ফন্ট সাইজ:
থিম:
বদনা নসিব

পর্ব 18

লেখক: রিম ঝিম রিমা

বদনা নসিব..🤣🤣
পর্ব: ১৮

ডায়েরি খুলে যা দেখলাম আর যা জানলাম তাতে আমার প্রচুর মাথা ঘুরতে লাগলো। চোখ দিয়ে ভীষন পানি পরতে লাগলো। দম মনে হচ্ছে এক্ষুনি বন্ধ হয়ে যাবে। আরো যা দেখলাম তা দেখে তো....................
.
.
.
ডায়েরিতে যা লেখা ছিলো..............................
.
.
আজ বুয়েটে চান্স পেলাম। (আমি কোনো সাল, তারিখ উল্লেখ করলামনা)। আমার কষ্ট সার্থক হলো।
.
আজকে আমার অনেক ফ্রেন্ড হলো।
.
কলেজ লাইফেই দেখেছি অনেকে রিলেশন করে আমার দারা কখনো ওসব সম্ভব হয়নি আর এখন এই লেবেলে উঠেও হবেনা।
.
আমাকে অনেক মেয়েই পছন্দ করে। কিন্তু আমার কাউকেই ভালো লাগেনা।
.
আমার মা আর বাবা আমার জীবনের বেস্ট একটা অংশ।
.
আমি আমার দেশকে খুব ভালোবাসি। আমার বাবা বলেছে আমাদেরকে ইটালি নিয়ে যাবে, কিন্তু আমার ভালো লাগেনা যেতে। তাছাড়া এখানে আমার নানা ধরনের গাছ গাছালি রয়েছে।
.
আজকে একটা বিশেষ দিন ছিলো।(সেটা কি জানিনা)
.
আজকে বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখি এক ফাজিল মেয়ে আমার ফুল চুরি করার জন্য লাফালাফি করছে। যেই বকতে যাবো... অদ্ভুদ অদ্ভুদ সব কথা বলা শুরু করলো।
না জেনেই বলে ও নাকি এই বাড়ির বউ...। ও নাকি ফুলির মা, বানেসার মা, হাজারো বাচ্চার মা।আমি যেনো ফুল চুরির কথা কাউকে না বলি তার জন্য আমাকে ৭৫ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চাইছে😂।
.
মেয়েটির সাথে আজকেও দেখা হলো। কুকুরে তারা করছিলো, কিন্তু ভাব দেখাইয়া বলে... গরম লাগে বাতাস খাওয়ার জন্য দোউরাইতাছে😂। আবার আমাকে কোলে নিতে চাইছিলো।
.
আজকেও দেখা হলো। এই মেয়ে এত্ত অদ্ভুদ কথা কোথ থেকে শেখে কে জানে। হুম দেখলাম ওই মেয়ের ফ্রেন্ডগুলারে... বাবা.... ওইগুলাও ওর মতোই সেই পরিমান ভগর ভগর করে।
.
আজকেও ফুলির মায়ের সাথে দেখা হলো, এক পাগলের পাল্লায় পড়ে কাদছিলো। ওর ফেইসবুক আইডি নিয়ে নেই আজকে। ওর পেট থেকে কিভাবে কথা বের করা লাগে তা খুব ভালো করেই বুঝেছি।
.
ফুলির মা আজকে বললো ও যেখানে থাকে সেখানে নাকি ওকে দিয়ে প্রচুর কাজ করায়। আমার মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেলো।( কে জানতো যে এটা ওর দুস্টুমি)
.
আজকেও একই বলেছে যে কাজ করতে হয়। এর একটা ব্যবস্থাতো করতেই হবে।
.
আম্মু যেহেতু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমি আম্মুকে ওর কথা বলে দিয়েছি। আর এও বলেছি যে আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসতে, ও যেখানে থাকে সেখান থেকে কলেজ, কোচিং ওর যেতে আসতে অসুবিধা হয়। আর আম্মুও রাজি হয়ে গেলো। ওর একটা পিক তুলছিলাম, ও কোচিং থেকে আসছিলো তখন, সেই পিকটা আম্মুকে দেখালাম। আম্মুর ওকে খুব ভালো লেগেছে। আমি আম্মুকে বলেছি ও কিন্তু আসতে চাইবেনা। আম্মু বলছে আমি ওকে ঠিক নিয়ে আসবো। ওর আম্মু আব্বু, আন্টিরা রাজি হলে ও এমনিতেই আসবে।
.
আজকে ফুলির মা আমাদের বাসায় এসেছে, এত্ত দুস্টামি করতে পারে জানা ছিলোনা। লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখে ধরা পড়ার ভয়ে, পর্দার কাপর দেখিয়ে বলে এটা কিসের তৈরি😂।
.
ব্যান আন্টিকে ও ফ্যান, সিট ম্যান, কাবাব খান বলে ডাকে😶।
রায়াকে তো ও সহ্যই করতে পারেনা, যদিও রায়া ওর সাথে বাজে বিহ্যাভ করে তার জন্যই। ও রায়াকে ছায়া, মায়া বলে ডাকে😂।
.
আসতে না আসতেই মেহজাবিন এর ছোটো নাম রেখে ফেলেছে। বাহহ খুবি মিশুক।
.
রুমের এক্সট্রা দরজা পাগলিটা নস্ট করে ফেলেছে।
.
আজকে রায়ার জন্য ওকে বকেছি, নিজেরি খুব খারাপ লাগছে। যদিও ক্ষমা চেয়েছি,।
.
একদিন ফুলির মায়ের বার্থডে ডেট টা দেখি... দেখেতো অবাক... সেইম মাস আর ডেট। আম্মুকে জানানোর পর এবছরের জন্মদিন একসাথে সেলিব্রেট করি। গোল্ডেন ল্যাহেংগায় ওকে অপরূপা লাগছিলো।
.
বেশি কথা বলে মেয়েটা আমি নাকি ওর ধরমের ভাই। সব সময় এক কথা। কেনো যে বোঝেনা।
.
আজকে মেজু আর বানেসার মা মিলে নাচতেছিলো। ভয় পাইছে, তাই তেমন বকা দেইনাই।
.
হুম বানেসার মা খুবই পড়া ফাকিবাজ। পড়তে চায়না। ওকে আমি পড়াবো।
.
সারাক্ষন বাচ্চাপনা সভাব।
.
আজকে পড়াইতে বসালাম কত্ত কান্ড করে।
.
আজকে আমার ল্যাপটপ ধরে, যেই আমি দেখে ফেলি ভয় পেয়ে বলে ল্যাপটপ নাকি তুলার মতো নরম, আবার টোকা দিয়ে বলে কিসের তৈরি😂।
.
সারাক্ষন আমার গাছ গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে পাগলিটায়। কিন্তু একদিনো দেখলাম না একটাও ফুল ছিড়তে।
.
আম্মুর সাথে খুবি মিশুক।"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
আমার ফ্রেন্ডগুলাকে আগে থেকেই ওর কথা বলেছিলাম।
.
ও যে এমন অদ্ভুদ সব গান আর কবিতা কোথা থেকে পায়, বুঝিনা আমি।
.
সারাক্ষন দোউরাদোউরি আর নাচানাচি।
.
আজকে আমার ফ্রেন্ড মাইসা আসছে। তাকে আবার এই পাকনা বুড়ি মাসি পিসি ডাকে আবার মেজুকেও মশা ডাকতে শিখাইয়া দিছে.... পারেও বটে।
.
আজকে মাইসার জন্য মেজুকে আর ফুলির মাকে বকেছি, ওকেতো মেরেওছি। খুব কষ্ট হয়েছে।
.
ফুলির মা এত্ত বুদ্ধি নিয়া ঘুমায় কিভাবে। আমি জানি ও ইচ্ছে করে আমার সাথে জরিয়ে ধরে কথা বলছে, যেনো মাইসা ক্ষেপে যায়। আর লাস্টে মাইসার গায়ে হাত তুললাম।
.
আজকে মাইসা আর মাইসার বাবার হাত থেকে বাচলাম শুধু মাত্র ফুলির মায়ের দুস্টু বুদ্ধির জন্য।
.
ভালো লাগছে না আমি সেই প্রথমদিন থেকেই খেয়াল করেছি কার ফোন আসলে যেনো ও ছুটে চলে যায়। অনেক কথা বলে।
.
আজকে রুমের এক্সট্রা দরজা দিয়ে ফুলির মায়ের রুমে গেছিলাম আমি ভেবেছি ও ঘুমিয়েছে, কিন্তু না ও ফোনে কার সাথে যেনো কথা বলছিলো।
.
আজকে ওর এই ফোনে কথা বলা দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেছিলো তাই ওকে পড়তে বসতে বলি আমার রুমে, যেনো কতক্ষন ইচ্ছামতো বকা দিতে পারি। কিন্তু হায়রে কপাল.... এতো উলটো আম্মুর হাতে আমারে মাইর খাওয়াইছে।
.
আজকে ওকে নিয়ে অনুষ্ঠানে যাবো।আমি ঠিক করেছি তখনি ওকে আমার মনের কথা জানিয়ে দেবো। আমার যতদুর মনে হচ্ছে, ও কে না বলা পরযন্ত ও বুঝতে পারবেনা।
.
আজকে ও আমাকে তুমি করে বলছে।
আমি ওকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়েছি কিন্তু কি হলো কিছুই বুঝতে পারলামনা। ও হুট করে অসুস্থ হয়ে পরলো।
.
.
.
.
.
আর কিছু নেই সব সাদা পেইজ। ডায়েরিটা জায়গা মতো রেখে রুমে এসে বসলাম। শরিরটা এখনো খারাপ লাগছে।
.
.
কি করবো কি বলবো কিচ্ছু বুঝতে পারছিলামনা।
উনি আমাকে ভালোবাসেন!!! কিন্তু আমারতো কক্ষনোই তা মনে হয়নি! আমি যদি এরকম কিছু আগে ইকটুও বুঝতে পারতাম তাহলে কক্ষনো উনার বাসায় আসতাম না উনার সাথে কথা বলতামনা। আমি কেনো বুঝতে পারিনি😞।
.
আর কিভাবেই বা বুঝবো আমিতো কখনো এমন কিছু ভাবিই নি।
.
.
প্রথম দিন যা হয়েছে সেটা একটা এক্সিডেন্ট ছিলো। আর এরপর থেকে যা হয়ছে সব তো আমি দুস্টমি করে করেছি। আমিতো এমনি করি😞।
.
শাবানা আন্টিতো কক্ষনো আমাকে এই কথাগুলো বলেনি, সে তো বলেছে যে আমাকে তার কাছে রাখতে চায় তার কোনো মেয়ে নেই তাই। আর আম্মু আব্বুকেও আগে থেকে চেনে, তাইতো আম্মু আব্বু তার উপর ভরসা করে তার বাসায় আমাকে যেতে বলেছে। আমি যাতে ইকটু ভালো থাকি তার জন্য বলেছে।
কিন্তু আন্টি আসলে তার ছেলের ওই কথার জন্য যে আনবে সেটা আমি কল্পনাতেও আনিনি।
.
আমিতো উনাকে কখনো ভালোবাসার চোখে দেখিনি। আমি আর সবার সাথে যেমন ব্যবহার করি উনার সাথেও তাই করেছি। কখনো আলাদা চোখে দেখিনাই। আর নিজের ভাইয়ের মতোই ভাবতাম, আর কিছুইনা।
.
আর উনিই বা কেনো বললো যে আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি!! কই এই কথাতো আমি তাকে কক্ষনো বলিনি। আমি তার সাথে যেমন ব্যবহার করতাম, এতেতো আরও আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম যে সে বোধ হয় কষ্ট পায়, ভালো ছেলে তাই হয়তো কিছু বলেনা। কিন্তু তাই বলে প্রথম দিনই ভালোবেসে ফেলবে!!!!
.
.
আমি (মাথায় হাত দিয়ে)ঃ নাহ আর কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। আমিতো সারাক্ষন এমোনি করি। আমার কাজিন ভাইগুলাকেও এমন ভাবেই জালাই। তাই বলেকি এরকম হবে যে ওরা আমাকে ভালোবেসে ফেলবে, বিয়ে করতে চাইবে!!!!
আচ্ছা আমি এখন কি করবো?? উনাকে কি তাহলে........
নাহ আমি উনাকে কক্ষনো সেই চোখে দিখিনি। ভালো লাগতো ঠিকি কিন্তু কক্ষনো মুখে তা প্রকাশো করিনাই। আর ভালো লাগাটাও ছিলো অন্য ভালো লাগা।
কি করবো এখন আমি??
আমি যে........ আমাকে যে অন্য একজন পাগলের মতো ভালোবাসে। আমিও তাকে খুব ভালোবাসি। আমাদের ২ বছরেরও বেশি সম্পর্ক। সবাই জানে আমাদের কথা। মেনেও নিয়েছে সবাই। ওর পরিবার ও আমায় দেখেছে। খুব ভালোবাসে আমাকে।
.
যদিও আমাকে সবাই খুব ভালোবাসে আর আদর করে তাই বলে কি এমন যে সবাই তার ছেলের জন্য আমাকে বেছে নিয়েছে!!!
.
আর আমি তো সেই চোখে দেখাতো দূরে থাক ভাবতামি না। যেখানে আমার ভাবনাতে অন্য কেউ আছে, সেখানে আরেকজনে যে আমাকে ভালোবাসে বা আমার মায়ায় জড়াচ্ছে সেটা আমি কি করে বুঝবো!!! অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলে বুঝতো কিনা আমি জানিনা, তবে একদিন আমি যাস্ট ভেবেছিলাম পরে অবশ্য ভাবলাম যে সেকি এত্ত মেয়ে রেখে আমার সাথে ঠ্যাকা পড়ছে নাকি।
.
এ কোন পরিস্থিতি হলো। আমার মশাই( যাকে আমি ভালোবাসি... উনাকে এটা বলেই ডাকি.... নাম ধরে ডাকাটা এখন সবার কমন হয়ে গেছে, আর অনেকেতো কিসব বাবু ডাকে ওইসব লুতুপুতু নামে ডাকিনা)। উনি একবার বলেছিলো যে আবার সে (চয়ন) আমার প্রেমে না পরে যায়, আমি যে পরিমান দুস্টু। আমিতো তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।
কিন্তু আজতো সেটাই হলো। এই বাড়ির প্রত্যকে এত্তদিন জানতো। আর মেজু!!! ও জানতো..... আমাকে বলেনি??? তার জন্যি কি রায়া, মাইসা ওর সাথে কথা বললে উনার(চয়নের) কথা মেজু আগ বাড়িয়ে বার বার বলতো যে, বিশশাস করো আপু চয়ন ভাইয়া খুব ভালো। সেতো তোমাকে.... আর আমিও পুরা কথা না শুনে অলটাইম কথায় বা হাত ঢুকাতাম😓😔।
.
.
কিভাবে কি করবো কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা, ভীষন কান্না পাচ্ছে।
.
.
দিলাম আম্মুকে ফোন......
.
.
আম্মুঃ হ্যালো।
.
.
.
আমি আম্মুকে সব খুলে বললাম। আম্মু বললো যে, উনি(শাবানা আন্টি) তো এমন কিছু আমাকে বলেনি। বলছে যে উনার মেয়ে নাই তাই বাসায় ভালো লাগেনা। আর আমাদের অনেকটাই নিকটের পরিচিত তাই তোকে ওই বাসায় যাওয়ার পারমিশন দেই। কিন্তু এখন যা বললি........
.
.
আমিঃ আম্মু কি করবো এখন আমি?? আমার মাথায় কিচ্ছু কাজ করছেনা।
.
.
আম্মুঃ আচ্ছা তোর আব্বুকে বলে দেখছি।
.
.
খুব খারাপ লাগছিলো আমার। এই ৪/৫ মাসে যতটা আপন এদের আমি হয়েছি, তার থেকেও বেশি মিশেছি বেশি দুস্টামি করেছি আমার মশাইদের বাসায়। তার বোনের বাসায় গিয়ে।
.
.
এসব সাত পাচ ভাবতে ভাবতে কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়লাম।
."ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
সন্ধ্যার দিকে মেজু খাবার নিয়ে এসে আমাকে ডাকছে..........
.
.
মেজুঃ আপু... ওডো।
.
.
মেজু আমাকে খাইয়ে দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমি ন নিজে থেকেই খেয়ে নিলাম। খাওয়া শেষ করে......
.
.
আমিঃ মেহজাবিন, আমার জন্য একটা বাটিতে বেশি করে রসমালাই আনতে পারবি??
.
.
মেজু দাঁড়ানো থেকে আমার পাশে বসে পড়লোঃ আপু তুমি মোরে মেহজাবিন ডাকতেয়াছো ক্যা??
.
.
আমিঃ( আমার আসলে কিছুই ভালো লাগছেনা। নাহ আর দুস্টামি করা যাবেনা। আর কোনো কথা বলবোনা আমি) নিয়ে আয়না ইকটু।
.
.
মেজুকে দেখলাম মোন খারাপ করে চলে গেলো। আমি চাইনা কারো মোন খারাপ করাতে, কিন্তু কি করবো.... নিজেই তো সবার মোন খারাপ করানোতে ফেসে গেছি... না চাইতেও।
.
.
আমি খেয়ে দেয়ে শুয়ে আছি। রুম থেকে বের হইনি।
শাবানা আন্টি এলো রুমে.......
.
শা আন্টিঃ কিরে এখন কেমন লাগছে শরিরটা?? আমি তোকে সারা জীবন সুস্থ দেখতে চাই।
.
.
আমিঃ( অন্যদিন হলে হয়তো এই কথা শুনে হেসে দুস্টামি করে একাধিক বকর বকর করে উড়িয়ে দিতাম, কিন্তু আজতো এই কথার মানে খুব সহজেই বুঝতে পারছি) আন্টি আমি ঠিক আছি।
.
.
শা আন্টিঃ আচ্ছা তুই রেস্ট নে আমি গেলাম।
.
.
আন্টি চলে যাওয়ার পর খুব কান্না পাচ্ছিলো। এই এত্ত ভালোবাসা আদর সব কি শুধু তার ছেলে আমাকে ভালোবাসে এই জন্য!!!! আমি যদি এখন বলে দেই যে আমি উনার ছেলেকে কখনোই ভালোবাসতামনা তাহলে?? এরা নিশ্চয়ই আমাকে খুব ঘৃনা করবে😔।
.
ক্যানো আমাকে ভালোবাসতে গেলো উনি?? ক্যানো?? সত্যি আমার ভুল হইছে আমি যদি উনাদের সবাইকে জানয়ে দিতাম যে আমার বিয়ে অন্য কারো সাথে ঠিক হয়ে আছে, আর তাকেই ভালোবাসি আমি.... তাহলে হয়তো এমন দিন দেখা লাগতোনা।
কিন্তু কি করেই বা বুঝবো আমি!! এদের মনের কথা!!!
.
হ্যা আমার অন্নেক মেয়ে ফ্রেন্ড আছে, ছেলে ফ্রেন্ড তেমন নেই বললেই চলে মানে কোচিং এ যেহেতু পরি তাই ২/১ জনের সাথে কথা বলি এই..... তো এখন কি আমি সবাইকেই মাইকিং করে বলে বেড়াবো যে প্লিজ আমাকে কেউ ভালোবাসবেননা। ধুর।
.
.
.
হঠাৎ আমার মশাই ফোন দিছে।
.
উনার নাম কে আমি শর্ট করে আলু দিয়ে সেইভ করে রাখছি।
.
.
আমার সাথে ১ মিনিট কথা বলাতেই বুঝে ফেললো আমার মোন খারাপ, শরির খারাপ। অথচ আমি কিন্তু যথেষ্ট চেস্টা করছি যাতে না বুঝে ফেলে, হেসেই কথা বলছিলাম তাও বুঝলো। আসলে মানুষ কি অদ্ভুদ অনেক কিছুই বুঝে ফেলে, কিন্তু আমি হয়েছি না বোঝার ঢেকি।
.
.
তো তাকে আর সেই বিষয়ে কিছু বললাম না। এমনিতেই সারাদিন কাজ করে, আবার পড়াশুনার প্রেসার, এরি মধ্য ওকে আর টেনশানে ফেলতে চাইনা। এমনিতেই আমার জন্য হুদ্দাই সারাক্ষন টেনশান করে।
ফোন রেখে দিলাম কথা বলা শেষে। এ এমন এক পাগল যে কি বলবো.......
একবার আমি এক্সিডেন্ট করছিলাম। প্রচুর রক্তক্ষরণ হইছিলো। সে পুরা পাগল হইয়া গেছিলো। তখন ঢাকা ছিলো এখন অবশ্য দেশে থাকেনা। তো যাই হোক,
.
পাগল টা ডাক্তারের কথা না শুনে তাদের কে বাধ্য করে নিজের রক্ত দিয়ে ছিলো আমাকে।( আমাদের রক্তের গ্রুপ সেইম) তো আমার অনেক রক্তর প্রয়োজন ছিলো। সময় কম থাকার কারনে সে কাউকে জানোর টাইম টাও পায়নি। লাস্টে আমাকে রক্ত দিতে গিয়ে তাকে নিয়ে ডাক্তার রা ঝামেলায় পড়েছিলো। অথচ তখনো আমার আরো ১ না জেনো ২ ব্যাগ রক্ত লাগতো। উনি অই অবস্থাতেই নিঃশাস নিতে পারছিলোনা তাও বারবার ডাক্তারদেরকে মিনতি করছিলো যেনো দ্রুত তার রক্ত নেয়া হয়।
.
তারপর আল্লাহর রহমতে রক্তের যোগার হয়ে গেছিলো। আমি সুস্থ হই। আর সে বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকে। যদিও ইনশাল্লাহ সে সুস্থ হয়ে গেছিলো। আমাকে সুস্থ দেখেই সে খুশিতে হেসে দিয়েছিলো। ডাক্তার আংকেল, নার্স রা সবাই আমাদের কে খুব ভালোবেসে ফেলেছিলো। এমন ভাবে আমাদের সাথে কথা বলেছিলো যেনো আমরা দুইজনেই শিশু, জোরে কিছু করলেই যেনো ব্যাথা পাবো।
মশাইটাও অন্নেক দুস্টামি করে.... কিন্তু বেয়াদ্দপ প্রকাশ করেনা সহজে।
এরকম অনেক ঘটনাই ওর সাথে আমার আছে।( সেগুলো আর বলতে চাইছিনা, আর বলেও শেষ করা যাবেনা)
.
.
.
.
রুমে শুয়ে আছে... রাত ১১ টার সময় রুমে উনি(চয়ন) আসলো......
.
.
অন্যসময় হলে গায়ে মাখাতাম না কিন্তু এখন.......
.
.
চয়নঃ(আমার পাশে বসে) ফুলির মা তুমিকি এখন ঠিক আছো??
.
.
আমি উনার কথার জবাব না দিয়ে বললামঃ ভাইয়া আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই।
.
.
উনি(চয়ন) হয়তো আমার কথা শুনে অবাক হয়েছে, তাও ভাইয়া বলে ডাকলাম, আমিতো উনাকে বিভিন্ন নামে উপাধি দিয়েছিলাম হুট করে সেসব না বলে ভাইয়া.....
.
চয়নঃ হুম বলো।
.
.
আমি উঠে বসতে নিলে সে হেল্প করতে চাইলো কিন্তু আমি নিষেধ করলাম।
.
.
আমি( ঠিক করে বসে) ভাইয়া আপনাকে আমার কিছু কথা বলার আছে।
.
.
চয়নঃ হ্যা বলো।
."ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
আমিঃ(বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে শুরু করবো, কারন এমন পরিস্থিতিতে আমি কক্ষনোই পরিনি..... হুট করে আমি কেদে দিলাম)
.
.
চয়নঃ আরে তুমি কাদছো ক্যানো?? ফুলির মা... কি হয়েছে তোমার??
.
.
আমি কিছুতেই কান্না থামাতে পারছিলামনা। কি করে বলি উনাকে। উনি তো ভালোবাসে আমায়, এসব যদি আমি উনাকে জানাইতো.... কষ্ট পাবে। কিন্তু না আমাকেতো সত্যি টা বলতেই হবে.... আস্তে আস্তে কান্না থামানোর চেস্টা করলাম, তাও না চাইতেও কান্না করতে হচ্ছে... তাই ওই অবস্থাতেই বলতে শুরু করলাম......
.
.
আমিঃ ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দিবেন প্লিজ। আমি কথা রাখতে পারবোনা।
.
.
চয়নঃ কোন কথা??
.
.
আমিঃ (কান্না করেই বলছি) ভাইয়া আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবোনা😭।
.
.
চয়নঃ ক্যানো ভালোবাসতে পারবেনা??
.
.
আমিঃ আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি। আর তার সাথে অনেক আগে থেকেই আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।
.
.
চয়নঃ ওহ।
.
.
আমি উনার দিকে তাকালাম বুঝেছি যে সে খুব কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আমি কি করতাম।
.
.
আমিঃ আপনি বিশশাস করেন আমি আপনাকে কখনোই ওই চোখে দেখিনি, ভাবিওনি। আর আন্টি যে এত কিছু জানে সেটাও আমি জানতামনা।
.
.
খুব কান্না,করছি। হঠাৎ উনি আমার চোখ মুছে বললো.....
.
.
চয়নঃ আরে এতে এতো কাদতে হয় নাকি!!! আমি জানতামনা তাই ভালোবাসার কথা বলেছি। এখন তো জেনেছি। তাই আমি কিন্তু মুভির মতো ভিলেন হতে চাইনা😁😁।
.
.
আমি উনার দিকে তাকালাম, কতটা কষ্ট পেয়েও যে মানুষ মিথ্যে কথা বলতে পারে তা যে আমি ২য় বার দেখবো ভাবিনি।
.
.
চয়নঃ শোনো মেয়ে যখন হয়েছোই, তখন ছেলেদেরও অধিকার আছে ভালোবাসার। এখন তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো, আর সেখানেই সবাই রাজিও আছে তাহলে এখনো তোমাকে ভালোবাসাটা কিন্তু ঠিক হবেনা। কারন তা করলে সেটা জোর করা হয়ে,যায়। আর একটা কথা কি জানো?? আমি তোমার ভাব চরিত্র দেখেই বুঝে ফেলছিলাম যে আমি তোমাকে ভালোবাসলেও তুমি হয়তো আমাকে ভালোবাসোনা। কারন আমি সব সময়ি দেখেছি যে তুমি আমাকে অন্য চোখে দেখো। আমি সেটা ধরতে পেরেছি। আর আমি কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করেছিলাম যে তুমি অন্য কারো প্রতি দুর্বল। তুমি হয়তো ভুলে গেছো যে তোমার ফোন ২ দিন আমার কাছে ছিলো। তোমার ফোনে কোনো লক সিস্টেম না থাকায় আমি তোমার গ্যালারিতে যাই। তুমি আসলেই অনেক আলাদা একটা মেয়ে।
যেখানে আজকালকার ছেলেমেয়েরা প্রেম করলেই হইছে...... শতাধিক পিক ফোনে রাখে। আর তোমার ফোনে তোমার ভালোবাসার মানুষের জাস্ট একটা পিক দেখেছি। আর সব গুলোই তাদের ফ্যামিলির, তারপর বাচ্চাগুলোর পিক।
আবার অনেক্কেই দেখিছি যে কাপল পিক তুলে বস্তা ভরে। হ্যা তুলতেই পারে নরমাল। কিন্তু সেখানে তোমার সাথে তার এমন কোনো পিকও নাই।
আরেকটা জিনিস দেখে আমি অবাক হইছিলাম। তুমি তার সাথে চ্যাটিং অবস্থায় কিছু ম্যাসেজ স্ক্রিনশট মেরে রাখছিলা।
সেখানে দেখেছি যে সে তোমার পড়াশুনা নিয়ে খুব বেশি সতর্ক।
.
কিন্তু এটা সত্যি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি আর আম্মুকে যাস্ট এইটুকুই মিথ্যা বলি যে তুমিও আমাকে ভালোবাসো। আসলে আমি তখন ইকটু বেশিই বলে ফেলেছিলাম আম্মুকে।
কিন্তু তুমি কি জানো যে, তোমার আচরন গুলো দেখে উলটো আম্মু আমাকে কান মলা দিয়েছিলো?? বলেছে যে ও কি সত্যি তোকে ভালোবাসে?? ওকে দেখেতো মনে হয়না। সারাক্ষন পাগলি মেয়েটা যা দুস্টামি করে!!! ওইদিন তো শুনলাম ও সব গেস্ট দেরকে পরিচয় দিচ্ছে যে ওরা এখন ৩ ভাই বোন। তুই নাকি ওর ধরমের ভাই😂😂।
তারপর আমি আম্মুকে সব খুলে বলি। আম্মু বলেছিলো যাই হোক ও যদি তোকে ভালোবেসে থাকেতো তাহলে ভালো। আর না বাসলে ওই যে বললো ওরা ৩ ভাইবোন তাই হয়ে থাকবে😆।
.
আর আমি ভাবলাম মনের কথা আমার পেটে না রেখে এই বুদ্ধু মেয়েকে বলেই দেই.... অন্তত সিউর তো হতে পারবো। তাই তোমায় কালকে সন্ধ্যায় এসব বলি😊।
.
.
.
আমি উনার সব কথা শুনে হাসবো নাকি কাদবো বুঝতে পারছিলাম না। তোমরাই দেখো বনুরা আমার দৃষ্টির অগোচরে কতো কিছু ঘটে গেছিলো আর সেগুলোর সমাধানও হয়ে গেছে। মানে আমি কখনোই ভাবতে পারিনি যে সত্যিকার লাইফেও এত্ত টুইস্ট থাকতে পারে।
সব থেকে বেশি অবাক হয়েছি এখন যেটা উনি বললেন..... শোনো তাহলে........
.
.
চয়নঃ ফুলির মা তোমায় কিন্তু এই নামেই ডাকবো আমি😂। শুনো আমার জন্ম হয় ইটালিতে। যখন আমার বয়স ২ বছর তখন আমরা বাংলাদেশে আসি। আমার এক লতায় পাতায় পেচানো আন্টি আছে। উনারাও আমাদের বাসায় থাকতো। মানে উনারাও ইটালিতেই থাকে। তো উনাদের একটা মেয়ে আছে ইরা। আমরা দুজনে একসাথেই বড় হই। খেলাধুলাও, পড়াশুনা একসাথেই করেছি। মজার বিষয় কি জানো?? ও আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু আমি তোমারি মতো ওকে ওই চোখে দেখতামনা। তুমি যেমন দুস্টামি করো, ও সম্পুর্ন ছিলো তার বিপরীত। চুপচাপ থাকতো ইকটু..... আচরনে একটু বড়ো মানুশ টাইপ কা ভাব নিতো। কিন্তু যাই হোক, ও আমাকে ওর ভালোবাসার কথা জানালে আমি ওর কাছে সময় চাই।
.
ও স্কলারশীপ পেয়ে ভাগ্যবশতো ইটালিতেই চলে যায়। ও ভেবেছিলো যাওয়ার আগে অন্তত আমি ওকে বলবো। কিন্তু না তখন আমার কোনো ফিলিংস কাজ করতোনা।
.
.
ও চলে যাওয়ার পর নিজেকে কেমন একা লাগতো। আসলে যখন থেকেই বুঝতে শিখলাম ওইতো পাশে ছিলো। তো যাই হোক তার কিছু মাস পরেই তোমার সাথে দেখা হয়। জানো ও তোমার বিপরীত হলেও পাগলামি টা তোমার মতই করতো। তোমায় দেখে মাঝে মাঝে না চাইতেও ওকে ভীষন মিস করে ফেলতাম।
.
.
হয়তো আমিও ওকে........
.
তো যাই হোক ফুলির মা মিসেস তন্নি শাওন😉( ফকিরে নামটাও জাইন্না লইছে🙄) আপনি অযথাই এই বিষয়গুলো নিয়ে মোন খারাপ করে থাকবেন না কেমন?? আর হ্যা আল্লাহ যাকে যার সাথে দেয় সে তো তারই হয় নাকি?? তো আপনাকে যেনো আর কক্ষনো শুনি না কথায় কথায় বদনা নসিব বলা। ওকে??
.
.
আমিঃ হুম😊।
.
.
ওকে ঘুমাও তাহলে গুড নাইট( তারপর সে চলে গেলো)
.
.
.
তারপরেরদিনি হঠাৎ.............

......চলবে.......

রিমঝিম রিমা

"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন। আর গল্প ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন...👹 লাইক কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন...💖

Collected...🥰
#Kalponik_F___ 😊

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন