ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের বাজিমাত

৪র্থ পর্ব

লেখক: রোজ ও রুশা

#প্রেমের_বাজিমাত

#লেখনিতে_রোজ_ও_রুশা

#পাঠ_৪

❌ কপি করা নিষেধ ❌

>>>>>>>

“কিরে বল, কী হয়েছে? ওই ভাইয়াটা তখন তোর সাথে এমন করলো কেন?”

বাসায় এসে থ মেরে বসে আছে সেই কখন থেকে হেরা। রোজ, রুশা কখন থেকে জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে কী হয়েছে, কিন্তু হেরা একটা কথাও বলে নি। বলবে কী করে! রাগে তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে। তখন হেরাকে পানি থেকে উঠিয়ে আনে রোজ ও রুশা। সাথে ঝিনুক ছিল, সে সবটাই দেখেছে। একটা মেয়ে যতই খারাপ হোক না কেন, তাকে ওই অবস্থায় সাহায্য করবে না—এমন মেয়ে ঝিনুক না। নিজের শরীরের জ্যাকেট খুলে তাকে একটা রিকশা এনে দিয়ে বলেছিল বাসায় চলে যেতে। হেরা ও কিছু বলে নি, চুপচাপ বাসায় চলে এসেছে। রোজ বুঝতে পারে এই মেয়ে আজ কিছু বলবে না, তাই ফোন নিয়ে অন্য রুমে চলে যায়।

“এদিকে আয়, তোর গালে বরফ দিয়ে দেই। গালে ছাপ বসে গেছে। বেটা শয়তান হিরো! এত সুন্দর ছেলে, অথচ আচরণটা একদম পুরোনো নোকিয়া চার্জারের মতো। শালা! ভার্সিটিতে পড়িস, আবার নেতা-ফেতা! কিন্তু ম্যাচুরিটি এখনো প্লে-গ্রুপের বাচ্চাদের মতো! জানিস না মেয়েদের গায়ে হাত তুলতে নেই? শালা, তোর বউ যাতে তোকে বাসর করতে না দেয়—অভিশাপ দিলাম। আল্লাহ, এই দোয়াটাও কবুল করে নিয়েন। তাহলে একটা বিড়িখোরকে একটা বিড়ি খাওয়ামু, তাও বেনসন!”

—হেরাকে শান্তনা দেওয়ার ভান করে বলে।

“থাক বইন, কান্দিস না। তোরে একটা হাওয়াই মিঠাই বেশি খাওয়ামু, আমার ভাগেরটা দিমু। তাও কান্দিস না!”

হেরা মনে হয় এই দুনিয়ায় নেই। রোজ এসে রুশাকে সব বলে।

সে নিলয়কে ফোন দিয়েছিল, আর তার কাছ থেকে সব জানতে পারে। নিলয় তাদের বলেছে হেরাকে নিয়ে বের হতে, তারা মিট করবে। হেরা প্রথমে যেতে রাজি হয় নি, কিন্তু রুশা আর রোজের কারণে যেতে হচ্ছে। সে মন খারাপ করে আছে বলে দুই বদের হাড্ডিও মন খারাপ করে বসে আছে। সারাদিন কিছু খায়ও নি অবধি।

রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে আছে হেরা ও নিলয়। নিলয় প্রথমে মুখ খোলে।

“প্লিজ হেরা, কথা বলো। আমার খুব খারাপ লাগছে। তোমার নীরবতা আমার ভালো লাগছে না, হেরা।”

হেরা নিশ্চুপ।

“সব দোষ আমার। আমার জন্য তোমাকে এত কথা শুনতে হচ্ছে। আর তার জন্য তুমি আমার সাথে কথা বলছো না।”

হেরা এবার নিলয়ের দিকে তাকায়। ছেলেটা তার জন্য কেমন ব্যাকুল হয়ে থাকে সব সময়। ক্যাম্পাসে সারাক্ষণ তাকে সময় দেয়, তার কত কেয়ার করে। কেউ কিছু বললে প্রতিবাদ করে। হয়তো ওই সময় সে উপস্থিত থাকলে শেহতাজ খান নাভানকে কিছু বলত, তার হয়ে প্রতিবাদ করত। কিন্তু সে তখন ছিল না বিধায় ওই শেহতাজ খান নাভান তাকে থাপ্পড় মেরেছে। আর এখন সেই খবর শুনে ছেলেটা কেমন করছে। হয়তো ভাবছে তার জন্য এমন হয়েছে, নিজেকে অপরাধী করছে। কিন্তু না, সবাই যেটা ভাবে সেটা তো না। তাদের কুরুচিপূর্ণ কথায় সে ধার ধারে না। তারা খুব ভালো বন্ধু।

হেরা নিলয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে—

“দেখুন নিলয় চৌধুরী, আপনি কেন নিজেকে দোষী ভাবছেন? আপনি যা করেননি, তার জন্য নিজেকে দোষী মনে করার দরকার নেই। কেউ আপনার নাম দিয়ে গল্প বানাতে পারে, কিন্তু সেটা সত্য নয়। আমার আর আপনার মধ্যে কোনো বাজে সম্পর্ক নেই। সেটা আমি আর আপনি জানি। এখন কে কী বললো, তাতে আমাদের সমস্যা না থাকলে কে কী বলেছে তা শুনবেন কেন? পিছনে অনেকেই অনেক কথা বলবে। তাই বলে কি আপনি যে যা বলছে, তাই হয়ে যাচ্ছেন?”

নিলয় মন খারাপ করে বলে—

“কিন্তু আমার মন যে অশান্ত হয়ে উঠেছে… আমি কীভাবে ঠিক থাকবো? আমার নাম করে তোমায় বাজে কথা বলেছে, আর আমি কিছু করতে পারছি না!”

হেরা কোমলভাবে এই প্রথম নিলয়ের হাত ধরলো। নিলয় চমকে তাকায় তার দিকে। হেরা বলে ওঠে—

“মন শান্ত হওয়ার জন্য সব সময় সব দোষ নিজের কাঁধে নেওয়ার দরকার নেই। আপনি নির্দোষ, আর আপনি নির্দোষ থাকার সাহস মনে রাখবেন। মানুষ যা বলছে, সেটা তাদের মনোভাব। আপনি নিজে সত্যে থাকেন। নিজেকে দোষারোপ করে আপনি নিজেকেই ক্ষতি করবেন। অন্যরা মজা নেবে সেটা দেখে।”

থেমে আবার বলে হেরা—

“চিন্তা করবেন না। যে ক্ষমতার বড়াই ওই শেহতাজ খান নাভান করে, তার ওই ক্ষমতা, অহংকার আমি ধূলিস্যাৎ করবো। এটা আমার প্রমিস।”

“কিন্তু হেরা, আমার ভয় করে তোমার জন্য।”

“আমি নিজেকে প্রটেক্ট করতে জানি, নিলয় চৌধুরী।”

নিলয় আমতা আমতা করে বলে—

“তুমি ওই নাভানের থেকে দূরে থাকবে, প্লিজ। আমার সহ্য হবে না তার কাছে গেলে।”

রোজ হেসে বলে ফেলে—

“বাহ বাহ! কী ব্যাপার চুইংগাম হিরো, মতলব কী?”

নিলয় মাথা চুলকায়। কী বলবে বুঝতে পারে না। রোজ আবার বলে—

“এত জেলাসি কিন্তু ভালো লক্ষণ না, চুইংগাম হিরো।”

বেচারাকে এখন রোজ আর রুশা “চুইংগাম হিরো” বলে সম্বোধন করে। তাতে অবশ্য নিলয়ের ভালোই লাগে এখন।

হেরা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলে রোজের উদ্দেশে—

“দেখ, আবার মিস্টার নিলয়কে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছিস। ফ্রেন্ড হিসেবে সে আমায় গাইড করতে পারে। তোরা বাজে কথা বলবি না একদম!”

—কিছুটা রাগ দেখিয়ে।

“ফ্রেন্ড”—না, এটা হেরার মুখ থেকে শুনতে আর ভালো লাগে না। মেয়েটা কি বুঝে না তাকে সে পছন্দ করে? নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে?

নিলয় হালকা হাসি দেয়।

রাতে নির্জন জায়গায় তিনটা বাইক দাঁড় করানো। তিনজন বাইকের উপর শুয়ে আছে, এক পায়ের উপর আরেক পা দিয়ে। মূলত তারা চন্দ্র বিলাস করতে এসেছে। মাঝে মাঝে এই জায়গায় আসে তারা তিন বন্ধু। একটা ১০ কি ১২ বছরের ছেলে চায়ের কাপ এনে দেয় তাদের সামনে।

“এই যে ভাইজানরা, এই নেন আদা চা।”

অধীর হেসে বলে ওঠে—

“কিরে বিচ্ছু, তুই এমন মজার চা কোথা থেকে বানানো শিখছিস?”

উত্তরে বিচ্ছু ছেলেটি বলে ওঠে—

“আরে, আমার আম্মার কাছ থেকে।”

এবার নাভান উঠে বসে।

“তা বিচ্ছু, তোর মা এখন কেমন আছে?”

“ভাই, মায় অনেক ভালো আছে। তোমারে যাইতে কয়। তুমি তো অনেক দিন যাও না। আর খালাম্মাও যায় না।”

নাভান আদুরে স্বরে বলে—

“তোর অ্যাডভোকেট খালাম্মা অনেক বিজি, তাই যেতে পারছে না। আমি যাবো সময় করে।”

ছেলেটি হাসি দিয়ে চলে যেতে নিলে নাভান আবার বলে ওঠে—

“বিচ্ছু, তোর পড়াশোনার অবস্থা কেমন?”

“ভাইজান, খুব ভালো চলতাছে। আমি বড় হইয়া তোমার মতো মেস্তরি হমু।”

অধীর বেশ আগ্রহ নিয়ে বলে—

“মেস্তরি মানে?”

“হ ভাইজান, ভাই যেমন হুন্ডা ঠিক করে, নতুন হুন্ডা বানায়—আমি তেমন মেস্তরি হমু।”

বলে ছেলেটা ছুট লাগায়।

অধীর নাভানের দিকে তাকিয়ে হাসে।

“শেষমেষ মেস্তরি! ডিগ্রিওয়ালা মেস্তরি! আজ থেকে ইঞ্জিনিয়ার মুড অফ, মেস্তরি মুড অন!”

বলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।

তারপর তিনজন আড্ডা দিয়ে শপিং মলে চলে যায়, অধীরের জন্য ফোন কিনতে। ফোন কিনতে এসে কিছু শপিংও করে অধীর আর সৃজন।

--- আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া! — (রুশা চিৎকারিয়ে)

--- নায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া! — (অধীর চিৎকারিয়ে)

“লাইফ আপডেট—অধীরের গোপন জিনিস আর গোপন থাকলো না!”

রুশা “আয়ায়া” আর অধীর “নায়ায়া” বলে তো দেয় এক চিৎকার।

ট্রায়াল রুমে দাঁড়িয়ে শার্ট খুলে যেই প্যান্টের চেইন লাগাতে যাবে, তখনই একটা মেয়েকে দেখে দুই হাত দিয়ে ঢেকে ফেলে নিজের মেইন পয়েন্ট! হ্যাঁ, অধীরের কাছে এটাই একটা পুরুষের মেইন পয়েন্ট। যা থাকলে সে পুরুষ, আর না থাকলে তালি-ওয়ালা লোক। তাই তো এটাই সবার আগে।

দরজা খোলা দেখে অধীর জলদি দরজা টেনে ধরে। আরে, এই দরজার সিটকিনি দেখি খুলে গেছে! আর তার জন্য মেয়েটা তার ইজ্জত দেখে ফেলেছে। যত শক্তি আছে দরজা টেনে ধরে আছে অধীর।

শপিং মলটাতে সব কিছুই আছে। ঢাকার খুব নামি-দামি শপিং মল এটা। রুশা বোরিং ফিল করছিল বলে হাঁটতে হাঁটতে তিনতলা শপিং মলে চলে আসে। সারাদিন পর খেয়েছে তারা। মনটা ভীষণ খারাপ ছিল হেরার জন্য। তাই না খেয়ে একটু কষ্ট দিবস পালন করছিল। কিন্তু নিলয় এমন ভালো রেস্টুরেন্টে এনেছে আর খাবারগুলো সেই ছিল, তাই তো ইচ্ছেমতো পেটপূজা করেছে।

পেট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি।

হঠাৎ পেটে মোচড় দেওয়ায় ওয়াশরুম খুঁজছিল। একজন কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করতেই দেখিয়ে দিয়েছে। ওয়াশরুম আর ট্রায়াল রুম বুঝতেই পারছে না কোনটা। লোকটি দেখিয়ে দিয়েছে ডানে, রুশা গেছে বামে। নেপালে তো ওয়াশরুম আর ট্রায়াল রুম কত সুন্দর! এখানের পরিবেশে সে নতুন, তাই বুঝতে পারছে না। এর মধ্যে সাইনবোর্ডে তো “দের” লেখা, আগে-পিছে ছেলে না মেয়ে তা মুছে গেছে। মূলত রং উঠে গেছে।

রুশা দুই-তিনটা ধাক্কা দেয়। সবগুলো বন্ধ। একটা একটু ফাঁকা দেখে যেই ধাক্কা দেয়, তখনই সে সিনারি দেখে ফেলে।

বেচারি সিনারি দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। ভাবা যায়? যে মেয়েটা সিনারি দেখার জন্য পাগলামি করত, সেই মেয়েটা সিনারি দেখে অজ্ঞান হয়ে গেছে।

রুশা যদি সজ্ঞানে থাকত, তাহলে হয়তো বলতো—

“ভণ্ড জয় আমির তো সিনারি দেখাবে বলেছে, সত্যি কি দেখিয়েছিল নাকি? আচ্ছা, অন্তু কি তার সিনারি দেখে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল?”

প্রশ্ন থেকে যায়, কিন্তু উত্তর কে দিবে—অন্তু, জয়, নাকি লেখিকা তেজা আপা!

এদিকে রুশার চিৎকার শুনে রোজ ছুটে আসে। সে তার পিছু পিছু বের হয় রেস্টুরেন্ট থেকে। হেরা আর নিলয়কে স্পেস দিয়ে চলে আসে তারা।

সৃজনও ছুটে আসে। দুইজন দুই মোড় থেকে আসতে ঢুকতে যাবে, তখনই স্লিপ খেয়ে রোজের উপর পড়ে। সৃজন নিজেকে সেভ রাখার জন্য সামনের ব্যক্তিকে ধরতে গিয়ে ওই জায়গায় হাত দিয়ে দেয়। রোজের বেহাল অবস্থা। চোখ-মুখ খিঁচে আছে মেয়েটার।

সৃজন উঠতে যাবে, তখন হাতে নরম কিছু লাগতেই রোজ চিৎকারিয়ে ওঠে। থতমত খেয়ে যায় সৃজন। ছেলেটা একেবারে ঘেমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনোদিন পড়বে তা ভাবতে পারে নি। সে উঠে হুড়মুড়িয়ে চলে যায়। ওই অধীরের কী হয়েছে তা পরে দেখা যাবে, আগে পাবলিকের ক্যালানি থেকে বেঁচে ফিরুক সে। মনে মনে দোয়া পড়ে ছুট লাগায় ছেলেটা—

“লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।”

রোজ উঠে নিজেকে স্বাভাবিক করে। মেয়েটার বুক ধড়ফড় করছে। নিজের সাথে কী হয়ে গেল তা ভুলে ছুটে গেল প্রাণপ্রিয় বান্ধবী রুশার কাছে। এর মধ্যে মলের লোকজন তাদের কাছে আসে। ধরাধরি করে মেয়েটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে নিলয় ও হেরা তাদের কাছে যায়।

রুশা চোখ তুলে তাকাতেই চারিদিক দেখে দৌড় দেয়। সবাই বেকুব হয়ে যায়। হলোটা কী? হেরা ও রোজও ছুটে তার পিছু নেয়। রাস্তায় নামতেই হেরা চিৎকারিয়ে ওঠে—

“রুসুন রানী, থাম বলছি! হচ্ছে টা কী? ব্লাশ অন স্টিকার লাগাতে চাস গালে, তো দৌড়া!”

মেয়েটি বোধহয় এবার থামলো। হাঁপাতে হাঁপাতে দাঁড়ায় রুশা।

রোজ দৌড়ে এসে দেয় এক লাথি রুশার পেছনে। কিন্তু সঠিক সময়ে সরে যেতে ব্যর্থ হয় রোজ। রাগী গলায় মেয়েটি বলে ওঠে—

“শালি, কুত্তার মতো দৌড়ানি খাওয়ালি কেন! এই দৌড়টা স্কুলে খেলার সময় দিলে নিশ্চিত প্রাইজ আনতে পারতাম!”

“ওই শালি, কুত্তা কী রে? ডগ বলবি, ডগ!”

রুশার কথায় রাগ হয় রোজের।

“রাখ তোর ইংরেজি! শালি, তোর জন্য আজ আমার ঠোঁট ভার্জিনিটি হারাইছে!”

রুশা যেন ভাবলেশহীন। তার ঠোঁটের বিষয়টা যেন তুচ্ছ। সে যা হারিয়েছে তা কিভাবে ফেরত পাবে!

রুশা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে ওঠে—

“তোর ঠোঁট, আর আমার চোখ তার ভার্জিনিটি হারাইছে! যা সিনারি দেখছি, এই জীবনে এমন সিনারি দেখি নাই আমি!”

বলে ভেউ ভেউ করে কেঁদে দেয়।

হেরা দুইটার মাথায় চাপড় দিয়ে বলে—

“দুইটাকে কাল পাবনায় পাঠাবো!”

বলে টেনে নিয়ে যায়। নিলয়কে মেসেজ দিয়ে তারা বাসার উদ্দেশ্যে গাড়ি ঠিক করে বাসায় আসে।

---

“নিলয়, কী ভাবছিস?”

ক্লাবে দুই বন্ধু নিলয় ও সিয়াম বিয়ার খাচ্ছে আর সব কথা বলছে। এতদিন কী কী হয়েছে। সিয়াম এতদিন ছিল না। সে তার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিল বেড়াতে। এসে এত কিছু শুনে অবাক।

নিলয় এক চুমুক বিয়ার খেয়ে বলে ওঠে—

“ওই মেয়েকে আমার চাই-ই চাই দোস্ত!”

নিলয়কে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে সিয়াম—

“বন্ধু আমার তাহলে সত্যি প্রেমে পড়েছে?”

“প্রেম নাকি জানি না, তবে ওই মেয়েকে দেখলে আমার খারাপ কোনো ইচ্ছে জাগে না। মেয়েটা এমনি রে…”

“কিন্তু তোকে পাত্তা দিচ্ছে না। ব্যাপারটা অন্যরকম না? নাকি কেউ আছে লাইফে?”

উত্তরে নিলয় বলে—

“না, ওইসব নাই। আমি সব জেনেছি!”

“এসব রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে জড়ালি কেন মেয়েটাকে?”

“আমি জড়াতে চাই নি, কিন্তু তাও জড়িয়ে গেছে। ওরও ইচ্ছে ছিল। যখন দেখলাম হেরার ইন্টারেস্ট আছে, তখন ভাবলাম আরেকটু উসকে দিই। আর আমি জানি এবারও ওই শেহতাজ খান নাভানের জন্য আমি হারবো। আর তাকে হারাতে আমার যা করার লাগে আমি তাই করবো!”

নিলয়ের কথায় রাগ প্রকাশ পায়। সিয়াম বলে ওঠে—

“ভাই, ওই শেহতাজ খান নাভানের পশমে পশমে বুদ্ধি। দেখবি শালা কোন দিক দিয়ে বাজিমাত করে দেয়!”

“এবার আর চান্স নেই বন্ধু। রাজ্যও রানী—দুইটাই আমার কব্জায়।”

সিয়াম যেন নিলয়ের কথাটা আমলে নিলো না। ছেলেটা বলে ফেললো—

“ভাই, মেয়েমানুষ এরা। কখন কী করে ঠিক বুঝতে পারবি না। আর ওই শেহতাজ খান নাভানকে তো মেয়েরা এমনিই পাগলের মতো চায়। সেখানে ওই মেয়ে যে এমন কিছু করবে না, তার কী গ্যারান্টি আছে?”

নিলয় মুখে হাসি রেখে বলে—

“ভাই, তারা দুজন দুজনকে একদম পছন্দ করে না। আর আমি হেরার কানে এমন বিষ তুলেছি, যা সাপ এসেও তুলতে পারবে না।”

তারপর হেরার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাও বলে। এবার সিয়ামও হাসে।

(নিলয় কেন হেরার প্রতি এত উইক হচ্ছে? আর কেনই বা হেরার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করছে না? এটা কি শুধু ভালোবাসা, নাকি অন্য কিছু? জানতে হলে কিন্তু বেশি বেশি লাইক-কমেন্ট করতে হবে। তোমাদের উৎসাহ লেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন