#আমরণ_আসক্তি
#অপূর্ব
#পর্বসংখ্যা_১০
🚫❌
(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন।
[সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]
⚠️
~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~
⚠️🚫
{বিনা অনুমতিতে কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ}
________________________________
সাফিয়া রহমানের অবস্থা বুঝতে পেরে অর্থ মুখ টিপে হাসলো। অতঃপর বলে,
—আচ্ছা শাছুমা! আমি যাইগা, আপনি নিজের কাজ করেন! এখন বলেন তো দেখি, আমার বউ কে কই লুকিয়ে রেখেছেন?
সাফিয়া রহমানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। কত্তো বড় বেয়াদব! বলে নাকি, তার বউ কে লুকিয়ে রাখছে।
ভাবনা থেকে বেরিয়ে সাফিয়া রহমান তির্যক হেসে বলে,
—তুমি তো নিজের বউ কে অনেক ভালোবাসো!
অর্থ সাথে সাথে বলে,
—হুম বাসিই তো!
প্রতুত্তরে সাফিয়া রহমান বলে,
—তাহলে নিজের ভালোবাসা দিয়েই বউ কে খুঁজে নাও!
অর্থ Innocent face বানিয়ে মনে মনে বলে,
—কি একটা অবস্থা! শালী, দজ্জাল শাশুড়ী!
অর্থ একটা ভারী নিশ্বাস ফেলে ভাব নিয়ে বলে,
—আচ্ছা আপনি যান গা! আমি নিজেই নিজের বউকে খুঁজে নিবো!
কথাটা বলেই অর্থ বাড়ির ভেতরের দিকে আড়াল হয়ে যায়।
পেছনে দাঁড়িয়ে সাফিয়া রহমান মৃদু হাসলেন।
________________________________
ছোট বেলা থেকেই আয়াশের এলার্জি আছে। তাই, গোসলের পর প্রতিদিন প্রচুর গা চুলকায়। আয়াশ ন্যাংটো হয়ে বিচানায় বসে গা চুলকাচ্ছে।
এমন সময় দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আয়াশ রসগোল্লার মতো চোখ গোল করে তাকালে দেখে অর্থ দাঁড়িয়ে আছে।
অর্থ মূলত আয়াত কে খুঁজতে খুঁজতে এই ঘরে এসেছিলো। এসে এমন কিছু দেখতে হবে ভাবতে পারেনি।
আয়াশ হতবম্ভ হয়ে দৌড়ে গিয়ে তোয়ালে টা লুঙ্গির মতো গায়ে পেঁচিয়ে চেচিয়ে বলে,
—হায় হায়রে! আমার সর্বনাশ করে দিলো! এই, বে'দ্দপ জিজু আমার ইজ্জত খাইয়া নিলোরে!
আয়াশের এমন হায়-হুতাশ অর্থ বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
—এইই এইই! চুপ কর শালা তোর মুখে মারমু তালা! আরেহ্ ভাই,তোর যেই বাল আছে আমারও সেটাই আছে! আর আমি "গে" না যে বউ থাকতে শালার ইজ্জত খাবো! সো স্টপ'ইট ইডিয়ট!
কথাটা বলেই অর্থ শব্দ করে দরজা লাগিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।
আয়াশ হা করে চেয়ে আছে। কি বলা উচিত বুঝে উঠতে পারছে না! কতো বে'দ্দপ তার দুলাভাই! মুখে যা আসে সেটাই উগরে দেয়। আয়াশ একে নিয়ে হতাশ, ভীষণ হতাশ!
এসব ভেবেই আয়াশ ফোস করে একটা শ্বাস ফেলে!
_______________________________
গোসল করে বের হয়ে আয়াত ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতেছে। পরনে একটা সবুজ রঙের থ্রি-পিচ!
অর্থ দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে আয়তকে দেখে মুচকি হাসলো। আয়াত আড় চোখে একনজর অর্থকে দেখে আবার নিজের কাজে মনযোগী হলো।
অর্থ এগিয়ে এসে আয়াতের পিঠে বুক ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে, আয়াত কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার ঘাড়ের ভাজে মুখ গুজে কাঁপা শ্বাস টানলো! মুহূর্তেই যেন আয়াতের শরীর শিহরিত হলো। তবে সেসবে পাত্তা না দিয়ে সে বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
—সড়ুন তো! ডিস্টার্ব কইরেন না!
অর্থ আয়াতের কথায় পাত্তা না দিয়ে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে তার গলার ভাজে মুখ ডুবিয়ে শব্দ করে একটা চুমু এঁকে নেশাক্ত কণ্ঠে বলে,
—স্যরি বেবি! এটা মানতে পারলাম না! আমরণ ডিস্টার্ব করবো আমি তোমায়!
অর্থর কথার বিপরীতে আয়াত কথা ঘুরিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে শুধালো,
—আচ্ছা আপনি কি সত্যিই গ্যাংস্টার?
অর্থ ভাবলেশহীন কণ্ঠে উত্তর করে,
—গ্যাং নিয়ে যারা চলে, তারা গ্যাংস্টার! আর, আমার গ্যাং লাগে না! আমি একাই একশো!
I am the only lion in this forest!"
সব শুনে আয়াত ছোট করে শান্ত কণ্ঠে বলে,
—ওহ্!
এর বেশি আয়াত কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না, এটা দেখে অর্থ নিজেই কিছুটা অবাক হলো! কারণ সে ভেবেছিলো, আয়াত হয়তো সব কিছু জানার পর সিনক্রিয়েট করবে!
তবে, অর্থ সেসব বিষয়ে আর মাথা ঘাটালো না। আয়াত কে শক্ত করে নিজের সাথে আকড়ে নিয়ে, পেছনের দিকে হাত বাড়িয়ে আয়াতের জামার চেইন খুলতে শুরু করে। আয়াত নিজেকে ছাড়ানোর জন্য নড়াচড়া করে তবে কাজ হয় না তাই অর্থ কে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরাতে চেয়ে মৃদু চেঁচিয়ে বলে,
–এইই! সড়ুন তো, কিছুক্ষণ আগেই গোসল করে বের হয়েছি! এখন আবার করতে পারবো না!
কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হলো না। অর্থ হালকা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
—তুমি একা একা গোসল করেছো সেটা তোমার দোষ, এখন আমার সাথে করবে!
কথাটুকু বলে শেষ করতেই অর্থ একটানে আয়াতের জামা খুলে ফেলে! অতঃপর আয়াত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আয়াতকে কোলে তুলে নিয়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়ায়!
আয়াত হতবম্ভ হয়ে চেয়ে আছে! আয়াতের পরনে এখন শুধু একটা "ইনার" আর নিচের অংশে পায়জামা।
বাথরুমে ঢুকে অর্থ শাওয়ার অন করে, তার নিচে দাঁড়িয়ে আয়াতকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়।
এরপর আয়াতের ঠোঁট জোড়া নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিয়ে নেয়। আয়াত নিজেকে বারবার ছাড়াতে চেয়েও লাভ হচ্ছে না। এই'পর্যায়ে অর্থ বিরক্তিতে "চ" সূচক শব্দ করে রাশ ভারী কণ্ঠে বলে,
—এইই বাল! ডিস্টার্ব করছো কেন?
আয়াত অবাক হয়ে তড়াক করে অর্থর দিকে তাকায়!
কি একটা অবস্থা! এই লোকটা আয়াতকে ডিস্টার্ব করছে আবার বলছে,আয়াত নাকি তাকে ডিস্টার্ব করছে।
এসব ভেবে আয়াত ভারী নিশ্বাস ফেলে!
আয়াত এবং অর্থ দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রমেই ভারী হচ্ছে, আর সেগুলো আছড়ে একে অপরের উপর!
অর্থ আয়াতের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে রেখেই আয়াতের ইনারের হুক খুলতে শুরু করে করে। দুজনের শরীর ভিজে একাকার। অর্থর পরনের সাদা শার্ট'টা মেদহীন শরীরে লেপ্টে আছে। আয়াত এখন আর বাঁধা দিচ্ছে না, অর্থর শার্ট খাঁমচে ধরে তার বুকে মাথা ঠেকিয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে রয়েছে!
অর্থ আয়াতের ইনার খুলে অদুরে ছুড়ে ফেলে। তার ঠোঁটের কিনারে লেগে থাকা হাসিটুকু চওড়া হয়। অর্থ আয়াতের থুতনিতে হাত রেখে মাথা উঁচিয়ে আবারো আয়াতের ঠোঁট জোড়া গভীর ভাবে আঁকড়ে ধরে! অর্থর হাত অবাধ্যের মতো আয়াতের পুরো শরীর জুড়ে বিচরণ করছে!
অর্থ আয়াতের ঠোঁট থেকে মুখ সরিয়ে তার বুকে মুখ গুজে ফিজেল হেসে মোহনীয় কণ্ঠে গেয়ে ওঠে,
—তোকে প্রথমবার দেখেই....!
—চোখে চোখ রেখেই....!
—কখন জানি'না, আমি কেচ খেয়েছি....!
—তোর সেক্সি হাসিতে, মন দিতে দিতে.....!
—কখন জানি না, আমি কেচ খেয়েছি....!
—স্বপ্নেরই জালে তোর, হাই ভোল্টেজ গালে....!
—যেই হালকা ঠোঁট রেখেছি...!
—ওহ্ সিট...!
—সলিড কেচ খেয়েছি....!
এটুকু গেয়ে অর্থ থেমে গিয়ে আয়াতের ওইটা মুখে নিয়ে চুষতে শুরু করে।
আয়াত আর কি বলবে! এই ছেলেকে সে যখনই দেখে, জাস্ট কথা হারিয়ে ফেলে! আয়াত ধীরে ধীরে বন্ধ চোখের পাতা খুলে অর্থর দিকে আবেশিত দৃষ্টিতে তাকায়। সেসবে অর্থর কোনো খেয়াল নেই, সে তো আয়াতের মাঝে মত্ত!
আয়াত উন্মাদনায় দুই হাত মুষ্টি বদ্ধ করে, কাঁপা কণ্ঠে আওড়ালো,
—আচ্ছা একটা কথা বলি?
অর্থ আয়াতের ওইটা মুখে রেখেই বলে,
—হুম বলো ফাস্ট!
আয়াত একটা ভারী প্রশ্বাস টেনে বলে,
—আমার জানা মতে, কালকেই আপনার সাথে আমার প্রথম দেখা হইছে!
অর্থ সাথে সাথে উত্তর করে,
—হুম তো?
আয়াত ভনিতা নিয়ে বলে,
—আপনার তো দেখি আমার প্রতি ভালোবাসা উপচে পড়ছে! এক দেখাতে, এটা কি সম্ভব?
অর্থ আয়াতকে নিজের সাথে জড়িয়ে রেখেই সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলে,
—ভালোবাসার কোনো টাইম-ট্রেভেল নাই! কখনো কখনো, কারো সাথে বছরের বছরের পর বছর থেকেও তার প্রতি ভালোবাসা জন্মায় না! আবার কখনো কখনো, প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা হয়ে যায়! ভালোবাসার সঠিক বাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি! এটা এমন এক ফিলিং যা হঠাৎ করেই চলে আসে! বলতে গেলে, জাস্ট হয়ে যায়!
আয়াত অবাক নয়নে অর্থর দিকে তাকায়! এই ছেলে ভালোবাসা সম্পর্কে এতো ধারণা রাখে, এটা সে ভাবেনি!
অর্থ একটা তপ্ত ফেলে ফের আওড়ায়,
—বাট, ভালোবাসা যেটাই হোক! আমি তোমার প্রতি অবসেসড!
অর্থর শেষ লাইন টা আয়াতের মনে মুগ্ধতা ছড়াতে পারলো না! সে, দ্বিধা নিয়ে মলিন কণ্ঠে বলে,
—আপনার এই আসক্তি আমার রুপের জন্য তাই না? আমার রুপ চলে গেলে তো আপনি আমার দিকে আর ফিরেও তাকাবেন না!
আয়াতের কথা গুলো অর্থর কানে বিষের মতো বিধলো! মুহুর্তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়, সে এক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে অপর হাতে আয়াতের গাল চেপে ধরে দাঁত পিষে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
— লাভ ইজ গুড বাট অবসেসন ইজ ডিপলি ডেঞ্জারাস! তোর প্রতি আসক্ত আমি, তবে কেন সেটা জানি না! কিন্তু, এটুকু বলতে পারবো এটা আমরণ আসক্তি, যা কোনো দিনও শেষ হবার নয়!
নিজের মতো করে কথা গুলো বলে, অর্থ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ভেজা শরীরেই বাথরুম থেকেই বেড়িয়ে গেলো!
আয়াত ছলছল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে, অর্থর গমন পথে! এটুকু কথাতে এই ছেলে এতো রাগ করলো কেন? আয়াত হিসাব মিলাতে পারছে না!
[প্রথমেই সকলের কাছে ক্ষমা চাইতেছি! আমি ডেট বলে দেওয়ার পরেও সেই দিনে গল্প দিতে পারিনি,,! আসলে, একটু প্রবলেমে আছি🥹 আমি ডেট বদলাবো না! যথারিতি, রবিবার আর বৃহস্পতিবারে এখন থেকে নিয়ম করে গল্প পাবেন ইনশাআল্লাহ! আর হ্যাঁ, আজকের পর্বটা এই বালের কারেন্টের জন্য দিতে দেরি হলো! এবার, বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট কইরা উৎসাহ দিয়েন]
~চলবে~