#আমরণ_আসক্তি
#অপূর্ব
#পর্বসংখ্যা_০৫
🚫❌
(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন। [সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]
⚠️
~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~
________________________________
অর্থর ব্লাক ফেরারি গাড়িটি শহর থেকে অনেক টা দূরে নিলিবিলি একটা জায়গায় একটা ভাঙা-চোরা ইটের বাড়ির সামনে থামে। অর্থ রীতিমতো লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। বাড়িটার সামনে যুবক বয়সী বেশ কিছু ছেলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থ বড় বড় ধাপ ফেলে তাদের দিকে এগিয়ে যায়। যুবক ছেলে গুলোর মধ্যে একজন অর্থর দিকে এগিয়ে আসে। অর্থর উজ্জ্বল ফর্সা চেহারা রাগের তোপে টকটকে লাল হয়ে আছে। চোখ গুলো অস্বাভাবিক লাল, যেন রক্ত ঝড়ছে।
অর্থ রাশ ভারী কণ্ঠে বলে,
—রাহাত, কে করেছে এসব?
রাহাত মাথা নিচু রেখেই মিনমিন করে আওড়ালো,
—বস,যতো দূর খবর পেয়েছি এসব ডেভিড করেছে!
রাহাত কথাটুকু বলতে না বলতেই অর্থ গায়ের সব খাটিয়ে তাকে কষে একটা থাপ্পড় মারলো।
রাহাতের পুরো শরীর নড়ে উঠে, সে দু'ধাপ পিছিয়ে গেলো। তবে রাহাত কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না,সে আগে থেকেই এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলো।
অর্থ কণ্ঠে রাগ ঢেলে চেঁচিয়ে বলে,
— ওই শুয়ো*রের বাচ্চা আমার ইনফর্মারদের খুন করে ফেললো আর তোরা সব কু*ত্তার বাচ্চারা কি বা*ল ছিড়ছিলি?
পাশ থেকে সজীব বলে,
—স্যরি বস! আমাদের মিস্টেক হয়ে গেছে, আরো অ্যালার্ট হওয়া প্রয়োজন ছিলো!
সজীবের কথাটা শুনে বোধহয় অর্থর রাগ বাঁধ ভাঙলো। সে খেয়ে ফেলা দৃষ্টিতে সজীবের দিকে তাকিয়ে তড়িৎ গতিতে প্যান্টের সাইড পকেট থেকে পিস্তল বেড় করে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সজীব কে গুলি করে দেয়। এরপর চেঁচিয়ে বলে,
—মাদারচো*দ তোর স্যরি ধুয়ে আমি কি পানি খাবো!
অর্থ কথা গুলো সজীবের উদ্দেশ্যে বললেও সেটা শোনার ভাগ্য সজীবের হয় নি। সে তো আগেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আর্তনাদ করে মাটিতে পড়ে গেছে। বর্তমানে আধ ভেজা মাটিতে সজীবের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে। অর্থ একনজর সজীব কে দেখে মাথা উঁচু করে সকলের দিকে তাঁকায়। সবার চেহারায় ভীতি স্পষ্ট, তারা অর্থর এমন ভয়ানক রুপ দেখে থরথর করে কাঁপছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে রাহাত। সে ঘনঘন ঢোক গিলছে, তুলনা মূলক শীতল আবহাওয়াতেও ছেলেটার শরীর থেকে ঘাম ঝড়ছে।
———
অর্থ মাথা নিচু করে একটা ভারী নিশ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক কারার চেষ্টা করলো। এরপর রাহাতের দিকে চেয়ে শান্ত অথচ গভীর কণ্ঠে বলে,
—লাশ গুলো কই?
রাহাত পেছনের বাড়িটার দিকে ইশারা করে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,
—এই তো এই বাড়িতেই আছে!
অর্থ প্যান্টের পকেট থেকে একটা সিগারেট বেড় করে জ্বালিয়ে, সেটাতে ছোট একটা টান দিয়ে ফের আওড়ালো,
—এই খুন গুলোর ব্যাপারে পুলিশ কি জানে?
অর্থ কে স্বাভাবিক হতে দেখে রাহাত সকল ভীতি পাশে সড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে,
—না বস পুলিশ কে এখনো কিছু জানানো হয় নি। খবর টা আমরাই আগে পেয়েছি।
অর্থ হাতের সিগারেট টা ঠোঁটের ফাঁকে নিয়ে একটা দীর্ঘ টান দিলো এরপর রহস্যমূলক হেসে বলে,
—জানানোর দরকারও নেই। ওই ডেভিডের বিচার আমিই করবো!
রাহাত ছোট করে বলে,
—আচ্ছা ঠিক আছে বস!
অর্থ বাড়িটার ভেতরের দিকে পা বাড়ায়। যেতে যেতে সজীবের লাশ টার দিকে একবার নজর বুলিয়ে বলে,
—এই বডি টা গুম করে দে!
রাহাত সাথে সাথে উত্তর করে,
—ওকে বস!
অর্থ আর কিছু বলল না,বাড়ির ভেতর আড়াল হয়ে গেলো।
________________________________________
আয়াত গালে হাত দিয়ে বিছানায় বসে আছে। এতোটা সময় মনে না হলেও এখন তার ভীষণ করে পরিবারের কথা মনে হচ্ছে। মা আর ভাইকে কিভাবে সে নিজের বিয়ের কথা বলবে? আর, কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবে তাদের সামনে? এসব চিন্তাতে আয়াতের মাথা ফেঁটে যাচ্ছে। মেয়েটা একটা ক্লান্তির শ্বাস ফেলে। অর্থর উপরে প্রচুর বিরক্ত সে। ছেলেটা তাকে রীতিমতো জোড় করে বিয়ে করেছে।
আয়াত বিরক্তিতে চোখ উল্টালো। এরপর নিজেকে স্বাভাবিক করে উঠে দাঁড়িয়ে মেঝেতে এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা পোশাক গুলো হাতে নিয়ে আরেকটু সামনে এগিয়ে তোয়ালে টা নিয়ে ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো এরপর শরীরে পেঁচানো বিছানার চাদরটা খুলে ছুড়ে ফেলল। মূহুর্তেই আয়াতের পুরো শরীর উন্মুক্ত হয়ে লোভনীয় ফিগার সামনে বেড়িয়ে এলো। আয়াত সময় নষ্ট না করে গোসলের উদ্দেশ্যে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
-----
প্রায় ১৫ মিনিটের শাওয়ার শেষে আয়াত খুলে রাখা ড্রেস গুলো পড়েই তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বেড় হলো। লম্বা কালোরঙা চুলগুলো ভিজে চুপ'চুপে হয়ে আছে।
বিছানার দিকে চোখ পড়লে, সেখানে একটা অচেনা মহিলা কে বসে থাকতে দেখে আয়াতের ভ্রু কুঁকুঁচকে গেলো। মনের মাঝে প্রশ্ন জাগলো, ইনি আবার কে?
আয়াত এগিয়ে গিয়ে বলে,
—আসসালামু ওয়ালাইকুম আন্টি!
আতিয়া আবরার বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সালামের উত্তর দেন এরপর ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে এসে ডান হাতটা আয়াতের থুতনিতে রেখে বলেন,
—মাশাল্লাহ! এতো সাক্ষাৎ পরী! মানতে হবে, আমার ছেলের চয়েস আছে!
আয়াত বুঝলো সামনে মহিলাটি অর্থর মা। সে লাজুক হেসে মাথা নুইয়ে নিলো।
আতিয়া আবরার আয়াতের থুতনিতে রাখা নিজের হাতটা এনে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুমু এঁকে বলেন,
—মাশাল্লাহ! মাশাল্লাহ! কারো নজর যেন না লাগে!
আতিয়া আবার মুখে হাসি ধরে রেখে বলেন,
—তা মা, তোমার নাম কি?
আয়াত মৃদু স্বরে বলে,
—জ্বি! আশ্মিন রহমান আয়াত!
আতিয়া আবরার আবার শুধালো,
—আচ্ছা, তোমাদের রিলেশন কতো দিনের ছিলো?
আয়াতের হাসি মিইয়ে গেলো, বিব্রত হলো মেয়েটা।
আতিয়া আবরার আয়াতের অবস্থা বুঝতে পেরে বলে,
—আরে নিশ্চিন্তে বলো, আমাকে ফ্রেন্ড মনে করো। আমি অন্যদের মতো হিটলার শাশুড়ী নই! আর তার পরেও যদি বলতে না চাও, তাহলে বলার দরকার নাই।
আয়াত আতিয়া আবরারের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে বলে,
—না না আন্টি! সেই রকম কোনো ব্যাপার নেই! ওনার সাথে আমার কোনো পূর্ব সম্পর্ক ছিলো না। আজকেই আমদের প্রথম দেখা হয়েছে আর আপনার ছেলে আমাকে ঘপাত করে তুলে ধপাস করে কাজী অফিসে ফেলে বিয়ে করে এখানে নিয়ে এসেছেন!
আতিয়া আবরার ভীষণ অবাক হলেন কারণ তার যে ছেলে মেয়েদের থেকে চৌদ্দ হাত দূরে থাকতো, সেই ছেলেই নাকি প্রথম দেখাতেই একটা মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছে। এটা মানা খুব কষ্টকর! তবে আতিয়া আবরার অবাকতা প্রকাশ করলেন না বরং আয়াতের কথার ভঙ্গি দেখে ঠোঁট টিপে হাসলেন। ভালোই মজা পেয়েছেন তিনি।
আয়াত ইনোসেন্ট ফেইস বানিয়ে বলে,
—আন্টি তুমি হাসসো!
আতিয়া আবরারের হাসি চওড়া হলো। তিনি আয়াত কে জড়িয়ে ধরে তার কপালে শব্দ করে চুমু খেয়ে বলেন,
—আন্টি নয় মা বল! জানিস, অনেক শখ ছিলো আমার একটা মেয়ে হবে। আমি তাকে আদর করবো, অনেক ভালোবাসবো! তবে আমার সেই ভাগ্য হয়ে ওঠেনি। তাই আজ থেকে তুই আমার মেয়ে!
কথা গুলো বলতে গিয়ে আতিয়া আবরারের কথা জড়িয়ে আসছিলো। আয়াত অবাক নয়নে চেয়ে আতিয়া আবরার কে দেখছে। আয়াতের চোখ চিকচিক করে ওঠে, কেন জানি সে আলাদা একটা টান অনুভব করছে। আয়াত দুই হাতে আতিয়া আবরার কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
—আচ্ছা আম্মুই বলবো! আজ থেকে তুমিও আমার মা।
আতিয়া আবরার প্রশান্তিময় হাসলেন, তার শূন্য বুকটা আজকে পূর্ণ হয়ে গেছে।
মা-মেয়ের এমন আবেগী মুহূর্তের মাঝে দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে আতিয়া আবরার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালে দেখলেন দুজন মহিলা সার্ভেন্ট দাঁড়িয়ে আছে। একজনের হাতে একটা শাড়ি আর অপর জনের হাতে একটা ট্রে, যাতে খাবার রাখা আছে। আতিয়া আবরারের অনুমতি নিয়ে সার্ভেন্টেরা ঘরে প্রবেশ করে টেবিলের উপর সবকিছু রেখে আবার বেড়িয়ে গেলো।
আতিয়া আবরার এগিয়ে গিয়ে শাড়িটা হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে সেটা আয়াতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আবেগী কণ্ঠে বলেন,
—যা মা ড্রেস চেঞ্জ করে আয়! আজকে আমি আমার মেয়েকে নিজ হাতে খাইয়ে দেবো।
আয়াত বোকা হেসে আমতা আমতা করে বলে,
—ইয়ে মানে, আম্মু আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না!
আতিয়া আবরার হাসলেন এরপর বলেন,
—আচ্ছা ঠিক আছে, আমি পড়িয়ে দিচ্ছি।
আয়াত হেসে আতিয়া আবরারের গালে টুপ করে একটা চুমু খেয়ে বলে,
—থ্যাংক ইউ! আমার কিউট আম্মু!
আতিয়া আবরার আয়াতের মাথায় আলতো করে একটা গাট্টা মেরে বলে,
—পাগলী মেয়ে!
বিনিময়ে আয়াত খিলখিল করে হাসলো।
আয়াত মনে মনে বেশ প্রশান্তি অনুভব করছে, এই বাড়ির এই একটা মানুষ কে তার ভীষণ ভালো লেগেছে।
________________________________________
অর্থ বাড়িটার ভেতরে ঢুকে দেখে, মেঝেতে দুইটা মরা দেহ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে আর সেগুলো পাশেই আয়ন আর তুরাগ মাথায় হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে।
দুজনেই অর্থ কে দেখলো তবে কিছু বলল না। অর্থ ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ডান পাশের মরা দেহটার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে কাপড় সরালে সোহেলের নিথর দেহ বেড়িয়ে আসে, যার শরীর থেকে কাঁটা মাথাটা আলাদা হয়ে পাশেই পড়ে আছে।
অর্থ চোখ খিচে বন্ধ করে ফেলে। কয়েক মুহূর্ত পর আলতো করে চোখ মেলে তাকিয়ে সোহেলের কাঁটা মাথাটার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে গম্ভীর বলে,
—তোরা চিন্তা করিস না, তোদের খুনের বদলা আমি নিজ হাতে নিবো! তোদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না!
এটুকু বলেই অর্থ উঠে দাঁড়িয়ে আয়নের দিকে তাকিয়ে বলে,
—লাশ গুলো দাফনের ব্যবস্থা কর।
কথাটুকু শেষ করেই অর্থ গটগট পায়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। আয়ন আর তুরাগও অর্থর পেছন-পেছন বেড়িয়ে আসে।
আয়ন রাহাতের উদ্দেশ্যে বলে,
—লাশ গুলোকে তাদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাও পাশাপাশি তোমরা নিজ দায়িত্বে দাফন করে আসবে।
রাহাত ছোট করে বলে,
—আচ্ছা ভাই।
এরপর অর্থ, আয়ন আর তুরাগ অর্থ'র গাড়িতে করে সেখান থেকে চলে যায়।
[বিঃ দ্রঃ সুইটহার্টেরা,, তোমরা যারা গ্রামীণ প্লটের গল্প পড়তে পছন্দ করো, তারা আমার নতুন গল্প রংধনু পড়ে দেখতে পারো]
~চলবে~