ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে(সিজন-৩)

91

লেখক: ফারজানা মনি

আগে এখনো তৃধার কাছে বসে আছে। তাই বন্যা ওদের দুই বোনের নাস্তা উপরে দিয়ে গেল। নাস্তা করা শেষ হলে দুই বোন যখন গল্পে ব্যস্ত। তখনই দরজায় টোকা শুনে ওরা পেছনে তাকালো। দেখল আহিয়ান হাতে মেডিসিন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আহিয়া ভাইকে দেখে তৃধা থেকে বিদায় নিয়ে রুমে থেকে বেরিয়ে গেল। আহিয়ান তৃধা সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল: ব্যথা একটু কমেছে...?

__তৃধা মৃদু মাতা নাড়িয়ে বলল: হুম...

__নাস্তা করেছিস....?

__হ্যাঁ....

অতঃপর আহিয়ান একটা পানির গ্লাস তৃধার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল: মেডিসিন গুলো খেয়ে নেবে তাহলে কমে যাবে...

তৃধা পানির গ্লাস টা হাতে নিতে আহিয়ান আপন মনে প্যাকেট থেকে ওষুধ খুলতে লাগলো।

তৃধা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল: শুনুন...

__হুম....

__কি হয়েছে আপনার...?

__ কিছু না...

__তাহলে এমন করতেছেন কেন...?

__কেমন...?

__মনে হচ্ছে আমার উপর রেগে আছেন...

আহিয়ান মেডিসিন গুলোর হাতে দিয়ে বলল: খেয়ে নে।

মেয়েটা চুপচাপ মেডিসিন গুলো খেলো। ওর মেডিসিন খাওয়া শেষ হতেই আহিয়ান চলে যাচ্ছিল।

কিন্তু তৃধা হাত ধরে আটকে বলল: কি করেছি আমি...? এমন করছেন কেন..?

আহিয়ান বোধহয় নিজেকে আর সামলাতে পারল না ঠাস করে চড়বো সে যদি মেয়েটার গালে। আকস্মিক কার্যকর্মী তৃধা হতভাগ। গালে হাত দিয়ে টলটলে চোখে তাকিয়ে আছে।

অতঃপর আহিয়ান মৃদু কিন্তু গম্ভীর কণ্ঠে বললো: তোর এত বড় সাহস কে দিয়েছে নিজের পা পোড়ানোর...?

তোর কি মনে হয় সবার মত আমাকেও বোকা বানাবি..

কিছু বুঝবোনা ভেবেছিল...আহিয়ানের তিক্ত কথায় তৃধা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কিন্তু আহিয়ানকে ছাড়লো না। বিছানায় বসে থাকা অবস্থায় আহিয়ানকে জড়িয়ে ধরে হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল:সরি...আহিয়ান ভাই..... এতটা পুড়ে যাবে আমি ভাবতে পারিনি।

আমি শুধু চেয়েছিলাম হালকা একটু লাল হয়ে যাক পা টা। তাহলে এই উছিলায় আর নিচে যেতে হবে না।

কিন্তু না চাইতে অনেকটা পুড়ে গেছে। আহিয়ান চুপচাপ দুহাত মস্তি করে দাঁড়িয়ে আছে..... রাগে তার শরীর এখনো কাঁপছে। ইচ্ছে করছে এই মেয়েটাকে ঠাঁটিয়ে আর একটা থাপ্পর মারতে। কিন্তু ছোট টিয়া পাখির মত তার একটা বউ। এই বউকে আর একটা থাপ্পর মারলে জ্ঞান হারাবে নিশ্চিত। তাই এই মুহূর্তে বড় বড় নিশ্বাস তিনি নিজেকে শান্ত করাই উত্তম।

তৃধা কাঁদতে কাঁদতে আবার বলল: বিশ্বাস করুন আমি ভাবতেও পারিনি এত বেশি পুড়ে যাবে....

এবার আহিয়ান গভীর কন্ঠে জবাব দিল: গরম কফি কি তোর কথা মতো শরীরের চামড়া পোড়াবে। তুই বলবি অল্প পড়াতে আর কফি, অল্প পুড়িয়ে দিবি...?

বিষয়টা হাস্যকর না...?

তৃধা এবার আহিয়ানকে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল: প্রমিস করছি আর কখনো এমন করবো না.. প্লিজ আপনি রাগ করবেন না।

আহিয়ান এবার নিজেকে স্থির করে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: এইবারেই শেষ... খবরদার আর দ্বিতীয়বার যদি এরকম কর্মকাণ্ড করিস তাহলে আমার মত খারাপ আর কেউ হবে না....

তৃধা হেঁচকি তুলে কাদতে কাদতে বলল: ঠিক আছে আর হবে না....

__মনে থাকবে...?

__হ্যাঁ মনে থাকবে...?

__এখন রেস্ট কর আমি রুমে যাই...?

__না আপনি এখানে থাকুন... আমার একা ভালো লাগবে না।

আহিয়ান নিজের কাছ থেকে তৃধাকে ছাড়িয়ে দিয়ে বলল:ছার কেউ দেখে ফেলবে।

তৃধা এবার ভদ্র মেয়ের মতো আহিয়ান কে ছেড়ে বসলো। আহিয়ান তৃধার মুখের সামনে আসা চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিতে যেতে বলল: এখানে এভাবে বসে থাকলে বিষয়টা খারাপ দেখাবে। তার চেয়ে ভালো আমি রুমে যাই। দুজনের টেক্সে কথা হবে।

তৃধা এবার মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো: ঠিক আছে...

................. বেলা 11 টা..............

আরিফ মিম জুঁই উসা খান বাড়িতে ঢুকলো। অনেকদিন পর বাপের বাড়িতে এসে মীম অনেক খুশি। এসেই আম্মু বড় আম্মু মামনি সবাইকে জড়িয়ে ধরল। মেঘ তো রান্নাঘরের সকল কাজ ফেলে বোনের সাথে দেখা করতে চলে আসলো। ওর সাথে সাথে এসেছে বন্যা ও রাই আরিফ সকল মামাদের সাথে কুশল বিনিময় করলো । আবির তানভীর ও আদি সাথে গল্প করতে বসেছে। ঊষা তো এসেই আদিবা সাথে ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে।

জুই সকলের সাথে কুশুলাদি বিনয় করে। মালিয়া খানকে জিজ্ঞাসা করল: দাদু ভাই তৃধা ও আহি আপু কই...?

মালিহা খান একটু মন খারাপ করে বলল: দুজনেই একসাথে তৃধার রুমে আছে...তৃধার পা পুড়ে গেছে কিছুক্ষণ আগেই।

উনার মুখে এমন কথা শুনে আরিফ ও মিম আত্মীয় উঠল। মিম এগিয়ে এসে চিন্তিত কন্ঠে বলল: বড় আম্মু এখন কি অবস্থা...? আর কিভাবে এমন হয়েছে।

মালিহা খান কিছু বলার আগেই বন্যা এসে বলল: তোমার ভাতিজিকে কি আল্লাহ এক মুহূর্ত শান্ত দিয়েছে,,,,,?সারাদিন দৌড়াদৌড়ি আর লাফালাফির ভিতরেই থাকে। তেমনি লাফাতে লাফাতে দুই কাপ কফি পায়ে ফেলেছে ।

আরিফ এগিয়ে এসে বলল: ডক্টরের কাছে নিয়েছেন ভাবি....?

___বাড়িতে ডক্টর এনেছিলাম ভাই.. এখন পায়ে ব্যান্ডেজ করা....নিজের রুমে শুয়ে আছে।জুঁই এ কথা শুনে দৌড় দিলো তৃতীয় তলার দিকে।অতঃপর আরিফ ও মিম ও গেল সেইদিকে।

তৃধা,,,,,,,

জুঁইয়ের ডাক শুনে শোয়া থেকে উঠে বসলো তৃধা।

হাত থেকে ফোনটা বালিশের নিচে রেখে মিষ্টি কন্ঠে হেসে বলল: এখন এলি....?

__আমার কথা বাদ দে আগে বল তুই এখন কেমন আছিস....?

__আমি তো বিন্দাস আছি...

__পা পুড়িয়ে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আসিস আর বলছিস বিন্দাস আছিস।

__তৃধা হেসে বলল এটা কোন ব্যাপার না....

জুই আচমকা কিছু একটা খেয়াল করে বলে এই তোর গালে কি হয়েছে...?

তৃধা সঙ্গে সঙ্গে গালে হালকা ঘষা দিয়ে বলল: কই কিছু হয়নি তো....

__আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি লাল হয়ে আছে....

__তৃধা এবার বুঝতে পেরে আমতা আমতা করে বলল: না মানে এতক্ষণ এক সাইড হয়ে শুয়ে ছিলাম তো তাই হয়তো গালে লাল হয়ে গেছে। ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল। তখনই রুমে প্রবেশ করলো আরিফ ও মিম।

ওদের শব্দ পেয়ে আহিয়া এসেছে। মিম এগিয়ে এসে দেখল আদরের ভাতিজি বালিশের উপর ব্যান্ডেজ করা পা নিয়ে বসে আছে।।

তৃধা ফুপি কে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলল: কেমন আছো ফুপি....?. এখন এসেছ...?

___এইতো এখনই আসলাম.... তোর এই অবস্থা কেমন করে হলো...?

___আর বোলো না.... কোথা থেকে যেন দু কাপ কফি উড়ে এসে আমার পায়ে পরল।

মিম এবার ওর কান টেনে ধরে বলল: তুই বড় হবি কবে. ...?

তৃধা কিছুটা বিচক্ষণ ভঙ্গিতে বলল: আর কত বড় হব আমিতো তোমার থেকেও লম্বা...

___আমি হাত পায়ে বড় হওয়ার কথা বলিনি... বুদ্ধিতে বড় হবি কবে....?

___ও সেটা বলবে তো.... সামনের বছরের হব ভাবছি...

আরিফ চুপচাপ ওদের দুজনের কান্ড দেখছে।

আরিফ কে দেখে তৃধা ভদ্র মেয়ের মত কুশুলাদি বিনয় করছে।

তখনই ওর রুমে প্রবেশ করল তৃধার নানা নানী...

তৃধা খুশিতে চিৎকার দিয়ে বলল: নানু ভাই.....

তৃধা নানি নাতিনের কাছে এগিয়ে এসে বসলো।

অতঃপর কাতর কণ্ঠে বলল: তুই একটু সাবধানে চলাফেরা করতে পারিস না...

নিচে সকলের কাছে তোর কথা শুনলাম... সবাই বলছে তুই নাকি কারো কথা শুনিস না... এত বড় হয়ে গেছিস এখনো কথা শুনিস না....?

__উফ নানু ভাই সকলে মিথ্যা কথা বলছে আমি ভালো না সেটা তুমি জানো...

ওর কথা শুনে সকলেই হেসে দিল। তৃধা ওর নানু নানীর উদ্দেশ্যে বলল: মামা মামী আসেনি...?

তুই জানিস রিদের ঘোরাঘুরির সব অনেক। তাই বউ বাচ্চা নিয়ে আজকে সিলেটে গেছে ঘুরতে।

তৃধা খানিকটা মন খারাপ করে বলল: আগামীকাল যেতে পারত না..?এবার মামা আসলে আমি আর কথাই বলবো না। ওর নানা হাসলো।

তখনই তৃধার নানি আহিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল: এটা তাসফিয়া না....?

আহিয়া এগিয়ে এসে বলল: জি নানু ভাই... কেমন আছো...?

___আলহামদুলিল্লাহ ভালো... তুই কেমন আছিস..?

___আলহামদুলিল্লাহ ভালো...

___কত বড় হয়ে গেছিস তোকে আমি চিনতেই পারিনি... তুই নিজেও তো এগিয়ে আসিস নি...

___তুমি তৃধার সাথে কথা বলছিলে তাই আমি চুপ করে ছিলাম...

___তাশফিন কই...?

কত বছর হয়ে গেছে দেখি না তোদের...

___ভাইয়া রুমে আছে নানু ভাই....

___ওকে গিয়ে বল আমি ডাকি....

___আচ্ছা....

জুই তৃধার কানে গিয়ে ফিসফিস করে বলল: তাসফিয়া ও তাসফিন কে.....?

তৃধা মুচকি হেসে বলল: জন্মের পর পাপা নাকি আহিয়া আপু আহিয়ান ভাইকে আদর করে এই নাম দিয়েছিল।

তাসফিন খান ও তাসফিয়া খান। পাপা এখনো ওদের এই নামেই ডাকে। তবে বাড়িতে সবাই আহিয়া ও আহিয়ান বলেই ডাকে। তাই ওই নামটা কম শোনা যায়।

জুঁই বুঝদারের মতো বলল: ও....

এদিকে মিম ও আরিফ তৃধা নানির সাথে টুকটাক কথা বলছে। আহিয়ান রুমে প্রবেশ করে দেখল অনেক লোক। ছেলেটা এক মুহূর্তের জন্য ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে। মিম ও আরিফ এগিয়ে এসে ভাইপোর সাথে কুশুলাদী বিনয় করল। তারপর তারা দুজনেই বেরিয়ে গেল। আহিয়ান এগিয়ে গিয়ে তৃধার নানীকে সালাম করলো। অতঃপর মৃদু হেসে ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করল। তৃধার নানী তো বিশ্বাসই করতে পারছে না এটা তাদের সেই ছোট্ট তাসফিন ।

তারপর নানা-নানী আহিয়ান এর সাথে অনেক কথাই বলল। টুকটাক হাসি তামাশা করল। আহিয়ান শুধু হ্যাঁ হু বলছি আর মাথা নাচছে। এসব দেখে তৃধা মিটিমিটি হাসছে। তৃধা নানুর কাছে জুঁইয়ের পরিচয় দিল। উনি যখন শুনলো জুঁইয়ের সামনের সপ্তাহে বিয়ে। শশুর বাড়ি ও স্বামীকে নিয়ে অনেক কথাই জিজ্ঞাসা করল।

জুই যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছে। ওইদিকে আদিবার নানা নানি ও খালামণি এসেছে।

আদিবার মায়েরা দুই বোন। বড় বউ হলো রাইসা ইসলাম রাই । যে বর্তমান খান বাড়ির ছোট বউ। আর ছোট বোনের নাম রেহানা ইসলাম রিংকি। রিংকির বাগদান সম্পন্ন হয়েছে বছরখানেক আগে। এখনো শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই ওদের অনুষ্ঠান করা হবে। রিংকি খান বাড়িতে ঢুকেই আদিবাকে জড়িয়ে ধরে কোলে নিল। অতঃপর ভাগ্নীকে আদর করতে লাগলো। তার জন্য কোন দিকে কোন খেয়াল নেই। খান বাড়ির সকলেই ওনাদের সাথে কুশল বিনয় করল। রাই এগিয়ে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে রইলো কিছুক্ষন।আদি এগিয়ে এসে শশুর শাশুড়িকে সালাম করলো। আদিবা খালামনির কোলে উঠে ত্রিধার পা পুড়ে যাওয়ার গল্প বলছে। তাই রিংকি ওকে কোলে নিয়ে গেল তৃধা কে দেখতে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে 91 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন