ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

63

লেখক: ফারজানা মনি

আহিয়ান কিছু বলল না। চুপ করে রইলো। রিহান কে আরো কিছু বলার সুযোগ দিল। রিহান ঘন ঘন কয়েকটা শ্বাস নিয়ে ঢোক গিলে আবার বলা শুরু করল। তুই তো জানিস আমি ওকে ভালবাসি।

আহিয়ান সোফায় হেলেন দিয়ে বসতে বসতে বলল: হুম জানি। রিহান অশান্ত চোখে তাকিয়ে আছে আহিয়ানের দিকে। তার কেবিনে অন্যরকম একটা নীরবতা টেবিলের সামনে দুই বন্ধু মুখোমুখি বসে আছে.....

একজনের মুখে দ্বিধা.......অন্যজনের চোখে প্রশ্ন.....?

রিহান হাতের আঙ্গুলগুলো শক্তভাবে চেপে ধরেছে।

আঙ্গুলের নড়াচড়া দেখেই বোঝা যায়.... তার ভিতরে তীব্র অস্থিরতায় ভরপুর। শেষে সাহস করে মুখ খুলল-

আহিয়ান.... তোকে আমি আজকে একটা খুব বড় সত্যি কথা বলবো.....

আহিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল: তাই তো বল .... কি হয়েছে ?

রিহানের গলা শুকিয়ে গেছে। শব্দগুলো বের হয়েছিল অনিয়মিত। টুকরো টুকরো.... আমি... আমি অনেকদিন ধরে একটা অপরাধ নিয়ে ঘুরছি।

আহিয়ান ভুরু কুঁচকালো ... অপরাধ....! কি অপরাধ...?

রিহান চোখ নামিয়ে বলল: তোকে না জানিয়ে... তোর বোনকে...আহিয়ান যেন কথাটা শুনে মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।চোখ বড় বড় হয়ে গেল।

আহিয়ান : আহিয়া....?

রিহান আস্তে করে মাথা নাড়লো...

আমি সত্যিই ওকে অনেক ভালোবাসি....অনেকদিন ধরেই। তোকে বলার সাহস পায়নি... ভয় হচ্ছিল.... যদি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়.....?

ঘরে কিছু মুহূর্তের জন্য আবারও নীরবতা নেমে এলো।

তারপর আর একটু গলা খ্যাকারি দিয়ে জিজ্ঞেস করল...

শুধু তুই....? নাকি আহিয়া ও তোকে ভালবাসে....?

এবার রিহান পুরো মাথা নিচু করলো। গলা কাঁপিয়ে বলে উঠলো হ্যাঁ.... আহিয়াও আমাকে ভালবাসে।

আমরা দুজন রিলেশনে আছি দুই বছর হল। এখন আমি ওকে বিয়ে করতে চাই....

আহিয়ান বিস্ময় হালকা পিছনের হেলান দিল।

বন্ধুর মুখে এমন কথা সে আশা করিনি।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গভীর নিঃশ্বাস ফেললো।

তারপর ধীরে কিন্তু .......স্পষ্ট কণ্ঠে বলবো..

মানে.... তোরা দুজন একে অপরকে ভালবাসিস?

রিহান আসতে বলল: হ্যাঁ...

আহিয়ান কিছুক্ষণ চুপ। শব্দ খুঁজে পাচ্ছিল না...

তার চোখে অবাক ভাব থাকলেও.... চোখে কোন রাগের চিহ্ন নেই...অবশেষে দুই হাত টেবিলের উপর রেখে ধীর কণ্ঠে বললো : রিহান বন্ধু হিসেবে আমার তোর কাছে অনেক প্রত্যাশা ছিল.... তার থেকে বড় কথা আমি আমার বোনকে সুখি দেখতে চাই....

রিহান নিঃশ্বাস আজকে শুনলো কথাগুলো...

তারপর আহিয়ান আবার বলল: তোরা যদি সত্যিই একে অপরকে ভালোবাসি....আমি যদি দেখি তোরা দুজন একে অপরকে সম্মান দিস.....তাহলে বন্ধু হিসেবে...অথবা ভাই হিসেবে... আমি তোদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবো না.....রিহানের চোখে পানি এসে গেল... কথা বলতে গিয়ে গলায় আটকে গেল...

মানে .....তুই রাজি? আহিয়ান মুচকি হাসলো

রাজি কিনা সেটা সময় বলবে... ঈদের পর বাড়িতে প্রস্তাব পাঠা স.... ভেবে দেখব। বলেই আহিয়ান উঠে দাঁড়ালো... সঙ্গে সঙ্গে রিহান বন্ধুকে জাপটে ধরে বলল: ধন্যবাদ দোস্ত... তোকে বলতে পেরে আজ আমার বুক থেকে ভারী একটা পাথর নেমে গেল মনে হচ্ছে।.....

রাত দুইটা জুই এখনো জানানোর পাশে বসে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।সন্ধ্যা রাত থেকে মেহেদির অনবরত কল ও ট্রিক স দেখে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ইমু মেসেঞ্জার সহ সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছি। জুই নিজের বাড়িতে বসেও মেহেদির ভেতরের অস্থিরতা টের পাচ্ছে। মানুষটা শুধু পারছেনা বাড়ি চলে আসতে? যদি পারতো তো চলে আসত...

পৃথিবীতে এক রকমের মানুষ আছে...

যাদেরকে আমরা পাত্তা দিলে তারা আমাদেরকে পাত্তা দেয় না ।আর আমরা যদি অবহেলা করি তারা পারলে শরীরের সাথে লেপটে থেকে যেতে চায়। মেহেদীও তেমন একটা ছেলে। সারাদিন কাজের ব্যস্ততা ব্যস্ততা বলে জুইয়ের সাথে যোগাযোগ কম করতো।

কিন্তু তুই যদি কখনো রাগ করে ফোন রিসিভ না দ না করতো তাহলে ছেলেটা উন্মতের মত কল করতো।

মনে হয় তার ইহকালে জুঁইকে কে কল করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। আজকেও তেমন ঘটেছে। দুপুরবেলা মেয়েদের সাথে দেখা করে আসার পর... মেহেদী আর সারাদিন কল দেয়নি... সন্ধ্যার পর থেকে মেহেদী অনাব্রত কল ও টেক্স করেই যাচ্ছে..

ছেলেটাকে যোগাযোগের মাধ্যম থেকে ব্লক করে রেখেছে। কিন্তু তবুও মনে হচ্ছে মেহেদী কল দিবে...

তাই বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে মেহেদী কে ব্লক করে সেই বোকামি করেছে। এতক্ষণ ছেলেটার কল আসলেও মনের একটা শান্তি লাগতো।

মনে হতো প্রিয় মানুষটা তাকে মনে করছে।

কিন্তু এখন সবকিছু দম বন্ধ লাগছে। জুই আর সহ্য করতে না পেরে... পা টিপে টিপে গেল মহামুদা খানের ঘরে দাদুর ঘরের দরজাটা আলতো খোলা দেখে ভিতর ঢুকলো। অন্ধকারে ফোনের ফ্লাশ জ্বালিয়ে খুঁজতে লাগলো দাদুর মেডিসিনের বক্স। বক্স হাতে পেতেই মেডিসিনগুলো সব হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলো। কাঙ্ক্ষিত মেডিসিন টি হাতে পেতে জুঁই মৃদু হাসলো তারপর চুপচাপ বেরিয়ে আসলো সেই রুম থেকে।।

রুমে এসে মেডিসিন টি খেয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শান্তির ঘুম দিল জুঁই। সকাল তখন সাড়ে দশটা... হালকা শীতের নরম আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আহিয়ান আজকে অদ্ভুত নীরব... ড্রয়িং রুমে কিছুক্ষণ বসে ছিল। চিন্তা ,অস্থিরতা ,আর কিছু অবিশ্বাসে, তৃধা কয়েকবার আশেপাশে ঘুরঘুর করেছে কিন্তু সে তাতে খেয়াল করেনি।কিছুক্ষণ পর গভীর নিঃশ্বাস ফেলে সিঁড়ি বেয়ে পড়ে গেল।

সিঁড়িবে উপরে উঠে প্রথমে গেল আহিয়ার রুমে।

সে কিছুক্ষণ আহিয়ার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা ভেবে দরজায় টোকা দিল।

ভেতর থেকে ক্লান্ত বলার উত্তর এলো... কে?

আহিয়ান : আমি কথা আছে দরজা খোল

আহিয়া ঘুমো ঘুমো চোখে দরজা টা খুলে অবাক হয়ে গেল...

আহিয়া : ভাইয়া তুমি... কি হয়েছে?

আহিয়ান কোন কথা না বলে দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করে দিল। সে উপরে উপরে শান্ত কিন্তু তার চোখে ভেতরে স্পষ্ট উত্তেজনা।

আহিয়া কপাল কুঁচকে বলল: কি হয়েছে?

একটু নীরবতা... তারপর আহিয়ান সরাসরি প্রশ্ন করব: তুই রিহানকে ভালবাসিস. ?

আহিয়া মুহূর্তে যেন জমে গেল...

মুখের রং পাল্টে ভয়াত্ব হল। কেউ যেন তার বুকের ভেতরের গোপন পাটাটা ছিড়ে খুলে দেখল।

কি.... কি বললে?

তার গলা কেঁপে গেল।

তুমি.... এমন কেন বলছো ভাইয়া?

আহিয়ান ধীরে ধীরে এগিয়েও সামনে দাঁড়ায় ওর চোখে কোনো রাগ নেই।

শুধু অবাক, আর কিছুটা উত্তেজনা।

সত্যি কথা বল আহিয়া.. তোকে জানা সম্পূর্ণ অধিকার আমার আছে.. আমি তোর ভাই.. তুই রেহানকে ভালবাসিস?

আহিয়ার দু সেকেন্ডের চোখ ভিজে আসলো। কিন্তু সে চোখ নামিয়ে নিল না।

_ধীর খুব নরম গলায় বলল.... হ্যাঁ ভালোবাসি অনেক দিন ধরে....

কথাটা শুনতে আহিয়ান চোখ বন্ধ করে হালকা নিশ্বাস ছাড়লো।

আইয়া তৎক্ষণাৎ বলল: কিন্তু তুমি রাগ করবে বলে কখনো বলা হয়নি।

রেহানও বলেনি। কেউ তোমাকে অসম্মান করতে চাই না।

বিশ্বাস করো। তাছাড়া রিহান সারাক্ষণ ভয়ে থাকে এই সম্পর্কটার জন্য যদি তোমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়

।

ভাইয়া তুমি প্লিজ রিহানকে অবিশ্বাস করো না।

আমি ওকে নিষেধ করেছিলাম তাই কিছু জানিনা।

সত্যি ওর কোন দোষ নেই।

আরিয়ান হালকা হাসলো_একটু ক্লান্ত কিন্তু উষ্ণ হাসি।

আমি রাগ করিনি,,, আমার শুধু অবাক হয়েছিল, আমার একমাত্র বোন ও আমার কাছের বন্ধু.... দুজন দুজনকে ভালোবাসি এটা জানলে কি আর শান্ত থাকা যায়।

আহিয়া নিঃশ্বাস নিলে তবুও মুখে ভয়। সরি ভাইয়া...

আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।

তুমি আমাদের ভুল বুঝনা।

রিহান কাছে এসে আহিয়ার মাথায় হাত দিয়ে বলল: ভুল বুঝিনি.. তোরা যদি একে অপরকে ভালবাসিস ,,,তো আমি এখানে কেন বাধা হয়ে দাঁড়াবো...

তাছাড়া ভীষণ ভালো ছিল আমার বোনের জন্য একদম পারফেক্ট....

আহিয়ার চোখে পানি চলে আসলো ...অবিশ্বাসে কেঁপে উঠলো কণ্ঠ।

_ভাইয়া সত্যি বলছো?

আহিয়ার মৃদু হেসে নরম ভাবে বলল: রেহানের সাথে আমার কথা হয়েছে বলেছি ঈদের পর বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে আসতে।

আশা করি তোর কোন সমস্যা নেই।

আহিয়া খুশি হলো কিনা বোঝা গেল না। কিন্তু তার মুখে চিন্তার ছাপ।

চিন্তিত কন্ঠে বলল :কিন্তু পাপা?

আহিয়ান বোনের মাথায় ভরস আর হাত রেখে বলল: ওদের আগে আসতে দে.... তারপর বাবার সাথে আমি কথা বলব... তোর ভাইয়া তো আছে চিন্তা কিসের?

আহিয়ার দুই চোখ পানিতে টলমল করছে সবকিছু যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে।

আহিয়ান বোনের চোখে খুশির অশ্রু দেখলো। তারপর মৃদু হেসে রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল।

কিন্তু রুমে অনবরত ফোনের রিংটোনের শব্দে থেমে গেল।

কিন্তু আবারো কল আসলো তাই আহিয়ান ভুরু কুঁচকে এগিয়ে গেল ত্রিধা রুমের বিছানার দিকে।

এগুলো পুরো রুমে কেউ নেই ফোনটা অবহেলার বিছানায় পড়ে আছে।

সেখানে পাঁচটা মিসকল ও সাতটা টেক্স জমেছে।তৃধা আর ফোনের লক এখনো জানা হয়ে ওঠেনি আহিয়ানের । কিন্তু নোটিফিকেশনে মেসেজ ও কল দাদার নাম ভেসে আছে। পলক তাকিয়ে দেখল স্কিনে এহসানের নাম জ্বলজ্বল করছে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 63 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন