#আমরণ_আসক্তি
#অপূর্ব
#পর্বসংখ্যা_০৯
🚫❌
(১৮+) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটা অতিরিক্ত রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করে যেতে পারেন।
[সবার চিন্তাধারার সাথে গল্পটি নাও মিলতে পারে]
⚠️
~(ডার্ক রোমান্টিক + থ্রিলার টাইপ গল্প পছন্দ না করলে এড়িয়ে যান)~
⚠️🚫
{বিনা অনুমতিতে কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ}
________________________________
"আবরার সফটওয়্যার এন্ড টেকনোলজিস" কোম্পানির বাইশ'তলা ভবনের অফিস। এই একটামাত্র প্রতিষ্ঠান অর্থর পরিবারকে এনে দিয়েছে ব্যাপক অর্থ এবং সম্মান। বলতে গেলে, এই কোম্পানিটি আবরার পরিবারের আভিজাত্যের প্রতীক। কোম্পানিটি বর্তমানে আহসান আবরার নিজ হাতে সামলাচ্ছেন। অর্থ মাঝেমধ্যে কোম্পানিতে এসে তদারকি করে। খুব বেশি উপস্থিত না থাকলেও সামান্য উপস্থিতিতেই অনেক কাজ এগিয়ে দিতে সক্ষম অর্থ।
__________
অফিসের গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে সোজা লিফটে করে সতেরো বের হলো অর্থ। সতেরো তলায় পা রেখে চেহারায় এক পেশাদার গাম্ভীর্যতা টেনে নিজের অফিস রুমের দিকে পা বাড়ালো সে। অফিসের কর্মীরা নিজেদের মতো কাজ করছিলো। অর্থ কে দেখে সকলে দাঁড়িয়ে এক এক করে সালাম দিলো। অর্থ গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে সালামের উত্তর দিয়ে নিজের রুমে ঢুকে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দেয়।
_________
দিয়া, রুহি আর মাহি নিজেদের ডেস্কে বসে মুগ্ধ দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে অর্থর গমন পথে চেয়ে আছে। এই তিনজন কলেজ লাইফ থেকে ফ্রেন্ড। ইচ্ছা ছিলো তারা সব সময় একসাথে থাকবে, আর সেজন্যই মূলত তারা একসাথে এই কোম্পানিতে জয়েন করেছে। স্টুডেন্ট হিসাবে ভালো হওয়ায় সেরকম কোনো সমস্যা হয়নি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, তিন বান্ধবী একটাই ছেলে পছন্দ। আর সেটা হলো নীল চোখের মায়াবী পুরুষ অনিকেত আবরার অর্থ।
রুহি চোখ ঘুরিয়ে দিয়ার পানে চেয়ে আক্ষেপের সুরে বলে,
—আহ্! কবে যে আসবে সেই দিন, যেদিন অর্থ সাহেব আমার হবে!?
রুহির কথা শুনে দিয়া ভ্রু কুঁচকে তেঁজি কণ্ঠে বলে,
—এহহহ! আইছে! উনি তোর হবে কেন? উনি শুধুই আমার!
এই দুজনের কথা শুনে মাহি পরিহাস মূলক হেসে বলে,
—আহারে মামুনিদের শখ কতো! আমার মতো সুন্দরী থাকতে উনি তোদের মতো পেত্নীদের দিকে তাকাবে কেন?
কথাটা বলে মাহি ভাব নিয়ে সামনের দিকে পড়ে থাকা একগোছা চুল পেছনের দিকে সরিয়ে দিলো।
দিয়া আর রুহি একই সাথে চোখ গরম করে মাহির দিকে তাকালো।
রুহি রেগে কিছু বলবে তার আগেই আরিয়ান এগিয়ে এসে মুচকি হেসে বলে,
—মিস মাহি! তুমি ভুলে যেও না, অর্থ স্যার কিন্তু তোমার দিকেও তাকায় না!
আরিয়ান দিয়া'দের কলিগ। আরিয়ানের কথা শুনে রুহি আর দিয়ার রাগ মিইয়ে যায়, তারা হু হু করে হেসে ওঠে।
মাহি বিরক্ত হলো! চোখ মুখ কুঁচকে আরিয়ানের দিকে আরিয়ানের দিকে তাকায়। আরিয়ান হাসছিলো, মাহির এমন রাগী দৃষ্টি দেখে মুহুর্তেই ছেলেটার মুখ চুপসে গেলো।
মাহি রাগী কণ্ঠে বলে,
—মিস্টার আরিয়ান! ওয়েল ইউর ও'ন মেশিন!
মাহির কথা প্রতুত্তরে আরিয়ান কি বলবে বুঝলো না, তাই বোকা হেসে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসে নিজের কাজে মনযোগ দিলো।
__________________________________
সাফিয়া রহমান মেয়ের সাথে আবেগঘন মুহূর্ত অতিক্রম করে রান্না ঘরে এসেছেন। অনেক কাজ বাকি! অনেক রান্না করতে হবে। হাজার হলেও একমাত্র মেয়ের জামাই আসবে বলে কথা! বিয়েটা যেভাবেই হোক না কেন, হয়েছে এটাতো সত্যি!
এই বিষয়ে আর কিছু না ভেবে, সাফিয়া রহমান রান্না করায় মনযোগী হলেন।
এদিকে আয়াত আর আয়াশ সোফায় বসে টিভিতে গোপালভাড় কার্টুন দেখছে। দুজনেই এতো বেশি মনযোগী যে, দূর থেকে যে কেউ দেখলে ভাববে এই দুজন বিশাল কোনো রাজকার্য করছে।
আজকের পর্বে গোপাল ভাড়ের ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে সেই নিয়ে দুই ভাই-বোন ডুকরে ডুকরে কেঁদে ভাসাচ্ছে। আয়াশ নিজের কান্নার ফাঁকে ফাঁকে বোন কে একটা করে টিস্যু এগিয়ে দিচ্ছে আর আয়াত তা দিয়ে চোখ মুচতেছে।
আয়াত নাক টেনে বলে,
—হায়রে গোপালডা মইরা যাইবো, আমার বহুত কষ্ট লাগছে!
কি একটা ইমোশনাল সিন! এতো কষ্ট, তারপরেও আয়াতের মুখের ভঙ্গিমা দেখে আয়াশ না চাইতেও ফিক করে হেসে ফেলে!
আয়াশ কে হাসতে দেখে আয়াত কিছু একটা বলতে গিয়েও, থেমে গেলো দরজার কাছে শব্দ পেয়ে।
আয়াত আর আয়াশ ঘাড় ঘুরিয়ে একইসাথে দরজার দিকে তাকালে দুজনের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং মাসুদ ভাই!
আয়াত নিজেকে গুটিয়ে আয়াশের দিকে চেপে বসলো।
মাসুদ এগিয়ে এসে আয়াতের থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে বলে,
—আসসালামু ওয়ালাইকুম, ভাবী! কেমন আছেন?
আয়াতের হয়তো আজকে অবাক হওয়ারই দিন। যেই লোকটা এতোকাল বউ বানাবো বলে লাফাইতো, আজকে হঠাৎ এসে সে ভাবী ডাকছে! বিষয়টা চুদলিংপং হয়ে গেলো না?
আয়াতের ভাবনার মাঝেই মাসুদ পুনরায় বলে,
—এতোদিন আপনার সাথে যেমন ব্যবহার করেছি, যা বলেছি সব ভুলে যান! আমাকে প্লিজ পাফ করে দিয়েন প্লিজ! আজ থেকে আপনি আমার ভাবী। এই বাড়ি আপনাদেরই থাকবে আর কোনোদিনও আপনাদের কারো সামনে আসবো না।
এবার আয়াতের অবাকতা বাঁধ ভাঙলো। বিস্ময়ে মেয়েটার মুখ হা হয়ে গেছে। পাশ থেকে আয়াশ খিলখিলিয়ে হেসে বলে,
—জিজু তোমাকে টাইট দিয়েছে তাই না?
আয়াশের কথা শুনে আগের মাসুদ হলে হয়তো রাগ করতো, তবে এই মাসুদ তেমন কিছুই করলো না। উল্টো মৃদু হেসে ছোট করে বলে,
—হুম!
এতোক্ষনে আয়াতের নিজের স্বামীর কথা। সে তো গোপাল ভাড়ের শোকে ভুলেই গেছিলো, তার বিয়ে হয়েছে! আয়াতের কাছে এবার সব পরিষ্কার হলো। সে এখন খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে, সব অর্থর কারসাজি!
আয়াত নিজের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে মুচকি হেসে বলে,
—আচ্ছা ঠিক আছে!
পুরুষালি কন্ঠ পেয়ে সাফিয়া রহমান রান্না ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছিলেন। মাসুদ আর আয়াতের কথপোকথন তিনি শুনেছেন। এখন মূলত তিনি গভীর ভাবনায়। সাফিয়া রহমান কে দেখতে পেয়ে মাসুদ দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত জোড় করে অসহায় কণ্ঠে বলে,
—স্যরি আন্টি! আপনার সাথে জীবনে অনেক বাজে ব্যবহার করেছি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন!
সাফিয়া রহমান খুব বেশি অবাক হলেনা না! কারণ, মেয়ের জামাই ক্ষমতাবান শুনেই তিনি এরকম কিছুই হবে বলে ধারণা করেছিলেন!
সাফিয়া রহমান বিচক্ষণের মতো করে মাসুদের উদ্দেশ্যে বলে,
—ক্ষমা করা'টা বড় বিষয় না! ভালো হওয়াটাই মূল ফ্যাক্ট! আশা করি, আমাদের সাথে যেমন করেছো এমনটা আর কারো সাথে করবে না!
মাসুদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে সাফিয়া রহমান কে বলে,
—আচ্ছা ঠিক আছে, আন্টি! আমি এখন যাই!
কথাটুকু বলে কাওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মাসুদ একপ্রকার দৌড়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলো।
সাফিয়া রহমান দাঁড়িয়ে মাসুদের গমন দেখলেন। মনে মনে অর্থর প্রতি অনেকটাই সন্তুষ্ট হলেন তিনি! এতো দিনের সমস্যা, আর ছেলেটা কেমন এক তুড়ি দিয়ে সমাধান করে দিলো। মৃদু হাসলেন তিনি।
--------
আয়াতের বাড়ির সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাসুদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুই সঙ্গী, মামুন আর কালাম।
মাসুদ এগিয়ে এসে তাদের কাছে দাঁড়ালে কালাম বলে,
—ছিহ্ ভাই! সামান্য দুই কোটি টাকার জন্য স্যরি বলে সম্মানে দাগ লাগালেন! বিষয় টা দুঃখজনক!
মাসুদ কালামের কাঁধে হাত রেখে বলে,
—টাকা টা সামান্য হলেও জীবনটা অনেক দামী! তোদের থেকে এসব বিষয়ে আমার অনেক বেশি ধারণা আছে! আমি খুব ভালো করেই গ্যাংস্টারদের মাইন্ড সম্পর্কে জানি। আমরা তো মহল্লার মাস্তান আর ওরা আন্ডার ওয়াল্ডের গ্যাংস্টার! ওদের কাছে খিন করাটা ডাইল ভাত। আমি যদি ওই পোলার দেওয়া টাকা না নিয়া ত্যাড়ামি করতাম, তাইলে ওরা আমাদের জাগায় খাইয়া দিতো।
এতোটুকু বলে মাসুদ একটা দম নিয়ে ফের আওড়ালো,
—আর পোলাডা যেহেতু কইছে, আয়াত ওর বউ লাগে! তাই অন্যের বউয়ের দিকে না তাকানোই ভালো!
মামুন আর কালাম ভাবুক ভঙ্গিতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। আসলেই তো, বিবাহিত নারীদের থেকে দূরে থাকায় ভালো!
_________________________________
ঘড়ির কাঁটা দুপুর দুইটা ছুঁই ছুঁই..........
সাফিয়া রহমান ডাইনিং টেবিলে খাবারের বাটি গুলো সাজিয়ে রাখছিলেন। এমন সময় বাড়ির মেইন গেট দিয়ে অর্থ ভেতরে প্রবেশ করে উচ্চস্বরে ডাকে,
—বউ! ওহ্ বউ! কই গো!
উচ্চস্বরে এমন ডাকাডাকি শুনে সাফিয়া রহমান চোখ-মুখ কুঁচকে পাশ ফিরে তাকিয়ে বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
—এই বেয়াদব! এভাবে ষাড়ের মতো চেঁচাচ্ছো কেন?
অর্থ বাঁকা হেসে বলে,
—ওগো শাছুমা! চেঁচায়নি গো, বউরে স্মরণ করতেছি!
সাফিয়া রহমানের বোধহয় বিরক্তি বাড়লো। তিনি রাশ ভারী কন্ঠে বলেন,
—এভাবে কে স্মরণ করে বেয়াদব!?
অর্থ নির্লিপ্ত কণ্ঠে উত্তর করে,
—আমি এভাবেই আমার বউকে স্মরণ করি! আমি মানুষটাই স্পেশাল স্টাইল তো ইউনিক হবেই! আর বউয়ের প্রতি ভালোবাসা বেশিই গাঢ় তো, তাই আওয়াজটা বেশিই জোড়ে হয়ে গেছে!
সাফিয়া রহমান বিরক্তির নিশ্বাস ফেলে বলেন,
—বেয়াদব একটা!
সাফিয়া রহমানের কথার প্রতুত্তরে অর্থ দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে,
—থ্যাংকস ফর ইওর কমপ্লিমেন্ট!
অর্থর এমন উদ্ভট উত্তর শুনে সাফিয়া রহমান হতবম্ভ হয়ে গেছেন!
[দেরিতে দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত! রিচেইক দেওয়া হয়নি, ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন😊]
~চলবে~