ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

পর্ব 4

লেখক: সালমা চৌধুরী

#আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে
#ফারজানা_মনি
#সিজন_৩
#পর্ব: ৬
#গল্পপ্যাক্ট_মাহবুবা

আহিয়ান: জ্বি.. ড্রাইবার আংকেল কে বলো তৃধাকে আজ কলেজ থেকে নিয়ে যেতে হবে না। আমি ওর কলেজের দিকে গিয়েছিলাম, তাই ওকে আমিই নিয়ে এসেছি। একটু পর লাঞ্চ করে একসাথে বাড়ি ফিরব।
মেঘ একটু আশ্চর্য হয়ে বলল: তৃধা তোর সাথে!!
আহিয়ান একটু ইতস্তত করে বলল: জ্বি.. হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তাই ভাবলাম নিয়ে আসি।
মেঘ হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল: ভালো করেছিস। ওকে নিয়ে সাবধানে বাড়ি ফিরিস।
আহিয়ান: জ্বি মাম্মা।
তারপর ফোনটা কেটে দিয়ে পকেটে রাখলো। এতক্ষণের পুরো কথা শুনে তৃধা আহিয়ানকে কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আহিয়ান সেটার সুযোগ না দিয়ে আবারো বাইক স্টার্ট দিল।
বাইকটি গিয়ে থামল একটি বিলাস বহুল রেস্টুরেন্টে। তৃধা নেমে দাঁড়াতে ই আহিয়ান আবারো ওর এক হাত চেপে হাঁটা শুরু করল ভেতরে। আহিয়ান female ওয়াশরুমের দিকে ইশারা দিয়ে বলল: যা চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়। তৃধা মাথা তুলে একবার তাকিয়ে চলে গেল সেদিকে। আহিয়ান লক্ষ করল প্রচন্ড কান্না ও রোদের কারণে মেয়েটার ফর্সা মুখটা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
তারপর সেও চলে গেল ফ্রেশ হতে।
তৃধা বের হয়ে দেখল একটু দূরে একটা টেবিলে আহিয়ান বসে আছে। সে আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে সামনে বসলো। আহিয়ান একটা টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলল: কি খাবি?
তৃধা মৃদু কন্ঠে মিন মিনিয়ে বলল: আমার খিদে নেই, আপনি খান।
আহিয়ান আর কিছু না বলে নিজের পছন্দমত কয়েক রকমের খাবার দুই প্লেট করে অর্ডার দিল।
এটা দেখে তৃধা মনে মনে বলল: বললাম তো আমি খাব না। তারপরেও এত খাবার কেন অর্ডার দিচ্ছে? এগুলো কি সব উনি একা খাবে? এমা... এতো পুরো রাক্ষস দেখছি..
ইতিমধ্যেই খাবার চলে এসেছে। আহিয়ান সব খাবার একটু একটু করে একটা প্লেটে তুলে তৃধার সামনে দিল। তৃধা চোখ বড় বড় করে আহিয়ানের দিকে তাকালো। কিছু বলবে.. এমন সময় আহিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল: আমার দিক থেকে চোখটা নামিয়ে চুপচাপ খা।
কিন্তু তৃধা কি কথা শোনার পাত্রী? সে আবারো বলেই ফেলল: আমি খাব না, খিদে নেই।
আহিয়ান এবার চোখ রাঙিয়ে বলল: আর একটা কথাও শুনতে চাই না। সকালেও খেয়ে বের হসনি। এখন চুপচাপ খাবারগুলো শেষ কর।
তৃধা আহিয়ানের ধমকে খানিকটা দমে গিয়ে খাওয়া শুরু করলো। সত্যি বলতে তারও অনেক খিদে পেয়েছে। কিন্তু আজ একটার পর একটা ধাক্কা তার খিদে কে দমিয়ে রেখেছে। তৃধা তো সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে আহিয়ান এর মত রক্তচোষা বাঁদরের এই রূপ দেখে।
মনের কথা মনেই রেখে তৃধা বহু কষ্টে প্লেটের সবগুলো খাবার শেষ করল।
হঠাৎ আহিয়ান বলল: ওই রাস্তায় কেন গিয়েছিলি?
তৃধা একটু থতমতো খেলো আহিয়ানের কথা শুনে। তারপর মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে রইল। আহিয়ান নিজের মেজাজটা একটু কন্ট্রোলে রেখে আবারো বলল: আমি একটা প্রশ্ন করেছি, ঠিকঠাক মতো উত্তর দে..
তৃধা এবার মাথা নিচু করেই বলা শুরু করলো:
আসলে আহিয়ান ভাই,,
আমি ,জুই আর সোহানি ছুটির পর একসাথেই কলেজ থেকে বের হই। জুইয়ের গাড়ি এসেছে তাই সে চলে যায়। আমার সাথে সোহানী অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে। কিন্তু ড্রাইভার আংকেল আসছে না দেখে সোহানী বলল: একটু দূরে এগিয়ে গেলেই অটো বা সিএনজি পেয়ে যাব।
আর যেতে যেতে যদি বাড়ির গাড়ির সাথে দেখা হয় তাহলে তো ভালোই। এত গরমে দুপুরের কড়া রোদে বিরক্ত বোধ হওয়ায় আমিও ওর কথায় সম্মতি দিয়ে এগিয়ে গেলাম সামনে। কিছু দূর যেতেই দেখলাম কয়েকটা বকাটে ছেলে বসে আছে। আমরা চুপচাপ চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ছেলেগুলো আমাদের পিছু নিল। আমরা দুইজন তাড়াতাড়ি হাটতে লাগলাম। কিন্তু কোন লাভ হলো না। ছেলেগুলো আমাদের ডিস্টার্ব করা শুরু করল। কেউ হাতে কেউবা বেনিতে টানাটানি শুরু করল। আমরা যখন ওদের ডিস্টার্বে নাজেহাল। ঠিক তখনই খেয়াল করলাম আপনি আসছেন।

তারপর থেকে বাকিটা তো আপনার জানা ই আছে।
আহিয়ান চুপচাপ পুরো কথা শুনলো। তারপর বলল: কখনো বাড়ির গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হলে এভাবে রাস্তায় বের হবি না। প্রয়োজনে এক ঘন্টা অপেক্ষা করবি। তাও একা আসবি না।
তৃধা চুপচাপ ভদ্র মেয়ের মত মাথা নাড়লো।
তারপর ওরা দুজন রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল। আহিয়ান আবারও বাইক নিয়ে ছুটল আরেক অজানা গন্তব্যে। তৃধা এবারও চিনে না কোথায় যাচ্ছে। বাইক এসে থামল যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে।
তৃধা তো চরম আশ্চর্য। মনে মনে বলল: পুরো হিটলারের নাতি.. এত বছর দেশে না থেকেও কত কিছু চিনে।
আহিয়ান বাইকের সামনে ফোনের গুগলের দিকে তাকিয়ে বলল: হিটলার বলার ইচ্ছা থাকলে দাদুকে সরাসরি গিয়ে বল। এভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলার কিছুই নেই। তৃধা নিজের মুখে দুহাত চেপে বলল: ইসসস আমি কি জোরে বলে ফেললাম.. ধুর তৃধা তোকে দিয়ে কিছু হবে না।
আহিয়ান হালকা করে বলল : নেমে দাড়া...
তৃধা চুপচাপ নেমে দাঁড়ালো। আহিয়ান বাইকটা পার্ক করে এসে তৃধার হাত ধরে সামনে আগালো। তৃধা এবার একটু বিরক্ত হলো। মনে মনে বলল: এভাবে বাচ্চাদের মতো হাত ধরে নেওয়ার কি আছে? আমি কি হারিয়ে যাবো নাকি..
আহিয়ান মুচকি হাসলো।
তৃধা চারিদিকে তাকিয়ে দেখল অনেক লোক। তার কেন জানি মনে হচ্ছে কিছু লোক তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। হয়তো তারা ভাবছে, কাঁদে ব্যাগ ঝোলানো কলেজ ড্রেস পড়া মেয়ে এই যুবকের সাথে কলেজ ফাঁকি দিয়ে প্রেম করতে এসেছে। কথাটা মাথায় আসতেই তৃধা নিজের হাতটাকে আহিয়ানের মুঠো থেকে ছাড়িয়ে আগে আগে হাঁটা শুরু করলো। তৃধা সিঁড়ির দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই আহিয়ান তার লম্বা বেনি টাকে ধরে টান দিয়ে লিফটের দিকে গেল। এখনো তার বেণীটা আহিয়ানের হাতেই। তৃধা বিরক্ত হয়ে বলল: ছাড়ুন তো.. চুলে ব্যথা লাগছে। আহিয়ান ভদ্র ছেলের মত ছেড়ে দিলো।
ইতিমধ্যেই তারা দ্বিতীয় তলার একটা দোকানে ঢুকেছে। তৃধা চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলো: বোরখা আর বোরখা।
আহিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলল: পছন্দ কর।
তৃধা একটু চাপা সুরে বলল: কেন? না মানে আমি তো বোরকা পরি না।
আহিয়ান এবার চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে বলল: এখন থেকে রোজ পড়বি।
তৃধা চোখ দুটো গোল গোল করে বলল: আমি বোরকা পরবো প্রতিদিন? কিন্তু কলেজে তো কলেজ ড্রেস ছাড়া ঢুকতে দেয় না।
আহিয়ান সামনে ঝুলিয়ে রাখা একটা বোরকা দেখতে দেখতে বলল: আমাকে কলেজ শেখাস না। আমি জানি, কোন শিক্ষার্থী যদি বোরখা পরে কলেজে যেতে চায়, তাহলে কলেজ ড্রেসের রং এর বোরখা পড়ে যেতে পারবে। এবং সেই বোরখায় কলেজ ব্যাজ থাকতে হবে। ঠিক বললাম তো তৃধা রানী????

তৃধা মনে মনে বিরক্ত হল। তারপর আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল: হ্যাঁ ।
আহিয়ান আবারো দোকানের চারপাশে তাকাতে তাকাতে বলল: এবার বোরখা চয়েস কর।
তৃধা আস্তে আস্তে বলল: না মানে আহিয়ান ভাই... আমি তো জীবনেও বোরখা পড়ি নাই বা কিনি ও নাই। আমারতো আইডিয়া নাই এসব সম্পর্কে।
আহিয়ান দোকানদারের দিকে তাকিয়ে বলল: আপনার দোকানে কয় রকম ডিজাইনের বোরকা পাওয়া যায়?
দোকানদার ছেলেটি হেসে জবাব দিল: ভাইজান, প্রায় ৪০ টা ডিজাইন available...
আহিয়ান ছেলেটির দিকে তাকিয়ে এবার বলল: ৩০ ডিজাইনের ৩০ টা কালো বোরকা ৫২ সাইজের প্যাকেট করুন। আর গর্জিয়াস বোরখা পাঁচ ডিজাইনের পাঁচটা পাঁচ রঙের একই সাইজের প্যাকেট করুন।
পাশ থেকে তৃধা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। একা একাই বিড়বিড় করে বলল: আমার লম্বা যে ৫২ সাইজ লাগবে সেটা এই লোক কি করে জানে?
তারপর আহিয়ান এর উদ্দেশ্যে আবারো বলল: আহিয়ান ভাই..
আহিয়ান:হুম..
তৃধা হাত কচলাতে কচলাতে বলল: এতগুলো বোরকা দিয়ে আমি কি করবো? এত লাগবে না। আমার তো দুইটা হলেই চলবে।
আহিয়ান এবার ঘুরে তৃধার চোখে চোখ রেখে বলল:

"পাপার টাকা দিয়ে কিনেছি, তাই ৩৫ টা কিনে দিলাম।
যখন নিজে ইনকাম করব, ৩৬৫ টা কিনে দিবো। "

আহিয়ানের কথাগুলো সব যেন তৃধার মাথার উপর দিয়ে গেল। তৃধা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। আহিয়ান পেমেন্ট ক্লিয়ার করে তৃধার মুখের সামনে তুরি বাজিয়ে বললো: ভাবনাচিন্তা শেষ হলে বাড়িতে চল। বলেই সামনে হাঁটলো।
তৃধার ঘোর কাটতেই দৌড়ে গেল আহিয়ানের পিছু পিছু।
পিছন থেকে দোকানদার ছেলেটি মুচকি হেসে বলল: বড়লোকের বিরাট কারবার।

বাইকটি খান বাড়ির গেট দিয়ে প্রবেশ করল ভিতরে। আহিয়ান তৃধাকে নামিয়ে গাড়ি পার্কিং করতে যাবে।
হঠাৎই কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে আহিয়ান তৃধাকে পিছু ডাকলো.... তৃধা রানী....
কিন্তু তৃধা তো মনে হয় আজ ঘোরের মধ্যে আছে। সবকিছু তার স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে। সে আহিয়ানের ডাক না শুনে সামনে হাটছে। হঠাৎ আহিয়ান জোরে ডাকলো।
_____ ঐ সাদা মুলা....
তৃধা হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। এতক্ষণের সব ভুলে রাগী দৃষ্টি নিয়ে পেছনে তাকালো। দেখলো আহিয়ান এখনো বাইকে বসে আছে। তৃধা হাতে ব্যাগ সহ ফিরে এলো আহিয়ান এর কাছে। তারপর রেগে রেগে বলল: কি হয়েছে?
আহিয়ান তৃধার চুলে র বেনিতে একটা জোরে টান দিয়ে বলল: রাস্তার ওই ছেলেগুলোর কথা বাড়িতে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।
তৃধা রাগে কটমট করতে করতে বলল: ঠিক আছে..
তারপর আহিয়ানের হাত থেকে বেনি টা টান দিয়ে ছুটিয়ে হনহন করে ভেতরে চলে গেল।
আহিয়ান কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর মুচকি হেসে গেল বাইক পার্ক করতে ।

চলবে...
পরবর্তী পর্ব জন্য ফলো করুন আবিরের স্প্যারো

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন