ভয় তৃধা একটু কাভার্টের দিকে গুটিয়ে দাঁড়ালো।
তারপর মিনম নিয়ে কন্ঠে বলল: আপনার সাথে তো আমার দীর্ঘদিন কথা হয়নি.... তাহলে কি করে বলবো? গত একসাথে ধরে কথা হয় তাও এই এক সপ্তাহে এই এহসান কল দেই নি। তাই জানানো হয়নি। রাগে আহিয়ানের চেহারা রক্তিম হয়ে আছে। তৃধার দুই ধাপ পিছিয়ে বলল: কথা হয়না বলে কি আমি তোর পর হয়ে গেছি। আমার চেয়ে আপন তোর ওই এহসান?
তৃধা চুপ করে রইল। তৎক্ষণাৎ আরিয়ান কিছু উত্তর না পেয়ে গম্ভীর কিন্তু ধারালো কন্ঠে বলল: তৃধা আমি কিন্তু নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারছি না.... এখন তুই নিজে ঠিক কর.... তুই কষ্ট পাবি নাকি আমাকে কষ্ট পেতে দেখবি?
তৃধা ঝটপট মাথা তুলে তাকালো। আহিয়ানের কথার কোন মানে বুঝলো না সে। তবুও কাতর কণ্ঠে বলল : আমি আপনাকে কষ্ট পেতে দেখতে পারবো না।
যা শাস্তি দেওয়ার আমাকেই দিন। ভুল আমি করেছি। আপনাকে না জানিয়ে।
আহিয়ান আর একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়ালো। তৃধা মাথা নিচু করে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে। আচমকা আহিয়ান মেয়েটার গলাতে জড়িয়ে থাকা গোলাপি ওড়না টান দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল। তৃধা হক চকিয়ে মাথা তুলে তাকালো। কিন্তু বুঝতে দেরি হয়ে গেছে।
এতক্ষণে আহিয়ান মুখ ডুবিয়েছে তৃধার ফর্সা মসৃণ গলায়। তৃধা ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো। হাত দিয়ে আটকাতে চাইলে আহিয়ান ওর দুই হাত পিঠের দিকে বন্দি করল। আর এক হাতে তৃধার মুখ চেপে ধরল।
মেয়েটার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। কিন্তু আহিয়ান ছাড়লো না। তৃধা স্পষ্ট বুঝতে পারছে ছেলেটা কতটা ভয়ংকর ভাবে লেগে গেছে।
দীর্ঘ 20 মিনিট লাভ বাইট শেষে আহিয়ান তৃধার গলা থেকে মুখ তুললো। মেয়েটা জোরে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। মনে হচ্ছে দীর্ঘ 20 মিনিট পর সে জীবন ফিরে পেয়েছে।
---পাঠিকা রা একটা কথা বলি এমন কে আছে ভাই রেগে গিয়ে বাইট করে তোমাদের সাথে কি এমন হয় কমেন্টে বলে যেও...😂 চলো গল্পে ফিরে জাই>>
আহিয়ান কয়েক সেকেন্ড কান্না মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে। শক্ত করে বুকে জড়িয়ে । কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল: সরি জান নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনি...
তৃধা এবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। ওর কান্না দেখে আহিয়ান আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরল বক্ষে।। তৃধা এখনো কাঁদছে। আহিয়ান আবার বলল: বলছি তো রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনি.... এবার একটু কান্না বন্ধ কর। গিয়ে রেডি হও আমরা শপিংয়ে যাব।
তৃধা কান্নারত অবস্থায় ভাঙ্গা কন্ঠে বলল: আমি যাব না কোথাও...
আহিয়ান মৃদু হাসলো। তারপর তৃধার সামনে পড়ে থাকা ছোট ছোট চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে দুটো শক্ত চুমুকে দিয়ে বলল: আমার পরী..রাগ করিস না। এমন ভুল আর করবি না। এখন থেকে যাওয়া হবে আমাকে জানাবি। প্রয়োজনে পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি তোকে নিয়ে অনেক দূরে কোথাও চলে যাব। তবুও তোকে আমি হারাতে পারবো না। তোর আমার মাঝে তৃতীয় পক্ষ বলতে কেউ থাকবে না। পরিবারের কে কি ভাবল। কে কি বলল। সে কারণে এহসানকে এত পাত্তা দিতে হবে না। তারপরেও যদি এহসান ডিস্টার্ব করে আমাকে বলবি। আমি তো আছি... I will manage everything...
তৃধা আর কিছু বলল না। আহিয়ানের কাছ থেকে ছোটার জন্য নড়াচড়া শুরু করল। আহিয়ান বুঝলো বউ তার ভয়ংকর ভাবে রেগে গেছে। তৃধা দিকে তাকিয়ে বলল :বউ তোমাকে কিন্তু এভাবে আজ অনেক সুন্দর লাগছে... তৃধা বুঝলে লোকটার মতলব তার রাগ ভাঙ্গানোর জন্য আদর করে তুমি বলে ডাকা হচ্ছে। সে আজ মানবেনা। আর কেনই বা মানবে? এই লোক ভুল বুঝে সমস্ত রাগ ছেড়েছে ওর গলার উপর...
উফফব বাইট করার স্থানটা জ্বলে যাচ্ছে। আহিয়ান হয়তো বসলো তৃধার অভিব্যক্তি। তাই হাত ধরে টেনে বিছানায় বসালো। তৃধা এখনো ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে হেঁচকি তুলছে। অতঃপর বেড সাইজ টেবিলের ড্রয়ার থেকে নেবানল মলম বের করে লাগিয়ে দিল রক্ত জমাট বাধার স্থান। মলম লাগাতে মেয়েটা ব্যথায় কুকরে উঠলো। আহিয়ান আস্তে আস্তে ফু দিয়ে কোমল হাতে মলম লাগিয়ে দিল।
তারপর মৃদু হেসে বলল: দুই একদিন গলাটা ঢেকে রাখিস চলে যাবে...
তৃধার প্রচন্ড মেজাজ গরম হলো। কিন্তু আহিয়ান ভাইয়ের বুকের উপর কথা বলার সাহস তার নেই।
তাই মুখ বাকি অন্যদিকে তাকালো। আহিয়ান আবারও মৃদু হাসলো।
অতঃপর নিজে থেকে ওড়না তৃধার মাথাসহ সরা শরির সুন্দর করে ঢেকে দিল। তারপর কপালে একটা দীর্ঘ চুমু দিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল: আমার সোনা বউ তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আসো আমি অপেক্ষায় আসছি... তৃধা অন্যদিকে তাকিয়ে থমথমে কণ্ঠে বললো: আমি যাব না কোথাও,..
আহিয়ান রাখলো না । স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো : হাজবেন্ডের কথা না শুনলে আল্লাহ পাপ দেয়।
আমি তোকে অর্ডার দিচ্ছি তুই এই মুহূর্তে রেডি হয়ে আহিয়াকে নিয়ে নিচে আসবি।
আমি ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করব।
বলে আহিয়ান তুয়ালা কাঁধে নিয়ে হাটা দিলো ওয়াশরুমের দিকে।
এতক্ষণ পর ছাড়া পর তৃধা দরজা খুলে দূর নিজের রুমে।
রিহান: সরি জান....
রিহানের অসহায়ত্ব বুঝতে পেরে আহিয়া মিটিমিটি হেসি লুকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল: হয়েছে আর সরি বলতে হবে না...
আহিয়া : এতক্ষন কোথায় ছিলেন...?
রিহান : একটা জরুরী কাজে বাইরে গিয়েছিলাম...
আহিয়া : কি জরুরী কাজ....?
রিহান : একটা বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেছিলাম...
আহিয়া : ছেলে বন্ধু নাকি মেয়ে বন্ধু....?
রিহান : ছেলে বন্ধু....!
আহিয়া : ওহ....আজকে অফিসে যাবেন না....?
রিহান : এসেছি তো...আজকে লেট করে এসেছি....
আহিয়া: ওহ....!!
রিহান: আম্মুর সাথে নাকি কথা হয়েছে....?
আহিয়া : হুম.....!
রিহান : তোমার ভাই বাড়িতে গিয়ে তোমাকে কিছু বলেছে....?
আহিয়া : হ্যাঁ.....!
রিহান : কি বলেছে....?
আহিয়া : জিজ্ঞেস করেছে আপনাকে ভালোবাসি কিনা....!
রিহান মিটি মিটি হেসে বলল : কি বলেছো...?
আহিয়া : আমি বলেছি ভালবাসি না... এমনকি আপনাকে ভালোভাবে চিনিও না....!
রিহান আশ্চর্যের কন্ঠে বলল: কি...?
আহিয়া হাসি লুকিয়ে বলল: জি তাই বলেছি.....!
রিহান : কি বলছো এসব...? আমার ওই সমন্ধি তো আমাকে এবার মেরেই দিবে...!!
আহিয়া আবার হাসলো তারপর বলল: আচ্ছা.... আপনি আমার ভাইকে এত ভয় পান কেন....?
রিহান হালকা গলা খেকারি দিয়ে বলল: তোমার ভাইয়ের মাথায় সমস্যা আছে। রেগে গেলে আমায় মেরে তোমায় বিধবা বানাতে ভাববে না। তৎক্ষণাৎ আহিয়া
ধমক দিয়ে বলল: রিহান....
রিহান থতমত খেয়ে বলল: তোমরা দুজন তো জমজ তাহলে তুমি সারাদিন এমন ভাইয়া ভাইয়া করো কেন...? তুমিও নিশ্চয়ই তোমার ভাইয়াকে ভয় পাও...?
আহিয়া মৃদু হেসে বলল: জি না... আমার ভাইয়া তৃধাকে ছাড়া আর কোন ভাই-বোনদের ধমক দেয় না।
রাগ হলে নিজেকে নিজের রুমে বন্দী করে রাখে। তবু আমাদেরকে দেখায় না। আর রইল ভাইয়া ডাকার কথা নিয়ে। তাহলে শুনুন আমার বাবাকে তো জানেন সব সময় ডিসিপ্লিন মেন্টেন করে চলতে পছন্দ করে। আমরা দুজন জমজ হওয়ার সত্ত্বেও বাবা আমাদের ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছে। ভাইয়া আমার দুই মিনিটের বড় হলেও তো বড়। তাই ভাইয়াকে বড় ভাইয়ের সম্মান দিতে হবে। ছোটবেলায় দুই ভাই-বোনের ঝগড়া করে তুই তুকারি করতাম কিন্তু বাবার সব সময় শুধরে দিয়েছি।
ধীরে ধীরে এটা আমার অভ্যাসের পরিণত হয়েছে।
মাঝে মাঝে আমি নিজেই ভুলে যাই আমরা যমজ।
আমার সব সময় মনে হয় ভাইয়া আমার বড়।
আমি তার ছোট বোন। জমজ কতটা বেশিভাগ সময় মাথায় থাকে না।
আহিয়ার দীর্ঘশ্বাস শুনে রিহান বলল: শ্বশুরমশাই কিন্তু হেব্বি স্ট্রেট...উনাকে পটানো আমার কম্ম নয়। উনাকে পটাতে পারে একমাত্র আমার আব্বু। আব্বুর কথা আঙ্কেল ফেলাতে পারবে না। আহিয়া ভাবুক ভঙ্গিতে বলল: সেটা না হয় বুঝলাম... কিন্তু কথা হল আপনার ও ভাই এর মত তো তারা দুজনও বন্ধু। আঙ্কেল যদি বন্ধুত্ব ভাঙতে রাজি না হয় তখন কি করবে ন?
রিহান ১ সেকেন্ডে ভাবলো না সঙ্গে সঙ্গে বলল: পালাবো...
তোমাকে নিয়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যাব। আহিয়া সশব্দে হেসে উঠলো। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়তেই আহিয়া ফোনটা বালিশের নিচে রেখে বলল: দরজা খোলা আছে... আহিয়ান দরজাটা হালকা খুলে বাড়ি থেকে বলল: আজকের শপিংয়ে যাওয়ার কথা মনে আছে তোর? আহিয়া মাথা ঝাপিয়ে বলল: জি ভাইয়া...
আহিয়ান : রেডি হয়ে নিচে আয় আমি অপেক্ষা করছি।...
তারপর আরো বললো: শোন...
সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল: হুম
আহিয়ান : পাগলিটা কেও নিয়ে আয় রাগ করেছে যেতে চাইবে না...
বলে আহিয়ান ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেল।
আহিয়া মৃদু হাসলো। এই প্রথম তার ভাইয়া তৃধার বিষয়ে ওর সাথে কথা বলেছে। ভাইয়া হয়তো জেনে গেছে সে সবকিছু জানি। এতক্ষণ রিহান ফোনে সব কিছু শুনছিল। রিহানের কথা মনে পড়তেই আহিও ফোন কানে ধরল। হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গে রিহান প্রশ্ন করল: আহিয়ান ও তৃধার সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে তাই না।
আহিয়া : হুম...!
রিহান খুশি হয়ে বলল : দুজনকে একটু নজরে নজরে রেখো তো?
আহিয়া ভুরু কুঁচকে বলল: কেন
রিহান দুষ্টু কন্ঠে বলল: আমি চাইনা তোমার ভাইয়া আমার আগে বাপ হোক.....
লজ্জায় আহিয়ার কান গরম হয়ে উঠল। নিজের অস্বস্তি ঢাকার জন্য রিহানকে ধমক দিয়ে বলল: আপনি খুব ফালতু কথা বলেন রিহান।
শুনলেন তো আমাকে বের হতে হবে এখন রাখি পরে কথা হবে।