সন্ধ্যার আকাশ 🌆
চতুর্থ অধ্যায়: ছেলেটা বড্ড বিরক্তিকর!
— আপনার সঙ্গে পরিচয়টা বেশ মজার হতে যাচ্ছে দেখছি!
আকাশের কথা শুনে সন্ধ্যা চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।
— আপনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আমার কোনো শখ নেই!
সন্ধ্যার কথা শুনে রাফি হেসে উঠল।
— ভাই, প্রথম দেখাতেই এমন অপমান! তোর তো দেখি কপাল খারাপ!
আকাশ মুচকি হেসে বলল,
— আরে, সমস্যা নেই। সবাই তো আর আমার মতো সুদর্শন হয় না, তাই আমাকে দেখলে একটু হিংসা হতেই পারে!
কথাটা শুনে সন্ধ্যা আর চুপ থাকতে পারল না।
— আপনি সুদর্শন? আয়না কি কখনো দেখেছেন?
এবার মাইশা হেসে সোফায় গড়িয়ে পড়ার অবস্থা।
আকাশ বুকের ওপর হাত রেখে অভিনয় করে বলল,
— হায়! এত বড় অপমান! রাফি, তুই সাক্ষী থাকিস। এই মেয়ে আমার হৃদয়ে আঘাত করেছে!
সন্ধ্যা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— নাটক কম করেন। আপনার গিটারটা নিয়ে বসেন।
— কেন? আমার গিটার বাজানো শুনতে ইচ্ছা করছে নাকি?
— না, আপনার কথা শুনে কান ব্যথা করছে। গিটার বাজালে অন্তত মুখটা বন্ধ থাকবে!
ঘরের সবাই হেসে উঠল।
আকাশও হাসল। তবে মনে মনে ভাবল, মেয়েটা বেশ মজার তো!
---
কিছুক্ষণ পর সবাই মিলে ছাদে গেল।
বিকেলের আকাশটা আজ বেশ সুন্দর। হালকা বাতাস বইছে, দূরে পাখিরা নিজেদের বাসায় ফিরছে।
আকাশ ছাদের একপাশে বসে গিটার বাজাতে শুরু করল। তার আঙুলের ছোঁয়ায় মিষ্টি একটা সুর ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
সন্ধ্যা প্রথমে খুব একটা পাত্তা দিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর অজান্তেই সুরটার দিকে মন চলে গেল তার।
গিটার থামিয়ে আকাশ জিজ্ঞেস করল,
— কী ব্যাপার? ভালো লাগছে?
সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি বলল,
— না! এমনিই শুনছিলাম।
— ও আচ্ছা! তাহলে বাজানো বন্ধ করে দিই?
— সেটা আপনার ইচ্ছা!
আকাশ গিটারটা নামিয়ে রাখল।
সন্ধ্যা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে বলল,
— এই যে! বন্ধ করলেন কেন?
আকাশ দুষ্টুমি করে হেসে বলল,
— আরে, আপনি তো বললেন ভালো লাগছে না!
সন্ধ্যা বুঝতে পারল, সে নিজেই নিজের কথায় আটকে গেছে।
— উফ্! আপনি ভীষণ বিরক্তিকর!
— ধন্যবাদ! আপনার মুখে প্রশংসা শুনে ভালো লাগল।
সন্ধ্যা আর কিছু বলল না। শুধু মনে মনে ভাবল, ‘আল্লাহ! এই ছেলেটার সঙ্গে আমাকে আর কতক্ষণ থাকতে হবে!’
---
সন্ধ্যা যখন বাড়ি ফেরার জন্য তৈরি হচ্ছিল, আকাশ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলল,
— আবার আসবেন কিন্তু!
সন্ধ্যা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কেন? আমাকে বিরক্ত করার জন্য?
আকাশ মুচকি হেসে উত্তর দিল,
— না, আপনার সঙ্গে ঝগড়া করার জন্য। আপনার মতো ঝগড়াটে মানুষ তো রোজ রোজ পাওয়া যায় না!
সন্ধ্যা মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল।
কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তার মুখে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল।
নিজেই অবাক হয়ে মনে মনে বলল,
‘ছেলেটা বড্ড বিরক্তিকর!’
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আকাশের সঙ্গে কাটানো বিকেলটার কথা তার বারবার মনে পড়ছিল।
আর অন্যদিকে, ছাদে বসে আকাশ গিটারের তারে আঙুল ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে ভাবছিল—
‘মেয়েটার রাগটা যেমন, কথাগুলোও তেমন! আবার দেখা হলে মন্দ হয় না।’
দুজনের কেউই জানত না, আজকের এই ছোট্ট পরিচয় একদিন তাদের জীবনের গল্পে কতটা বড় জায়গা নিয়ে নেবে।
সন্ধ্যার আকাশ 🌆
পঞ্চম অধ্যায়: আবার এই ছেলেটা!
সকাল ৯টা।
ঘুম থেকে উঠেই ফোনটা হাতে নিল সন্ধ্যা। কয়েকটা মেসেজ দেখে আবার বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল সে।
ঠিক তখনই মাইশার ফোন এল।
— হ্যালো, মহারানি! কী করছিস?
— ঘুমাচ্ছি। বিরক্ত করিস না তো!
— বাহ্! তোর ঘুমের সময় শেষ। তাড়াতাড়ি তৈরি হ, আজ তোকে নিয়ে বাইরে যাব।
সন্ধ্যা বিরক্ত হয়ে বলল,
— আবার কোথায়?
— এত প্রশ্ন করলে তোকে আর বলবই না!
— আচ্ছা বাবা, তৈরি হচ্ছি। এবার শান্তি?
ফোন রেখে সন্ধ্যা বিছানা থেকে উঠে পড়ল।
---
কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা মাইশার সঙ্গে দেখা করতে বের হলো। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে সে চারদিকে তাকিয়ে মাইশাকে খুঁজতে লাগল।
কিন্তু মাইশার আগে যার সঙ্গে দেখা হলো, তাকে দেখে সন্ধ্যার মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।
হাতে গিটার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ!
সন্ধ্যা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— আপনি এখানে কী করছেন?
আকাশ মুচকি হেসে বলল,
— কেন? এই রাস্তাটা কি আপনার বাবার?
— মানে?
— মানে, এখানে দাঁড়ানোর আগে আপনার অনুমতি নিতে হবে নাকি?
সন্ধ্যা চোখ ঘুরিয়ে বলল,
— আপনার সঙ্গে কথা বলাটাই ভুল হয়েছে!
আকাশ হেসে বলল,
— অথচ আমাকে দেখেই আপনি কথা বলতে চলে এলেন!
— আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে আসিনি। আপনি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন!
— ওহ্! বুঝেছি। আমাকে দেখে আপনি এতটাই অবাক হয়েছেন যে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন!
সন্ধ্যা রাগে গজগজ করতে লাগল।
— অসহ্য! একদম অসহ্য!
আকাশ মনে মনে হাসল।
মেয়েটাকে রাগাতে তার বেশ ভালোই লাগছে!
---
এমন সময় মাইশা এসে হাজির হলো।
— আরে, তোরা দুজন এখানে? আমি তোকে খুঁজছি, সন্ধ্যা!
সন্ধ্যা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— তোর এই বন্ধুকে সামলা! সকাল সকাল আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছে!
মাইশা হেসে বলল,
— আকাশ তো এমনই। ওকে নিয়ে এত রাগ করিস কেন?
আকাশ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— দেখেছিস, মাইশা? তোর বান্ধবী আমাকে একদম সহ্য করতে পারে না!
সন্ধ্যা বলল,
— ঠিক ধরেছেন!
— কিন্তু আমি তো আপনাকে বেশ সহ্য করতে পারি!
— কে বলেছে আপনাকে আমাকে সহ্য করতে হবে?
তিনজনের কথায় হাসতে হাসতে সময় কেটে গেল।
এরপর মাইশা প্রস্তাব দিল, সবাই মিলে একটা ক্যাফেতে যাবে।
সন্ধ্যা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু মাইশার জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হলো।
---
ক্যাফেতে বসে সবাই খাবারের অর্ডার দিল।
আকাশ সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— আচ্ছা, আপনি কী করতে ভালোবাসেন?
সন্ধ্যা একটু ভেবে বলল,
— ঘুমাতে, খেতে আর ঘুরতে!
আকাশ হেসে বলল,
— বাহ্! পড়াশোনার নাম নেই?
সন্ধ্যা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— পড়াশোনার কথা বলবেন না, প্লিজ! ওটা আমার শত্রু!
আকাশ হেসে ফেলল।
— তাহলে বড় হয়ে কী হতে চান?
সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— জানি না। কখনো ভেবে দেখিনি।
আকাশ এবার আর হাসল না। শান্ত গলায় বলল,
— নিজের জন্য একটা স্বপ্ন থাকা ভালো, জানেন? পড়াশোনা ভালো না লাগতেই পারে। কিন্তু তাই বলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববেন না, সেটা তো হতে পারে না।
কথাটা শুনে সন্ধ্যা একটু চুপ হয়ে গেল।
এতক্ষণ যে ছেলেটা শুধু তাকে জ্বালাচ্ছিল, সেই ছেলেটাই হঠাৎ এত গম্ভীর হয়ে গেল কেন?
সন্ধ্যা আস্তে করে বলল,
— আপনি সবসময় এত জ্ঞান দেন?
আকাশ আবার হেসে ফেলল।
— না। শুধু বিশেষ মানুষদের!
— আমি আপনার বিশেষ মানুষ নই!
— সেটা তো সময়ই বলবে!
কথাটা বলে আকাশ অন্যদিকে তাকাল।
আর সন্ধ্যা?
সে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মনে মনে বলল,
‘ছেলেটা আসলেই অদ্ভুত!’
---
বাড়ি ফিরে সন্ধ্যা বিছানায় শুয়ে পড়ল।
সারাদিনের ঘটনা মনে পড়তেই তার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু হাসিটা দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেল সে।
— ধুর! আমি আবার হাসছি কেন?
নিজেকে প্রশ্ন করে বালিশে মুখ লুকাল সন্ধ্যা।
অন্যদিকে, আকাশ নিজের ঘরে বসে গিটার বাজাচ্ছিল। হঠাৎ তার মনে পড়ল সন্ধ্যার কথা।
সে মুচকি হেসে বলল,
— মেয়েটা রাগ করে ঠিকই, কিন্তু ওর সঙ্গে সময় কাটাতে মন্দ লাগে না!
এভাবেই দুজনের অজান্তে শুরু হয়ে গেল এক নতুন পরিচয়ের গল্প।
তবে এই পরিচয় কি শুধু বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
নাকি একদিন এই দুজনের জীবনই বদলে যাবে?
সন্ধ্যার আকাশ 🌆
ষষ্ঠ অধ্যায়: মনের অজান্তে
সন্ধ্যা নিজের ঘরে বসে ফোন দেখছিল। হঠাৎ মা ঘরে এসে তার পাশে বসলেন।
— সন্ধ্যা, তোর সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে বলল,
— কী হয়েছে, মা?
মা একটু থেমে বললেন,
— সেদিন যারা তোকে দেখতে এসেছিল, তাদের তোকে পছন্দ হয়েছে। তারা আবার ফোন করেছিল।
কথাটা শুনে সন্ধ্যার মুখটা মলিন হয়ে গেল।
— তারপর?
— তারা বিয়ের ব্যাপারে এগোতে চায়। এখন তুই বল, তোর কী মত?
সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,
— মা, আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না।
মা অবাক হয়ে তাকালেন।
— তাহলে সেদিন বিয়ে করতে চেয়েছিলি কেন?
সন্ধ্যা মাথা নিচু করে বলল,
— পড়াশোনা ভালো লাগে না বলে মনে হয়েছিল, বিয়ে হয়ে গেলে সব ঝামেলা শেষ হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
মা মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
— জীবনের এত বড় সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নিতে নেই, মা। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে শিখতে হবে।
সন্ধ্যা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,
— আমি একটু সময় চাই, মা।
মা মেয়েকে বুকে টেনে নিলেন।
— ঠিক আছে। তুই সময় নিয়ে ভাব।
সন্ধ্যার বুক থেকে যেন একটা ভার নেমে গেল।
---
বিকেলবেলা।
বিছানায় শুয়ে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে সন্ধ্যা দেখল, মাইশার একটা মেসেজ এসেছে।
মাইশা: এই যে মহারানি, কোথায় তুই?
সন্ধ্যা: বাসায়। কেন?
মাইশা: আজ আমাদের বাসায় আয়। আকাশও আসবে!
সন্ধ্যা: তোদের বাসায় কি আর কেউ নেই? সব সময় ওই ছেলেটা কেন থাকে? 🙄
মাইশা: ওহ্! আকাশের নাম শুনেই এত রাগ কেন? 🤭
সন্ধ্যা: তোর মাথা খারাপ হয়েছে। আমি আসব না!
মাইশা: আচ্ছা, আসিস না। আমি আকাশকে বলব, সন্ধ্যা তোকে দেখতে চায় না বলে আসছে না! 😂
সন্ধ্যা সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দিল—
সন্ধ্যা: দাঁড়া! আমি আসছি!
মেসেজ পাঠিয়ে নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত হলো সে।
— ধুর! এই মেয়েটাকে একদিন ব্লক করতেই হবে!
---
সন্ধ্যায় মাইশাদের বাড়ি।
সন্ধ্যা ঘরে ঢুকেই দেখল, আকাশ সোফায় বসে গিটার বাজাচ্ছে।
তাকে দেখে আকাশ গিটার থামিয়ে বলল,
— আরে! আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে? আপনি নিজে থেকে আমার সামনে হাজির!
সন্ধ্যা চোখ পাকিয়ে বলল,
— আপনার জন্য আসিনি। মাইশার জন্য এসেছি।
আকাশ মাথা নেড়ে বলল,
— বুঝলাম। সবাই আমার জন্য আসে, শুধু আপনি আসেন না!
— নিজের সম্পর্কে এত ভুল ধারণা নিয়ে বেঁচে আছেন কীভাবে?
আকাশ হেসে বলল,
— আপনার মতো মানুষ পাশে থাকলে ভুলগুলো ঠিক হয়ে যাবে আশা করি!
সন্ধ্যা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
ছেলেটা কি সব কথার উত্তর এভাবেই দেয়?
এমন সময় মাইশা এসে দুজনের মাঝখানে বসে পড়ল।
— তোরা কি একটু ঝগড়া না করে থাকতে পারিস না?
সন্ধ্যা আর আকাশ একসঙ্গে বলে উঠল,
— ও আগে শুরু করেছে!
দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল।
তারপর মাইশা হেসে উঠল।
— বাহ্! এখন তোদের কথাও এক হয়ে গেছে!
সন্ধ্যা সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে তাকাল।
— হয়েছে, তোর কথা শেষ?
---
কিছুক্ষণ পর মাইশা রান্নাঘরে চলে গেল। রাফিও বাইরে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত।
ঘরে তখন শুধু সন্ধ্যা আর আকাশ।
আকাশ গিটারটা পাশে রেখে জিজ্ঞেস করল,
— একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— কী?
— আপনার কি কখনো নিজের কোনো স্বপ্ন পূরণ করার ইচ্ছা হয় না?
সন্ধ্যা একটু অবাক হয়ে তাকাল।
— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
— সেদিন আপনি বলেছিলেন, পড়াশোনা ভালো লাগে না। তাই ভাবছিলাম, পড়াশোনার বাইরে এমন কিছু নেই, যেটা করতে আপনার ভালো লাগে?
সন্ধ্যা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— জানি না। কখনো ঠিক করে ভাবিনি।
আকাশ শান্ত গলায় বলল,
— তাহলে একদিন ভেবে দেখবেন। অন্য কেউ কী চায়, সেটা নিয়ে ভাবার আগে নিজে কী চান, সেটা জানা দরকার।
সন্ধ্যা চুপ করে রইল।
কথাটা তার মনে কোথাও একটা দাগ কাটল।
এত দিন সে শুধু পড়াশোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ভেবেছে। নিজের জীবনে আসলে কী চায়, সেটা নিয়ে কখনো ভাবেনি।
সন্ধ্যা আস্তে করে বলল,
— আচ্ছা, আপনি কী হতে চান?
আকাশ মুচকি হেসে গিটারটা হাতে তুলে নিল।
— আমি? আমি চাই, একদিন আমার গিটারের সুর শুনে মানুষ আমাকে চিনুক। নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে চাই।
সন্ধ্যা প্রথমবারের মতো আকাশের কথাগুলো মন দিয়ে শুনল।
— তাহলে আপনার স্বপ্নটা পূরণ হোক।
কথাটা শুনে আকাশ একটু থমকে গেল। তারপর মৃদু হেসে বলল,
— ধন্যবাদ, সন্ধ্যা।
এই প্রথম আকাশ তার নামটা এমন শান্ত স্বরে বলল যে সন্ধ্যা আর কোনো মজার উত্তর খুঁজে পেল না।
জানালার বাইরে তখন সন্ধ্যার আকাশে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে।
আর সেই আকাশের নিচে দুজন মানুষ অজান্তেই একে অপরকে একটু একটু করে চিনতে শুরু করেছে।