ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

64

লেখক: ফারজানা মনি

এদিকে আহিয়ান রুম থেকে বের হয়ে যেতেই.... আহিয়া বিছানার কোনায় টপ করে বসে পড়ল.. তার বুক ধক ধক করছে। এটা কোন ভয় নয়। এটা এক অজানা কম্পন। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তারপর রিহানের কথা ভেবেই মৃদু হেসে একা একা বলল : পাগলাটা আমাকে কিছু না জানিয়ে ভাইয়াকে সব বলে দিয়েছে। তারপর নিজেই নিজের ভাবনায় নাক মুখ লুকালো।

রিহান কিভাবে জানাবে....? গতকাল থেকে তো সে রিহানের সাথে কথাই বলে না...! কথাটা মাথায় আসতেই..... আহিয়া কল দিল রিহানের নাম্বারে।

কিন্তু দুইবার, তিনবার, চারবার, কল দেওয়ার পরও রিহান কল রিসিভ করল না। আহিয়া একটু চিন্তিত হল। পরবর্তীতে আবারো কল দিল। এবার পঞ্চম বারের মাথায় কল রিসিভ হলো। আহিয়া রিহানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নিজে বলা শুরু করল: কতবার কল দিয়েছি রিহান? আপনি কল রিসিভ করছেন না কেন?

আপনি জানেন না আমার কতটা চিনতা হচ্ছিল?

ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসলো এক অপরিচিত মেয়েলি কন্ঠ

----আসসালামু আলাইকুম----- কে বলছেন....?

আহিয়া একটু থতমতো খেলো.... মিনমিনিয়ে কন্ঠে বলল: আমি রিহানের বন্ধু.... আর আপনি....?

আহিয়ার স্পষ্ট কণ্ঠ শুনে ফোনের উপাস থেকে উত্তর এলো : আমি রিহানের আম্মু.....

আহিয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভদ্রভাবে বলল: ভালো আছেন আন্টি?

রিহানের আম্মু: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি... তুমি ভালো আছো মা....?

আহিয়া: জি আন্টি.... রিহান কোথায়....? মানে রিহান কি আজকে ফোন বাড়িতে রেখেই অফিসে গেছে..?

রিহানের আম্মু: রিহান আজকে অফিসে যায়নি।

কি একটা জরুরী কাজ আছে বলে সকালবেলা বের হয়েছে। এখনো ফেরেনি.....

আহিয়া: ও আচ্ছা.... তাহলে রাখি.....ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।

রিহানের আম্মু: শোনো মেয়ে...

আহিয়া কাঁপা কন্ঠে উত্তর দিল: জি আন্টি....বলুন...?

রিহানের আম্মু: ঈদের দাওয়াত রইলো.. আমি রিহানকে বলে দিব.. ঈদের পর আমাদের বাড়িতে এসো...

আহিয়া: আচ্ছা আন্টি?

কথাটা বলেই রিহানের আম্মু ফোন কেটে দিল।

আহিয়া কয়েকটা শ্বাস ছেড়ে বিছানায় গায়ে দিয়ে দিল।

তৃধা ড্রয়িং রুমে সোফায় শুয়ে অনেকক্ষণ ধরে টিভি দেখছি। তখনই বন্যা এসে বলল: এভাবে শুয়ে বসে টিভি না দেখে বই খাতা গুলো খুলে দেখলেও তো একটু পারিস.....নাকি ভার্সিটি বন্ধ বলে বাড়িতে পড়ালেখা করা যাবে না?

তৃধা শোয়া থেকে উঠে বসে বলল: রমজান মাসের এই ৩০ দিন তো কোরআন শরীফ পড়ি তাহলে ভার্সিটির পড়া কেন পড়বো... ? আমি রোজা থেকে দুই পড়া একসাথে পড়তে পারবো না। তাই বাংলা পড়া ঈদের পর পরবো।

বন্যা বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে বলল: কোন সংবিধানে লেখা আছে রমজান মাসে আরবীর পাশাপাশি বাংলা পড়া যাবে না?

কি যে অফ করে তৃধা উপরের দিকে যেতে যেতে বলল:এটা তৃধার সংবিধানের লেখা আছে মামমাম।

এই মেয়ে জীবনে কথা শুনবে না। তাই বন্যা হাল ছেড়ে হাঁটলে কিচেন এদিকে।

আর তৃধার সিড়িবে যাচ্ছিল তৃতীয় তলায়। তখনই মুখোমুখি হলো আহিয়ান এর সাথে। আহিয়ানের গম্ভীর মুখ নিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে বলল: আমার রুমে যা.... আমি আসছি....

তৃধাকে... কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে । আহিয়ান শিড়ি নিচে চলে গেল....

তৃধা আশেপাশে নজর বুলিয়ে। হেলে দুলে হেটে গেল আহিয়ানের রুমের দিকে। রুমের দরজা হাট করে খোলা দেখে। তৃধা সরাসরি ঢুকে পড়লো রুমের ভিতরে। দরজা চাপিয়ে রুমের চারিদিক দেখতে দেখতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। সেখানে সাজিয়ে রাখা বিদেশী ব্র্যান্ডের পারফিউম। আরো অনেক রকম প্রোডাক্ট। তারপর সে গেল কাভার্ডের দিকে। কাভার্ট খুলতেই নজরে এলো সারি সারি সাজানো কালো রংয়ের শার্ট টি-শার্ট কাল প্যান্ট সকল কালোর মাঝখানে হাতেগোনা কয়েকটা সাদা ও নেভি ব্লু কালারের শার্ট টি-শার্ট রাখা। তৃধা তাহলে নিচের কাভার্টের দিকে সেখানে সাজিয়ে রাখা ব্র্যান্ডেড দামি দামি সুন্দর সুন্দর ঘড়ি। একটা কালো ফিতার ঘড়ি হাতে নিল। তারপর ওড়নার আচল দিয়ে গ্লাসটা মুছে একটা চুমু খেল।

তার মনে হচ্ছে কল্পনায় সে আহিয়ান ভাইয়ের ঘড়ি পড়া হাতে চুমু দিচ্ছে। তখনই দরজায় শব্দ পাওয়া গেল। তৃধা পিছন ফিরে দেখল আহিয়ান ভাই নখ দিচ্ছে।

আহিয়ান কে দেখে তৃধা কাভার্ড লাগিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। আহিয়ান এগিয়েছে গা ভেসে দাঁড়াতেই। কিগো লজ্জায় হাসফাঁস করে উঠলে ।

এখন পারলে সে মুহূর্তে এখান থেকে ছুটে পালায়। কিন্তু পারলো না আফসোস। আহিয়ান তার দুই হাত রাখল তৃধর পিছনের কভারটে শরীর থেকে তীব্র পারফিউমের ঘ্রাণ আসছে। তৃধা নাক আহিয়ান এর বুকে ছুঁই ছুঁই । না চাইতেও মেয়েটা বিমহিত হচ্ছে।

তোর ফোন কই?.

আহিয়ানের প্রশ্নই তৃধার ঘোর কাটল।

তৃধা আমতা আমতা করে বলল : ঘরে...

আহিয়ান : পাসওয়ার্ড দে?

তৃধা : পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনি কি করবেন?

আহিয়া : আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তুই উল্টো আমাকেই প্রশ্ন করছিস....?

আহিয়ান প্যান্টের পকেট থেকে তৃধার ফোন হাতে নিয়ে বলল : পাসওয়ার্ড বল...?

তৃধা ফোনটা নিজের হাতে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল : আমাকে দেন আমি খুলে দিচ্ছি।

আহিয়ান হাত উঁচু করে ফোনটা ধরল। তৃধা ধরার জন্য কয়েকটা লাফ দিল। কিন্তু আহিয়ানের হাতের নাগাল পেল না। উল্টো আহিয়ানের থুতনি সাথে মাথা কয়েকবার বাড়ি খেলো। আহিয়ান এবার..ধমক দিয়ে বলল: পাসওয়ার্ড বল বেয়াদব...এভাবে লাফাচ্ছিস কেন,,,,? ফোনে কি আছে আমি দেখলে কি সমস্যা__?

আহিয়ানের ধমকে তৃধা মুখ গম্ভীর করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

আহিয়ান আবারো বলল: পাসওয়ার্ডটা?

তৃধা নিচের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল: t2a forever.....

মেয়েটার চোখ ছল ছল করছে পানিতে। আহিয়ান দেখলো এক নজর সেদিকে। কিন্তু বিশেষ কোনো মাথা ঘামালো না। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল: এই অদ্ভুত পাসওয়ার্ড এর মানে কি?..

তৃধা মিনমি নিয়ে গলায় বলল: treda to Ahiyan forever...

আহিয়ান ফোনের লক খুলে কল লিস্টে দেখল।

রিসিভ করো ডায়াল কলে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের নাম্বার দেখা গেল। কিন্তু মিসকলে এহসানের শতশত কল। বেশিরভাগ কাল রাতে এসেছে। হয়তো তৃধার রিসিভ করেনি তাই সব কল মিস কলের আওতায় আছে। তারপর আরিয়ান হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমুতে চেক করল। সেগুলো তো এহসান এর শত শত টেক্সট। তৃধা মাঝে মাঝে কয়েকটা রিপ্লাই দিয়েছে আর বাকি সব আনসিন অবস্থায় পড়ে আছে। একটা টেক্সে এসে আহিয়ানের চোখকে আটকে গেল সেখানে এহসান তৃধার সৌন্দর্য প্রকাশ করে বলেছে: কিউটি ডল।

আমার চোখে দেখা সব থেকে সুন্দরী তুমি। চাঁদের গায়ে যেমন কলঙ্ক আছে। আমিও তোমার গায়ের কলঙ্ক হয়ে সারা জীবন তোমার সাথে লিপটে থাকতে চাই।

আহিয়ানা চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। ফোনটা ফ্লোরে এক আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল। তৃধার দিকে রক্ত লাল চোখে তাকালো। সেই মুহূর্তে তৃধা মাথা তুলে থাকাতে চোখাচোখি হল দুজনের । তৃধা ভয়ে খানিকটা আত্মীয় উঠলো। আহিয়ান ভাই কে বড্ড বেশি আমার লাগছে।

আহিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বলল: এহসান তোকে এত ডিস্টার্ব করে আমাকে বলিস নি কেন তুই?

তৃধা ভয়ে থতমতো খেয়ে বলল: না মানে.... আহিয়ান ভাই তেমন কিছু নয়?

আহিয়ান কটমট করতে করতে বলল: তাহলে কেমন কিছু? নাকি তোর ভালো লাগে এহসান পেছনে পেছনে ঘুরলে?

তৃধা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল: আহিয়ান ভাই....

আহিয়ান এবার বুঝি আর একটু রেগে গেল।

দাদার দাঁত চেপে বলল: আমি তোর ভাই? আমাকে ভাই দিকে পরপুরুষের কাছ থেকে প্রশংসা শোনা হচ্ছে?

তৃধা চুপ করে রইল। তার ঠোঁট কাছে, কন্ঠ ভেজা।

এই মুহূর্তে আহিয়ান ভাইকে বলবে তার জানা নেই।

তার আহিরান ভাই তাকে ভুল বুঝছে, তাও আবার অন্য পুরুষের জন্য। সে তো পাপার সম্মানের কথা ভেবে এহসানের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি।

তাছাড়া নিজের মত টেক্স বা কল করে গেছে তৃধা তাতে কোন রেসপন্স করেনি। তাহলে তার দোষটা কোথায়?

আহিয়ান কর্কট কন্ঠে আবারো ধমক দিয়ে বলল: আমার answer চাই right now...

তৃধা আবাক কন্ঠে বলল: কিসের অ্যানসার?

আহিয়ান কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল: আমার মেজাজ কিন্তু প্রচণ্ড গরম হচ্ছে... রাগ কন্ট্রোল করতে পারছি না...যা জিজ্ঞেস করছি সুন্দরভাবে উত্তর দে....

তুই এহসানের কথা এখন পর্যন্ত নিজে থেকে আমাকে জানাস নি । এর মাঝে একজন তোকে ডিস্টার্ব করছে ব্লকও করিস নি।

তৃধা কেঁপে উঠলো আহিয়ানের ভয়ক্ত রাগ দেখে।

ভেজা কন্ঠে আস্তে করে বলল: পাপা ও বড় পাপা আহসানকে পছন্দ করে। ওনাকে নিয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই বিশ্বাস করুন। এহসান কল দেয় আমি রিসিভ করি না । কিন্তু ব্লক করি না পাপার সম্মানের কথা ভেবে

যদি আমার বেয়াদবির কারণে আমার পাপাকে কথা শোনায়। বলতে বলতে তৃধার হেঁচকি তুলে কাঁদে দিল।

তৃধার কান্না দেখে আজকে মায়ার চেয়ে বেশি রাগ হচ্ছে আহিয়ানের। বিরক্তিতে খাটের কোন একটা লাথি মেরে বলল: তুই আগে কেন আমাকে বলিস নি?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 64 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন