ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

পর্ব 5

লেখক: সালমা চৌধুরী

#আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#ফারজানা_মনি
#সিজন_৩
#পর্ব:৭+৮+৯+১০+১২
#গল্পপ্যাক্ট_মাহবুবা

এখন প্রায় দুপুর চারটা।
বাড়ির সকলেই নিজেদের রুমে দুপুরের
ভাত ঘুম দিচ্ছে।
তৃধা চুপচাপ সিড়ি দিয়ে উঠে গেল তৃতীয়
তলায় নিজের রুমে। তৃধার রুমটা মাঝখানে
একপাশে আহিয়ানের রুম অন্য পাশে
আহিয়ার। তৃধা নিজের রুমে ঢুকে ব্যাগগুলো
বিছানার উপর রেখেই ধপাস করে শুয়ে পড়ল।
হঠাৎ মুচকি হাসলো তারপর আবার একা
একাই নিজেকে প্রশ্ন করল: হঠাৎ হাসলাম কেন?
কোন উত্তর নেই তার কাছে, এটা ভেবে
আবার হাসলো।
হঠাৎ মুচকি হেসে উঠে দৌড়ে গেল বেলকনিতে।
দেখলো আহিয়ান বাড়ির ভেতরে ঢুকছে।
আহিয়ান উপরের দিকে তাকাবে বুঝতে
পেরেই তৃধা দৌড়ে রুমে ঢুকে গেল।
তারপর আবার দপাস করে বিছানায়
শুয়ে মুচকি হেসে বিড়বিড় করল: বাঁদরটা
এতটাও খারাপ না।

আহিয়ানকে নিয়ে তৃধার ছোটবেলার
সামান্য কিছু স্মৃতি থাকলেও বড় হওয়ার পর
তেমন কোন আলাদা স্মৃতির টুকরো জমা
নেই। তবে আজ হঠাৎ করে ই আহিয়ানের
সাথে তৃধা রানীর‌ সুন্দর কিছু মুহূর্ত সৃষ্টি
হলো। তৃধা আর কিছু না ভেবে বিছানায়
উপুড় হয়ে শুয়ে রইলো।
মুহূর্তেই সারা রাজ্যের ঘুম তার চোখে ভর করল।

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। বন্যা মেয়ের রুমে এসে
দেখলো,তৃধা কলেজ ড্রেস পরেই বিছানায়
ঘুমাচ্ছে। বন্যা রাগে মেয়ের পিঠে ঠাস করে
এক থাপ্পড় দিল। বেচারি তৃধা ঘুম থেকে
লাফিয়ে উঠলো। ঘুম ঘুম চোখে মায়ের
এই রণচন্ডী রূপ দেখে বিছানা থেকে নেমে
দিল এক দৌড়। এক দৌড়ে নিচ তলায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে বন্যাও নিচে আসলো।
এসে দেখল তৃধা রানী দুই পাশে দুই সিপাহী
বসিয়ে রেখেছে মায়ের হাতের মাইর থেকে
বাঁচার জন্য। একটু আগে তৃধা নিচে নেমে
এসে দেখল ওর পাপা ও বড় পাপা সোফায়
বসে চা খাচ্ছেন। তৃধা হাপাতে হাপাতে
গিয়ে দুজনের মাঝখানে বসলো। তারপর
তানভীরকে বিচার দিতে দিতে বলল: পাপা..
মামমাম আমায় আবার মেরেছে।
তানভীর একটু রাগের অভিনয় করে বলল:
কিহ, এত বড় সাহস! আমার মেয়েকে
মেরেছে? আজকেই তোমার মামমামের
এই বাড়িতে শেষ দিন।
তারপর বন্যা এলো। তৃধাকে বলল: কলেজ
থেকে কোন দুপুরে ফিরেছিস.. এখনো
ইউনিফর্ম চেঞ্জ করিস নি কেন? কিছুক্ষণের
মধ্যেই টিউশন টিচার চলে আসবে।
উনি এসে এমন দেখলে কি ভাববেন বলতো..
এটা একটা bad manners তোকে কতবার
শেখাতে হবে।
তৃধা তানভীর কে চোখে ইসারা দিয়ে বলল:
তার মামমামকে কিছু বলতে..
তানভীর একটু ঢোক গিলে বন্যার রাগী
চেহারার দিকে তাকালো। তারপর মিন
মিনিয়ে বলল: ইয়ে মানে বন্যা.. এবারের মত
মেয়েটাকে ক্ষমা করে দাও। কাল থেকে ও
আর এমন করবে না। বলেই তৃধার দিকে তাকালো।
তৃধা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পাপার মুখের দিকে
তাকিয়ে আছে। তার চোখের ভাষা যেন
একটা কথাই বলছে, পাপা.. তোমার কি
বলার ছিল আর তুমি কি বললে..
তারপর আবার তাকালো নিজের বউয়ের
মুখের দিকে। বউও কড়া দৃষ্টিতে তানভীরের
দিকেই তাকিয়ে আছে।
বেচারা বউ ও মেয়ের যাতাকলে ফেঁসে গেছে।
এতক্ষণের সকল ঘটনা পাশের সোফায়
বসে আবির , আহিয়ান ও আরিফ খেয়াল
করলো। আবির তানভীরের মুখের দিকে
তাকিয়ে হালকা হাসলো। আহিয়ান তীক্ষ্ণ
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তৃধার মুখের পানে।
কিন্তু তৃধা রানীর সেদিকে খেয়াল নেই।
পাপার ইশারা পেয়ে চলে গেল উপরে।
মেঘ ও রাই কিচেনে কাজ করছিল।
তৃধা ও তানভীর কে বকতে বকতে বন্যা
ঢুকলো কিচেনে। মেঘ মৃদু হাসলো।
তারপর বলল: কিরে, মেয়েকে তুই সারাদিন
এত বকিস কেন?
বন্যা: আরে আর বলিস না.. কিছুদিন পর
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। কোথায়
বেশি বেশি লেখাপড়া করবে সেটার খবর
নেই। সারাক্ষণ দুষ্টুমি করে বেড়ায়। কলেজ
থেকে সেই দুপুরে এসেছে। এখন পর্যন্ত
কলেজ ড্রেসটা চেঞ্জ করেনি। একটু পর
টিচার চলে আসবে পড়াতে।
তুই ই বল, এভাবে বাঁদরামি করলে পরীক্ষায়
ভালো রেজাল্ট জীবনেও আসবে না।
তাছাড়া আগামী ৭ দিন এমনিতেই লেখাপড়া বন্ধ।
পাশ থেকে রাই বলল: ভাবি, ছোট মানুষ
বোঝে না। তুমি এত রাগ করো না তো।
বন্যা একটু রাগ নিয়ে বলল: এই তোদের
সবার আশকারায় মেয়েটা বাদর হচ্ছে।
মেঘ মুচকি হেসে বন্যার কাঁধে হাত রেখে
বলল: এত চিন্তা করিস না.. আমরা সবাই
আছি তো। সময়ের সাথে সাথে আরেকটু
বড় হলে ওর ভিতরেও তোর মত ম্যাচিওর
চিন্তাভাবনা আসবে।
বন্যা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: তাই যেন হয়..
কিছুক্ষণ পর আহিয়া এসে তৃধাকে সারা
বাড়ি খুঁজতে থাকলো। মিম জানালো :তৃধার
টিউশন টিচার এসেছে। সে পড়ছে।
আহিয়া আদিবা ও ঊষাকে সাথে নিয়ে রুমে
চলে গেল।
মিম গেল রান্না ঘরে।

রাত নয়টার পর থেকে সবাই সবার রুমে ব্যস্ত
লাগেজ গোছাতে। আগামীকাল সকাল
সকাল বের হবে সবাই।
তৃধা আহিয়াকে নিয়ে লাগেজ গোছালো।
আহিয়ার প্লানে তারা দুইজনে দুইটা শাড়িও নিল।
ভোরের হালকা আলো ফুটতেই খান বাড়িতে
শুরু হয়ে গেল এক ভিন্ন রকম কোলাহল।
রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ভাজা পরোটার
গন্ধ, আর একের পর এক দরজা খোলার
আওয়াজে পুরো বাড়ি যেন এক উৎসবের
আমেজে ভরে উঠল।

আজ সকাল আটটার মধ্যেই সবাইকে রওনা
দিতে হবে সাজেকের উদ্দেশ্যে। তাই সকাল
থেকেই সবাই ব্যস্ত।

মালিহা খান রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সবাইকে ডাকছে
নাস্তার জন্য। তার একটাই কথা , এত দূরের
পথ কেউ যেন না খেয়ে বের না হয়।

আহিয়া বারবার লাগেজ খুলে চেক করছে
যেন কিছু বাদ না যায়।
তানভীর , আবির, আহিয়ান , আরিফ ও আদি
ইতোমধ্যেই গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে। ড্রাইভার
গাড়ি পরিষ্কার করছে। ওরা কেউ কেউ লক্ষ্য
করছে সব ঠিক আছে কিনা.. আবার
কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনদের ফোন দিচ্ছে
যাদের যাওয়ার কথা.. আহিয়ার ডাকে ওরা
ভেতরে গেল নাস্তা খেতে। গিয়ে দেখলো
অলরেডি মেয়েদের খাওয়া শেষ।

ওরা সবাই রেডি হতে গেছে । শিশুরা রেডি
হয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে ।পুরুষরা নাস্তা খেতে
বসল। আলী আহমেদ খান ওদেরকে বারবার
সাবধানে যেতে বলছে। মোজাম্মেল খান
তানভীর কে বলছে সবার খেয়াল রাখতে ।
ইকবাল খান আদিকে বলছে আদিবা ও
ঊষাকে যেন নজরে নজরে রাখা হয়। তাদের
তিন ভাইয়ের একটাই চিন্তা সবাই যেন সুস্থ
মতো ফিরে আসে ।আহিয়ান মুচকি হেসে বলল :
যাক আমি বেঁচে গেছি। আমার কাছে কোন
দায়িত্ব নেই। পাশ থেকে আলি আহমেদ খান
আহিয়ানের কান ধরে বলল: তোমার কাঁধে
সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বটা দিব । তুমি আমার
তৃধা রানিকে সামলাবে ... ও যেই চঞ্চল মেয়ে,
তানভীর বন্যা একা ওর খেয়াল রাখতে
পারবে না । দেখা যাবে ওরা পুরনো বন্ধু
বান্ধবের সাথে কথা বলছে আর তৃধা অন্য
কোথাও হারিয়ে গেছে। পাশ থেকে মোজাম্মেল
খান বলল: ভাইজান ঠিক বলছেন ।সেখানে
গিয়ে বোনদের খেয়াল রেখো। আহিয়া, তৃধা,
আদিবা ও ঊষা কারো যেন কোন ক্ষতি না
হয় । ইকবাল খান হেসে আহিয়ান এর দিকে
তাকিয়ে বলল : চার বোনের এক বড় ভাই
হয়েছিস তোর উপর তো আরো বড় দায়িত্ব ।
আহিয়ান খেতে খেতে বিড়বিড়িয়ে বলল
এই বাড়িতে কথা বললেও বিপদ ।
এদিকে সবাই রেডি হতে ব্যস্ত । নিচতলা
থেকে সবার তাড়া পেয়ে একে একে ড্রয়িং
রুমে এসে জড়ো হয়েছে সবাই। বন্যা ,মেঘ,
রাই ও মিম এসে দেখল রাকিব, রিয়া, রাসেল
ও তার ওয়াইফ, রিহান ,আসিফ ,জান্নাত, জুঁই ,
আইরিন ও তার হাজবেন্ড, মাইশা , তার
হাজবেন্ড ও ছেলে মৃদুল ,সাকিব, শিমু ও
তাদের মেয়ে সবাই এসে গেছে
আইরিন, জান্নাত, রিয়া ও মাইশা তো মেঘকে
দেখেই খুশিতে জড়িয়ে ধরেছে। সেই আদির
বিয়েতে সবার একসাথে দেখা হয়েছিল ।
তারপর আর দেখা হয়নি । জুঁই এসেই
ছুটলো আহিয়া ও তৃধার কাছে । ড্রয়িং
রুমের এক কোণে রিহান , মৃদুল ও আহিয়ান
কথা বলছে। রিহান আহিয়ান কে জিজ্ঞেস
করল : কিরে কালকের ঘটনা নিয়ে কি
বাড়িতে কিছু হয়েছে? আহিয়ান বলল: না..
বাড়িতে কেউ কিছু জানে না। মৃদুল আহিয়ানের
কাঁধে চাপর দিয়ে বলল : তবে মামা কালকের
সিনেমাটা কিন্তু জোস ছিল ।
আহিয়ান ব্রু কুছকে বলল : কোনটা ?
মৃদুল দাঁত কেলিয়ে হেসে বলল : ওই যে সেইটা ..
আহিয়ান আবারও বলল :কোনটা আর
কিসের সিনেমা ?
মৃদুল এবার ব্যঙ্গ করে বলল : বোঝো না
কোনটা? ওই যে তৃধা রানী আর তুমি ..
আহিয়ান মৃদুলের পিঠে ঘুসি দিয়ে বলল :
শালা তুই অনেক বেশি কথা বলিস।
মৃদুল আউচ শব্দ করে বলল: আমার কোন
সমস্যা নাই, তৃধা কে আমার বোন বানিয়ে
নিব দুলাভাই।
আহিয়ান আবারো চাপড় মারল মৃদুলের মাথায় ।
রিহান ওদের থামিয়ে দিয়ে বলল: কিরে..
তোরা কি শুরু করলি? কেউ শুনবে ...
দুজনেই থেমে গেল। ঘড়িতে তখন সাড়ে
সাতটা চারপাশের কোলাহলে সকালটা যেন
আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে । এদিকে আহিয়া
রেডি, জুঁই এখনো সেজেই যাচ্ছে আর তৃধা
বিছানার উপর প্রায় ১০ থেকে ১২ টা ড্রেস
ছড়িয়ে বসে আছে সে এখনো decide করতে
পারছে না কোনটা পড়বে । আবারও গিয়ে
আলমারিটা খুললো হঠাৎ চোখ গেল বোরখা
গুলোর দিকে । গর্জিয়াস ৫ টা বোরখাই
অসম্ভব সুন্দর ।তৃধা একে একে পাঁচটাই প্যাকেট
থেকে খুলল। তারপর কিছু একটা ভেবে
মুচকি হেসে একটা পিত কালারের গর্জিয়াস
বোরখা পরে সুন্দর করে হিজাব বাধলো
আহিয়া তৃধা ও জুইকে ডাকতে এসে দেখল
তৃধা বোরখা পড়ে হিজাব বেধেছে। আহিয়া
একটু অবাক হয়ে বলল: আরে তৃধা রানী..
মাশাল্লাহ তোকে তো অনেক সুন্দর লাগছে।
তৃধা একটু লাজুক হাসলো।

আবার কেউ কেউ সকালে পাহাড়ের ভেতরে হাটাহাটি শুরু করেছে এমন সুন্দর এক ভরে সকলেই জেগে উঠেছে মোটামুটি সূর্যোদয় ও মেঘ রাশি দেখার জন্য
তৃধা তো ঘুম থেকে উঠে ছুটে গেল কটেজের খোলা বারান্দায় সেখানে গিয়ে দেখল অলরেডি আহিয়া দাঁড়িয়ে আছে তৃধা একটু অভিমানী কন্ঠে বললো আপু আমি কিন্তু তোমার উপর খুব রাগ করেছি
আহিয়া বোনের অভিমান বুঝতে পেরে মৃদু হাসলো
তারপর দুই আঙ্গুল দিয়ে তৃধার ছুঁয়ে নাক ছুঁয়ে দিয়ে বলল আমি যে তোমার অভিমান করার মতো কিছু করিনি তৃধা রানী তৃধা অভিমানী গলায় বলল করেছে তো আপু তুমি আমাকে ছাড়া এত সুন্দর একটা দৃশ্য উপভোগ করছো আহিয়া আবার হাসলো মোটেও না আমি এইমাত্র জেগেছি তাই জানালার কাছে আসলাম মেঘ জমেছে কিনা দেখার জন্য এখানে এসে গেছি পুরো মেঘের সমুদ্রে ভাসছে আমি এখনই গিয়ে তোকে ডাকতাম তৃধা আহিয়া কে চাপটা ধরে বলল বলল আমার সোনা আপু আমি জানি তো তুমি আমাকে ছাড়া এত সুন্দর একটা সকাল উপভোগ করতে পারবে না আহিয়া তৃধার
দিকে তাকিয়ে বলল পালটিবাজ মেয়ে
তৃধা খিলখি দিয়ে হেসে বলল মোটেও না ঠিক তখনই ওদের দরজায় কেউ নক করল আহিয়া ছুটে গিয়ে দরজা খুলল দেখল জুঁই আর মিতু দাঁড়িয়ে আছে
আহিয়া তাদের ভিতরে আসতে বলল তৃধার মুখে জুয়ের কথা আহিয়া আগেও শুনেছে
জুই তৃধার বান্ধবী
তাছাড়া আহিয়ার সাথে জুয়ের ছোটবেলার কয়েকবার দেখা হয়েছে
জুঁই আরিফের ভাতিজি এবং রাকিবের ভাগ্নি ছোটবেলা থেকেই সেই সূত্রে জুয়ের খান বাড়িতে আসা যাওয়া আসছিল কিন্তু মিতু আহিয়া তৃধা জুঁই সবার কাছেই নতুন
তবুও গত একদিনের পরিচয় ওদের সম্পর্কটা জমে উঠেছে
মিতু ছুটে এসে বলল দেখছো আহিয়া আজকে সকালটা সত্যিই অন্যরকম
আমাদের রুম থেকে মেঘ ভাসছে দেখা গেলেও সূর্যদা এটা স্পষ্ট দেখা যায় না তাই চলে এলাম তোমাদের রুমে একসাথে সূর্যোদয় দেখবো বলে আহিয়া

হেসে বলল ঠিক করেছো একদম ঠিক তখনই বারান্দা থেকে তৃধার চিৎকার ভেসে আসলো আহীয়া আপু বাইরে আসো দেখো বাইরে কত সুন্দর সাদা মেঘ

ওর ডাক শুনে সবাই কটেজের খোলা বারান্দার দিকে গেল ওদিকে রিহান আহিয়ান ও মৃদুল সকাল সকাল বের হয়ে গেছে কটেজের বাইরে। মেঘ রিয়া মাইশা বারবার করে বলেছে নাস্তা করে যেতে কিন্তু ওরা সকাল সকাল পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহিক বাজারে যাবে এবং তারা ফলমূল কিনে নিয়ে আসবে এবং পাহাড়িদের চা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে নাস্তা করবে বড় সদস্যদের একসাথে জড়ো হয়ে রিসোর্টের ভিউ পয়েন্টে সেখান থেকে সাজেকের সকালটা অন্যরকম দেখা যায় পাহাড়ের ভেসে আসার স্পষ্টদেখা যায়

এবং আরো দেখা যায় সকালে সূর্যোদয় এবং বিকালের সূর্য অস্ত্র
যেহেতু পুরো রিসোর্টটা আবেশ শুধু ওদের জন্যই বুকিং দিয়েছে তাই ওরা আর কেউ নেই বাইরে থেকে একটা চাকমা ছেলে এসে বলল আপনারা এখান থেকে সূর্যোদয় এনজয় করুন আমরা আপনার সকালের নাস্তা এখানে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি এই কথা শুনে মেঘ বন্যা আবির তানভীর তামিল মিনহাজ রাকিব রাসেলসহ সকলেই খুশি হল। মেঘ বলল নাস্তার সময় হয়েছে আমি মেয়েদেরকে কটেজ থেকে ডেকে নিয়ে আসি
আবে মৃদু হেসে বলল চলো আমিও যাচ্ছি তারপর মেঘের হাত ধরে হাটা শুরু করলেও কটেজের উদ্দেশ্যে
তানভীর বর্নাকে জিজ্ঞাসা করল মেয়ে কই তৃধা এখনো কটেজে তানভীর বন্যা কে বলল তুমি এখানে থাকো আমি মেয়েদের ডেকে নিয়ে আসি তখনই তানভীর আশেপাশে খেয়াল করে দেখল আবির ও মেঘকে দেখতে পাচ্ছে
না পকেট থেকে ফোন বের করে কল লাগানো আবৃত্তি

তারপর আবিরের থেকে শুনতে পেল আবির ও মেঘ মেয়েদের ডাকতে গেছে তানভীর রাত যেতে হবে না তাই বন্যার পাশে এসে বসে বন্যার হাতটা আলতো করে ধরে
বলল সবাই একসাথে এসে ভালোই লাগছে বল
বন্যা মৃদু হেসে বলল হুম আবির ভাইয়া হঠাৎ প্লান না করলে তো আশাই হতো না আমি আপনাকে কোথাও যেতে বললে তো শুধু কাজের দোহাই দেন তানভীর মৃদু হেসে
তারপর বললকি করবো বলো একসময় যখন রাজনীতি করতাম তখন ইচ্ছে হলেই সব কাজ ফেলে বাড়িতে চলে আসতে পারতাম এখন তো চাইলেও ছুটি নিতে পারি না

তাছাড়া সারা বছর ছুটি কাটাতাম তাহলে তো একসাথে এত ছুটি আজকে পেতাম না
ঠিক তখনই কেউ এসে বলল ব্রেকফাস্ট দেওয়া হয়েছে পিছনে তাকিয়ে দেখলো আবির মেঘ মেয়েদের নিয়ে নিচে চলে গেছে। তারপর সকলে একসাথে সকালের নাস্তা করলো সকাল যখন এগারোটা তখন সকলে
রুইলুই গ্রামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এই গ্রাম পাহাড়ের সবথেকে উঁচু গ্রাম। ওই গ্রামে গেলে পাহাড়িদের জীবনধারা এবং কুট্টি ঘড় একসাথে দেখা যাবে তৃধা ও আহিয়া নীল কালারের একই গাউন পড়েছে তৃধা গাওনের সাথে ম্যাচিং করে গর্জিয়াস একটি হিজাব বাধলো আহিয়া বাঁধবে কিন্তু তার হিজাবটা লাগেজের কোথায় খুজে পাওয়া যাচ্ছে না
হঠাৎ করে
তৃধা পুরো রেডি দেখে আহিয়া বলল মাম্মার লাগেজ থেকে আমার হিসাবটা এনে দিবি প্লিজ
তৃধা বলল এখনি দিচ্ছি আপু তুমি দাঁড়াও আমি যাব আর আসবো। ছুটল বাইরের দিআ আমার কোমরটা এবার শেষ চোখ ভেজে নিল কয়েক সেকেন্ড পর দেখলে তার দেহটা ঝুলছে হঠাৎ কানে ভেসে আসবে তোর হাঁটা ছাড়া ডিকশনারিতে কি হোঁচট করা ছাড়া আর কিচ্ছু নেই

গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠ কানে আসতে তৃধা হক চকিয়ে গেল পিটপিট করে ডাবল ডাবল আখির পল্লব মিলে তাকালো দেখল সে আহিয়ান ভাইয়ের হাতে ঝুলে আছে আহিয়ানের চোখে চোখ পড়তে বুকের ভেতরটা কেমন ধুক করে উঠলো এক মুহূর্তের তৃধার মনে হল বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দটা বাইরেও শোনা যাচ্ছে তৃধা খানিকটা ধমকে গেল বুকের ভিতর ধুকপুক শব্দটা কি তাহলে আহিয়ান ভাই ও শুনতে পাচ্ছে ঠিক তখনই ভেসে আসলো আহিয়ানের মৃদু কন্ঠ শুনতে পাচ্ছি না তবে অনুভব করতে পারছি আহিয়ানের কথায় তৃধার ঘর কাটল ওমা এই লোক দেখছি মনের কথাও শুনতে পায় আহিয়ান ভাই আবার তৃধা চোখে চোখ রেখে মজা করে বলল মনের কথাগুলো এত জোরে জোরে বললে আমি কোন স্বপ্ন কি শুনতে পাবে
তৃধা এবার জোরেই বললো আমাকে সোজা করে দাঁড় করুন আহিয়া লোকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল ।তারপর বলল এভাবে দৌড়াদৌড়ি করলে এই সাজেকের পাহাড়ে তুই অক্কা যাবি।
তাই বলছি সাবধানে চলাফেরা কর।
তৃধা ওসব কথায় পাত্তা না দিয়ে বলল আহিয়ান ভাই
আহিয়ান অন্যদিকে তাকিয়ে জবাব দিল।
হুম
তৃধা নীল গাউনটা পড়ে আমাকে কেমন লাগছে ?

আহিয়ান এক নজর তাকালো তৃধার পা থেকে মাথা অব্দি দেখে বললেন হুম ঠিকঠাক বলে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।
এদিকে এমন উত্তর শুনে তৃধার মেজাজ গেল চটে একা একা বিড়বিড় করে বলতে লাগলো রক্তচোষা বাঁদর একটা জীবনে ভালো জিনিস কে খুব ভালো বলতে জানেনা ।
তৃধার ছোট থেকে এই অভ্যেস কোন ড্রইং করলে বা নতুন ড্রেস পরলে ছুটে যেত ভাইয়ের রুমে।
আহিয়ানকে দেখা তো আর জিজ্ঞাসা করত কেমন হয়েছে।
কিন্তু আহিয়ান মুখ থেকে তৃধা সব সময় বাঁকাটারা উত্তরই পেয়েছে।
কখনো বা আহিয়ানের হাতে থাপ্পর খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে চলে এসেছে
হঠাৎ আহিয়ার কথা মনে হতে সব চিন্তা ভাবনা ফেলে দৌড় দিলে হিজাব আনতে।

প্রায় দশ মিনিট পর রিহানের দরজায় কারো টোকা পড়তে রিহান গিয়ে দরজা খুলল।
দেখল দরজার বাহিরে আবির ও মেঘ দাঁড়িয়ে আছে।
রিহান দরজা সামন থেকে সরিয়ে গিয়ে বলল ভিতরে আসেন আঙ্কেল আন্টি।
ওরা ভেতরে ঢুকলো দেখলো আহিয়ান কপালের উপর এক হাত রেখে শুয়ে আছে।
মেঘ এগিয়ে গিয়ে পাশে বসে আহিয়ানকে আদুরে সরে বলল তুমি কি অসুস্থ আহিয়ান?
আরিয়ান মায়ের কন্ঠ পেয়ে কপাল থেকে হাত সরিয়ে তাকালো।
তেমন কিছু না মাম্মা একটু মাথাটা ব্যথা করছে।
মেঘ আবিরের দিকে তাকিয়ে বলল আহিয়ার আব্বু আপনি বরং সবাইকে নিয়ে একটু ঘুরে আসুন সবাই রেডি হয়ে বসে আছে আমি আহিয়ানের কাছে আছি

এই কথা শুনে আবীর জবাব দিল তুমি একা কেন থাকবে আমিও আছি আমি তানভীর ও রাকিবকে বলতেছি সবাইকে নিয়ে ঘুরে আসবে।
আহিয়ান বাবা মার কথা শুনে উঠে বসলো বলল আমার তেমন কিছু হয়নি শুধু মাথাটা একটু ধরেছে মেডিসিন নিলে ঠিক হয়ে যাবে তোমরা দুজনেই যাও ।
মেঘ এতক্ষণ ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল এখানে মেডিসিন কোথায় পাবি তুই ,,?
আমি তোর পাপা কে নিয়ে আনিয়ে নিচ্ছি।
আহিয়ান মেয়েদের হাত ধরে বলল না মাম্মা,
আমি কটেজে ফেরার সময় মেডিসিন নিয়ে এসেছি

আবির চিন্তিত কণ্ঠে ছেলে কে জিজ্ঞাসা করল তোমার কি আর কিছু লাগবে? আমি এনে দিব
না পাপা তোমরা তো চিন্তা করিও না তো তোমরা যাও মেডিসিন খেয়ে কিছুক্ষণ ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে।
আরে কথা শুনে আবিরো মেঘ দুজনেই বেরিয়ে এলো আর বলে এলো কিছু প্রয়োজন হলে যেন আবিরকে কল দেয়।
তখন ঐ পাশের কটেজ থেকে মৃদুল এসে রিহান ও
আহিয়ানকে বলল কিরে মামা তোরা এখনো রেডি হোসনি ওদিকে তো সবাই রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছে
তারপর মৃদুল আবারো ভাত নিয়ে বলল আমাকে কেমন লাগছে দু'চারটা মেয়ে কি ক্রাশ খাবে।
রিয়ান দাঁত কেলিয়ে বলল ক্রাশ খাবে কি না জানিনা কিন্তু হাসতে হাসতে উষ্টা খেতে পারে।
সেটা জানি।
মৃদুল ছুটে এসে রাহানের কাঁধে দুই একটা থাপ্পর দিল রিহান মৃদু চিৎকার দিল।
ওদিকে আহিয়ান মাথাব্যথায় অসহ্য হয়ে দুজনকে বলল এই তোরা লাইট অফ করে রুম থেকে বের হয়ে যা ।
আহিয়ানের ধমক শুনে দুজনেই চুপচাপ মৃদুল মধুর স্বরে বলল তোরা এখনো রেডি হোসনি তোরা যাবি না?
আহিয়ান বলল না আমি যাব না তোরা যা পাস থেকে রিহান বলল আহিয়ানকে অসুস্থ রেখে আমিও যাব না এবার মৃদুল বলল তাহলে আর কি তোরা না গেলে আমিও না ।
আসিয়ান বন্ধুদের কথা বুঝতে পেরে মৃদুস্বরে বলল তোরা যা আমার জন্য নিজেদের আনন্দটা নষ্ট করিস না।
তাছাড়া আমি কিছুক্ষণ ঘুমাতে চাই।
কিছুক্ষণ ঘুমালে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তারপর তোরা আসলে একসাথে আড্ডা দেব।
এবার রিহানা মৃদুল একসাথে বলে উঠলো, ঠিক আছে।
পুকুরের পরে খান বাড়ির গাড়িগুলো যখন আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বে উপরে উঠছিল তখনই গাইড বলল।
আমরা এখন যাচ্ছি সাজেকের সবচেয়ে বিখ্যাত বিখ্যাত এবং উঁচু পাড়া রুই লুই পাড়া ।
সবাই জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
পাহাড়ে ঢালবে ছড়িয়ে আছে কাঁচা ঘর বাঁশের তৈরি বারান্দা ঘর গুলো দেখলেই বোঝা যায় এটা কোন সাধারণ গ্রাম নয়।
এটা যেন আকাশের বুকে ভেসে থাকা জনপথ।
রুইলুই পাড়ায় আসলে লুসাই জাতি গোষ্ঠীর বসতি
পুরো গ্রাম জুড়ি এক ধরনের শান্তি।
ও সরলতার ছোঁয়া পাহাড়ের গাজুরাল কাঠের ঘরগুলো দাঁড়িয়ে আছে যেন প্রকৃতির সাথে মিশে গাড়ি থামতে ছোট ছোট বাচ্চারা দৌড়ে এসে দাঁড়ালো দাঁড়ালো ওদের হাসি ও সরলতা দেখে তৃধা আহিয়া জুই মিতু অভিভূত হয়ে গেল। আহিয়া মৃদু হাসতে হাসতে বলল দেখেছ ওদের জীবন কত সাদামাটা তবুও কত হাসি খুশি।
আনন্দে ভরা।
এদিকে এগরা চোখ গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে আহিয়ার মুখের
মিষ্টি হাসির দিকে।
মৃদুল রিহানের চোখের দিকে তাকালো ও দেখলে ওর দৃষ্টি সরাসরি আহিয়ানের বোন আহিয়ার দিকে।
মেডিয়াস নিজেকে নীল গাউন ও হিজাবের সাজিয়েছে।
ফর্সা মুখের গোলাপী ঠোঁট গুলো দেখিয়ে প্রশান্ত হাসছে।
মৃদুল আবার রিহান দিকে তাকানোর একটু জোরে চিমটি কেটে বলল কিরে তুই কি আহিনের বোন আহিয়া কে লাইন মারছিস,?
আহিয়ান জানলে তোকে মাংসের মত কেটে কিমা বানাবে
মৃদুলের কথা শুনে রিহান হেসে বলল ও আমাকে কি বানাবে I don't care আমি ওকে সমন্দি বানাবই
এদিকে তৃধা কি যেন দেখছে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে তাকালেই মনে হচ্ছে পৃথিবী যেন পুড়ে মেঘে ঢাকা।
দূরে কোথাও অরণ্য কোথাও বা পাহাড়ের গা দিয়ে বেঁয়ে যাওয়া ঝরনা একটু দূরেই কয়েকজন নারী পানির কলসি নিয়ে হাঁটছে।
তাদের রঙ্গিন পোশাক পাহাড়ের সবুজের মাঝে যেন আলাদা করে নজর কাটছে, মেঘ পাশে দাঁড়িয়ে
আস্তে করে বলল এই গ্রামগুলো যেন সাজেকের আসল আনন্দ এই গ্রামগুলো না হলে সাজেকের ঘোড়া বৃথা। অসম্পূর্ণই রয়ে যায়
তারপর তারা পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে দুপুরে খাবার সেরে নিল যেগুলো পুরোটাই বাঁশের ভিতরে রান্না করা
ঘোরাঘুরি করতে করতে একসময় সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে।
লাল কমলা আভায় গোটা রুইলুই পাড়া যেন রঙ্গে রঙ্গিত হয়ে উঠেছে।
সবাই নীরবে সেই দৃশ্য দেখছে।
হঠাৎ বন্যা বলে উঠলো, চলো সবাই একটা গ্রুপ ফটো তোলা যাক?
সত্যটা মনে রাখার মত
ক্যামেরা শাটার ক্লিক করতে করতে রাই রিয়া মাইশা চেঁচিয়ে উঠলো
দেখো দেখো মনে হচ্ছে মেঘগুলো একদম আমাদের গায়ের শুয়ে যাচ্ছে।
এমন সময় রিয়ান মৃদু হেসে বলল মেঘকে ধরার জন্যই বুঝি মানুষের এখানে আসা
কিন্তু শেষমেষ মানুষ নিজেই মেঘের ভিতর হারিয়ে যায়
আহিয়া এক মুহূর্ত চুপ করে ছেলেটির মুখের দিকে চেয়ে রইলো মনে হলো ছেলেটির কথার মধ্যে অদ্ভুত গভীরতা আছে।
আরিফার মিম পাশের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে গল্প করছে মিম বলল ভাবতে পারো যদি প্রতিদিন এরকম দৃশ্য দেখে সকালটা শুরু হয়।
ফোন ইন্টারনেটের ঝামেলা নেই শুধু প্রকৃতি আর শান্তি

সন্ধ্যার অন্ধকার আসতে আসতে নেমে আসছে পাহাড়ের গা জ্বলে জ্বলজ্বল করছে রিসোর্টের বাতিগুলো।
সবাই গাড়িতে উঠলো রুুইলুই পাড়ার সূর্যোদয় এবং সরল মানুষগুলো সবার মনে যেন গেঁথে গেল।
এই দৃশ্য হয়তো সারাজীবন মনের মধ্যে গেঁথে থাকবে
আবিরো মেয়ে কটেজে ফিরে আসলো ছেলের কাছে দেখতে আহিয়ান সন্ধ্যার রঙ্গিন আকাশ দেখছে।

ছেলের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করল কিরে বাবা এখন কেমন লাগছে?
মাথা ব্যাথা কমেছে?
আহিয়ান বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বলল হ্যাঁ মাম্মা কমেছে।
এখন ভালো আছি।
আবেগ গিয়ে ছেলের পাশে আরেকটা সোফায় বসলো
সেটা দেখে মেঘ বলল আপনারা কথা বলুন আমি রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে নিচ্ছি বলে মেঘ চলে গেল
আবির আকাশের দিকে তাকিয়ে আহিয়ান এর উদ্দেশ্যে বলল আহিয়ান?
আহিয়ান জী পাপ্পা।
আবির: আজকাল তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত সেটা কি ঠিক
আহিয়ান মৃদু হেসে দূরের আকাশে দিকে তাকিয়ে আছে চাঁদের আকসা আলোয় অস্পষ্ট পাহাড় দেখছি।।
তারপর বলল যদি তোমার মাথায় কখনো চিন্তা থাকে ভবিষ্যতের বা আর আবেগের।
ভবিষ্যতের কথা ভাবলে আবেগকে বিসর্জন দিতে হবে আর আবেগের কথা ভাবলে ভবিষ্যৎকে বিসর্জন দিতে হবে
তাহলে তুমি কোনটা বেছে নেবে
আবির এবার চিন্তিত মুখে তার ছেলের দিকে তাকালো বোঝার চেষ্টা করল তার অভিব্যক্তি।
তারপর দূর আকাশের রক্তিম রং গুলোর দিকে তাকিয়ে বলল।
আবেগ দুটোই জীবনের অঙ্গ
ভবিষ্যৎ ভেবে আবেগ মুছে ফেললে জীবন শূন্যতা হয়
তোমার আবেগে ভেসে গেলে জীবন অন্ধকার

টাইপিং এ বানান ভুল হলে একটু মানিয়ে নিবেন এবং পেজটা ফলো দিয়ে রাখবেন পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পাওয়ার জন্য ধন্যবাদ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন