধিক কালো লাগছে! পাপড়ি গুলা লম্বা লম্বা একেবারে কিউট। ,ঠোটের এক সাইডে একটা কালো কুচকুচে তিল,আর থুতনি কেমন কাটা থাকায় মারাত্মক কিউট,ও মায়াবি লাগছে।

রুশা মেয়েটির সুন্দর মেয়েটার গাল গুলা আপেলের মতো। তারো ঠোঁটের উপরে একটা তিল রয়েছে। এমা রোজ এর ও তো তিল রয়েছে। রোজের তো জায়গায় অ জায়গায় তিল রয়েছে । সে কি তাহলে তার তিল ওয়ালা বান্ধবী পেয়ে গেছে? রোজ মেয়েটি যখন ক্লাস নাইনে ছিলো তখন থেকে বলতো ভার্সিটিতে উঠে নতুন ফ্রেন্ড বানালে, তার মতো দেখে বানাবে যাদের মনে থাকবে না অহংকার থাকবে না হিংসা। যারা হাটলে মনে হবে একটা গেং যাচ্ছে। আর দেখতে প্রায় একিরকম,,হাইটে, চাল- চলন। রোজের ভাবনার মাঝে হেরা বলে উঠে।

তুমি কোন ইয়ার?

হেরার উত্তরে মেয়েটি বলে উঠে—

অর্নাস ফাস্ট ইয়ার,

হেরা খুশি হয়ে বলে উঠে।

" আমরাও"

বাহ খুব ভালো হয়েছে! তুমি কি হলে থাকো?

"না আমি এসেছি হল খুজতে?

এই মুহূর্তে দুজনের মুখ খানা একিরকম হয়ে গেছে।

" সত্যি আমরাও এসেছি। যাক ভালো হলো,তুমি কি আমাদের ফ্রেন্ড হবে? লাইক একেবারে জানে জিগার ফ্রেন্ড কম বোন বেশি টাইপ?

রোজ এবার দুকদম এগিয়ে গিয়ে হেরাকে বলতে থাকে-

" হতে পারি একেবারে পারফেক্ট আছো তোমরা । কিন্তু এই রসুন রানীর হাত সামলিয়ে রাখতে বলবে।

এইবার হেরা আর রোজ অট্টহাসিতে ফেটে পরে ।বেচাচি রুশা তো বুঝলো না তার হাতের নামে কলঙ্ক এটে দিয়েছে এই মেয়ে। অবশ্য তাতে তার কি তখন সে তাদের কথার পিষ্ঠে বলে উঠতো—

" থাক না দু একটা কলঙ্ক, আমির হাওলাদারের ডায়লগ বলে চালিয়ে দিতো,,

__________

(MLA) বা বিধায়কের প্রধান কাজ হলো তাদের নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা। আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া, রাজ্য সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখা এবং স্থানীয় উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে দাবি উস্থাপন ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

তারা আইনসভায় বিতর্ক করেন, বাজেট অনুমোদন দেন। সরকারের কাজ তদারকি করেন এবং নিজেদের এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। যা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। এডভোকেট কাজল খান আজ একজন নেত্রি সে জনগনের পছন্দের বেক্তি। সবাই আজ তাকে সম্মান দেয়,তার থেকে বড় কথা যখন সে যায় রাস্তা দিয়ে তখন অনেকে বলে--

-ওই যে দেখ শেহতাজ খান নাভানের মা যাচ্ছে। ছেলেটা যেমন ভালো মনের মানুষ তেমন মা ডা ও হইছে এক্কেরে খাটি সোনা। যেমন রুপ তাদের তেমন গুন।

ইস কি যে শান্তি লাগে তখন কাজল খানের । সে সার্থক নারী। একটা মায়ের জন্য এই শব্দগুলো যে কতো দামী তা এক জন মা জানে। ইস সে যদি পারতো সাধারন মানুষের মতো জীবন যাপন করতে।মানুষ দের সাথে চলাফেরা করতে ।তাহলে কতই না ভালো হতো। কিন্তু না সে এখন চাইলেও এগুলা করতে পারবে না। গুরুজনদের বানি ছিলো----

একটা মেয়ে সবসময় হেরে যায় বাস্তবতার কাছে। কখনো তার পরিবারের কাছে, কখনো তার প্রিয় মানুষটার কাছে, আবার কখনো তার ইচ্ছের কাছে। মেয়েরা চাইলেও তার ইচ্ছে মতো চলতে পারে না। তার ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে পারে না। পারে না তার ভালোবাসা দিয়ে কাউকে খুশি করতে, সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হয় মানিয়ে নিতে নিতে। অবহেলা, অপমান, লাঞ্চনা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় মেয়েদেরকে।আসলে সবাই তো মেয়েদেরকে নিজের সুবিধা মতো ব্যবহার করে যায়, মেয়েরা যার কথা মতো চলে তার কাছে সে অনেক ভালো!

(গুরুজনদের বাণী তাই কপি বলবেন না বোঝার জন্য লিখতে হচ্ছে)

হ্যাঁ ভাই এটাই মেয়েদের জীবন!! কিন্তু কিছু মেয়ে আছে তার বিপরীত, তার মধ্যে কাজল খান নামের মহিলা টি রয়েছে। যার নিজের আত্ন- সম্মান সবার আগে।

যেখানে সে নিজেকে একজন সম্মানযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। নিজের সীমা নির্ধারণ করতে পারে(, 'না') বলতে শেখে। এবং সমাজে আরোপিত বৈষম্যমূলক ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানায়। যা তাকে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।নারীর পরিবর্তন ভয়ংকর, যদি যে সঠিক পথে চলতে পারে । তার মনমানসিকতা পবিত্র থাকে।আজ একটা বৈঠকে তাকে সম্মান জানানো হয়েছে । তাইতো দুই ছেলেকে নিয়ে সে সেখানটায় গিয়েছে!

---

You bastard, how dare you say filthy things about my mother. I’ll rip out your tongue and throw it to the dogs.

লোটির বাজে কথা শুনে রাগে তরতর করে কাপছে নাভান। উপরের কথা গুলো রাগে বলে উঠে সে।লোকটি নিজের গলায় হাত দিয়ে বলে উঠে—

" আ আমার কথা বন্ধ করলেও সবার কথা তুমি বন্ধ করবা কেমন কইরা? তোমার মায়ের যা রুপ তাতে আরো ৫/৬ টা বিয়া দেওন জাইবো,,,জোয়ান পোলা আছে ঘরে।স্বামী নাই,আবার বিয়া বহে না কেন? সবাই তো এডাই কয়।

লোকটির ইঙ্গিত বুঝে নাভান।

মায়ের নামে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে লোকটাকে ইচ্ছে মতো মেরে রক্তাত করে ফেলে।

You haven’t grown wings of death yet, but your ticket is confirmed.”

বলে একটা কল লাগায়,, ব্যাস কিছু মুহুর্তে ১ টি গাড়ি এসে তুলে নিয়ে যায় ক জন মুখুসদাড়ি লোক মিলে লোকটিকে।রাগে গাড়ী ফুল স্পিডে বাড়িয়ে শব্দ করে শাই শাই করে চলে যায় চোখের পলকে নাভান ।

ছেলের কাছে যদি কেউ তার মায়ের নামে বাজে কথা বলে , তখন সাধারণত তার অনুভূতিগুলো খুব গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

অসম্মানিত ও অপমানিত লাগে কারণ মা শুধু একজন মানুষ না, ছেলের কাছে তিনি সম্মান, ভালোবাসা আর আত্মার জায়গা । ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড রাগ জমে ওঠে অনেক সময় সেই রাগ মুখে প্রকাশ পায় না। কিন্তু বুকের ভেতর আগুনের মতো জ্বলে কষ্ট ও মানসিক ব্যাথার কারণ হয় ।কথাগুলো শুধু কানে না, সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে লাগে । নিজেকে অসহায় মনে হয় তখন। বিশেষ করে যদি সে তখন কিছু বলতে বা করতে না পারে।

প্রতিশোধ বা প্রতিবাদ এর ইচ্ছে জাগে

কারণ মায়ের অপমান মানে নিজের অস্তিত্বকেই অপমান করা।

বাংলা সংস্কৃতিতে মা হলো সবচেয়ে পবিত্র ও সম্মানিত সম্পর্ক । তাই মায়ের নামে বাজে কথা শোনা ছেলের কাছে শুধু অপমান নয়, এটা তার আত্নসম্মানে সরাসরি আঘাত করে । কিন্তু নাভান যে প্রতিবাদ করে এসেছে ভয়ানক শাস্তি ও দিয়েছে । তারপরো তার বুকের আগুন নিভছে না কেনো?

গাজীপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে শুনশান নিরব জায়গা মধ্যে অন্যতম হলো ভাওয়াল গাজীপুর।

শত শত মানুষ এর কলোহল পেড়িয়ে, যান্ত্রিক রাস্তা পেরিয়ে ২ ঘন্টা ধরে নিজের বাংলো বাড়ির বেলকনিতে বসে আছে নাভান। যখন বেশি মন খাপার হয় তখন সে এই নিরিবিলি জায়গায় এসে সময় কাটায়। আজো তার বেতিক্রম হয় নি।

গিটার হাতে নিয়ে আবারো সুর তোলে—

বাবা তোমায় ছাড়া কেউ দেয় না সাড়া আমি দিশে হারা পলকেই---

অধীর তুমি উঠবে না,ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।

সেই আধ ঘন্টা ধরে ডেকেই যাচ্ছে,,কাজল খান ।কিন্তু ছেলের তো উঠার নাম নেই!!এবার বেশ জোরে দমক দিয়ে বলে উঠে—

" কি হচ্ছে টা কি? অধীর, পড়াশোনা কি করতে চাও না?

ঘুমু ঘুমু কন্ঠে ছেলেটা বলে উঠে—

কিউটি পাই আজ একটা বউ নেই বলে আমার সাথে এই ব্যাবহার?

ছেলের মুখে বউ এর কথা শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকায় কাজল খান ।বুঝেত পারে ছেলে তার ঘুমের ঘরে উলটা পালটা বকছে। এই ছেলের স্বভাব এমন-

"কিউটি পাই আমার সাথে যার বিয়ে ঠিক করা উপর থেকে সে কেনো সামনে আসছে না আমার?আমি তার বিগ ফেন বলে দিও । তার জন্য কোনো মেয়েকে পাত্তা দি না।

কাজল খান তো এবার বেশ রেগে যায় । এই ছেলে মাঝে মাঝে বিয়ে নিয়ে পরে থাকে। বেডের পাশে গিয়ে কান টেনে ধরতে যাবে তার আগে নাভান কান টেনে ধরে। ঠান্ডা হাতের ছোয়া পেতে অধীর এর ঘুম উবে যায়। চেচিয়ে বলে—

ও কিউটি পাই গো,,,ও বউ গোওওও

কই বাচাও আমায় আমার কান ছিড়ে ফেললো।

নাভান আরো জোরে ধরে। না, এবার বেচারার কান ছিরে যাবার উপক্রম।

" আরে ভাই আমার কানের সাথে তোর কিসের শত্রুতা?

উত্তরে নাভান বলে—

" তোর ফোন কই? আর এখন কয় টা বাজে?

কাজল খান মুখ টিপে হাশে। সেও তো নাভান এর মতোই গম্ভির থাকে । কিন্তু এই ছেলে মাঝে মাঝমাঝে এমন কান্ড করে না হেসে পারা যায় না।

অধীর অসহায় চোখে তার কিউটি পাই(কাজল খান ) মায়ের দিকে তাকায়!!সে মা খুব কম বলে মাদার বাংলাদেশ বা কিউটি পাই বলে সারাক্ষন চিল্লাতে থাকে।

-- মাদার বাংলাদেশ তোমার ছেলেকে বলো আমার কান ছাড়তে । তোমার ছেলে যে আমার ফোন টা কে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে তা কি ভুলে গেছে?

নাভান এর এবার হুস আসে সত্যি তো।গতো কাল তো তার ফোন টা লেকের পানিতে ছুড়ে মেরেছিলো। কিন্তু এই ছেলে ফোন না কিনে ঘুমের ঘরে বউ বউ করছে?

নাভান এবার দাতে দাত পিষে বলে—

" তা বউ লাগবে তাই না, বউ বউ করছিস?

যা বাবা সে আবার কখন বউ বউ করছিলো! এই রে কি সুন্দর স্বপ্ন টা দেখছিলো বেচারা। তখন কি ভুল ক্রমে জোরে কিছু বলে ফেলেছে! তার মাদার বাংলাদেশ এর দিকে তাকাতে দেখে সেও একি ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে । তার মানে কিছু ভুল ভাল বকেছে তা ১০০% সিউর। বেচারা মোকলেস মার্কা হাসি দিয়ে বলল—

"" দূর "তোমরা কি বলো?আমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে নাকি?আমি তো ঠিক মতো লুঙ্গি সামলতে পারি না । আর বউ সামলানো বিলাসিতা নয় কি আমার জন্য !!

এবার কাজল খান বলে উঠে--

-- তা বাবা তুমি কবে থেকে লুঙ্গি পরতে শিখছো?

যা আবার ভুল বাক্য প্রদান করে ফেলেছে সে। হুস আসার পর থেকে লুঙ্গি পরেনি কোনোদিন সে ? আবারো মোকলেস মার্কা হাসি দেয়। কাজল কজান ধির পায়ে মুখে হাসি এটে চলে যায়। মা চলে যেতে

নাভান চোখ ছোট ছোট করে তাকায় অধীর এর দিকে-

" তো ফোন কিনিস নি কেন?

" তোর মতো কি আমার বস্তা বস্তা টাকা আছে নাকি যে কিনবো?

' ফোন কিনতে বস্তা টাকা প্রয়োজন হয় নাকি?

নাভান দু হাত ভাজ করে বুকে রেখে ,কথা টা বলে। উত্তরে অধীর কান ডলতে ডলতে বলে—

" আল্লাহর কাছে চাইলে কি কম চাইবো নাকি আজব ।

"" নাভান বলল—

' ও আল্লাহর কাছে চাস তুই তাহলে?

উত্তরে মাথা ঝাকিয়ে সায় জানায় অধীর! নাভান এবার খুব আগ্রহ নিয়ে বলতে যাবে তার আগে রুমের ভিতর আসতে আসতে সৃজন বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে বলে উঠে—

" তা কিভাবে চাচ্ছিস শুনি দেখি আমরাও চাই তোর মতো। যদি পেয়ে যাই।

- সৃজন হলো অধীর আর নাভার এর জানে জিগার দোস্ত। সে কয়েকমাস ধরে দেশের বাহিরে গেছে একটা কাজে । আজ এসেই জানে জিগার দোস্তদের সাথে দেখা করতে চলে এসেছে।এই সৃজন আর অধীর হলো বদের হাড্ডি,। একটা উসকে দেয় তো একটা রিলিজ করে কথা। নিজের কেরেক্টার এর মানুষ পেয়ে ছেলেটা আগের রুপে ফিরে এসে বলে—

" এই গরীবের দিকে একবার মুখ তুইলা চাও" আল্লাহ, একটা দামি ফোন কিনার টাকা দাও । ও খোদা একটা দামি বাইক কিনার টাকা দাও!!তুমি উপর থেকে এক টা টাকার বস্তা ফালাইয়া দাও।

তিন টা বাইক ভার্সিটির ভিতর প্রবেশ করতে,মেয়েরা হা করে তাকিয়ে আছে। আরে তাকাবে না কেনো এমন কিউট ছেলেদের দেখতে চোখ যে ব্যাকুল হয়ে পরে সারাক্ষন।গেটাপ টা প্রায় একিরকম। গুরু যা স্টাইল শিখায় শিশ্যরা তা ফলো করে ট্রেন্ড বানিয়ে ফেলে!!

নাভান হলো যুবকদের স্টাইলিশ আইডল। এই যে চুলের কি একটা কাটিং দিয়েছে,সামনের চুলগুলো লম্বা আর পিছনে ও সাইডের চুলগুলো ছোটো ছোটো করে কাটা । কানের চিপ থেকে দাড়ি সেফ,,যে কোনো সাইড থেকে একেক রকম সুন্দর দেখতে লাগে তখন ছেলেটাকে। এই তো আজ হাপ হাতার সাদা টি-শার্ট আর কালো লেদার জেকেট পরেছে । দামি হেলমেট মাথায়, পিছনে গিটার পুরাই রকস্টার ভাব যেনো এই ছেলের মধ্যে বিদ্যমান। পিছনে সাঙ্গ-পাঙ্গ, তারাও সেম স্টাইল।

>>>>>>>>>>>>

লাল ঘের স্কাট ও সাদা টি-শার্ট পরে দুই বান্ধবী রেডি হয়ে ফোন লাগায় রোজ কে।

একটা মেসেজ দিয়ে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বের হয় রুম থেকে । রোজ ও তাদের সাথে এই ফ্ল্যাটে উঠবে কিছু দিন এর মধ্যে। বাসায় জানিয়েছে তা।

যাক হেরার মাথা থেকে হলে উঠার ভুত সরেছে এটাই অনেক। তার অবশ্য একটা কারন আছে ।

কাল যখন রোজ, হেরা ও রুশা সবার সাথে কথা বলছিলো ,তখন সেখানে অনেক ছাত্রীরা বলেছে হলে নাকি মাঝে মাঝে মেয়েরা ভুত দেখতে পায় । বিশেষ করে নিলয় দের হলরুমে!! তারা নিলয়দের হলেই উঠতে চেয়েছিলো। কিন্তু তার আগেই গুপ্তচরদের কথার ফাদে পরে যায় তিন রমনী। সবচেয়ে ভয় পায় হেরা,তাই তো আপাতত তার ওইসব চিন্তা ভাবনা নেই। আর কাল তো ওই নিলয় ছেলেটার সাথে তার পরিচয় হয়েছে। তাকে হোচোট খেয়ে পড়ে যাওয়া থেকে বাচিয়েছে।হেরা চোখ বন্ধ করে কিছু মনে করে!

________

কাল যখন সিরি দিয়ে উপরে উঠতে যাবে রুশার পায়ের সাথে পা বেজে পড়ে যেতে নিলে হটাৎ একটা হাত খপ করে ধরে ফেলে তাকে,,,

"" Omg কি কিউট,,

এক দেখায় প্রেমে পড়ে যায় নিলয়। তারা কেম্পাস ঘুরতে ঘুরতে সব জানানানি হয়ে গেছে ক্যাম্পাসে এক সুন্দরী রমনীর আগমন ঘটেছে। নিলয় তখন উপরের এক হলে এক মেয়ের সাথে লিপ কিসে বেস্ত ছিলো। কিন্তু তার চামচা এসে সব ভেস্তে দিলো।

বস " একটা সেই খবর আছে।

নিলয় ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে—

" অসময়ে ডিসটার্ব না করলে কি তোর পেটের ভাত হজম হয় না!

বেশ বিরক্ত হয় নিলয়। কিন্তু ছেলেটি তার ডান হাত। তাজা তাজা খবর নিয়ে আসে। তাইতো কন্ট্রোল হারা মুহুর্তে এসেও সে দমে যায়। এই মূহুর্তে অন্য ছেলেরা থাকলে বিরক্ত করার দায়ে মেইন পয়েন্টে আঘাত করে বসতো। আচ্ছা নিলয় যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে মেয়েটা কি তাকে দূর্বল ভাববে? না, এতো ভাবার সময় নেই তার। সে ছেলেটাকে উদেশ্য করে বলে উঠে—

কি তাজা খবর বলে ফেল!

বস " একটা মেয়ে এসেছে ক্যাম্পাসে । সেই সুন্দর একেবারে পরি। মেয়েটার সাথে আরো দুইটা মেয়ে আছে তারাও বহুত সুন্দরী!কিন্তু ওই স্কাট পড়া মেয়েটা সেইইই সুন্দর!! পুরা রাশীয়ান মাইয়া বস""

নিলয় ছেলেটার উদেশ্য বলে উঠে—

- অধীর আর নাভান রা কি ক্যাম্পাসে.?

- না বস তারা আজ আসে নাই ,ক্লাব ও ফাকা তার সাঙ্গু পাঙ্গু রা আড্ডা দিতাছে।

নিলয় বলল—তারা কি হলে উঠবে?

জী বস “

নিলয় বলল—ব্যবস্থা কর সব!

ছেলেটা ভয়ে ভয়ে বলে—

ব বস মেয়েদের মত পরিবর্তন হইয়া গেছে।

আ আমি কতো অনুনয় করছি। জানি না কে কি বুঝাইছে,তারা একেবারে না করতাছে। বস মাইয়াডা এতো সুন্দর কইরা কইছে রাগ ও দেখাইতে পারি নাই বস,। সেই সুন্দর কন্ঠ।

নিলয় চোখ ছোট করে তাকিয়ে বলে উঠে --

মনে হয় বেশ দুর্বল হয়ে গেলি?

" না বস বিশ্বাস করেন বইনের চোখে দেখছি!!

আপনের লগে অনেক মানাইবো বস। আপনের এক দেখায় পছন্দ হইবো সিউর!

নিলয় হাসে। সত্যি ছেলেটা যা বলে তাই হয়। তিহান ছেলেটা তার খাস ছেলে। ছেলেটার রুচি উপরের লেভেলের খাটি সোনা সে খুব ভালো চিনে। বহু প্রমান পেয়েছে।তাইতো মাসে লাক টাকার উপর ব্যায় করে তার পিছনে।

নিলয় যেতে গিয়ে পিছন ফিরে। তার দীর্ঘদিন এর গার্লফ্রেন্ড এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে—

" সাবধান" কোনো রকম মতলব মাথায় আসলে তা ডিলেট করে ফেলো। তা না হলে , তোমায় ডিলেট করতে নেনো সেকেন্ড লাগবে!

মেয়েটি ছলছল চোখে তাকায় নিলয়ের দিকে!

যাই গিয়ে দেখি,,মেয়েটিকে যদি পছন্দ হয় তাহলে ফিটিং টা তুমি করিয়ে দিবে। তুমি তো আবার সেই ফিটিং দিতে পারো।

নেন্সি নামের মেয়েটি নিলয়ের শার্ট এর কলার চেপে ধরে বলে—

আমার সাথে নরম গলায় কথা বলো" আমি ফিটিং দেই " কিসের ফিটিং দেই?

নিলয় এক ঝাটকায় মেয়েটির থেকে কলার ছাড়িয়ে দাত পিষে বলে উঠে—

" কি মনে করেছিস,,তুই আমি কিছু জানি না.? তুই যে ওই নাভান এর পিছু ঘুরে পাত্তা না পেয়ে আমার পিছু এসেছিস । তা আমি নিলয় খুব ভালো করে জানি। আমি আবারো বলছি ,তোকে আমি হারে হারে চিনি। আমার কাজে বাধা দিলে, জাস্ট নেনো সেকেন্ড ইউ ফিনিসড"।

বলে শব্দ করে রুম থেকে বের হয় নিলয় । নেন্সি চোখের পানি মুছে বলে উঠে —

তুমি আমার হবে। আমি তোমাতে মজেছি খুব বাজে ভাবে।আমি থাকতে কোনো মেয়ে তোমার আশেপাশে ভিড়তে পারবে না নিলয় চৌধুরী। এই নেন্সি তা হতে দিলে তো।

বলে ম্লান হাসে। যদিও সে নাভান এর পিছু ঘুরেছিলো অনেক দিন। পাত্তা না পেয়ে নিলয় কে বেছে নিয়েছে। নিলয় ও তো দেখতে একেবারে হট ভি শেপ বডি। এই ছেলে তো মেয়েদের সামনে মাঝে মাঝে শার্ট খুলে হেটে বেড়ায় । এতেই মেয়েরা ফিদা।এদিকে অবশ্য নাভান অধীর,সৃজন আলাদা, মেয়েরা এমনিতে কুপকাত হয় তাদের প্রতি ।ফালতু কাহিনি করতে যাবে কেন তারা ?

তিহান এর কথাই ঠিক। নিলয় তো সত্যি এবার কড়াকড়ি ভাবে প্রেমে পড়েছে। এই মেয়েকে যেভাবেই হোক তার বসে আনতে হবে । তাই তো সুন্দর মিষ্টি ভদ্র ভাষায় কথা বলেছে। হলে না থাকায় সেটাতেও মত দিয়েছে। সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।আবার টি এস সি চত্তরে এসে রিক্সায় উঠিয়ে দিয়ে গেছে। নিলয়ের সাথে এক দিনে কেমন সম্পর্ক হয়ে গেছে ভাবনার মাঝে রুশা বলে উঠে—

কিরে হেরা পাখি কই হাড়ালি?

কাল ওই নিলয় চৌধুরীর কথা,

হেরাকে কথা টা শেষ করতে না দিয়ে মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রুশা বিদ্রুপ কন্ঠে বলে—

" কি মামা, ধাক্কা খে প্রেমে পরে গেছিস? এখন তাকে নিয়ে ভাবছিস? আহা,,,সবারি প্রেম হলো আমারি হলো না। কাল থেকে বই খাতা সব হাতে নিয়ে যাবো ক্যাম্পাসে ।

হাটতে হাটতে হেরা বলে উঠে-

" কেনো ব্যাগ থাকতে হাতে কেনো?

আরে মামা,বই হাতে নিয়ে ক্যাম্পাসে ডুকবো আমি। আর তখন আমার জয় আমির,বা জায়ান ক্রিতিক টাইপ হিরো দের সাথে ধাক্কা লাগবে। আমি বই উঠাতে নিলে সে আমায় উঠিয়ে দিবে— বা আমি নিচে সে উপরে চিৎ পটং হয়ে পরে যাবো। তার ঠোটের সাথে আমার ঠোট ছুই ছুই,নিশ্বাস এর সাথে বুক উঠা নামা,,,উফফফফ হাউ রুমান্টিক,,,তার পর কুচ কুচ হোতাহে না !!

লজ্জামিত্র মুখ করে বলে উঠে রুশা। পরোক্ষনে আবার বলে উঠে—

"কিন্তু মামা ছেলেটার বডি টা সেই কিন্তু? এক্কেরে জায়ান ক্রিতিক টাইপ ভি শেপ বডি !! সেই হট!!

এবার যেনো হেরার নাক মুখ কুচকে যায়। ছেলেটি সুন্দর তাই বলে তার সাথে প্রেম তারপর বডি হট । ছি , এই মেয়ে উপন্যাস পড়ে চয়েজ নাউজুবিল্লাহ মার্কা হয়ে গেছে। তারপর তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক জুটিয়ে দিচ্ছে। হেরা মুখে ম্লান হাসি ফুটিতে বলে—মেয়েটাকে ক্ষেপানো যাক।

" তোর চোখে দুর্রভিক্ষ লেগেছে। এই বডি তোর ভালো লাগে? আবার বলিস জায়ান ক্রিতিক ভি শেপ । আরে বইন আমি এসব বডি ওয়ালা লোক দের চুইংগাম স্যার ডাকি,বুক চেপ্টা পেট চিকন।

রুশা বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তার জায়ান ক্রিতিক এর বডি কে চুইংগাম স্যার এর বডির সাথে তুলনা করেছে।না মানা যায় না, কিছু একটা তো বলতে হবে তা না হলে বড্ড অপমানে জর্জরিত হবে মেয়েটা। ক্ষিপ্ত গলায় বলে রুশা—

" এই হেরা পাখি আমার বেবির বডিকে তুই কার্টুন এর সাথে তুলনা করলি? তর প্রেমিক তর ক্রাস এর বডির থেকে হাজার গুন সুন্দর আমার জায়ান ক্রিতিক এর বডি।

" তা আমি কখন বললাম,ওই লোক আমার ক্রাস? আমার প্রেমিক,থাপড়িয়ে গালে ব্লাসন স্টিকার লাগিয়ে দিবো।

" তোকে অভিশাপ দিলাম তর জীবনে যাতে বডি ওয়ালা লোক আসে। আর তুই সেই বডি ওয়ালার সামনে গিয়ে যাতে বেহুশ হস । আরো অভিশাপ দিলাম খালি দেখতেই পারবা বাট ছুতে পারবা না মামা!!

- দু হাত উপরে তোলে মোনাজান করে বলে উঠে।

" আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করো । আমি একটা ফকির কে হাওয়াই মিঠাই খাওয়াবো । আমিন।

(সবাই আমিন বলো পাঠক পাঠিকারা)

টি এস সি চত্ততে নামতে রোজ ছুটে আসে তাদের কাছে। হাপাতে হাপাতে বলতে থাকে—

" অনেক অনেক ধন্যবাদ তোদের, ফোন কলের জন্য। আমি আমার ফোনের রিংটোন টা বহুত দিন পর শুনলাম। আমায় কেউ ফোন দেয় না!আর আমি রিংটোন টা শুনতে পাই না।

কিছুটা মন ভার করে বলে কথাটা রোজ। এবার হেরা আর রুশা দুজন দুজনের মুখ চাওয়া চায়ি করে প্রশ্ন ছুড়ে—

কেনো রিংটোন শুনতে চাইলে ইউটিউব থেকে সেই গান ডাওনলোড করে শুনতে পারিস।

মেয়েটি রানুমন্ডল মার্কা হাসি দিয়ে বলে উঠে—

উফফফ কেউ কল দিলে গানটা শুনতে সেই লাগে। কল কাটার শেষে গিয়ে ফোন রিসিভ করতে আরো ভালো লাগে।

মেয়েটার ইচ্ছের কথা শুনে হেরা নিজ মাথায় বাড়ি দিতে ইচ্ছে করছে। এতো দিন ছিলো হাফ পাগলের সাথে এখন ফুল পাগল এর সাথে। সে এবার সত্যি এই দুই তারছিরার কবলে পরে মানসিক রুগী হয়ে যাবে।না আর ভাবতে পারছে না সে।রোজ মেয়েটি খুবি চঞ্চল,খুব সহজে সবার সাথে মিশে যায়। অতি তারাতারি মানুষ কে আপন করে নেয়। সেদিনের বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে কিছুটা চুপ ছিলো । কিন্তু নিজ স্বভাব কি আড়াল করা যায় নাকি.? সেও পারে নি। এক দিনে জানের জিগার দোস্ত হয়ে গেছে।তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক সাথে তিন জন থাকবে।

বি:দ্র[ সবাই জানেন আমরা গল্পের পাঠিকা আর সবার থেকে অনুপ্রেরনা নিয়ে লেখা, সবাই সবার বেস্ট কিছু না কিছু দেখে আগ্রহ প্রকাশ করে আমরাও করেছি। আমাদের সাথে দয়া করে প্রফেশনাল লেখিকাদের তুলনা করবেন না।গল্প যদি কোনো গল্পের সাথে মিল থাকে দয়া করে বলে দিবেন ।আমরা নিজেদের মতো আবার এডিট করে নিবো। বানানে ভুল ত্রুটিগুলো বলে দিবেন। সবাইকে অনেক ধন্যাবাদ। আশা করি ভালো লাগলে লাইক,কমেন্ট আর শেয়ার করবেন, সবার কাছে প্রত্যাশা রাখি]

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন