সন্ধ্যার আকাশ 🌆
ষোড়শ পর্ব: একটু একটু করে কাছে
অধ্যায় ৪৬: নতুন সকাল
সকালে ঘুম থেকে উঠেই সন্ধ্যা ফোনটা হাতে নিল।
আকাশের একটা মেসেজ।
“শুভ সকাল, ঘুমকাতুরী।”
সন্ধ্যা হেসে লিখল—
“আমি ঘুমকাতুরী না।”
“তাহলে এত দেরিতে ওঠো কেন?”
“তোমার এত প্রশ্ন কেন?”
“কারণ তোমাকে বিরক্ত করতে ভালো লাগে।”
সন্ধ্যা মুচকি হাসল।
কিছু মানুষ খুব সহজেই আমাদের দিনের শুরুটা সুন্দর করে দিতে পারে।
আকাশ যেন ধীরে ধীরে তেমন একজন হয়ে উঠছে।
অধ্যায় ৪৭: হঠাৎ দেখা
বিকেলে সন্ধ্যা একটা বইয়ের দোকানে গিয়েছিল।
বই দেখতে দেখতে হঠাৎ পরিচিত একটা কণ্ঠ শুনতে পেল।
“এই যে, ম্যাডাম!”
সন্ধ্যা ঘুরে তাকাল।
আকাশ!
“তুমি এখানে?”
আকাশ হেসে বলল—
“কেন? এখানে আসা নিষেধ?”
“তা না। কিন্তু হঠাৎ!”
“হঠাৎ দেখা হওয়াটাই তো সুন্দর।”
সন্ধ্যা কিছু বলল না।
দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বই দেখতে লাগল।
আকাশ একটা বই হাতে নিয়ে বলল—
“তোমার পছন্দ?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে এটা তোমার জন্য।”
সন্ধ্যা অবাক হয়ে তাকাল।
“কেন?”
“এমনিই। তোমার ভালো লাগবে ভেবেছি।”
সন্ধ্যা বইটা হাতে নিল।
মনের ভেতর অদ্ভুত একটা ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়ল।
অধ্যায় ৪৮: কিছু কথা বাকি
বাড়ি ফিরে সন্ধ্যা বইটা টেবিলের ওপর রাখল।
বইয়ের ভেতরে একটা ছোট্ট কাগজ।
তাতে লেখা—
“কিছু মানুষকে ভালো লাগার জন্য কোনো বিশেষ কারণ লাগে না। তাদের উপস্থিতিই যথেষ্ট।”
সন্ধ্যা লেখাটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ফোনটা হাতে নিয়ে আকাশকে মেসেজ করল।
“তুমি কি সব সময় এমন?”
“কেমন?”
“এত সুন্দর করে কথা বলো কেন?”
আকাশ উত্তর দিল—
“তোমার সঙ্গে কথা বললে কথাগুলো এমনিই সুন্দর হয়ে যায়।”
সন্ধ্যা এবার আর কিছু লিখল না।
শুধু বইটা বুকের কাছে ধরে জানালার পাশে দাঁড়াল।
বাইরে সন্ধ্যা নেমেছে।
আকাশের রঙে মিশে গেছে মেঘ।
আর সন্ধ্যার মনে?
সেখানে যেন ধীরে ধীরে একটা নতুন অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে।
যে অনুভূতির শুরু বন্ধুত্ব দিয়ে হলেও, শেষটা কোথায়—তা কেউ জানে না।
সন্ধ্যার আকাশ 🌆
সপ্তদশ পর্ব: তুমি একটু অন্যরকম
অধ্যায় ৪৯: অজানা অনুভূতি
সকাল থেকেই সন্ধ্যার মনটা কেমন যেন অস্থির।
গতকাল আকাশের দেওয়া বইটা বারবার হাতে নিচ্ছে। বইয়ের ভেতরে রাখা ছোট্ট কাগজটাও কয়েকবার পড়েছে।
কেন জানি না, আকাশের কথাগুলো আজকাল তার কাছে একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।
“বইটা পড়া শুরু করেছ?”
সন্ধ্যা লিখল—
“হ্যাঁ।”
“কেমন লাগছে?”
“ভালো।”
“আমাকে মনে পড়েছে?”
সন্ধ্যা হেসে ফেলল।
“তোমার এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক?”
“না। তবে উত্তর পেলে ভালো লাগে।”
সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ থেকে লিখল—
“হ্যাঁ, একটু।”
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল না।
সন্ধ্যা অবাক হয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
অধ্যায় ৫০: নীরবতার কারণ
প্রায় আধঘণ্টা পর আকাশের মেসেজ এল।
“একটু শুনবে?”
“বলো।”
“তোমাকে একটা কথা অনেক দিন ধরে বলতে চাইছি।”
সন্ধ্যার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অনুভূতি হলো।
“কী কথা?”
“তুমি আমার কাছে শুধু একজন বন্ধু নও।”
সন্ধ্যা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
কথাটা সে হয়তো আগেও বুঝেছিল।
কিন্তু আজ সরাসরি শুনে কেমন যেন লাগছে।
“তাহলে কী?”
আকাশ লিখল—
“সেটা তুমি বুঝতে পারছ না?”
সন্ধ্যা উত্তর দিল না।
কিছু অনুভূতি বুঝতে পারলেও স্বীকার করতে ভয় লাগে।
অধ্যায় ৫১: একটা অসমাপ্ত উত্তর
রাতের আকাশে চাঁদ উঠেছে।
সন্ধ্যা জানালার পাশে বসে আকাশের মেসেজটা আবার পড়ল।
“তুমি আমার কাছে শুধু একজন বন্ধু নও।”
কিছুক্ষণ পর সে লিখল—
“আকাশ, আমি এসব কখনও ভাবিনি।”
উত্তর এল—
“তোমাকে ভাবতে বলছি না। শুধু আমার অনুভূতিটা জানালাম।”
সন্ধ্যা ধীরে ধীরে লিখল—
“তুমি কি আমার ওপর রাগ করবে, যদি আমি এখনই কিছু বলতে না পারি?”
আকাশের উত্তর এল—
“কখনও না। তোমার সময় নাও।”
সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে আকাশের দিকে তাকাল।
আজ তার মনে অনেক প্রশ্ন।
কিন্তু একটা বিষয় সে বুঝতে পারছে—
আকাশকে হারানোর ভয়টা হয়তো বন্ধুত্ব হারানোর ভয়ের চেয়েও একটু বেশি।
তবুও নিজের অনুভূতিকে বুঝতে তার আরও সময় লাগবে।
কারণ সব গল্পের উত্তর একদিনে পাওয়া যায় না।
কিছু গল্প ধীরে ধীরে সুন্দর হয়ে ওঠে।
আর সন্ধ্যার গল্পটাও ঠিক তেমনই।
সন্ধ্যার আকাশ 🌆
অষ্টাদশ পর্ব: মনের কাছাকাছি
অধ্যায় ৫২: একটু বদলে যাওয়া
সকালে সন্ধ্যা ঘুম থেকে উঠে ফোনটা হাতে নিল।
আকাশের কোনো মেসেজ নেই।
অদ্ভুত ব্যাপার, আজ সে নিজেই আকাশের মেসেজের অপেক্ষা করছে।
কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা লিখল—
“কী করছ?”
আকাশের উত্তর এল—
“তোমার মেসেজের অপেক্ষা।”
সন্ধ্যা হেসে ফেলল।
“এত নাটক করো কেন?”
“তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্য।”
সন্ধ্যা আর উত্তর দিল না।
কিন্তু তার মুখের হাসিটা কিছুতেই থামল না।
অধ্যায় ৫৩: একটু যত্ন
বিকেলে সন্ধ্যার শরীরটা একটু খারাপ লাগছিল।
কাউকে কিছু না বলে নিজের ঘরে বসে ছিল।
হঠাৎ আকাশের ফোন।
“কী হয়েছে তোমার?”
সন্ধ্যা অবাক হয়ে বলল—
“কিছু না।”
“তোমার গলা এমন লাগছে কেন?”
“একটু মাথা ব্যথা।”
আকাশের কণ্ঠটা সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল।
“বিশ্রাম নাও। পানি খেয়েছ?”
“হ্যাঁ।”
“আর ফোন নিয়ে বসে থেকো না।”
সন্ধ্যা হেসে বলল—
“তুমি কি আমার ডাক্তার?”
“না। তবে তোমার যত্ন নিতে ইচ্ছে করে।”
সন্ধ্যা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
কিছু মানুষের যত্ন নেওয়ার ধরনটা এত সুন্দর হয় যে, অজান্তেই তাদের প্রতি মায়া জন্মে যায়।
অধ্যায় ৫৪: মনের কথা
রাতে সন্ধ্যা একটু ভালো অনুভব করছিল।
ফোন হাতে নিয়ে আকাশকে লিখল—
“আজ তোমার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল।”
আকাশ উত্তর দিল—
“আমারও।”
“তুমি সব সময় এমন যত্ন নাও কেন?”
“কারণ তুমি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
সন্ধ্যা এবার আর চুপ থাকতে পারল না।
“আকাশ?”
“হুম?”
“তোমাকে একটা কথা বলব।”
“বলো।”
সন্ধ্যা অনেকক্ষণ ধরে লিখল, আবার মুছে দিল।
শেষ পর্যন্ত শুধু লিখল—
“তোমার সঙ্গে কথা না হলে এখন আমারও ভালো লাগে না।”
মেসেজটা পাঠিয়ে সন্ধ্যা ফোনটা পাশে রেখে দিল।
কয়েক সেকেন্ড পরই ফোন বেজে উঠল।
আকাশের কল।
সন্ধ্যা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে হাসির শব্দ।
“কী বললে আবার?”
“কিছু না!”
“না, আবার বলো।”
সন্ধ্যা লজ্জা পেয়ে বলল—
“একবার বলেছি, আর না।”
আকাশ মৃদু হেসে বলল—
“ঠিক আছে। তবে কথাটা আমি মনে রাখব।”
সন্ধ্যা জানালার বাইরে তাকাল।
আকাশে তখন অসংখ্য তারা।
তার মনে আজ একটা নতুন অনুভূতি।
হয়তো ভালো লাগা সত্যিই শুরু হয়ে গেছে।
কিন্তু এই অনুভূতির পরিণতি কী হবে?
সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।