তোমাতেই পূর্ণতা
পর্ব ৬: তুমি কি আমার অতীতের কেউ?
লেখিকা: আরফা আইরিশা
সকাল ৮টা।
চৌধুরী ভিলার ডাইনিং টেবিলে বসে আরিশা পরপর তিনটা পরোটা খেয়ে ফেলেছে। সামনে বসে থাকা আরহান নিজের কফিতে চুমুক দিতে দিতে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে।
— আরিশা!
— জি, ভাইয়া?
— তুই কি গতকাল থেকে না খেয়ে আছিস?
আরিশা মুখভর্তি খাবার নিয়ে মাথা নাড়ল।
— না তো! কেন?
— তাহলে এমনভাবে খাচ্ছিস কেন, যেন আজকের পর আর খাবার পাবি না?
আরিশা খাবার গিলে মিষ্টি হেসে বলল,
— ভাইয়া, আপনি বুঝবেন না। মানুষের জীবনে খাবার আর ভালোবাসা—দুটোই জরুরি।
আরহান ভ্রু তুলে তাকাল।
— তোর জীবনে ভালোবাসা কোথায়?
— আসবে! আগে আপনার বিয়েটা হোক, তারপর আমারটাও হয়ে যাবে।
আরহান কফির কাপ নামিয়ে রাখল।
— আমার বিয়ের সঙ্গে তোর বিয়ের সম্পর্ক কী?
— সম্পর্ক আছে। আপনি বিয়ে করলে ভাবি আসবে, ভাবি এলে আমি ভাবির সঙ্গে মিলে আপনার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলব। তারপর আপনি আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাবেন।
আরহান কয়েক সেকেন্ড বোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
— তোর মাথায় আসলে কী চলে?
আরিশা দাঁত বের করে হাসল।
— আপনার বিয়ের চিন্তা!
— আমার বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের পড়াশোনার চিন্তা কর।
— পড়াশোনা তো করবই। কিন্তু ভাইয়া, একটা কথা বলুন তো?
— কী?
আরিশা একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
— মেহের ভাবি কবে আসছে?
আরহান টেবিল থেকে ফোনটা তুলে নিল।
— আর একবার এই নামটা বললে তোর ফোন কেড়ে নেব।
আরিশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ফোন কেড়ে নেবেন, কিন্তু ভাবিকে তো কেড়ে নিতে পারবেন না!
আরহান এবার এমনভাবে তাকাল যে আরিশা তাড়াতাড়ি নিজের প্লেট নিয়ে উঠে পড়ল।
— আচ্ছা, গেলাম! রাগী মানুষের সঙ্গে কথা বলাই বৃথা!
আরিশা চলে যেতেই আরহানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
গত কয়েক দিন ধরে একটা পুরোনো ছবি আর একটা রহস্যময় ফোনকল তার মাথার ভেতর ঘুরছে।
ছবির পেছনে লেখা নামটা—মেহের।
আর ফোনের ওপাশের সেই কণ্ঠ—
“ছবিটা আপনার হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল না।”
মেহের রহমান কি সত্যিই তার পরিবারের অতীতের সঙ্গে জড়িত?
আর যদি জড়িত হয়, তাহলে মেহের নিজে কিছু জানে না কেন?
নাকি সে সব জেনেও চুপ করে আছে?
আরহান ফোনটা হাতে নিয়ে একটা নম্বরে কল করল।
— হ্যালো, রাফি?
ওপাশ থেকে রাফির ঘুমঘুম কণ্ঠ ভেসে এল।
— ভাই, সকাল আটটায় মানুষকে ফোন দিতে হয়? আমি কি আপনার ব্যক্তিগত অ্যালার্ম ঘড়ি?
— ঘুম থেকে ওঠ।
— কেন? পৃথিবীতে কী কোনো বিপদ হয়েছে?
আরহান গম্ভীর গলায় বলল,
— হয়েছে। তোর ঘুমের বিপদ।
রাফি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— ভাই, আপনি প্রেমে পড়েছেন, তাই না?
আরহান চোখ বন্ধ করল।
— ফোন রাখছি।
— আরে আরে! দাঁড়ান! প্রেমের কথা শুনলেই এত রাগ কেন? বুঝেছি, রোগ গভীর!
কল কেটে গেল।
আরহান বিরক্ত হয়ে ফোনটা টেবিলে রাখল।
কিন্তু নিজের অজান্তেই তার মনে পড়ে গেল মেহেরের হাসিমুখটা।
মেয়েটা কীভাবে সব সময় তার সামনে দাঁড়িয়ে তর্ক করে!
অথচ আশ্চর্য ব্যাপার হলো, মেহেরের সঙ্গে কথা বলার পর তার মনটা অদ্ভুতভাবে হালকা হয়ে যায়।
সে কি সত্যিই মেহেরকে নিয়ে বেশি ভাবতে শুরু করেছে?
নাকি মেয়েটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্যটাই তাকে এতটা ভাবাচ্ছে?
আরহান নিজেকেই প্রশ্ন করল।
কিন্তু উত্তর পেল না।
রহমান বাড়িতে
— মা! আমার সাদা শার্টটা কোথায়?
মেহেরের চিৎকারে রহমান বাড়ির সকালটা কেঁপে উঠল।
রান্নাঘর থেকে তার মা বললেন,
— আলমারিতে দেখেছিস?
— দেখেছি!
— তাহলে বিছানার নিচে দেখ।
মেহের থমকে গেল।
— শার্ট আবার বিছানার নিচে যাবে কেন?
— তুই যে মেয়ে, তোর ঘরে কী কোথায় থাকে, সেটা আল্লাহই জানেন!
মেহের বিরক্ত মুখে নিজের ঘরে ফিরে গেল।
পাঁচ মিনিট পর সে আবার রান্নাঘরে হাজির।
গায়ে সাদা শার্ট।
হাতে কালো ব্যাগ।
মুখে বিজয়ীর হাসি।
— পেয়েছি!
তার মা অবাক হয়ে তাকালেন।
— কোথায় ছিল?
মেহের গম্ভীর মুখে বলল,
— যেখানে থাকার কথা, সেখানেই।
— মানে?
— আলমারিতে!
মা মাথায় হাত দিলেন।
— আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দাও!
মেহের মাকে জড়িয়ে ধরে হেসে বলল,
— আচ্ছা মা, রাগ করো না। তোমার মেয়ে একটু পাগলি, কিন্তু ভালো তো!
মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
— তুই ভালো বলেই তো এত সহ্য করি।
মেহের মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল।
কিন্তু বাড়ির দরজা পেরিয়ে রাস্তায় আসতেই তার ফোনে একটা মেসেজ এল।
অচেনা নম্বর।
“তুমি কি কখনো ভেবেছ, তোমার ছোটবেলার কিছু স্মৃতি কেন তোমার মনে নেই?”
মেহেরের হাসিমুখটা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গেল।
সে মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার ছোটবেলার কিছু স্মৃতি সত্যিই ঝাপসা।
বিশেষ করে ছয়-সাত বছর বয়সের আগের সময়টা।
মা যখনই সে সময়ের কথা জিজ্ঞেস করে, তখনই বিষয়টা এড়িয়ে যান।
কিন্তু কেন?
মেহের দ্রুত রিপ্লাই দিল—
“আপনি কে? এসব কথা বলছেন কেন?”
কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।
“যে সত্যিটা তুমি খুঁজছ, তার উত্তর চৌধুরী ভিলায় আছে।”
মেহেরের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
চৌধুরী ভিলা?
আরহানের বাড়ি?
এই রহস্যের সঙ্গে আরহানের কী সম্পর্ক?
সে আবার মেসেজ পাঠাতে গেল, কিন্তু ততক্ষণে নম্বরটি বন্ধ হয়ে গেছে।
মেহের কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর নিজেকেই বলল,
— ঠিক আছে, মিস্টার রহস্য! এবার দেখা যাবে কে কাকে চমকে দেয়!
কথাটা বলে সে গাড়িতে উঠে বসল।
কিন্তু তার মনের ভেতর একটা প্রশ্ন ঘুরতেই থাকল—
আরহান চৌধুরী কি তার অতীতের এমন কিছু জানে, যা সে নিজেও জানে না?
চৌধুরী গ্রুপের অফিস
অফিসে ঢুকেই মেহের দেখল, আরহান নিজের কেবিনে বসে আছে।
সামনে ল্যাপটপ।
মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।
মেহের দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকল।
— গুড মর্নিং, মিস্টার রাগী বস!
আরহান চোখ না তুলেই বলল,
— অফিসে কাজ করতে এসেছ, নাকি আমাকে বিরক্ত করতে?
মেহের চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
— দুটোই। তবে দ্বিতীয় কাজটা আমি বেশি দক্ষতার সঙ্গে করি।
আরহান এবার মুখ তুলে তাকাল।
— তোমার নিজের সম্পর্কে ধারণা বেশ ভালো।
— ধন্যবাদ। আপনার ধারণাটাও খারাপ না। আপনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে গম্ভীর মানুষ ভাবেন।
— আমি গম্ভীর।
— আর আমি চাঁদের দেশে থাকি!
আরহান ঠোঁটের কোণে হাসি লুকিয়ে বলল,
— তোমার সঙ্গে তর্ক করে সময় নষ্ট করার ইচ্ছা নেই।
মেহের ব্যাগ থেকে ফাইল বের করে তার সামনে রাখল।
— তাহলে এই ফাইলটা দেখুন। গত মাসের হিসাবের সঙ্গে বর্তমান হিসাব মিলছে না। কয়েকটা লেনদেনের তথ্যও অসম্পূর্ণ।
আরহানের মুখের ভাব বদলে গেল।
সে ফাইলটা খুলে মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল।
— এগুলো তুমি কোথায় পেলে?
— হিসাবের নথিতে। প্রথমে ভেবেছিলাম ভুল হয়েছে। কিন্তু একই ধরনের অসংগতি বারবার পাওয়ায় সন্দেহ হলো।
আরহান কয়েকটি কাগজ আলাদা করে রাখল।
— কাউকে কিছু বলেছ?
— না। আগে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি।
আরহান এবার তার দিকে তাকাল।
— ভালো করেছ। আপাতত বিষয়টা আমাদের মধ্যেই থাকুক। আমি নিজে খোঁজ নেব।
মেহের মাথা নাড়ল।
কিছুক্ষণ পর সে হঠাৎ বলল,
— একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?
— বলো।
— আপনার বাড়ির নাম কি চৌধুরী ভিলা?
আরহানের হাত থেমে গেল।
— হ্যাঁ। কেন?
মেহের তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— সেখানে কি পুরোনো কোনো পারিবারিক ছবি আছে? বিশেষ করে ছোটবেলার ছবি?
আরহান এবার পুরোপুরি তার দিকে ফিরল।
— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
মেহের এক মুহূর্ত দ্বিধা করল।
তারপর ফোনটা বের করে অচেনা নম্বরের মেসেজ দেখাল।
মেসেজটা পড়ে আরহানের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
— এই নম্বর থেকে কখন মেসেজ এসেছে?
— আজ সকালে।
— তুমি কি নম্বরটা চেনো?
— না।
আরহান ফোনটা ফেরত দিয়ে বলল,
— এই মেসেজ নিয়ে আপাতত কাউকে কিছু বলবে না।
মেহের ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— আপনি কি কিছু জানেন?
আরহান চুপ করে রইল।
মেহের এবার একটু জোর দিয়ে বলল,
— মিস্টার আরহান, আমি আপনার কর্মচারী হতে পারি, কিন্তু বোকা নই। আপনি কিছু জানেন। তাই না?
আরহান তার চোখের দিকে তাকাল।
মেহেরের চোখে ভয় ছিল না।
ছিল প্রশ্ন, জেদ আর সত্যি জানার তীব্র ইচ্ছা।
আরহান ধীরে বলল,
— আমি কিছু পুরোনো ছবি পেয়েছি। সেগুলোর একটায় তোমার নাম লেখা ছিল।
মেহেরের মুখের রং বদলে গেল।
— আমার নাম?
— হ্যাঁ।
— ছবিতে কে ছিল?
আরহান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— একটা ছোট মেয়ে। কিন্তু ছবিটা তোমার কি না, সেটা আমি নিশ্চিত নই।
মেহেরের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে কি সেই মেয়ে?
কেন তার নাম লেখা থাকবে আরহানের পরিবারের পুরোনো ছবিতে?
আরহান কি সত্যিই কিছু জানে না?
নাকি সে ইচ্ছা করেই কিছু লুকাচ্ছে?
মেহের ধীরে উঠে দাঁড়াল।
— আমি ছবিটা দেখতে চাই।
আরহান তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— মেহের, এটা এত সহজ নয়।
— কেন? ছবিতে এমন কী আছে?
আরহান উত্তর দিল না।
তার নীরবতাই মেহেরের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিল।
পুরোনো ঘরের দরজায়
সেদিন সন্ধ্যায় আরহান মেহেরকে চৌধুরী ভিলায় নিয়ে এল।
গাড়ি থেকে নামতেই মেহের বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল।
বড় বাড়ি।
উঁচু দেয়াল।
সামনে সাজানো বাগান।
অথচ বাড়িটার কোথাও যেন একটা অদ্ভুত নীরবতা।
আরিশা দৌড়ে এসে মেহেরের হাত ধরল।
— ভাবি, আপনি এসেছেন!
মেহের চোখ বড় বড় করে তাকাল।
— এই যে! আবার ভাবি বলছ কেন?
আরিশা নিষ্পাপ মুখে বলল,
— অভ্যাস হয়ে গেছে!
মেহের আরহানের দিকে তাকিয়ে বলল,
— আপনার বোনকে একটু বোঝান তো!
আরহান শান্তভাবে বলল,
— ওকে বোঝানো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ।
আরিশা জিভ বের করে বলল,
— ভাইয়া, আপনি চেষ্টা করে দেখুন। তবে আগে নিজের মনটা বোঝেন!
আরহান চোখ রাঙাতেই আরিশা হেসে পালিয়ে গেল।
মেহের হাসি চেপে রাখতে পারল না।
আরহান তার হাসির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
এই মেয়েটা কেন তার বাড়িতে এলেই সবকিছু অন্য রকম হয়ে যায়?
কেন তার উপস্থিতিতে বাড়ির নীরবতাও যেন একটু প্রাণ ফিরে পায়?
আরহান মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
— চলো।
সে মেহেরকে বাড়ির পেছনের করিডোর দিয়ে একটা পুরোনো ঘরের সামনে নিয়ে এল।
দরজাটা বন্ধ।
দরজার গায়ে ধুলোর আস্তরণ।
মেহের অবাক হয়ে বলল,
— এই ঘরটা বন্ধ কেন?
আরহান পকেট থেকে চাবি বের করল।
— অনেক বছর ধরে কেউ এখানে ঢোকে না।
— কেন?
আরহান দরজার তালা খুলতে খুলতে বলল,
— কারণ এই ঘরের সঙ্গে আমার পরিবারের অতীত জড়িয়ে আছে।
দরজা খুলতেই পুরোনো কাঠ আর ধুলোর গন্ধ বেরিয়ে এল।
ঘরের ভেতরে পুরোনো আসবাব, কয়েকটি বাক্স আর দেয়ালজুড়ে ছবি।
মেহের ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল।
হঠাৎ তার চোখ একটা ছবিতে আটকে গেল।
ছবিতে একটি ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মেয়েটির পরনে সাদা জামা।
চুলে লাল ফিতা।
মুখে মিষ্টি হাসি।
মেহের ছবিটার সামনে গিয়ে থেমে গেল।
তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল।
মেয়েটির মুখটা যেন কোথাও দেখেছে সে।
অনেক আগে।
খুব ছোটবেলায়।
সে কাঁপা হাতে ছবিটার ফ্রেম ছুঁয়ে দিল।
— এই মেয়েটা কে?
আরহান তার পাশে এসে দাঁড়াল।
— আমি জানি না।
মেহের ছবির নিচে লেখা নামটা পড়ল।
তারপর যেন পৃথিবীটা এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
সেখানে লেখা—
“মেহের — ৬ বছর।”
মেহেরের ঠোঁট কেঁপে উঠল।
— এটা… আমার নাম।
আরহান তার দিকে তাকাল।
ঠিক তখনই ঘরের বাইরে থেকে একটা শব্দ হলো।
দুজনেই ঘুরে তাকাল।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নওরীন চৌধুরী।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
— আরহান! তুমি ওকে এখানে কেন এনেছ?
আরহান অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকাল।
— মা, তুমি এই ছবিটা চেনো?
নওরীন কোনো উত্তর দিলেন না।
তিনি মেহেরের দিকে তাকিয়ে শুধু একটা কথাই বললেন—
— তোমাকে এখানে আসতে দেওয়া উচিত হয়নি।
মেহের হতভম্ব হয়ে গেল।
— আপনি আমাকে চেনেন?
নওরীনের চোখে জল চিকচিক করে উঠল।
তিনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।
তারপর দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মেহের স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
আরহান ছবিটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, রহস্যটা তার ধারণার চেয়েও অনেক গভীর।
কারণ তার মা মেহেরকে চিনতেন।
আর এত বছর ধরে সেই সত্যিটা লুকিয়ে রেখেছিলেন।
কিন্তু কেন?
মেহের ধীরে আরহানের দিকে ফিরল।
— মিস্টার আরহান, আমি আমার অতীত জানতে চাই। যা-ই হোক, আমি সত্যিটা জানব।
আরহান তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— আমিও।
কিন্তু ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে নওরীন চৌধুরী ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন।
তার কণ্ঠ কাঁপছিল।
— মেহের ফিরে এসেছে। আরহান সব জেনে যাওয়ার আগেই আমাদের কিছু একটা করতে হবে।
ওপাশ থেকে কী উত্তর এল, তা শোনা গেল না।
শুধু নওরীনের শেষ কথাটা ভেসে এল—
— না! ও যেন কখনো জানতে না পারে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল!
চলবে…!!