আআআ! এটা তো দারুণ খবর! তোমার “অবশেষে তুমি” উপন্যাসের একজন পাঠক সব পার্ট পড়ে পরের পার্ট চাইছে! এইবার এমন একটা পর্ব দিচ্ছি, যাতে রহস্য, রোমান্স, কমেডি আর শেষে একটা বড়সড় টুইস্ট থাকে। 💗
নিচের লেখাটা সরাসরি কপি করে আপলোড করতে পারবে!
অবশেষে তুমি
পর্ব ৯: ভালোবাসার শুরু, নাকি নতুন ষড়যন্ত্র?
লেখিকা: আরফা আইরিশা
১. সকালবেলার অদ্ভুত পরিবর্তন
খানবাড়ি, সকাল ৮টা।
— ইহান ভাইয়া! আপনার কি শরীর খারাপ?
সামিরের চিৎকারে ডাইনিং রুমের সবাই চমকে উঠল।
ইহান বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বলল,
— কেন?
— আপনি আজকে একদম চুপচাপ! কাল রাতে কি ভূত দেখেছেন?
রোদ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— ভূত না, প্রেম! আমার অভিজ্ঞতা বলে, মানুষ প্রেমে পড়লে দুইটা কাজ করে। এক, সারাক্ষণ ফোন দেখে। দুই, আশেপাশের মানুষকে বিরক্ত করে।
আয়রা হেসে বলল,
— তাহলে সামিরও প্রেমে পড়েছে। ও তো সকাল থেকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা দেখছে!
সামির বুক ফুলিয়ে বলল,
— নিজের সৌন্দর্যের যত্ন নেওয়া অপরাধ না!
আয়ান চায়ের কাপ নামিয়ে বলল,
— সৌন্দর্য থাকলে যত্ন নেওয়া যায়। তোর ক্ষেত্রে তো আগে খুঁজে বের করতে হবে, সৌন্দর্যটা কোথায়!
পুরো ডাইনিং রুম হাসিতে ফেটে পড়ল।
সামির মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— এই বাড়িতে আমার কোনো সম্মান নেই!
ঠিক তখনই ইনায়া এসে বসল।
— কী হয়েছে আবার?
সামির নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
— আপু, আমাকে সবাই মিলে অপমান করছে। আপনি অন্তত আমার পাশে দাঁড়ান।
ইনায়া হাসতে হাসতে বলল,
— আগে নাশতা শেষ কর। তারপর তোর সম্মানের জন্য আন্দোলন করব।
সবাই আবার হেসে উঠল।
কিন্তু ইনায়ার চোখ আটকে গেল ইহানের দিকে।
ইহান আজও চুপচাপ। তার সামনে নাশতা রাখা, অথচ সে বারবার ফোনের স্ক্রিন দেখছে।
ইনায়া ধীরে জিজ্ঞেস করল,
— ইহান, কিছু হয়েছে?
— না।
— তাহলে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?
ইহান তার দিকে তাকাল।
গত রাতের কথাগুলো মনে পড়ল।
“তোমার অতীতের এমন কোনো ঘটনা আছে, যেটা তুমি আজও কাউকে বলোনি?”
প্রশ্নটা করার পর ইনায়ার মুখের পরিবর্তন সে ভুলতে পারছে না।
কিন্তু ইনায়াকে সন্দেহ করতে তার মন চাইছে না।
সে শুধু বলল,
— একটা কাজ নিয়ে চিন্তা করছি।
ইনায়া মৃদু হাসল।
— সব চিন্তা একা করতে হয় না। কখনো কখনো কাউকে বললেও মন হালকা হয়।
ইহান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
— ঠিক বলেছ।
ইনায়া একটু অবাক হলো।
— কী?
— কিছু না।
ইহান উঠে চলে গেল।
ইনায়া তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে হলো, ইহান যেন কিছু বলতে চেয়েও বলছে না।
২. আয়রার নতুন পরিকল্পনা
দুপুরের দিকে আয়রা নিজের ঘরে বসে সামিরের জন্য একটা পরিকল্পনা তৈরি করছিল।
সামির দরজা ঠেলে ঢুকে বলল,
— ম্যাডাম, আপনার ছাত্র হাজির!
আয়রা খাতা থেকে মুখ তুলল।
— কী চাই?
— নুহার সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা হয়েছে?
আয়রা মুচকি হেসে বলল,
— হয়েছে। আজ বিকেলে আমরা সবাই ক্যাফেতে যাব।
সামির খুশিতে প্রায় লাফিয়ে উঠল।
— সত্যি?
— হ্যাঁ। তবে একটা শর্ত আছে।
সামিরের মুখ শুকিয়ে গেল।
— আবার শর্ত!
— নুহার সামনে কোনো অদ্ভুত আচরণ করতে পারবে না। আর নিজের প্রশংসা নিজে করতে পারবে না।
সামির বুকের ওপর হাত রেখে বলল,
— নিজের প্রশংসা না করলে আমার পরিচয় দেব কীভাবে?
আয়রা একটা বালিশ ছুড়ে মারল।
— বের হও আমার ঘর থেকে!
সামির বালিশটা ধরে হেসে বলল,
— আচ্ছা, যাচ্ছি। কিন্তু মনে রেখো, একদিন এই সামির খান প্রেমে সফল হবেই!
আয়রা হাসল।
সামির চলে যাওয়ার পর তার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
ইহানকে সে ভালোবাসে।
কিন্তু ইহান কি কখনো তাকে সেই চোখে দেখবে?
প্রশ্নটার উত্তর তার জানা নেই।
তবু সে আশা ছাড়তে চায় না।
ঠিক তখনই আয়ানের মেসেজ এল।
আয়ান: আজ বিকেলে কোথাও যাচ্ছিস?
আয়রা: ক্যাফেতে। সামির আর নুহার প্রেমের মিশন আছে।
আয়ান: সাবধানে থাকিস।
আয়রা হেসে উত্তর দিল,
আয়রা: ভাইয়া, আমি বাচ্চা নই!
কিন্তু আয়ান ফোনটা হাতে নিয়ে চিন্তিত হয়ে বসে রইল।
কারণ সে জানে, এই পরিবারের ভেতরে এমন কিছু ঘটছে, যার প্রভাব সবার ওপর পড়তে পারে।
আর সে কোনোভাবেই আয়রাকে বিপদে পড়তে দিতে চায় না।
৩. ইনায়ার কাছে ইহানের প্রশ্ন
বিকেলবেলা।
ইনায়া নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
— আসব?
ইহানের কণ্ঠ শুনে ইনায়ার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
— আসো।
ইহান ঘরে ঢুকে দরজার পাশে দাঁড়াল।
ইনায়া বইটা বন্ধ করে বলল,
— কী ব্যাপার? আজকাল তো আমাকে সময়ই দাও না!
ইহান মৃদু হেসে বলল,
— অভিমান করেছ?
— না।
— তোমার এই ‘না’ শুনেই বুঝতে পারছি, তুমি অভিমান করেছ।
ইনায়া মুখ ঘুরিয়ে বলল,
— আপনি সব বোঝেন, তাই না?
ইহান একটু কাছে এসে বলল,
— সব না। কিছু কিছু বুঝতে চাই।
ইনায়া তার দিকে তাকাল।
— কী বুঝতে চান?
ইহান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— তোমাকে।
ইনায়ার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে চোখ নামিয়ে ফেলল।
— আমাকে বোঝার কী আছে?
— অনেক কিছু।
কথাটা বলেই ইহান থেমে গেল।
সে কি এখনই সব বলে দেবে?
অচেনা মেসেজের কথা? পরিবারের পুরোনো ছবির কথা? নাকি সেই নামটার কথা, যেটা তার হাতে থাকা কাগজে লেখা ছিল?
ইনায়া তার নীরবতা দেখে বলল,
— ইহান, তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?
ইহান মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ। কিন্তু তার আগে একটা কথা জানতে চাই।
— কী?
— তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো?
ইনায়া কোনো দ্বিধা না করেই বলল,
— করি।
ইহান অবাক হয়ে তাকাল।
— এত সহজে?
ইনায়া মৃদু হেসে বলল,
— কাউকে বিশ্বাস করতে সব সময় হাজারটা প্রমাণ লাগে না। কখনো কখনো মানুষটার আচরণই যথেষ্ট।
ইহান চুপ করে গেল।
এই মেয়েটাকে সে কীভাবে সন্দেহ করবে?
কিন্তু সত্যিটা না জেনে থাকাও সম্ভব নয়।
ইনায়া ধীরে বলল,
— এবার বলো, কী হয়েছে?
ইহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— আমাদের পরিবারের কিছু পুরোনো ঘটনা নিয়ে আমি খোঁজ করছি।
ইনায়ার মুখের হাসি একটু ম্লান হয়ে গেল।
— কেন?
— কারণ কেউ একজন আমাকে বারবার সতর্ক করছে। বলছে, আমার কাছের মানুষদের মধ্যে কেউ একজন সত্যি লুকাচ্ছে।
ইনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
— আর তুমি কি সেই অচেনা মানুষটার কথা বিশ্বাস করছ?
ইহান মাথা নাড়ল।
— পুরোপুরি না।
ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তাহলে একটা কথা মনে রেখো। সত্যি জানার আগে কাউকে দোষ দিও না।
ইহান মৃদু হাসল।
— তুমি ঠিকই বলেছ।
কিন্তু ইনায়া ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও ইহানের মনে একটা প্রশ্ন রয়ে গেল।
যদি ইনায়া সত্যিই কিছু লুকিয়ে থাকে, তাহলে সে কি কোনোদিন নিজে থেকে বলবে?
নাকি সত্যিটা তাকে অন্য কারও কাছ থেকে জানতে হবে?
৪. ক্যাফেতে প্রেমের মিশন
বিকেল পাঁচটা।
শহরের একটা সুন্দর ক্যাফেতে বসে আছে সামির, আয়রা আর নুহা।
নুহা এসে বসতেই সামির চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
— হাই, নুহা!
নুহা হেসে বলল,
— হাই, সামির। এত আনুষ্ঠানিকতা কেন?
সামির চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
— না, মানে... তোমাকে দেখে একটু নার্ভাস হয়ে গেলাম।
আয়রা মুখ ঘুরিয়ে হাসি চাপল।
নুহা মজা করে বলল,
— আমি কি তোমাকে বকা দিতে এসেছি?
সামির সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— না! তুমি বকা দিলেও আমি শুনব।
আয়রা আর থাকতে না পেরে হেসে ফেলল।
— ভাই, তুই একটু স্বাভাবিক হ!
সামির ফিসফিস করে বলল,
— চুপ কর! আমার প্রেমের ভবিষ্যৎ নষ্ট করিস না।
নুহা হেসে বলল,
— তোমরা দুজন এমন করছ কেন? আমি কি কোনো নাটকে এসে পড়েছি?
আয়রা বলল,
— না, তুমি আমাদের জীবনের কমেডি শোতে এসেছ।
তিনজনেই হেসে উঠল।
কিছুক্ষণ পর নুহা ও আয়রা খাবারের অর্ডার দিতে কাউন্টারে গেল।
সামির তখন নিজের ফোনে নোট খুলে দেখল।
লেখা আছে—
১. হাসতে হবে। ২. নুহার কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। ৩. অযথা নিজের প্রশংসা করা যাবে না। ৪. কোনোভাবেই নার্ভাস হওয়া যাবে না।
সে নিজেই বিড়বিড় করল,
— চার নম্বরটা সবচেয়ে কঠিন!
ঠিক তখন নুহা ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল,
— কী পড়ছ?
সামির চমকে ফোন লুকিয়ে বলল,
— কিছু না! অফিসের কাজ।
নুহা হেসে বলল,
— তুমি তো এখনো পড়াশোনা করছ। কোন অফিস?
আয়রা পাশ থেকে বলে উঠল,
— ওর নিজের কল্পনার অফিস!
সামির মাথায় হাত দিল।
— হে আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দাও!
হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই সন্ধ্যাটা সুন্দরভাবে কেটে গেল।
কিন্তু ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় সামিরের ফোনে একটা অচেনা মেসেজ এল।
“নুহার কাছ থেকে দূরে থাকুন। তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যত গভীর হবে, আপনার পরিবারের বিপদ তত বাড়বে।”
সামিরের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে মেসেজটা আবার পড়ল।
তারপর চারপাশে তাকাল।
রাস্তার ওপারে কালো পোশাক পরা একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।
লোকটা সামিরের দিকে তাকিয়ে ফোন কানে তুলল।
পরের মুহূর্তেই একটা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
সামির স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
নুহা তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কী হয়েছে?
সামির দ্রুত ফোন পকেটে রেখে হাসার চেষ্টা করল।
— কিছু না।
কিন্তু তার মনে তখন একটাই প্রশ্ন—
নুহার সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে পরিবারের বিপদ হবে কেন?
৫. আয়ানের অজানা অতীত
রাত আটটা।
আয়ান নিজের অফিসে বসে পুরোনো কিছু ফাইল দেখছিল।
হঠাৎ একটা খামের ভেতর থেকে পুরোনো ছবি বেরিয়ে এল।
ছবিতে আয়ান আর আয়রা ছোটবেলায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পাশে আরও একজন ছিল, কিন্তু ছবির সেই অংশটা কেটে ফেলা হয়েছে।
আয়ান ছবিটা হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর ড্রয়ারের ভেতর থেকে একটা চিঠি বের করল।
চিঠিটা অনেক পুরোনো।
সেখানে লেখা—
“যদি কোনোদিন সত্যিটা প্রকাশ পায়, তাহলে আয়রাকে রক্ষা করবে। ও যেন কখনো জানতে না পারে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।”
আয়ানের চোখ স্থির হয়ে গেল।
সে চিঠিটা ভাঁজ করে আবার ড্রয়ারে রাখল।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
অচেনা নম্বর।
আয়ান কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কণ্ঠ এল—
— চিঠিটা এখনো তোমার কাছে আছে?
আয়ান উঠে দাঁড়াল।
— আপনি কে?
— পরিচয় জানার দরকার নেই। শুধু মনে রেখো, অতীতকে চিরকাল লুকিয়ে রাখা যায় না।
আয়ান গম্ভীর গলায় বলল,
— আয়রার কোনো ক্ষতি হলে আমি কাউকে ছাড়ব না।
ওপাশ থেকে মৃদু হাসির শব্দ এল।
— তাহলে সত্যিটা খুঁজে বের করো, আয়ান খান। তবে সাবধান, সত্যি জানলে হয়তো তোমাকেও নিজের ভালোবাসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
কল কেটে গেল।
আয়ান ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল।
তারপর জানালার বাইরে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— আমি আয়রাকে কিছু হতে দেব না।
কিন্তু সে জানত না, সেই পুরোনো চিঠির রহস্য একদিন তার নিজের জীবনেও ঝড় তুলে দেবে।
৬. রাতের শেষ মেসেজ
রাত সাড়ে এগারোটা।
ইহান নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে পুরোনো নথি দেখছিল।
হঠাৎ একটা ইমেইল এল।
প্রেরকের নাম নেই।
বিষয়: “আপনার পরিবারের সত্যি।”
ইহান ইমেইলটা খুলল।
ভেতরে একটা ছবি।
ছবিতে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে একটা পুরোনো বাড়ি।
ছবির নিচে লেখা—
“এই ছবির মানুষগুলোর মধ্যে একজন আপনার জীবন বদলে দেবে।”
ইহান ছবিটা বড় করে দেখল।
তার চোখ একটা পরিচিত মুখে আটকে গেল।
মুখটা দেখে তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
এটা কি সত্যিই সেই মানুষ, যাকে সে এত দিন বিশ্বাস করে এসেছে?
নাকি ছবিটা পুরোনো হওয়ায় তার ভুল হচ্ছে?
ইহান দ্রুত ছবিটা ডাউনলোড করল।
ঠিক তখনই নতুন মেসেজ এল।
“আপনি যদি সত্যিটা জানতে চান, তাহলে কাল সকাল দশটায় পুরোনো বাড়ির সামনে আসুন। এবার আপনার জন্য এমন একজন অপেক্ষা করবে, যাকে আপনি কখনো কল্পনাও করেননি।”
ইহান কিছুক্ষণ মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ফোন তুলে ইনায়ার নাম খুঁজল।
সে কি ইনায়াকে সব বলবে?
নাকি আগে নিজেই সত্যিটা যাচাই করবে?
অনেকক্ষণ দ্বিধা করার পর সে ফোনটা নামিয়ে রাখল।
— কাল সবকিছুর উত্তর চাই।
কিন্তু ঠিক সেই সময়ে খানবাড়ির বাইরে একটা কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নেমে এল একজন অচেনা মানুষ।
তার হাতে একটা পুরোনো খাম।
সে খানবাড়ির গেটের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
তারপর ফোনে একটা মেসেজ পাঠাল—
“আমি ফিরে এসেছি। এবার কেউ আমাকে থামাতে পারবে না।”
মেসেজটা পাঠিয়ে লোকটা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
আর খানবাড়ির ভেতরে, কেউ একজন নিজের ঘরের জানালা দিয়ে সবকিছু দেখছিল।
তার মুখে ভয়।
কারণ সে মানুষটাকে চিনতে পেরেছে।
যে মানুষটাকে এত বছর ধরে মৃত বলে মনে করা হয়েছিল, সে আবার ফিরে এসেছে।
কিন্তু সে কেন ফিরেছে?
কার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে?
আর তার ফিরে আসার সঙ্গে ইহান, ইনায়া, আয়ান, আয়রা ও সামিরের জীবনের সম্পর্ক কী?
উত্তরগুলো এখনো অজানা।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—
খানবাড়ির অন্ধকার অতীত এবার আর গোপন থাকবে না।
চলবে…!!