ফন্ট সাইজ:
থিম:
সন্ধ্যার আকাশ

পর্ব 5

লেখক: শেখ তাহানা

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

ত্রয়োদশ পর্ব: অপেক্ষার অন্য নাম

অধ্যায় ৩৭: অচেনা অনুভূতি

সন্ধ্যা জানালার পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বিকেলের মেঘগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। অথচ তার মনটা আজ অদ্ভুত রকমের অস্থির।

ফোনের স্ক্রিনে বারবার চোখ চলে যাচ্ছে। কোনো নতুন মেসেজ নেই।

নিজেই অবাক হয়ে ভাবল, কারও একটা মেসেজের জন্য এতটা অপেক্ষা কেন করছে সে?

আগে তো এমন ছিল না। কেউ কথা বলুক কিংবা না বলুক, তার কিছুই যায় আসত না। কিন্তু এখন সবকিছু যেন একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে।

হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।

“কী করছ?”

মেসেজটা পড়েই সন্ধ্যার মুখে অজান্তে হাসি ফুটে উঠল।

“কিছু না। তুমি?”

“তোমার মেসেজের অপেক্ষায় ছিলাম।”

কথাটা পড়ে সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো।

“মিথ্যা বলো কেন?”

“সব কথা কি মিথ্যা হয়?”

সন্ধ্যা আর উত্তর দিল না। শুধু ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

অধ্যায় ৩৮: অভিমান

পরদিন সকাল থেকেই আকাশের কোনো খবর নেই।

সন্ধ্যা কয়েকবার ফোনটা হাতে নিয়েও আবার রেখে দিল। নিজে থেকে মেসেজ পাঠাবে কি না, সেটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল।

শেষ পর্যন্ত আর পারল না।

“আজকাল খুব ব্যস্ত থাকো, তাই না?”

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।

“কেন? তোমার কি আমাকে দরকার ছিল?”

সন্ধ্যা মেসেজটা পড়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল।

“না, এমনিই।”

“তাহলে অভিমান করছ কেন?”

কথাটা যেন ঠিক হৃদয়ের কোথাও গিয়ে লাগল।

“আমি অভিমান করছি না।”

“আচ্ছা, তাহলে রাগ করো না।”

সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে দিল। কিন্তু মনটা আর শান্ত হলো না।

কেন এতটা খারাপ লাগছে তার? কেন মনে হচ্ছে, আকাশের একটু অবহেলাও সে সহ্য করতে পারছে না?

নিজের মনকে প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর পেল না।

অধ্যায় ৩৯: একটুখানি অপেক্ষা

সন্ধ্যাবেলা ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল সন্ধ্যা। আকাশের দিকে তাকিয়ে হালকা বাতাস অনুভব করছিল।

ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এল।

“কোথায় তুমি?”

“ছাদে।”

“একটু নিচে আসবে?”

সন্ধ্যা অবাক হয়ে গেল।

“কেন?”

“একটা কথা বলার ছিল।”

কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ এল।

“তুমি কি শুধু বন্ধু হিসেবেই আমাকে দেখো?”

সন্ধ্যার হাত থেমে গেল।

প্রশ্নটা খুব সাধারণ ছিল, অথচ উত্তরটা যেন তার কাছে একেবারেই অচেনা।

সে কি সত্যিই আকাশকে শুধু বন্ধু ভাবে?

নাকি বন্ধুত্বের আড়ালে অন্য কোনো অনুভূতি লুকিয়ে আছে?

অনেকক্ষণ পর সন্ধ্যা লিখল—

“জানি না।”

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

“তাহলে জেনে নিও। আমি অপেক্ষা করব।”

সন্ধ্যা ফোনটা বুকের কাছে ধরে আকাশের দিকে তাকাল।

আজকের আকাশটা যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি সুন্দর।

কিন্তু তার মনের ভেতর জমে থাকা প্রশ্নগুলো আরও গভীর হয়ে গেল।

হয়তো কিছু অনুভূতির নাম দিতে সময় লাগে।

আর কিছু মানুষকে বুঝতে গেলে নিজের মনকেও নতুন করে চিনতে হয়।

সন্ধ্যা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।

মনে মনে শুধু একটা কথাই ভেসে উঠল—

আকাশ...

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

চতুর্দশ পর্ব: অনুভূতির নতুন অধ্যায়

অধ্যায় ৪০: উত্তরহীন প্রশ্ন

সন্ধ্যা বারবার আকাশের শেষ মেসেজটা পড়ছিল।

“তাহলে জেনে নিও। আমি অপেক্ষা করব।”

কথাটা যতবার পড়ছে, ততবারই নিজের মন নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

আকাশ কি সত্যিই তাকে শুধু বন্ধু হিসেবে দেখে না?

নাকি কথাগুলো শুধুই মজা করে বলেছে?

সন্ধ্যা ফোনটা হাতে নিয়ে লিখল—

“তুমি কি সত্যিই অপেক্ষা করবে?”

মেসেজ পাঠানোর পরই বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি অনুভব করল।

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—

“তোমার জন্য অপেক্ষা করতে আমার খারাপ লাগে না।”

সন্ধ্যা চুপ করে রইল।

কিছু মানুষ খুব অল্প কথায় মনের ভেতর অনেক প্রশ্ন তৈরি করে দেয়।

আকাশও ঠিক তেমনই একজন।

অধ্যায় ৪১: একটু দূরত্ব

পরদিন সন্ধ্যা ইচ্ছে করেই আকাশের সঙ্গে কথা বলল না।

নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল, সবকিছু আগের মতোই থাকবে।

কিন্তু দুপুরে ফোনটা হাতে নিয়ে যখন দেখল আকাশের কোনো মেসেজ নেই, তখন মনটা অকারণেই খারাপ হয়ে গেল।

“কী হয়েছে তোমার?”

হঠাৎ মেসেজটা দেখে সন্ধ্যা চমকে উঠল।

“কিছু হয়নি।”

“তাহলে কথা বলছ না কেন?”

“সব সময় কি কথা বলতে হবে?”

কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।

তারপর আকাশ লিখল—

“না, সব সময় না। কিন্তু তোমার নীরবতা আমার ভালো লাগে না।”

সন্ধ্যা মেসেজটা পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

কেন মানুষটা এমন?

কেন তার প্রতিটা কথাই সন্ধ্যার মনকে এতটা নাড়া দেয়?

অধ্যায় ৪২: নতুন অনুভূতি

সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে ছিল সন্ধ্যা।

হঠাৎ ফোনে আকাশের কল এল।

কিছুক্ষণ ইতস্তত করে কলটা রিসিভ করল।

“হ্যালো?”

“কী করছ?”

“বসে আছি।”

“আমার ওপর রাগ?”

“না।”

“তাহলে এত চুপচাপ কেন?”

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল—

“আকাশ, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”

“করো।”

“তুমি আমার সঙ্গে এত কথা বলো কেন?”

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর আকাশের শান্ত কণ্ঠ ভেসে এল—

“কারণ তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে।”

সন্ধ্যা আর কিছু বলল না।

আকাশ আবার বলল—

“সব ভালো লাগার ব্যাখ্যা দিতে হয় নাকি?”

সন্ধ্যা হালকা হেসে ফেলল।

“তুমি না, একদম অদ্ভুত!”

“আর তুমি?”

“আমি কী?”

“তুমি আমার কাছে একটু অন্যরকম।”

কথাটা শুনে সন্ধ্যার হাসি থেমে গেল।

অন্যরকম...

শব্দটা যেন তার হৃদয়ের কোথাও গিয়ে আটকে রইল।

সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে সন্ধ্যা নিজের ডায়েরিতে লিখল—

“কিছু মানুষ জীবনে আসার পর সবকিছু বদলে যায় না। শুধু তাদের উপস্থিতিতে নিজের অনুভূতিগুলো নতুন করে চিনতে শেখা যায়।”

ডায়েরিটা বন্ধ করে জানালার বাইরে তাকাল সে।

আকাশে চাঁদ উঠেছে।

আর তার মনে?

সেখানে যেন নতুন কোনো গল্পের শুরু।

সন্ধ্যার আকাশ 🌆

পঞ্চদশ পর্ব: মনের গোপন কথা

অধ্যায় ৪৩: অদ্ভুত এক টান

সকাল থেকেই সন্ধ্যার মনটা ভালো ছিল।

গত রাতের আকাশের কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। বিশেষ করে একটা কথা—

“তুমি আমার কাছে একটু অন্যরকম।”

কথাটা যতবার মনে পড়ছে, ততবারই তার ঠোঁটে অজান্তে হাসি ফুটে উঠছে।

হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।

“কী ব্যাপার? আজ এত হাসিখুশি কেন?”

সন্ধ্যা অবাক হয়ে লিখল—

“তুমি কীভাবে বুঝলে?”

“তোমাকে না দেখেও অনেক কিছু বুঝতে পারি।”

সন্ধ্যা হেসে ফেলল।

“বাহ! এত কিছু জানো?”

“সব না। তবে তোমাকে একটু একটু করে চিনছি।”

সন্ধ্যা আর উত্তর দিল না।

কিছু অনুভূতি হয়তো কথায় প্রকাশ করা যায় না।

অধ্যায় ৪৪: একটা ছোট্ট অভিমান

বিকেলে সন্ধ্যা দেখল, আকাশ অনলাইনে আছে।

কিন্তু তার কোনো মেসেজ নেই।

সন্ধ্যা নিজেই একটা মেসেজ লিখল।

“আজকাল খুব ভুলে যাও আমাকে।”

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—

“তুমি কি আমাকে মনে করছিলে?”

সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি লিখল—

“না!”

আকাশের উত্তর এল—

“তাহলে মেসেজ দিলে কেন?”

সন্ধ্যা বিরক্ত হয়ে ফোনটা রেখে দিল।

কিছুক্ষণ পর আবার ফোন হাতে নিল।

আকাশের নতুন মেসেজ।

“আচ্ছা, আর বিরক্ত করব না।”

সন্ধ্যা এবার সত্যিই অস্বস্তি অনুভব করল।

“আমি কি বলেছি বিরক্ত করো?”

“তাহলে?”

“তুমি সব কথার মানে এমন করো কেন?”

আকাশ লিখল—

“কারণ তোমার অভিমানগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”

সন্ধ্যা কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর আস্তে করে লিখল—

“তুমি খুব বেশি কথা বলতে শিখেছ।”

অধ্যায় ৪৫: অপেক্ষার নাম আকাশ

রাত তখন প্রায় দশটা।

সন্ধ্যা পড়ার টেবিলে বসে ছিল। কিন্তু বইয়ের পাতায় মন বসছিল না।

ফোনটা একবার হাতে নিল।

আকাশের কোনো মেসেজ নেই।

নিজেকে বোঝাল, হয়তো ব্যস্ত আছে।

কিছুক্ষণ পর ফোনটা বেজে উঠল।

“ঘুমিয়ে পড়েছ?”

“না।”

“আজ তোমাকে একটা কথা বলব।”

“কী?”

“তোমার সঙ্গে কথা না হলে দিনটা কেমন অসম্পূর্ণ লাগে।”

সন্ধ্যার বুকের ভেতরটা কেমন যেন হয়ে গেল।

অনেকক্ষণ পর সে লিখল—

“আমারও মাঝে মাঝে এমন লাগে।”

মেসেজটা পাঠিয়েই সন্ধ্যা থমকে গেল।

সে কি সত্যিই কথাটা লিখেছে?

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

“মাঝে মাঝে?”

সন্ধ্যা হেসে ফেলল।

“বেশি কিছু ভেবো না।”

“দেরি হয়ে গেছে। ভেবে ফেলেছি।”

সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে জানালার দিকে তাকাল।

আজ আকাশে মেঘ নেই।

তারপরও সন্ধ্যার মনে একটা মেঘ জমে আছে।

সেটা ভয়ের নয়।

বরং এমন এক অনুভূতি, যার নাম সে এখনও জানে না।

হয়তো ভালো লাগা।

হয়তো বন্ধুত্বের চেয়েও একটু বেশি কিছু।

কিন্তু একটা প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে—

সন্ধ্যা কি কখনও নিজের মনের কথাটা আকাশকে বলতে পারবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন