ফন্ট সাইজ:
থিম:
মির্জা সায়ান মুগ্ধ

৭১তম পর্ব

লেখক: জান্নাতুল ফেরদৌস মিথিলা
#মির্জা_সায়ান_মুগ্ধ — পর্বঃ৭০(ক)
#jannatul_firdaus_mithila 
“ বিশ্বাস না হলে এলেক্সকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো! তার কাছে সে-ই লিস্টটা রয়েছে, যেটা এতদিন এডউইনের তত্ত্বাবধানে ছিল! নিজ চোখে নাহয় একবার দেখে আসো গিয়ে।”
মৃদু কম্পনে দুলে উঠল মাহি'র অন্তঃকোণ। স্তব্ধতায় জমাট বাঁধল পা! অজান্তেই হাতদুটো কেমন সরে এলো দোলনার গা হতে। হতভম্ব সুরে আওড়াল, 
“ আমি....”
আলতো হাসে মিলা। হাতে থাকা ট্রে-টা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল পরক্ষণে। বরফের কোলে পা ডুবে যাচ্ছে তার, তবুও অগ্রসর তার কদম! খানিকটা পথ পেরিয়ে অবশেষে কন্ঠ উঁচিয়ে বলল,
“ তোমার ইচ্ছে! রুশদী'র পাগলামোর একাংশ নিজ চোখে পরোখ করতে চাইলে যেতে পারো, নাহলে থাকো ওভাবেই বসে।”
আর দাঁড়াল না মিলা। প্রস্থান ঘটালো ব্যস্ততা দেখিয়ে! হতভম্ব মাহি তৎক্ষনাৎ ঢোক গিললো সামান্য। কোল জুড়িয়ে পড়ে থাকা এন্টিক ফোনটা আলতো করে হাতে তুলে, উঠে দাঁড়াল দোলনা থেকে। শঙ্কিত চিত্তে সম্মুখে অগ্রসর হতেই পেছন থেকে ভেসে এলো নিরুর গম্ভীর কন্ঠস্বর!
“ দাঁড়াও! তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।”
থমকায় মাহি'র ব্যস্ত কদম! কপালে গোটাকতক সুক্ষ্ম  ভাঁজ ছড়িয়ে গমগমে গলায় প্রতুত্তর ছুড়ঁল, 
“ আমি আপাতত আপনার কথা শুনতে ইন্টারেস্টেড নই! যা বলার পরে বলবেন।”
এহেন তীক্ষ্ণ বাক্যবাণের অভিঘাতে শক্ত হলো নিরুর লম্বাটে চোয়ালখানা। দৃষ্টিপটের অভিমুখে মাহি এগোচ্ছে! তার পিছুপিছু ছুটছে কিউটি সোনা। নিরুর রাগ বাড়ল মেয়েটার এরূপ ঔদ্ধত্য দেখে। তৎক্ষনাৎ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠল —
“ তোমার মধ্যে দেখছি নূন্যতম ভদ্রতার বালাই নেই! কোথায় যাচ্ছো আমার কথা না শুনে?”
“ সে কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দেব না!”
বোকা মানবীর কন্ঠে আজ ভীষণ তেজ। থামেনি তার ছুটন্ত পা! ছুটতে ছুটতে ক্ষণকাল বাদেই পার হলো কালো পোশাকধারী গার্ডদের দক্ষ নজরবেষ্টনী। ওদিকে, পেছনে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিরু কেমন চোয়াল ঝুলিয়েছে রমণীর এরূপ কথার পিঠে! ঐটুকুন একটা পুঁচকে মেয়ের তো ভারী সাহস!
____________________________________________
“ মিস্টার এলেক্স? মিস্টার এলেক্স? হোয়্যার আর ইউ? মিস্টার এলেক্স...”
অস্থির পদক্ষেপে প্যালেসের লিভিং এরিয়ায় উপস্থিত মাহি। সন্ধানী দৃষ্টিযুগল এদিক-ওদিক ছুটিয়ে খুঁজে যাচ্ছে এলেক্সকে। অথচ এলেক্স তো দূর, তার টিকিটারও দেখে মেলা ভার! রমণী উদ্বিগ্ন বড্ড। পাদু’টোয় বাঁক টেনে কন্ঠ উঁচিয়ে ডাকলো ফের —
“ মিস্টার এলেক্স? কোথায় আপনি?”
আচমকা ব্যস্ত মাহি'র সন্দিগ্ধ দৃষ্টিজোড়া থমকাল খানিক দুরত্বে। যেথায় সটানভাবে পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এলেক্স। রমণীর এতো হাঁক-ডাকেও স্পষ্ট গা-ছাড়া ভাব তার মধ্যে। মাহি কপাল গোটায় এবার। কন্ঠ উঁচিয়ে ডাকে,
“ মিস্টার এলেক্স?”
হাত নাড়িয়ে মেইডদের সঙ্গে বাক্যালাপে ব্যস্ত এলেক্স! ইচ্ছে করেই উপেক্ষা করল রমণীর ডাক। মাহি হতবাক এরূপ কান্ডে। পাদু’টো যত্রতত্র বাড়িয়ে, এগিয়ে এসে দাঁড়ালো এলেক্সের অভিমুখে! তক্ষুনি জড়সড়ভাব ধরলেন উপস্থিত মেইডরা। ত্রস্ত পা পিছিয়ে নতমস্তকে রমণীকে কুর্নিশ জানিয়ে প্রস্থান ঘটালেন নিঃশব্দে। মাহি অধর নাড়ায় এবার। গমগমে গলায় শুধায় —
“ স্ট্রেঞ্জ! আপনি কী আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না? কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি আপনাকে! আপনি কি আমায় ইগনোর করছেন?”
সহসাই কপালের চামড়ায় গোটা কয়েক ভাঁজ পরিলক্ষিত হলো এলেক্সের। চোয়ালের পেশি হলো টানটান। সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র রমণীর পানে ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে, শক্ত গলায় শুধালো —
“হোয়াট’স ইয়োর প্রবলেম?”
এতক্ষণে গম্ভীর হলো মাহি! দৃষ্টি ঝুঁকিয়ে এলেক্সের অভিমুখে বাড়িয়ে দিলো হাত। গমগমে কণ্ঠে আওড়াল,
“এডউইন আপনাকে আমার পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে বানানো যেই লিস্টটা দিয়ে গেছে, সেটা আমি দেখতে চাচ্ছি। তাড়াতাড়ি দিন!”
দাঁত কিড়মিড় করছে এলেক্স! চোখেমুখে তার চরম অসন্তোষের ছাপ। সাহসী মনটা চাচ্ছে, এক্ষুণি অষ্টাদশীর নরম, তুলতুলে গালটায় সপাটে কয়েকটা চড় বসিয়ে পিষে ফেলতে। তবে সে যে এই মুহূর্তে অসহায়! হাতদুটো বাঁধা মনস্তারের অদৃশ্য ভয়ে। তাই তো মনের এহেন দুঃসাহসিক চিন্তাভাবনাকে কোনোমতে দমিয়ে শক্ত করল চোয়াল। দৃষ্টিতে তীক্ষ্ণতা লেপ্টে পরপর চিড়বিড়িয়ে বলে উঠল,
“আমি যার-তার হুকুম শুনতে বাধ্য নই! সো... গেট লস্ট ফ্রম মা'ই আ'ই সাইট।”
শেষ বাক্যটুকু খানিক জোর গলায় উচ্চারণ করল এলেক্স। শোনাল হুংকারের ন্যায়! অথচ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে—এলেক্সের এহেন হুংকার শুনেও বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না মাহি। উল্টো মুখমণ্ডলে একপ্রকার গম্ভীর ভাবস্রোত লেপ্টে, নজর করল তীক্ষ্ণ! বাড়িয়ে রাখা হাতটা গুটিয়ে এনে নাকের ডগায় এসে পৌঁছানো চশমাটা খানিক ঠিকঠাক করে নিলো সময় নিয়ে। পরক্ষণেই কণ্ঠে এক অদৃশ্য ঝাঁজ লেপ্টে শুধালো —
“আওয়াজ নামিয়ে কথা বলুন, মিস্টার এলেক্স! কেননা আপনার সম্মুখে এই মুহূর্তে আমি কোনো যেন-তেন মানুষ হিসেবে নয়, বরং রুশদী কিংয়ের স্ত্রী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছি। যার সঙ্গে কণ্ঠ উঁচিয়ে কথা বলার দুঃসাহস দেখালে, সেই কণ্ঠ চোখের পলকে টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে এনে আমার পদতলে ফেলে দেওয়ার দায়িত্ব আমার স্বামীর! তা... চেনেন তো আমার স্বামীকে? নাকি আরেকটু মনে করিয়ে দেব—দ্য আন্ডারওয়ার্ল্ড কিং ওরফে মাফিয়া শ্যাডো মনস্টারের কথা!”
থামল মাহি! ঠোঁটের কোণে এক টুকরো বাঁকা হাসির রেশ টেনে বুকের সনে দু’হাত করল ভাঁজ! ক্ষণকাল বাদেই ফের দাম্ভিক কণ্ঠে বলে উঠল,
“মালিকের বজ্রকঠিন বাধ্যতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে, মালকিনকে বাধ্যতার সংজ্ঞা বোঝাতে আসাটা—নেহাত অযৌক্তিক বৈকি, মিস্টার এলেক্স!”
হতভম্বতার আকাশ ভেঙে পড়ল এলেক্সের মাথার ওপর! বিস্ময়াবহে চোয়াল ঝুললো অল্প। রমণীর ওমন তেজী কন্ঠ শুনবে বলে ঘুনাক্ষরেও তৈরী ছিলো না সে! তা যে তার মুখাবয়বের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট। এলেক্স বিভ্রমে ডুবেছে, তন্মধ্যে তার ধ্যান ভাঙার উদ্দেশ্যে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠল মাহি। চশমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চোখদুটোর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এলেক্সের মুখপানে নিবদ্ধ রেখে বলল,
“ আরেকবার মুখ ফুটে লিস্টটা চাইতে হবে না-কি, মিস্টার এলেক্স?”
তক্ষুনি নিজ ভাবনার ঘোর হতে টেনেহিঁচড়ে বেরিয়ে এলো এলেক্স। মস্তিষ্ক সচল হতেই মনে জেগে উঠল — মনস্তারের ভয়। সহসা চোয়াল শক্ত করে, হাতদুটো তৎক্ষনাৎ মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ে দু-চোখ বুজল সে। বড্ড অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে অষ্টাদশীর অভিমুখে হাঁটু ছোঁয়াল মেঝেতে, অবনত করল ঘাড়। পরক্ষণে কোটের পকেট হাতড়ে একখানা মোটা কাগজের লিস্ট বার করে এনে, বাড়িয়ে দিলো মাহি'র দিকে। চিড়বিড়িয়ে আওড়াল —
“ হিয়ার ইজ ইয়োর লিস্ট, রুশদী'স সিগনোরা!”
ছো মে'রে কাগজটা এলেক্সের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলো মাহি। পরপর অস্থিরতায় পা ছোটালো সিঁড়ির পানে। অপরদিকে — অপমানিত লজ্জার আগুনে মেঝেতে হাঁটু গেঁড়ে এখনো বসে আছে এলেক্স, তার চোয়াল কাঁপছে থরথর করে। দৃষ্টি ঝুঁকিয়ে রাখতেই বোধগম্য হলো — একজোড়া কোমল পদ এগিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে তার মুখোমুখি। রাগান্বিত এলেক্স ধীরলয়ে ঘাড় তুলে তাকাল সম্মুখে। ওমনি নজর থমকাল বুকের সনে দু'হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকা হায়া'র পানে। যে কিনা হাসছে শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে। এলেক্সের রাগ কমার বদলে বেড়ে গেল তরতর করে। দাঁতের সনে দাঁত পিষে কিড়মিড় শব্দ তুলতেই সম্মুখ থেকে ভেসে এলো —
“ ফাইনালি! কেউ তোমাকে চোখে আঙুল দিয়ে তোমার আসল জায়গাটা দেখালো।”
হায়া'র তাচ্ছিল্যভরা কন্ঠে গায়ে বোধহয় আগুনের ফুলকি পড়ল এলেক্সের। তক্ষুনি মেঝে হতে উঠে দাঁড়িয়ে, একহাতে খামচে ধরল হায়া'র মোটা চুলের গোছা। মুহুর্তেই চুলের ব্যথায় নাকমুখ কুঁচকে গেল পারস্য সুন্দরীর। কম্পিত অধরযুগল একে-অপরের সনে পিষ্ট করতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো — এলেক্সের দাঁত কিড়মিড় কন্ঠ!
“ কথায় কথায় পিঞ্চ মা-রা শিখে গিয়েছিস তাই না? তবে ভুলে যাস না...তোর এসব পিঞ্চের প্রতিক্রিয়ায় আমি তোর সঙ্গে সঙ্গে ঠিক কি কি করতে পারি!” 
সহসা চোখ খুলল হায়া! অগ্নিদৃষ্টে তাকিয়ে আচমকা মুখভর্তি করে একদলা থুতু নিক্ষেপ করে বসল এলেক্সের সুশ্রী মুখমণ্ডলের ওপর। কটমটিয়ে শুধালো —
“ ইউ নো হোয়াট এলেক্স? ফা*** ইউ!”
__________________________________________
হাটখোলা জানালার বাইরে তুষারপাতের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে বাতাসের প্রকোপ! বাতাসের অমসৃণ ঝাপটায় জানালার ধারের কাউচের ওপর পড়ে থাকা লিস্টটার এক-দুটো কাগজ কেমন অনিচ্ছায় উড়ছে! খচখচ শব্দে রমণীর মনোযোগ কাড়ার প্রয়াসে মত্ত তারা। অথচ রমণীর সকল ধ্যান- জ্ঞান আপাতত জমে আছে দু'হাতে আঁকড়ে রাখা লিস্টের শেষ পৃষ্ঠার পানে। যেথায় গোটা গোটা অক্ষরে সুনিপুণ আঙ্গিকে লিখে রাখা —
 ◑ আমার চাশমিসের প্লেটে চিকেনের ব্রেস্ট-পিস ছাড়া অন্য কোনো অংশ উঠলে — প্রত্যেকের লেগপিস সুইটিদের পেটে যাবে। 
◑ ওর ঝাল নুডলস পছন্দ! কিন্তু ঝাল সহ্য করতে পারে না। ঝাল নুডলস যেদিন বানানো হবে, সেদিন ওর প্লেটারে এক্সট্রা — দু-গ্লাস দুধ, ক'টা হাফ বয়েল এগ এন্ড তিনটে অ্যাভোক্যাডো দিবি! এর মধ্যে একটাও দিতে ভুলে গেলে — এডউইনের মাথা আর আমার ড্যানি-হ্যালিদের খাবার সেম প্লেটে থাকবে।
◑ হোয়াইট সস পাস্তা ছাড়া অন্যকোনো পাস্তা বানানো নিষেধ করা হলো।
◑ রোজ বিকেলে ও চেরি ব্লসম গার্ডেনে যাবে। কেউ ছলেবলে কৌশলে ওকে কিছু ফ্রুটস দিয়ে আসবি এন্ড মেক শিওর — ও যেন সবগুলো ফল খেতে পারে।
◑ ওর প্লেটে সবসময় বাড়তি খাবার দিবি! ও যতটুকু পারবে খাবে বাকিটুকু আমায় দিয়ে যাবি। খবরদার ও যেন টের না পায়! নয়তো সবগুলোর গর্দান একসঙ্গে প্রাডাকে খাইয়ে দিবো।
জলে ছলছল মাহি'র চোখজোড়া! অন্তঃকোণের অসহ্য যন্ত্রণায় মুখ হা করে ফেলছে নিশ্বাস। খানিক স্বস্তি পেতে তক্ষুনি হাতে থাকা কাগজটা লেপ্টে ধরল বুকের সনে। অঝোর ধারায় অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কম্পিত কণ্ঠে থেমে থেমে আওড়াল, 
“ কবে থেকে এতোটা পাগল হলেন, বিস্ট? আমার আড়ালে আর কতো পাগলামি করেছেন আপনি? আর কত সত্য লুকিয়েছেন আমার কাছ থেকে?”
কাঁদছে মাহি! ভাঙছে তার সকল অদেখা বাঁধ। একপ্রকার উম্মাদের ন্যায় লিস্টের কাগজটা বুক হতে উঠিয়ে, সেথায় অনবরত হাত বুলতে লাগলো মেয়েটা। ভগ্নকণ্ঠে ফের শুধালো, 
“ আপনার অনুপস্থিতির অসহ্য দহন আমায় এভাবে পোড়াবে জানলে, আমি হয়তো বহু আগে থেকেই আমার অন্তর গহীনে আপনি নামক শীতলতাটুকুকে বয়ে বেড়াতাম নিঃশব্দে! নিজেকে দূরে সরিয়ে আমায় এতো যত্ন করে না পোড়ালেও পারতেন, মাফিয়া বিস্ট।”
মায়াবিনীর কন্ঠে ব্যথার ছাপ স্পষ্ট! যত্রতত্র হাত বাড়িয়ে পাশ থেকে কোলে তুলে নিলো এন্টিক ফোনটা। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় অজ্ঞ হাতে ফোনের গায়ে এদিক-সেদিক আঙুল বুলিয়ে কি যে টিপছে কে জানে! প্রলাপ জুড়ছে —
“ এটুকু বিরহেই আপনার কন্ঠ শুনতে না পারায় মরিয়া হয়ে যাচ্ছি, বিস্ট! কেন কল দিচ্ছেন না একটাবারও? কেন দিচ্ছেন না আপনি?”
★
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নেমেছে অবশেষে! সদ্য মুখমন্ডলে পানি ছিটিয়ে ওয়াশরুমের বাইরে পা রাখলো মাহি। তোয়ালের মসৃণ আবরণে মুখ মুছতে মুছতে আনমনে  অগ্রসর তার পা। খানিকবাদে তোয়ালের ফাঁকে আনমনে দৃষ্টিজোড়া সম্মুখে তাক হতেই থমকে দাঁড়াল সে। যথাতথা কপাল কুঁচকে সন্দিহান গলায় বলে উঠল —
“ আপনি?”
বিছানার অভিমুখে বিছিয়ে রাখা একখানা নরম গদির ডিভানে গুটিসুটি মেরে বসে আছে ডক্টর হায়া। অষ্টাদশীর কন্ঠ কানে পৌঁছাতেই ঘাড় বাঁকায় সে। ঠোঁটের কোণে এক টুকরো মসৃণ হাসি ঝুলিয়ে আওড়ায়,
“ এসো! তোমার জন্য অনেকক্ষণ ধরে বসে বসে অপেক্ষা করছি!”
মাহি প্রতিক্রিয়া দেখালো না তেমন। থমথমে মুখভঙ্গিতে এগিয়ে এসে বসল বিছানার এককোণে। কোলের ওপর আধভেজাঁ তোয়ালেটা চেপে রেখে শুধালো —
“ কিছু বলবেন আপনি?”
“ বিরক্ত হচ্ছো আমায় দেখে?”
হায়া'র সন্দিগ্ধ কন্ঠ! তা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই সিক্ত চোখদুটো উঁচালো মাহি। আলতো হেসে জবাব দিলো,
“ তা কখন বললাম?”
“ বলোনি, তবে ভাবলাম আরকি! বাই দা ওয়ে, মূল কথায় আসি। বহুদিন পর প্যালেসে ফিরেছো বলে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এলাম!”
“ কৃতজ্ঞতা? কিন্তু কোন প্রসঙ্গে?”
মাহি'র পরপর অবোধ্য প্রশ্নে মেয়েটার পানে মুখ করে ঘুরে বসল হায়া। মুখাবয়বে দীপ্তি অথচ কন্ঠে একপ্রকার নীরব যন্ত্রণার আভাস ফুটিয়ে বলল,
“ জানো ডিয়ার? তোমার প্রতি আমি কিন্তু অনেক কৃতজ্ঞ! তুমি না থাকলে আমি বোধহয় আজও একটা মরিচীকার পেছনে অন্ধের মতো ঘুরতাম।”
পারস্য সুন্দরীর এহেন মোটা বাক্যের অভিঘাতে কপাল গোছায় মাহি। সন্দিগ্ধ কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়ঁল —
“ মরিচীকা?”
তৎক্ষনাৎ ডক্টর হায়া'র টকটকে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো অমসৃণ ব্যথাতুর হাসির রেশ ফুটলো যেন! চোখের কোণ হলো চিকচিক। যথাসম্ভব দৃষ্টি লুকিয়ে শুধালো, 
“ হুম! মরিচীকা... এক স্বার্থপর মরিচীকা। যার পেছনে ছুটে আমি হারিয়েছি নিজের সবকিছু, হারিয়েছি নিজের অস্তিত্ব, সতিত্ব!”
তৎক্ষনাৎ হতবাকতার ছাপ স্পষ্ট হলো অষ্টাদশীর মুখাবয়বে। কন্ঠে ভারী বোধগম্যহীনতার আভাস!
“ আ'ম সরি...বাট আ'ই ডিড নট গেট ইউ ডক্টর!”
এহেন বাক্যের অভিঘাতে সঙ্গে সঙ্গে লাল হয়ে আসা দৃষ্টিজোড়া মাহি'র মুখপানে তাক করল হায়া। মুহুর্তেই স্তম্ভিত হয়ে গেল মাহি। ভড়কে গিয়ে যেই না অধর নাড়াবে ওমনি সম্মুখ থেকে ভেসে এলো হায়া'র মোটা কন্ঠ!
“ এলেক্স হ্যাজ স্লেপ্ট উইথ মি—নট ওয়ান্স অর টোয়াইস, বাট মেনি টাইমস।”
“ হোয়াট!”
বিস্ফোরিত কন্ঠ মাহি'র! চোখেমুখে উপচে পড়া অবিশ্বাসের ছাপ। পাদু’টো অজান্তেই বিছানা হতে নেমে এসে ছুঁয়েছে মার্বেলের তকতকে মেঝে। ক্ষণকাল বাদে ফের সন্দিগ্ধ কন্ঠে শুধায় সে,
“ বাট এলেক্স তো মিলার বয়ফ্রেন্ড!”
ভগ্নহৃদয়ের পারস্য সুন্দরী ওপর নিচ মাথা নাড়ায় নিঃশব্দে। চোখের কোণ হতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঝরে পড়া অশ্রুটুকু অতি সন্তর্পণে আঙুলের ডগায় লুকিয়ে আওড়ায়,
“ আগে তো সেটা জানতাম না! জানতাম শুধু — সে আমায় ভালোবাসে। তবে তার ভালোবাসাটুকু যে শুধুই আমার দে'হের প্রতি ছিল তা জানতে বড্ড দেরি করে ফেলেছি আমি! ঐ যে কথায় আছে না? লাভ ইজ ব্লাইন্ড।  তাই হয়তো বুঝতে পারিনি তার বিশ্বাসঘাতকতাগুলো। অবশ্য... পুরুষ মানুষ হয়ই এমন! এরা কেবল দে'হলোভী হয়, মনলোভী নয়। একবার দে*হ পেয়ে গেলে পরক্ষণেই ব্যবহৃত টিস্যুর মতো মেয়েদের ছুঁড়ে ফেলে দেওয়াটা তাদের পৌরুষ্য ফিতরাৎ!”
সত্য! এ যেন পুরুষজাতের ফিতরাৎ নিয়ে এক তিক্ত সত্য। যা আওড়ানোর ফাঁকে বারংবার দম টেনেছে হায়া। ভেঙেছে তার হৃদয়! অথচ এই তিক্ত সত্যিটুকু মাহি'র  কানে ঢুকলেও তার মনের কোণে আক্রমণ বসাতে পারেনি। এক অদৃশ্য মনোবলের ক্ষমতাবলে দণ্ডায়মান মাহি, ধীরলয়ে পা বাড়িয়ে মুখোমুখি দাঁড়াল হায়া'র। অতঃপর কোনরূপ দ্বিধাবোধ ছাড়াই শান্ত গলায় শুধালো, 
“ হাতের পাঁচটা আঙুল কী কখনো সমান হয় ডক্টর?”
কান্না ভুলে বোকাচোখে চেয়ে রইল হায়া! অবোধের ন্যায় মাথা নাড়ায় দুপাশে। মাহি আলতো হাসলো তা দেখে। বিজ্ঞের ন্যায় আবারও বলতে লাগল —
“ হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন সমান হয় না, তেমনি এ পৃথিবীর প্রতিটি পুরুষের ব্যাক্তিত্ব কখনো সমান হয় না! এক-দুটো জা*নোয়ারের জন্য গোটা পুরুষজাতির ফিতরাৎের ওপর প্রশ্ন তোলা নিতান্তই অযৌক্তিক! যারা নিজেকে ডাস্টবিন মনে করে, মূলত তারাই মেয়েদেরকে ব্যবহার করে নোংরা টিস্যুর মতো দূরে ছুড়ে ফেলে। আর যারা নিজেদেরকো রাজা ভাবে — কেবল তারাই তাদের প্রেয়সীদের রাণী ভাবার সাহস দেখাতে পারে! আপনি জেনে-বুঝে কয়লার খনিতে ঝাপ দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা খুঁজে বেড়ালে সেটা অবশ্যই আপনার দোষ! কে বলেছে কারো মনের দরজা খুঁজে পেতে, তাকে আগে  নিজের দে'হের দরজা দিয়ে দিতে হবে? অথচ ভালোবাসা হয় একে-অপরের মনের মিলে! এ এক আপেক্ষিক ব্যাপার স্যাপার ডক্টর হায়া। যারা প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসা খোঁজে, তারা কখনো দৈহিক খুদায় ক্ষুধার্ত হয় না।”
মাত্র ১৮ বছরের একটা মেয়ের মুখে এহেন ভারী ভারী বাক্যগুলো এতোটা অবলীলায় বেরুচ্ছে বলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল হায়া। বিস্মিত দৃষ্টে তাকিয়ে থেকে, হতভম্বের ন্যায় শুধালো,
“ এতো বড়ো বড়ো কথাগুলো এতো সহজে কি করে বলছো, ডিয়ার? সত্যি করে বলোতো...তুমি কী কাউকে ভালোবাসো?”
মুচকি হাসির রেশ ফুটলো মাহি'র ঠোঁটের কোণে। পরমুহূর্তেই কদম পিছিয়ে আগালো বিছানার পানে। ধীরকন্ঠে প্রতুত্তর করল,
“ ওসব ভালোবাসা-বাসির পর্যায়ে এখন আর আমি নেই, মিস! বরং আমার আত্মাটা এখন দখল হয়ে গেছে অন্যের নামে। খুব একটা ভুল না হলে — এমুহূর্তে আমার হৃদয়টাও স্পন্দিত হচ্ছে তার নামে!”
“ তোমার ভালোবাসার মানুষটা কী রুশদী?”
সহসা লাজে রাঙা হলো মাহি'র গালদুটো। মুখে জবাব না দিয়ে ঝাঁকায় ঘাড়। পরিতৃপ্তির হাসিতে সহসা চকচক করে উঠল হায়া'র চোখদুটো। তক্ষুনি উঠে এসে দাঁড়ালো মাহি'র অভিমুখে। অত্যন্ত সযত্নে মাহি'র ক্ষুদ্র থুতনিতে আঙুল রেখে উঁচায় তার মুখ, হাসিমুখে আওড়াল,
“ আ'ই উইশ — তোমার এই ভালোবাসা যেন পরিপূর্ণতা পায়।”
“ পূর্ণতা যে পেতেই হবে, মিস! নয়তো অপূর্ণতার অসহ্য যন্ত্রণা সইতে না পেরে এই পৃথিবীর বুক হতে চিরতরে মুছে যাবে আমার অস্তিত্ব!”
___________________________________________
অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতেই কেটে গেলো দীর্ঘ দু'টো দিন। প্রতীক্ষার কাঁটাতারের বেড়াজালে ছিন্নভিন্ন বোকা মানবীর অন্তর, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটিবারের জন্যও কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি ধরা দিলো না তার হাতের মুঠোয়! কানদুটো যেন শক্ত হয়ে গিয়েছে মুগ্ধের সুপরিচিত দাম্ভিক কন্ঠস্বরের বিরহে! 
মাত্র দু'দিনের প্রতিক্ষায় মায়াবিনীর সুশ্রী গৌরবর্ণা মুখমণ্ডলে তীব্র অবসাদের ছাপ বসেছে! চোখের নিচে লেপ্টে গেছে কালি। তার সেবায় নিয়োজিত মেইডদের মধ্যে একপ্রকার তটস্থ ভাবস্রোত পরিলক্ষিত! রমণী ঠিকঠাক মতো খাবার খাচ্ছে না, বহুবার অনুনয়-বিননয় করার পর দু-লোকমা মুখে তোলা মাত্রই অজান্তেই ঠোঁট ভেঙে কেঁদে ওঠে ইদানিং! বিকেলে আর হাঁটতে বের হয় না। মিলা যতোই অনুরোধ করুক না কেনো, রমণীর পাথুরে মন গলে না তাতে। নিজেকে একপ্রকার বন্দী করেছে নিজ কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে! সর্বক্ষণ ফোনটা কোলে নিয়ে চাতকিনীর ন্যায় বসে থাকে — একটিমাত্র ফোনকলের অপেক্ষায়! 
★
গোলাকার মখমলি বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে আছে মাহি! অক্ষিপুটের সম্মুখে দাঁড় করিয়ে রাখা এন্টিক ফোনটা, আঙুল দিয়ে খোঁটাচ্ছে তার গা! ঠিক তখনি, সুবিশাল কক্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ালো একজন কালো পোশাকধারী গার্ড! অবনত মস্তকে, নত হয়েছে তার দৃষ্টি। বড্ড বাধ্যতায় কন্ঠস্বর উঁচিয়ে আওড়াল —
“ গুড মর্নিং, কুইন!”
শুনলো মাহি! তক্ষুনি বিরক্তিতে কুঁচকে নিলো কপালের চামড়া। ঝাঁঝিয়ে আওড়াল, 
“ বললাম না আমি খাবো না? কতবার একটা কথা বলতে হয় আপনাদের?”
ঘাবড়ে গেল বেচারা গার্ড! শক্ত ঢোক গিলে যত্রতত্র দুহাঁটু মেঝেতে ঠেকিয়ে শুধালো, 
“ আপনার জন্য চিঠি এসেছে, রুশদী'স সিগনোরা! বহুদূর থেকে এসেছে।"
কপালের ভাঁজ গাঢ় হলো মাহি'র! কন্ঠ উঁচিয়ে খেঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল, 
“ কে পাঠিয়েছে?”
“ স্বয়ং রুশদী কিং পাঠিয়েছে।”
মুহুর্তেই থমকে গেল মাহি! কেঁপে উঠল তার অন্তর গহীন। একমুহূর্ত স্তব্ধতায় কাটিয়ে পরক্ষণেই ঝড়ের বেগে উঠে এলো বিছানা থেকে। পাদু’টোর গতি বাড়িয়ে দুয়ারপানে এসে দাঁড়াতেই গার্ড নতমস্তকে দু'হাতের তালুতে ধরে রাখা একখানা ভিন্টেজ পেপারের খাম আলগোছে বাড়িয়ে দিলো সম্মুখে। ব্যতিব্যস্ত মাহি দেরি করল না আর। তৃষ্ণার্ত পথিক যেমন একটুখানি পানির দেখা পেলে অস্থির হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি অস্থির হলো ক্ষুদ্র মানবী! তক্ষুনি চিঠিটা গার্ডের হাত থেকে ছিনিয়ে, কম্পিত হাতে খাম খুলতেই সেখান থেকে বেরিয়ে এলো একটি ভিন্টেজ পেপারের চিঠি! শুকনো ঢোক গিলে ধীরলয়ে চিঠিটা খুললো মাহি। ওমনি তার দৃষ্টিপটের সম্মুখে ভেসে উঠল — গোটা গোটা অক্ষরের চমৎকার লেখনী। এক অদ্ভুত লাল রঙা চিপচিপে তরল দিয়ে লেখা হয়েছে চিঠিটা, যা স্পর্শ করা মাত্রই আঙুলগুলো আঠালো হয়ে গেল মাহি'র। তবে ওসবে ওতো ধার ধারল না সে। মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করল চিঠিটা! যেথায় প্রথমেই চমৎকার সম্ভাষণ! 
“ অনিচ্ছা সত্ত্বে আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের একমাত্র কারণ হয়ে ওঠা প্রিয়তমা-আহ...
পরিপূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে যাবার অন্তিম মুহুর্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি! আর আমার এই বিধ্বস্ত হবার পেছনে একমাত্র দায়ী তুই। দায়ী তোর কাজলদিঘী দুটো হরিণী চোখ! সিগনোরা-হ... পারিস না ওদের আঁটকে রাখতে? না-কি আমায় যত্ন করে খু*ন করতে প্রতিবার ছেড়ে দিস ওদের। আমায় মা-রার হলে তুই নাহয় মুখ ফুটে আমার কাছে কিছু একটা চেয়ে নিতি চাশমিস, আই সয়্যার! আমি তোর হাতদুটো নিজে থেকে পরিপূর্ণ করে দিতাম ধারালো অস্ত্রের উপস্থিতিতে। অথচ তুই সেসব না করে নিজের চোখদুটোকেই বানিয়ে ফেললি — আমার মতো নির্দয়কে মা-রার অব্যর্থ অস্ত্র! তারা যে আমার মতো পাষন্ডের হৃদয়টা প্রতি মুহূর্তে খানখান করে দিচ্ছে, সে খবর রাখছিস তুই? 
যখন-তখন তোর চোখদুটোর দিকে তাকালে ক্লান্ত লাগে বড্ড! অসহায় লাগে তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায়। তারা আমার মতো বাঁধনহারা, নির্দয়কে মায়ায় জড়িয়েছে! অথচ তারা বেশ জানতো — তোর সঙ্গে না ছিলো আমার মনের মিল, না ছিল ব্যাক্তিত্বে! তোর সঙ্গে আমার রয়েছে গোটা এক জীবনের শত্রুতা। তোকে আপন করতে গিয়ে গোটা একটা জগতের কাছে নিকৃষ্ট ছেলের তকমা পাবে অধীর রায়, তা জানা স্বত্বেও   কি ভয়ংকর কাজ করেছে চোখদুটো! অবশ্য দোষ তোর একার না! তোর চোখদুটোতে প্রথম যেদিন ডুব দিয়েছিলাম, আমার সেদিনই বোঝা উচিত ছিলো — এই ইহ জগতে আমায় ধ্বংস করার একমাত্র হাতিয়ার এসে গিয়েছে! বোঝা উচিত ছিল, তুই একদিন বড্ড যত্ন করে  আমায় ঠিক ডোবাবি।
যাক ভালো তো! ডুবে গিয়েও অন্তত আমার অভিশপ্ত বিরহে দুফোঁটা অশ্রু ঝরানোর মতো কাউকে তো পেলাম।শোন সর্বনাশী প্রিয়তমা-আহ! বেশি কিছু লেখার মতো সময় নেই আমার হাতে! তবে নিজেকে শক্ত রাখিস।”
আর লেখা নেই প্রথম পৃষ্ঠায়! সহসা উদ্বিগ্নতা বেড়ে গেল মাহি'র। উদভ্রান্তের ন্যায় পৃষ্ঠা উল্টাতেই তার শেষপ্রান্তে লালচে কালিতে দেখা মিললো একখানা গানের সুর! 
“ Bhale doori rahe jitni
Nigahon se nigahon ki....
Magar khwabon ki duniya mein
Milunga tumse rozana.....
Yahin tak tha safar apna
Tumhe hai laut kar jaana
Kabhi main yaad aaun toh....
Chale aana, chale aana...”
মাহি'র চোখদুটো অজান্তেই ঝরাচ্ছে অশ্রু! কাঁপছে সর্বাঙ্গ। কাঁপতে কাঁপতে ধুম করে বসে পড়ল মার্বেলের তকতকে মেঝেতে। বোধগম্যহীনতায় ছেয়ে গিয়েছে তার মন-মস্তিষ্ক। এই গানের সুরের অর্থ তো ভালো নয়! তাহলে এ গান পাঠালো কেন বিস্ট? কি করতে চাইছে সে? কেন দিলো এ গান?
অস্থির মায়াবিনী উম্মাদের ন্যায় বিড়বিড় করছে! তার কন্ঠনালী বরাবর এক অদৃশ্য চাপ অনুভব করছে সে। ক্ষণকাল অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত থেকে হুট করেই চিৎকার দিয়ে উঠল সে। চিৎকার দিয়ে আওড়াল —
“ বিস্ট! বিস্ট!”
কাঁদছে মাহি! তন্মধ্যে এক নারী মেইড কেমন হন্তদন্ত কদমে ছুটে এলো রমণীর কক্ষে। ক্রন্দনরত মাহি'র মুখখানা একপলক পরোখ করে নিয়ে কম্পিত কণ্ঠে শুধালো, 
“ সিগনোরা... নিচে..ঐ..ঐ!”
চিৎকার থামায় মাহি! হতবিহ্বলের ন্যায় ঘোলাটে দৃষ্টি মেইডেনের পানে তাক করে শুধায়,
“ কী?”
কাঁপছে মেইডেন! থেমে থেমে বলে ওঠে, 
“ নিচে একটা পার্সেল এসেছে! একটা এলেক্সের জন্য আরেকটা আপনার জন্য। তাড়াতাড়ি আসুন!”
চলবে........
( আর মাত্র অল্প কয়েকটা পর্ব দিবো পাঠকবৃন্দ! তারপর প্রথম খন্ডের ইতি টেনে দিবো। চিন্তা করবেন না, এরমধ্যে ওদের বাসর দিয়ে দিব। তবে.... বা-স-র পর্ব পেতে চাইলে আপনাদের বেশি বেশি করে রিয়েক্ট দিতে হবে! নাহলে বা-সর দেবার আগেই ঠুসসসসসস...!🥱)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন