ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

part 18-23

লেখক: ফারজানা মনি

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ৩

পর্ব ১৮ থেকে ২৩

আহিয়ান ওর হাতটা ছেড়ে দিলে মৃদু ল ওকে হালকা পাতলা গালি দিতে দিতে চলে গেল।

রিহান এবার মুখ গম্ভীর করে বলল দোস্ত পোলাটা কিন্তু মিথ্যা কথা কয় নাই।

আহিয়া ও ত্রিধা কিন্তু সেই প্লান করেছে।

আহিয়ান এবার ভাব নিয়ে বলল একটা আমার বোন একটা আমার বউ দুইটা আমার মতে ইন্টেলিজেন্ট।

সাজেকের সবচেয়ে উচু শৃঙ্গ হলো কংলক পাহাড়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 1800 ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই পাহাড় যেন আকাশছোঁয়ার অনুভূতি দেয়।

কংলাক পাহাড় থেকে পুরো সাজেক ভ্যালি এক

প্যানোরামিক দৃশ্য চোখের সামনে ধরা দেয়।

দূরে দূরে সারি সারি সবুজ পাহাড় আর মেঘের ভেলা তার ফাঁকে দেখা যায় ভারতের মিজোরাম রাজ্য।

পাহাড় গুলো।

কংলাক পাহাড় যেন এক স্বপ্নের রাজ্য। পাহাড়ের মাথায় দাঁড়ালে , চারিদিকে সাদা মেঘে ভরা, মনে হয় মেঘের রাজ্যের ভিতর চলে এসেছে।।

সূর্য ওঠার সময় লালচে লাভাই পাহাড়গুলো সোনালী হয়ে ওঠে।

আবার সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার সময় মনে হয় আকাশ এক মায়াবী রং ধারণ করেছে।

অন্যরকম এক পরিবেশ তৈরি করে।

পাহাড়ের চুড়ায় আছে কংলাকপারা যেখানে চাকমা ও লুসাই জনগোষ্ঠীর বসবাস।

তাদের কুঁড়েঘর সরল জীবনযাত্রা আর পাহাড়ি অতিথি আপ্যায়নে ভ্রমণকারীদের কাছে আলাদা এক অনুভূতি জায়গায়।

স্থানীয়রা কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ঘর বানায় সবজি চাষ করে জীবন চালায়।

এখান থেকে সূর্যোদয় সূর্য আস্ত পুরোপুরি দেখা যায় যা সাজেকের অন্যতম আকর্ষণ।

চারিদিকে নিরবতা বাতাসের ঠান্ডা ছোঁয়া ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মনে হয় এটা পৃথিবীর অন্যতম শান্তির জায়গা।

খান পরিবারের সকলেই এখানে এসেছে আজকে খুব ইনজয় করেছে লুসাই জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা দেখি।

দেখতে দেখতে কয়েক ঘন্টা হয়ে গেছে।

আবির মেয়ে তানভীর বন্যা আদিরাই মিম আরিফ সহ আরো সকলেই এসেছে। মৃদুল রিহান আহিয়ান একসাথে ঘুরছে।

ওদের সাথে আছে আদিবা ও উসা আদিবা আহিয়ান এর কোলে চড়ে কংলাক পাহাড়ে সৌন্দর্য উপভোগ করছে।

ঊষা রিহানের হাত ধরে ছোট ছোট পায়ে হাঁটছে ও খিলখি লিয়ে হাসছে।

আর কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আহিয়ান বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল চল আমরা কটেজে ফিরে যাই।

সেখান থেকে না হয় সূর্য আসতে দেখব এবার ওর কথা শুনে রেহান ও মৃদুল সায় দেয়।

ওরা এসে বড়দের জানালো ওরা কলেজে ফিরে যেতে চায়।

এ কথা শুনে আবির ওদের বলল কটেজে ফিরে প্রথমে আহিয়া ও ত্রিধার রুম থেকে যেন ঘুরে আসে ওদের কিছু অসুবিধা হচ্ছে নাকি যে নে তারপর যেন নিজের রুমে যায়।

আহিয়ান ভদ্র ছেলের মত মাথা নাড়িয়ে বলল আচ্ছা পাপা।

তারপর ওরা আদিবা ও ঊষাকে তাদের মায়ের কাছে দিয়ে কটেজের উদ্দেশ্যে রওনা হল।

এদিকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত দুই বোন ঘুমাইছে তারপর দুপুরে লাঞ্চ করে আড্ডা দিতে বসেছে।

দেখতে দেখতে প্রায় বিকেল গড়িয়ে এলো আহিয়া ত্রিধাকে নিয়ে রিসোর্টের বাগান ঘুরে আসতে চাইল

কিন্তু ত্রিধা বলল ওর এখন যেতে ইচ্ছা করছে না আহিয়া যেন একাই যায়।

আর কি করার আছে একাই বের হয়ে কটেজ থেকে বাগানের দিকে আসলো।

আকাশে প্রচুর মেঘ জমেছে বৃষ্টি হবে মনে হয়।

যার কারনে চারিদিকে শুধু মেঘের সমুদ্রই দেখা যাচ্ছে।

এত সুন্দর একটা পরিবেশ দেখে আহিয়া খুব খুশি হয়ে গেল তার ইচ্ছে ছিল কটেজে এসেছে বৃষ্টি দেখবে।

তার ভাগ্য খুব ভালো, তাই হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টির দেখাও পাওয়া যাবে।

রিসোর্ট এর ঢুকতে আহিয়ান মৃদুল ও রাহানের নজর গেল বাগানের দিকে।

দেখলো আহিয়ে ঘুরে ঘুরে বাগানের ফুল দেখতে।

আহিয়ান এবার মনে মনে বলল আহিয়া যদি এখানে থাকে তো আমার সাদা মুলা কই।

তারপর দুই মিনিট তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে

থেকে রেহানের কাঁধে হাত রেখে বলল তোরা দুজন এখানেই দাঁড়া। আমার বোনকে পাহারা দে।

ওকে একদম ডিস্টার্ব করবি না আমি তৃধাকে দেখে আসছি।

মৃদুল চোখ ছোট ছোট করে তাকালো

মৃদুল বিড় বিড় করে আস্তে আস্তে বলল আহিয়ান তুই নিজেও জানিস না তুই কিভাবে শিয়ালের কাছে মুরগি বাগি দিয়ে যাচ্ছিস।

আহিয়ান মৃদুলের দিকে তাকিয়ে বলল কিছু বলবি

মৃদুল বলার আগে রিহান বলে উঠল ও বলেছে তুই নিশ্চিন্তে যা। আমরা দুজন এখানে আছি।

আহিয়া কে পাহারা দিচ্ছি।

তারপরও আহিয়া রোদের বারবার সাবধান করল বারবার বলে গেল ওর বোনের দিকে খেয়াল রাখতে

তৃধা এতক্ষন রুমে ছিল কিছুক্ষণ আগে জানালার বাইরে এত সাদা মেঘ দেখে খুশিতে দৌড়ে গেল বারান্দাযর দিকে।

ত্রিধা বারান্দায় বসে মেয়েদের রাজ্য উপভোগ করছিল আর ভাবছিল কালকে রাতের ঘটনা।

আজকাল আহিয়ান ভাইদের সামনে দেখলে বুকের ধুকপুক খুব বেড়ে যায়।

মানুষটার সামনে আসলে মনে হয় ঝড় তুফান নার্গিস টলেটো সাইক্লোন একসাথে বয়ে যায়।

একসাথে মনের দরজায় করা দিলে গতকালের সকল ঘটনা।

আচমকা ত্রিধাকে কোলে তুলে নেওয়া কানে ফুল গুঁজে দেওয়া জোনাকি পোকা দিয়ে নোজ পিন পরিয়ে দেওয়া গান শোনানো আর সবচেয়ে যে জিনিসটা তৃধাকে পাগল করেছে তা হচ্ছে আহিয়ান ভাইয়ের মুখে নিজে কে বউ বউ লাগছে সোনা।

ঘটনাগুলো মনে পড়তেই লজ্জায়।

ত্রি ধরনের গাল লাল হয়ে উঠল। নিজের লজ্জা মাখা মুখখানা লুকাতে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিল। ঠিক তখনই দরজায় করা পড়ছে । ত্রিধা ভেবেছে আহিয়া এসেছে।

তাই বারান্দা থেকে চিৎকার করে বলল দরজা খোলা আছে।

তারপর মনের আনন্দে দোলনায় বসে মেঘ দেখা শুরু করলো।

হঠাৎ কারো হালকা ধাক্কায় দোলনাটা দূরে উঠলো

তৃধা এবার খিলখিলিয়ে হেসে উঠে বলল দেখছো আহিয়া আপু মেঘগুলো কত সুন্দর দেখা যাচ্ছে।

কত সুন্দর ভেসে বেড়াচ্ছে মনে হচ্ছে একটু পরেই বৃষ্টি নামবে।

তারপর আবারো আবেগি ভঙ্গিতে বলা শুরু করলো।

এবারে ট্যুর টা সত্যিই স্পেশাল।

এই দিনটা আমি কখনোই ভুলবো না। স্পেশালি গতকালকের পূর্ণিমার চাঁদ।

ছোট ছোট জোনাকি পোকা মস্ত বড় চাঁদ তুমি রিহান ভাইয়া। আর

হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বলে উঠলে আর।

তৃধার গাল গুলো লজ্জায় লাল হয়ে গেছে

কিন্তু অকোপটে তার মস্তিষ্কে হানা দিলে অন্য কথা, একটু আগে যার কণ্ঠ শুনেছে সেটা তার আহিয়া নয়।

ঠিক তখনই ভেসে এলো পুরুষালী ভরাট কন্ঠ। কিরে আর কে স্পেশাল বল।

তৃধা মুহূর্তে চমকে উঠল পিছনে ফিরে দেখল এতক্ষণ ধরে আহিয়ান ভাইয়ের সাথে কথা বলছে।

পিছনে আহিয়ান ওর দোলনায় হালকা ধাক্কা দিচ্ছে

তৃধা দোলনা থেকে নেমে যেতে চাইলো

কিন্তু আহিয়ান পিছন দিকে দুই হাত ধরে বসে দিল চুপচাপ বস।

তৃধা ভয় চুপ করে বসলো একদিকে।

এদিকে মৃদুল কে দাঁড় করিয়ে রেখে রেহান পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলো আহিয়ার দিকে।

আহিয়া আপন মানে গুনগুনিয়ে গান গেয়ে বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে

হঠাৎ রেহান এক কদম পিস থেকে হাউ বলে চিৎকার দিল।

এমত অবস্থায় আহিয়ে চিৎকার দিয়ে বল কে কে।

রিহান খানের গম্ভীর কণ্ঠে বলল।

গতকাল রাত্রেই তো মাত্র বন্ধু হলাম এর মাঝেই ভুলে গেলে। আহি এবার একটু বিরক্ত হলো বটে।

ছোট ছোট চোখ করে বলল বন্ধু হয়েছি ভালো কথা কিন্তু এভাবে পিছন থেকে কে ভয় দেখালে কে চিনবে

রিহান এবার একটু মজা করেই বলল আর হায় তোতা পাখি দেহি কথা কইবার পারে।

ওর মুখে এমন পুরানা ঢাকা দিয়ে কথা শুনে আহিয়া নাচাইতেও হেসে দিল।

আহিয়ার মিষ্টি হাসি দেখে রিহান মাথার চুল ঠিক করতে করতে মুচকি হাসলো।

তারপর হঠাৎ করে রিহান বলে উঠল আচ্ছা আহিয়া তুমি যখন আবার ফিরে যাবে তখন কি আমায় মনে রাখবে।

আহিয়া মৃদু হেসে বলল তা এখন বলতে পারছি না ওখানে যাচ্ছি লেখাপড়া করার জন্য তাই লেখাপড়া মনোযোগ দেওয়াটাই উচিত হবে।

রিহান ব্যথা তু হাসলো তারপর মলিন কন্ঠে বলল আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকবো তোমার দেশে ফেরার।

আহিয়া সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল যদি সময়টা দীর্ঘ হয়।

রিহান ওর পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল গুনে নিব।

আহিয়া আচমকা থেমে গেল তারপর

তারপর ওর দিকে তাকিয়ে বলল কি

রিহান আবারো ব্যাথাতক হাসলো।

তারপর ভাঙ্গা কন্ঠে বলল অপেক্ষার প্রহর।

আহিয়ার সামনে থাকা একটা রঙ্গিন ফুল স্পর্শ করতে করতে বলল যদি না ফিরি।

রিহান এবার অাহিয়ার এক হাত ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল তাহলে আমি ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।।

আহিয়া হালকা হাসলো আর কিছু বলল না।

একটু দূর থেকে মৃদুল সবকিছু দেখছি আর বিরক্তি স্বরে বলছে।

তোর মত মীরজাফর বুঝি বর্তমান যুগে আর একটাও নেই।

তোর কাছে আহিয়ান ওর বোনকে হেফাজতে রেখে গেছে সে তো আর জানে না তুই হলি সব থেকে বড় মীরজাফর।

বন্ধুর বিশ্বাস নিয়ে খেলছিস যেদিন ও জানতে পারবে তোর ভালোবাসা আর তোকে বর্জ খলিফার উপর থেকে লাথি মেরে ফেলে দিবে।

তখন বুঝবি ওই শালা আহিয়ান কি জিনিস। তারপর মৃদুল একা একা ফোন স্কল করতে করতে হাঁটলো রিসোর্টের ভিউ পয়েন্টের দিকে।

বেচারা মৃদুল তোর আর কিবা করার আছে না আছে বউ না আসে গার্লফ্রেন্ড সিঙ্গেল মানুষ।

আজকের সাজেকের সকালে ষষ্ঠ দিন।

সকালের হিমেল হাওয়ায় যখন পাহাড়ি মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে তখনই সবাই উঠে পড়ল শেষবারের মতো পাহাড়ি সকালের দৃশ্যটা একবার চোখ ভরে দেখার জন্য।

কটেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরে বেয়ে যাওয়া মেঘ সকালের লালচে সূর্যোদয়ের লাভা যেন বিদায়ের নীরব ডাক দিল।

কেউ কেউ ব্যাক গোছাতে ব্যস্ত কেউ আবার ছবি তুলছে আরেকটু স্মৃতি রাখার জন্য।

তারপর রওনা হল সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে।

সকালের রাস্তাটা ছিল অন্যরকম শান্ত সকালে রাস্তাটা ছিল অন্যরকম শান্ত। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ সবুজ পাহাড়ি গাছ মাঝে মাঝে বয়ে যাওয়া ঝরনা।

গাড়ি জানালা খুলে সবাই শীতল হাওয়া উপভোগ করছে।

মাঝে মাঝে পাহাড়ে ছোট ছোট গ্রাম চোখে পড়েছিল বাচ্চারা খুশিতে হাত নারছিল।

সাজেকের সেই স্বপ্নময় ভেলি ছেড়ে অবশেষে গাড়ি নেমে এলো সমতলের দিকে।

দুপুরে আবার তারা পৌঁছে গেল খাগড়াছড়ি শহরে।

পাহাড়ি রাজধানী নামের পরিচিত এই শহরটির রূপ একেবারেই আলাদা।

চারিপাশে সবুজ টিলা আর শহরের ভিতরে পাহাড়ি সংস্কৃতির ছোঁয়া ।

দুপুরে একটা রেস্টুরেন্টে পাহাড়ি খাবারের আয়োজন হলো বাসকুড়ি ভাজি পাহাড়ি মুরগির ঝোল বাঁশে ভাজা মাছ সবাই গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করল।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তারা গেল ঘুরতে প্রথমেই গেল রিছাং ঝর্ণাতে।

ঘন জঙ্গলে

জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যখন নামতে নামতে ঝরনার গজল শোনা গেল তাদের মনে হলো ঝরনা তাদের আহ্ববান জানাচ্ছে।

বিশাল ঝর্ণা থেকে নেমে আসা ঠান্ডা জলের ছিটা গায়ে পড়ছে চারপাশের ভেজা বাতাসে মন ভরে উঠছিল অনেকের ছবি তুললো কেউবা পা ডুবে রাখলে স্বচ্ছ পানিতে।

এরপর তারা গেল আরো আলুটিলা গুহাতে, গুহার ভিতরে ঢুকতে অন্ধকারে রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হলো হাতের টর্চ লাইট নিয়ে সবাই হাঁটছিল ভিতরে ঠান্ডা হাওয়া বইছিল।

মাঝে মাঝে বাদুড়ের ডাক ভেসে আসছিল আর গুহার উপর থেকে ফোটা ফোটা পানির শব্দে পরিবেশটা মনে হচ্ছিল আরো রোমাঞ্চকর।

গুহা থেকে বেরিয়ে মেঘ বন্যা আইরিন মাইসা মিষ্টি হাফ ছেড়ে হেসে উঠলো। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা সবার কাছে অমূল্য।

বিকেলে তারা গেল হাঙর ঝর্ণার দিকে।

সেখানে গিয়ে আবারো প্রকৃতির কোলাহল ।

পাহাড়ে বেয়ে আসা জল রশি ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তির ধুয়ে দিচ্ছে।

চারপাশে পাখির ডাকে সবুজের সমরহ সবাই যেন হারিয়ে গেল।

সন্ধ্যার আগে শহরে ফিরে তারা খাগড়াছড়ি

বাজার থেকে কিছু কেনাকাটা করল

আদিবাসী হাতের তৈরি কাপড় বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র পোড়ামাটির অলংকার। হাতে বোনা তাঁতের শাড়ি ও রঙ্গিন রঙিন পাহাড়ি জামা কাপড় অনেকেই নিজের জন্য আর অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য উপহার কিনলো।

রাতে হোটেলে ফিরে সবাই ক্লান্ত হলেও আনন্দিত ছিল

আবার কেউ কেউ তো রাতের খাবার সেরে ছাদে বসে আকাশ ভরা তারা দেখছিল।

একে একে সবাই সাজেক ঘোড়ার প্রিয় মুহূর্ত গুলো নিয়ে গল্প করছিল।

হাসি আড্ডায় ভরে উঠলো শেষ রাত।

আগামীকাল ওরা ফিরে যাবে চিরচেনা খান বাড়িতে

কিন্তু মনে মনে রয়ে যাবে পাহাড়ি সবুজ পাহাড় মেঘের ভেলা আর পাহাড়ি সংস্কৃতির মায়া।

পরের দিন সকাল সকলের ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাক গোছাচ্ছে।

ত্রিধা লক্ষ্য করছে আহিয়ান অনেকক্ষণ যাবত কার সাথে ফোনে কথা বলছে।

তার চোখমুখ গম্ভীর। তৃধা সেদিকে এগিয়ে গেল

আহিয়ার নিজের পিছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে ঘুরে দাঁড়ালো।

দেখলে ত্রিধা তার পিছনে দাঁড়িয়ে তৃধা যেই না কিছু বলবে তার আগেই আহিয়ান।

চুপচাপ সেখান থেকে চলে এল। তৃধা একটু অবাক হলো কিন্তু কিছুই বলল না। তারপর সবগুলো গাড়ি একে একে রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে।

আসার সময় মতো এখনো আহিয়ান রিহান মৃদুল আহিয়া ত্রিধা জুই মিতু এক গাড়িতে বাকিরা সবাই কমবেশি কথা বললেও আহিয়ান ও তৃধার কোন কথা নেই।

আহিয়ান চোখে সানগ্লাস পড়ে গাড়ির কাছে বাহিরে তাকিয়ে আছে আর ত্রিধা রানী চুপচাপ বসে আছে।

নিচের দিকে তাকিয়ে নাক খোঁজাচ্ছে এদিকে আহিয়া বারবার আর চোখে রেহানের দিকে তাকাচ্ছে।

যতবার তাকিয়েছে ততবার রেহানের সাথে চুকাচুকি হয়েছে

ঠিক তখনই আহিয়া আবারও চোখ নামিয়ে নিয়েছে

দেখতে দেখতে বেলা চারটার দিকে ওদের গাড়ি এসে খান বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সবগুলো গাড়ি এখনো আসেনি।

আবির মেঘ তানভীর বন্যা রাই আদি ওদের মেয়ে মিম আছে ওদের গাড়ি এসেছে।। আর বাকিদের ড্রাইভার যার যার বাড়িতে নামিয়ে দিয়েছি। মালিহা খান

হালিমা খান ও আকলিমা খান সবাইকে দেখে খুশি হয়ে ছুটে আসলো।

তারপর কুশল বিনিময় করে ওদের জন্য হালকা সর্পদ নাস্তার ব্যবস্থা করল।

কিন্তু আহিয়ান ড্রয়িং রুমে একটুও দাঁড়ালো না ভিতরে প্রবেশ করে চলে গেল নিজের রুমে।

ত্রিধা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেদিকে।

তৃধা কিছুতেই বুঝতে পারছি না আহিয়ান ভাইয়ের কি হলো। সাজেকের এই সাত দিনে তৃধা ভুলে গেছিলাম আহিয়ান এর এই গম্ভীর স্বভাব কে।

কিন্তু খান বাড়িতে ফেরার সাথে সাথে আসিয়ান ঠিক আগের রূপেই নিয়েছে।

তাহলে কি সাজেকের এ কয়দিন তৃধা শুধু স্বপ্নই ছিল।

ভাবতে ভাবতে মেয়েটা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।

তারপর চুপচাপ লাগে ছাড়তে নিয়ে উঠে যাচ্ছিল।

তৃতীয় তলার পিছন থেকে হালিমা খান বলল শরবত খেয়ে যেতে।।

কিন্তু তৃধা ফিরে তাকালো না।

নিজের রুমে ঢুকে জোরে ঠাস করে রুমের দরজা আটকে দিল।

সন্ধ্যাবেলা কমবেশি সবাই ড্রয়িং রুমে

উপস্থিত খান ভাইয়ের নতুন কাজের লোক পদ্ম সকলের জন্য নাস্তা তৈরি করে এনেছে বয়সে ছোট মেয়ে কিন্তু কাজে-কর্মে চতুর

যে যাই বলে গুছিয়ে সব কাজ করে দিতে পারে।

পদ্মর হাতে চা-নাস্তা থেকে সন্ধ্যার আড্ডা আরো ভালো জমেছে।

আগামীকাল একদিন রেস্ট নিয়ে পরশুদিন থেকে আবারো সবাই সবার কর্মজীবনে ফিরে যাবে।

তানভীর আরিফের উদ্দেশ্যে বলল আরিফ তুই মিমকে নিয়ে এখানে এক সপ্তাহ থেকে যা এখান থেকে না হয় কয়েকদিন অফিস করবি।

না ভাই আমি মনে হয় অন্য সময় এসে থাকবে আগামীকাল আমাদের যেতেই হবে।

তাছাড়া আবির ভাইয়েরা তো আছে খুব শীঘ্রই আবারো আসা হবে।

ঊষা দৌড়ে এসে আরিফ এর কোলে চড়ে বসলো । আমি যাব না বাবা আমি নানুর বাড়িতে থাকবো

ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো।

আবির আরিফের কোল থেকে ভাগ্নিকে তুলে নিজের কোলে নিল ওকে কোলে নিতে দেখে আদিবা ছুটে আসলো।

কোমরে হাত দিয়ে বলল এই তুমি আপুকে কোলে নিয়েছো কেন নামাও এক্ষুনি নামাও বলছি।

ওর কোমরে হাত দেওয়ার স্টাইলে কথা বলতে দেখে সবাই হেসে দিল।

আবির হাত বাড়ি আদিবাকে কোলে নিতে চাইলে ও অভিমান করে দূরে চলে গেল।

দূর থেকে আদিবা অভিমানী কন্ঠে বলল আমি যাব না তোমার কোলে তুমি আমার বড় পাপা

তুমি আপুকে কেন কোলে নিবে ?

তানভীর জোর করে কোলে নিলে আদিবের এই যে সে কি কান্না পুরো খান বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছি

এগুলো সব পাপা আমার ওর কান্নাকাটি দেখে ঊষা বড় মামার কোলা থেকে নেমে বাবাইয়ের কোলে গেল

তারপর মুখ ভেংচি দিয়ে বলল হিংসুটে মেয়ে ।

এই কথা শুনে আদিবা কান্না আরো তীব্র হলো

ওর কান্না শব্দ শুনে কিচেন থেকে ছুটে আসলো রায় কিন্তু এসে দেখল আদিবা মেজো ভাসুর তানভীরের কূলে তাই আবারো ফিরে গেল কিচেনে, মেঘবন্যা ও রাইট খাবারের আয়োজন করেছে।

ওদের সাহায্য করছে কাজের মেয়ে

পদ্ম

মিম ওদের পাশে শসা খেতে খেতে গল্প করছে চেয়েছিল ওদের কাজে সাহায্য করতে কিন্তু বন্যা ও মেঘ করা নিষেধ। মিম বাপের বাড়িতে এসে কোন কাজ করতে পারবে না।

এখানে আসলে শুধু রেস্ট করবে।

এদিকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে আসলো কিন্তু ত্রিধা এখনো নিচে নামেনি।

আহিয়া নিচে নামার সময় কয়েকবার দেখে আসলো কিন্তু ত্রিধার কোন সাড়াশব্দ নেই।।

আহিয়ান সন্ধ্যায় বেরিয়েছিল একটু আগেই বাড়ি ফিরেছে রুমে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করল ত্রিধার রুমের দরজা আটকা।

একটু পর ডিনার করার জন্য নিচে আসার সময় লক্ষ্য করল দরজা এখনো বন্ধ।

আহিয়ান চুপচাপ এসে ডাইনিংটেবিলে বসলো

মেঘ সবাইকে ডাইনিং টেবিলের খাবার বেড়ে দিচ্ছে তানভীর জোরে জোরে বন্যাকে ডেকে উঠলো

বন্যা কিচেন থেকে আসলে হাত মুছতে মুছতে এসে বললো কি হয়েছে। তানভীর মৃদু

কন্ঠে বলল আমার মেয়ে কই।

তুমি কি আমার মেয়ের খোঁজখবর ঠিকমতো রাখছো না সে যে বাড়ি ফিরে উপরে গেল তারপর তো আর দেখলামই না।

বন্যা কিনছিদ রাগী

কন্ঠে বলল আপনার মেয়ে কি আমার কথা শোনে।

বাড়ি ফিরেছে থেকে নিচে নামেনি, কি নিয়ে গাল ফুলে আছে কে জানে।

একটু আগে আহিয়া দেখে আসলো তাও সাড়া দিল না।

তাই ভাবলাম হাতের কাজ শেষ করে ডেকে নিয়ে আসব তানভীর বলল থাক আর যেতে হবে না আমার মেয়েকে আমি ডেকে নিয়ে আসছি।

তানভির উঠে চলে গেল মেয়ের রুমে দিকে।

আহিয়ান খাবার মুখে দিতে দিতে একবার তৃতীয় তলার দিকে তাকালো তারপর আবারো খাবারে মনোযোগ দিল।

বন্য ফোস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে ম মেঘকে বলল দেখছিস ননদিনই তোর ভিলেন ভাই মেয়ে কি করে করব তাকে কিছু বলবে না সব দোষ আমার।

মেঘ তরকারির বাটিটা হাত থেকে দেখে বন্যার কাঁধে

এক হাত রেখে বলল এভাবে বলিস না বেবি তুই তো জানিস ভাই আমি কি কতটা ভালোবাসে।

বন্যা আর কিছু না বলে চুপচাপ কিসিনের দিকে গেল। আবির আরিফের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল।

বুঝলি আরিফ বেচারা তানভীর এর জন্য আমার খুব মায়া হয় আগে নিজের বোনকে এভাবে ধমকে ধমকে খাওয়াতে নিয়ে আসতো এখন আবার নিজের মেয়েকে আনতে হয়

আহিয়া হাসি এসে উঠে বলল একসময় দেখা যাবে নাতি নাতিদের এভাবে ডেকে আনছে খাওয়ার জন্য মামা।

ওর কথা শুনে আহিয়ানের গলায় খাবার আটকে গেল খুক খুক করে কষ্ট লাগলো।

আবির পানির গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে বলল ত্রিধার বাচ্চাদের জন্য নিশ্চয় শশুর বাড়ির লোকজন থাকবে। ওরাই ম্যানেজ করবে।

মাঝে মাঝে এ বাড়িতে আসলে সেটা অন্য ব্যাপার।

ইতিমধ্যে খাবার টেবিলে উপস্থিত হয়েছে মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান আলী আহমেদ খানের শরীরটা ভালো নেই তাই ওনার খাবার মালিয়া খান রুমে পাঠিয়ে দিয়েছে।

প্রায় পাঁচ মিনিটের মাথায় তানভীর মেখে নিয়ে নিচে নেমে আসলো। ত্রিধা চেয়ার টেনে বসলো।

চেয়ারের ভাষায় শব্দে আহিয়ান ওদিকে তাকালো তৃষা চোখে চোখে হতে ত্রিধা চোখ নামিয়ে নিল।

আহিয়ান লক্ষ করলো মেয়েটা নাকের ডগা লাল হয়ে আছে। চোখের পাতা হালকা ফোলা চারিদিকের পরিবেশ মাথায় আসতেই আহিয়ান আবার খাবারে মনোযোগ দিল।

মে তৃধার প্লেটে খাবার দিতে দিতে বলল কি হয়েছে মা তোর?

তৃধা কিছু হয়নি ফুপি।

ঠিক তখনই মোজাম্মেল খান বলে উঠল ত্রিধা রানী কে বাড়ি ফেরার পর থেকেই দেখা যায়নি কেন।

সে কি এই সাতদিনের এই বুকে ভুলে গেছে। তৃধা বলল না দাদু অনেকদূর রাস্তা জার্নি করে এসেছি তো তাই টায়ার্ড হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

ওর কথা শুনে আদি উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল এখন ঠিক আছিস।

ত্রিধা ছোট করে জবাব দিল জি

এদিকে আহিয়ার ফোনে বারবার অন্য নাম্বার থেকে টেক্সট আসছে। বড়দের সাথে থাকায় ফোনের উপর সে বিরক্ত হলো।

অতঃপর ফোন সাইলেন্ট করে রাখলো।

ধীরে ধীরে সকলের খাওয়া প্রায় শেষ।

একে একে উঠে যেতে লাগলো সকলে, আহিয়ানো হাত ধুতে চলে গেল বেসিনে। ফিরে এসে দেখলে সবাই চলে গেছে। তৃধা একা একা বসে খাবারের প্লেটে আঙ্গুল ঘুরাচ্ছে

সরু চোখে আহিয়ান কিছুক্ষণ তাকালো।

ওর তাকানো থেকে ত্রিধা ভাবলে হয়তো কিছু বলবে কিন্তু না আহিয়ান কিছু না বলে টেবিলের উপর থেকে ফোন নিয়ে চলে গেল।

ফিদা এই ঘটনার নিস্তব্ধ। হয়ে চেয়ে রইলো আহিয়ানের যাওয়ার পথে।

তারপর বিরক্তিতে খাবারসহ প্লেটে হাত ধুয়ে হনহন করে চলে গেল নিজের রুমের দিকে রুমে ঢোকার সময় এক নজর তাকালো আহিয়েনের রুমের দিকে

রুমের দরজা ভেতর থেকে নক করা তারপর চলে গেল নিজের রুমে।

এখানে আহিয়া উবুর হয়ে শুয়ে মেসেজগুলো সিন করছি মেসেজ দেখে যা মনে হল আননোন নাম্বার থেকে আসা মেসেজগুলো রিহানের।

আহিয়া মুচকি হে রিপ্লাই দিল হ্যালো।

রিয়ান কি খবর তোমার এতক্ষণ কই ছিলি মেসেজের রিপ্লাই দাও না কেন।

আহিয়া রিলাক্স রিহান এতক্ষণ নিচে ছিলাম সবার সাথে।

তাই রিপ্লাই দিতে পারিনি।

রিহান উফ বাঁচালে আর একটু হলে তো আমি অক্কা পেতাম আমি তো ভেবেছি বাড়ি এসে আমাকে ভুলে গেছো।

আহিয়া একটা হাসির ইমোজি দিল তারপর বলল এত প্যানিক করার কিছু নেই।

আমি আপনার গার্লফ্রেন্ড না রীহান যে একদিন কথা না হলে মরে যাবে।

রেহান গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা না বললে বুঝি মানুষ মরে যায়।

আহিয়া না মরে যাওয়ার ভান ধরে।

রিহান তাহলে মনে করে এই মুহূর্তে আমিও তাই করছি।

আহিয়া কেন আমি কি আপনার গার্লফ্রেন্ড হই।

রিহান অফকোর্স হোয়াই নট।

আহিয়া একটু চমকে উঠে বলল রিহান এবার কিন্তু একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে

রিয়ান এবার কয়েকটা হাসির ইমুজি দিয়ে বললে আরে রেগে যাচ্ছ কেন রাগিনী আচ্ছা তুমি বলো গাল মানে মেয়ে ফ্রেন্ড মনে বন্ধ। গার্লফ্রেন্ড মানে দাঁড়ায় মেয়ে বন্ধু।

তুমি তো আমার মেয়ে বন্ধু আমি কি কিছু ভুল বললাম।

আহিয়া এবার চুপচাপ সে জানে গার্লফ্রেন্ড পানি মেয়ে বন্ধু কিন্তু তখনকার কথাটা অন্য মাইন্ডে বলেছিল।

যাইহোক আহিয়া আবার রিহানকে টেক্সট লিখলো ভুল বলেননি।

রিয়ান ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি দেওয়া ইমোজি দিয়ে বলল এখন থেকে তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড।

মানে মেয়ে বন্ধু সংক্ষেপে জিএফ।

আহিয়া জিহানের চালাকি বুঝিয়ে বললো হয়েছে হয়েছে আমাকে এত জ্ঞান দিতে হবে না আমি যথেষ্ট শিক্ষিত।। ওর কথা শুনে রিয়ান আবারো হাসির ইমোজি পাঠালো।

আজ শুক্রবার সকাল সকালই বাড়ির মেয়ে বগুড়া উঠে পড়েছে ফজরের নামাজ আদায় করে সংসারের কাজে হাত লাগিয়েছে মালিয়া খান আকলিমা খান হালিমা খান এখন আর তেমন কিসিনের দিকে আসে না বয়সের ভার তাদের ক্লান্ত করে তুলেছে।

নিশ্চিন্তে থাকা আর একটা বড় কারণ হল তিন বউ দক্ষ হতে পুরো সংসারটা সামনে রেখেছে।

আবির ও আদি দেশে ফেরার পর আলী হামিদ খান কর্মজীবন থেকে অবগতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবিরের করা নিষেধ তার বাবা যেন আর অফিসে না যায় সারা জীবন তো অনেক করলে সকলের জন্য এখন তার বিশ্রামের পালা।

মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান কেউ একই কথা বলছে কিন্তু তারা শুনতে নারাজ যতদিন করতে পারি করি যখন আর কাজ করতে ইচ্ছে হবে না

তখন না হয় একেবারে জন্য বিশ্রাম নেব।

উনাদের কারো সিদ্ধান্তের উপর আবির্ জোর করনি।

সকাল আটটার দিকে সবাই উপস্থিত হলো নাস্তার টেবিলে কিন্তু সকলের মাঝে আহিয়ান কোথাও নেই।

তৃধা এক নজর লক্ষ্য করে নিজের খাবারের মনোযোগ দিল আর মনে মনে ভাবল আহিয়ান ভাই এখন এমন করছেন তো দেখবো আর কিছুদিন পর আসেন নাকি আমার সাথে ভাব জমাতে।

তখন আমি একটুও কথা বলবো না।

তখনই সিঁড়ি থেকে কারো নামার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে । ত্রিধা চোখ তুলে তাকাল দেখল আহিয়ান নাম

আরিয়ান নেমে এসে চেয়ার টেনে বসতেই তৃধার চোখে চোখাচোখি হল।

সে খাওয়া-দাওয়া মনোযোগ দিল।

কিন্তু ত্রিধা এখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আহিয়ানের দিকে। আহিয়ানের চোখ মুখের দিকে এক রাতে মানুষটার চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে গেছে

উনি কি সারারাত ঘুমায়নি তৃধার ভাবনার মাঝে আবির আরেকটা পরোটা তুলে দিল।

ধ্যান ভাঙতেই বড় পাপার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে খাওয়া শুরু করে দিল।

দেখতে দেখতে দুপুর গরে এলো বাড়ির সকল পুরুষ নামাজ পড়তে গেল

আহিয়াকে অনেকগুলো টেক্সট করেছি ইতিমধ্যে।

আহিয়া বলেছে যখন সে রুমে থাকবে সে নিজেই টেক্সট করবে কিন্তু রিহের কোন কথা শুনছে না।

আহিয়া সকলের সামনে থাকলে তার রিপ্লাই দিতে পারে না সেটা নিয়ে আবার রেহানের অভিমান।

এদিকে ভাবতে ভাবতে ত্রিধার মাথাব্যথা হয়ে গেছে।

কি হলো তার আহিয়ান ভাইয়ের সাজেকের সাত দিন তো মানুষটা সুন্দর প্রাণ বন্ধু ছিল।

তাকে কত কি আর করত কিন্তু বাড়ি ফেরার পর মনে হচ্ছে এটা অন্য অন্য এক মানুষ তৃধাকে কখনো দেখেনি

কেন এমন করছে সেটা ভাবতে ভাবতে পুরো ঘর পায়চারি করছি এমন সময় সিদ্ধান্ত নিলে সে জিসানকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করবে কেন এরকম করছে।

কিন্তু কিভাবে বলবে? কি বলবে কি থেকে শুরু করবে সেটা ভাবতে ভাবতে ত্রিধার মাথাব্যথা আরো বেড়ে গেল।

আজকাল আহিয়ান ভাইয়ের গম্ভীর মুখের দিকে তাকালে মনে সাহস যোগাতে পারে না কিছুই।

তাই ভাবনার পরিবর্তন করল ছুটে গেল পাশের রুমে আহিয়ার কাছে।

আহিয়া শুয়ে ফোন স্কল করছে, ত্রিধা দেখে উঠে বসলো।

তৃধা এগিয়ে গিয়ে বোনের সাথে বেশ ভাব জামালো

বারবার এ নিয়ে বিনিয়ে জিজ্ঞাসা করল আহিয়ান ভাইয়ের কিছু হয়েছে নাকি।

কিন্তু আহিয়ার কথা শুনে বোঝা গেল সে কিছুই জানে না।

তাই কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে তৃধা রানি হতাশ হয়ে নিজের রুমে ফিরে গেল।

দুপুরটা যেন আপন মায়ায় ঘুম পাড়িয়ে রাখে চারিপাশটাকে মাথার উপর প্রখর রোদ আগুনের মত ঝলসে পড়ছে।

অথচ ঘরের ভেতর জানালার ফাঁক দিয়ে আশা আলোটা হয়েছে শান্ত ও নরম।

চারিপাশ ফাঁকা মানুষজন দুপুরের কাজ সেরে আহার করে হয়তো বিশ্রামে গেছে।

পাখিরা চুপচাপ হয়ত কোনো ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

দূর থেকে কয়েকটা কাকে শোনা যাচ্ছে।

ফ্যানের ঘূর্ণায়মান শব্দে ঘরের ভেতর এক অলস আবহা।

এই শান্ত আধঘুম জরানো দুপুরে।

তৃধা পা টিপে টিপে ঢুকলো আহিয়ানের ঘরে।

নরম পদক্ষেপে মেঝেতে যেন কোন শব্দ না হয়।

মুখে মিষ্টি হাসি চোখে কোন এক রহস্যের ঝিলিক

মনে হল দুপুরের এক ঘেনি নতুন কিছু রহস্য ঘুরতে চলেছে।

তৃধা চুপচাপ এগিয়ে গেলে বিছানার দিকে।

আহিয়ান বিছানায় শুয়ে মনোযোগ সহকারে ফোনে কিছু একটা দেখছে।

তৃধা মিষ্টি কন্ঠে বলল আহিয়ান ভাই

তৃধা ডাক শুনে আহিয়ান মাথা তুলে চাইলো।

দেখলে ওর সামনে তৃধা গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে

তা দেখে আহিয়ান উঠে বসলো।

আহিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল কিছু বলবি।

ত্রিধা মানে আহিয়ান ভাই।

ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই আহিয়ান কর্কট সরে বলল কিছু বলার না থাকলে এ রুমে আসছিস কেন

তৃধা মাথা নিচু করে বলল বলার আছে।

আহিয়ান কি?

ত্রিধা আপনার কি মন খারাপ? এত চুপচাপ আছেন যে

তৃধার কথায় আহিয়ান রেগে বললো সেই কৈফিয়ৎ তোকে দিতে হবে।

আহিয়ানের কথায় ত্রিধার ছোট্ট দেহটা কেঁপে উঠল।

তারপরও মেয়েটা হার মারলো না মনে সাহস যুগিয়ে বলল আমি কি কোন ভুল করেছি বলুন না প্লিজ।

আহিয়ান এইতো সমস্যা কি কয়েকটা দিন ভালো ব্যবহার করেছি বলে মাথায় চড়ে বসেছিস।

আর তুই কি আমার এত প্রশ্ন করার মামাতো বোন আছে সেখানে স্টপ যা পার্সোনাল কেউ হতে আসবে না।

আহিয়ানের মুখে এমন কর্কট ব্যবহার শুনে ত্রিধা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

ওর হাত পা থর থর করে কাঁপছে কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।

একটা সাধারণ প্রশ্নের জন্য এতগুলো কথা।

শুনতে হবে তা কখনো ভেবে দেখেনি তৃধা।

চোখ থেকে টপটপ করে পানি গাল বেয়ে ঝরে পড়ছে

সুন্দর মুখশ্রী লাল টকটকে হয়ে গেছে আহিয়ান এক পলক সেদিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

তারপর আবারও ধমকেশ্বরে বলল।

Leave the room this instant

তৃধা ওর ধমকে নিচের দিকে তাকিয়ে জোরে ফুপিয়ে উঠলো।

আহিয়ান ত্রিধান নরম তুলতুলে হাতটা শক্ত করে ধরে

তেরে দরজার বাইরে নিয়ে গেল তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললো নেক্সট টাইম তোকে এই রুমের আশেপাশে যেন না দেখি।

বলেই হাত ছেড়ে দিয়ে রুমের দরজা ঠাস করে ভিতর থেকে আটকে দিল।

তৃধা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না সেখানে কাঁপা পায়ে নিজের রুমের দিকে দৌড়ে গিয়ে দরজা লক করে দিল।

মেয়েটা মুখে বালিশ গুজে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল।

কান্নার শব্দের মুহূর্তে পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠেছে।

কান্নার দাপটে ছোট মেয়ের শরীরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে।

পাশের রুম থেকে পাষাণ মানুষটাকে শুনতে পেল ওর কান্না হয়তো হ্যাঁ আবার হয়তো না।

আজকে আহিয়ান ভাই তৃধার কাচের মত স্বচ্ছ মনটা গুরু গুরু করে দিয়েছে

তৃধার কান্না কমে আসতে কাঁপা কন্ঠে একা একাই বলল।

আমি আর কখনো যাব না আপনার কাছে ভুলে যাবো কয়েকদিনের অতিথি হয়ে কেউ একজন এসেছিল আমার জীবনে।

আপনি চাইলেও আর আমাকে পাবেন না আপনার এরকম ব্যবহারের জন্য কোনদিন আমি আপনাকে ক্ষমা করব না।

কোনদিনও না বলেই তৃধা আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল।

আস্তে আস্তে সময় গড়িয়ে রাত এলো আজকেও আর তৃধাকে খাবার টেবিলের আশেপাশে দেখা গেল না।

এবার আর তানভীর রাখা গেল না বন্যা হয়ে গেল সাথে

একদিন দুইদিন পরপর মেয়ের কি হয় বাবা-মা হিসেবে তারা তাদেরও জানা জরুরি অবশ্যই।

অবশ্যই তাদের জানা দরকার।

তানভীর পর পর দরজায় কয়েকবার নক করল কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ নেই। এবার জোরে জোরে কয়েকটা ডাক দিল

প্রায় দশ মিনিট পর তৃধা দরজা খুলল।

দরজা খুলতে তানভীর বন্যার ভেতরে ঢুকলো।

দেখল মেয়ের রুম পুরোটাই এলোমেলো মনে হয় মেয়ে ইচ্ছে করে নষ্ট করেছে সব।

এমন একটা ভান ধরে আছে মনে হয় এতক্ষণ সে ঘুমিয়ে ছিল পাপা ডাক দেওয়ার সাথে

ফ্রেশ হয়ে এসে দরজা খুলেছে তানভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পুরো রুমটা দেখতে লাগলো। তারপর মেয়ের দিকে তাকালো পুরো মুখ লাল হয়ে আছে।

বন্যা মেয়ের দিকে ছোট ছোট চোখে তাকালো তারপর জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে তোর কান্না করছিস কেন

তৃধা চুপ করে রইল কোন উত্তর না দেয়ায় বন্যা রেগে ধমক দিয়ে বলল আমি তোকে কিছু বলছি কি হয় তোর দুইদিন পরপর?

তৃধা মায়ের ভয়ে পাপার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো

তানভীর বন্যা কি ইশারায় থামিয়ে দিল।

তারপর মেয়েকে নিয়ে বিছানার কোণে বসল মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল কি হয়েছে মা।

তৃধা চুপ করে রইল। তা দেখে তানভীর ধৈর্য সহকারে বলল। ত্রিধা তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে আমাদের দুজনের পৃথিবী তুই তোকে ছাড়া আমরা দুজনেই নিঃস্ব আমরাই তোর মা বাবা আমরাই তোর বন্ধু। মনের কি কথা চেপে রেখেছিস বল মা।

তোর সকল সমস্যার সমাধান আমরা দিব তুই একবার মুখ খুলে বলেই দেখতো।

সামনে তোর পরীক্ষা এভাবে চললে তো তুই ফেল করবি মা।

ত্রিধা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে পাপাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিল।। ওর কান্নায় তানভীর ও বন্যা দুজনেই আতঙ্কিত।

মেয়ের কান্না দেখে বন্যার বুক ভারি হয়ে আসলো টলমল চোখনি মেয়ের কাছে এসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।

তানভীর মেয়ের কপালে আলতো চুমু দিল।

তারপর জিজ্ঞাসা করল কি হয়েছে মা তোর আমাদের কি বলা যায় না।

আমার কিছু ভালো লাগছে না পাপ আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে আমি এই বাড়িতে থাকব না এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।

আমাকে কয়েকদিনের জন্য অন্য কোথাও পাঠিয়ে দাও

তানভীর মলিন হেসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল কিন্তু তোমার কেন ভালো লাগছে না।

আমরা তো গতকালই সাতদিন বের হয়ে আসলাম এখন তুমি কোথায় যেতে চাও। আমি জানিনা পাপা আমার সত্যিই কিছু ভালো লাগছে না।

ভাইয়া তৃধাকে বরং আমার সাথে নিয়ে যাই

কয়েকদিন আমার সাথে থাকুক মেয়েটা।

হঠাৎ সবাই মিমের কন্ঠে ওদিকে ফিরে তাকালো দেখলো মিম দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বন্যা ভাবভঙ্গিতে বলল কিন্তু মিম কয়দিন পর তো মেয়েটার পরীক্ষা।

এইতো সাতদিন কলেজ মিস গেল এখন আবার তোমার সাথে গেলে পড়াশোনা অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে মিম হালকা এসে সামনে এসে বলল বউ মনি।

ওর জামা কাপড়ের সাথে বইপত্র গুছিয়ে দিও ।

সেখান থেকে জুই এর সাথে কলেজে যাবে আর সন্ধ্যা বেলায় গ্রুপ স্টোরি করতে পারবে আমি ওর খেয়াল রাখবো একটু অযত্ন হতে দিব না। তানভীর এবার বললে ঠিক আছে ওকে নিয়ে যাস।

তৃধার মনে হয় এখন একটু কান্না কমলো, ওর মনে ভীষণ অভিমান জমেছে।

ছোট থেকে মেয়েটা খুব আদরে বড় হয়েছে

যেখানে মায়ের অল্প কথাতেই চোখের পানি আসে সেখানেই প্রিয় মানুষটার এতগুলো কথা তৃধা মেনে নিতে পারছে না।

তানভীর এবার মেয়ের উদ্দেশ্যে গলা থেকে বলল এবার খুশি তো চলো এবার খেতে চলো।

তুমি খেয়ে উপরে এসে আমাকে খাইয়ে দিয়ে যাইও আমি এখন নিচে যেয়ে খাব না।

বন্যা আবার হালকা কন্ঠে বলল তোর তো সব আবদার মেনে নেওয়া হল তাহলে এবার নিচে যাবি না কেন।

তানভীর বন্যাকে থামিয়ে দিয়ে মেয়ের উদ্দেশ্যে বলল ঠিক আছে মাম্মা আমি তোমাকে খাইয়ে দিয়ে যাব।

তানভীর উঠে যেতে যেতে মিমও বন্যার উদ্দেশ্যে বলল নিচে খেতে যেতে।

মিম এবার বলল আমি তো আহিয়ানকে ডাকতে এসেছি। এখানে তোমাদের কথা শুনে থেমে গেলাম তোমরা যাও আমি ওকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছি।

তারপর সকলে চলে গেল শুধু ত্রিধা মন খারাপ করে চুপচাপ নিজের ঘরে রয়ে গেল। আহিয়ান ভাই দেশে ফিরেছে দশ দিন এই দশদিনে মানুষটা কেমন জানি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মনে হয় কয়েক ঘন্টা দেখা না হলে মনের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়।

ত্রিধা ব্যালকনিতে গিয়ে তাকিয়ে রইল দূর ওই অন্ধকার আকাশের দিকে।

আকাশের চাঁদ নেই কথাটা ভাবতেই মনে পেরো গেলে দুই তিন দিন আগের স্মৃতি।

সেদিন আকাশে চাঁদ ছিল চারিপাশে জোনাকি পোকার ভিড় ছিল আর ছিল সবচেয়ে প্রিয় আহিয়ান ভাই। আজ আকাশে চাঁদ নেই জোনাকি পোকা নেই সাথে আহিয়ান ভাই ও নেই।

বিষয়টা ভাবতে বুকের ভেতরটা কেমন জানি মুছরে উঠলো।

তানভীর বন্যা আহিয়ান মিম নিচে গিয়ে দেখল কেউ এখনো খেতে বসেনি তাদের অপেক্ষায় আছে। তাই তারা তাড়াতাড়ি করে চেয়ার টেনে খেতে বসল আবির তানভীর এর উদ্দেশ্যে বলল কিরে মেয়ে কই। নিচে এখন খেতে আসতে চাইছে না আমি ওকে উপরে গিয়ে খাইয়ে আসবো।

আবির এবার চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল শরীর ঠিক আছে তো নিচে কেন খেতে আসবে না।

তানভীর খানিকটা হেসে বলল আমার পাগলি মেয়েটার মন ভালো নেই তাই নিচে খেতে আসবে না

এবার পাশ থেকে গম্ভীর কন্ঠে মুখ খুললেন আলী আহমেদ খান কি হয়েছে ত্রিধা রানীর।

তানভীর বড় আব্বু তুমি তো ওকে চেনো কখন কি বলে ঠিক নেই।

মন মত কিছু না হলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তাতো জানি এখন কি হয়েছে মহারানীর।

হঠাৎ করে বলছে ওর নাকি এ বাড়িতে ভালো লাগছে না।

ও আবার অন্য কোথাও বেড়াতে যেতে চায়।

তাই মীম বলছিল আগামীকালকে যাবার সময় ওকে ওর সঙ্গে নিয়ে যাবে তা তুমি কি বলো বড় আব্বু।

ওর কথা শুনে মুহূর্তে আহিয়ান মাথায় তুলে তাকায় কিন্তু কিছু বলল না।

খাওয়াই মনোযোগ দিতে চাইলো কিন্তু মুখ থেকে ব্যাথা তো এই শব্দ করতেই। পাশ থেকে মেঘ এগিয়ে এসে ছেলের হাতে দেখলে ডান হাতের আঙ্গুলগুলো অনেকখানি কেটে গেছে।

মেঘের মায়ের মন মুহুর্তে আশ্চর্য কন্ঠে বলল তোর কি হয়েছে বাবা।

এতটা কাটলো কিভাবে। মেঘের আতঙ্কিত কন্ঠ শুনে সকলেই দৃষ্টি ঘোরালো।

আহিয়ান নিজের হাতটাকে লুকানোর ভঙ্গিতে বলে এমনি মাম্মা তেমন কিছু হয়নি।

বাইকে ছোটখাটো একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে।

আবির চিন্তিত কণ্ঠের ছেলেকে প্রশ্ন করল শরীরের আর কোথাও ব্যথা পেয়েছে।

আবির তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এক পলক ছেলের দিকে তাকালো আবির জানে তার যৌবনকালের সকল অভ্যাস তার ছেলের মধ্যে বিদ্যমান।

তাই সবাই এই হাত কাটাটাকে স্বাভাবিক মনে করে নিলেও আবির এখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্পষ্ট না।

মেঘ আদুরী ভঙ্গিতে ছেলের মুখে খাবার তুলে দিল কিন্তু ওর হাত দেখে সবাই চিন্তিত।

আহিয়ানের এক্সিডেন্টের কথা শুনে কিচেন থেকে বেরিয়ে এলো মিম বন্যা রাই।

বন্যা এগিয়ে এসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল।

হাতটা ড্রেসিং করাস নি কেন বাবা? খেয়ে নে তারপর মামনি ড্রেসিং করিয়ে দিব।

আহিয়ান মুখটা থমথমে করে বলল তেমন কিছু হয়নি মামনি তুমি এত চিন্তা করিও না।

আবির কিছু একটা ভেবে তানভীর এর উদ্দেশ্যে বলল। ত্রিধা হঠাৎ করে মেয়েদের বাড়িতে বেড়াতে যাবে কেন।

তানভীর বললো ভাইয়া ওর নাকি এ বাড়িতে ভালো লাগছে না।

এবার পাশ থেকে আলি আহমেদ খান বলল যেতে চাই যাক না।

সমস্যা কি কয়েক দিন হয় ওখান থেকেই কলেজ করবে।

আহিয়ান চুপচাপ থেকে সকলের কথা শুনে তারপর মায়ের উদ্দেশ্যে বলল অনেক খেয়েছি আম্মু আর খাব না পেট ভরে গেছে।

মেঘ ওকে আরেকটু খাওয়ানোর জন্য জোর করল কিন্তু আহিয়ানার খেলোনা উঠে চলে গেল নিজের রুমের দিকে।

এতক্ষণ চুপচাপ করে থাকা আরিফ হঠাৎ বলল ভাইয়া তৃধা আমাদের সাথে দেখা যাবে কেন আহিয়া যা ক দু বোন একসাথে থাকবে।

আবির কিছু বলার আগে আহিয়া বলল না চাচ্চু তৃধা তো ওখানে গিয়ে কলেজে যাবে কোচিংয়ে যাবে তাছাড়া ত্রিধার সাথে জুইও যাবে

আমার একা একা ভালো লাগবে না।

আমি এখানেই থাকি, তৃধা বরং ঘুরে আসুক।

আহিয়ার কথা শুনে আর কেউ কিছু বলল না একা একা সকল পুরুষেরা খাওয়া শেষে উঠে গেল এখন বাড়ির সকল মেয়ে বউরা খেতে বসলো বন্যার চোখে মুখে চিন্তা দেখে মেঘ জিজ্ঞাসা করল।

কি হয়েছে বন্যা।

বন্যা বলল আজকাল মেয়েটাকে নিয়ে খুব বেশি চিনতে হয় সামনের মাসে পরীক্ষা কিন্তু মেয়েটার সেদিকে কোন হেলদোল নেই।

পাশে চেয়ার থেকে রাই খেতে খেতে বলল চিন্তা করিও না তো ভাবি।

তৃধা ভালো ছাত্রী দেখো খান বাড়ির মুখ উজ্জ্বল করবে। এবার মালিয়া খান আকলিমা খান হালিমা খানসহ সকলেই বন্যা কে সান্ত্বনা দিল। চিন্তা করতে বারণ করল।

এই মেয়ে এই অধম তাকে ছেড়ে বারবার কই যাও তুমি রেহানের মেসেজ দেখে ঘরে আহিয়া একাই খেলছিলি হেসে উঠলো

তারপর মেসেজের রিপ্লাই এ লিখল আপাতত কোথাও যাচ্ছে না কিন্তু খুব শীঘ্রই যাচ্ছি

রিহান এবার তোমাকে একেবারে জন্য যেতে আমি কিছুতেই দিচ্ছি না

আহিয়া ও তাই

রিহান জি ম্যাডাম।

আহিয়া তাহলে কি করবেন জানতে পারি।

রিহান মৃদু হেসে বলল সেটা সময় আসলে জানতে পারবে।

আসলে আবার হাসলো টাইপ করতে করতে রিহানের আরেকটা মেসেজ আসলো আজকাল আহিয়ানের কি হয়েছে বলতো আজ সারাদিন ওকে ফোনে পাইনি।

আহিয়া কিবোর্ড এর আগের মেসেজটি কাটিয়ে আবার উত্তর দিল ভাইয়া মনে হয় ছোটখাটো বাইক এক্সিডেন্ট করেছে একটা হাতে ব্যথা পেয়েছে একটু।

রিহান কি বলছে এসব? এখন কি অবস্থা

ভালো কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ভাইয়ের মিথ্যা বলছে।

রিহান এমন কেন মনে হল তোমার।

আহিয়া ভাইয়া তো কিছু একটা লুকাচ্ছে যা আমরা কেউই জানিনা।

রিহান ওকে বল কল রিসিভ করতে।

আহিয়া আপনার কি মাথা ঠিক আছে।

রিহান আমার তো মনে হচ্ছে মাথা আমার ঠিকই আছে তুমি কি বলো।

ঠিক নেই।

আহিয়া একটুও ঠিক নেই যদি ঠিকঠাক তো তাহলে এমন আজব কথা বলতেন না।

ওর কথা শুনে রিহান কয়েকটা হাসির মুভি পাঠালো

গভীর রাত চারিদিকে শুনশান নীরবতা, দূর থেকে ভেসে আসছে কয়েকটা নেড়ি কুকুরের ডাক।

পুরো খান বাড়ির ডুবে আছে নিস্তব্ধতায়।

তৃধা এখনো মন খারাপ করে বিছানার এপাশ ওপাশ করছে।

সে জানে না আহিয়ানকে দেখার জন্য কেন সে এত ছটফট করে হৃদয় ব্যাকুল হয়ে যায়। আজকাল আহিয়ান এর কঠোর কথা কলিজায় লাগে।

কিন্তু আগে তো এরকম হত না আহিয়ান ভাইয়ের ছোটবেলা থেকেই ত্রিধাকে থাপ্পড় মারতো কথায় কথায় ধমক দিত আগে তো এরকম লাগত না তবে এখন কেন এই মানুষটা এই দশ দিনে কি জাদু করেছে তৃধা তা জানে না।

তবে একটা কথা সত্যি এখন ওকে ছাড়া নিঃশ্বাস নেওয়া কষ্ট।

সেই দুপুর থেকে মেয়েটা কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছি বারবার অবুঝ মনটাকে বোঝাচ্ছে।

আহিয়ান ভাইয়ের সাথে আর মিশবে না কিন্তু ওর মনটা যে বড্ড অবুঝ।

মন সেটা বুঝতে চায় না ঘড়ির কাটায় তখন রাত দুইটা ত্রিধা এখনো ঘুম নেই।। বারবার মনে হচ্ছে দীর্ঘ 12 ঘন্টা কেটে গেছে। আহিয়ান ভাইয়ের মুখশ্রী টা দেখা হয় না।

নিজের মনটাকে বোঝাতে না পেরে উঠে বসলো।

ধক ধক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে ছুটল নিজের মনের খিদে মেটাতে।

চাপানো দরজাটা আলতো করে ছুঁয়ে দিতেই খুলে গেল

ত্রিধা নিঃশব্দে এগিয়ে গেল সামনে অন্ধকারে ড্রিম লাইফটার মৃদু আলোতে দেখা যাচ্ছে আহিয়ান ভাই কাত হয়ে শুয়ে আছে।

হাতে সাদা ব্যান্ডেজ করা ব্যান্ডেজ গুলো দেখা মাত্রই তৃধা বুক কেঁপে উঠল।

কারো কাছে ধরা পড়া চিন্তা করলো না

নুপুর পায়ে রিমিঝিমি শব্দে দৌড়ে গেল তার আহিয়ান ভাইয়ের কাছে।

ব্যান্ডেজ করা হাতটা আলতো করে ধরে ত্রিধা কেঁদে দিল।

ত্রিধা চুপচাপ আহিয়ানের হাতে কয়েকবার

ঠোট ছোয়ালো।

আহিয়ান হালকা নড়ে উঠলো তৃধা তখনো ওর হাতের উপরে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে

তৃধা দেখলো।

নরে চড়ে আবার ঘুমিয়ে গেল।

তৃধা এবার চোখ তুলে তাকায়।

আহিয়ানের ঘুমন্ত মুখের দিকে কি নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখ মানুষটার ঘুমন্ত মুখের দিকে দেখলে বোঝা যায় না সে এত গম্ভীর ও রাগি প্রকৃতির লোক।

তৃধা আর শিয়ালের আঙ্গুলগুলো ধরে আলতো কন্ঠে আস্তে আস্তে বলল সরি আহিয়ান ভাই।

আপনি বলেছিলেন আপনার রুমে আর আসতে না কিন্তু আমি আমার নিজের মনকে বোঝাতে পারিনি

কিন্তু প্রমিস করছি আমি আগামীকাল চলে যাব আপনার থেকে অনেক দূরে আমি আর আপনাকে জ্বালাতে আসবো না।।

কেউ ঘ্যানঘ্যান করে আপনার মাথা খাবেনা আমি সত্যিই চলে যাব অতঃপর কান্না করা অবস্থায় তো অবস্থায় আহিয়ানের কাটা হাতে আরো কয়েকবার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে হাঁটা দিল নিজের রুমের দিকে।

তৃধা বেরিয়ে যাওয়ার দুই মিনিটের মাথায় আহিয়ান উঠে বসলো।

নিজের ব্যান্ডেজ করা হাতটাকে।

কয়েকবার আলতো করে ছুঁয়ে দিল।

অতঃপর কিছু একটা ভেবে আহিয়ান নিজের মাথায় চুলগুলোকে খামচে ধরে ঘনঘন দীর্ঘ শেষে টেবিলের উপর থেকে এক গ্লাস পানি ঢক ঢক করে খেলে।

সে অনুভব করতে পারছে তার প্রিয়সির হৃদয়ের ব্যাকুলতা কিন্তু সে তো নিরুপায়।

বর্তমানে সামান্য কষ্ট টুকু যদি দুজন সহ্য করতে না পারে তাহলে ভবিষ্যত্ত কষ্টকর হয়ে যাবে।

ভবিষ্যতে আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে তারা একেবারে আলাদা হয়ে যাওয়ার থেকে খানিকক্ষণের জন্য আলাদা থাকা শ্রেয়।

আহিয়ান বিছানা থেকে নেমে বেলকুনিতে গিয়ে দাঁড়ালো ত্রিধার অশ্রু ভেজে হাতটা এখনো তার বুকের বা পাশে রাখা বুকের ধুকু পুক শব্দটা যেন আজকের দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। আহিয়ান হাত দিয়ে চেপে ধরে আছে তবুও থামাতে পারছে না শব্দটা।

এই শব্দটার সাথে সে অনেক আগে থেকেই পরিচিত প্রিয় মানুষের সঙ্গ পেলেই হবার কথা।

কিন্তু আজ ধুকপুকু নি টা বেড়েছে প্রিয় মানুষটাকে হারানোর ভয় আর কোন সুখের অনুভূতি হচ্ছে না

ব্যথা যে হৃদয় ছিড়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা থাকলে হৃদপিণ্ডটাকে শরীর থেকে আলাদা করে সরিয়ে রাখত কষ্টের সময়।

কিন্তু তা কি আর মানুষের সাধ্য আছে।

তারপর অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল হে আল্লাহ তুমি আমার দোকারানির কষ্টটা কমিয়ে দাও

তার কষ্ট যে আমার হৃদয়টা ছিড়ে যাচ্ছে বলেই ছেলেটা ধপ করে হাটু করে ফ্লোরে বসে পড়ল।

কথায় আছে ছেলেদের কাঁদতে নেই তারা

সব সময় সকল সমস্যার সমাধান করতে জন্মায়।

প্রিয় মানুষটার সুখ খুঁজতে ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে।

কষ্টগুলো যদি দেখানো যেত তাহলে একটা মেয়ে বসত তার প্রিয়তম কতটা কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

মেয়েরা তো কাঁদতে পারে কাঁদতে কাঁদতে বলতে পারে তাদের সকল সমস্যার কথা কিন্তু ছেলেরা তা পারে না।।

এদের মত আহিয়ানরা কাঁদতে পারে না।

নিজের প্রিয়শী কে সুখে থাকার চিন্তা ভবিষ্যৎ কেরিয়ার ও বাবা-মায়ের স্বপ্ন সবকিছু মিলিয়ে ভেবে পা ফেলতে হয়।

আহিয়ান কিছুক্ষণ বসে রইল অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে।

দূর থেকে ভেসে আসছে ফজরের আযানের শব্দ।

চারিপাশে তাড়াতাড়ি সকাল হওয়ার পাঁয়তারা কিন্তু আহিয়ান চায় আজকের রাতটা আজকের রাতটা একটু দীর্ঘ হোক। তার প্রিয় মানুষটা আর একটু থাকুক তার পাশের রুমে।

সকাল হলেই তো বোকা মেয়েটা ছেড়ে চলে যাওয়ার পায়তারা যোগাবে।

কিন্তু প্রকৃত তো তার নিয়মেই চলে তাকে থামানোর ক্ষমতা কি কোন সাধারণ মানবের আছে।

আহিয়ান উঠে রুমে এল তারপর ফ্রেশ হয় ফরজরের নামাজের জন্য বের হলো।

নিচে আসতে দেখা হল পাপা মামা, দাদু ও চাচ্চুর সাথে।

আহিয়ান গলা খেড়ি দিয়ে নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে ওদের সাথে ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।

ফজরের আযানের ধনী ভেসে আসতেই নিস্তব্ধ রাতের বুক চিরে বের হয় নতুন সকালের সূচনা।

মসজিদের মিনার থেকে দেশে আসে মধুর সুরে কন্ঠ।

আযান যেন পুরো পরিবেশ থেকে পবিত্র ময় করে তোলে।

চারিদিকে তখনও অন্ধকার কিন্তু আকাশের এক কিনারায় নীলচে আভা ভেসে উঠতে শুরু করেছে।

খান বাড়ির কিছু কিছু ঘরে বাতি জ্বলেছে, সকালে নামাজ পড়ে কোরআন তেলাওয়াতের সুর গড়ে তুলে প্রশান্তী।

ধীরে ধীরে পূর্ব আকাশের আলো রেখা ঘন হতে থাকে একে একে পাখিগুলো ঢেকে ওঠে শালিক ময়না টিয়া টুনটুনি শিশির ভেজা ঘাসের সূর্যের প্রথম কিরণ পরেছে মুক্তোর মত ঝলমল করে উঠলো চারিপাশ।

বাতাসে ভেসে আসা ভিযে মাটির গন্ধ। ফুলের সুবাস আর হালকা শীতলতা।

ফজরের আজানের পর থেকে পুরো আলো ছড়িয়ে পড়ার সময়টুকু শুধু দিন শুরু সূচনা না শান্তি ও পবিত্রতা আর নতুন উদ্যমের প্রতীক।

পুরুষরা নামাজ পড়ে এসে দেখল বাড়ির বউরা নামাজ শেষ করে পিছনে সকালের নাস্তার করার আয়োজনে ব্যস্ত দেখাচ্ছে ।

আহিয়ান এক পলক নিজের মা ও মামনি কাকি মনির দিকে দেখে নিজের রুমের দিকে যাওয়া শুরু করলো।

কিন্তু হঠাৎ নিজের রুমের দিকে যেতেই পা থেমে গেল দরজাটা আধ খোলা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটা।

আহিয়ান বাইরে থেকে লক্ষ্য করল ত্রিধার লম্বা চুল গুলো ফুলার ছুঁয়েছে গেছে।

মেয়েটা বিছানা এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে পুরো বিছানার চাদার এলোমেলো।

বিচারের অবস্থা দেখে বোঝাই যায় যে সে কতটা নীরব কন্নার সাক্ষী ।

মেয়েটা হয়তো কান্নাকাটি করে কিছুক্ষণ আগেই ঘুমিয়েছি চটফটি বাকি প্রহর করেছে তার প্রমাণ বিদ্যমান করছে তার রুমে।

আহিয়ান নিজের রুমে যেতে চাইলো পারলো না।

নিঃশব্দে ঢুকে পড়লো তৃধার রুমে চুলগুলো হাতের মুঠোয় পেচিয়ে বিছানায় তুলে রাখলো কিন্তু মাথা যেহেতু খাটের কোণে তাই বারবার ফ্লোরি লাগছে।

তাই আহিয়ান এবার তৃধা কে কোলে তুলে সোজা করে সুইয়ে দিল।

তারপর ওর পাশে বসে হাতটা আলতো করে ধরে কপালে ঠোঁটের উষ্ণ স্পষ্ট ঠেকালো প্রিয়সির হাতটা যত্ন করে আগলে রেখে বলল সরি জান পাখি।

পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিস প্লিজ আমি কখনোই চাইনি তোকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিতে।

কিন্তু আমার কিছু করার নেই। এই কষ্ট কিছুই না সামনে তোর জন্য আরো ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।

আমি তোর পাশে থাকব না নিজেকে সামলে নি স

কখনো খুব বেশি রাগ হলে যত ইচ্ছা বকা দিস কিন্তু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করিস না।

যদি কখনো ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করিস তো তোকে মেরে তোর পাশের কবরে আমি ঘুমাবো। তোর বাপ বলিস পারলে ঠেকাবে।

আহিয়ান যে মুহূর্তে উঠে বেরিয়ে যাবে ঠিক তখন

ত্রিধা আহিয়ানের হাতটা খামছি দিয়ে ধরে ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে বলল।

আমার আহিয়ান ভাইকে লাগবে কেউ এনে দাও তরে আমার শুধু আহিয়ান ভাই কেই লাগবে লাগবে লাগবে

আহিয়ান চোখ তুলে তাকালে তার বোকা রানির দিকে

কি মায়া মায়া চেহারা গোলাপি ফোলা ফোলা ঠোঁট দুটো বেশি নজর কাটছে।

আরিয়ান চোখ নামিয়ে নিল তারপর কিছু একটা ভেবে

ত্রিধা ঠোঁটে শক্ত একটা চুমু দিয়ে। হনহন করে চলে গেলেন নিজের রুমে।

ঘুমের মধ্যে ঠোঁটে নরম স্পর্শ পেয়ে মেয়েটা নড়ে উঠলো, তারপর ঘুরে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

সকাল আটটা খান ভাই ডাইনিং টেবিলে সবাই উপস্থিত মিম আর আরিফ আজকে চলে যাবে।

সাথে যাবে ত্রিধা তাছাড়া ছুটিতে থাকা প্রতিটি লোক নিজে নিজের কর্মস্থলে যোগ দিবে আজ থেকে।

তানভীর আরিফ আদি আবির মোজাম্মেল খান ইকবাল খান সবাই একসাথে রেডি হয়ে নিচে নেমেছে।

এক সময় ত্রিধা ও আহিয়া নিচে এসে বসলো

তা দেখে ঊষা মহা খুশি।

তাদের সাথে তাদের বাড়িতে তৃধা আপু যাচ্ছে শুনে

কিন্তু আদিবার মন খারাপ বারবার বলছে আমার আপু তুমি নিবে কেন।

আমার আপুকে আমি দিব না এসব বলে সকাল থেকে গাল ফুলিয়ে আছে।

মিমরা চলে যাবে তাই মেঘ বন্যা ও রাই বাহারি রকমের রান্নার আয়োজন করেছে।

সকালের নাস্তা করতে করতে আরিফ বলল আহিয়ান কে দেখতে পাচ্ছি না কেন।

এই কথা শুনে আবির বলল ফজরের নামাজ পড়ে আসার সময় বলল রাতে ঘুমটা নাকি ভালো হয়নি তাই বোধহয় ঘুমাচ্ছে।

আবিরের প্লেটে একটা পরোটা তুলে দিতে দিতে মেঘ বলল ঘুমা ছেলেটা পড়ালেখা যখন আবার শুরু করবে তখন আবার ব্যস্ততার মধ্যে পড়ে যাবে।

অনেক রাত করে ঘুমোনো আবার ফজরের সাথে উঠে যাওয়া। ছেলেটা যতদিন দেশে আছে রেস্ট করুক।

তানভীর খেতে খেতে মাথা নাড়িয়ে বলল বোনু ঠিক বলেছ

তৃধা চুপচাপ খাচ্ছি কিন্তু সে খুব করে চেয়েছিল আহিয়ান ভাইয়ের সাথে একবার দেখা হয়ে যাবে একটু পরেই তো সে চলে যাবে।

কিন্তু মানুষটা এলোনা।

বেলা 9 টা আরিফ বারবার মিমকে তাড়া দিচ্ছে রেডি হতে। সে মূলত মিম দের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবে।

তার খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে মিম ও ঊষা রেডি হয়ে এসে নিচে সবার থেকে বিদায় নিতে শুরু করল এদিকে শিড়ি বেয়ে চুপচাপ সিঁড়িবে নেমে এলো ত্রিধা

তার পরনের আহিয়ানের দেওয়া একটা বোরখা।

সেও এসে সকলের থেকে বিদায় নিল আর বারবার তাকাচ্ছে সিঁড়ির দিকে।

যদি মানুষটা একবার নামে যদি মানুষের সাথে একবার দেখা হয়ে যায় কিন্তু পাষাণ মানুষটা নামলো না।

কি ধরনের বুক ভেসে যাচ্ছে কান্নায়।

মেঘ ও বন্যা তা লক্ষ্য করল। বন্যা কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিল মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে মেয়েকে অনেক কিছু বোঝালো দুষ্টুমি করতে নিষেধ করল।

মিমের কথা শুনে চলতে বলল বন্যা এসে বলল কয়দিনের জন্য বেড়াতে যাচ্ছিস আমরা কি তোর বিয়ে দিয়ে দিচ্ছি নাকি।

এত কান্নার কি আছে সেখানে ভালো না লাগলে আবার চলে আসবে।

তৃধার খুব করে বলতে ইচ্ছে করলো খুবই তোমার ছেলেটাকে আমাকে দিয়ে দাও না।

আমি তাকে যত্ন করে আগলে রাখব কোনদিন তার কষ্টের কারণ হব না।

কিন্তু এটা কি আর মুখে বলার কথা এই কথা কি আর কোনদিন মুখে বলা হবে।

রাই এগিয়ে এসে বলল এত কান্নাকাটি করে যাওয়ার কি তা তোরে ছাড়া বাড়ি ফাঁকা ফাঁকা লাগে

তৃধা এবার মৃদু হাসলো এখনো আহিয়ান কে দেখা যাচ্ছে না তাই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে গাড়ির দিকে।

গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত ত্রিধা বারবার তৃতীয় বেলকনি দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু কেউ নেই। মিমে ডাকে চুপচাপ গাড়িতে বসলো

মুহূর্তে গাড়িটা বেরিয়ে গেল খান বাড়ি থেকে খান বাড়ির ছাদ থেকে একজোড়া চোখ করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ত্রিধার যাওয়ার পানে।

অপলক দৃষ্টিতে দেখল তার পাগলিটা কতবার তাকিয়েছে তৃতীয় তালার ব্যালকনির দিকে।

আহিয়ান একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো ভিতরে যে কতটা তোলপাড় হচ্ছে তা কি তার পাগলিটা জানে।

আর কোনদিন জানবেও না আজকে মিম ফুপি যেন তৃধাকে নয় তার কলিজাকে ছিড়ে নিয়ে গেল।

আহিয়ান আকাশের পানে চেয়ে কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর আনমনে গেয়ে উঠলো

এলোমেলো ঝড় এ বুকে কিছুতেই থামেনা।

কমে না তবু ভালোবাসা।

অ মেঘে মেঘে ঢাকা দুচোখ আশার রোদ উঠে না।

কাটে না ধোয়া ধোয়া কুয়াশা।

বুকে ব্যথা জাগে লেখা এ কোন কাহিনী।

কাছে এসে কেন কাছে আসতে পারিনি।

আমি আজও বুঝিনি আমি আজও বুঝিনি।

ছেলেটা হঠাৎ লক্ষ্য করলো, না চাইতেও কয়েক ফোঁটা পানি বেয়ে গালবে পড়লো উত্তপ্ত ছাদের মেঝেতে।

মুহূর্তেই তার শুকিয়ে গেল আচ্ছা কষ্টগুলো কেন এভাবে ভ্যানিশ হয় না।

তাহলে তো প্রতিটি মানুষের সুখই থাকতো কারো কোন কষ্ট থাকতো না।

বেলা 11 টা আবীর বারো বছর পর পা রেখেছি অফিসে।

সেটা দেখে সকল কর্মচারীরা মহা খুশি।

এখানকার কেউ কেউ আছে অনেক পুরনো তারা কোম্পানি শুরু থেকে এখানেই কাজ করছে।

তবে তারা ছাড়া নতুনরাও তাকে চিনে আবিরের সাথে ভিডিও কলে ওদের কনফারেন্স হয়েছে অনেকবার।

তাছাড়া আবিরের অফিস রুমটা এখনো ফাঁকা দেশে যাওয়ার পর রাকিব কিংবা রাসেল কেউ ওই রুমে ভাগ বসায়নি।

ওখানে রয়েছে আবিরের যুবক কালের অনেক ছবি

মেয়ে স্টাফদের

বহুদিনের শখ এই লোকটাকে বাস্তবে একবার দেখার

আজ যখন শুনতে পেরেছে আবির দেশে ফিরেছে এবং আজ অফিসে আসছে।

তখন তারা সকলেই আবীরকে অব্যর্থনা জানানোর জন্য ব্যবস্থা করল।

কেউ কেউ ওর গলায় ফুলের মালা তুলে দিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করল আবার কেউবা ফুলের তোরা হাতে দিয়ে অভ্যর্থনা জানালো।

মেয়েদের এমন করার কারণ আবেদনের পার্সোনালিটি ও হ্যান্ডসামনেস।

তাকে দেখে বোঝাই যায় না তার বড় বড় দুইটা ছেলে মেয়ে আছে।

এখনো আগের মত স্ট্রং এবং হ্যান্ডসাম।

এই শ্যাম কালো পুরুষটিকে দেখে এখনো মেয়েরা , ক্রাশ খায়। মেয়েরা সব থেকে বেশি ক্রাশ খায় আবিরের অ্যাটিটিউড পার্সোনালিটির উপর।

এই যে কিছুক্ষণ আগে কালো সানগ্লাস পড়ে অ্যাটিটিউড নিয়ে অফিসে ঢুকলো তাকে দেখে ১০০ মেয়ে উষ্টা খাওয়ার মতন।

আদিও আবির সকালে গেছিল বাবার অফিসে।

আবির সেখানে আদিকে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়ে চলে এসেছি নিজের অফিসে।

আজ থেকে আদি সেখানকার সব দেখাশোনা করবে।

তাছাড়া ওকে হেল্প করার জন্য মোজাম্মেল খান তো আছেই।

বিশেষ প্রিয়জন ছাড়া আবিরা সেখানে যাবে না।

রাকিবো রাসেল মিলে আগে থেকেই লোক দিয়ে ওর কেবিন কে পরিষ্কার করে রেখেছে।

আবির্ কেবিনে ঢুকে সর্বপ্রথম নজর গেল। সামনের দেওয়ালে পেন্টিং করে লেখা ডি উপর

সে হাত দিয়ে পুরো ডি টাকে ছুঁয়ে মৃত্যু হাসলো।

তারপর একা একা চোখ বুঝলাম। পুরো কেবিন এখনো আগের মতই আছে বন্ধুরা সামান্যতম পরিবর্তনও করেনি এমন বিশ্বস্ত বন্ধু পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার।

দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়ে বিকেল এলো ত্রিধা সকালে এসেছে মিমদের বাসায় কাল থেকে জুইএর সাথে কলেজে যাবে।

সকাল থেকে বাড়ির মানুষদের সাথে মিম ফুপির ফোন দিয়ে অনেকবার কথা হয়েছে।

কিন্তু তার কাঙ্খিত মানুষের কণ্ঠস্বরটা একবারের জন্য শুনতে পাইনি।

আহিয়া কে এ নিয়ে বিনিয়ে অনেক কিছু জিজ্ঞাসা করেছে কিন্তু আহিয়া

কিছুই বুঝতে পারেনি। তাই তার থেকে আশা অনুরূপ কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

তৃধা মন খারাপ করে ছাদে দাঁড়িয়ে আছে হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন এসে জড়িয়ে ধরল।

ভয় তৃধা চিৎকার দিল পরে পিছন ফিরে দেখলে জুই এসেছে।

ত্রিধা সকালে এসে তুই কে পায়নি।

সে কলেজে ছিল।

কলেজ থেকে ফিরে তৃধা আসার কথা শুনে ছুটে এসেছে ছাদে।

তার পরনে এখনো কলেজের ইউনিফর। ত্রিধা জুইকে ছাড়িয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল হঠাৎ করে এভাবে সে ধরলি কেন।

আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।

আমি তো তোকে ভয় পাওয়ানোর জন্যই ধরেছি।

ত্রিধা জুয়ের একটা বেনুনি টান দিব। বলল

কলেজ ছুটি হয়েছে কখন তুই এখন আসলি কেন। জুই একটু লাজুক ভঙ্গিতে গদু মধু হয়ে বলল জানিস।

আমাদের কলেজের লাইব্রেরীতে কাজ করে মেহেদী আছে না ও আজকে আমাকে প্রপোজ করেছে।

তৃধা অবাক হয়ে তাকালো তারপর আশ্চর্য কন্ঠে বলল

ওই যে চশমা পরা বোকা ছেলেটা

ওর কথা শুনে জুই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো ওকে একদম বোকা বলবি না। এখন থেকে মেহেদী আমার বয়ফ্রেন্ড ওকে আমার ভীষণ ভালো লাগে।

তাই একসেপ্ট করে নিছি

তৃধা এবার চোখ ছোট ছোট করে বলল ওই বোকা ছেলেটাকে।

জুই দৃয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল হ্যাঁ ওই বোকা ছেলেটাকে।

তাছাড়াও কোন দিক দিয়ে খারাপ মেহেদি শিক্ষিত দেখতে ভালো যথেষ্ট লম্বা গায়ের রং শ্যাম কাল অবশ্যই এতে আমার কোন সমস্যা নেই।

আর রইল তোর চোখে বোকা হোক বোকা। অত চালাক ছেলে দিয়ে আমি কি করবো

তাকে কি ইন্টারন্যাশনাল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাঠাবো তাছাড়া চালাক ছেলেরা প্রেম করে ধোকা দেয় আমার এমন চকলেট বয় প্লে বয় এর প্রয়োজন নেই।

আমার তাই বোকা ছেলেটাকেই ভালো লাগে সত্যি বলতে ও মোটেও বোকা না।

শুধু সে কথা কম বলে চুপচাপ থাকে তার এই ভদ্র বোনটাকে আমার বেশ ভালো লাগে।।

, তৃধা মনোযোগ দিয়ে সকল কথাগুলো শুনলো সে জানে ভালবাসা কখনো চেহারা বাহিরে সৌন্দর্য দিয়ে হয় না সেটা এমনিতেই হয়ে যায় কোন কারণ ছাড়াই কোন নিয়ম ছাড়াই।

সে তো শুধু জুইয়ের মন পরীক্ষা করার জন্য বলেছিল

সেও তো একজনকে ভালোবাসে হ্যাঁ ভালোবাসে।

সেটা আর অস্বীকার করার মত কিছু নেই গত একদিনে সে বুঝেছে আহিয়ান ভাইকে কতখানি ভালবাসে।

কখন কিভাবে কি হয়ে গেল তা সে নিজেও জানেনা।

ছোটবেলা থেকেই তো আহিয়ান ভাইকে দেখলে অনেক রাগ হত মানুষটার সুযোগ পেলে থাপ্পর দিত ধমক দিত।

তখন তো এ অনুভূতি কাজ করত না তার প্রতি।

কিন্তু এবার দেশে ফেরার পর কিশোরীর মনে আহিয়ান ভাইকে নিয়ে অন্যরকম আবেগ কাজ করা শুরু করেছে।

মানুষটার সামনে এলেই বক্ষপিঞ্জরে থাকার হৃদপিন্ড এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি করে।

আর কয়েক মুহূর্ত দেখা না হলে নিঃশ্বাসটা যেন বন্ধ হয়ে যায়।

যেমন আজ দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতিকে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ওর ভাবনার মাঝে জুই অকপটে বলে উঠল জানিস বান্ধবী মেহেদী কি আমার আগে থেকেই খুব ভালো লাগতো।

ছেলেটা কখনো কারো দিকে মাথা তুলেও তাকায় না।

কিন্তু আজ যখন পিছন থেকে আমায় ডেকে উঠল ওর ডাক শুনে আমার হৃদস্পন্দন থমকে গেছিল।

আমি কখনো ভাবি নি ও আমাকে সরাসরি একটা ফোন নাম্বার দিয়ে বলবে আপনাকে আমার ভীষণ ভালো লাগে।

আমাকে যদি আপনার সামান্য টুকু একটু ভালো লাগে তো ফোন দিয়ে যোগাযোগ করবেন।

মেহেদী পুরো কথা নিচের দিকে তাকিয়ে বলেছে।

আমি তাকিয়েছিলাম মন অতো মস্তিষ্কের দিকে।

যখন ফোন নাম্বারটা নিলাম ছেলেটা আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না সোজা ঢুকে গেলেও দোকানের ভিতরে।। মাঝে মাঝে কেন জানি আমার মনে হয় এই ছেলেটার মধ্যে আলাদা কিছু আছে।

যার কারনে ওকে আমার সকলের থেকে আলাদা মনে হয়।

তৃধা জুইয়ের হাসি খুশী মুখের পানে চেয়ে আছে ওকে দেখে ওর কষ্ট কমে এসেছে।

তখনই শোনা গেল জুয়ের আম্মু জান্নাতকে ডাকছে।

জুঁই কলেজ থেকে ফিরে এখনো ইউনিফর্ম টা চেঞ্জ করেনি। মূল্য তো তোর ডাকার কারণ এটাই মায়ের ভয়ের জুই তৃধাকে ছাদে রেখে দৌড়ে গেল নিচে।

আর সবসময় চঞ্চল থাকা মেয়েটাও চুপ করে আকাশের পানে চেয়ে বসে রইল।

দুইদিন হয়ে গেল হাসতে ইচ্ছে করেনা যদি একবার আহিয়ান ভাইকে দেখতে পেতাম তাহলে মনটা বুঝি শান্ত হত।

মুখটা ভারী হয়ে গেছে। কষ্টে

মন বারবার ব্যাকুল হয়ে ছুটে যাচ্ছে খান বাড়িতে।

কিন্তু সেখানেও তো আহিয়ান ভাইয়ের কথা বলবে না।

গিয়ে বা লাভ কি গতকাল থেকে এত কেঁদেছে তাই বুকটা একটু ভারী হয়ে আছে।

চোখে তার বহি প্রকাশ ঘটলো না।

তৃধা চোখ বন্ধ করে কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস নিল।

সত্যি বলতে এখন তার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

কিন্তু এত কান্নাকাটি করে এসেছে এখন কি করে বলবে সে চলে যেতে চায়।

তাই নিজের পরিস্থিতি কারো সাথে শেয়ার না করে চুপ করে আছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে part 18-23 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন