ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবশেষে তুমি..

পর্ব 7

লেখক: আইরিশা / Irisha

অবশেষে তুমি

পর্ব ৭: ভালোবাসার আড়ালে রহস্য

লেখিকা: আরফা আইরিশা

সকালের খানবাড়ি।

— এই যে ইহান ভাই, আপনার ফোনটা কি বিয়ে করে ফেলেছে?

সামিরের কথা শুনে ইহান বিরক্ত চোখে তাকাল।

— মানে?

— মানে, সকাল থেকে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলার সময় নেই, ভাবির সঙ্গে কথা বলার সময় নেই, শুধু ফোন আর ফোন!

ইহান ভ্রু কুঁচকে বলল,

— কোন ভাবি?

সামির মুখে হাত দিয়ে ভান করে অবাক হলো।

— হায় আল্লাহ! নিজের হবু ভাবিকেও চিনতে পারছেন না! ইনায়া আপু কোথায়? আপু, আপনার বর আপনাকে ভুলে গেছে!

— সামির! — ইহান ধমকে উঠল।

সামির সঙ্গে সঙ্গে আয়ানের পেছনে লুকিয়ে পড়ল।

— ভাইয়া, দেখেছেন? সত্যি কথা বললেই মানুষ রেগে যায়!

আয়ান চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল,

— তুই সত্যি কথা বলিস, নাকি সকালবেলা মানুষের মাথা খাস, সেটা নিয়ে গবেষণা করা দরকার।

পাশে বসে থাকা আয়রা হেসে বলল,

— গবেষণার দরকার নেই। সামিরের মাথার ভেতরে মস্তিষ্কের পরিবর্তে বাতাস আছে।

— এই মেয়ে! আমার মাথায় বাতাস থাকলে তোমার মাথায় কী আছে?

— বুদ্ধি।

— তাহলে তোমার বুদ্ধি দিয়ে আমার একটু উপকার করো। নুহাকে কীভাবে ইমপ্রেস করব বলো তো?

আয়রা সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।

— অবশেষে আমার ভাইয়ের মাথায় প্রেম ঢুকেছে!

সামির লজ্জা পেয়ে বলল,

— আরে, আস্তে বলো! সবাই শুনে ফেলবে!

— কেন? নুহা কি তোমার গোপন মিশন?

— হ্যাঁ। মিশন নুহা!

দূর থেকে ইনায়া এসে বলল,

— তোমাদের সকালবেলার মিটিং শেষ হয়েছে? নাকি দুপুর পর্যন্ত চলবে?

সামির দাঁত বের করে হাসল।

— আপু, আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছি।

ইনায়া চোখ ছোট করে বলল,

— কী আলোচনা?

আয়রা মুখ খোলার আগেই সামির বলে উঠল,

— দেশের অর্থনীতি!

আয়ান চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,

— তোদের অর্থনীতি দেখে দেশটা একদিন দেউলিয়া হয়ে যাবে।

সবাই হেসে উঠল।

কিন্তু হাসির মাঝেও ইনায়ার চোখ চলে গেল ইহানের দিকে।

ইহান তখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিল।

গত রাতের সেই অচেনা মেসেজটা তার মাথা থেকে কিছুতেই সরছিল না।

“আপনি যাকে ভালোবাসেন, তার কাছেও একটা সত্যি লুকানো আছে।”

কথাটা কি সত্যি?

ইনায়া কি সত্যিই তার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছে?

নিজের ভাবনায় ডুবে থাকা ইহান হঠাৎ খেয়াল করল, ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে আছে।

চোখাচোখি হতেই ইনায়া চোখ সরিয়ে নিল।

ইহানের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।

সে কি সত্যিই ইনায়াকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে?

নাকি অচেনা কেউ ইচ্ছা করেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে?

খানবাড়ির ছাদে

সকালের নাশতার পর ইনায়া ছাদে এসে দাঁড়াল। আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে শীতের আমেজ।

কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।

— এখানে একা দাঁড়িয়ে কী ভাবছ?

ইনায়া ঘুরে তাকাল।

ইহান।

ইনায়া মুখ ফিরিয়ে বলল,

— কিছু না।

— কিছু না ভাবতে ভাবতেই মানুষ এত গভীর হয়ে যায়?

— আপনি কি এখন আমার মনের গবেষণা করবেন?

ইহান একটু হেসে বলল,

— করতে পারি। তবে গবেষণার জন্য কিছু তথ্য দরকার।

— কী তথ্য?

— তুমি আমার ওপর রাগ করেছ কেন?

ইনায়া এবার তার দিকে তাকাল।

— আমি রাগ করিনি।

— তাহলে কাল থেকে আমার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছ না কেন?

ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

— আমি কথা বলছি না, নাকি আপনি আমার সঙ্গে কথা বলছেন না?

ইহান চুপ করে গেল।

ইনায়া ধীরে বলল,

— আপনি কাল আমাকে কাচ্চি খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমার জন্য কলম এনেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো আপনি আমাকে কিছু বলতে চান। কিন্তু তারপর থেকে আপনি কেমন যেন হয়ে গেছেন।

ইহান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— ইনায়া, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— করুন।

— তুমি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছ?

প্রশ্নটা শুনে ইনায়ার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

— কী লুকাব?

— জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমাদের মধ্যে এমন কিছু আছে, যেটা আমি জানি না।

ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— ইহান, সবকিছু জানতেই হবে এমন তো নয়। কখনো কখনো মানুষ নিজের অনুভূতিগুলোও বুঝতে পারে না।

ইহান তার দিকে তাকিয়ে রইল।

— নিজের অনুভূতি?

ইনায়া বুঝতে পারল, কথাটা বলে সে ভুল করেছে।

— মানে… আমি সাধারণভাবে বললাম।

ইহান এক পা এগিয়ে এসে বলল,

— আর যদি বলি, আমি আমার অনুভূতিগুলো বুঝতে শুরু করেছি?

ইনায়ার হৃদস্পন্দন যেন মুহূর্তেই বেড়ে গেল।

সে কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইহানের ফোন বেজে উঠল।

অচেনা নম্বর।

ইহান কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।

— মেসেজটা পড়েছেন?

ইহানের মুখ শক্ত হয়ে গেল।

— আপনি কে?

— পরিচয় জানার এত তাড়া কেন? আগে নিজের পরিবারের পরিচয়টা ভালো করে জেনে নিন।

— কী বলতে চাইছেন?

— যাকে বিশ্বাস করছেন, সে-ই হয়তো আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

কথাটা বলেই কল কেটে গেল।

ইহান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।

ইনায়া উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল,

— কী হয়েছে?

ইহান ফোনটা পকেটে রেখে বলল,

— কিছু না।

কিন্তু এবার ইনায়া বুঝতে পারল, ইহান তার কাছ থেকে কিছু একটা লুকাচ্ছে।

অন্যদিকে, আয়ান ও আয়রা

শহরের একটি ক্যাফেতে বসে আয়ান ল্যাপটপে কাজ করছিল। সামনে বসে আয়রা আইসক্রিম খাচ্ছিল।

— ভাইয়া, একটা কথা বলব?

— বল।

— আপনি কখনো প্রেমে পড়েছেন?

আয়ানের আঙুল কিবোর্ডের ওপর থেমে গেল।

— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

— এমনি। আপনার বয়স ছাব্বিশ। এখনো বিয়ের নাম শুনলে পালিয়ে যান। ব্যাপারটা সন্দেহজনক।

আয়ান হালকা হেসে বলল,

— সবকিছুর জন্য সঠিক সময় লাগে।

আয়রা চামচ দিয়ে আইসক্রিম নাড়তে নাড়তে বলল,

— নাকি এমন কাউকে ভালোবাসতেন, যাকে কখনো বলতে পারেননি?

আয়ানের মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।

আয়রা সেটা খেয়াল করল।

— ভাইয়া?

— হুম?

— কিছু হয়েছে?

আয়ান ল্যাপটপ বন্ধ করে বলল,

— আয়রা, একটা কথা মনে রাখিস। সব ভালোবাসা পাওয়ার জন্য হয় না। কিছু ভালোবাসা দূর থেকে দেখেই ভালো থাকতে হয়।

আয়রা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

— আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন?

আয়ান উত্তর দিল না।

কারণ উত্তরটা দিলে হয়তো এমন একটা সত্যি সামনে চলে আসবে, যেটা সে বহুদিন ধরে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছে।

আয়রা হঠাৎ বলল,

— ভাইয়া, আমি যদি বলি, আমি ইহানকে ভালোবাসি?

আয়ান চোখ বন্ধ করে একবার শ্বাস নিল।

তারপর স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

— তাহলে নিজের অনুভূতিটা আগে ভালো করে বুঝে নে।

— আপনি আমাকে সাহায্য করবেন না?

— তুই যদি সত্যিই ওকে ভালোবাসিস, তাহলে আমি চাইব তুই সুখী হোস।

আয়রা খুশি হয়ে হাসল।

— আপনি পৃথিবীর সেরা ভাইয়া!

আয়ান মৃদু হাসল।

কিন্তু আয়রার অজান্তেই তার বুকের ভেতর একটা পুরোনো স্মৃতি আবার জেগে উঠল।

যে স্মৃতিটা সে কখনো কাউকে জানতে দেয়নি।

সামিরের প্রেমের মিশন

বিকেলবেলা।

সামির আয়রার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল।

— ম্যাডাম, আপনার ছাত্র হাজির!

আয়রা বই থেকে মুখ তুলে বলল,

— কী চাই?

— নুহার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

— তো দেখা করো।

— একা?

— না, আমার হাত ধরে দেখা করতে হবে!

সামির মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— তুমি সাহায্য করার কথা দিয়েছিলে!

আয়রা হেসে বলল,

— ঠিক আছে। কাল নুহাকে আমাদের সঙ্গে কফি খেতে ডাকব। তবে একটা শর্ত আছে।

— আবার কী শর্ত?

— নুহার সামনে কোনো পাগলামি করবে না।

সামির বুক ফুলিয়ে বলল,

— আমি খুব ভদ্র ছেলে।

আয়রা হেসে গড়িয়ে পড়ল।

— এই কথাটা নুহাকে বললে মেয়েটা তোমাকে ব্লক করে দেবে!

সামির ভান করে আহত কণ্ঠে বলল,

— আমার মতো নিরীহ ছেলের সঙ্গে এমন অন্যায়!

দুজনের হাসির শব্দে ঘরটা ভরে গেল।

কিন্তু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তাদের কথোপকথন শুনছিল।

তার হাতে ছিল একটি ফোন।

স্ক্রিনে সামির ও নুহার একটি ছবি।

ছবির নিচে লেখা—

“ওদের কাছাকাছি আসতে দিও না। নইলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।”

লোকটি কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে একটি নম্বরে মেসেজ পাঠাল।

“পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোচ্ছে।”

রাতের অস্বস্তি

রাত সাড়ে দশটা।

ইহান নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কিছু পুরোনো ফাইল দেখছিল। অফিসের কাজের পাশাপাশি সে পরিবারের কিছু পুরোনো নথিও খুঁজছিল।

হঠাৎ একটি ফোল্ডারে চোখ আটকে গেল।

ফোল্ডারটির নাম—

KHAN FAMILY — CONFIDENTIAL

ইহান অবাক হলো।

এই ফোল্ডারটা আগে কখনো দেখেনি।

ফাইল খুলতেই কয়েকটি পুরোনো কাগজ আর একটি ছবি সামনে এল।

ছবিতে তাদের পরিবারের সবাই ছিল। কিন্তু ছবির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন অপরিচিত মানুষকে দেখে ইহান থমকে গেল।

লোকটির মুখের ওপর কালো কালি দিয়ে দাগ টানা।

ছবির পেছনে হাতে লেখা কয়েকটি শব্দ—

“যেদিন সত্যি প্রকাশ পাবে, সেদিন এই পরিবার আর এক থাকবে না।”

ইহানের বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।

ঠিক তখনই ফোনে একটি মেসেজ এল।

অচেনা নম্বর।

“ছবির মানুষটাকে চিনতে পেরেছেন?”

ইহান দ্রুত লিখল,

“আপনি কে? এসব কেন করছেন?”

উত্তর এল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই।

“আপনার পরিবারের সবচেয়ে বড় রহস্যের শুরু ওই মানুষটিকে দিয়েই।”

ইহান আবার ছবিটার দিকে তাকাল।

তারপর আরেকটি মেসেজ এল।

“আর ইনায়া রহমানের কাছেও এমন একটি সত্যি আছে, যা জানলে আপনি আর কখনো আগের মতো থাকতে পারবেন না।”

ইহানের হাত শক্ত হয়ে গেল।

ইনায়া?

ইনায়ার সঙ্গে এই রহস্যের সম্পর্ক কী?

সে কি সত্যিই কিছু জানে?

নাকি কেউ ইচ্ছা করে ইনায়ার নাম ব্যবহার করে তাকে দুর্বল করতে চাইছে?

ইহান ফোনটা নামিয়ে রাখল।

তার মনে পড়ল, বিকেলে ছাদে ইনায়ার বলা কথাটা—

“কখনো কখনো মানুষ নিজের অনুভূতিগুলোও বুঝতে পারে না।”

হঠাৎ তার মনে হলো, সে হয়তো জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

একদিকে ইনায়ার প্রতি তার অনুভূতি।

অন্যদিকে পরিবারের অজানা অতীত।

আর মাঝখানে এমন একজন, যে আড়াল থেকে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে।

ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।

— ইহান?

ইনায়ার কণ্ঠ।

ইহান দ্রুত ফাইলটা বন্ধ করে বলল,

— আসো।

ইনায়া ঘরে ঢুকে হাতে একটি কাপ এগিয়ে দিল।

— মা তোমার জন্য চা পাঠিয়েছেন।

ইহান কাপটা নিল।

ইনায়া তার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— তুমি ঠিক আছ তো?

ইহান কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

— ইনায়া, তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই।

— বলো।

— তুমি কি আমাকে এমন কিছু বলোনি, যেটা আমার জানা উচিত?

ইনায়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর সে নিচু গলায় বলল,

— ইহান, তুমি হঠাৎ এসব জিজ্ঞেস করছ কেন?

ইহান উত্তর দেওয়ার আগেই ইনায়ার ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে অচেনা নম্বর।

ইনায়া কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল—

— ইনায়া রহমান, ইহানকে সব সত্যি বলে দিয়েছ?

ইনায়ার হাত কেঁপে উঠল।

— আপনি কে?

ওপাশের মানুষটি মৃদু হেসে বলল,

— সময় খুব কম। তোমার অতীত ফিরে এসেছে, ইনায়া। এবার আর কিছু লুকিয়ে রাখা যাবে না।

কল কেটে গেল।

ইনায়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

ইহান তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— ইনায়া, কী হয়েছে?

ইনায়া কোনো উত্তর দিল না।

তার চোখে তখন ভয়।

কারণ ফোনের ওপাশের কণ্ঠটা সে চিনতে পেরেছে।

যে মানুষটিকে সে ভেবেছিল, আর কখনো তার জীবনে ফিরে আসবে না—সে ফিরে এসেছে।

আর সেই মানুষটির ফিরে আসা শুধু তার জীবন নয়, পুরো খান পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারে।

চলবে…!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন