আমি কিছু করছি না বসে আছি তোমরা সবাই চলে যাওয়ায় আমার বাড়িটা ফাঁকা হয়ে গেছে
এই কথা শুনে ঊষা আদরে সঙ্গীতে বলল তুমি কষ্ট পেয়ো না নানু ভাই আমরা আবার যাব আজকে বাবাই বাড়ি আসলে বাবাইকে বলবো আবার যেতে।
আলী আহমেদ খান হেসে উঠলেন ওর কথা শুনে তারপর বলল আমার বড় বউ কই।
এই কথা শুনে ঊষা হাত নাড়িয়ে অভিমানী কণ্ঠে বললো বড় বউকে নানু ভাই।
তুমি কি আবারো বিয়ে করেছ।
এই কথা শুনে আলি আহমেদ খান আবারও হেসে উঠলেন তারপর বললেন তোমার তৃধা আপু কই।
উসা এবার বুঝদারের মত বলল ও ত্রিধা আপু আপু তো বড় আপুর সাথে পড়তে বসেছে।
দাঁড়াও আমি নিয়ে যাচ্ছি।
বলতে বলতেই উসা ছুটে গেল জুইয়ের রুমের দিকে।
কিচেন থেকে মিম বলছে আসতে যাও ঊষা। কিন্তু সে কোন দিকে না তাকিয়ে ছুটে গেলেও ত্রিধার কাছে।
ত্রিধা জুইয়ের সাথে গ্রুপ স্টাডি করছে।
ঊষা দৌড়ে আসতে দেখে চেয়ার থেকে উঠে উষাকে জড়িয়ে ধরল। ঊষা
খিলখিলিয়ে হেসে বলল আপু নানু ভাই কল দিয়েছে।
কথাটা কর্ণ কুহলীতে পৌঁছাতে ত্রিধা তরিৎ করে ফোনটা হাতে নিল।
দেখলি স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে তার বড় দাদুর মুখ।
আসসালামু আলাইকুম বড় দাদু
আলি আহমেদ খান ওয়ালাইকুম সালাম তুমি তো বেড়াতে গিয়ে ভুলেই গেছো এই বুড়োটাকে।
মোটেও না বড় দাদু আমি তোমাদের সবাইকে খুব মিস করছি।
আলি আহমেদ তাহলে এই বুড়োটাকে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেলে কেন।
এই কথা শুনতেই তৃধার হালকা শুকনো ঘাটা দগদগে হয়ে গেল।
ওনাকে নালিশ করতে ইচ্ছে করছে তোমার নাতির উপর রাগ করেই তো বাড়ি ছাড়তে হলো।
তোমার নাতির যন্ত্রণায় তো আর বাড়িতে থাকতে পারলাম না।
কিন্তু এই নিয়ে কিছু না বলে মৃদু হেসে জবাব দিল দু একদিন থেকে চলে যাব তোমরা মন খারাপ করিও না।
তারপর তৃধা বললো
বাড়ির সবাই কই।
আলী আহমেদ খান হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া একে একে সকলের নাম বললো।
কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি রয়েছে।
এখন সে কি করে কি করে বলবে আমার আহিয়ান ভাই কই?
বলতে পারল না নিরাশ মুখে মায়ের সাথে কথা বলতে চাইলো। ইতিমধ্যে নিচে নেমেছে তানভীর মেয়ের কথা শুনেই তানভীর বড় আপুর হাত থেকে ফোনটা নিল।
মেয়ের আদরের মুখখানা দেখার পর সারা দিনের ক্লান্তির স্বস্তি মেলে।
একে একে সকলেই কথা বলল ত্রিধারা সাথে।
তবুও তার অশান্ত মন শান্ত হচ্ছে না।
তার ছটফটানি যেন বেড়েই চলেছে তবুও সে মন খারাপ করে ফোন কেটে দিল।
পাশের টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি তুলে ঢকঢক করে খেয়ে নিল।
বুকের ভেতরটা কেমন জ্বলে যাচ্ছে।
বক্ষ পিঞ্জরে কি রকম হাহাকার এই ঠান্ডা শীতল পানি কি সে হাহাকার কমাতে পারবে।
তা জানে না কিশোরী তৃধা।
তবুও তার চেষ্টার কমতি রইল না।
এদিকে দুই এক বৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ত্রিধার মুখের পানে।
হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটাকে কখনো সে এভাবে মুখ লুকাতে দেখেনি।
কিন্তু কলেজ থেকে আসার পর থেকেই দেখছি তৃধার একটা মলিন হয়ে আছে।
কিছু একটা নিয়ে সে খুবই চিন্তিত।
বিকাল থেকে মেয়েটার মুখে এক ফোঁটা হাসির রেখা দেখেনি।
জুই কিছুক্ষণ আনমনে তাকিয়ে রইল ত্রিধার দিকে।
অতঃপর জিজ্ঞাস করল কি হয়েছে তোর কি ব্যাপার কি লুকাচ্ছিস আমার থেকে।
তৃধা কিছু জবাব না দিয়ে মুখের ভঙ্গি স্বাভাবিক করে পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করল।
জুই ওর হাতটা ধরে ওর দিকে ফিরে বলল কি হয়েছে তোর সাজেকে তো এরকম ছিলিনা।
বাড়ি ফেরার পর থেকে দেখছি মুখটা তোর মলিন হয়ে আছে। কি হয়েছে বল প্লিজ। তৃধা
মাথা নিচু করে তাকিয়ে রইল।
হালকা করে পলক ফেলতে ওর চোখ থেকে গরে বলল কয়েক ফোঁটা পানি।
যে সঙ্গে সঙ্গে আতকে উঠে ওর চোখের পানি মুছে দিল তারপর উঠে গিয়ে দরজাটা ভিতর থেকে লক করে দিল।
তৃধা এখন নিরবে চোখের পানি ফেলছে।
জুঁই এগিয়ে এসে আবারো বসলো ওর পাশে।
জোর করে মুখ টা উঁচু করল।
অকপটে তৃধার কানা বেড়ে গেল ।
মেয়েটার হেঁচকি তুলে তুলে কাটছে, নাকটা লাল হয়ে আছে জুই আবারও বললো কি হয়েছে বলবি তো নাকি
কেউ কিছু বলেছে এবার আহিয়ানের বোকা রানী নিজেকে আর সামলাতে পারল না।
জুইকে জাপটে ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগলো।
জুই বার বার জানতে চাওয়ায় ত্রিধা কান্না রত কন্ঠে বলল।
আ আমি আমি ওনাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু উনি আমাকে ভালোবাসে না।
বলে আবার কান্নায় ভেঙ্গে পরল ।
জুই হঠাৎ করে এমন কথা শুনে খানিকটা ভরকে গেছে
তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে তৃধাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বসালো।
তারপর এক হাতে ত্রিধার থুতনি ধরে মুখ সোজা করে বলল কাকে ভালবাসিস তুই।
আর তোর মত মিষ্টি মেয়েকে কে রিজেক্ট করল।
তৃধা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল আ আহিয়ান ভাই।
জুইয়ের মাথায় মনে হয় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে।
নিজের কান কে সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না।
সে আবার জিজ্ঞাসা করলো কাকে।
তৃধা এবার স্থির কন্ঠে বলল।
আমি আহিয়ান ভাই কে ভালবাসি ভীষণ ভালোবাসি।
ওই পাষাণ বদমেজাজি রক্ত চোষা বাঁদরটাকে না পেলে আমি নিজেকে শেষ করতে দুই মিনিট ভাববো না।
জুঁই আঁতকে উঠে মৃদু চিৎকার দিয়ে বলল। তৃধা তুই কি পাগল হয়ে গেছিস?
আহিয়ান ভাই তোর ভাই হয় তোদের গায়ে একে বংশের রক্ত।
তৃধা এবার গর্জে উঠে বলল হ্যাঁ পাগল হয়ে গেছি।
আমি সত্যিই পাগল হয়ে গেছি আর রইল বংশের রক্তের কথা হোক না এক বংশের রক্ত।
কিন্তু উনি তো আমার আপন মায়ের পেটের ভাই না উনি আমার ফুফাতো ভাই।
তাকে বিয়ে করা আমাদের ধর্মে জায়েজ আছে।
জুঁই বুঝতে পারল দিদার অনেক হাইপার হয়ে গেছে।
তাই শান্ত করে বলল সবই ঠিক আছে কিন্তু ভাইয়াকে তোকে পছন্দ করে। তৃধা আবার নীরব স্থির হয়ে গেল কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে থেকে বলল আমি জানিনা।
সাজেকের সাত দিন আমি এক অন্য আহিয়ানকে দেখেছি। কিন্তু বাড়ি এসে আমি আর তাকে চিনতে পারছিনা।
আর উনি যদি আমার সাথে এত বিরক্ত হয় তাহলে ওখানে আমার সাথে এভাবে মিশলো কেন।
কে বলেছিল ওনাকে আমার সাথে এভাবে মিশতে আমি বলেছিলাম আমার সাথে এভাবে মিশেন।
এর আগে তো তার জন্য আমার মনে কোন প্রকার কোন অনুভূতি ছিল না। এই ৭ দিনে যে উনি আমার মনের রাজত্বের রাজত্ব করেছে।
জুঁই ওর কথা শুনে কয়েক মিনিট ভাবল কিন্তু ওর মাথায় যে কিছুই ঢুকছে না।
ত্রিধাকে আবার প্রশ্ন করল আহিয়ান ভাই কি সত্যিই তোর অনুভূতি গুলো বুঝতেছেনা দয়া করে বুঝিয়ে বল উনি কি তোকে কিছু বলেছে।
মানে বাড়ি ফেরার পর কি কিছু হয়েছে?
তারপর ত্রিধা জুইকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু খুলে বলল।
তাকে সেদিন দুষ্টু ছেলেদের হাত থেকে সেভ করা।
তাকে এতগুলো বোরখা কিনে দেওয়া ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে লাল শাড়ি পড়তে বলা।
পূর্ণিমার রাতে চন্দ্র বিলাস করতে নিয়ে যাওয়া।
কানে ভুল বুঝে দেওয়া থেকে শুরু করে একে একে সব জুইকে খুলে বললো।
জুঁই চুপচাপ সবকিছু শুনল তারপর ভাবুক ভঙ্গিতে বলল সব তো ঠিকই।
আর ওনার আচরণ এই বলছে উনি তোকে পছন্দ করে তাহলে সমস্যা কোথায়।
তৃদা আবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল কান্না শুনে বলল সেদিন সাজেক থেকে ফিরে আসা থেকে উনি আমার সাথে কথা বলছে না।
গোটা একটা দিন অপেক্ষা করে গতকাল জুমার নামাজ পড়ে আসার পর ওনার রুমে গেছিলাম।
উনি রুমে শুয়ে ছিলেন।
আমি জানতে চাইলাম আমি কোন ভুল করেছি কিনা কিন্তু উনি আমায় অপমান করে আমার হাত ধরে ওনার রুম থেকে বের করে দিল।
তোর মত আমিও প্রথমেই ভেবেছিলাম উনি আমাকে ভালোবাসে।
এমনকি ওনার ব্যবহারই উনার প্রতি ভালো লাগাটা তীব্র হয়েছে।
কিন্তু উনি এখন আমার সাথে উল্টাপাল্টা আচরণ করছি ওনাকে দেখে মনে হচ্ছে উনি এখন আমাকে সহ্য করতেই পারছে না বলে
তৃধা হু হু করে আবার কেদে দিল।
ওর কান্না দেখে জুইও নিস্তব্ধ।
এই অল্প কয়েকদিনে কাউকে এতটা ভালোবাসা যায় সত্যি ভালোবাসা হচ্ছে মনের ব্যাপার কখন কার সাথে কোথায় মনের অদল বদল ঘটে যায় বোঝা মুশকিল।
জুঁই ওর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলল হয়তো উনি এখন কোন সমস্যায় আছে তাই তোকে এভোয়েড করছে।
এমন একটা সময় তোর বাড়ি ছেড়ে আসা উচিত হয়নি
হয়তো ওনার মাথা ঠান্ডা হলে তুই আবার কথা বলতে যেতি সব ঠিক হয়ে যেত।
কিন্তু তুই তো বোকার মতো বাড়ি ছেড়ে চলে আসলি।
এতে মনে হয় ওনার রাগটা আরো বেড়েছে।
জুইয়ের বিচক্ষণ ভঙ্গিতে কথা বলা দেখে ত্রিধা মাথা তুলে তাকালো।
এখন কেন জানি মনে হচ্ছে সে সত্যিই বোকা।
আহিয়ান ভাই হয়তো রাগে ওকে রুম থেকে বের করে দিয়েছে।
তাই বলে ওর বাড়ি ছেড়ে আসা উচিত হয়নি।
তাছাড়া তো এই মানুষটার রাগী বদমেজাজি গম্ভীর তা তো তার অজানা নয়।
আহিয়ান ভাইয়ের রাগ সম্পর্কে ওর ভালোই আইডিয়া আছে।
তার সাথে সাথে তৃধা এটাও জানে মানুষটা ভিতর থেকে নরম।
ছোটবেলায় আহিয়ানের খেলনা গাড়ি ভেঙে ফেলেছিল তাই নিয়ে আহিয়ান থাপ্পড় দিয়েছিল।
তা নিয়ে ত্রিধারানী কি কান্না যখন কেউ তার কান্না থামাতে পারছিল না।
তারপর আহিয়ান রুম থেকে আরও দুইটা খেলনা গাড়ি নিয়ে এসে বলল ভেঙে ফেলতে।
তৃধা কোন কিছু না ভেবে খেলনা দুটো ছুড়ে ফেলল ফ্লোরি মুহূর্তেই খেলনা দুটো ভেঙ্গে ভাগ ভাগ হয়ে গেছিল
সেটা দেখে আহিয়ান গটগট পায়ে উপরে চলে যায় ।
আর। তৃধা আহিয়ানকে আবারো রাগাতে পেরে এতক্ষণে হাসি দেখে খিলখিলিয়ে উঠছিল।
ছেলেটা যতই রাগী হোক নিজে কষ্ট পেলেও তৃধাকে হাসাতে চায় তার একটা বাস্তব প্রমাণ।
শৈশবের স্মৃতিগুলো মনে পড়তেই তৃধা কান্নার মাঝে আবার খিলখি দিয়ে হেসে উঠলো।
জুঁই অবাক ভঙ্গিতে বললো কিরে বোন এতক্ষণ ধরে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছিলি হঠাৎ আবার কি হলো ভূতে পাইছে নাকি।
ত্রিধা হাসতে হাসতে বলল আমারই ভুল হয়েছে যদি ওনার সাথে রাগ করে বাড়িছাড়া উচিত হয়নি।
আমি কালকেই বাড়ি চলে যাব।
তুই অবাক হয়ে বলল কাউকে কলেজ যাবি না।
তৃধা চঞ্চল ভঙ্গিতে বলল সাজেকে যাওয়ার জন্য এমনিতেই সাত দিন কলেজ বন্ধ দিয়েছি আর একদিন দিলে কিছুই হবে না আগামী পরশুদিন ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে আমি কলেজে যাব।
জুঁই বুঝদারের মত মাথা ঝাঁকিয়ে বলল আচ্ছা তাই করিস।
কিন্তু তৃধা আবার ভাবনায় মগ্ন হলো।
সেটা দেখে জুঁই কপাল কুঁচকে বলল কিরে তুই আবার কি ভাবছিস।
তৃধা এবার বলল অনেকদিন থেকে আহিয়ান ভাইয়ের সাথে কথা হয় না রে।
মন আনচান আনচান করছে ইচ্ছে করছে রাতে চলে যাই।
জুই কিছু একটা ভাবল তারপর বলল ফোন দে।
তৃধা মন খারাপ করে বলল কিন্তু উনি আমার ধরবে
জুই ওর মাথায় একটা হাট্রা মেরে বলল। তুই একটা আস্ত বলদ রং নাম্বার হয়ে ফোন দে এতে উনি তোকে চিনতেও পারবেনা আর তোর ও কথা বলা হয়ে যাবে।।
তৃহা জুইকে থ্যাংক ইউ থ্যাংক ইউ বলে জড়িয়ে ধরল।
মুহূর্তে একটু আগে কথা বলা ফোনটা হাতে নেবে তারপর ভাবুক ভঙ্গিতে বলল কিন্তু এই নাম্বার থেকে কল দিও তো উনি চিনে ফেলবে।
নিশ্চয় মিম ফুপি র নাম্বার ওনার সেভ করা।
তারপর জুঁই খানিকক্ষণ ভেবে বলল অপেক্ষা কর আমি আম্মুর ফোন নিয়ে আসি ।
বলেই জুঁই দরজা খুলে বের হয়ে গেল মায়ের রুমের উদ্দেশ্যে।।
ড্রয়িং রুমে যেতেই দেখল ওর দাদু মাহমুদা খান চা খাচ্ছে।
ওর আম্মু কাকি মনি কিচেনে রান্না করছে।
এক পল ক তাকিয়ে চলে গেল মায়ের রুমে, ফোনটা নিয়ে যথাসময়ে হাজির হলো ত্রিধার রুমে।
তৃধা ফোন হাতে পেয়ে যতটা খুশি তার থেকে বেশি নার্ভাস
হঠাৎ জুইয়ের গলাপেয়ে তৃধার ঘ্যান ভাঙল।
কিরে নাম্বারটা বল কল দেই।
তৃদা মুখ কাঁচামুচু করে বলল নাম্বার তো জানিনা।
জুঁই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল বিরক্ত হয়ে বলল নাম্বার ছাড়া কি দিয়ে কল দিবি। তৃধা খানিকক্ষণ
নিশ্চুপ হয়ে ভেবে উচ্চস্বরে বলল আইডিয়া।
জুই কি আইডিয়া।
তৃধা মিম ফুপির রফোনে আহিয়ান ভাইয়ের নাম্বার সেভ করা আছে।
আমরা সেখান থেকে নাম্বারটা হাইজ্যাক করব।
অবশেষে ওই ফোন থেকে নাম্বারটা তোলা হলো কিন্তু তৃধা কল দিতে সাহস পাচ্ছে না।
ইতিমধ্যে অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়েছে সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে।
তারপর দুরু দুরু বুকে কলটা দিয়ে দিল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রিসিভ হলো।
কল রিসিভ করে ফোনের অপার থেকে আহিয়ান ভাই সালাম দিয়েছে।
তারপর থেকে বারবার জিজ্ঞাসা করছে কে কে বলছেন।
তৃধা চুপচাপ করে থাকে তার প্রাণ ভোমরাটার কথা শুনে।
মুহূর্তে তার উত্তপ্ত হৃদয়ে শীতল বৃষ্টি নেমে এলো।
কিন্তু আর কতক্ষণ চুপ করে থাকবে।
মানুষটা এমনিতেই রেগে যদি অতিরিক্ত রেগে যায়।
রেগে ফোন কেটে দিলে সে তো আর ফোন রিসিভ করবে না তখন তো আরেক মুসিবতে পড়তে হবে।
তাই এখনই কিছু বলা উচি তৃদা কাঁপা কাঁপা আসসালামু আলাইকুম জান কেমন আছো। ফোনের ওপর থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর বেশি আসলো আমি ভালো আছি সোনা পাখি তুমি ভালো আছো। তৃধা
চোখ বড় বড় করে জুয়ের দিকে তাকালো ফোন লাউড স্পিকারে দেওয়া। জুইর চোয়াল ও হা হয়ে গেছে।
তারপর ত্রিধা নিজেকে সামলে নিয়ে আসতে করে বলল আমিও ভাল আছি জান শুধু তোমাকে একটু একটু মিস করছি।
আহিয়ান ও তাই বুঝি?
তৃধা হুম তাই।
আহিয়ান তাহলে আমি চলে আসি সোনা পাখি ?
তৃধা মুখ টিপে হেসে বলল এসো জান।
Missing you badly wish you were here right now .
আহিয়ান same here jaan... Every moment without you feels incomplete.
বাড়ির ঠিকানাটা একবার দাও।
তৃধা তো অবাক কন্ঠে বলল কি দিব?
আহিয়েন বাড়িতে যেন না দিলে কিভাবে আসবো জান
তুই তো নিজের কথাই নিজে ফেঁসে গেছে বুঝতে পেরে হু হু করে কেসে উঠলো।
তখনই ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে ভেসে আসলো ফুফুর বাড়ির ঠিকানা কিন্তু আমার চেনা আছে।
তুই কি এখন নিজে ফোনটা কাটবি নাকি আমি ওখানে গিয়ে তোর ফর্সা কালটাকে লাল করে দেব।
তৃধা ধরা পড়ে চলায় আমন্ত্রণ করে বলল সরি আহিয়ান ভাই পুরো কথা না বলতেই ফোনটাও দিক থেকে টুকটুক করে কেটে গেল।
তৃধা ও জুই বড় করে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে দুজনে হু হু করে হেসে উঠলো।
সকালের সূচনা মানে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস।
নতুন স্বপ্নের আলো রাতের আঁধার ভাঙ্গে।
সূর্যের নতুন কিরণ জামানায় অতীতের সব ক্লান্তি ভুলে।
নতুন সকাল শুরু করার সময় হয়ে গেছে।
তৃধা ভোর চারটায় ব্যাচ গুছিয়ে
বারবার জানালার বাইরে দেখছে কখন সূর্য উদয় হয়।
কখন সে বাড়ি ফিরে যাবে আগামীকাল রাতেই আরিফ ব চাচ্চুকে বলে রেখেছে সে বাড়ি ফিরতে চায়।
মিম জান্নাত আরিফা আসিফ অনেক বুঝেছে আর একটা দিন থেকে যেতে কিন্তু ত্রিধা নাছোড় বান্দা
ও সকালেই যাবে।
বারবার শুধু একটা কথাই বলছে আমার পাপার জন্য মন কেমন করছে আমি পাপার কাছে যাব।
আর সকাল সকাল না গেলে পাপা অফিসের জন্য বের হয়ে যাবে ওর কথায় সবাই হার মানল।
আরিফ তানভীরকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে তানভীর জানিয়েছে সকালে আস্তে ধীরে নিয়ে আসতে।
সে না হয় দুপুরে লাঞ্চ টাইমে বাড়ি এসে দেখা করে যাবে। যাই হোক এখন সকাল ৭:৩০ তৃধা কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছে।
আরিফ প্রতিদিনের নাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে একেবারে অফিসের জন্য রেডি হয়ে বের হয়।
যাওয়ার পথে, তৃধা কে খান বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাবে
তাছাড়া আবির অন্য একটা দরকারে খান বাড়িতে আরিফকে যেতে বলেছে। তৃধাকেও পৌঁছে দেওয়া হবে এই সুযোগে আবিরের সাথে দেখা করা হবে।
ত্রিধাকে মিম অনেক জোর করার পরও নাস্তার সময় কিছু খাওয়াতে পারল না।
সে শুধু ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে কখন সে বাড়ি পৌছাবে
কখন সে আহিয়ান ভাইকে এক নজর দেখবে।
জুঁই তৃধার কান্ড দেখে মিটি মিটি হাসছে।
এই মুহূর্তে কি কমেন্ট করা উচিত তা বুঝতে পারছে না জুই।
মেয়েটা সত্যিই পাগল খুব ভালোবাসে তার আহিয়ান ভাইকে।
এক সময় জুইও কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।
তৃধা কি ছুটি মুখে তুলনা, আরিফ রেডি হতে হতে ও সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিয়েছে।
আরিফ আস্তে আস্তে ও গাড়িতে গিয়ে বসে পড়েছে।
আজ রাস্তাটা শেষ হচ্ছে না কি জানি কি অজানা একটা ভয় কাজ করছে।
কখন সে বাড়িতে পৌঁছাবে সেই চিন্তায় যেন বিভোর ঠিক তখনই গাড়িটা থেমে গেল।
তৃধা হাসিমুখের বাইরে তাকালো ভাবলো বাড়ি চলে এসেছে কিন্তু না ট্র্যাফিক জ্যামে আটকা পড়েছে।
তৃধা খুব বিরক্ত হলো তেতো মুখে বিড়বিড় কইলো ধুর এখনো কি ট্রাফিক জ্যামে আটকা পড়তে হলো।
আর আধঘন্টা লাগলে কি এমন হতো ক্ষতি।
আরিফ পাশে থেকে কথাটা শুনে ফেলেছে বলল এখন অফিসে মামনি অফিস টাইমে রাস্তাঘাটে একটু জ্যাম থাকবেই। সবাই যে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি।
কি আর করার এবার তৃধা বুঝদারের মতো মাথা নাড়লো।
তা দেখে আরিফ মৃদু হাসলো। সে জানে মেয়েটা একদম তার মেক আপুর মতই হয়েছে।
আর হবেই না বা কেন রক্তের টান বলতে তো কিছু একটা আছে।
দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যে আমি আটকে থাকার পর গাড়িটি ছাড়লো খান বাড়ির পথ ধরে।
আশেপাশে নিজের বাড়ির রাস্তা দেখে তৃধার স্বস্তি, ফিরে আসে।
ঘড়ির কাঁটা নয়টা ত্রিশ মিনিট খান বাড়ির গেটে আরিফের গাড়িটি পৌঁছালো ত্রিধা দেখল বড় পাপার গাড়িটি বাড়ি থেকে বের হচ্ছে।
তৃধা কাঁচের জানালা ভেদ করে সেদিকে তাকালো, মনে মনে বলল বড় পাপা আজকে এত দেরিতে অফিস যাচ্ছে কেন ওনার শরীর ভালো আছে তো।
ভাবনার মাঝে গাড়িটি গেট পেরিয়ে বেরিয়ে গেল আর আরিফের গাড়িটি গেটের ভিতরে ঢুকলো।
বাড়ি ফিরতে ত্রিধার মুখে চমক ফুটে উঠলো অবশেষে সে বাড়ি ফিরেছে।।
আরিফ চাচ্চু গাড়ি থেকে নেমে ওর পাশে ডোর খুলে দিতে। আদলে নেমে আসলো গাড়ি থেকে।
তারপর আশেপাশে আর কোথাও তাকালে না, ছুটে দৌড় দিল বাড়ির দিকে।
সদর দরজা পেরিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়াচ্ছে শ্বাস নিচ্ছে ঘন ঘন।
কয়েকটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মাথার তুলে তাকালো ডাইনিং রুমের আশেপাশে।
উপস্থিত পরিস্থিতি দেখে তৃধার মাথা কেমন চক র
দিয়ে উঠলো।
কিছু বুঝে উঠতে না পেরে।
এগিয়ে গেল আরেকটু সামনের দিকে সামনে গিয়ে দেখল তার মেঘ ফুফি সহ বাড়ির বাকি মহিলারা চোখের পানি ফেলছে।
ফুপি যেন সকাল থেকে একটু বেশিই ভেঙ্গে পড়েছে।
আহিয়া পাস থেকে নিজের মাকে সামলাচ্ছি।
তাই তৃধা অন্য কারো কাছে না গিয়ে সোজা দাঁড়ায় ফফির সামনে।
সকলের অবস্থা দেখে ওর কেন জানি বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে আসছে।
কণ্ঠস্বর থেকে কথা বেরোচ্ছে না। তারপরও নিজেকে স্বাভাবিক করে।
কাপা কন্ঠে জিজ্ঞাস করল কি হয়েছে ফুপি।
তুমি কান্না করছো কেন?
কিন্তু সামনের মানুষটার মুখ থেকে কোন জবাব এলো না।
তারপর সবার উদ্দেশ্যে চেঁচিয়ে বলল আমাকে কেউ বলবে তোমাদের সকলের কি হয়েছে।
তোমরা সবাই কান্না করতেছ কেন?
ওর কথা শুনে আহিয়া এগিয়ে এসে বলল ভাইয়ের লন্ডনে ব্যাক করছে তাই। তাই সকলের মন অনেক খারাপ এই অদ্ভুত কথাটি কানে পড়তে তৃধা অবাক হয়ে চোখ তুলে তাকায় আহিয়ার দিকে।
ওর দৃষ্টি বলেই দিছে এই কথা মোটেও বিশ্বাস হয়নি তিধার।
তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বলল গতকাল রাতেই তো মানুষটার সাথে কথা হল এর মধ্যে কিভাবে কি?
তৃধা পুরো কথা শেষ করতে পারছে না মনে হচ্ছে কেউ গলা চেপে ধরেছে।
তৃধা অবিশ্বাস্য কথা শুনে আহিয়া বলল গতকাল রাতে বাড়ি ছিল একটু আগেই বের হল।
বাবা ও মামা গেছে ভাইয়ার সাথে এয়ারপোর্ট।
মুহূর্তে ত্রিধান মস্তিষ্কে জানান দিলে একটু আগের ঘটনা।
ওদের গাড়ি যখন বাড়ির ভিতরে ঢুকছিল ঠিক তখনই বড় পাপা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে।
তার মানে সেটাতেই ছিল তার প্রাণ ভোমরা।
তৃধা আর কিছুই কিছুই ভাবতে পারল না ওর হাতের ব্যাগটা ছুটে পড়ে গেল মেঝেতে।
তারপর তৃধা আর কিছু না বলে এক পা দু পা করে চলল তৃতীয় তলার দিকে।
তোর কেন জানি মনে হচ্ছে সবগুলোই দুঃস্বপ্ন।
একটু পর ঘুম ভাঙলেই বুঝি সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে।
তাই সে ভেবে নিল এখন আর লুকোচুরি নয় সে আহিয়ান ভাইয়ের রুমে যাবে। আহিয়ান ভাইয়ের রুমে পৌঁছে ওকে সব মনের কথা বলে দিবে তারপর যা হবার হবে।।
ভাবতে ভাবতে তৃধা পৌঁছে গেল আরিয়ান ভাইয়ের দরজার সামনে।
দরজাটা চাপানো আলতো করে ছুঁয়ে দিতেই দরজাটা খুলে গেল।
তারপর এগিয়ে গেল সামনে আলতো কন্ঠে ডাকলো আহিয়ান ভাই আহিয়ান ভাই আহিয়ানের কোন সাড়া নেই।
ত্রিধা আরেকটু এগিয়ে বেলকনিতে গেল কিন্তু সেখানেও নেই।
তৃধার মস্তিষ্ক সজত হতেই হন্য হয়ে পুরাতন খোঁজা শুরু করে দিল।
বাথরুমে খোদা বাদ দিলোনা মেয়েটা পাগল প্রায় অবস্থা।
তারপর ক্লান্ত হয়ে টেবিলের উপর থেকে পানি খেতে চাইলে এক গ্লাস।
কিন্তু চোখ আটকালো টেবিলের উপরে থাকা ছোট্ট একটা খামের উপর যেখানে লেখা ছিল গিফট বক্স।
তৃধা পানিটুকু আর খেলো না খামটা হাতে নিয়ে খুলল।
সেখান থেকে বের হলো এক গোলাপি রঙের চিরকুট।
তৃধা কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুট খুলে ধরলো চোখের সামনে।
কিন্তু আজ চোখের পানি অবাধ্যের ন্যায় ঝরছে ঝাপসা চোখে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
মেয়েটা বারবার হাতের উল্টোপিসটা দিয়ে চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত।
কিন্তু লাভ হচ্ছে না। বরাবরই চোখের কোঠর ভরে যাচ্ছে নোনা জলে।
তৃদা উপরের দিকে তাকিয়ে ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করল।
তারপর চোখ বুলালো চিরকুটের লেখায়।
I am sorry my everything.
তবে তাদের আবার দেখা হবে তখন না হয় মান অভিমানের হিসাবটা কষে নিবে
মহাদিব খান আহিয়ান
এই একটা কথায় যথেষ্ট ছিল তৃধা থাকে এলোমেলো করতে। তার সুন্দর স্বচ্ছ মনটাকে ভেঙ্গে খন্ড খন্ডদ করতে।
সে সদ্য ও নির্বাক ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ বসে রইল।
তারপর অকপটে চোখ বন্ধ করে বিছানায় গায়েলিয়ে দিল।
এত কোন ছটফট করা মেয়েটা মুহূর্তে চুপসে গেল।
বিকেলটা যে ভীষণ শান্ত আকাশ জুড়ে কমলা ও লাল রঙের আলো ছড়িয়ে আছে।। পশ্চিম আকাশে সূর্য শেষ সূর্যের রসি মেঘগুলোকে গোলাপি ও লাল আভায়।
বাতাসে হালকা শীতলতা কাশফুলের মত নরমদোলা খাচ্ছে গাছের পাতাগুলো।
দূর থেকে বেঁচে আছে আজানের সুর আশেপাশের বাচ্চাদের কোলাহল ।
ত্রিধা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে দুহাত রিলিঙ্গে রাখা।
দুই চোখ স্থির আকাশের দিকে বুকের ভিতর যেন চাপা কষ্টের ঢেউ।
কেউ বুঝবে না।
বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও ভেতরটা যে টলমল করছে।
নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে স্ত্রীরা হঠাৎ লক্ষ করল মেঘেরা যেন রং পাল্টাচ্ছে।
মেঘেরা যেমন রং পাল্টায় ঠিক তেমনি তার জীবনের রং পাল্টাচ্ছে।
মাথার ভিতরে গজনা শুনতা তৈরি হলো।
সেদিনের পর কেটে গেছে ১৫ দিন হ্যাঁ আজ ১৭ দিন হয়ে গেল প্রাণ ভোমর আর কোন দেখা নেই।
আরিয়ান ভাইয়ার দেশে নেই কথাটা পুরোপুরি মস্তিষ্কে পৌঁছানো মাত্রই আহিয়ানের রুমে জ্ঞান হারিয়েছিল তারপর দুইদিন হসপিটালে ভর্তি ছিল আহিয়া আপুকে সব বলেছে রাত এগারোটা নাগাদ তোকে যখন খেতে ডাকতে যায। তখন চোখে পড়ে আহিয়ান ভাইয়ের রুম
সেখানে ত্রিধা গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে হাতে একটা গোলাপি চিরকুট আহিয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিরকুট টা হাতে নেয় এবং পরে।
এখন সবকিছু তার কাছে পরিষ্কার কিন্তু এসব তো বাড়ির মানুষের কাছে জানানোর নয়।
তারপর তুই তাকে কষ্ট করে ধরে ত্রিধার রুমে নিয়ে গেল তারপর বাড়ির সকলকে চিৎকার করে ডাকলো আহিয়া।
ওর অবস্থা খারাপ বুঝে সঙ্গে সঙ্গে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়।।
জানানো হয় কোন কিছু নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন করার কারনে ত্রিধার ছোট রক্ত সঞ্চালন ব্যাঘাত ঘটেছে যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয়।
Transient Ischemic attack (tia)
আরো সহজ করে বলতে গেলে মিনি স্টক।
এদিকে আহিয়ান হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে গেল
অন্যদিকে তার চঞ্চল মেয়ে হসপিটালে ভর্তি।
খান পরিবার মুহূর্তেই থমকে গিয়েছিল তানভীর ও বন্যা পাগল পাগল অবস্থা প্রায়
সেদিন সন্ধ্যায় ওর জ্ঞান ফিরতে সন্ধ্যায় মাথা ঠান্ডা করার জন্য স্লিপিং ইনজেকশন দেয় এভাবে ঘুমাতে ঘুমাতে চলে যায় আরো দুইদিন।
দুইদিন পর পুরো সজাগ হয় সে দেখে হসপিটালের বিছানায়।
পাশে আহিয়া বসেছিল পরবর্তীতে আহিয়ার কাছে সব জানতে চাওয়া হয় আহিয়া সব বলে।
সুস্থ হওয়ার পর বাড়ির লোক এসেছিল ওকে জিজ্ঞাসা করছিল তোর কি নিয়ে এত চিন্তা।
আহিয়া শিখানো কথা অনুযায়ী তৃধা সবাইকে বলল সামনে পরীক্ষা সেটা নিয়ে একটু ডিপ্রেশনে চলে গেছিলাম।
তাই তো এরকম হয়েছে।
ওর অসুস্থতার খবর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও জানাজানি হয়েছে।
অনেকেই ফলমূল নিয়ে দেখতে এসেছে।
বাড়ির কেউ চায়নি এই অসুস্থতার খবর লন্ডনে আহিয়ান কে জানাতে তবুও সে কিভাবে যেন জেনে গেছে।
ত্রিধা বাড়ি আসার পর সে অনেকবার অনেকবার ভিডিও কলে কথা বলেছে।
আহিয়া কে ই নিয়ে বিলিয়ে বহুবার বলেছে তৃদার কাছে ফোনটা দিতে।
আহিয়া ভাইয়ের কষ্ট বুঝতে পেরে অনেকবার ফোন নিয়ে গেছিলো ত্রিধার রুমে কিন্তু লাভ হয়নি।
যখনই শুনতে পেয়েছে আহিয়ান ফোন দিয়েছে কাজের উছিলায় দরজার ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে।
মূলত ত্রিধার ইচ্ছা করে আহিয়ানের সাথে কথা বলত না।
১৫ দিন হয়ে গেছে কিন্তু এই ১৫ দিনে আহিয়া রিহান
কে একবারও কল দেয়নি মেসেজের রিপ্লাই দেয়নি ভালোবাসার অভিমান যেন ইস্পারের দেয়াল তুলে ধরেছে তাদের মাঝে।
কিন্তু ভালোবাসাকে চুপ করে থাকে?
রাতের নিরাপত্তা যখন আরো গভীর হলো।
চাঁদের আলো নিঃশব্দে খান বাড়ির ছাদে নেমে এলো।
ঠিক তখনই রিহান এসে দাঁড়ালো ছাদের গ্রিটের সামনে। ভাগ্য বোঝে আজকে তাদের সাথে ছিল ছাদের দরজা খোল।
পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মৃদুল ভদ্র সভ্য ছেলেটাকে বিপদের কথা বলে মাঝরাতে ডেকে নিয়ে আসছে রেহান।
চারপাশ নিস্তব্ধ যেন সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়েছে।
মৃদুল ভয়ার্ত কণ্ঠে বললো, প্রেম করার জন্য আর মেয়ে পারবি না মামা খান বাড়ির মেয়েকে পছন্দ হলো
রেহান মিদুলের মুখটা চেপে ধরে বলল চুপ থাক ভাই তোর কারনে আমার না হওয়া প্রেমটা ভেঙ্গে যাবে এত রাতে আমার স্মার্ট শ্বশুর আর আমার স্মার্ট শাশুড়ি নিশ্চয়ই মেনে নিবে না দেওয়াল টক্কের ছাদে আসার বিষয়টা।
দেওয়াল টপকে মেয়ের সাথে দেখা করা।
মৃদূল কটাক্ষ করে বলল তোর কপালে মেলা দুঃখ আছে রে।
রিহান ওর কথার প্রতি উত্তর করল না।
অভিমান ভাঙার তাগিতে বুকের অস্থিরতা সহ্য করে না পেরে প্রবেশ করলে ভিতরে।
খান বাড়ির করিডোর গুলো চেনা চেনা লাগছিল
তবুও ভালোবাসার দিক নির্দেশনায় অবশেষে খুজে পেল সেই কাঙ্ক্ষিত মানুষের ঘর।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কয়েক মুহূর্ত শুধু দীর্ঘ শাস ফেলল।
আহিয়ার কাছে শুনেছে ও তিনতলায় থাকে প্রায় তিন তলার প্রত্যেকটি ঘর দেখেছি।
যাইহোক কাঙ্খিত রুমটা খুঁজে পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রুমের ভিতর পা বাড়ালো।
আহিয়া তখন ঘুমিয়ে আছে।
গভীর ঘুমে নির্ভর অচেতন চারপাশের প্রতি।
তার শান্ত মুখে চাঁদের আলো পড়ছে মুখটা যে কি আদরের লাগছে মেয়েটা জানে ।
রিহান নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।
কত অভিমান কত দূরত্ব কত না বলো কথা।
সব যেন মুহূর্তেই গলে যেতে চাইলে।
ঘরের ভেতর নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল রিহান আহিয়ার মুখের দিকে।
চোখ বুজে ঘুমিয়ে থাকা মুখটা তার কাছে অমূল্য সম্পদ।
মনে মনে ফিসফিস করে বলল আহিলে আমাকে যে তুমি নামক রোগী ধরেছে।
যে রোগ থেকে আজীবন মুক্তি নেই হয়তো তুমি নয়তো মৃত্যু।
এই দুইটাই এরকম মেডিসিন যেকোনো একটা তো আমাকে বেছে নিতেই হতো। তুমি কথা বলো না ফোন ধরোনা।
আমি জানি আমি ভুল করেছি তুমি কবে বুঝবে তোমার অভিমান আমার বুকের ভিতর আগুন জ্বালায়।
আজ তোমার মুখটা না দেখলে হয়তো আমি পাগল হয়ে যেতাম।
শান্ত হয়ে চোখ বুজে আছো কিন্তু আমি তোমাকে হাজারও কথা বলতে চাই বলতে চাই।
আহিয়া আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই না। তুমি আমার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা শান্তি। তুমি আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের কারণ।
রিহান নিঃশব্দে একটু এগিয়ে আসে আহিআর
মাথার চুলে হাত রাখে।
কিন্তু তার হাত কাঁপছে ভয় আহিয়া যদি জেগে ওঠে তবে আবার মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তবুও রিহান বলল ফিসফিস একবার চোখ খুলে তাকাও জান।।
একবার বলো তুমি আমার হয়ে যাবে।
ঘর জুড়ে নীরবতা।
রিহান ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, হঠাৎ মিটার চোখ খুলে দেখলো কাঁপা কাঁপা দৃষ্টিতে।
ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো সে।
রেহান মুহুর্তে সরে এসে দাঁড়ালো বুকের ভিতর ধুকবুক শব্দ যেন কানে ভেসে আসছে। আহিয়া নিস্তব্ধ
দৃষ্টিতে তার বুকের ভিতর বিদ্যৎ ফেলে দিল।
সেই দৃষ্টির ভিতর ছিল না কোন ভালোবাসা ছিল না কোন হাসি।
শুধু ছিল নিঃশর্ত অভিমান।
তবুও আহিয়া রেহানকে মধ্যরাতে তার রুমে দেখে চমকে উঠে বসলো, কাঁপাকাঁপা কন্ঠে বলল আআআ আপনি।
রেহানের গলাটা শুকিয়ে গেছে ফিসফিশিয়ে বলো হ্যাঁ আমি।
কথা শেষ করার আগেই আহিয়া চোখ ফিরিয়ে নিল।
বিছানার একপাশে মুখ ঘুরিয়ে নিল শান্তভাবে যে সে কিছুই শুনিনি।।
রেহানের বুকটা ভেঙে গেল মুহূর্তেই মনে হল এই নিস্তব্ধ যেন বুকের ভেতর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে।
সে চুপচাপ বিছানার পাশে বসে পড়ল কন্ঠ কেঁপে উঠলো।
তুমি চাইলে আমাকে শাস্তি দাও কিন্তু প্লিজ এভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিও না।
এভাবে অভিমান করে থেকো না।
আমি ইচ্ছা করে কিছু করিনি বিশ্বাস করো।
আহিয়ান আমাকে বারবার করে বলে দিছে যাতে কাউকে কিছু না বলি।
আমাকে বলেছিল ওর এত তাড়াতাড়ি দেশ ছেড়ে যাবার কথা বাড়ির মহিলাগুলো শুনলে কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে যাবে।।
তাছাড়া তোমার বাবা সাজেক থেকে ফিরছে যেদিন সেদিন থেকেই জানতো উনি নিজেই পরিবারকে কিছু জানাতে চাননি।
সেখানে আমরা কে বলাটা অভদ্রতা মনে হয়েছে তাই বলিনি।। আহিয়া কোন কথা বলল না কিন্তু তার চোখের পানে জমে থাকা অশ্রু ঝড়ে পড়ল গাল বেয়ে।
রিহান বেশ বুঝলো মেয়েটার খুব বেশি অভিমান হয়েছে তাই ওকে শান্ত করতে আরও কিছু বলবে।
তার আগেই আহিয়া বলে উঠলো সব বুঝলাম সব মারলাম কিন্তু ভাইয়া যে ত্রিধাকে ভালবাসে সেটা আপনি আমাকে আগে জানাননি কেন?
আমি কত বোকা সাজেকের ভাই এর আভ ভাব দেখেও আমি কিছু বুঝতে পারিনি।
ভেবেছিলাম ভাইয়া বাড়ি থেকে অনেক দূরে ঘুরতে গেছে বলে তার আলাদা ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করছে।
কিন্তু সে তৃধাকে ভালোবেসে এত কিছু করছে আপনি তো আমাকে বলেননি।
আপনি আপনার বন্ধুর কথা রাখতে গিয়ে আরেক বন্ধুকে কষ্ট দিয়েছেন আপনার সাথে আজ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ক্যানসেল।
আমি কোন দুঃখ বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করব না।
রেহান ফিসফিসিয়ে হাসলো নিঃশব্দে প্রিয়শীর অভিমান বুঝতে পেরে।
তারপর ফিসফিসিয়ে বলল ঠিক আছে বন্ধুত্ব রাখতে হবে না তুমি বরং আমার বউ হয়ে যাও।
চলো বিয়ে করে নি দুজনে।
ওর মুখে এমন কথা শুনে আহলে চমকে তাকালো ঘরে থাকার ড্রিম লাইফটা আধো আলোতে রেহানের মুখ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । রেহান আজকে ঘব্রালো না
আহিয়ার চোখে সরাসরি চোখ রেখে। বলল আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি আহিয়া যতটা ভালবাসলে তোমাকে ছাড়া নিঃশ্বাস আটকে আসে। ঠিক ততটাই ভালোবাসি। তোমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করার ইচ্ছা আমার কোনকালেই ছিল না ।
হঠাৎ করে তোমাকে প্রপোজ করে বসলে তুমি হয়তো ঘাবড়ে যাবে তাছাড়া আমার ইচ্ছে ছিল তোমার বাড়িতে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার।
তার জন্য আর একটু সময় প্রয়োজন।
লেখাপড়া মাত্র শেষ হল এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানো বাকি।
আমি তোমার বাবার সামনে যোগ্য পাত্র হয়ে তার রাজকুমারীর হাত ধরতে চাই
তোমার ভাইকে বলতে চাই তোর বোন আমাকে ছাড়া ভালো পাত্র আর কোথাও পাবে না
তাই আমার কিছু সময়ের প্রয়োজন তুমি এভাবে রাগ করে থাকলে আমার পুরো পৃথিবী উলটপালট হয়ে যায়।
আজ নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারলাম না বলে দিলাম মনের কথা।
আইয়া এখনো নির্বিকা দৃষ্টিতে রেহানের দিকে তাকিয়ে আছে । রেহান ওর ওই দৃষ্টির মানে কি বুঝলো কে জানে।
তারপরও অভিমানী কন্ঠে বললে অপেক্ষা করব যতদিন তোমার অভিমান না ভাঙ্গে।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় রেহান রাতে নিস্তবতাও চারিদিকে আর জানালা দিয়ে আসছে হালকা বাতাস।
কোথাও কোথাও মেঘে ঢাকা চাঁদের আলো ঘরটাকে আরো রহস্যময় করে তুলছে।।
বুকের ভিতর কষ্ট নিয়ে রেহনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে দরজার দিকে আজ হয়তো কোন উত্তর পাবে না অভিমানী জিতবে ওর কাছে।
কিন্তু হঠাৎ তার হাতটা ধরে ফেললে একটা নরম হাত।।
সেই স্পর্শে রেহান থমকে দাঁড়ায়।
হৃদপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেছে।
আহিয়া নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে চোখের কোনে ভেজা ভাব ঠোঁটের কোণে কোনো শব্দ নেই ।
পরমুহুর্তে সে এগিয়ে এসে রেহানকে জড়িয়ে ধরল।
মাথাটা রাখল রেহানের বুকে মাথাটা রাখল রেহানের বুকে এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব নিরাপত্তা যেন এই বুকে। রেহানের শরীর কেঁপে উঠলো
নিজেকে সামলাতে না পারে সেও আলিঙ্গনে জড়িয়ে নিলো আহিয়া কে।
বুকের ভেতর এতদিনে জমে থাকা ভালোবাসা আর তুমি রাখা গেল না।
রাতের আকাশ যেন পরিবর্তন হলো দূর আকাশের মেঘের গর্জন আর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।।
জানালার পাশে বৃষ্টির শব্দ মিশে গেল তাদের তাদের বিশ্বাসের শব্দ।
রেহান কন্ঠ কাঁপিয়ে ফিসফিশিয়ে বলল
আহিয়া এই আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি তোমাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।
প্লিজ আমাকে আর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাববে না।
আহিয়া কোন উত্তর দিল না আরো শব্দ করে আঁকড়ে ধরল রেহানকে।
বুকের ভিতর জমে থাকা সব অভিমান আজ ভিজে গেল ভালোবাসার বৃষ্টিতে।
রেহানের মনে হল এই রাত এই নীরবতা এই বৃষ্টি থ সবকিছু যেন ওদের প্রেমের সাক্ষী।
মৃদুল উউফ শালার মশাই বন্ধুরা আমার জীবন কয়লা বানায় দিল।
ওদের মত বন্ধু থাকলে শত্রু প্রয়োজন হবে না।
বিড়বিড় করে বলতে লাগলো।
আচমকায় বৃষ্টি নামায় মিদুল ছাদ থেকে সিঁড়িতে নেমে এসে দাঁড়িয়েছে।
এই মুহূর্তে মশার কামড় খাওয়া ছাড়া তার আর কোন কাজ নেই। নিজের সেল ফোনটাও বের করতে পারবে না ফোনের আলোতে যে কোন সময় কারো নজরে পরে যাওয়া সম্ভবনা রয়েছে।
হঠাৎ কেউ একজন এসে কাঁধে হাত দিল।
মুহূর্তেই মৃদুল ভয়ে জমে গেল।
ধরা পড়ার কথা মনে পড়তেই শরীরের শিরা উপশিরা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতুন মিনাজ যলিমিন। বলতে বলতে পিছন ঘুরে তাকালো।
ওর পিছনে রিহান দাঁত কেলিয়ে গেলিয়ে হাসছে ওকে দেখে মিদুল কয়েকটা কিল খুশি বসিয়ে দিল ওর কাঁদে।
অকথ্য ভাষায় গালি দিবে তার আগেই দেখল রেহানের পাশে আহিয়া দাঁড়িয়ে।
তাই নিজের ভাষার সংযম করে।
ভদ্র ভাষায় মেন মেন করে বলল আপু আপনি রেহানকে বলিয়েন আপনার বাপের ভয়ে আমার প্রাণ পাখিটা এখনই খাজা ছেড়ে বেরিয়ে যেত।
ওর কথা শুনে আহিয়া মৃদু হাসলো তারপর বলল ভাইয়া গাছ অনেক পিচ্ছিল হয়ে গেছে তাই গাজবে নিচে নামার প্রয়োজন নেই।
আমি সদর দরজা খুলে দিচ্ছি আপনারা চুপচাপ বেরিয়ে যান।
কিন্তু ভুলেও সিকিউরিটি গার্ডের চোখের সামনে পড়া যাবে না বাড়ির উত্তরদিকে দেয়ালটা একটু নিচু আপনারা ওই দিকের দেওয়ালটা কে চলে যান।
মৃদুল একটু স্বস্তির নিঃশেষ ছেলে বলবে থ্যাঙ্ক ইউ আপু।
আহিয়ার মুচকি হাসলো অতঃপর তিনজনে নিচে সদর দরজার সামনে।
আহিয়াকাপা হাতের দরজা খুলে দিল।
দরজা খোলা পেতেই মৃদুল মনের আনন্দে বেরিয়ে গেল বাইরের দিকে।
রিহান এখনো দাঁড়িয়ে আহিয়া ফিসফিস করে বলল যাচ্ছে না কেন তাড়াতাড়ি যান।
কেউ টের পেলে সমস্যা হবে।
রিহান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আহিয়ার দিকে।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলো তারপর আচমকা এসে আহিয়ার কপালে শক্ত চুমু দিয়ে তারপর ছেলেটা আর এক মুহূর্ত কোন দিকে তাকায় নি বেরিয়ে হঠাৎ ধরল বাড়ির উত্তর দিকে।
আহিয়া যেন মুহূর্তে বরগুন নেয় জমে আছে।
বুকের ভিতর ধুপ ধুপ করছে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেকে স্বাভাবিক করে বাড়ির সদর দরজা লাগিয়ে আস্তে আস্তে উঠে গেল তৃতীয় তলায় তৃতীয় তলায় উঠে নিজের রুমের দিকে দৌড় দিতে কারো সাথে ধাক্কা লাগলো।
অন্ধকারে মুখের দিকে নজর যাওয়ার আগেই নজরে পড়ল মানুষটার গায়ে থাকার সাদা জামার উপর আহিয়ে ভয়ে আ করে চিৎকার দিল। মুহূর্তে কপাল বেয়ে ধর ধর করে ঘাম পড়ছে।
ভয়েস আরো জেনে চিৎকার দিবে সঙ্গে সঙ্গে মুখ চেপে ধরে বলল আপু।
আমি তৃধা ভয় কেন পাচ্ছো।
আহিয়া চোখ তুলে দেখলো সত্যিই এটাতে তৃধা।
আহিয়া এবার হাতটা মুখ থেকে সারিয়ে হাপাতে হাপাতে বলল তুই যে এটা তো বুঝলাম।
কিন্তু তুই এত রাতে এখানে সাদা ড্রেস পরে ভূতের মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
ত্রিধা মৃদু হেসে জবাব দিল পাহারা দিচ্ছি।
কেউ যদি এসে আমার বড় বোনটাকেই মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যায়।
আহিয়া এবার ভাবনায় ডুব দিলে তার মানে এতক্ষন ত্রি দা সব দেখেছে।
আহিয়ে এবার আনতে আনতে করে বলতে লাগলো আসলে আসলে ত্রিধা আমি ভালো বন্ধু।
কয়েকদিন ওর সাথে কথা বলিনি তাই লুকিয়ে দেখা করতে এসেছে।
ত্রীধা মৃদু হেসে বলল তোমাদের বন্ধুত্ব খুব স্ট্রং আপু কয়েকদিন কথা না হওয়ায় রিক্স নিয়ে ড্রিরেক বাড়ি চলে এসেছে।
এবার ত্রিধার পুরো কথা শেষ না হওয়ায় আহিয়া হাত টেনে রুমে নিয়ে গেল।
তারপর বিছানায় বসিয়ে মাথা নিচু করে বলতে লাগলো আসলে আমি আর রেহান দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
রিহান আজকে কনফেস করল।। বিশ্বাস কর আমাদের আগে থেকেই প্রেম ভালোবাসার কোন কিছুই ছিল না।
তুই প্লিজ বাড়িতে বড়দের কাউকে বলিস না।
তৃধার কেন জানি আহিয়ার মুখটা দে খুব হাসি পাচ্ছে।
কিন্তু নিজের মুখটা গম্ভীর করে বলল এতে আমার লাভ।
আহিয়া মিন মিন করে বলল কি চাষ বল।
তৃধা দুলা ভাইকে বল ট্রিট দিতে।আহিয়া
এবার একটু অবাক হলো বরং ত্রিধার মুখে ট্রিটের কথা শুনে নয় এত স্বাভাবিকভাবে কথা গুলো শুনে।
কারণ আগের চঞ্চল মেয়ে ত্রিধা এতক্ষণে আগ্রহ নিয়ে হাসতে হাসতে আরো অনেক কথাই বলে ফেলতো।
এটা জিজ্ঞেস করা ওটা জিজ্ঞেস করা কিন্তু আজকে তৃধা একদম বুসদারের মত মতো কথা বলছে।
কিন্তু আহিয়া চায়না হৃদয় মধ্যে একটা ম্যাচুরিটি চিন্তাভাবনা অশোক।
আগের চঞ্চল মেয়েটাই তো ভালো ছিল।
পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত আহিয়া নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে।।
তারপর অসহায় কন্ঠ করে ডাকলো ত্রিধা ।
তৃধা মাথা তুলে তাকালো ফর্সা মেয়েটার এই কয়েকদিনে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে।।
আহিয়ে এক পলক কয়েকবার তাকালো তারপর বলল
রাত্রে শেষ হয়ে এসেছে। এখনো ঘুমাসনি। তৃধা
চুপ রইলো কোনো উত্তর দিল না।
আহিয়া জানে মেয়েটা এখন রাতের পর রাত জেগে থাকে।
এই করুণ চেহারাটা যদি একবার আহিয়ান ভাই দেখতো তাহলে বুঝি সে তার ডাক্তারি হওয়ার স্বপ্ন বিদেশের মাটিতে পুঁতে রেখে তৃধা এর কাছে চলে আসতো।
ভাইয়া কি কখনো জানতে পারবে ভালোবাসার মানুষটি তাকে ভেবে এত কষ্ট পাচ্ছে।
আর ত্রিধাকে তো এখন এসব বলা যাবে না।
আহিয়ে ঘনঘন শাঁস ছেড়ে উঠে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে একটা বক্স আনলো হ্যাঁ এটাই সেই বক্সটা যাওয়ার আগে আহিয়ান তৃধাকে দিয়ে গেছিল।
আহিয়া এগিয়ে এসে ত্রিধার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বক্সটা দিল বক্সটা চিনতে তৃধার একটু দেরি হলো না।
সে গিফট বক্স হাতে নিল না বরং ছলছল চোখে রইল আহিয়ার দিকে।
আহিয়া মৃদু এসে বলল ভাইয়া যাবার আগে তোকে এটা দিয়ে গেছে খুলে যাবে এটার ভিতরে কি আছে।
তৃধা অন্য দিকে তাকিয়ে চোখের পানি লুকানোর চেষ্টা করল।
তারপর অভিমানী কন্ঠে বলল প্রয়োজন নেই কারো গিফটের।
আহিয়া আবারো হাসলো। আহিয়া আবার বলল প্লিজ গিফটা খোল হয়তো যাবার আগে কিছু বলে গেছে এটাতে।
তৃধা চমকে গিয়ে চোখ তুলে তাকাল চোখের তারায় হাসির ঝিলিক তারপর গিফটটা হাতে নিয়ে রাফিং পেপারগুলো খুলে ফেলল।
দেখলে ভেতরে iPhone 17 pro Max.
দেখলে ভেতরে কোন চিরকুট নেই তাই ত্রিধার মনটা আবারও খারাপ হয়ে গেল।
আহিয়া হাসিমুখে বললো দেখছিস তৃধা
ভাইয়া তোকে যাওয়ার আগে ফোন গিফট করে গেল এটা দিয়ে ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ কর ভাইয়া নিশ্চয়ই সেটাই চাই।
তৃধা এবার অভিমানী কন্ঠে বলল সে চাইলেই সব হবে আমার কি কোন চাওয়া নেই? আমি চাইনা যোগাযোগ করতে?
আমার চাওয়ার কোন মূল্য নেই?
তারপর ফোনটা আফিয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল তুমি তো সামনের মাসে যাচ্ছ তারপর ফিরে গিয়ে তোমার ভাইয়ের ফোন তোমার ভাইকেই ফিরিয়ে দিও।
আর বলো আমার কারো থেকে কোন গিফট চাই না।
আহিয়া ওকে বুঝতে চেষ্টা করল। তারপর বলল দেখ তৃধা ভাইয়ার উপর এরকম রাগ করে থাকিস না।
ভাইয়া হঠাৎ করে বিশেষ প্রয়োজন পড়ায় ঝটপট চলে গেছে।
তাছাড়া এক মাস পর তোর পরীক্ষা এভাবে না খেয়ে না ঘুমিয়ে পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়বি। তাছাড়া রেজাল্ট খারাপ করবি।
তুই নিশ্চয় চাস না তোর এসব কাণ্ডের জন্য মামা মামনি কষ্ট পাক।তৃধা আবার মাথা তুলে বলল আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না আপু কিন্তু আমার তো রাতে ঘুম আসে না।
আমি কি করবো? মুখে খাবার দিলে গলায় কাটার মত আটকে থাকে এতে আমার কি করার আছে?
পড়তে বসলে তোমার বেইমান ভাইটার কথা মনে পড়ে এখন আমি কি করবো কিভাবে পড়বো?
বলেই ত্রীদার ঝরঝর করে কেঁদে দিল ।
আহিয়া তৃধাকে বুকে টেনে নিল তারপর বোঝাতে বোঝাতে বলল তুই ভালো স্টুডেন্ট এই কয়েকদিনের লেখাপড়ার গ্যাপ কোন ব্যাপার না ।
সামনে আরো কয়েকদিন বাকি আছে।
তাছাড়া তোর পরীক্ষা আগ পর্যন্ত আমি দেশেই আছি তুই কাল থেকে আমার কাছে পড়তে আয় আমি চেষ্টা করব তোকে সব কিছু গুছিয়ে বুঝিয়ে দিতে।
তুই কেন বুঝতে চাচ্ছিস না ।
তোর এমন অবস্থায় দেখলে মামা কত কষ্ট পাবে তুই কি মামাকে জেনে শুনে কষ্ট দিতে চাস?
তৃধা ঘন ঘন মাথা নাড়িয়ে বোঝাতে চাইলো সে কষ্ট দিতে চায় না।
তাহলে আগামীকাল থেকে আবারো স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু কর।
যেহেতু ওটা ভাইয়ের বাড়ি সেহেতু একদিন না একদিন ভাইয়াকে এ বাড়িতে ফিরতেই হবে।
তখন না হয় অভিমানগুলো সব তুলে ধরা যাবে। কিন্তু এখন যদি তুমি পরীক্ষায় ফেল করিস তাহলে তো মামা মামনি তোর বিয়ে দিয়ে দিবে।
তৃধা কান্না মাখা চোখগুলো হাতের উল্টো পাড় দিয়ে মুছে নিয়ে
তারপর বলল তুমি যা বলবে আমি সব শুনবো কিন্তু তোমার এই ভাইয়ের ফোন দিয়ে তোমার ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে বলিও না প্লিজ।
আমি নতুন করে তার সাথে আর কোন যোগাযোগ করতে চাই না সে যদি আমায় ছাড়া ভালো থাকে তাহলে তাই হোক।
আমি দেখতে চাই সে আমাকে কতটা পোড়াতে পারে আর আমি কতটা পুড়তে পারি।
আহিয়া তৃধার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে বলল ঠিক আছে তাই হোক।
শরতের নরম রোদ্দুর জাননা ভেদ করে ঢুকে পড়েছে খান বাড়িতে।
সদর দরজার বাইরে ঝরে পড়া শিউলি ফুলের সুবাস বাতাসে মিশে আছে।
রান্নাঘর থেকে বেশি আছে গরম পরোটা ও নানান বাহারি খাবারের গন্ধ।
সকলটা যেন নিজ গতিতেই চলছে ঘরের ভিতরে ব্যস্ত তুঙ্গে বসে আছে খান পরিবারের প্রায় সবাই সকালের নাস্তা ও চায়ের হৈচৈ কিন্তু চোখে পড়ল না ত্রিধা ও আহিয়া কে।
তানভির বন্যার উদ্দেশ্যে বলল তৃধা কই ওকে তো দেখতে পাচ্ছি না ওর কি আজ কলেজ নেই নাকি
আমি যাচ্ছি মেয়েকে ডাকতে কলেজের সময় পেরিয়ে যাচ্ছি কিন্তু মেয়েটা এখনো নিচে আসছে না কেন।
বলতে বলতে বন্যা চলে গেল তৃতীয় তলার দিকে প্রথমে গেল ত্রিধার রুমে। রুমে গিয়ে অবাক রুমের কোথাও নেই।
রুমের খাট টা একদম খালি।
তারপর কিছু একটা ভেবে গেল আহিয়ার রুমে ভিতরে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো।
বিছানার পাশে শুয়ে আছে আহিয়া ও তৃধা।
দু'বোনের চোখে শান্ত ঘুমের ছাপ। বন্যা বিড়বিড় করে বলল মাশাল্লাহ।। দু বোনের এত মিল দেখলে প্রাণটা জুড়ে যায়।
তারপর বন্যা হালকা ডাক দিল ওই ত্রিধে ওঠ কলেজের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।
ত্রিধা হালকা নড়েচেড়ে উঠল সারারাত না ঘুমানোর কারণে চোখের পাতা খুলতে পারছে না।
তৃধা আদঘুমে গা এলিয়ে গুটিসুটি হয়ে আবারো শুয়ে থাকলো। বন্যা আবারো ডাকলো।
কি আর করার ত্রিধা উঠে পড়ল ফ্রেশ হয়ে কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিচে গেল। সবাই নাস্তার টেবিলে বসল আর আহিয়া রুমে ঘুমাচ্ছে।
ঠিক তখনই মেঘের ফোনে কল আসলো আবির তানভীর আলী আহমেদ খান মালিহা খানসহ সকলেই চোখ ঘোরালো সেই দিকে।
মেঘ এগিয়ে গিয়ে ফোনটা হাতে নিল দেখলে স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে আহিয়ানের নাম।
ছেলের ফোন পেয়ে মমতাময়ী মায়ের মুখে মুহুর্তে হাসি ফুটে উঠলো।
ঝটপট ফোন রিসিভ করতে স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আহিয়ানের মুখ আসলামুআলাইকুম
মাম্মা
মেঘ ওয়ালাইকুম সালাম আব্বাজান।
কেমন আছো?
আহিয়ান আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
তুমি কেমন আছো?
আর বাড়ির সবাই কেমন আছে?
মেঘ মেঘ আলহামদুলিল্লাহ বাড়ির সকলে ভালো আছি
কি করিস? আর ওখানে গিয়ে ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছিস তো?
আহিয়ান জি মাম্মা তুমি চিন্তা করিও না।
আমি একদম ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছি, তুমি একদম চিন্তা করিও না।
একদিকে ওদের মা ছেলের কথাবার্তা চলছে।
অন্যদিকে আরেকটা হাত নাস্তার টেবিলে নাস্তার প্লেটে থমকে গেছে।
দীর্ঘ 16 দিন পর আহিয়ান ভাইয়ের কণ্ঠ শুনলো ত্রিধা
বক্ষ পিঞ্জরে ঝড় তা এক মুহূর্ত সামলাতে কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
গলা দিয়ে খাবার নামছে না ।
তৃধা কাঁপা হাতে এক গ্লাস পানি খেলে।
হাতা থর থর করে কাঁদছে শরীর অসর হয়ে আসছে।
আসলে কিছু মানুষ জীবনে আসে মায়া লাগানোর জন্য।
কিছুদিন ভালোবাসা ভালোবাসা খেলা করে তার মায়া র বন্দী করে চলে যায় বহুদূরে।
যতৃধা ভাবনার মাঝে আহিয়া শিড়িবে নিচে নেমে আসলো।
এসে ভাইয়া কল দিয়েছে শুনে দৌড়ে গিয়ে ফোন হাতে নিল
আহিয়া আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া কেমন আছো?
আরিয়ান ওয়ালেকুম আসসালাম ভালো আছি তুই কেমন আছিস?
আহিয়া আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভাল আছি।
পাপা মামা দাদুরা কি অফিস চলে গেছে।
আহিয়া হয়তো বুঝতে পারল ভাইয়ের মনের কথা তাই ক্যামেরাটা ঘুরিয়ে একে একে সবাইকে দেখাতে শুরু করলো।
আবির আদি তানভীর মোজাম্মেল খান ইকবাল খান আলী আহমেদ খান আদিবা। সবাই একসাথে নাস্তা করতে বসেছে।
আহিয়ান সবাইকে দেখে কৌশলাদি বিনয় করল।
ছোট্ট আদিবা আদুরে ভঙ্গিতে কমবেশি সকলের নামে বিচার দিলো ভাইয়ের কাছে।
আহিয়ান হাসলো ওর কথা শুনি।
কিন্তু এদিকে যে ওর হাসি শুনে আরেকজনের হৃদয় ঝড় উঠেছে সেটা কি জানে সে ছেলে।
নাকি নিজের বুকের ঝড় লুকাতে হাসির প্রচেষ্টা তার।
তারপর আহিয়া ফোনের ক্যামেরা ধরল ত্রিধার দিকে তৃধা অবহেলিত ভিনভঙ্গিতে মাথা নিচু করে খাচ্ছে।
আহিয়ান কয়েক পলক তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিল মনে হচ্ছে কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে আজ বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে রেখে আবারো খুললো আহিয়া বুঝতে পারল ভাইয়ের হৃদয়ের ব্যাকুলতা।
তাই ফোনের ক্যামেরা তৃধার দিকে তাক করে এসে আদিবা সাথে দুষ্টুমিতে মেতে উঠলো।
এদিকে আহিয়ান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার সোনা পাখির বিধ্বস্ত চেহারার দিকে।
গাল দুটো এখন তার আগের মতো গুলুমলু নেই কিছুটা শুকিয়ে গেছে।
গলার হার গুলো দেখা যাচ্ছে। চোখের নিচে কেমন কালো ছিঁটে দাগ পড়েছে।
মনে হচ্ছে কত দিনের পর দিন ঘুমাইনি।
আহিয়ান ব্যাথাতুক হাসলো তৃধা হয়তো বুঝতে পেরেছে কিছু। তাই সে পুরো নাস্তা শেষ না করেই ঝটপট করে হাত ধুয়ে মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।
আহিয়ান শুধু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল খাবার শেষ না করে পালিয়ে যাওয়ার দিকে।
অতঃপর ফোনটা নীরবে কেটে দিল।
তৃধা চলে গেছে আহিয়া যাইনা লক্ষ ফোনের স্ক্রিনের দিকে দেখল ভাইয়া ফোন কেটে দিয়েছে।
এরপর সে মৃদু ভেসে নাস্তা টেবিলে বসল একে একেবারে বাড়ির পুরুষেরা সকলেই নাস্তা করে বেরিয়ে পড়েছে।
বাড়ির গাড়িটা থামল কলেজের গেটে দেখলো জুঁই গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর ১৫ জনের সমস্ত ঘটনার জুঁইয়ের জানা।
তাই তৃদাকে আর জুই একা ছাড়ে না।
সারাক্ষণ ওর সঙ্গ দেয় আর চেষ্টা করে ওর মন ভালো রাখতে। প্রতিদিনের না জুঁই আজকেও তৃধাকে মানানোর চেষ্টা করছে ফুচকা খেতে যেতে।
বারবার বলছি এখনো ক্লাস শুরু হতে অনেক দেরি চল দুজনে গিয়ে ফুচকা খেয়ে আসি।
তৃধা প্রথমে যেতে চাইলো না পরে জয়ের কথা ভেবে দুজনেই গেল সামনের দিকে এগিয়ে । তৃধা জানে ফুচকা খেতে যাওয়া জুইয়ের আসল কারণ নয় ওর আসল কারণ পাশের দোকানের মেহেদী কে দেখতে যাওয়া। তৃধা আনমনে হাঁটলেও সেদিকে। সত্যিই মেহেদী নামের ছেলেটা অমায়িক লম্ব বহিষ্ট দেহ শিক্ষিত পুরুষ তাহলে সে এত ছোটখাটো একটা লাইব্রেরীতে চাকরি করে কেন এটা ত্রিধার মাথায় ঢুকে না।
মাঝে মাঝে জুঁইকে বলতে ইচ্ছে করে তোর বয়ফ্রেন্ডের ভালো করে খোঁজখবর নেই এই ব্যাটার ভিতরে নিশ্চয়ই কোন ঘাপলা আছে।
কিন্তু সে নিজের ইচ্ছেটাকে নিজের ভেতর আটকে রাখল বান্ধবীর খুশি মুখটা দিকে তাকে কিছুই বলতে পারল না।
ওরা ফুচকার দোকানে গিয়ে পৌঁছালো তার সামনের দোকানটাই মেহেদির দোকান।
ওদের দেখে মেহেদী পাশের দোকান থেকে এগিয়ে এলো।
জুঁই লাজুক ভঙ্গিতে কপালে কাছে আসা চুলগুলো কানে বুঝে বারবার তাকাচ্ছে। ত্রিধা খানিকটা আর চোখে ওদের দেখে
পাশ কেটে গিয়ে ফুসকার ওটা দিল।
ফুচকার অর্ডার চলে আসতেই ওদের দুজনকে এক টেবিলে ফুচকা দেওয়া হল।
আর ত্রিধা বসলো আলাদা কিন্তু জুই বারবার বলেছিল ওদের সাথে বসতে কিন্তু তৃধা জানালো সে এভাবেই ঠিক আছে।
ফুচকাটা মুখে দেওয়ার আগ মুহূর্তে তৃধার চোখ দুটো ছল ছল হয়ে উঠল।
আর আনমনে বলে উঠলো আহিয়ান ভাই আপনি আর আমি এক টেবিলে ফুচকা খাওয়ার স্বপ্নটা স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে।
কেমন আছেন?
মেহেদির কথায় জুই মাথা নিচু করে জবাব দিল আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি
লেখাপড়া ঠিক মতো চলছে তো?
জুই হুম। আচ্ছা একটা কথা বলি?
মেহেদি বলুন।
জুঁই আমি তো আপনার থেকে অনেক ছোট তাহলে আমাকে এমন আপনি আপনি করে কেন বলেন?
মেহেদী কারণ কেউ এখনো বলেনি তাকে তুমি করে ডাকতে।
জুঁই জুই লাজুক হেসে মাথা নিচু করে বলল সবকিছুতেই কি আপনার পারমিশন নেওয়া লাগবে
মেহেদি তাহলে কি অবাধ্য হব।
জুঁই আর কিছু বলল না এই ছেলের সাথে সে কখনোই কথাতে পারে না চুপ করে আছে কিন্তু সে অনুভব করতে পারছে সামনের লোকটার দৃষ্টি তার নত মস্তিষ্কের দিকে।
ঠিক তখনই হঠাৎ করে বেজে উঠলো মেহেদির বাটন ফোনটা।
পকেট থেকে ফোনটা বের করে কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে কি বলল সোনা গেল না। মেহেদি হালকা তেজী কন্ঠে জবাব দিল আমি এখনই আসছি।
তারপর ঝটপট ফুচকার বিল পরিশোধ করল যদিও ত্রিধা ও দুই মানা করেছিল।
কিন্তু মেহেদি মানলো না।
জুঁই এর থেকে বিদায় নিয়ে সে বিল পরিশোধ করে চলে গেল।
জুঁই চেয়ে রইল মেহেদির যাওয়ার পানে। কোঁকড়ানো চুল পুরুষদের লম্বা অগোছালো লোকটিকে তার বড্ড ভালো লাগে।
সব থেকে ভালো লাগে তার অমায়িক ব্যবহার।
লোকটা কত সুন্দর করে কথা বলে।
দুধে ময়লা কিছু পাওয়া গেলেও বিশ্বাসযোগ্য কিন্তু এই লোকের কথায় অশুদ্ধতা পাওয়া অবিশ্বাসযোগ্য।
জুয়ের ভাবনার মাঝে তৃধা তারা দিল কলেজে ফেরার।
ক্লাস টাইম শুরু হয়েছে আর ১০ মিনিট বাকি,১০ মিনিট পর ক্লাসের সবচেয়ে খচ্চর সামাদ স্যারের ক্লাস।
যিনি ওদের ম্যাথমেটিক্স পরান তার ক্লাসে এক মিনিটে লেটে ঢুকতে পারবে না।
পড়ালেখা ছাড়া অন্য কোন কথা বলতে পারে না এদিক সেদিক তাকাতেও পারবেনা তাছাড়া রয়েছে আরও অনেক রুলস।
তার একটা কিছু অমান্য হলে মনে হয় এই স্যার গুলি করে মারবে পুরো ক্লাসটাকে।
পুরো ক্লাস তার চোখকে ভয় পায়।
চোখ লাল হয়ে আসে রেগে গেলে এটা দেখেই তো মেয়েদের গলা শুকিয়ে আসে।