অপূর্ণ ছায়া
পর্ব ৭: মধ্যরাতের সেই অচেনা মানুষ
লেখিকা: আরফা আইরিশা
রাত তখন প্রায় বারোটা।
খানবাড়ির চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশে চাঁদ আছে, কিন্তু কালো মেঘের আড়ালে তার আলো বারবার হারিয়ে যাচ্ছে।
বাগানের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে মেহজাবিন খান মুন।
তার হাতে একটা পুরোনো ছবি। ছবিটিতে তার মা এবং চাচি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের পেছনে অস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এক অচেনা মানুষকে।
ছবিটার পেছনে লেখা কথাগুলো বারবার পড়ছে মুন।
“তোমার মায়েরা দুর্ঘটনার দিন একা ছিলেন না।”
কথাটা তার মাথার ভেতর ঘুরছে।
এত দিন সে জানত, তার মা ও বড়ো চাচির মৃত্যু একটা দুর্ঘটনা ছিল। পরিবারের সবাই সেই ঘটনার কথা বলতে চাইত না। ছোটবেলায় প্রশ্ন করলে বাবা শুধু বলতেন, অতীত নিয়ে ভেবে লাভ নেই।
কিন্তু এখন মুনের মনে হচ্ছে, সেই অতীতের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু সত্য, যা কেউ প্রকাশ করতে চায় না।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল।
— একা একা এখানে কী করছিস?
মুন চমকে ঘুরে দাঁড়াল।
সমুদ্র!
আরহাম খান সমুদ্র দুহাত বুকের ওপর ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে বিরক্তির ছাপ।
মুন তাড়াতাড়ি ছবিটা পেছনে লুকিয়ে ফেলল।
— কিছু না।
সমুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,
— রাত বারোটায় বাগানে দাঁড়িয়ে কেউ কিছু না করলে কি ফুল গুনতে আসে?
মুন মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— আপনার মতো মানুষ হলে হয়তো আসে। সারাদিন তো শুধু গম্ভীর মুখ করে ঘুরে বেড়ান!
সমুদ্র চোখ ছোট করে তাকাল।
— বাহ! এখন আমার চরিত্র বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে?
— আপনার চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গেলে একটা পুরো বই লিখতে হবে।
— তাহলে বই লেখা বাদ দিয়ে বাড়িতে চল।
মুন নড়ল না।
সমুদ্র এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
— মুন, মজা করছি না। রাত অনেক হয়েছে। এখানে একা থাকা ঠিক না।
মুন তার চোখের দিকে তাকাল। এই মানুষটার সঙ্গে সে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে। সমুদ্র সব সময় তাকে আগলে রাখে, বকাঝকা করে, আবার বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়েও আসে।
কিন্তু সমুদ্র কি কখনো বুঝবে, তার এই যত্নের আড়ালেই মুনের মনে কতটা না বলা অনুভূতি জমে আছে?
সমুদ্র আবার বলল,
— কী হয়েছে তোর? কয়েক দিন ধরে কেমন যেন হয়ে গেছিস।
মুন চোখ নামিয়ে বলল,
— যদি আমাদের মায়েদের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো সত্য থাকে?
সমুদ্রের মুখের ভাব বদলে গেল।
— তুই আবার এসব কথা ভাবছিস কেন?
মুন আর লুকাতে পারল না। ছবিটা তার সামনে এগিয়ে দিল।
সমুদ্র ছবিটা হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখল। পরিচিত দুই মুখের পেছনে দাঁড়ানো অচেনা মানুষটিকে দেখে তার চোখ কঠিন হয়ে গেল।
— এই ছবিটা তুই কোথায় পেলি?
— আমার ঘরে। কেউ রেখে গেছে।
— কে?
— জানি না।
সমুদ্র ছবিটা উল্টে পেছনের লেখাটা পড়ল। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
— তুই আমাকে আগে বলিসনি কেন?
মুন একটু অভিমানী গলায় বলল,
— বললে আপনি বিশ্বাস করতেন?
সমুদ্র সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না।
তারপর ধীরে বলল,
— জানি না। কিন্তু এখন থেকে কিছু লুকাবি না। যা-ই হোক, আমরা একসঙ্গে সত্যিটা খুঁজব।
মুনের বুকের ভেতরটা হালকা হয়ে এল।
অন্তত এই রহস্যের পথে তাকে একা হাঁটতে হবে না।
কিন্তু ঠিক তখনই বাগানের অন্য প্রান্তে শুকনো পাতার ওপর পায়ের শব্দ হলো।
দুজনেই ঘুরে তাকাল।
কেউ একজন গাছের আড়াল থেকে তাদের দেখছিল।
সমুদ্র দ্রুত সামনে এগিয়ে গেল।
— কে ওখানে?
কোনো উত্তর এল না।
সমুদ্র কয়েক পা এগোতেই একটা কালো ছায়া গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেল।
— দাঁড়ান! — সমুদ্র চিৎকার করে উঠল।
কিন্তু ততক্ষণে লোকটা অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে।
সমুদ্র ফিরে এসে দেখল, মুন এখনো স্থির দাঁড়িয়ে আছে।
তার হাত কাঁপছে।
সমুদ্র শান্ত গলায় বলল,
— ভয় পাস না। লোকটাকে আমরা খুঁজে বের করব।
মুন নিচু স্বরে বলল,
— আমার মনে হচ্ছে, কেউ আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে।
সমুদ্র উত্তর দিল না।
কারণ তারও ঠিক একই কথা মনে হচ্ছিল।
খানবাড়ির সকালের হইচই
পরদিন সকাল।
খানবাড়ির ডাইনিং টেবিলে বসে রাইয়ান খান রোদ এক হাতে রুটির টুকরো আর অন্য হাতে ফোন নিয়ে ব্যস্ত।
পাশে আয়ান খান আদনান বসে ডিম ভাজি খাচ্ছে।
মেহরিন খান মিম আর মেহের খান তৃষা নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।
হঠাৎ রোদ মুখ তুলে বলল,
— একটা কথা বলি? আমাদের বাড়িতে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার।
তৃষা কৌতূহলী হয়ে বলল,
— কেন?
— কারণ এই বাড়িতে সবাই কিছু না কিছু লুকাচ্ছে। সমুদ্র ভাইয়া রাতের বেলা কোথায় যায়, মুন সারাদিন কী ভাবে, আর বাবা-চাচারা কথা বলতে গেলেই দরজা বন্ধ করেন!
মিম হেসে বলল,
— তোর কাজ নেই বলে সবার পেছনে গোয়েন্দাগিরি করিস।
রোদ প্রতিবাদ করল,
— আমি গোয়েন্দাগিরি করি না। আমি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
আয়ান মুখ না তুলেই বলল,
— গতকাল নিজের মোবাইলটা ফ্রিজে রেখে দুই ঘণ্টা খুঁজেছিস। তুই পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবি?
তৃষি হেসে ফেলল।
রোদ বিরক্ত হয়ে বলল,
— এই বাড়িতে আমার প্রতিভার কোনো মূল্য নেই!
ঠিক তখন সমুদ্র ও মুন ডাইনিং রুমে ঢুকল।
রোদ দুজনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করল।
— ওহ! দুই তদন্তকারী একসঙ্গে! গত রাতে কি কোনো গোপন মিটিং হয়েছিল?
মুন সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— হ্যাঁ, তোর বুদ্ধি নিয়ে মিটিং করছিলাম। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
মিম আর তৃষি হেসে উঠল।
রোদ মুখ হাঁ করে তাকিয়ে রইল।
— মুন! তুই আমাকে অপমান করলি?
মুন চেয়ারে বসে শান্তভাবে বলল,
— না, সত্যিটা জানালাম।
সমুদ্রের মুখেও হালকা হাসি ফুটে উঠল।
কিন্তু সেই হাসি বেশিক্ষণ থাকল না।
টেবিলের নিচে তার ফোনে একটা মেসেজ এল।
অচেনা নম্বর।
“গত রাতে বাগানে আসা তোমার উচিত হয়নি। সত্যির খুব কাছে চলে এসেছ।”
সমুদ্রের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
সে দ্রুত মেসেজটা মুছে ফেলল না; বরং স্ক্রিনশট নিয়ে ফোনটা পকেটে রাখল।
কেউ শুধু তাদের দেখছে না।
কেউ তাদের সতর্কও করছে।
কিন্তু কেন?
দুই ভাইয়ের বন্ধ দরজার আলোচনা
দুপুরের দিকে জাহিদ খান নিজের ঘরে বসে পুরোনো কিছু কাগজ দেখছিলেন।
আদনান খান ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।
— ভাই, ব্যাপারটা আর স্বাভাবিক থাকছে না।
জাহিদ কাগজগুলো গুছিয়ে রাখলেন।
— কী হয়েছে?
আদনান নিচু গলায় বললেন,
— মুন আর সমুদ্র দুজনেই এখন অতীত নিয়ে প্রশ্ন করছে। গত রাতে ওরা বাগানে গিয়েছিল।
জাহিদের মুখের রং বদলে গেল।
— কে বলেছে?
— বাড়ির নিরাপত্তার ক্যামেরায় দেখা গেছে।
জাহিদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
— ওরা যদি ওই ছবিটা দেখে থাকে, তাহলে আর বেশিদিন সত্যিটা চাপা রাখা যাবে না।
আদনান উদ্বিগ্ন গলায় বললেন,
— তাহলে এখন কী করব?
জাহিদ জানালার বাইরে তাকালেন।
— আগে জানতে হবে, এত বছর পর লোকটা ফিরে এসেছে কেন।
— আপনি কি নিশ্চিত, সেই মানুষটাই সব করছে?
জাহিদ ধীরে মাথা নাড়লেন।
— পুরোপুরি নিশ্চিত নই। কিন্তু একটা কথা জানি—আমাদের অতীতের সঙ্গে জড়িত কেউ এখন এই বাড়ির খুব কাছাকাছি আছে।
আদনান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— আমাদের একটা ভুলের জন্য বাচ্চাগুলোকে কেন এত কিছু সহ্য করতে হবে?
জাহিদ চোখ বন্ধ করলেন।
তারপর এমন একটা কথা বললেন, যা শুনে আদনানও চুপ হয়ে গেলেন।
— কারণ সেই ভুলটা শুধু আমাদের জীবন বদলায়নি। ওদের মায়েদের জীবনও বদলে দিয়েছিল।
ঘরের ভেতর নেমে এল গভীর নীরবতা।
বাইরে করিডোরে কেউ একজন দাঁড়িয়ে ছিল।
সে কথাগুলোর সবটা শুনতে না পেলেও শেষের বাক্যটা শুনেছে।
“ওদের মায়েদের জীবনও বদলে দিয়েছিল।”
লোকটা নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে গেল।
তার হাতে একটা ফোন।
স্ক্রিনে লেখা—
“ওরা সত্যিটা জানতে শুরু করেছে।”
মুনের ঘরে অপ্রত্যাশিত চিঠি
বিকেলবেলা মুন নিজের ঘরে ফিরে দেখল, বিছানার ওপর একটা সাদা খাম পড়ে আছে।
খামের ওপর তার নাম লেখা।
মেহজাবিন খান মুন।
মুনের বুক ধক করে উঠল।
সে দরজার দিকে তাকাল। কেউ নেই।
খাম খুলতেই একটা ছোট কাগজ বেরিয়ে এল।
তাতে লেখা—
“তুমি যদি সত্যিই জানতে চাও, তোমার মা কী লুকিয়ে রেখেছিলেন, তাহলে পুরোনো লাইব্রেরিতে যাও। আলমারির তৃতীয় তাকে যে ডায়েরিটা আছে, সেটা পড়ো। কিন্তু সাবধান—তোমার পরিবারের সবাই তোমার পাশে নেই।”
মুনের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
পুরোনো লাইব্রেরি!
খানবাড়ির সেই ঘরটায় বহু বছর কেউ যায় না। ছোটবেলায় সে একবার সেখানে ঢুকতে গিয়েছিল, কিন্তু বাবা তাকে বারণ করেছিলেন।
কেন?
সেখানে কী আছে?
মুন চিঠিটা ব্যাগে রেখে বেরিয়ে পড়ল।
কিন্তু করিডোরের মোড়ে গিয়ে সে থেমে গেল।
সমুদ্র দাঁড়িয়ে আছে।
— কোথায় যাচ্ছিস?
মুন একটু ইতস্তত করে বলল,
— লাইব্রেরিতে।
সমুদ্র ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— পুরোনো লাইব্রেরিতে?
— হ্যাঁ।
— হঠাৎ?
মুন এবার আর মিথ্যা বলল না। চিঠিটা বের করে তার হাতে দিল।
সমুদ্র পড়ে শেষ করতেই তার মুখ কঠিন হয়ে গেল।
— তুই একা কোথাও যাবি না।
মুন প্রতিবাদ করল,
— কিন্তু চিঠিতে তো—
— চিঠিতে যা-ই লেখা থাকুক, কেউ তোকে ইচ্ছা করে ফাঁদে ফেলতেও পারে।
মুন চুপ করে গেল।
সমুদ্র তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— আমরা একসঙ্গে যাব।
পুরোনো লাইব্রেরির গোপন ডায়েরি
সন্ধ্যা নামার পর দুজন পুরোনো লাইব্রেরিতে ঢুকল।
ঘরের জানালায় ধুলো জমে আছে। কাঠের আলমারিগুলো পুরোনো হয়ে গেছে। দেয়ালের ঘড়িটা বন্ধ।
সমুদ্র ফোনের আলো জ্বালিয়ে তৃতীয় তাকের সামনে দাঁড়াল।
মুন বইগুলো সরাতেই পেছনে একটা কালো মলাটের ডায়েরি দেখতে পেল।
ডায়েরিটা হাতে নিয়ে সে ধীরে ধীরে খুলল।
প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা ফাঁকা।
তারপর একটা তারিখ।
দুর্ঘটনার ঠিক সাত দিন আগে।
মুন পড়তে শুরু করল।
“আজ আবার সেই মানুষটার ফোন এল। সে বলেছে, সত্যিটা প্রকাশ পেলে সবাই শেষ হয়ে যাবে। আমি জানি না কাকে বিশ্বাস করব। জাহিদ আর আদনানকে সব বলব কি না, বুঝতে পারছি না।”
মুনের চোখ বড় হয়ে গেল।
লেখাটা তার মায়ের!
সে পরের পৃষ্ঠায় গেল।
“আজ ওর সঙ্গে দেখা করলাম। সে বলল, বাচ্চাদের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু আমি ওকে বিশ্বাস করতে পারছি না। যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে আমার মেয়েকে সত্যিটা জানিও।”
মুনের চোখে জল চলে এল।
তার মা কি নিজের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন?
আর সেই অচেনা মানুষটা কে?
সে তাড়াতাড়ি পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।
কিন্তু পৃষ্ঠাটা ছেঁড়া।
তার নিচের পাতায় শুধু একটা নাম লেখা।
“রাশেদ।”
সমুদ্র নামটা পড়ে থমকে গেল।
মুন তার দিকে তাকাল।
— তুমি এই নাম চেনো?
সমুদ্র ধীরে মাথা নাড়ল।
— না। কিন্তু বাবার পুরোনো কাগজে একবার এই নামটা দেখেছিলাম।
মুনের বুক কেঁপে উঠল।
— তাহলে আমাদের বাবারা ওই মানুষটাকে চেনেন?
সমুদ্র উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের বাইরে পায়ের শব্দ হলো।
কেউ দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
তারপর দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেল।
মুন চমকে উঠল।
— সমুদ্র!
সমুদ্র দ্রুত দরজার কাছে গিয়ে হাতল ঘোরাল।
দরজা খুলছে না।
বাইরে থেকে তালা লাগানো হয়েছে।
মুনের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— আমাদের এখানে আটকে রেখেছে কে?
সমুদ্র ফোন বের করল, কিন্তু ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক নেই।
হঠাৎ অন্ধকার ঘরের অন্য প্রান্তে একটা শব্দ হলো।
যেন কেউ একটা বাক্স মেঝেতে ফেলে দিয়েছে।
দুজনেই ঘুরে তাকাল।
সমুদ্র ফোনের আলো সেই দিকে ফেলতেই দেখল, মেঝেতে একটা ছোট রেকর্ডার পড়ে আছে।
রেকর্ডারের লাল বাতি জ্বলছে।
সমুদ্র সেটি তুলে চালু করল।
প্রথমে কিছুক্ষণ শোঁ শোঁ শব্দ।
তারপর ভেসে এল এক নারীর কণ্ঠ।
মুন সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারল।
এটা তার মায়ের কণ্ঠ!
— “যদি কখনো আমার মেয়ে এই ডায়েরি খুঁজে পায়, তাহলে তাকে একটা কথাই বলো… দুর্ঘটনাটা দুর্ঘটনা ছিল না।”
মুনের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
রেকর্ডিংয়ে আবার কণ্ঠ শোনা গেল—
— “আর যে মানুষটাকে তোমরা এত বছর ধরে মৃত ভেবেছ, সে এখনো বেঁচে আছে।”
হঠাৎ রেকর্ডিং বন্ধ হয়ে গেল।
ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার ওপাশ থেকে কারও কণ্ঠ ভেসে এল—
“সত্যিটা জানতে চেয়েছিলে, মুন? তাহলে প্রস্তুত হও। কারণ তোমার মায়ের মৃত্যুর রহস্যের সঙ্গে তোমার নিজের জীবনও জড়িয়ে আছে।”
মুন সমুদ্রের হাত শক্ত করে ধরে ফেলল।
আর সমুদ্র বুঝতে পারল, এই রহস্যের শেষটা হয়তো তাদের পুরো পরিবারকে বদলে দেবে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা এখনো অমীমাংসিত—
রাশেদ কে? আর মৃত ভেবে রাখা সেই মানুষটা আসলে কে?
চলবে…!!