তাই আমি বেছে নেব সেই পথ যেটার মধ্যে দুইটা ভারসাম্য রেখে এগোনো যায়।
আহিয়ান তারপর পাপার দিকে নিচ পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তারপর উচ্ছসিত কন্ঠে বলল
Thank you papa
You are genius
আবির mention not my baby
আবির তারপর ছেলের কাছে একহাত
ভরসা দিয়ে চলে গেল ।
রিহান একটু আগে রুমে ঢুকে ছিল আহিয়ান ও তার বাবার কথা বলতে দেখেন সে রিপোর্টের বারান্দায় এসে দাঁড়ায়।
রেহান ও আহিয়ান এক বছরে ছোট বড়
আহিয়ান ও আহিয়ার এক বছরের বড় রিহান।
সে এবার মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে কিন্তু আহিয়ান ইউকেতে মাস্টার্সের স্টুডেন্ট লেখাপড়া শেষ করে সে দেশে ফিরে আসতে পারবে এদিকে আহিয়ানের দেশে ফিরতে আরও তিন বছরের সময় লাগবে।
আহিয়া বর্তমান এমবিবিএস এর থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট আরো দুই বছর পর এমবিবিএস কমপ্লিট করবে।
তারপর এক বছর ইন্টারসিপ করে পরিপূর্ণ ডাক্তার হয়ে দেশে ফিরবে।
অন্যদিকে রিহান চেষ্টা করছে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার জন্য।
রিহান রিসোর্ট এর বাগানে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করল তারপর আবার হাঁটা দিল রিসোর্ট এর দিকে তার মনটা আজকাল বড্ড অস্থির।
আহিয়ার আশেপাশে থাকলে নিজেকে প্রফুল্ল মনে হয়।
ওর থেকে দূরে গেলেই সেই অস্থিরতা।
এখন ইচ্ছে করে আহিয়া কে দেখতে।
কাছাকাছি থাকতে। হঠাৎ করেই নিজের নিজের এই পরিবর্তন মনের মধ্যে আরো অস্থিরতা তুলেছে।
চোখের পাতা বন্ধ করলেই চোখে ভেসে ওঠে কালো গাউন ভরে শুই দিয়ে নেমে আসে আহি আর মুখ।
নিউ গাউন পড়া আহিয়ার হাসি মাখা মুখ ভয়ংকর ভাবে ফেসে গেছে এই রাজকুমারীর মায়ায়
কিন্তু চাইলে তো আর সব পাওয়া যায় না রাজকুমারীর কাছে পৌঁছাতে হলে আগে রাজকুমারের পেতে হলে সবার প্রথম তার ভিলেন ভাইকে পটাতে হবে।
পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে যে রাজকুমারীকে পটানোর আগেই তার ভ্রাতাকে পটাতে হবে। ভাবতে ভাবতে রিহানের নাক কুসকে এলো ।
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ লক্ষ্য করল সে কটেজের সামনে চলে এসেছে ভাবনা চিন্তা ন্তু ছেড়ে ।
ভেতরে ঢুকলো।
দেখল আহিয়ান এখনো একা একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।
রিহান এগিয়ে গেল আহিয়ানের দিকে গিয়ে বলল শরীর এখন কেমন আছে?
আহিয়াল আগের থেকে বেটার
রিহান রাতে বের হবি?
আহিয়ান এখন তো সন্ধ্যা বের হওয়া যায় দশটার আগে না হয় ফিরে আসবো কটেজে
তারপর আহিয়ান ও রিহান মৃদুলের রুমে গেল তিন বন্ধু একসাথে বের হবে। রাতের আকাশ দেখতে
এদিকে আহিয়া তৃধা মিতু জুই আগামীকালের সন্ধ্যাটা আরো রোমাঞ্চকর গড়ে তুলতে একসাথে প্লানে বসেছে।
জুই গরম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আহিয়া ও ত্রিধাকে বলল। এখন আবার কিসের মিটিং এরেঞ্জ করেছিস তোরা সকালেও তো করা যেতো এত ঘুরাঘুরি করার পর বেশি ক্লান্ত লাগছে।
তৃধা রেগে ওর পিঠে কয়েকটা কিল মারল তোর খারাপ তুই গিয়ে ঘুমা।
পরে আবার বলিস না আমাকে তো কিছুই জানালি না
তারপর তুই উত্তেজিত কন্ঠে বলা শুরু করলাম না না আমি থাকবো এই মিটিংয়ে তারপর আহিয়া ও মিতু তোর কথা শুনে হাসতে শুরু করল।
আহিয়া সকলের উদ্দেশ্যে বলা শুরু করলো। আজকে সবাই অনেক ক্লান্ত তাই আজকে আর মিটিং না সবাই রেস্ট নিক। কালকে তো পাশের ভিউ পয়েন্টে যাব কাল সন্ধ্যায় আমরা একটা ছোটখাটো গেম প্লে খাওয়া-দাওয়া হাসিঠাটার আয়োজন তো করতেই পারি।
আহিয়া এই দীর্ঘ আয়োজন শুনে জুঁই ও মিতু হুজুররে করে চিৎকার দিল।
তৃধা ওদের বলল আগামীকাল ব্রেস্ট ফাস্টের সাথে আমরা
সবাই বড়দের কাছে এই প্রস্তাব রাখব আশা করি ওরা মানা করবেন না।
তুই একটু ভাবুক ভঙ্গিতে বলল আবির আঙ্কেলকে আগে জানাতে হবে উনাকে জানালে উনি সব কিছু অ্যারেঞ্জ করবে কোন চিন্তা থাকবে না।
আবির আঙ্কেল রাজি থাকলে সবাইকে ম্যানেজ করবে
সবাইকে আলাদা আলাদা করে আর বলতে হবে না।
এটা শুনে আহিয়া বলল ঠিকই তো এটা তো আগে আমার মাথায় আসেনি। এটা শুনে তৃধা হাসি হাসি বললো।
বড় আপু বড় পাপাকে তুমি সকালে রাজি করাবে
আহিয়া বলল ঠিক আছে।
তারপর ওরা সকলেই একসাথে গেল ডিনার করতে।
সমান্তরাল পথের বাঁকে পাশাপাশি হাঁটছে।
আহিয়ান ও তৃধা
আহিয়ান হটাৎ তৃধার নরম হাতটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরে লাজুক তৃধার ওষ্ঠ জুড়ে ফুটে উঠে কৃত্তিমাসে।
নরম তুলতুলে হাতের ভেতরে লুকিয়ে দেখা হাত টার কম্পন স্পষ্ট টের পেলো আহিয়ান
সে জানে তার স্পর্শে কিশোরী ত্রিধার সদ্য যৌবনে পা দেওয়া দেহটা কম্পিত হচ্ছে।
পুরো বিষয়টা বুঝে আহিয়ানের ঠোঁটের কোণের টান দিল এক চঞ্চল হাসি।
দুজনের মুখে কোন কথা নেই তবুও চোখে অনুভূতির নিরন্তর বিনয় চলি থাকে।
হঠাৎ পরিবেশের নীরবতা ভাঙলো তৃধা।
আহিয়ান ভাই
আহিয়ান সামনের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে বলল হুম।
একমুহূর্তে ত্রিধা হাত ছুড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো মিষ্টি কন্ঠে বলল।
আমার একটা ছবি তুলে দিবেন প্লিজ।
আহিয়েন উত্তর দেওয়ার আগেই লক্ষ্য করল ত্রিধা চলে এসেছে পাহাড়ে চুরার কিনারে ।
নিচে অসীম গভীর খাত যেন মৃত্যুর এক ভয়ংকর ফাঁদ
আহিয়ানের চোখ ভয়ে আঁতকে উঠল চিৎকার দিয়ে উঠলো
ত্রিধার পিছনে যাস না নিচে ভয়ংকর খাত পড়ে যাবি।
তৃধা ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে বলল কোথায় কিনারা আমি তো ঠিক জায়গায় আছি।
কথা শেষ করতে ত্রিধার পায়ের নিচ থেকে একটা বড় পাথর সরে গেল।
এর মধ্যে তৃধার আতঙ্কের চিৎকারের কম্পিত হয়ে উঠল চারিপাশ।।
আআআহ
সেই দৃশ্য দেখে আহিয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল বুক ফেটে বেরিয়ে এলো এক আর্তনাদ ।
তৃধা
হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইলে কিন্তু এতক্ষণে সব শেষ
চোখের সামনে সিদা হারিয়ে গেল অদৃশ্য গভীরতায় আহিয়ান ধরাছোঁয়ার বহু দূরে
চোখ ঝাপসা হয়ে এল বুক ভরে গেল শূন্যতায় আসিয়ান হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ে। তৃধা তৃধা
হঠাৎ আহিয়ানের মৃত চিৎকার দেখে রিহান ঘুম থেকে ধড়পড়িয়ে ওঠে।
পাশে থাকা লেম লাইটটি জ্বালিয়ে লক্ষ্য করল আহিয়ানের দিকে।
ছেলেটা ঘুমের মধ্যে ছটফট করছে প্রচন্ড ঘামছে
বারবার একটা নামেই বিরবির করছে তৃধা তৃধা
রিহানা কিছু বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে
কয়েক সেকেন্ড ভেবে আহিয়ান জাগানোর চেষ্টা করল
আহিয়ান আহিয়ান
আরিয়াল ধর পরিয়ে উঠে বসলো, দেখলে সেটা রুমে।
তার আশেপাশে ত্রিধাবা পাহাড়-পর্বত কিছু নেই স্বপ্ন ছিল সে কপালের ঘাম মুছতে লাগলো।
এদিকে রিহান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আহিয়ান কে লক্ষ্য করছে।
এক গ্লাস পানি এনে দিয়ে বলল ত্রিধাকে নিয়ে ভয়ং
কর স্বপ্ন দেখেছিস।
আহিয়ান কোন উত্তর দিল না রিহানের হাত থেকে পানির গ্লাসটি নিয়ে টকটক করে খেয়ে উঠে বসলো।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছু না বলে যখন আবার ঘুমোতে যাবে রিহান হাত টেনে বল কিরে কিছু বললি না যে
আহিয়ান কি বলবো
রিহান তৃধাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিস
আহিয়ান আস্তে করে বললো হুম
ওর জন্য তোর অনেক চিনতে হয় তাই নারে
আহিয়েন আসলে তেমন কিছু না দুপুরে ওকে বলেছিলাম এই সাজেকে এভাবে দৌড়াদৌড়ি করলে পাহাড় থেকে পড়ে অক্কা যাবি।
তারপর মনে একটু ভয় লেগেছিল হয়তো মেয়েটিকে এভাবে বলা উচিত হয়নি।
সেই ভয়টাই রাতে স্বপ্ন হয়ে ধরা দিয়েছে আর কিছু না
রেহান মৃদু হাসলো তারপর বলল যাকে সামান্য একটা কথা বলে এত ভয় পেয়েছিস তার জন্য তোর চিন্তা হয় না।
আমাকে এটাও মানতে হবে।
আহিয়ান চুপ করে রইল
রিহান আবার বলল আরে ভাই ভালোবাসা তো কোনো পাব না এতে অস্বীকার করার কি আছে।
আহিয়ান অসহায় চোখে রেহানের দিকে তাকিয়ে বলল কিন্তু আমি এখন আমার ক্যারিয়ারে ফোকাস করতে চাই।
রিহান আহিয়ান এর কাঁধে ভরসার হাত রাখে। ক্যারিয়ার আর ভালোবাসা দুটোই আমাদের জীবনের একটা অংশ। দুইটাকে নিয়ে আমাদের পথ চলতে হবে। না হলে জীবনে একদিন দেখবি ক্যারিয়ারকে সর্বোচ্চ পথে নিয়ে গেছিস কিন্তু ভালোবাসার মানুষটি পাশে নেই।
তখন জীবনকে অর্থহীন মনে হবে।
আহিয়ান কাছের ওপারে চাঁদ বিহীন অন্ধকার
আমি জানি সেটা আর বুঝেও। কিন্তু আমাকে দিতে যে ইউকেতে ফিরে যেতে হবে।
কিন্তু এখন ওর সাথে বেশি মিশলে বিদেশের মাটিতে ওকে ছাড়া আমার দম বন্ধ লাগবে তখন কি হবে।
আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তো স্বপ্নই থেকে যাবে।
পরে কি হবে সেটা পরে দেখা যাবে এখন যে দুই মাস দেখে আছিস।
মেয়েটার সাথে ভালো ব্যবহার কর ওকে সময় দে আচ্ছা ত্রিধাও কি তোকে ভালবাসে?
আহিয়ান জানিনা কিন্তু ওর কাছে আমি কোন অপশন রাখবো না আমাকে ভালবাসতেই হবে।
প্রিয়জন পড়লে সকাল বিকাল ও সুন্দর গালে থাপ্পড় মারতে মারতে আমার কাছে বসেই রাখবো।
রেহান হাসতে হাসতে বিছানায় লুটু খেলো তারপর বলল আরে ভাই তোর ভালোবাসা তো সেই লেভেলের থাপ্পড় খেতে খেতে তৃধারানি পালাবে
আহিয়ান বাঁকা হাসি দিয়ে বলল পালিয়ে যাবে কোথায় আমার কাছেই আসতে হবে।
রিহান হাসলো তারপর মনে মনে বলল আমিও যদি তোর মত আমার ভালবাসার কথা কাউকে বলতে পারতাম কিন্তু তোকে বললে তুই আমার না হওয়া প্রেম এখনই ভেঙে দিবি।
আরিয়ান রিহানের চোখের সামনে তুলি বাজাতে বাজাতে বললো কিরে শালা ভালোবাসার কথা বললাম আমি আর স্বপ্নে ডুব দিলে তুই বুঝলাম না ব্যাপারটা কি
রিয়ান আহিয়ান এর কাঁধে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল দুলাভাই ডাক তোর বোনকে আমি বউ বানাবো না মানে আমার বউকে তোর বোন বানাবো।
আহিয়ান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে হুমকি সহায় বলল তোর ভাগ্য ভালো কথা পরিবর্তন করেছিস না হলে আজকে তোর এখানে টাটা বাই বাই করে দিতাম।।
তারপর দুই বন্ধু আরো কিছু মিষ্টি খুনসুটি করে ঘুমিয়ে পড়ল।
ভোরের সাজের যেন অন্য এক জগৎ চারিদিকে সাদা কুয়াশার আজ তোর মনে হচ্ছে পুরো উপত্যকাটা যেন তুলে আস্তরে ঢাকা ।
দূরের পাহাড় গুলো সূর্যের লালচে আলো আলো আলো কিত হয়ে উঠেছে
হওয়ার ছোঁয়া এতটা ঠান্ডা যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
আহিয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে গরম কফির কাপ হাতে নিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখছে সকালের আকাশ ওর পাশে এসে দাঁড়ালো ত্রিধা, কি দেখছ আপু আহিয়া মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল প্রকৃতি।
প্রকৃতি যতবারই দেখি ততবারই নতুন লাগে।
ওদের সাথে যোগ দিল মৃত্যু আর জুই চার জন
মিলে ছবি তুলতে লাগলো হঠাৎ মিতু বলে উঠলো আজকে ব্রেকফাস্ট এর সময় আবির আঙ্কেলকে বলবে তাই তো।
আহিয়া মাথানারলো সবাই মিলে বললে উনি রাজি হবে।
আজ রাতটা আমাদের কাছে স্পেশাল হবে।
কিছুক্ষণ পর রানিং স্পেসে সবাই জড়ো হয়েছে ডাইনিং টেবিলটা পাহাড়ি খাবারে ভর্তি সাথে আছে ডিম পরোটা ও সবজি।
প্লেট দিয়ে বড় টেবিলটা ভর্তি।
একটু দূরে বসে আছে আহিয়ান রিয়ান ও মৃদুল
আহিয়ান একটু পর পর আর শোকে ত্রিধা কে দেখছে। আহিয়া ত্রিধা জুই মিতু এক আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত।।
সেটা বড়দেরও নজর এড়ালো না।
আবির চা খেতে খেতে হেসে বলল কি প্লান বানাচ্ছো আজকে আবার।
আরিয়া ঝট করে বলে উঠলো বাবা আজকে রাতে বনফায়ার করতে চাই ।
সবার চোখ কপালে ত্রিধাও আহিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে মৃদুসরে বলল ছোট্ট আয়োজন খাওয়া-দাওয়া খেলে একটু গান
আবির গম্ভীর ভান করে তাকালো আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু এসবের তো অনেক ঝামেলা দায়িত্ব কে নেবে শুধু আনন্দ খাওয়া দাওয়া খেলাধুলে এসব নয়
পুরোটা ম্যানেজ করতে হবে।
তৃধা আমরা সবাই মিলে করব ।
রিহান এগিয়ে সে আহিরের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল আমরা অচেতন চিন্তা করবেন না আমি আহিয়ান মৃদুল ওদের সাহায্য করব।
রিয়ান এর কথা শুনে আহিয়ে তার ডাবল ডাবল আ
আখির পল্লব ফেলে এক নজর ওই দিকে তাকালো
তারপর চোখ ঘুরে আবার আবিরের দিকে তাকালো এই রিহান নামক ছেলেটিকে তার অন্যরকম লাগে।
মনে হয় এই ছেলের মাঝে কোন বিশেষত্ব তো আছে অবশ্যই।
আবে সকালের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল ঠিক আছে আমি পারমিশন দিলাম।
তবে শর্ত আছে রাত দশটার মধ্যে শেষ করতে হবে।
সবাই একসাথে উল্লাসে চিৎকার দিল ইয়া হু
ওদের কর্মকান্ড দেখে রাকি ব রাসেল আরিফ আসিফ তানভীর এগিয়ে এসে বললো কোন প্রয়োজন হলে তাদের যেন বলে।
কোন প্রয়োজন হলে ছেলেমেয়েদের সাহায্য করতেই হবে।
এটা শুনে সবাই ভীষণ খুশি।
দিনের বেলা হালকা ঘোরাঘুরি শেষ করে সন্ধ্যার পর সবাই বনফায়ারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ছেলেরা কার সাজাচ্ছে মেয়েরা টেবিল বোঝাচ্ছে।
বাতাসে ভেসে আছে গ্রিল চিকেনের গন্ধ এবং ভুট্টাটা পুড়ার সুভাষ
তৃধা সকলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে আহিয়ানের নজর সব সময় ওরে দিকে।
আটকে যাচ্ছে
রিহান দূর থেকে সবকিছু লক্ষ্য করছে তার মনে অদ্ভুত হাহাকার।
যেন নিজের না বলা কথাগুলো বুকের ভিতর পাথর হয়ে জমেছে
সব কাজ শেষ হওয়ার পর মেয়েরা সবাই গেল রেডি হতে
এখন ছেলেগুলো বাকি কাজগুলো গোছাচ্ছে কিছু কিছু বড়রা বসে ওদের কাজ দেখছে।
আইরন মেঘ বন্যা মিম মাইশা সকলে একসাথে বসে নিজের সংসার জীবন নিয়ে আলোচনা করছে এরই মধ্যে ত্রিধা দুইটি শাড়ি হাতে নিয়ে এসে ছুটে বলল মামা আমরা আজকে সবাই শাড়ি পরবো। কিন্তু কোনটা পাব বুঝতে পারতেছি না ওর কথা শুনে সবাই ওর দিকে তাকালো ।
আহিয়ান একটু দূর থেকে কাজের ফাঁক লক্ষ্য করল ত্রিদয়ের হাতে দুইটি শাড়ি, একটি গোলাপী আর একটি টুকটুকে লাল রঙের কথা শুনে সবাই হাসতে শুরু করল বন্যা আদরে কন্ঠে মেখে বলল তৃধা তুমি তো আগে কখনো শাড়ি পরনি শাড়ি কি পড়তে পারো।
তৃধা তাতে কি হয়েছে মামমাম তুমি তো আছো তুমি করিয়ে দিবে।
বন্যা বলো ঠিক আছে আমি পরিয়ে দিলাম কিন্তু তুমি শাড়ি সামলাতে পারবে তো।
তৃধা বলল ইয়েস মাম মাম
এখন প্লিজ তাড়াতাড়ি বলো কোনটা পড়ব।
অতঃপর পাশ থেকে আহিয়ান বলল লালটা পড়লে তোকে একদম রক্ত খাওয়া পেত্নীর মত লাগবে।
তৃধা রাগি রাগি চোখে তাকিয়ে তপ্ত স্বরে বলল।
বলেছে আপনাকে লালটা পরলে আমাকে অনেক সুন্দর লাগবে আমি সেটা জানি
ওর কথা শুনে আহিয়ান তেরা জবাব দিল মোটেও না তোকে তো পেত্নীর মতই লাগবে।
আহিয়ে রেগে মুখে করতেসের দিকে হাটা দিল কয়েক কদম হেঁটে পিছন ফিরে বলল আমি তো লাল টাই পড়তেছি।
তারপর পেত্নী হয় আপনার ঘাড়ের রক্ত খাব।
এই কথা বলে রাগে রাগি ভাবে হনহন করে হেঁটে কটেজের ভিতরে চলে গেল ওর কথা শুনে পিছনের সবাই করে হেসে উঠল আহিয়ানো নিজের কাজের জায়গায় চলে গেল মাথা নিচু করে মুচকি হেসে কাজ করতে শুরু করলো।
রিয়ান খোঁচা মেরে বলল মেয়েটাকে এভাবে রাগানোর কি ছিল?
লাল শাড়িতে পড়তে সরাসরি বলতে পারতি আহিয়ান মৃদু হাসলো তারপর নিষ্প্রফ কন্ঠে বলল ওর মত টেরা মেয়েকে আমার সোজা কথা শুনবে।
পাশ থেকে মৃদুল মৃদুস্বরে বললো, আরে মামা কাহিনী কি বলতো আজকাল তোদের দুটোর কথা কিন্তু আমার মাথার উপর দিয়ে যায়।
রিহান মৃদুলের মাথায় একটা চাটি মেরে বলল তোর মত বলদের আবার মাথা আছে নাকি।
মৃদুল রাগী কখন সরি বলল তুই আমাকে বলদ বললি কেন?
রিহান তুই বল তাই বলদ বলেছি
মৃদুল আহিয়ান এর দিকে তাকিয়ে বিচারে শুয়ে বলল দেখছি আহিয়ানন আজকাল রিহান কিন্তু আমাকে ইনসাল্ট করে কথা বলে।
আহিয়ান ওদেরকে একটা ধমক দিল এই চুপ করবি তোরা আশেপাশে আন্টিরা আছে ওরা শুনলে কি মনে করবে।
এবার রিহান ও মৃদুল দুজনের নিজের কাজে মনোযোগ দিল।
অবশেষে রাত নেমে এলো রিসোর্টের খোলা মাঠের মাঝখানে জ্বলে উঠল আগুন চারপাশের কাঁচের চেয়ার সাজানো একে একে সবাই চলে আসলো কিন্তু যারা এত প্লান করল তারা কই।
হঠাৎ মেয়েদের কণ্ঠ শুনে সবাই সেদিকে তাকালো। চার মেয়ে চার রঙের
শাড়ি পরে ঝলমলে হাসিমুখে এদিকে আসছে
আহিয়ানের চোখ আটকালো তৃধার লাল শাড়ির ভাঁজে ভাজে লাল শাড়িতে ফর্সা মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
খোলা চুল গুলো বাতাসের ঝাপটায় মৃদু মৃদু দুলছে।
আহিয়ান আস্তে করে বলে উঠলো মাশাআল্লাহ।
ত্রিধা লাজুক ভঙ্গিতে তাকালো দূরে দাঁড়িয়ে সারা ডাক ব্লু কালার শার্ট পরা আসিয়ানের দিকে। এই ছেলেটার পাপার মতই গম্ভীর। স্বভাবের হলেও গায়ের রং হয়েছে মায়ের মত একদম হলদেতে টকটকে ফর্সা শার্টের হাত হাতের কোনই পর্যন্ত ফোল্ড করা ।
যখন ঘড়ি পরে তখন তৃধার দেখতে মারাত্মক সুন্দর লাগে
আজকেও লাগছে। মাঝে মাঝে তিদার ইচ্ছে করে আহিয়ানকে দু'চারটা শো চামড়ার ঘড়ি গিফট করতে।
তারপর ঘড়ি পড়া হাতের দিকে সকাল বিকাল বিভোর হয়ে তাকিয়ে থাকতে
এসব কথা মনে আসতেই তৃধা লাজুক হাসলো
অপর পাশে একজন ওর এই হাসি দেখে প্রণয় ঘোরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সে কি তৃধারাণী জানে।
এসব ভাবনা ভাবতে ভাবতে ওরা সকলের সামনে এসে দাঁড়ালো
রিহান মৃদুল এর কাঁধে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে ওর চোখ নীল শাড়ি পরা আহিয়ার দিকে।
কপালে পড়েছে সাদা পাথরের একটা টিপস যা তা সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
শাড়ি আঁচলটা বাতাসে দোছেরিয়ান এক নজরে তাকিয়ে আছে সেদিকে
হঠাৎ আহিয়ার নজর সেদিকে গেলে এই মেয়েটার হৃদয় ধুকপুক করে উঠলো। রিহান এখনো তাকিয়ে আছে ওর দিকে আহিয়া চোখ নামিয়ে নিল। এই ছেলে নেশার তো চোখের দিকে
বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার সাধ্য তার নেই।
রিহানের চোখে চোখ পড়তেই মনে হলো এই ছেলে চোখ দিয়ে কত কিছুই না বলছে।
মাশাল্লাহ আম্মাজানরা তোদের চারজনকে তুই অনেক সুন্দর লাগছে। আচমকায় মেঘের
এমন কথায় চারজনা চোখের ঘোর কাটলো।
মেঘের এমন কথা শুনে চার জনে হাসলো।
তারপর শুরু হলো অনুষ্ঠান।
কেউ গান ধরল কেউ গল্প শুরু করে দিল মিতু খালি গলায় বাংলা গান গাইছে।
হাসি হইচই আনন্দের চারিদিক মুখর
এক পর্যায়ে আহিয়া বললো চলনা আমরা গেম খেলি এক পাশে ছেলেরা এক পাশে মেয়েরা
রা তৃধা হ্যাঁ টিম তৈরি হোক
বড় সদস্যরা খেলতে নারাজ কিন্তু ত্রিধাকে ছাড়ার পাত্রী সবাইকে রাজি করিয়ে নিল একপর্যায়ে আহিয়া বলল আমরা খেলব ব্লাইন্ড লাভ গেম যার বাংলা হচ্ছে চোখ বন্ধ করে মনের মানুষকে খোঁজা
ওর কথা শুনে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলো হ্যাঁ এই গেমটা সত্যি ইন্টারেস্টিং।
আহিয়া সকলকে বলো আমি একবার সকলকে গেমের নিয়মটা বলে দিচ্ছি মেরা সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে এক হাত সামনে দিবে এবং সেই হাত ছুঁয়ে ছেলেদেরকে বলতে হবে। চোখ বাঁধা থাকবে চোখ বাধা অবস্থায় হাত ছুঁয়ে বলতে হবে কে তার সোলমেট। পাশ থেকে রিহান বলল যে ম্যাম আমরা যারা সিঙ্গেল আছি তারা কিভাবে এই গেম খেলব আহিয়া বলল সিঙ্গেলদের জন্য এই গেম না। ওর কথা শুনে আবিরে এগিয়ে এসে বলল তোমরা কেন খেলবে না মাম্মা তোমরাও খেলবে আহিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল কিন্তু এটা কিভাবে পসিবল এটাতো সোলমেট খোঁজার গেম ।
এটা তো গেম সিরিয়াল ভাবে নেওয়ার কিছু নেই।
আমায় আর তোমার মাম্মাকে দেখো।
আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে তাহলে আমরা নিশ্চয়ই একজন আরেকজনের সোলমেট এখন যদি আমি তোমার আম্মুকে খুঁজে না পাই তাহলে কি আমরা যে সোলমেট সেটা কি মিথ্যা হবে।
আহিয়া মাথা ঝাঁকিয়ে বলল না
সকলেই মৃদু হাসলো আবির মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলল এটা শুধু একটি গেম।
তাই আমি বলব তোমরা যারা সিঙ্গেল আছো তাদের জন্য চিরকুটের ব্যবস্থা করা হোক। চিরকুটে মেয়েদের নাম লেখা থাকবে আর সেই চিরকুট ছেলেরা তুলবে। যার হাতে যেই নাম লেখা থাকবে সে সেই মেয়েকে খুঁজবে।
আমি আবারও বলছি এটা একটা গেম এটা সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই ওর কথা শুনে সবাই মৃদু হাসলো তারপর রিহান চারটি কাগজে সকলের নাম লিখল।
আমি সেই কাগজগুলো হাতে নিয়ে টেবিলে ছুঁয়ে ফেলল।
একে একে আহিয়ান মৃদুল ও রিহান একটা করে চিরকুট তুলল।
একটা চিরকুট টেবিলেই পড়ে রইল যেহেতু মেয়েদের সংখ্যা চারজন ছিল ছেলেরা তিনজন।
মেয়েদের সংখ্যা বেশি তাই মৃদুল দুষ্টুমি করে বলল আমি একাই দুটো চিরকুট নিব।
দুটো থেকে একজনকে তো খুঁজে বের করতে পারবো।
আবির মৃদু হেসে বলল ঠিক আছে তোলো, তারপর অবশিষ্ট পড়ে থাকা চিরকুট মৃদুল তুলল।
একে একে তিনজনের চিরকুট খুলল রিহান আহিয়ান এর চোখের দিকে ইশারা করে বলল পেয়েছিস আহিয়ান মৃদু মাথা নাড়িয়ে বোঝানো পায়নি
রিহান বলল ঢাকা ফিরে ট্রিট দিবি তাহলে চেঞ্জ করব।
আহিয়ান চোখ বড় বড় করে বলল তাহলে তুই পেয়েছিস রিহান আবার হেসে বলল ইয়েস ব্রো।
আহিয়ান ওকে ডিল ডান রিহান চিরকুট টা আহিয়ান কে দিলো
আর আহিরানের চিরকুটটা নিজে নিল।
আহিয়ান চিরকুটটা হাতে নিয়ে দেখলে বড় করে লেখা তৃধা।
রিহান চিরকুট টা খুলতেই দেখল মিতুর নাম ওর নাক মুখ কুচকে এলো ।
মৃদুলের দিকে তাকিয়ে রেহান বললো মৃদুল ভাই আমি তোকে কত ভালবাসি। সেটা কি তুই জানিস
মৃদুল রেহানের দিকে তাকিয়ে ওর ভাব ভঙ্গি বুঝতে চেষ্টা করল।
তত্ত্ব স্বরে বলল ব্যাপার কি বলতো।
এত তেল মারছিস কেন রিহান মৃদু হেসে বলল তোর ভাবীর নামে চিরকুট টা আমাকে দে আর আমার হাতে চিরকুটটা তুই নে। দোস্ত
মৃদুল সুজুকে সদ্ব্যবহার করলে বলল এই খবর আগে সন্ধ্যার ব্যবহারের জন্য সরি বল।
আমি এখনই আহিয়ানকে বলে দিব সব।
রিহান একবার আহিয়ানের দিকে তাকালো আসিয়ান সকল মেয়েদেরকে লাইন হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে
আহিয়ান আবারও মিদুলের দিকে তাকিয়ে বলল ঢাকা গিয়ে তোকে কাচ্ছি খাওয়াবো বন্ধু।
তাও চিরকুটটা পরিবর্তন কর।
মৃদুল দাঁত কেলিয়ে বলল তাহলে পরিবর্তন করা যায় নে
ওরা চিরকুট পরিবর্তন করে তারপর রেহান খুশি মনে চলে গেল সকলের কাছে ।
এদিকে বেচারী মৃদুল দুইটা চিকন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উৎফুল্লক কন্ঠে বলেছেন আজকে একটা গার্লফ্রেন্ড নাই বলে কাচ্চি ঘরটা কাটা বেঁচে গেল
এদিকে খেলার সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে প্রথমে গেল রাকিব।
চোখ বাঁধা অবস্থায় এগিয়ে গেল শুরুতে কয়েকটা মেয়ের হাত হালকা স্পর্শ করেও বুঝতে পারল না কোনটা রিয়ার হাত। রিয়া তো সেটা বুঝতে পেরে ফুলে বেলুন হয়ে গেছে।
রাকিব মনে মনে বলল আল্লাহ আমাকে যদি আমার বউকে খুজে না পাই তাহলে তো আমি শেষ।
আবিরা তানভীর মনে হয় রাকিবের মনের কথা বুঝতে পারছে তাই ওরা পাশে দাঁড়িয়ে মিটমিট করে হাসতেছে।
অবশেষে রাকিব মিষ্টির হাত ধরে বলল এটার রিয়া
আমার রিয়া ছাড়া এমন নরম হাত আর কারো হতেই পারে না এই কথা শুনে সবাই মিটমিট করে হাসছে রিয়া তো রাগে মনে হচ্ছে আস্ত রাকিবকে
গিলে খাবে।
আবিরবার গিয়ে রাকিবের চোখের বাঁধন খুলে দিল ও চোখ খুলে দেখলে ও তো মিষ্টির হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে জিভে একটা কামড় দিল বলল সরি ছোট বোন দেখল রিয়া সবার শেষের সারিতে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বেচাটা রাকিব অবশেষে দুই কান ধরে বউয়ের সামনে সরি বউ সরি বউ করতে লাগলো।
তারপর চলে গেল একজনের পর একজন আসিফ জান্নাতে খুজে পেল মাইসার হাজব্যান্ড মাইসাকে পেল না সেদিনের হাসবেন্ড খুঁজে পেল আইরিনকে আরিফ খুঁজে পেল মীমকে। কিন্তু তামিম মিনহাজ আদি ওদের ওয়াইফ কে খুঁজে পেল না রাইতো রেগে গাল ফুলি অনেকক্ষণ যাবৎ বসে আছে আদি ওর রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছি এবার এগিয়ে গেল তানভীর তানভীরের চোখ লাল কাপড় দিয়ে বাধা তৃধা বারবার পাপা পাপা করতেছে তানভীর এগিয়ে গিয়ে সকলের হাত হালকা হালকা ছুঁয়ে অবশেষে খুজে পেল তার সোলমেটকে তানভীর ভয়ে ভয়ে চোখের কাপড় ছাড়াতে লাগলো যদি এটা বন্যা না হয় তাহলে ওই সেই কাপড় সরাতে দেখলে সত্যিই বন্যা ইয়াহু
চিৎকার করে উঠলো।
এবার শুধু রইলো আবির সকলের হাত হালকা করে না ছোঁয়ার মত এগিয়ে গেল একটু এগিয়ে বলল আমি ১০০% সিউর এটাই আহি আর আম্মু।
তোর কথা শুনে সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলো আবির চোখের কাপড় সরিয়ে দেখলো সত্যি এটা আহি আর আম্মু।
মেক আবিরের দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসলো তারপর শুরু হল সিঙ্গেলদের খেলা।
আবির ছেলেদেরকে সামনে দাঁড়িয়ে বলল কে কাকে খুঁজতে চাও চিরকুট দেখাও।।
ওরা তিনজনে চিরকুট বের করল।
আমি লক্ষ করলো আহিয়ানের হাতে ত্রিধা নাম লেখা চিরকুট আর রিহানের হাতে আহিয়ার নাম লেখা চিরকুট। মৃদুলের হাতে জুইও মিমের নাম লেখা চিরকুট।
আমি সকলের উদ্দেশ্যে ওদের হাত থেকে চিরকুট গুলো নিয়ে নামগুলো বলল।
তৃধা মুখ ভেংচি দিয়ে বল রক্তচোষা বাদর দেখি আজকে আমাকে কিভাবে খুজে বের করেন
আহিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ওর কাছে আজ অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছে।
আহিয়া কখনো ভাবতে পারিনি রিহানের কাছে ওর নাম লেখা চিরকুট থাকবে।
এদিকে মৃদুলের মিতু জুই এর দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসলো
এটা দেখে মিতু আর জুঁইও হেসে দিল।
খেলা শুরু করে দিল
প্রথমে এগিয়ে এলো রিহান চোখ বাদাম মনে ভয় সে কি পারবে আহিয়া কে খুঁজে বের করতে।
এক পা দু পা করে এগিয়ে শুরুতে কয়েকটা হাত স্পর্শ করে তারপর হঠাৎ থেমে গিয়ে একটা হাত শক্ত করে ধরে স্পশে আহিয়া চোখ কিছু বন্ধ করি নেয়।
মুহূর্তে চারিদিকে করাকরি পরল রেহান বুঝতে পারল সেই সঠিক ধরেছে চোখ থেকে কাপড়টি সরিয়ে এক পলক আহিরের দিকে তাকালো আহিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছে রেহান মৃদু হেসে হাতটা ছেড়ে দিল।
এবার আহিয়ানের পালা।
আহিয়ান এগিয়ে গেল আবির চোখ বেঁধে দিল।
একজনের পর একজন আহিয়ান পার করে যাচ্ছে তবুও কারো হাতে স্পর্শ করছে না।
সেটা দেখে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ সে থেমে গেল আহিয়ানের মনে হল তার রিদস্পন্দন বেড়ে গেছে । তৃধা
সামনে দাঁড়াতে দেখে দ্রুত জায়গা পরিবর্তন করব
আহিয়ান যেদিক দিয়ে এসেছে সে দিকে গিয়ে দাঁড়ালো, মানে আহিয়ানের পিছনে। আরিয়ান দু কদম পিছিয়ে গেল তৃধা আবারো জায়গার পরিবর্তন ঘটাল
আহিয়ানো দু কদম পিছিয়ে এলো হঠাৎ তৃধারানী আবারও কান্ড ঘটিয়ে বসলো সে মেয়েদের পিছনে ছুটে গিয়ে সবার সামনে দাঁড়ালো।
ওদের লুকোচুরি সবার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগছে
আহিয়ান এবার সামনে গিয়ে
আন্দাজ করে ত্রিধার চুল আঙ্গুলে পেচিয়ে নিল।
এবার কিভাবে পালাবে তৃধা রানী।
ওদের কান্ড দেখে সকলে হেসে উঠলো
তৃধা জোরে চিৎকার দিয়ে বলো উ ফ আহিয়ান ভাই
ব্যাথা পাচ্ছি তো চুল ছাড়ে। আহিয়ান চোখের কাপড়টা সারাতে সারাতে বলল পরেরবার থেকে আমার সাথে চালাকি কম করে করবেন আপনার চালাকি আমি দুই মিনিটে ধরতে পারি।
ওর কথা শুনে তৃধা মুখ বা কালো ওদের খুনসুটি দেখে সবাই হাসলো।
মৃদু জিহানের কাঁধে হাত রেখে সন্ধিহান কণ্ঠে বললো আচ্ছা দোস্ত আহিয়ান কিভাবে তৃধারানী মতো একটা
বিচ্ছু মেয়েকে খুঁজে বের করল।
রিহান আহিয়ান ও তৃধার দিকে তাকিয়ে
নিস্তব্ধ কণ্ঠে বললো এটাই তো মনের কালেকশন।
মৃদুল শুনতে না পেয়ে বলল কিরে দোস বল।
রিয়ান এবার মৃদুল কে কৌতুক করে বলল
বলবো আমি কমপ্লেইন খেয়ে বড় হ ও তারপর। মৃদুল রিহানের এমন অদ্ভুত কথা শুনে হা করে তাকিয়ে রইল যাওয়ার দিকে।
প্রায় ২ মিনিটের মধ্যে মৃদুললের ডাক পড়লো।
এবার মৃদুলের পালা
দেখা যাক ছেলেটা দুইটা থেকে কয়টা খুজে পায়
যথারীতি মিদুলের চোখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হলো ওর প্রথম টার্গেট জুই।
চোখ বাধা অবস্থায় মৃদুল এগিয়ে গেল সামনে সবার হাতের স্পর্শ করছে আর বলছে এটা কোন খেলা হল।
ওই মেয়েকে তো আমি কখনো ছুঁয়েই দেখিনি তো আজকে হঠাৎ করে কিভাবে বলব কোনটা ওই মেয়ের হাত।
ওর কথা শুনে সবাই মুখ চেপে হেসে দিল।
ইতিমধ্যে মৃদুল মিতু ও জুইকে ছাড়িয়ে অনেক সামনে চলে গেছে।
এটা নিশ্চয়ই রেহানের কাজেন কি ফুল যেন মেয়েটার নাম।
ওর কথা শুনে আবারও সবাই হাসলো।
হাসি শুনে মৃদুল চোখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলো আইরিনের হাত ধরে আছে।
হাতটা ছেড়ে দিয়ে বলল সরি আন্টি।
তারপর আবারো মৃদুলের চোখ বাঁধা হল মেয়েরা এলোমেলো হয়ে জায়গা পরিবর্তন করে আবার শাড়ি বদ্ধ হয়ে দাঁড়ালো। এবার মৃদুল বেশি দূর গেল না সামনেই একটা হাত ধরে বলল এটাই মিতু সবাই হাততালি দিতে শুরু করলো। ছেলেটা খুশিতে গদগত হয়ে চোখের কাপড় খুলে দেখলো সকল মেয়েদের ভিড়ে তামিম দুষ্টুমি করে দাঁড়িয়ে আছে।
আর মৃদুল তায়েমের হাত ধরে বলছি এটা মিতু।
মৃদুল এবার রেগে গিয়ে বলল ধুর এটা কোন খেলা হলো তাছাড়া এদের দুজনের কেউ আমার সোলমেট না তাই খুঁজে পাইনি।
তারমানে আমার ভালোবাসাটা রিয়েল।
তারপর সবাই চলে গেল খাওয়া দাওয়া করতে।
তৃধা বারবার খেয়াল করছে আহিয়ান ভাই বারবার আজকে আর চোখে ওর দিকে দেখছে।
চঞ্চল মেয়েটা আজকে কেমন জানি গুটিয়ে গেছে।
জীবনের প্রথম শাড়ি পড়ে এমনিতেই নাচের অবস্থা তারপর আহিয়ান ভাইয়ের এমন গভীর চাউনি ওর বক্ষপিঞ্জর তোলপাড় উঠে গেছে।
রাত প্রায় এগারোটা বেজে গেছে আবীর বলল সকলকে নিজে যার যার রুমে যেতে আবিরের কথা মত সকলে হাটা শুরু করল কটেজের দিকে।
রাত যখন এগারোটা বাজে ১০ মিনিট তখনই তৃধা আহিয়ার দরজায় টোকা।
পড়লো। ওরা রুমে এসেছে কিছুক্ষণ হয়েছে রুমে এসে ছবি তোলা শুরু করেছে ।
আহিয়া রুমে এসে শাড়ি চেঞ্জ করতে চেয়েছিল কিন্তু ত্রিধা বলল প্রথমবার শাড়ি পড়েছি তাই ছবি তুলে ফ্রেমে বন্দী করতে।
তাই দুই বোন চলে গেল বারান্দায় আকাশে আজ মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে।
তারা ঝলমল করছে আকাশ দরজায় টুকা শুনে আহিয়া গেল দরজা খুলতে।
আর এখানে ত্রিধা এখনো ছবি তোলায় ব্যস্ত।
পাঁচ মিনিট পর আহিয়া ফিরে এলো কিন্তু একাই।
তৃধা একটু আশ্চর্য ভঙ্গিতে প্রশ্ন করল কে এসেছিল আপু ।
আহিয়া সে উত্তর না দিয়ে বলল আচ্ছা তৃধা এত রাতে যদি পাহাড়ের চূড়ায় বসে চাঁদ দেখা যায় তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে।
তৃধা খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলল ওয়াও আপু।
এটা তো একদম সিনেমাটিক ব্যাপার।
তারপর আবার নিভে গিয়ে বলল এসব বাস্তবে কখনো হয় না আপু।
এগুলো শুধু কল্পনাতেই সম্ভব অথবা সিনেমায়।
তুই ঠিক বলেছিস কিন্তু এই জ্যোৎস্না রাতে আঁকাবাঁকা পথে একটু জোসনা বিলাস তো করাই যায়।
ত্রিধা সবই তো বুঝলাম এত রাতে রিসোর্টের বাইরে। বাহিরে গেলে পাপা মাম্মা শুলে তো রাগারাগি করবে
তাছাড়া বেশি রাত হয়ে তো রিসোর্টে আর ঢুকতে দিবে না।
আহিয়া হেসে বলল এসব নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না আমরা দুজন একা যাচ্ছি না আমাদের সাথে ভাইয়া ও ভাইয়ের বাঁদর বন্ধুটা যাচ্ছে। বাঁদর বন্ধু তুমি কি মৃদুল ভাইয়া বা রিহান ভাইয়ের কথা বলতেছো।
আহিয়া অন্য দিকে তাকিয়ে বলল হ্যাঁ সেটাই বলতেছি।
আহিয়ার কথা শুনে তৃধা হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাচ্ছে তারপর বলল
মৃদুল ভাইয়ার রিহান ভাই খুব ভালো ছেলে বাদর বলতে হলে তোমার নিজের ভাইকে বল।
আহিয়া হেসে কপালে টোকা দিয়ে বলল কপালের টোকা দিয়ে বলল হয়েছে আর আমার ভাইয়াও খুব।
ভালো ছেলে। ওরা বাইরে অপেক্ষা করছে তাড়াতাড়ি চল। ওর কথা শুনে ত্রিধা আশ্চর্য ভঙ্গিতে বলল আচ্ছা আপু ওরা হঠাৎ আমাদেরকে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে কেন।
তাও এত রাতে আহিয়ার ঠোট ভেঁচকি উত্তর দিল কে জানি।
হঠাৎ ভাই এসে বলল তারা এই জ্যোৎস্না রাতে কোন এক সুন্দর স্পটে ঘুরতে যাচ্ছে তাই বলল আমরা চাইলে যেতে পারি।
কিছুদিন পর যখন বিদেশে যাব তখন আর এই সময় থাকবো না কিন্তু স্মৃতিগুলো থেকে যাবে।
সেটা ভেবে না করলাম না তৃধা মন খারাপ করে বলল ঠিক বলেছ আপু।
তুমি চলে গেলে তোমাকে আমি অনেক মিস করবো।
হয়েছে এবার আর ইমোশনাল হতে হবে না তাড়াতাড়ি চল বাইরে ভাইয়েরা অপেক্ষা করছে।
তারপর আহিয়া কিছু একটা মনে করার ভঙ্গিতে বললো শোন তৃধা ভাইয়েরা বলছে চুপচাপ কটেজ থেকে বের হতে কেউ যাতে টের না পায়
তারপর আহিয়া ও ত্রিধা চুপচাপ কোটেজ থেকে বেরিয়ে গেল
একটু সামনে আগাতে দেখল চাঁদের আলো য় রিহান ও আহিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।
রেহানের কাঁধে গিটার এবার দুজনে এগিয়ে গেল।।
আহিয়ান ও রিহান গল্প করছিল হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ পেয়ে পিছনে তাকালো।
দেখলে ত্রিধা ও আহিয়া দাঁড়িয়ে আছে দুজনের পরনে এখনো শাড়ি।
আবছা আঁধারে আহিয়ান ও রিহান দুজনে হাসলো
হয়তো তারা দুজনেই খুশি হয়েছে। নিজের প্রাণপ্রিয় বন্ধু যে নিজের বোনকে দেখে হাসছে তা হয়তো আহিয়ান জানেনা ।
তৃধা আহিয়ানকে দেখে মাথা নিচু করে রাখলো
আজ শাড়ি পরার পর থেকে ত্রিধার আহিয়ানকে দেখলে কেমন জানি লজ্জা লাগছে।
আহিয়ানের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ১৮ বছরের কিশোরী অষ্টাদশী
তীরে ফলার মতো এপার ওপার করে দিচ্ছি।
এদিকে রিহানের দৃষ্টি আহিয়ার পা থেকে মাথা অব্দি পর্যবেক্ষণ করেছে।
মেয়েটা রিহানের দিকে একবারও তাকাচ্ছে না।
মেয়েটার দৃষ্টি এলোমেল ো নিজেকে লুকানোর একান্ত
প্রয়াস তার ভেতরে।
খোলা আকাশের নিচে চারজন হারছে আহিয়ান ও রিহান সামনে আহিয়া ও তৃধা পিছনে।
তৃধা আসি আর কানে ফিসফিসিয়ে বলল আমরা কোথায় যাচ্ছি আপু।
এবার আহিয়াও ফিসফিসিয়ে উত্তর দিল জানিনা।
ভাইয়া তো আছে চিন্তা কিসের।
তৃধা মাথা নাড়িয়ে বলল না এমনি।
হঠাৎ আহিয়ান পিছনে তাকিয়ে বলল এনি প্রবলেম।
ওরা দুজনে মাথা ঝাঁকিয়ে কি বুঝালো না।
আহিয়ান ওদের দিকে তাকিয়ে সন্ধিহান কণ্ঠে বললো তোরা সামনে হাট আমরা পিছনে আছি।
তারপর আহিয়া ও ত্রিধা হাঁটলে সামনে আহিয়ান ও রিহান হাটলো পিছনে।
হঠাৎ আহি আন লক্ষ্য করলো পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে তৃধা হিল করে হাঁটতে পারছে না।
বারবার হোঁচট খাচ্ছে।
আহিয়ান কোমল কন্ঠে ডেকে উঠলো।
তৃধা
তৃধা ওয়াহিয়া দুজনে পিছনে ঘুরে তাকালো।
আহিয়ান এগিয়ে গিয়ে তৃধার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো
তিন জোড়া সব আশ্চর্য হয়ে ওর কর্মকার্য দেখছি।
তৃধা তো বিচলিত হয়ে উঠল ওর সামনে আহিয়ান ভাইকে এভাবে বসতে দেখে ।
আহিয়ান ওর পায়ে জুতোর ফিতা টা খুলে দিয়ে বলল জুতো খোল।
আহিয়ানের সব কথা তৃধার র মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে
আহিয়ান তত্ত্ব সরে আবার বলল আমি তোকে কিছু বলছি।
তৃধা জুতোগুলো খুলে দু কদম পিছিয়ে দাঁড়ালো
আহিয়ান ঐ জুতা জোড়া হাতে। নিয়ে দাঁড়িয়ে ওর জুতোগুলো খুলে দিয়ে বলল এগুলো পড়ে হাট তৃধা এখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আহিয়ান আশেপাশে তাকালো দু জোড়া চোখ এখনো বিচক্ষণ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
আহিয়ান চোখ সরিয়ে ত্রিধার দিকে তাকায়।
ঠোট বাকেন নিষ্ক্রিয় কন্ঠে বলল এত ভাবনার কিছু নেই পাহাড়ে আঁকাবাঁকা রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়লে তখন তো আমাকে কেয়ারি করে রিসোর্টে নিয়ে যেতে হবে।
তাই রিক্স নিলাম না বলে আহিয়ান হাটলো সামনের দিকে।
রিহান আড়ালে মুচকি হাসল তারপর মনে মনে বলল সমন্ধি ভাই তুই একটা জিনিস
তারপর সকলেই হাঁটলে আহিয়ানের পিছু পিছু।
তৃধা ছোট ছোট পায়ে আহিয়ানের বড় বড় জুতো পরে দিব্যি হাটছে।
হঠাৎ আহিয়ান থেকে গিয়ে বলল তুই ওদেরকে নিয়ে এগিয়ে যাও আমি আসছি।
রেহান শসা কন্ঠে বলল এটা আমাদের শহর না তুই এত রাতে একা কোথায় যাচ্ছিস।
আহিয়ান আদরে কন্ঠে বলল তুই যা আমি ৫ মিনিটে আসছি।
তারপর রিহানা আহিয়ানকে কিছুই বলল না
এক পাশে তৃধা এক পাশে আহিয়াকে নিয়ে
এগিয়ে গেল সামনে।
তৃধা রিহানকে উৎফুল্ল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল কোথায় যাচ্ছি আমরা।
রিহান আহিয়ানের দিকে আক পলক তাকিয়ে বললো মুচকি হেসে বলল স্বপ্নের দেশে।
তৃধা রিয়ালের কথা শুনে হাসিতে কুটি কুটি রাতে নিস্তব্ধ আধারের হাসি একটু বেশি জোরে শোনা যাচ্ছে।
রিহান ত্রিধাকে বলল আসতে হাসো ত্রিধা রানী এটা পাহাড়ি এলাকা।
এখানে এত রাতে কেউ আমাদের দেখলে বিপদ হতে পারে।
ওরা হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালো বড় একটা পাহাড়ের চূড়ার ধারে।
তৃধা রাস্তার পাশে নিচে তাকিয়ে বলল আমরা এত উপরে কিভাবে আসলাম ভাইয়া।
রিহান মৃদু হেসে বলল এটা ম্যাজিক আহিয়া পাশে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছে।
রেহান ত্রিধাকে একটু উপরে দেখিয়ে বলল আমরা ওই উপরে যাব তৃধা মহা খুশি।
মুহূর্তে রিহান কয়েকটা উঁচু নিচু পাথরে পা রেখে উপরে গেল কিন্তু সমস্যা হল ওর সাথে তো দুইটা মেয়ে শাড়ি পরা অবস্থায়। তাদের কি করে উপরে তুলবে।
রিহান কিছু একটা ভেবে হাত বাড়ালো আহিয়ার দিকে এই ঘটনায় আহিয়া বুঝতে পারল না কি করবে।
সে নিচের দিকে চেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
কি হলো আপু? তুমি কি আমাদের সাথে উপরে যেতে চাও না।
হঠাৎ তৃধার কণ্ঠে আসিয়া ভয় পেয়ে গেল।
তারপর তৃধার দিকে তাকিয়ে বলল হ্যাঁ যাবো।
বলেই হাত বাড়ালো রেহান এদিকে।
আলতো করে মেটার হাত ধরল ।
মেয়েটার শরীরের জন্য বিদ্যুৎ খেলা হয়ে গেল।
রিহান কোমল কন্ঠে বলল শক্ত করে ধরো আহিয়া তাই করলো তারপর রেহানের হাত ধরে উপরে উঠে গেল।
ছেলেটা এখনো চাঁদের আলো আহিয়ার কোমল মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
ঠিক তখনই ত্রিধা কাবাব মে হাড্ডি হয়ে ওদেরকে বলল আরে কই গেলে তোমরা আমাকে তোলো।
ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ একজন এসে মেয়েটাকে ৫ কোলা করে তুলে নিল।
তৃধা ভয়ের চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে গলা জড়িয়ে ধরল
আহিয়ান মুশকি হেসে ত্রিধার ভয়ার্ত
চেহারার দিকে তাকিয়ে উপরে উঠতে শুরু করল
ওদেরকে উপরে আসতে দেখে দুজনে সরে দাঁড়ালো।
উপরে উঠে দাঁড়িয়ে আহিয়ান তৃধা চোখে মুখে থাকা বেবি হেয়ার গুলো কে ফু দিয়ে সরিয়ে দিল।
আবছা আলো আঁধারে রিহান ওয়া আহিয়া না দেখলে ত্রিধা ঠিকই অনুভব করলো।
আরিয়ান ভাইয়ের ভারী বিশ্বাস চোখে মুখে পড়তে তৃধার বক্ষ পিঞ্জরে থাকা অবাধ্য হৃৎপিণ্ড টা এলোপাতাড়ি ছুটছে।
বুকের ভেতরের ধুক ধুক শব্দটা বা রীতি মধ্যে বাহিরে বের হয়ে আসছে।
আহিয়ান ওকে নিয়ে এসে দাঁড়ালো পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে চাঁদের আলো পুরোপুরি ওদের গায়ে এসে পড়ে।
ত্রিধা আস্তে আস্তে এবার চোখ খুলল জোৎস্না আলোয় মিলন ঘটলো ২ জোড়া চোখের। তৃধা ঝটপট চোখ সরিয়ে নিল কিন্তু আহিয়ান এখনো তাকিয়ে আছে তৃধার লজ্জা মাখা মুখের দিকে।
লাল শাড়িতে মেয়েটিকে আজ লজ্জাবতীর মত লাগছে যেন ছুঁয়ে দিলেই ঝরে যাবে।
তৃধা আর একবারও তাকালো না।
আহিয়ানের ঐ নেশার তো চোখের দিকে।
রেহান খুব খুব করে কাটলো এতে ধ্যান ভাঙল দুজনের
আহিয়ান একটা সমান জায়গা দেখে তৃধাক নামিয়ে দার করে দিল।
এদিকে আহিয়া একটু সামনে এগিয়ে চাঁদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালো।
পাহাড়ের জোসনা রাতে চূড়ার হিমেল হাওয়া তার মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।
তৃধা চুপচাপ সামনে হাঁটছে তার লক্ষ আরেকটু সামনে যাওয়া।
পেছনে আহিয়ান ও রিহান কি যেন ফিসফিস করছে। একটু পরে রিহান চলে গেল আহিয়ার দিকে।
আর আহিয়ান হাঁটলো ত্রিধার পিছু পিছু। তৃধা
একটু হেঁটেই থেমে গেল পিছনে তাকিয়ে দেখল তার পিছে পিছে আহিয়ান ভাই একা।
ফ
তৃধা আহিয়ান দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। আস্তে করে বলল। আহিয়ান ভাই।
আহিয়ানের মিষ্টি জবাব বলেন মহারানী।
তৃষা সবচেয়ে উঁচু চুল ওঠা দেখেই বলল।
আমি সেখানে গিয়ে চন্দ্র বিলাস করতে চাই চাঁদের জোছনা গায়ে মাখতে চাই।
ছোট ছোট জোনাকি পোকার সাথে ব্যক্ত করতে চাই নিজের মনের অনুভূতি।
এতক্ষণে সব ঠিক ছিল কিন্তু হঠাৎ জোনাকি পোকার সাথে মনের কথা বলায় আহিয়ান ভুরু কুঁচকি নিল।
আহিয়ান গমগমে পুরুষশালী কন্ঠে বলল জোনাকির সাথে কেন।
তো কার সাথে বলবো ভূতের সাথে।
আহিয়ান খপ করে ওর এক হাত ধরে ওদিকে ঘুরিয়ে বল আমার মত একটা আস্ত মানুষকে কি তোর চোখে পড়ে না।
তৃধা দিবে কামড় দিয়ে বলল আরে হ্যাঁ, আপনি তো আছেন আমার সাথে আমি ভুলে গেছিলাম।
তারপর দুষ্টু মেয়েটা মিটিমিটি হাসলো আহিয়ান ও অভিমান ভঙ্গিতে অন্য দিকে তাকিয়ে রইল।
তৃধা অধৈর্য হয়ে বলল তাড়াতাড়ি চলুন প্লিজ
আহিয়ান আর তৃধা সামনে হাঁটলো।
যাওয়ার পথে ছোট বড় পাথর পায়ে ব্যাথা লাগছে।
হঠাৎ কিছু মনে করার ভঙ্গিতে বলল আহিয়ান ভাই।
আহিয়ার সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল আবার কি হলো।
তৃধা দাঁড়িয়ে পরল তা দেখে আহিয়ান ও দাঁড়িয়ে বলল।
তৃধা চোখে চোখ রেখে বলল আমার জুতোগুলো আমাকে দিন আপনার গুলো আপনি পড়ুন।
আহিয়ান কিঞ্চিৎ ভুরু কুসকে ওর হাতে আহিয়ার জুতোগুলো দিকে তাকালো তারপর তৃধা
দিকে তাকিয়ে বলল কেন প্রবলেম কি তাছাড়া তুই হিল জুতা পড়ে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারবে না।
তারপরও তৃধা জেরি কন্ঠে আহিয়ানের সাথে তর্ক করে নিজের জুতোগুলো নিয়ে আহিয়ানের জুতোগুলো ওকে দিয়ে দিল।
আসিয়ান জুতা পায়ে দিল কিন্তু চঞ্চল মেয়ে ত্রিধা জুতা হাতে নিয়ে ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করল।
আহিয়ান মুচকি হেসে ডাকলো তৃধা।
ত্রিধা থমকে দাঁড়ালো।
আহিয়ান একটু এগিয়ে গিয়ে ওর হাত থেকে দুটো জোড়া নিয়ে। অন্য হাত দিয়ে ত্রিধাকে কোলে তুলে আবার হাটা দিল। তৃধা ধরা পড়ে যাওয়ায় আহিয়ারের গলা ধরে মাথা নিচু করে রইল।
আহিয়ান ওর লজ্জা মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বলল এই লাল মুলাই দিকে তাকা।
ত্রিধা আস্তে আস্তে মুখ খুলে তাখালো।
আহিয়ান ও নিশাক তো চোখের দিকে তাকিয়ে নিষ্পড় ো কণ্ঠে বললো।
খুব বড় হয়ে গেছিস তাই না তুই কি ভেবেছিস আমি বুঝবো না হঠাৎ করে জুতা নিয়ে করা করি করার কারণ।
তৃধা নিচু কন্ঠে বলল ছাড়ুন আমায় আমাকে নিচে নামিয়ে দিন।
আমি নিজে যেতে পারবো আহিয়ান সত্যি সত্যি ওকে নিজের নামিয়ে দিল।
তৃধা মাটিতে পা ফেলে অবাক হল তার পায়ের নিচে কোন পাথর নেই শুধু নরম ঘাস।
তারপর চারিদিকে তাকিয়ে দেখল ওরা এখন পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায়।
আকাশে মস্ত বড় থালার মতো একটা চাঁদ যেটা ওদের সরাসরি মাথার উপরে।
ত্রিধা খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।
ওর লাফানো দেখে আহিয়ান হাসলো।
হঠাৎ ত্রিধার হাতের কব্জির টান দিয়ে ওর কাছে নিয়ে আসলো।
তৃধা একটু অবাক হলো।
তারপর আহিয়ান পাহারি একটা সুন্দর লাল টুকটুকে ফুল তৃধা কার কানে গুঁজে দিল।
মেয়েটা আজ বারবার অবাগ হয়ে যাচ্ছে।
তারছিরো পরিচিত আহিয়ান ভাই ভাইয়ের সাথে আজকে আহিয়ান ভাইয়ের কোন মিল নেই।
এই মানুষটার আগাগোড়া পুরোই ভিন্ন
খোলা আকাশের নিচে জোসনা রাতে আহিয়ান নেশাত্ম চোখেতাকিয়ে আছে সামনে থাকা রমণীর দিকে। যার পরনে লাল টুকটুকে শাড়ি, শাড়ির আঁচল ও মাথার চুল বাতাসের দোলায় দুলছে।
খোলা চুলের মাঝে পাহাড়ে ফুলটি। তার সৌন্দর্য যেন বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।।
এমন এক পরীর প্রেমে না পড়ে কি থাকা যায়।
আহিয়ান এর এমন অদ্ভুত দৃষ্টি দেখে ত্রিধা চোখ নামিয়ে নিল।
তারপর তৃধা আসতে মেন মিনিয়ে বলল আপনি কি তখন ফোন আনতে গেছিলেন ।
আহিয়ান হুম
কেন
আহিয়ান বর্ণিত না করে জবাব দিল এই ফুলটা ছাড়া তোকে অসম্পূর্ণ লাগছিল।
ত্রিধা আরো কিছু প্রশ্ন করবে তার আগে ই আহিয়ান বলল এত কথা কিসের চল গিয়ে সামনে ঘাসে বসি।
ত্রিধা করে বলল কিন্তু আরিয়ান ভাই ।
আহিয়ান ওর হাতটা ধরে হাঁটতে বলল জোসনা বিলাস করতে এসেছিস জোসনা বিলাস করে এত কথা কিসের।
অন্যদিকে দুইটা পাথরের উপর বসে আছে দুইটা চড়ুই পাখি । একটার নাম রেহান আর একটা নাম আহিয়া
রেহান অনেকক্ষণ ধরে আহিয়ার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।
কিন্তু মেয়েটা চুপচাপ হয়ে আছে রেহান কোন কথা বলার সুযোগই হচ্ছে না।
রিহান আহিয়ার দিকে দেখি আবারো বললেন এভাবে আর কতক্ষণ চুপচাপ থাকবে কিছু তো বলো আহিয়া চুপচাপ নিচের দিকে মাথা করে বসে আছে । রেহান প্লিজ কিছু তো বলো।
আহিয়া হালকা মাথা তুলে বলল ভাইয়া আর তৃধা কই
ওরা এখনো আসছে না কেন অবশেষে মহারানীর মুখ দিয়ে কথা শুনলো রিহানা।
আহিয়ান তৃধা কে নিয়ে পাহাড়ের উঁচু চুলায় গেছে ত্রিধা উঁচু চূড়ায় যেতে চেয়েছিল বাই এনি চান্স তুমি কি আমার সাথে থাকতে ভয় পাচ্ছো।
ভয় পাওয়ার কি আছে আমার ভাইয়ের একজন দায়িত্বশীল মানুষ নিশ্চয়ই আপনার কাছে সে ভরসা পায় তাই আপনার কাছে আমাকে রেখে গেছে।
তারপর চোখ নামিয়ে নিল রেহানা বলল তার মানে বলছো আমি ভরসার যোগ্য।
আহিয়া আমি তো কিছুই বলিনি।
তাহলে কেমন কিছু
আহিয়া উঠে দাঁড়িয়ে বললো জানিনা
ওকে উঠতে দেখে রেহান ও মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালো
আহিয়ার পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল একবার বিশ্বাস করে দেখতে পারো ঢুকবে না।
ওর কথা শুনে আহি আর কিছু বলল না তারপর রেহান বলল আমরা কি বন্ধু হতে পারি ।
আহিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে চেয়ে আছে।
রেহানের মুখে বন্ধুত্বের কথা শুনে মেয়েটা চমকে উঠল অতঃপর বলল আপনি তো আমার ভাইয়ের বন্ধু
তুমি আর আহিয়ান তো টুইন তাতে কি হয়েছে।
তাহলে আহিয়ানের বন্ধু হতে পারি তোমার কোন পারবো না।
আহিয়া একটু ইস্তস্ত হয়ে বলল না তেমন কিছু না।
তাহলে আমি কি দেখতে অনেক খারাপ
নাকি আমার বিহেভিয়ার এন্ড ক্যারেক্টার খারাপ।
আহিয়া হাত কচলাতে কসলাতে বলল তেমন কিছু না।
রিহান এবার একটু বিরক্ত হল তারপর ধমকেশ্বরে বলল তাহলে কি আহিয়া।
মেয়েটা মৃদু কেঁপে উঠল রিহান সেটা বুঝতে পেরে সরি বলল।
আহিয়া আর মাথা তুলল না অবশেষে আসিয়াকে
মানা তে রিহান কানে ধরে সরি বলল।
আহিয়ার কে কানে ধরার অবস্থায় দেখে ফিক করে হেসে দিল।
এবার রেহানা নিজের মাথার চুল গুলো ঠিক করতে করতে মুচকি হাসলো।
ছেলেটা আবার সিরিয়াস কণ্ঠে বললো আহিয়া
আহিয়া জি
রিহান একটু ইতস্তৃত কন্ঠে বলল তোমার ফোন নাম্বারটা কি একটু পাওয়া যাবে মাঝে মাঝে শুকাকাঙ্ক্ষী হয়ে একটু গল্প করতাম আর কি।
আহিয়া আর চোখে রেহানের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো আপনার কাছে নেই।
বলছেন
যদি বলি কল দেওয়ার পারমিশন চাই।
আহিয়া অন্যজনকে চেয়ে মুচকি হাসিল বুঝতে পেরে রেহানের মুখের হাসি প্রশস্ত হল।
এদিকে সবুজ ঘাসের উপর সোজা হয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে আহিয়ান ও ত্রিধা।
দুজনের মাঝে প্রায় এক হাত দূরত্ব।
আহিয়ান মাথার নিচে দুই হাত ভাঁজ করে দিয়ে তাকিয়ে আছে দূর ওই চাঁদের দিকে।
আর তৃধা শাড়ির আঁচল আঙ্গুলে পেঁচিয়ে পেচিয়ে জোনাকি পোকা উড়ে যেতে দেখছে।
হঠাৎ ত্রিধা আহিয়ান এর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল।
আহিয়ান ভাই আপনি কি আগেও এরকম চন্দ্রবিলাস করেছেন।
আহিয়ান মৃদু হেসে জবাব দিল না বিদেশের মাটিতে এসবের আগ্রহ নেই।
তাছাড়া পাপা রাতে কখনো বাইরে থাকতে দেয়নি
তাহলে আজ আসলেন যে।
ইচ্ছে হয়েছে
বড় পাপা যদি জানতে পারে।
জানবে না সব ব্যবস্থা করে এসেছি
কি ব্যবস্থা করে এসেছেন আপনি।
তোকে এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না।
তৃধা অধৈর্য ভঙ্গিতে আহিয়ানের দিকে ফিরে বলল কি করে এসেছেন বলেন না প্লিজ।
এবার আহিয়ান মাথায় নিচ থেকে এক হাত বের করে ওর দিকে কাজ হয়ে বলল ।
রিসোর্ট এর সিকিউরিটি গার্ডকে গুনে গুনে চারটি ৫০০ টাকার নোট দিয়ে এসেছি ওর কথা শুনে তৃধা খিলখি দিয়ে হেসে উঠলো।
আহিয়ান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওর ওই মুক্তো ভরা হাসির দিকে যা প্রতিবার আহিয়ানের মনে ঝড় তুলে দেয়।
অতঃপর আহিয়ান লক্ষ্য করল ত্রিধার চুলে একটা জোনাকি পোকা এসে বসেছে আহিয়ান হাত বাড়ালো ওদিকে ত্রিধার চমকে উঠল কিন্তু কিছুই বলল না।
আহিয়ান জোনাকি পোকা ধরে ত্রিধার নাকে নোস পিনের মতো বসিয়ে দিল।
তারপর বলল জানিস তোকে একদম বউ লাগছে।
তৃধা খুশি হয়ে বলল বউ
আহিয়ান মনে মনে বলল হ্যাঁ বউ মাহাদিব খান আহিয়ান এর লাল টুকটুকে বউ।
কিন্তু মুহূর্তে ত্রিধার মুখের হাসি নিভে গিয়ে বলল না না আমাকে বউ বউ লাগা যাবে না।
বড় দাদু বলেছে আমি নাকি খুব দুষ্টুমি করি। তাই আরেকটু বড় হলে বিয়ে দিয়ে দিবে।
আহিয়ান ভাই আমি এই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাই না এই খান পরিবারের সকলকে ছারা আমি থাকতেই পারবো না।
আহিয়ান মৃদু হেসে তৃধার নাক টেনে বলল তোকে কোথাও যেতে হবে না।তৃধা খুশিতে লাফিয়ে উঠে বসলো সত্যি বলছেন।
হ্যাঁ সত্যি
তৃধা ভাবুক ভঙ্গিতে বলল কিন্তু এবারে সবাইকে আমার ইচ্ছা মানবে।
আহিয়ান মানিয়ে নেব।
তৃধা সবাই কি আমাকে বুঝবে।
বুঝিয়ে নেব।
তৃধা খুশিতে এবার আহিয়ান ভাই কে বলল আহিয়ান ভাই আপনি এত ভালো কবে থেকে হলেন।
আহিয়ারে নিরলব জবাব আমি সব সময় ভালই ছিলাম তুই লক্ষ্য করিস নি।
তৃধা তো আবার খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো, আজকে চাঁদটাও সাক্ষী রইল ওদের নিরব ভালোবাসার।
তৃধা আবার বলল
আহিয়ান ভাই।
ত্রিধর মিষ্টি কন্ঠে আহিয়ান ভাই শুনে আহিয়ান ফিরে তাকালো।
তারপর কোমল কন্ঠে জবাব দিল কিছু বলবি।
তৃধা এবার আহিয়ানের কাছে বসে দুই আঙ্গুল দিয়ে শাট ধরে বায়না স্বরে বলল।
আমার আরেকটা ইচ্ছে পূরণ করবেন প্লিজ।
আহিয়ান তৃধার হাতটি সরিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল।
পাগলামি বন্ধ কর আমি পাগলামি শুরু করলে আমাকে সামলাতে তোর কষ্টকর হয়ে যাবে।
তৃধা কিছু বুঝতে না পেরে বলল কিছু বললেন আসিয়ান ভাই।
কি ইচ্ছে পূরণ করতে হবে সেটা জানতে চাইলাম।
ত্রিধা হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল আহিয়া আপু বলেছে আপনি নাকি খুব সুন্দর গান করেন।
মিথ্যা বলেছে।
আহিয়া আপু কখনো মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা তো আপনি বলতেছেন।
তারমানে তুই বলছিস আমি গান জানি।
হ্যাঁ জানেন
তাহলে জানি।
প্লিজ একটা গান শোনান না।
এই জ্যোৎস্না রাতে গান শুনতে খুব ইচ্ছা করছে।
আহিয়ান এবার তৃধা দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল আমি যতদূর জানি তুইও তো সুন্দর গান করিস তাহলে তুই গেছিস না কেন।
তৃধা এমনি
আজকে আপনার গান শুনবো।
আহিয়ান ঠোঁটবাকি অন্যদিকে তাকিয়ে বলল স্বার্থপর মেয়ে আমি ফ্রিতে ফ্রিতে কারো জন্য গান গাইতে পারবো না।
তৃষা এবার ঠোট বাঁকিয়ে বলল ঠিক আছে ঠিক আছে
আমিও গাইবো এবার আপনি শুরু করেন।
আহিয়ান গভীর রাতে জোসনা ভরা রাতে হাজার জোনাকি পোকার ভিড়ে তার প্রিয়তমার জন্য গান গাইতে শুরু করলাম।
সখি তোমারে বাঁধিবো।
সখি তোমারি থাকিবো।
বাসিবো ভালো শুধু তোমার,,,
সখি তোমারে রাখিবো খুব আদরে,,,
ও সখি তোমারে রাখিবো খুব আদরে,,,,
সখি তোমারে বাঁধিবো তোমারি থাকিবো
বাসিব ভালো শুধু তোমারে,,,
আহিয়ান হটাৎ চোখের দিকে চেয়ে থেমে গেল
তৃধা ও নেশাক্ত চোখ দেখে পরের লাইন গাইতে শুরু করল।
কি জাদু করেছো? কি মায়া দিয়েছো?
পারিনা তোমারে ভুলিতে,,,
চোখেরি কাজলে,, সুখেরই আঁচলে,,,
রয়েছো মিশে তুমি প্রানোতে
জনম জনম তোমাকে গো চাই,,
মরণেও পাই যেন ওপারে,,,
সখা তোমারি থাকিব তোমারে বাঁধিবো
বাসিবো ভালো শুধু তোমারে,,,,,
তৃধা এবার থেমে গেল চারপাশ পিন পতন নীরবতা
,
হঠাৎ আহিয়ানের ফোনের মেসেজ এর শব্দ হতেই দুজনের ঘর কাটলো।
আহিয়ান ফোন হাতে নিতেই দেখল প্রায় 3:45 বাজে
এবার ত্রিধার উদ্দেশ্যে বলল চল এবার ফিরতে হবে।।
তৃধা ঘাস থেকে হাত ছাড়তে ছাড়তে উঠে দাঁড়ালো
পরবর্তীতে ত্রিধা আর সারা রাস্তায় কিছু বলল না
আহিয়া ওকে মোটামুটি অনেক কথাই জিজ্ঞাসা করেছি।
যেমন পাহাড়ের সবথেকে উঁচু চূড়ায় গিয়ে ওর মনের ফিলিংস কেমন ওর মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে কিনা। আরো অনেক কিছু।
কিন্তু তৃধা সবগুলোর প্রশ্নের উত্তরে হু হা বলে চালিয়ে দিল।
যেতে যেতে অনেক কয়েকবার আহিয়ানের দিকে আর চোখে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
একটা সময় সকলে চুপচাপ রিসোর্টে ঢুকে পড়লো।
আহিয়া একটু অবাক হলো সিকিউরিটি গার্ডের দেখি।
ওতো ভেবেছিল আজ রাতটা ওদের রিসেটের বাইরে কাটাতে হবে। এই শেষ রাতে কটেজের ভিতরে ঢুকতেই দিবে না ।
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তারা কিছুই বলল না আহিয়ান ও রিহান চলে গেল নিজেদের রুমে।
আর তৃধাও আহিয়া তাদের টায়।
আহিয়া ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল এখনো ত্রিধা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে ওর হাতে পাহাড়ি টকটকে লাল ফুল আর গাইছে সখা তোমারি থাকিব তোমারে বাঁধিবো বাসবো ভালো শুধু তোমারে।
আহিয়া পেছন থেকে এসে ওর হাত থেকে ফুলটা ছিনিয়ে নিল।
তৃধাম মুহূর্তে ফুলটাকে নেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো।
আহিয়ে বললে একটা ফুল নেওয়ার জন্য এভাবে ব্যাকুল হয়ে উঠেছিস কেন।
তৃধা তড়িৎ হরি ভঙ্গিতে বলল প্লিজ আপু ফোনটা নিও না।
তাহলে বল এই ফুলের রহস্য কি।
তৃধা ফুলটা হাত থেকে কেড়ে নিতে নিতে বলল
এটা রহস্য কিছুই না আমার ভালো লেগেছে তাই ফুলটাকে তুলে এনেছি এটা আমি ডায়েরির পৃষ্ঠের নিচে রেখে দিব।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে আহিয়ে আবার ফুলটার বিষয়ে কিছু বলল না ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখা গেল ঘড়িতে ভোর পাঁচটা বাজে।
তাই নিজে ঘুমাতে যেতে যেতে বললো তৃধা তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে আয় ঘুমাবি।
তৃধা আবার ফুলটাকে একটা ফুলদানিতে সাজিয়ে রেখে ফ্রেশ হতে গেল।
সকালবেলা মেঘের রাজ্যের সাজেক যেন অন্যরকম
সুন্দর হয়ে উঠেছে। সূর্যোদয় দেখতে দেখতে সকালবেলা আহিয়ান ও রিহান সকলের সাথে নাস্তা করে নিল।
আহিয়ান ও রিহান চোখে এক ঝুড়ি ঘুম নিয়ে সবার সাথে ব্রেকফাস্ট করছে।
মৃদুল বার বার ওদের আর চোখে দেখছে কিছুক্ষণ
ধৈর্য ধরে থেকে বলেই ফেলল কিরে।
হারামির দল এর া রাত জেগে জেগে রাতে পাহাড়ি মুরগি চুরি করতে গেছিলি।
রিহান এবার মৃদু হেসে বলল চুরি করতে গেছিলে সত্যি কথা। কিন্তু পাহাড়ি মুরগি না ঢাকাইয়া মুরগি।
ওর কথা শুনে আহিয়ানো হেসে উঠলো।
এদিকে বার বার মেঘ আহিয়া এর ফোনে কল দিতেছে।
কিন্তু মেয়েটা ফোনে তুলছে না।
অবশেষে তানবির বলল।
বোনু তোরা সবাই খেয়ে নে আমি নাহয় ওদের ব্রেকফাস্ট ওদের রুমে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।
এতক্ষণ চুপ করে থাকা আবির বলল তুই তাই কর তানভীর।
খাওয়া শেষ হলে না হয় আমি একবার মেয়েদের দেখে আসব।
ওদের শরীর ঠিক আছে কিনা।
এদিকে বেলা দশটা বেজে যাওয়ার পরেও আহিয়া ও ত্রিধা বিভোর ঘুমাচ্ছে। ফোন বাজছে তাদের কোন খেয়ালই নেই।
অতিরিক্ত ফোনের রিংটোন তৃধা ঘুমের মধ্যে ফোনটা রিসিভ করে আহিয়ার কানে ধরে।
আহিয়া ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল হ্যালো।
ফোনের ওপার থেকে আহিয়ান ধমক দিয়ে বললে এখনো ঘুম থেকে উঠিস নি কেন।
ঘুম এখনো কমপ্লিট হয়নি ভাইয়া আহিয়ান রেগেমেগে বলল ঘুম কমপ্লিট করতে হবে না।
জলদি ওঠ তোদের রুমে মামা ব্রেকফাস্ট নিয়ে যাচ্ছে। সাথে পাপাও আছে তোদের জন্য আমরা যেন কোন ভাবে ধরা না পরি
আহিয়ানের কথা শুনে আহিয়া লাভ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো।
তৃধা আলীর কানে ফোন ধরেই এতক্ষন ঘুমাচ্ছিল
আহিয়া আর লাফিয়ে উঠে বসার শব্দই তৃধাও ভয় হঠাৎ লাফি উঠে বসলো।
ঘুম ঘুম চোখে পরলো কি হয়েছে আপু। আহিয়া তাড়াতাড়ি নেমে ফ্রেশ হতে যেতে যেতে বললো পা পাপাও মামা আসছে আমাদের রুমে।
তৃধা এবার উঠে বলল মামা মানে আমার পাপা ও মাই গড।।
এবার ত্রিধাও দোর দিলে ফ্রেশ হতে কিন্তু লাভ হলো না ওর আগেই আহিয়া ওয়াশরুমে গেছে।
ইতিমধ্যে কটেজের দরজায় কেউ নক করছে তা শুনে আহিয়া ঝটপট ফ্রেশ হয়ে বের হল।
কিন্তু কথা হল সবাই যখন জিজ্ঞাসা করবে সকাল থেকে রুম থেকে বের হও নি কেন তখন কি বলবে।
সেটা ভেবে দুজনের মাথা খারাপ।
এদিকে দরজা নখের শব্দ বেড়েই যাচ্ছে। তৃধা আহিয়ার হাত ধরে বলল আইডিয়া।
আহিয়া অবাক হয়ে বললে কি আইডিয়া। চতুর ভঙ্গিতে কানে কানে বলল।
প্রায় দুই তিন তিন মিনিট পর আসি আহিয়া গিয়ে দরজা খুলল।
দেখলে পাপা ও তানভীর মামা দাঁড়িয়ে আছে।
সাথে এখন ওয়েটার তার হাতে খাবারের ট্রে।
ওদের দেখে আহিয়ে সরে দাঁড়ালো ওয়েটার চুপচাপ খাবারের ট্রেটা টেবিলের উপর রেখে বেরিয়ে গেল
আবির তানভীর ভিতরে প্রবেশ করল।
দেখলে ত্রিধার বিছানায় মাথায় হাত রেখে শুয়ে আছে।
তানভীর তাড়াহুড়া করে গেল মেয়ের কাছে ত্রিধা কি হয়েছে তোমার তুমি কি অসুস্থ মা।
কপালে এক হাত দিয়ে খানিকটা স্লাইড করতে করতে বলল।
প্রচন্ড মাথা ব্যাথা পাপা মনে হচ্ছে মাথাটা ছিড়ে পড়ে যাবে এক্ষুনি।
তানভীর উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল তুমি আরেকটু সহ্য কর আমি মেডিসিনে নিয়ে আসছি এখনী।
ত্রিধা তানভীর এর হাতটা ধরে বলল না বাবা আনতে হবে না আহিয়া আপুর কাছে ছিল ও খাইয়ে দিয়েছে এক্ষুনি।
তাছাড়া আপু তো রাত তিনটা থেকে আমার মাথা টিপে দিচ্ছে।
এখন তবু আগের চেয়ে একটু ভালো লাগতেছে।
আবির এবার আহিয়া কে বলল মধ্যরাত থেকে ত্রিধা মামনি অসুস্থ তুমি আমাদের জানাওনি কেন।
আহিয়া এবার আমতা আমতা করে বলল আমি ডাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু ত্রিধা বলেছে এত রাতে সবাইকে ডিস্টার্ব না করতে তাই ডাকিনি।
আবির এবার খানিকটা বিরক্ত হলো বটে, ভুরু কুঁচকে বলল তোমার বোন অসুস্থ তাই বলে তুমি আমাদের ডাকবে না
আহিয়া এবার মাথা নিচু করে বলল সরি পাপা
তানভীর এবার আবির কে থেমে দিয়ে বলল থাক ভাইয়া আমরা ছোট মানুষ ওরা কি এত কিছু বোঝে।
তাছাড়া আহিয়া তু ক্লান্ত সেই মধ্যরাত থেকে দিদার পাশে বসে আছে দেখছো না চোখ মুখ কি রকম শুকিয়ে গেছে
আবির এবার নিজের মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল আর কখনো এরকম করবে না।
তোমার ভাই বোনকে অসুস্থ থাকলে বা বিপদে পড়লে অবশ্যই বড়দের ডাকবে।
আহিয়া এবার বলল আচ্ছা পাপা।
তৃধা এবার তানভীরের হাত ধরে বলল মেডিসিন লাগবে না পাপা।
মেডিসিন নিয়েছি, একটু ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে পাপা
তানভীর এবার আহিয়া ও ত্রিধাকে একসাথে খাবার খাইয়ে দিল।
তানভীর আরবের আর কিছুক্ষণ বসতে চাইলে ত্রিধা বলল ও এখন ঘুমাতে চায় ওরা যেন চলে যায়।
তাছাড়া আহি ও বলল মধ্যরা থেকে জেগে থাকার কারণে ওরা অনেক ঘুম পাচ্ছে।
তাই এখন আসিও ঘুমাতে চাই এই কথা শুনে তানভীর ও আবির চলে গেল আর বলে গেল কোন প্রয়োজনে জানো ওদের জানায়।
আহিয়া মাথাচা কি বলল আচ্ছা পাপা,,
ওনারা চলে যাওয়ার পর আইয়া ভদ্রভাবে রুমের দরজা আটকে আসে ভিতরে এসে দু'বোনের সে কি নাচ এখন তারা সারাদিন ঘুমাতে পাবে।
কিন্তু কেউ ডাকতে আসবে না
এদিকে আহিয়ান ও রিহান একটা বেঞ্চের উপর বসে আছে।
মৃদুল তিনজনের জন্য গরম কফি নিয়ে আসলো।
ইতিমধ্যে মৃদুল জোর করে ওদের থেকে সব কথা জেনে নিয়েছে।
আহিয়ান যে তার মামাতো বোনকে নিয়ে চুরি করে ডেটে গেছে এটা শুনে মৃদুল হাসতে হাসতে বেঞ্চে শুয়ে পড়ছে।
কিছুক্ষণ পর বন্ধুদের চোখ লাল দেখে।
মজা করতে করতে গেছে কফি আনতে।
তিনজন একসাথে বসে কপি খাচ্ছে।
এটা ছাড়া আজকে আর তাদের কোন উপায় নেই
একটু দূরে বসে সকলে আড্ডা দিচ্ছি। আজকে তারা কংলাক পাহাড়ে যাবে।
পাহাড়ে যাবার পরিস্থিতি নিচে ইতিমধ্যে উপস্থিত হল তানভীর ও আবির।
এসে সমস্ত ঘটনা জানালো মেঘ ও বন্যাকে।
মেয়েদের কাছে যেতে চাই লে
আবিরত তানভীর বাধা দেয় ওরা এখন ঘুমাবে
ওদের ডিস্টার্ব না করতে।
দুপুরের লাঞ্চ ওদের রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওরা বরং আজকে রেস্ট করুক।
রিয়ান ভুরু কুঁচকে আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল দেখছস মাইয়া মানুষ কতটা চিটিংবাজ।
কি অভিনয় রে ভাই। অভিনয় করে সবাইকে কনভিন্স করে নিল আর আমরা এখানে দিন দুপুরে মশা মারছি।
মৃদুল হাসতে হাসতে বলল আমার ভাবতেই ভালো লাগছে।
তোদের মত দুইটা গরুকে ওরা বলদ বানিয়েছে।
আহিয়ারেবার চোখ ছোট ছোট করে মৃদুলের দিকে তাকালো।
তারপর হাসি হাসি মুখ করে সকলের দিকে তাকায়
টেবিলের নিচে বেচারা মৃদুলের হাত মছরে ধরল
বেচারা সকলের সামনে চিৎকার দিতে পারছে না আবার ছাড়াতেও পারছি না
অবশেষে বাধ্য হয়ে আরেক হাত দিয়ে কান ধরে বন্ধুর কাছে সরি বলল।
এই জীবনে ওদের সামনে আর সত্যি কথা বলবে না।