বদনা নসিব..🤣🤣
পর্ব: ১৯ ও শেষ
তার পরেরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। উদ্দেশ্য উনার(চয়নের) কাছে পড়তে বসার। মনে ছিলো না যে কালকে কি ঘটছিলো। আমি আবার ইকটু মোন ভোলা।
.
তো সকালে ঘুম থিকা উইঠা চোখ খুইল্লা তাকাইয়াই দেখি......... 🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶🥶।
.
.
.
আমিঃ ক.... কে.... কে আপনি😰😰😰😰।
.
.
হঠাৎ ফিক কইরা একটা হাসি দিয়া কইলো......
.
তুমি তন্নি......right...???
.
.
.
আমিঃ 😁 হয়।
.
.
হয়😆।
.
.
হঠাৎ আমার রুমে চয়ইন্না ফকিরের প্রবেশ। তারে দেইক্ষাই মনে পইরা গেলো যে, ওহ.... আমার না পরতে যাওয়ার কথা🥵।
.
.
আমিঃ(তারে দেইক্ষা ভয়ের চোটে, এক লাফে খাড়াইয়াই) আমি আইতাছি আইতাছি.... অক্ষনি পড়তে আইতাছি। (কইয়াই তারাতারি ওয়াসরুমে ঢুকলাম)
.
যদিও ওয়াসরুমের ভিতর থিকা হাসাহাসির শব্দ পাইতাছিলাম। আমার কি..... আমার এখন পড়তে বসতে হইবো😁।
.
.
ফ্রেস হইয়া বের হইয়া দেখি সেই যে রুমে আসছিলো..... সে এখনো ঠায় বইসা আছে।
.
হ একটা মেয়ে বইসসা আছে। আমি কিন্তু দেইক্ষা মোটেও অবাক হইনাই। কারন আমি সিউওর এইডাও ওই ফকিরেরই কোনো ফ্রেন্ড হইবো হয়তো।
.
এইটা মনে হয় ভালো তাই আমার সাথে কথা কইতাছে।
.
.
আমিঃ আপু আপনি বসেন, আমি স্যারের কাছে পড়তে যাইতাছি😊।
.
.
মেয়েটাঃ স্যার!!! কে স্যার!!!
.
.
আমিঃ ওই টাল্টু টায়।
.
.
মেয়েটাঃ who is Taltu??
.
.
.
আমিঃ🥵না মানে চয়ন স্যারের কাছে।
.
.
মেয়েটাঃ অহ তুমি ওকে স্যার ডাকো??
.
.
আমিঃ(মনে মনে... নাহহ আগে ডাকতাম না, ক্যান জানি আজকে মনে হইলো🤔) হুম 😊।
আচ্ছা আপু গেলাম... নাহলে স্যার রাগ করবে।
.
.
যাইয়া ফকিরের রুমে ঢুকলাম। দেখি বারান্দায় দাড়াইয়া ফোন চাপতাছে।
.
.
আমিঃ may i coming sir😊.
.
.
.
চয়নঃ(আমার দিকে তাকাইয়া)🤣😂😄😅😃😆।
.
.
আমি নিজেরে পা থিকা মাথা পরযন্ত দেখলাম.... কই নাহ ঠিগিতো আছে। হাসে ক্যান তাইলে🤔।
.
.
আমারে রুমে ঢুইকা বসতে কইলো।
তারপর আমার চেহারার সামনে একটা পুচকে আয়না ধরলো।
.
.
.
আমিঃ🥺এইভাবে মানসম্মান নিয়া টানাটানি করতে কষ্ট লাগলোনা উনার!!!
আসলে কি ২ সাইডে ২ ডা ঝুটি করছিলাম ১ টা ঝুটি নিচে নাইম্মা আছে মনে হইতাছিলো যেনো একটা গাছ বাড়ন্ত আরেকটা মরন্ত.... কিন্তু তাই বইল্লা হাসবে!!!
.
.
চয়নঃ ফুলির মা তোমাকে আজকে পড়তে হবেনা। যাও গিয়ে রেস্ট নাও। এমনি তোমার শরির খারাপ।
.
.
আমিতো সেই খুশি। দোউরাইয়া রুমে যাইতে দেরি, কিন্তু আমার বিছানায় শুইতে দেরিনা।
.
দিলাম ঘুম। ঘুম থিকা ৮ টার সময় উঠলাম। হাত মুখ ধুইয়া হইয়া নিচে নামলাম। প্রচ্চুউর খিদা লাগছে।
.
.
যাইয়া ডাইনিং এ বসলাম।
.
মেজু পরোটা আর ডিম পোচ দিয়া গেলো😋।
.
.
পাশে যে কেউ আছে সেই খেয়াল নাই আপাততো।
.
.
.
খাইতাছি তখন চয়ইন্না কইতাছে......
.
.
চয়নঃ তা ইরা তোমার আসতে কোনো অসুবিধা হয়নাইতো??
.
.
আমার নাম টা অনেক পরিচিতো লাগলো.... বইল্লা খাওন রাইক্ষা চয়ইন্নার মুখের দিকে তাকাইলাম।
.
.
ওহ আচ্ছা কালকের সব কাহিনী মনে পড়তেই এখন নিজের ভিতর কেমন খারাপ লাগা কাজ করতেছে।
.
নিচের দিকে তাকাইয়া চুপচাপ চোরের মতন খাইতাছি।
.
.
ইরাঃ তন্নি খাচ্ছোনা ক্যানো??
.
হু সেই মেয়েটা ইরাই ছিলো। কিন্তু কথা হলো এ না ইটালি থাকে!!! আসলো ক্যামনে এত্ত তারাতারি!!!
.
.
.
আমি উনার দিকে এইবার ভালোভাবে তাকাইলাম। মেয়েটা মাশাল্লাহ অনেক কিউট😍।
.
.
আমিঃ হু😞।
.
.
ইরা আপু উঠে আমার পাশে চেয়ার টেনে বসে.....
.
.
ইরা আপুঃ কি হয়েছে আপু?? বলো আমাকে..... মোন খারাপ ক্যানো তোমার??
.
.
.
আল্লাহগো কি কিউট কইরা কইতাছে...... মনে হইতাছে যেনো আমি ২ বছরের বাচ্চা... ব্যাথা ট্যাথা পাইছি। তাই আদর কইরা কইতাছে। উনার এমন কথায় আমারো আল্লাদ শুরু হইয়া গ্যাছে🙄।
.
.
আমিঃ(কাইন্দাই দিলাম🙄) এ্যা... 😭 হ্যা... 😭😭।
.
.
ইরা আপুঃ ওমা কি হইছে কাদছে ক্যানো বেবিটা?? (কইয়াই চোখ মুছতে লাগলো😘)
.
.
আমিঃ (হাত উচাইয়া, চয়ইন্নারে দেখাইলাম) ও আমাকে মারছে...... 😭😭এ্যাহ্যা😭😭।
.
.
চয়ইন্না খালি মুচকি মুচকি হাসতাছে।
.
.
ইরা আপু উঠে দুই কোমরে হাত দিয়া ফকিরের কাছে যাইয়া.....
."ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
ইরা আপুঃ ওই তুমি ওরে মারছো ক্যান??
.
.
চয়নঃ(খাইতাছে আর কইতাছে) ক্যানো মারছি সেইটাও ওকেই জিজ্ঞাস করো।
.
.
আমিঃ(সত্যিই তো হুদ্দাই কইলাম... অহন কি কমু.... চুপচাপ খাওয়া শুরু করলাম)
.
.
ইরা আপু একবার আমার দিকে তাকাইয়াই চয়ইন্নার চুল ধইরা টানতে লাগলো....
.
.
চয়নঃ আরেহ ইরা লাগছে তো ছাড় না ( এরা আবার মাঝে মাঝে আপনি তুমি তুই কয়োটাই ব্যবহার করে)।
.
.
ইরা আপুঃ ছাড়বোনা আগে বল তুই মিষ্টি কে কি করেছিস??
.
.
আমি মিষ্টির কথা শুইন্না তাকাইলাম।
.
.
আমিঃ সত্যিতো আপনি মিষ্টি কি করছেন.... আমি মিষ্টি খামু।
.
.
.
চয়ইন্না, ইরা আপু, মেজুঃ(আমার দিগে তাকাইয়া)😄🤣😂😅😆।
.
.
আমিঃ😁😁।
.
.
তারপর খেয়ে দেয়ে আমি আর ইরা আপু রুমে গেলাম।
.
.
আমিঃ আচ্ছা ইরা আপু তুমিনা ইটালিতে থাকতা..... তাহলে ক্যামনে এত্ত তারাতারি আসলা??
.
.
ইরা আপু আমার গালে একটা চাপ দিয়া( হু... এই আপুটাও হ্যার হবু জামাইয়ের মতন... গালে হাত দেয়🤔)ঃ আরেহ পাগলি আমিতো কালকের ফ্লাইটে চলে আসি। আজকে ভোর বেলায় আসলাম এখানে। আর এসেই তোর রুমে আসলাম, বুঝলি কিনা।
.
.
আমিঃ তাইলে... ওই কবুতরের বাপ কইলোনা ক্যান??😕
.
.
ইরা আপুঃ কবুতরের বাপ কেরে?? চয়ন??
.
.
আমিঃ😁
.
.
ইরাঃ😆নামগুলা জোস👌।
সারপ্রাইজ দিবো বলে💁।
.
.
.
আমিঃ ওহহ। আচ্ছা তুমি আমাকে চিনলা কিভাবে??
.
.
.
ইরা আপুঃ তোর কথা চয়ন আমাকে অনেক আগেই বলছিলো। তখন আবার চয়ন তোকে পছন্দও করেছিলো।
.
.
.
আমি নিচের দিকে তাকাইলাম। ইরা আপুর নিশ্চয়ই এটা শুনে তখন মোন খারাপ হইয়া গেছিলো😔...... সে তো আবার চয়ইন্নারে ভালোবাসে।
.
.
ইরা আপুঃ(আমার মুখ উচু করে) তোকে কিন্তু আমি ভিডিও কলে দেখেছিলাম😚।
.
.
আমিঃ(হা কইরা) কবে, কহন, আমি কই ছিলাম??
.
.
ইরা আপু মিষ্টি একটা হাসি দিয়াঃ হু হু তুই তো তখন ঘুমে ছিলি।
.
.
.
আমিঃক্যামনে🙄।
.
.
ইরা আপুঃ শোন চয়ন আমাকে বলছিলো যে ইরা জানিস আমাদের বাসায় একটা দুস্টু পাখি থাকে। সারাদিন দুস্টামি করে। তারপর আমি তোকে দেখতে চাইলাম। আর তুই একদিন ঘুমে ছিলি সেই সুজুগে তোকে দেখিয়েছে।
.
জানিস?? কি যে ভালো লাগছিলো তোকে। ও তোর গালে হালকা করে চিমটি দিচ্ছিলো। আর তুই মশা মনে করে নিজের গালে আস্তে করে চর মারছিলি। আমিতো দেখে হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পালা।
তারপর চয়ন বললো যে.... তুইও চলে আয় মিষ্টি পাখি আর দুস্টু পাখিতে মিলে জমবে ভালো😌।
.
.
.
আমিঃ(বাহ কেয়া বাত হে... 👏👏 তলে তলে ইত্না দূরে পোউছাইয়া গেছে... আর হুদ্দাই উনি কালকে সিউর হওয়ার জন্য.... আমার প্রেসার বাড়াইয়া দিছিলো। আমি যদি মইরা যাইতাম তখন আমার মিষ্টি আলুর কি হইতো🤔)
.
.
.
যাইহোক সারাদিন খুব মজা করে কাটালাম আমরা সবাই।
.
.
সন্ধ্যায় রুমে বইসা পড়তাছি তখন........
.
.
চয়নঃ এই যে আপনাকে কি আমার রুমে পড়তে আসার জন্য নেমন্তন্ন করতে হবে!!!
.
.
আমিঃ(ঢং আমি ভাবছি মুক্তি পাইছি আর হেয় আইছে......)
.
.
রুমের ভিত্রে আইসা টাইন্না ধইরা নিয়া গেলো।
.
.
উনার রুমে যাইয়া দেখি ইরা আপুও পড়তেছে।
.
.
ইরা আপুর পাশের চেয়ারটায় বইসসা বললাম কাহিনী কি??
.
.
ইরা আপুঃ( আস্তে আস্তে) ওর মেজাজ গরম আছে।
.
.
আমি এইডা শুইন্না বার কয়েক ঢোক গিল্লাম।
.
.
.
স্যার এ পাশের চেয়ারটায় বইসা ঃ হু সবাই বই বের করে পড়া বের করো।
."ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
.
ইরা আপুর পালা প্রথমে... তারে পড়া ধরছে পারে নাই দেইখা শাস্তি দিতাছে আল্লাহ মাফ করো😩।
.
.
ইরা তুমি দুই কানে হাত দিয়া ওইপাশে দাড়াইয়া থাকো।
.
.
ইরা আপুঃ😲😟🥺🥺।
.
.
তারপর আমার পালা.... আমিও পারিনাই আমারেও একই টাস্ক দিলো।
.
.
যাইয়া ২ জনে কানে ধইরা খারাইলাম😁।
.
.
আমিঃ আমরা ২ জনে কানে ধইরা দাড়াইয়াছি আপনি চাইলে আমাদের সাথে জয়েন করতে পারেন😊।
.
.
চয়নঃ(চিল্লাইয়া) what??
.
.
.
আমিঃ না না কিছুনা আপনি continue😁.
.
.
ইরা আপু মোচরামুচরি করতাছে।
.
.
আমিঃ(কানে ধরা অবস্থায়ই) কিচ্ছে আপু....এমন মোচরাইতাছো ক্যান.... কোনো সমস্যা??? সমস্যা হইলে আমারে কও আমি মেয়ে মানুষ😁।
.
.
ইরা আপু তাও মোচরাইতাছে চোখ বন্ধ কইরা😣।
.
.
আমি কানের কাছে যাইয়া খালি কইলামঃ কি...... হাগু পাইছে...🤭???
.
.
ইরা আপু রানী ভাগমতির মতো রুম কাপাইয়া সেই একটা চিৎকার।
.
.
ইরা আপুঃ আ আ আ আ আ আ আ।
.
.
আমি কান চাইপ্পা ধইরা সেইযে আমার এক কাজ... চিপায় যাইয়া খাড়ানো..... আমি চিপায় যাইয়া খাড়াইছি। মানে এক দৌড়ে বারান্দার চিপায় খারাইছি😷🤒।
.
.
চয়নঃ কি হইছে??😕😕
.
.
ইরা আপুতো সেই লেবেলের লাফাইতাছে। কতক্ষন খাটের উপর উঠতাছে, তো কতক্ষন ফ্লোরের কাছে যাইতাছে😥।
.
.
আমিঃ( হাগু পাইলে তো বাথ্রুম সাইডেই আছে, যায়না ক্যান...!!)
.
.
লাস্টে চয়ন ভাইয়া( নাহ আর নাম ভ্যাটকানো যাইবোনা😉) ইরা আপুরে ধইরা লইছে।
হেয় চয়ন ভাইয়ারে সহ দোউরা দোউরি করতাছে😆।
.
.
চয়ন ভাইয়া লাস্টে বাধ্য হইয়া দেওয়ালের সাথে লাগাইয়া ইরা আপুরে ধইরা রাখছে।
.
.
আমিঃ(আবার মারবো নাকি!!!)
.
.
চয়ন ভাইয়াঃ না দোউরাইয়া আমাকে বলো কি হইছে??
.
.
ইরা আপু( কানতাছে আর কইতাছে😭😭) আমার... আমার জামার পিছন দিক দিয়া একটা তেলাপোকা ঢুকছে😭😭😭😭। খেয়ে ফেলবে আমাকে.... 😭😭।
.
.
চয়নঃ😅🤣😂।
.
.
ইরা আপুঃ আহা প্লিজ😭😭।
.
.
চয়ন ভাইয়াঃ ওকে ওকে দাড়াও। (বইল্লা ইরা আপুর জামার পিছন দিয়া হাত ঢুকাইয়া তেলাপোকাটা বাইর করছে🙈🙈🙈🙊🙊)
.
.
তারপর চয়ন ভাইয়া হাসতেছে😅।
.
.
কিছুক্ষন পর দেখি চয়ন ভাইয়া আর ইরা আপু ওই অবস্থা তেই একজন আরেকজন এর মুখের দিকে তাকাইয়াই আছে।
.
.
আমিঃ(আল্লাহগো কি শরম... এমনে তো আমি ওই নিরলজ্জ আলুরেও কইনা আমার দিকে তাকাইয়া থাকতে, একবার চাইছিলো অমনে তাকাইবে... আমি কইছি তাকা পারলে চোখ খুইচ্চা উঠাইয়া হাতে ধরাইয়া দিমু.... আর চোখের জায়গায় নীল পলিথিন বইট্রা ঢুকাইয়া দিমু...😶)
.
.
নাহ অখনো তাকাইয়া আছে....কি যে করি!!!
.
.
আমি আস্তে আস্তে বাইর হইলাম তারপর যেই দরজার কাছে গেলাম.... স্কার্ট এর সাথে পা প্যাচাইয়া দরজার কাছে হুমরি খাইয়া পরলাম😫।
.
.
আর দুইজনে আমার দিকে তাকাইলো.... ধুর চাইছিলাম এরা আলাদা সময় কাটাক তা না 😓।
.
.
চয়ন ভাইয়া আর ইরা আপু আমার কাছে আইসা টাইন্না উঠাইয়া বিছানায় বসাইলো।
.
.
চয়ন ভাইয়াঃ কি হইছে হু?? এত্ত দোউরা দোউরি করো ক্যানো ??
.
.
আমিঃ না মানেএএএ দরজার কাছে একটা ছাগল দেইক্ষা তারাইতে চাইছিলাম😔।
.
.
চয়ন ভাইয়াঃ😅😆🤣😂।
.
.
ইরা আপুঃ কিহ ছাগল!!! কোথায় ছাগল!! 😮😮
.
.
চয়নঃ আরে তুমি চুপ থাকোতো। ও এইভাবেই কথা বলে।
.
.
আমিঃ হয়😇।
.
.
তারা দুইজনেইঃ হয়🤣😂।
.
.
আমিঃ😁।
.
তারপর রুম থিকা বের হইয়া আমার রুমে গেলাম। হুট কইরা একটা কথা মনে হইলো......
.
.
আমিঃ আচ্ছা চয়ন ভাইয়ের হাবভাব দেইক্ষাতো মনে হইতেছে সে ইরা আপুকেই খুব ভালোবাসে। তাইলে আমায় কেনো সেদিন প্রপোজ করছিলো??
.
.
আমি কিছুতেই এইটা মিলাইতে পারতেছিলাম না।
.
.
রাত্রের খাবার খাইয়া রুমে আসলাম।
ইরা আপু আমার সাথে ঘুমাইবে।
কিন্তু আমার ঘুম পাইতেছেনা। এটা সত্যি একটা বড় কোয়েশ্চান??
.
.
আমিঃ( আচ্ছা ধরে নিলাম যে আমি সেদিন তার কথায় রাজি হলাম.... হ্যা বললাম.... তাহলে?? তাহলেতো ইরা আপুর সাথে কি সে কথা বলতো না নাকি?? কিন্তু চয়ন তো কইলো যে ইরা আপু নাকি চয়ন ভাইয়াকে আগে থেকেই ভালোবাসে। শুধু চয়ন ভাইয়াই রাজি ছিলোনা।
ধুর ক্যামনে কি তাইলে?? আমি যদি রাজি হইয়া যাইতাম তাহলে তো আমাদের চার জনের জীবনটাই নস্ট হইয়া যাইতো। কারন ইরা আপু চয়ন ভাইকে ভালোবাসে, চয়ন ভাইয়া আমাকে ভালোবাসে, আমি আমার পটেটো ক্রাকারস কে। তাইলে কি হইতো.... ভালোবাসার চক্রাকার হইয়া যাইতো😐।)"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন।
.
.
নাহ আমার ঘুম পাইতেছেনা... ক্যান জানিনা আজকে খুব ছাদে যাইতে ইচ্ছা করতেছে। আগেও মোনে চাইতো সাহসে কুলাইতোনা রাত্রে যাওয়ার তাই যাইতামনা। কিন্তু আজকে কেমন যেনো সাহস টাও পাইতেছি।
.
.
তো যাইহোক উঠে ছাদে গেলাম।
.
.
যাইয়া দোলনায় বসলাম।
.
.
হুট করে মনে হলো কেউ আমার পাশে বসছে।
.
.
আমি কিছু কওয়ার আগেই আমার মুখে হাত দিলো।
.
ছাদে ১ টা লাইট ছিলো। সেইটার আবছা আলোয় দেখলাম চয়ন।
.
.
উনার দেইক্ষাই কেমন একটা ভয় করতে লাগ্লো। নাহ আমার এখানে আসাটা ঠিক হয়নাই।
পরে আবার ভাবলাম.... ধুর.... মনে হচ্ছে যেনো জীবনে এই প্রথম ওর কাছে বসছি..... কতইতো ওর রুমে একা গেলাম, দরজা আটকানো অবস্থায় দুজনে ছিলাম। হুদ্দাই এখন এইসব ভাবতেছি। পরক্ষনেই আবার মনে পরলো যদি ইরা আপু আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে উলটা পালটা যদি কিছু ভাবে!!!!
.
না না এখানে থাকাটা ঠিক হবেনা। যেই উঠে যেতে নিবো ওমনি চয়ন হাত ধরে টাইন্না বসাইলো। আর আমারতো অবস্থা কাহিল... ভয়ের চোটে।
.
.
চয়নঃ আরেহ ফুলির মা, তুমি না ঘুমাইয়া এখানে কি করছো??
.
.
আমার মুখ দিয়া কথাই বের করতে পারতেছিলামনা এক অজানা ভয়ে।
.
.
চয়নঃ( আমার মাথায় হাত বুলাইয়া) কি হইছে বলো আমাকে?? রাতের খাবারের সময়ও দেখলাম তোমার মোন খারাপ। যেই মেয়েটা সারাক্ষন বকর বকর করে সে হুট করে এত্ত চুপচাপ হয়ে গেলো ক্যানো??
.
.
আমার গলা শুকাইয়া কাঠ হইয়া গ্যাছে।
.
.
চয়নঃ কি হইছে ফুলির মা?? ( তারপর আমার কানের কাছে মুখ নিয়া) তুমি রাজি থাকলে কিন্তু আমি এখনো তোমার কাছে ইরাকে ফেলে চলে আসতে পারি।
.
.
গেলো আমার মেজাজ টা খারাপ হইয়া🤬। ওরে তুই এত্ত লুইচ্চার লুইচ্চা সেইটা আমার জানা ছিলোনাতো। সাহস কত্ত বড় ওর!!!!
.
.
আমি দোলনা থিকা উইঠঠাই ওই কলার ছোকলারে টাইন্না উঠাইয়াই ছাদের ফ্লোরেই ধাক্কা মাইরা ফালাইলাম।
.
.
আমিঃ আপনি কি মনে করছেন হ্যা?? ফালতু মাইয়া ভাবছেন আমারে?? আমার একটা হবো হবো জামাই রাইক্ষা আমি আপনার কাছে আসমু?? নিকুচি করছে আপনার ভালোবাসার। আপনি আসলে ভালোবাসতেই জানেননা। কত্ত ভালো ভাবছিলাম আমি আপনাকে। আর আপনি আমাকে এইসব কথা বলেন?? আমি ইরা আপুকে ১ দিন দেইখাই বুঝতে পারছি যে সে আপনাকে কতোটা ভালোবাসে আর আপনি কিনা কইতাছেন আমি হ্যা কইলে তারে রাইক্ষা আমার কাছে চইল্লা আসবেন?? ছিহঃ কি গ্যারান্টি আছে তার যে পরে আবার আপনে অন্য মেয়ে দেইখা আমাকে ছাড়বেননা?? ওই মিয়া আপনেরে কি আমি কইছি ভালোবাসতে?? এখন আবার আমারে কু পরামর্শ দেন। শুনেন আমি আমার আলু থুক্কু উনারে খুব ভালোবাসি বুঝছেন?? আপনের মতো এত্ত ঠুনকো ভালোবাসা না। সাহস কত্ত বড়ো।(প্রচ্চুর চিল্লাইয়া)
.
.
চয়ন মল্লিক উইঠা তারপর আবার গিয়া দোলনায় বসলো।
.
.
.
আমিতো রাগে কাপতেছি। যেই যাইতে নিমু অমনি কয়.......
.
.
সত্যি আমি তোমাকে ভালোবাসছিলাম। তুমি যদি আমাদের বাসায় না আসতে তাহলে বোধ হয় আমি তোমার পিছে এইভাবেই ঘুর ঘুর ঘুর ঘুর করতাম। কিন্তু আমাদের বাসায় আসার ৫/৬ দিন পরই আমি অন্য কিছু দেখলাম তোমার মধ্য।
.
তুমি কারো একজনের সাথে ফোনে কথা বললে খুব আন্তরিকতার সাথে মিষ্টি করে কথা বলো। প্রথম প্রথম পাত্তা না দিলেও... পরবর্তীতে সেটাকে আমি গুরুত্ব দিতে শুরু করলাম। কেননা এটা আমার নিজের জীবনের সাথে জড়িত। তখন মনে করলাম ভুল সিদ্ধান্তে অনেক কিছু লস হয়ে যেতে পেরে। আগে সবটা জানা উচিত। তাই আমি তোমার বিষয়ে গোপনে খবর নেওয়া শুরু করলাম। কারন অই একটাই, যেহেতু তোমায় আমার পছন্দ হয়েছে হয়তো একটু ভালোওবেসে ফেলেছি, তাই আমি কোনো রিস্ক নিতে চাইছিলাম না। তোমার মায়ায় পুরো না জড়িয়েই আগে তোমার সম্পর্কে খোজ নেওয়া শুরু করলাম। আমি দেখেছি তুমি ফোন খুব কম আসে আর আসলেও সন্ধ্যার পর আসতো, ওইটুকু সময় টাকে তুমি এমন ভাবে উপভোগ করো যেনো এটাই তোমার আসল খুশি আসল প্রাপ্তি। সব টাই নিরবে নোটিশ করেছি আমি।
.
.
বেশিদিন লাগেনি তোমার সম্পর্কে জানতে আমার। তাছাড়া তোমার ফোন টাও আমি এইজন্যই আমার কাছে ২ দিন রেখেছিলাম।
ক্যানো রেখেছি সেটা তো তোমাকে কালকে রাত্রেই বলেছি। তবে ১ টা কথা কিন্তু বলা হয়নাই। ২ দিন আমার কাছে ফোন থাকা অবস্থায়... ১ দিন রাতের বেলায় শাওন( মানে আমারজন) ফোন দেয় তোমার ফোনে।
আমি রিসিভ করি কথা বলি।
খুবি ভালো লাগলো কথা বলে ভাইয়ের সাথে, বুঝতে পেরেছি সে তোমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে। যদিও সে আমার থেকে ১ বছরের ছোটো। খুব বিনয়ি ছেলেটা।
.
উনি তোমাদের রিলেশন সম্পর্কে অনেক কিছুই বললো। এও বলেছে যে তোমাদের রিলেশন শুরু হওয়ার আগে নাকি তুমি একবার তোমার হবু জামাইয়ের চশমায় পাড়া মেরে ভেংগে ফেলেছিলে🤣, আবার উনার সাথেই নাকি ডিম নিয়ে ঝগরা করেছিলা। তুমি নাকি এও বলেছিলে যে আমার ডিম না পাইলে আপনের হিসু কষা হইয়া যাবে😂🤣😅😆। তখন নাকি তুমি মুখ ঢাকা আবস্থায় ছিলা। আর সে মুখে রুমাল প্যাচানো অবস্থায় ছিলো ঠান্ডা লাগার কারনে। তাই কেউ কাউকে চিনতে পরোনাই রিলেশন হওয়ার পরে। কিন্তু রিলেশন এর পর দুজনে যখন কথা শেয়ার করছিলে তখন দুইজনে এটা একসাথে বলার পর হেসে দিয়েছিলে😄🤣😂😅।
.
.
আমিঃ(কাম নাই আর... সব কইয়া দিছে🙄)
.
.
আমিঃ তাইলে আপনে ওইদিন প্রপোজ করছিলেন ক্যান বলেন??
.
.
চয়নঃ খুবি সিম্পল পাগলি মেয়ে.... তোমার তার উপর ভালোবাসাটা দেখার জন্য। আমি যদিও জানতাম তুমি রাজি হবেনা, তাও মাথায় দুস্টু বুদ্ধি চাপলো। আর তাছাড়া আরেকটা কথা কি জানো?? আমি ইরাকে মিস করতে করতে এক সময় বুঝতে পেরেছি যে নাহ ওকেই আমি ভালোবাসি। ওকে হারাতে পারবোনা। ওর সাথে তো গত ২ মাস ধরে আবারো যোগাযোগ শুরু করি। আর আমার ভালোবাসার কথা জানাই। জানো ও খুশির চোটে কান্নাই করে ফেলছিলো সেদিন। পরে ভাবলাম যে নাহ ওকে আর কষ্ট দিবোনা।
.
.
আমিঃ ইরা আপু আসলেই খুবি ভালো😊।
.
.
চয়নঃ হুম খুব ভালো মেয়ে একটা। (কতক্ষন পরে) এই যে দুস্টু পরি আমার মিষ্টি পরিটাকে তো সেই কতক্ষন থেকে রুমে একা রেখে এসেছো। ও কিন্তু তোমার মতই ভয় পায়। যাও রুমে যাও।
.
.
.
আমিঃ অক্কে😊। (যেই সিড়ির কাছে গেছি দেখি......)
.
.
আমিঃ ই... ইরা আপু। (আমার ভয় করতে লাগলো যে আবার উলটা পালটা কিছু ভাব্বেনাতো। কারন আপু একবার আমার দিকে আরেকবার চয়নের দিকে তাকাইতেছে। তারপর কতক্ষন পরেই ফিক করে হেসে দিলো)
.
.
ইরা আপুঃ কিরে দুই মিন মিনা আমাকে দেখে ভয় পাইছিস??
.
.
আমি ইকটু হেসে কইলাম চয়ন ভাইয়া তোমার জন্য অপেক্ষা করতেছে যাও।
.
ইরা আপু হুম বইল্লা চয়ন ভাইয়ার কাছে গেলো।
.
আর আমি এদের ঝামেলা না দিয়া নিজের রুমে আইসা শান্তিতে ঘুমাইলাম।
.
এইভাবে কয়েকদিন কাটলো।
.
.
.
পরেরদিন সকালে মেজু টেনে ধরে উঠাইলো আমাকে।
.
.
তারপর নিচে দেখলাম সব গেস্ট রা আসছে।
.
.
আমিঃ ও শাবানা আন্টি, কি হচ্ছেগো এখানে।
.
.
শাবানা আন্টিঃ(হেসে তার কাছে টেনে নিয়ে) বুঝলি চয়ন বড় হয়ে গেছে🤫।
.
.
আমি যা বুজার বুঝেছি হু হু বিয়ে বিয়ে...
.
.
আমিতো সেই খুশি.....
.
.
সব্বাইকে দাওয়াত দেওয়া হলো। আমার আম্মু, আব্বু, ভাই আসলো। আংকেল, আন্টিরাও আসছিলো। ওহ রায়া আপু ব্যান, ও আসছিলো😆।
.
.
গায়ের হলুদের পর্ব জাকজমক ভাবে হয়ে গেলো। আমার মশাইকেও আসতে বলছিলো। কিন্তু এক্সাম থাকার জন্য আসতে পারেনাই।
.
.
বিয়ের দিন শাবানা আন্টির সামি আলমগীর আংকেল আসলো😁।
.
.
আংকেল আইসাই বলে তুমি সেই দুস্টু তন্নি না!!!
.
.
আমিঃ ইয়েএএএ আমাকে সব্বাই চেনে।
.
.
উনার সব ফ্রেন্ডস গুলাও আসছিলো।
.
বিয়ের দিন আমার মশাইকে চয়ন ভাইয়া ভিডিও কল দিয়া আমরা সবাই অনেক্ষন কথা বলছিলাম।
.
.
আমি নাচ্ছিলামও 💃💃।
.
.
মেজু আর আমিতো পুরা নাইচ্চা কুইদ্দা মাখো মাখো করে ফেলছি। ওহহো সাথে জয়েন হইছিলো ইরা আপু আর চয়ন ভাইয়াও💃💃।
.
আমাকে গান গাইতে বলছিলো আমিও আমার বিখ্যাত গান শুনাইছিলাম।
.
.
বিয়েটা খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন হইছিলো।
.
.
তারপর বৌভাত হইলো। ওহ বলা হয়নাইতো ইরা আপুর আব্বু আম্মুও আসছিলো।,আর মজার কথা এরাও আমাকে চিনে। আমাকে দুস্টু পরি বলে ডাকতেছিলো সবাই😎।
.
.
তো যাইহোক আমার ফাইনাল এক্সাম আইসা পড়লে এক্সাম দিলাম, তারপর ৩ মাসের ছুটি বাড়ি যাইয়া কাটাইলাম। আর ভেবেছি যে ওই বাসায় যাবোনা। আব্বুর অফিসে থাকবো। কারন আব্বুর ভাইয়া ভাবি তাদের কাছে রাখতে চায় আমাকে। বাড়ি যাওয়ার আগের দিন সবাইকে তা জানিয়ে রাখলাম আমি।
.
.
চয়ন ভাইয়া আর ইরা আপুও নাকি ইটালিতে চলে যাবে, আলমগীর আংকেল এর সাথে। তারপর তার ২ মাস পর শাবানা আন্টি আর মেজুকেও নাকি নিয়ে যাবে।
.
.
তো যাই হোক, উনারা বাহিরে যাবেন বলে আমাকে বাড়ি যেতে দিলোনা কলেজ বন্ধ পাইয়া আরো ৪ দিন সেখানে থাকা লাগলো।
.
.
যাওয়ার দিন চয়ন ভাইয়া ইরা আপু আমাকে জড়াইয়া ধরলো।
.
.
চয়ন ভাইয়াঃ শোনো তুমি একদম দুস্টামি করবানা ঠিকাছে?? আর পাকনামি কিন্তু কম করবা। আর শোনো আমাদের জন্য অবশ্যই দোয়া করবা। (এই বলে আমার গাল ধইরা টান দিলো। এবার আর কিছু বললামনা)
.
.
তারপর তারা চলে গেলো আমিও শাবানা আন্টি আর মেজুর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।
.
আমি বাড়িতে থাকতেই তারা ইটালি চলে গিয়েছিলো। আমার বিয়েতে নাকি তারা আসবে😊।
.
.
এইভাবেই একটা ভালো মোমেন্ট কাটাইলাম😊😊।
.......সমাপ্ত .......
রিমঝিম রিমা
"ভৌতিক গল্প ও রহস্যময় কাহিনী" পেজের সাথেই থাকুন। আমাদের পেজের লিংক facebook.com/voutik03 পেজটাতে লাইক এবং ফলো দিয়ে রাখবেন যাতে পরবর্তী গল্প গুলো সহজেই আপনি পেতে পারেন। আর গল্প ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন...👹 লাইক কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মতামত জানাবেন...💖
Collected...🥰
#Kalponik_F___ 😊