ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমরণ আসক্তি

পর্ব 4

লেখক: হাসিবুল হাসিব

#আমরণ_আসক্তি

#অপূর্ব

#পর্বসংখ্যা_০৪

🚫❌

(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন। [সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]

⚠️

~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~

________________________________

অর্থ আয়াতের থেকে কিছুটা সড়ে দাঁড়িয়ে তড়িঘড়ি করে নিজের শার্টের বোতাম গুলো খুলতে শুরু করে। বেশি তাড়াহুড়ো করার জন্য বোতাম খুলতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। এক পর্যায়ে অর্থ বিরক্ত হয়ে এক টানে শার্ট টা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে। ফল স্বরূপ প্রতিটা বোতাম "পট'পট" শব্দ করে ছিঁড়ে যায়।

আয়াত এতোক্ষন চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছিলো, অর্থর দূরত্ব উপলব্ধি করতে পেরে মেয়েটা চোখ মেলে তাকায়। চোখে পড়ে অর্থর উদাম শরীর। আয়াত আগে খেয়াল না করলেও এবার নতুন করে অনেক কিছুই খেয়াল করলো। অর্থর বুকের বা'পাশে একটা সিংহের মুখাকৃতি ট্যাটু করা পাশাপাশি মাথার সিল্কি চুল গুলো পেছনের দিকে স্বাভাবিকের থেকেও কিছুটা ছোট আবার সামনের দিকে স্বাভাবিকের থেকেও বেশ অনেকটাই বড়। অর্থর ডান হাত আর গলায় সিলভার কালারের চেইন ঝুলছে। পেশিবহুল হাত আর সুঠাম দেহ, মারাত্মক আকর্ষণীয় লাগছে ছেলেটা কে। তবে সবচেয়ে স্পেশাল অর্থর ওই নীলচে মায়াবী চোখ জোড়া। নিজের ভাবনাতে আয়াত নিজেই অবাক হলো। ভাবলো, সে এতোক্ষন এসব খেয়াল করেনি কেন? পরক্ষণেই নিজের মন থেকেই উত্তর ভেসে আসলো, এই অসভ্য লোক কি খেয়াল করার সুযোগ দিয়েছে যে সে খেয়াল করবে।

আর কিছু ভাবার সুযোগও হলো না আয়াতের। অর্থ নিজেকে সম্পূর্ণ আনড্রেস করে বিছানায় অর্ধ'নগ্ন আয়াতের উপর একপ্রকার হামলে পড়লো।

আয়াতের পুরো শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো। উন্মাদনার অনুভূতি তে মন শিহরিত হলো।

অর্থ আয়াতের ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরে সেভাবেই তাকে কোলে তুলে নিলো। অর্থ এক হাতে আয়াতের কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। অপর হাতটা দিকে আয়াতের ওই দুটো টিপছে।

আয়াত ব্যাথাতুর কণ্ঠে বলে,

—আহ্ আস্তে! উফফ্ ছিড়ে ফেলবে নাকি?

অর্থ আয়াতের বুকে মুখ ডুবিয়ে ডান দিকের কমলা লেবুটাতে শক্ত করে দাঁত বসিয়ে মাতাল কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,

—Don't mind! I can't control myself!"

অর্থর কথাটুকু শেষ না হতেই আয়াত তীব্র ব্যাথায় চেঁচিয়ে ওঠে,

—আহহ! লাগছে ছাড়ুন প্লিজ!

কথাটুকু বলতে বলতেই আয়াত শক্ত করে অর্থর চুল টেনে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে। অর্থ মুখ সড়িয়ে নিয়ে আবারো আয়াতের ঠোঁট আকড়ে ধরে।

এরপর এগিয়ে গিয়ে আয়াত কে খাটে শুইয়ে দিয়ে এক টানে মেয়েটার পড়নের স্কার্টটা খুলে ফেলে তাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ফেলে। এরপর এক ধাক্কায় নিজের ওইটা আয়াতের ওই জায়গায় ঢুকিয়ে দেয়।🌚😘

আয়াত ব্যাথা আর উত্তেজনা মিলিয়ে অর্থর পিঠে, ঘাড়ে খামচি দিয়ে যাচ্ছে লাগাতার। সাথে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলছে,

—আহ্! উমহ্! উমহ্!আহ্!

আয়াতের এমন শব্দ গুলো বোধহয় উত্তেজিত অর্থকে আরো বেশি উন্মাদ করে তুললো।

অর্থ আয়াতকে জড়িয়ে ধরে নিজের ওইটা প্রথমে আস্তে আস্তে ঢোকায় এরপর সুযোগ পেতেই গতি বাড়িয়ে দেয়।

অর্থ নিজের কাজে মত্ত থেকেই নেশাক্ত কণ্ঠে বলে,

—আচ্ছা বেবি,তোমার ফেভারিট ফুড কি?

এমন টানটান উন্মাদনা মূলক মূহুর্তেও অর্থর এসব প্রশ্ন আয়াতের কাছে অহেতুক মনে হলো। তারপরেও বলল,

—অনেক খাবারই আছে তবে গরুর মাংস অনেক পছন্দ! কেন বলুন তো?

অর্থ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,

—আমার ফেভারিট খাবার কি জানো?

আয়াত প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে অর্থের দিকে তাকিয়ে বলে,

—কিহহ্?

অর্থ ঘোর লাগা কণ্ঠে কাটকাট উত্তর দেয়,

—ইউ এন্ড ইউ'র অ্যাপেলস!

অর্থর থেকে আয়াত এমন উত্তর আশা করেনি। মেয়েটা অবাক হলো ভীষণ, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া করার সুযোগ পেলো না। তার আগেই অর্থ আয়াতের ওই দুই'টা মুখে নিয়ে এক এক করে চুষতে শুরু করলো।

আয়াত চোখ খিচে বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে সুখকর ব্যাথা অনুভব করছে।

———

যতো সময় যাচ্ছে, অর্থ আর আয়াত যেন ততো বেশি মাতাল হয়ে যাচ্ছে। তারা দু'জন একে অপরের সাথে গভীরভাবে আচ্ছাদিত হয়ে, প্রেম বিনিময়ে মত্ত!

রুমে এসি দেওয়া আছে তারপরেও দুজনের শরীর ঘামে ভিজে উঠেছে। কতো সময় যে পেরিয়েছে,সেসবে তাদের হুশ নেই!

___

বেড সাইড টেবিলে রাখা অর্থর ফোনের রিংটোন বেজে ওঠে। অর্থ সেদিকে পাত্তা না দিয়ে আয়াতের মাঝে মেতে রইলো। কিছুক্ষণ রিংটোন বেজে কলটা কেটে যেতেই আবারো কল আসে। বিরক্তি আর রাগে অর্থর চোয়াল শক্ত হয়।

সে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশ ফিরে তাকালে দেখলো ফোনের স্ক্রিনে রাহাত নামটা ভেসে আছে। অর্থর ভ্রু কুঁচকে যায়। সে কিছু একটা ভেবে আয়াতের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বড় বড় দুইটা নিশ্বাস ফেলে কলটা রিসিভ করে কানে ধরে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

—হ্যাঁ! বল কি হয়েছে? ফাস্ট!

ফোনের ওইপাশ থেকে কিছু একটা বললে অর্থ রেগে চেঁচিয়ে বলে,

—হোয়াটটট..!"

ফোনের ওইপাশ থেকে আবারো কিছু বলে যার প্রতুত্তরে অর্থ হুঙ্কার দিয়ে বলে,

—মেরে ফেলব আমি ওকে! গিভ মি ফাইভ মিনিটস! আমি আসছি।

এটুকু বলেই অর্থ খট করে কল কেটে দিলো। রাগের তোপে ছেলেটার ফর্সা মুখাবয়ব লাল বর্ণ ধারণ করেছে। অর্থ এক প্রকার দৌড়ে গিয়ে আলমারি থেকে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পেছনে ফেলে গেলো আয়াতের প্রশ্নাত্মক দৃষ্টি!

আয়াত ব্যাথাতুর শরীর নিয়ে কোনোমতে টেনেটুনে উঠে বসলো। প্রচুর হাঁফাচ্ছে মেয়েটা। আয়াত নিজেকে শান্ত করে পাশে এলোমেলো ভাবে পড়ে থাকা বিছানার সাদা চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নিলো।

দুই মিনিটের মাথায় অর্থ ওয়াশরুম থেকে একটা কালো প্যান্ট আর ঢিলে-ঢালা সাদা গেঞ্জি পড়ে বেড়িয়ে আসে।

আয়াত কিছু বলতে নেয় তবে তাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অর্থ বাইরের দিকে যেতে বলে,

—মম কে বলে নিউ ড্রেস আর খাবার পাঠিয়ে দিবো। খেয়ে রেস্ট করবে আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো।

কথা গুলো বলতে বলতেই অর্থ হাওয়া হয়ে যায়। আয়াত জিভ গুটিয়ে নিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।

__________________________

অর্থ সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে চেঁচিয়ে বলে,

—মম! মম! কোথায় তুমি? মম! ফাস্ট আস।

আতিয়া আবরার রান্না ঘরে সার্ভেন্টদের গাইডলাইন দিচ্ছিলেন, ছেলের আওয়াজ পেয়ে হন্তদন্ত করে ছুঁটে গিয়ে দাঁড়ালেন।

অর্থ কণ্ঠ যথাসম্ভব নরম করে মায়ের উদ্দেশ্যে বলে, —তুমি ড্রেস আর খাবার নিয়ে আমার বউয়ের কাছে যাও। ফাস্ট!

আতিয়া আবরার মৃদু হেসে বলে,

—আচ্ছা বাবা। চিন্তা করিস না, আমি এখনই যাচ্ছি।

অর্থর চোখ ড্রয়িং রুমের সোফার দিকে গেলে দেখলো সেখানে আহসান আবরার বসে গম্ভীর দৃষ্টিতে তার দিকেই চেয়ে আছে। অর্থ বাবার দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে পুনরায় মায়ের দিকে তাকিয়ে রাশ ভারী কণ্ঠে বলে,

তোমার হাসবেন্ড কে বলে দিবে যেন আমার ওয়াইফের থেকে দূরে থাকে। উনি যদি আমার উপর রাগ করে আমার স্ত্রীর কোনো ক্ষতি করতে চায় তাহলে, আমি ভুলে যাবো উনি আমার জন্মদাতা!

অর্থর এবারের কথাগুলো বোধহয় আহসান আবরারের গায়ে লাগলো। তিনি তড়িৎ গতিতে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,

—এইই! এইই! কি করবি তুই?

বাবার কথার উত্তরে অর্থ তীর্যক হেসে অতি শান্ত কন্ঠে বলে, খু*ন করে ফেলবো! জাস্ট খুন করে ফেলবো! আর আমি যে, মিথ্যা কথা বলি না এটা আপনার থেকে ভালো কেউ জানে না, নিশ্চয়!

ছেলের কথাতে আহসান আবরারের বাহ্যিক অঙ্গ-ভঙ্গির পরিবর্তন না ঘটলেও ভেতরে ভেতরে তিনি শক্ত একটা ঢোক গিললেন।

আতিয়া আবরার কি বলবেন, বুঝতে পারছেন না। বাপ-ছেলের যুদ্ধে তিনি বরাবরই অপারগ। কারো বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হয়ে ওঠে না তার।

অর্থ আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না বড় বড় ধাপ ফেলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো।

😒

[ বিঃ দ্রঃ কিছু মানুষ বলতেছে, এই গল্পটা উপন্যাসের নামে কলংক। তো ভাই তাদের উদ্দেশ্যে বলি, প্রথমত আমি কখনো এই গল্পটা কে উপন্যাস বলে দাবী করিনি আর দ্বিতীয়ত গল্পের থাম্বনেইলে ১৮+ ট্যাগ আছে, এছাড়া প্রতিটি পর্বের শুরুতে সতর্ক বার্তা থাকে তারপরেও যদি আপনি গল্প পড়েন সেটা আপনার ব্যর্থতা ]

🥰

(এই মন্তব্য টুকু আমার প্রিয় পাঠক-পাঠিকাদের জন্য! সুইটহার্টেরা,, ইতিমধ্যে আমার এই গল্পটাকে অনেক সাপোর্ট আর ভালোবাসা দিচ্ছো, তবে শুধু ডার্ক রোমান্স পড়লে হবে না পাশাপাশি রোমান্টিক+ইমোশনাল গল্পও পড়তে হবে! আর তাই তোমরা আমার [বোকা পাখি] আর [হৃদ মাঝারে] উপন্যাস পড়ে দেখতে পারো, ভালো লাগবে আশা করি। গল্পে ভুল-ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

টিকটক আর ফেইসবুক পেইজ— writer apurbo

~চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন