#আমরণ_আসক্তি
#অপূর্ব
#পর্বসংখ্যা_০২
🚫❌
(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন। [সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]
⚠️
~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~
_______________________________________
সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে অর্থ গাড়ি ড্রাইভ করছে, পাশের সিটে আয়াত বসে আছে।
দুজনেই চুপচাপ। অবশেষে নীরবতার দেয়াল ভেঙে আয়াত বলে,
—এখনো তো বললেন না, কই নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?
অর্থ শান্ত কণ্ঠে উত্তর করে,
—চুপচাপ থাকো, গেলেই দেখতে পাবে।
বিরক্তিতে আয়াতের চোখ-মুখ কুঁচকে আসে। এই ছেলে এমন কেন? একে তো তার ইজ্জত খেয়ে নিয়েছে, এখন আবার সোজাসুজি উত্তর দিচ্ছে না।
আয়াতের ভাবনার মাঝেই অর্থ গাড়ি ব্রেক করলে মেয়েটা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আয়াত নিজেকে স্বাভাবিক করে প্রথমে একবার অর্থর দিকে তাকায়। ছেলেটা সামনের দিকে চেয়ে স্বাভাবিকভাবে বসে আছে।
আয়াত দৃষ্টি সরিয়ে সামনের দিকে তাকালে দেখে, অর্থর বন্ধু আর বডিগার্ডেরা দাঁড়িয়ে আছে। আয়াত এদেরকে হোটেলে দেখেছিল।
অর্থ শান্ত কণ্ঠে বলল,
—কিউট এঞ্জেল, গাড়ি থেকে নামো।
কথাটুকু বলেই অর্থ গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। আয়াত গাড়ি থেকে নেমে অর্থর পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
—এখানে আসলেন কেন? কী করবেন?
অর্থ ভাবলেশহীন কণ্ঠে উত্তর করে,
—তোমাকে বিয়ে করবো তাই!
কথাটা শুনতেই আয়াতের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। চারপাশে চোখ বোলালে দেখে, হ্যাঁ, আসলেই পাশেই তো একটা কাজী অফিস।
আয়াত একপ্রকার লাফিয়ে চেঁচিয়ে বলে,
—এইইই! নাহ্! আমি আপনাকে বিয়ে করবো না।
অর্থ স্বাভাবিক কণ্ঠেই বলে,
—আমি যে তোমাকে কলঙ্কিত করেছি, সেই কথা ভুলে গেছো!
আয়াত বোধহয় এবার চিন্তায় পড়লো। তবে বেশি চিন্তা করার সুযোগ পেলো না। অর্থ চোখের পলকে আয়াতকে কোলে তুলে নেয়।
আয়াত চেঁচিয়ে বলে,
—এইই! এইই! কী করছেন! এখানে অনেক মানুষ, আমাকে নামিয়ে দেন!
অর্থ নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে,
—I don't care about anyone.
অর্থর কথায় আয়াত চুপ হয়ে যায়। অর্থ মৃদু হেসে আয়াতকে কোলে করে নিয়ে কাজী অফিসের ভেতরে চলে গেলো। অর্থর পেছন পেছন আয়ন আর তুরাগও ছুটলো। বডিগার্ডেরা নিজেদের পজিশনমতো বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
_______________________________________
১৫ মিনিট পর........
অর্থ একহাতে আয়াতকে জড়িয়ে কাজী অফিস থেকে বের হয়। পাশাপাশি আয়ন আর তুরাগও বেরিয়ে আসে।
অর্থ আয়ন আর তুরাগকে বলে,
—ব্রো, তোরা অন্য গাড়িতে আয়। আমি আমার বউকে নিয়ে যাচ্ছি।
তুরাগ নাটকীয় ভঙ্গিতে হাহুতাশ করে বলে,
—হায়রে! বউ হতে না হতেই বন্ধুদের ভুলে গেলে! কী একটা কষ্ট আমার। চোখ দিয়ে হিশু করতে ইচ্ছা করছে।
তুরাগের কথা ও অঙ্গভঙ্গিতে আয়ন আর আয়াত শব্দ করে হেসে ফেলে। অর্থ কটমট দৃষ্টিতে তুরাগের দিকে তাকালে তুরাগ দাঁত কেলিয়ে হাসলো।
অর্থ তুরাগকে কিছু না বলে গার্ডদের উদ্দেশ্যে বলে,
—গার্ডস! আমি যাচ্ছি, সবাই পেছনে আসো।
সকল গার্ড একই তালে বলল,
—ওকে, স্যার!
অর্থ আর দেরি করলো না। আয়াতের হাত ধরে হনহন করে এগিয়ে গিয়ে ব্ল্যাক ফেরারি গাড়িটাতে উঠে বসে। কয়েক মিনিটের মাথায় গাড়িটি চোখের আড়াল হয়ে যায়।
———————————
গাড়ি চালানোর ফাঁকে ফাঁকে অর্থ বারবার আড়চোখে আয়াতের দিকে তাকাচ্ছে। সেটা দৃষ্টিগোচর হতেই আয়াত ভ্রু কুঁচকে বলে,
—এভাবে বারবার তাকিয়ে কী দেখছেন?
অর্থ সাথে সাথে উত্তর করে,
—Your Lips.
আয়াত চেঁচিয়ে বলে ওঠে,
—কিহহহহ!
চারপাশ ফাঁকা দেখে অর্থ গাড়ি থামায়। অর্থর পেছনে গার্ডেরা আসছিলো। হঠাৎ অর্থকে থামতে দেখে গাড়ি থামায়। গার্ডদের হেড রবিন গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত এগিয়ে এসে অর্থর গাড়ির জানালা থেকে ভেতরে উঁকি দিয়ে বলে,
—Sir, any problem? হঠাৎ গাড়ি থামালেন যে?
অর্থ চোয়াল শক্ত করে তপ্ত সুরে বলে,
—বউকে কিস করবো তাই গাড়ি থামিয়েছি। তোর কোনো সমস্যা?
অর্থর কথায় রবিন আর আয়াত দুজনেই থতমত খেয়ে যায়। হঠাৎ এমন একটা কথা শুনে রবিনের কাশি উঠেছে। সে কোনোমতে নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে,
—No, Sir.
এরপর একরকম দৌড়ে সেখান থেকে চলে যায়।
রবিন চলে যেতেই আয়াত কিছু বলতে নিলো, তবে বলার সুযোগ হলো না। অর্থ দু'হাতের আজলায় আয়াতের মুখ নিয়ে তার গোলাপি ঠোঁটজোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয়।
আয়াত কিছুক্ষণ ছটফট করেও ছাড়া না পেয়ে শান্ত হয়ে গেলো। অর্থ প্রায় ৭ মিনিট পর আয়াতকে ছেড়ে দেয়।
ছাড়া পেয়ে আয়াত জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে একটা দীর্ঘ প্রশ্বাস টানে। অর্থর দিকে চোখ পড়তেই দেখলো, ছেলেটা কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তার দিকেই চেয়ে আছে।
আয়াতের প্রচুর লজ্জা লাগে। মেয়েটা লাজুক হেসে মাথা নিচু করে নেয়।
অর্থ আয়াতের কার্যকলাপ দেখে তীর্যক হেসে বলে,
—You know? This is the sweetest food in the world.
আয়াতের লজ্জা গাঢ় হলো, মেয়েটা নামানো মাথাটা আরও নুইয়ে ফেলে। মনে মনে বলে,
—আল্লাহ মাটি ফাঁক করো আমি ঢুকে যাই। একটা লোক এতো ঠোঁট কাঁটা হয় কিভাবে!"
_______________________________________
একটা অন্ধকার ঘর। সেখানে একটা টেবিলের উপর একটা মাঝবয়সী লোক পা ঝুলিয়ে বসে আছে। তার হাত আর মাথা কেটে রক্ত পড়ছে। লোকটার হাতে একটা চাইনিজ কুড়াল।
জানালা ভেদ করে আসা হলদেটে আলোর জন্য অস্পষ্টভাবে লোকটার চেহারা দেখা যাচ্ছে। লোকটাকে ঘিরে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে। আর লোকটার ঠিক সামনে দুটো লোক হাঁটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে আছে, তাদের শরীর ক্ষতবিক্ষত।
লোকটা পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে সেখান থেকে একটা সিগারেট ঠোঁটের মাঝে নিয়ে হাত দিয়ে ইশারা করলে একটা লোক এগিয়ে এসে লাইটার ঠুকে সিগারেটটা জ্বালিয়ে দিয়ে আবার আগের জায়গায় চলে গেলো।
হাঁটু গেড়ে বসে থাকা দুজন ওই লোকটার দিকে ভীত দৃষ্টিতে তাকিয়ে একইসাথে কাঁদোকাঁদো কণ্ঠে বলতে শুরু করে,
—ভাই, প্লিজ আমাগোরে মাফ কইরা দেন! বাপের কসম, আর জিন্দেগীতেও ভুল হইবো না।
লোকটা সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে শয়তানি হাসি হাসে। এরপর গম্ভীর অথচ শান্ত কণ্ঠে বলতে শুরু করে,
—একটা কথা কি জানিস? খোদা ছাড় দেয়, তবে ছাইড়া দেয় না। আর আমি যেহেতু খোদা না, তাই ছাড় দেওয়ারও কোনো প্রশ্ন আসে না।
বসে থাকা দুজনেই শক্ত ঢোক গিলে। টেবিলে বসে থাকা লোকটা টেবিল থেকে নেমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গিয়ে হাতের ডান দিকে বসে থাকা লোকটার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে তার পিঠে গায়ের শক্তি দিয়ে একটা লাথি দিলে, লোকটা মুখ থুবড়ে মেঝেতে পড়ে যায়।
এরপর ওই লোকটা মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটার পিঠের উপর ডান পা দিয়ে দাঁড়িয়ে, ঠোঁটের এক সাইডে সিগারেট নিয়ে টানতে টানতে লোকটার গলা বরাবর হাতের কুড়ালটা দিয়ে কোপাতে শুরু করে।
গ*লগ*ল করে রক্ত বের হচ্ছে। অনেকটা রক্ত ছিটকে এসে লোকটার মুখে পড়লে, লোকটার ঠোঁটে লেগে থাকা ডেভিল হাসিটা চওড়া হয়।
এরকম ভয়ংকর রক্তাক্ত দৃশ্য দেখে বাম পাশে বসে থাকা লোকটা ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার চিৎকার হয়তো খুনিটার পছন্দ হয়নি। সে বিরক্তিতে চ্-সূচক শব্দ করে হাতের কুড়াল দিয়ে এক কোপে ওই লোকটার শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দেয়।
সঙ্গে সঙ্গে লোকটার চিৎকার থেমে যায়। এবার খুনিটা শব্দ করে হেসে ওঠে।
আশেপাশে সবাই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টুঁ শব্দটিও করছে না, কারণ তারা জানে, কিছু বললে তাদেরও জীবন যাবে।
এবার লোকটা এগিয়ে গিয়ে মাথাবিহীন নিথর দেহটার উপর বসে হাতে কুড়াল ঘুরাতে ঘুরাতে রাগে কিরমির করতে করতে বিড়বিড় করে,
—মিস্টার অনিকেত আবরার অর্থ! তুই ভুল করেছিস! বিড়াল ভেবে বাঘের সাথে পাঙ্গা নিয়ে ফেলেছিস, এর মাশুল তোকে দিতে হবে!
এটুকু বলে লোকটা হাতের কুড়াল সামনের দিকে ছুড়ে মারলে সেটা দেওয়ালে পুঁতে আটকে যায়।
এরপর লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলে,
—মাদারচো*দ, তোর উপর থেকে নিচ পর্যন্ত তেনা-তেনা করে দিবো। তোকে নিশ্বাসটুকুও নিতে দেবো না।
এটুকু বলে লোকটা চুপ হয়ে গেলো। কিছুটা শান্ত হয়েছে বোধহয়। ঘরের পরিবেশটা গম্ভীর থেকে গম্ভীর হয়েছে। সবাই চুপচাপ। শুধুমাত্র ফ্যানের ক্যাচর ক্যাচর শব্দ নীরবতা ভাঙছে।
[গল্পটা কেমন লাগছে?জানাবেন,,, পর্বটা রিচেইক দেওয়া হয়নি তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]
~চলবে~