ফন্ট সাইজ:
থিম:
সন্ধ্যার আকাশ

পর্ব 3

লেখক: শেখ তাহানা

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

সপ্তম অধ্যায়: একটা ছোট্ট স্বপ্ন

সকাল ৮টা।

জানালার পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো ঘরে এসে পড়েছে। অথচ সন্ধ্যার এখনো ঘুম ভাঙেনি।

হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল।

ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, আকাশ কল করেছে!

সন্ধ্যা অবাক হয়ে ফোন ধরল।

— হ্যালো! এত সকালে ফোন দিয়েছেন কেন?

ওপাশ থেকে আকাশের হাসির শব্দ শোনা গেল।

— কেন? সকালবেলা কি ফোন দেওয়া নিষেধ?

— হ্যাঁ, আমার ঘুমের সময় ফোন দেওয়া নিষেধ!

— ওহ্! সরি, মহারানি। আপনার ঘুমের রাজ্যে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী!

সন্ধ্যা বালিশে মুখ গুঁজে বলল,

— ফাজলামি বাদ দিয়ে বলুন, কী হয়েছে?

আকাশ একটু গম্ভীর হয়ে বলল,

— আপনি নিজের স্বপ্ন খুঁজে বের করবেন বলেছিলেন না?

— আমি কখন বললাম?

— বলেননি, কিন্তু আমার কথা শুনে চুপচাপ ছিলেন। আমি ধরে নিয়েছি, আপনি রাজি!

— বাহ্! নিজের মতো কথা বানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস আছে দেখছি!

আকাশ হেসে বলল,

— আচ্ছা, আজ বিকেলে একটু বাইরে যাবেন? আপনার ভালো লাগে এমন কিছু খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— কোথায় যাব?

— সেটা সারপ্রাইজ!

— আপনার সারপ্রাইজের ওপর আমার একদম বিশ্বাস নেই।

— তবুও যাবেন?

সন্ধ্যা একটু ভেবে বলল,

— আচ্ছা, যাব। কিন্তু জায়গা পছন্দ না হলে আপনাকে কিন্তু ছাড়ব না!

— ঠিক আছে, আপনার রাগের দায়িত্বও আমার!

কথাটা শুনে সন্ধ্যা ফোনের ওপাশেই চোখ পাকাল।

— আপনি না, একদম অসহ্য!

— জানি। বিকেলে দেখা হচ্ছে!

ফোন কেটে গেল।

সন্ধ্যা ফোনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,

— ছেলেটা নিজেকে কী ভাবে কে জানে!

কিন্তু অজান্তেই তার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল।

---

বিকেল ৪টা।

সন্ধ্যা তৈরি হয়ে বাসা থেকে বের হলো। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ। পরনে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট, হাতে সেই চিরচেনা গিটার।

সন্ধ্যা কাছে এসে বলল,

— আপনি কি গিটার ছাড়া একদম থাকতে পারেন না?

আকাশ মুচকি হেসে বলল,

— আপনি কি আমাকে বিরক্ত না করে থাকতে পারেন না?

— আমি আপনাকে বিরক্ত করছি?

— না, আমি নিজেই বিরক্ত হওয়ার জন্য আপনার কাছে আসি!

সন্ধ্যা হেসে ফেলল।

আকাশ কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

— চলুন, আজ আপনাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাই।

---

কিছুক্ষণ পর তারা একটা বইয়ের দোকানে এসে পৌঁছাল।

দোকানের চারদিকে সারি সারি বই। কোথাও গল্পের বই, কোথাও উপন্যাস, আবার কোথাও কবিতার বই সাজানো।

সন্ধ্যা অবাক হয়ে বলল,

— আপনি আমাকে বইয়ের দোকানে এনেছেন? আমি তো বলেছি, পড়াশোনা আমার ভালো লাগে না!

আকাশ হেসে বলল,

— সব বই কি পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়তে হয়? কিছু বই শুধু নিজের ভালো লাগার জন্যও পড়া যায়।

সন্ধ্যা কোনো উত্তর দিল না।

সে ধীরে ধীরে বইয়ের তাকগুলোর সামনে হাঁটতে লাগল। হঠাৎ একটা গল্পের বইয়ের ওপর তার চোখ আটকে গেল।

বইটা হাতে নিয়ে পাতা উল্টাতে শুরু করল সে।

আকাশ দূর থেকে দেখে জিজ্ঞেস করল,

— কী হলো? বইটা ভালো লাগছে?

সন্ধ্যা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

— গল্পের বই পড়তে আমার মন্দ লাগে না।

আকাশের মুখে হাসি ফুটে উঠল।

— তাহলে এটাই তো একটা শুরু!

— কিসের শুরু?

— নিজের ভালো লাগা খুঁজে পাওয়ার শুরু।

সন্ধ্যা বইটার মলাটের দিকে তাকিয়ে রইল।

এত দিন সে ভেবেছে, পড়াশোনা ভালো লাগে না মানেই হয়তো কোনো কিছুই তার ভালো লাগে না। কিন্তু আজ বুঝতে পারছে, পরীক্ষার বইয়ের বাইরেও একটা আলাদা জগৎ আছে।

হঠাৎ সন্ধ্যা বলল,

— আচ্ছা, একটা কথা বলি?

— বলুন।

— আমি যদি একদিন নিজের একটা উপন্যাস লিখতে চাই, তাহলে কেমন হবে?

আকাশ অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। তারপর মৃদু হেসে বলল,

— দারুণ হবে। আপনার নিজের একটা গল্প থাকবে, নিজের তৈরি চরিত্র থাকবে। আপনি চাইলে পুরো একটা পৃথিবী তৈরি করতে পারবেন!

সন্ধ্যার চোখ দুটো আনন্দে চকচক করে উঠল।

— সত্যি বলছেন?

— একদম। তবে একটা শর্ত আছে।

সন্ধ্যা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— আবার কী শর্ত?

আকাশ হেসে বলল,

— আপনার উপন্যাসের প্রথম পাঠক কিন্তু আমি হব!

সন্ধ্যা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— আগে ভালো পাঠক খুঁজে নিই, তারপর আপনাকে ভাবব!

আকাশ বুকের ওপর হাত রেখে বলল,

— এত বড় অপমান! তবুও আমি আপনার উপন্যাস পড়ব!

দুজনেই হেসে উঠল।

---

বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা বইটা বুকের কাছে ধরে হাঁটছিল।

আকাশ পাশে থেকে বলল,

— আজকের দিনটা কেমন লাগল?

সন্ধ্যা একটু ভেবে উত্তর দিল,

— ভালো।

— শুধু ভালো?

— অনেক ভালো!

আকাশ মুচকি হাসল।

— তাহলে আজকের সারপ্রাইজ সফল!

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— ধন্যবাদ, আকাশ।

আকাশ একটু অবাক হলো। কারণ এই প্রথম সন্ধ্যা তাকে কোনো খোঁচা না দিয়ে সুন্দর করে ধন্যবাদ জানাল।

— আপনাকে স্বাগতম, লেখিকা মহোদয়া!

সন্ধ্যা হেসে বলল,

— আর একবার লেখিকা বললে আপনার গিটার কেড়ে নেব!

আকাশ হেসে উঠল।

সেদিন রাতে নিজের ঘরে বসে সন্ধ্যা নতুন কেনা বইটা খুলল। প্রথম পাতায় নিজের নাম লিখে তার নিচে ছোট্ট করে লিখল—

“একদিন আমিও একটা গল্প লিখব। এমন একটা গল্প, যেখানে চরিত্রগুলো শুধু কাগজে বাঁচবে না, মানুষের মনেও জায়গা করে নেবে।”

তারপর জানালার বাইরে তাকাল সন্ধ্যা।

আকাশে তখন অসংখ্য তারা।

সন্ধ্যা জানত না, তার নিজের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি ইতিমধ্যেই তার জীবনে এসে গেছে।

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

অষ্টম অধ্যায়: গল্পের প্রথম পাতা

রাত ৯টা।

নিজের ঘরে বসে ডায়েরির পাতায় কলম চালাচ্ছে সন্ধ্যা। পাশে রাখা আকাশের সঙ্গে গিয়ে কেনা গল্পের বইটা। আজ সারাদিন তার মাথায় শুধু একটা কথাই ঘুরছে—সে একটা উপন্যাস লিখবে!

কিন্তু সমস্যা হলো, কী লিখবে?

সন্ধ্যা কলমটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর পাতার ওপরে লিখল—

“কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় হঠাৎ, অথচ তারা কখন যে আমাদের প্রতিদিনের ভাবনার অংশ হয়ে যায়, তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না।”

লাইনটা লেখার পর সন্ধ্যা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।

তারপর নিজেই নিজের মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বলল,

— বাহ্ সন্ধ্যা! লেখিকা হওয়ার শুরুটা তো মন্দ না! 🤭

ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এল।

আকাশ: কী করছেন, লেখিকা মহোদয়া?

সন্ধ্যা অবাক হয়ে রিপ্লাই দিল।

সন্ধ্যা: আপনি কি সারাদিন আমাকে বিরক্ত করার কাজই করেন?

আকাশ: জি না। মাঝে মাঝে গিটারও বাজাই। 😂

সন্ধ্যা: অসহ্য!

আকাশ: তা আপনার উপন্যাস লেখা কত দূর এগোল?

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ ভেবে লিখল—

সন্ধ্যা: প্রথম লাইন লিখেছি।

আকাশ: ওহ! তাহলে তো আমি কথা রেখেছি। এবার পড়তে চাই।

সন্ধ্যা: এত তাড়াতাড়ি? পুরো উপন্যাস শেষ হলে পড়বেন।

আকাশ: তত দিন অপেক্ষা করতে পারব বলে মনে হয় না।

মেসেজটা পড়ে সন্ধ্যা অকারণেই একটু হেসে ফেলল।

কিছুক্ষণ পর সে নিজের লেখা প্রথম লাইনটার ছবি তুলে আকাশকে পাঠিয়ে দিল।

---

অন্যদিকে, নিজের ঘরে বসে গিটার গুছিয়ে রাখছিল আকাশ। সন্ধ্যার মেসেজটা দেখে সে ছবিটা খুলল।

লাইনটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল সে।

তারপর লিখল—

আকাশ: লাইনটা সুন্দর হয়েছে। তবে একটা কথা বলি?

সন্ধ্যা: বলুন।

আকাশ: এই গল্পের মানুষগুলো কি আপনার পরিচিত, নাকি সবই কল্পনা?

প্রশ্নটা পড়ে সন্ধ্যা থমকে গেল।

সে কি সত্যিই নিজের জীবনের কথা লিখছে? নাকি নিছক কল্পনা?

সন্ধ্যা উত্তর দিল—

সন্ধ্যা: জানি না। হয়তো একটু কল্পনা, আর একটু বাস্তবতা।

আকাশ মুচকি হেসে লিখল—

আকাশ: তাহলে সাবধানে লিখবেন। বাস্তবের মানুষগুলো কিন্তু কখনো কখনো কল্পনার চেয়েও অদ্ভুত হয়!

সন্ধ্যা হেসে উত্তর দিল—

সন্ধ্যা: আপনার মতো?

আকাশ: একদম! আমার মতো চরিত্র পেলে আপনার উপন্যাস হিট হয়ে যাবে! 😎

সন্ধ্যা: আপনার আত্মবিশ্বাস দেখে আমি সত্যিই অবাক!

আকাশ: ধন্যবাদ। এই গুণটা ছোটবেলা থেকেই আছে।

সন্ধ্যা হাসতে হাসতে ফোনটা বিছানায় রেখে দিল।

কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার ফোনটা হাতে নিল।

আকাশের একটা নতুন মেসেজ এসেছে।

আকাশ: একটা কথা জিজ্ঞেস করি, সন্ধ্যা?

সন্ধ্যা: কী?

আকাশ: আপনার গল্পে যদি এমন একজন আসে, যে আপনাকে সবসময় বিরক্ত করবে, আপনার সঙ্গে ঝগড়া করবে, আবার মন খারাপ হলে সবার আগে আপনার পাশে দাঁড়াবে—তাহলে তাকে গল্পের নায়ক বানাবেন?

মেসেজটা পড়ে সন্ধ্যার হাসি থেমে গেল।

কেন জানি প্রশ্নটা তার কাছে অন্যরকম লাগল।

অনেকক্ষণ পর সে লিখল—

সন্ধ্যা: আগে দেখি, এমন কেউ সত্যিই আছে কি না!

ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল না।

সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে জানালার কাছে গেল। বাইরে মৃদু বাতাস বইছে, আকাশে চাঁদ উঠেছে।

কিছুক্ষণ পর ফোনে আবার শব্দ হলো।

আকাশ: ঠিক আছে। তাহলে আমি অপেক্ষায় থাকলাম—আপনার গল্পের নায়ক হওয়ার জন্য নয়, আপনার গল্পটা পড়ার জন্য।

কথাটা পড়ে সন্ধ্যার মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

সে ডায়েরিটা খুলে নতুন একটা লাইন লিখল—

“কিছু গল্পের শুরু হয় কলমের কালিতে, আর কিছু গল্পের শুরু হয় কারও একটা সাধারণ প্রশ্নে।”

লাইনটা লেখার পর সন্ধ্যা থেমে গেল।

তারপর নিজের মনেই বলল,

— এই ছেলেটাকে নিয়ে এত ভাবছি কেন?

কিন্তু উত্তরটা সে নিজেও জানত না।

হয়তো এটা নিছক বন্ধুত্ব।

হয়তো নতুন একটা গল্পের শুরু।

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

নবম অধ্যায়: গল্পের নায়ক

সকাল ১০টা।

নিজের ঘরে বসে ডায়েরিতে লিখছে সন্ধ্যা। গত রাতে লেখা প্রথম লাইনটার পর আজ সে আরও কিছু লিখেছে।

“ছেলেটা ভীষণ বিরক্তিকর। সবসময় মেয়েটাকে খেপায়, তার সঙ্গে ঝগড়া করে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, ছেলেটা সামনে থাকলে মেয়েটার রাগ হয়, আর সামনে না থাকলে তার কথাগুলোই মনে পড়ে।”

লাইনটা লেখার পর সন্ধ্যা থেমে গেল।

তারপর নিজেই বিড়বিড় করে বলল,

— ধুর! আমি এসব কী লিখছি? আমার গল্পের নায়ক এমন হবে কেন?

ঠিক তখনই ফোনে মেসেজ এল।

আকাশ: লেখিকা মহোদয়া, কী খবর? উপন্যাস কত দূর?

সন্ধ্যা: আপনার এত জানার দরকার কী?

আকাশ: আমি তো আপনার উপন্যাসের প্রথম পাঠক হতে যাচ্ছি। একটু খোঁজখবর নিতেই পারি!

সন্ধ্যা: কে বলেছে আপনাকে প্রথম পাঠক বানাব?

আকাশ: আপনি না বললেও আমি নিজের যোগ্যতায় সেই পদ দখল করে নেব! 😎

সন্ধ্যা হেসে ফেলল।

সন্ধ্যা: আপনার আত্মবিশ্বাস একটু বেশিই না?

আকাশ: একটু না, অনেক বেশি!

সন্ধ্যা আর উত্তর দিল না।

---

বিকেলবেলা মাইশাদের বাড়িতে গেল সন্ধ্যা। সেখানে গিয়ে দেখল, আকাশ আর রাফি বসে গল্প করছে।

সন্ধ্যাকে দেখেই আকাশ বলল,

— আরে, আমাদের লেখিকা এসে গেছেন!

সন্ধ্যা বিরক্ত হয়ে বলল,

— আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?

— আছে তো! আপনার উপন্যাস পড়ার জন্য অপেক্ষা করছি।

— অপেক্ষা করতে থাকুন। বুড়ো হয়ে গেলেও পড়তে দেব না!

রাফি হেসে বলল,

— ভাই, তোর কপালে দুঃখ আছে!

আকাশ নির্বিকারভাবে বলল,

— দুঃখ থাকুক। তবুও আমি হাল ছাড়ব না!

সন্ধ্যা মাথা নেড়ে সোফায় বসল।

কিছুক্ষণ পর মাইশা রান্নাঘরে চলে গেল। রাফিও একটা ফোন আসায় বাইরে বেরিয়ে গেল।

ঘরে রইল শুধু সন্ধ্যা আর আকাশ।

আকাশ হঠাৎ বলল,

— আচ্ছা, আপনার গল্পের নায়ক কেমন হবে?

সন্ধ্যা অবাক হয়ে তাকাল।

— কেন?

— এমনিই। ধরুন, নায়কটা একটু দুষ্টু, খুব কথা বলে, মেয়েটাকে সবসময় বিরক্ত করে। কিন্তু মেয়েটার মন খারাপ হলে সবার আগে তার পাশে দাঁড়ায়। এমন নায়ক চলবে?

সন্ধ্যা চোখ ছোট করে বলল,

— আপনি নিজের বর্ণনা দিচ্ছেন নাকি?

আকাশ হেসে ফেলল।

— আরে! আপনি তো বেশ বুদ্ধিমতী!

— আর আপনি বেশ আত্মপ্রেমী!

আকাশ বুকের ওপর হাত রেখে বলল,

— কী করব বলুন? নিজের ভালো গুণগুলো তো নিজেকেই বলতে হয়!

সন্ধ্যা হেসে ফেলল।

তারপর হঠাৎ আকাশ জিজ্ঞেস করল,

— একটা কথা বলুন তো, আপনার গল্পে কি আমার মতো কেউ আছে?

সন্ধ্যা একটু থমকে গেল।

— থাকলেও আপনাকে বলব কেন?

আকাশের মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।

— তার মানে আছে!

— আমি এমন কিছু বলিনি!

— কিন্তু অস্বীকারও তো করলেন না!

সন্ধ্যা এবার ডায়েরিটা ব্যাগ থেকে বের করে বুকের কাছে চেপে ধরল।

— আপনি না, একদম অসহ্য!

আকাশ হেসে বলল,

— এই কথাটা আপনি প্রতিদিন বলেন। নতুন কিছু শিখুন, লেখিকা মহোদয়া!

সন্ধ্যা ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়াল।

— আমি বাসায় যাচ্ছি!

আকাশও উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— আচ্ছা, যান। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন।

— কী?

— আপনার গল্পের নায়ক যদি আমার মতো হয়, তাহলে তার নামটা কিন্তু সুন্দর দেবেন!

সন্ধ্যা দরজার কাছে গিয়ে ফিরে তাকাল।

— আপনার নাম দেওয়ার চেয়ে গল্পের নায়ককে খলনায়ক বানানো ভালো!

কথাটা বলেই সে হেসে বেরিয়ে গেল।

আকাশ কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজেও হেসে ফেলল।

— মেয়েটা সত্যিই অদ্ভুত!

---

রাতে নিজের ঘরে ফিরে ডায়েরি খুলল সন্ধ্যা।

অনেকক্ষণ কলম হাতে বসে থাকার পর লিখল—

“ছেলেটা জানে না, আমার গল্পের নায়ক হওয়ার জন্য তাকে আলাদা করে কিছু করতে হবে না। সে যেমন, ঠিক তেমনই থাকলেই আমার গল্পের পাতা ভরে যাবে।”

লাইনটা লেখার পর সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি ডায়েরি বন্ধ করে দিল।

তারপর নিজেই নিজেকে বলল,

— না না! এসব কিছু না। আমি শুধু একটা গল্প লিখছি!

কিন্তু মনের ভেতর ছোট্ট একটা প্রশ্ন থেকেই গেল—

কিছু মানুষ কি সত্যিই অজান্তে আমাদের গল্পের নায়ক হয়ে যায়?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন