তোমাতেই পূর্ণতা
পর্ব ৭: তোমাকে হারানোর ভয়
লেখিকা: আরফা আইরিশা
সকাল ৭টা।
চৌধুরী ভিলার রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আরিশা এক হাতে টোস্ট আর অন্য হাতে ফোন নিয়ে ব্যস্ত। ফোনের স্ক্রিনে একটা মেসেজ খোলা।
আরিশা: ভাবি, আজকে আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে!
মেসেজটা পাঠিয়ে সে নিজেই হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই পেছন থেকে আরহানের কণ্ঠ ভেসে এল।
— সকালে উঠেই কী ষড়যন্ত্র শুরু করেছিস?
আরিশা চমকে ফোনটা পেছনে লুকিয়ে ফেলল।
— আমি আবার কী করলাম?
— তোর মুখ দেখে মনে হচ্ছে, কারও জীবন অতিষ্ঠ করার পরিকল্পনা করছিস।
আরিশা নিরীহ মুখ করে বলল,
— ভাইয়া, আপনি আমাকে এত ভুল বোঝেন কেন? আমি তো খুব ভালো মেয়ে!
আরহান কফির কাপ হাতে নিয়ে বলল,
— তুই ভালো মেয়ে হলে পৃথিবীতে দুষ্টু বলে কিছু থাকত না।
— আচ্ছা, একটা কথা বলুন তো?
— কী?
— আপনি মেহের আপুকে পছন্দ করেন?
আরহানের হাত থেমে গেল।
— আবার শুরু করলি?
— উত্তর দিন না!
— না।
আরিশা চোখ বড় করে বলল,
— তাহলে ওনার মেসেজ এলে আপনি এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দেন কেন?
আরহান এবার বোনের দিকে তাকাল।
— তুই আমার ফোন দেখেছিস?
আরিশা সঙ্গে সঙ্গে পেছনে সরে গেল।
— না! মানে... ফোনটা টেবিলে ছিল। আমি শুধু স্ক্রিনে দেখেছি।
— আরিশা!
— আচ্ছা, যাচ্ছি! তবে ভাইয়া, একটা কথা মনে রাখবেন—মনের কথা লুকিয়ে রাখলে একদিন মনই আপনাকে বিপদে ফেলবে!
কথাটা বলে আরিশা দৌড়ে পালিয়ে গেল।
আরহান কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
মেয়েটা সব সময় এমন কথা বলে, যেগুলো শুনে তার রাগ হওয়ার কথা। অথচ আজকাল আরিশার কথাগুলো শুনলে নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে।
সে কি সত্যিই মেহেরকে পছন্দ করতে শুরু করেছে?
নাকি মেহেরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রহস্যটাই তাকে মেয়েটার দিকে টেনে নিচ্ছে?
আরহান কফিতে চুমুক দিল।
— অসম্ভব! আমি এসব নিয়ে ভাবছি কেন?
ঠিক তখনই ফোনে মেহেরের মেসেজ এল।
মেহের: আজ অফিসে আসবেন তো, নাকি নিজের গম্ভীর মুখ নিয়ে বাড়িতেই বসে থাকবেন?
আরহানের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
আরহান: তোমার মতো কর্মচারী থাকলে অফিসে না এসে উপায় আছে?
মেহের: বাহ! তাহলে স্বীকার করছেন, আমাকে ছাড়া আপনার চলে না!
আরহান: স্বপ্ন দেখা ভালো। তবে অতিরিক্ত স্বপ্ন শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
মেহের: আপনার মতো মানুষের সঙ্গে কথা বলাই ক্ষতিকর!
আরহান ফোনটা নামিয়ে হাসল।
নিজের অজান্তেই।
রহমান বাড়িতে নতুন ঝামেলা
মেহের তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল বাঁধছিল।
তার মা দরজায় এসে বললেন,
— মেহের, তোর সঙ্গে একটা কথা ছিল।
— বলো, মা।
— তুই কি ছোটবেলার কথা কিছু মনে করতে পারিস?
মেহেরের হাত থেমে গেল।
গতকাল অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজটা আবার মনে পড়ল।
“তোমার ছোটবেলার কিছু স্মৃতি কেন তোমার মনে নেই?”
মেহের ধীরে মায়ের দিকে ফিরল।
— কেন জিজ্ঞেস করছ?
তার মা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
— এমনি। তোর ছোটবেলার কিছু ঘটনা মনে আছে কি না, জানতে ইচ্ছে হলো।
মেহের বিছানায় বসে বলল,
— ছয়-সাত বছর বয়সের আগের কথা খুব একটা মনে নেই। কেন, মা? ওই সময়ে কি কিছু হয়েছিল?
মায়ের মুখের ভাব বদলে গেল।
— না, তেমন কিছু না।
মেহের এবার মায়ের হাত ধরল।
— মা, তুমি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছ?
মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে বললেন,
— সব সত্যি সব সময় বলা যায় না, মেহের।
মেহেরের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
— কিন্তু কেন?
— সময় হলে সব বুঝতে পারবি।
মেহের হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
— সবাই একই কথা বলে কেন? সময় হলে বুঝবি! সত্যি জানার অধিকার কি আমার নেই?
তার মা কোনো উত্তর দিলেন না।
মেহের ব্যাগ তুলে নিল।
দরজার কাছে গিয়ে থেমে বলল,
— মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার জীবন সম্পর্কে কোনো সত্যি লুকানো থাকলে আমি সেটা জানবই।
সে চলে গেল।
আর তার মা নিঃশব্দে বসে রইলেন।
চোখে জমে থাকা জল মুছে তিনি আলমারির দিকে তাকালেন।
আলমারির ভেতরে রাখা পুরোনো বাক্সটার কথা তিনি ভুলতে পারেননি।
সেই বাক্সে এমন কিছু আছে, যা মেহেরের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
কিন্তু সত্যিটা প্রকাশ পেলে আরেকটি পরিবারও ভেঙে পড়তে পারে।
তিনি কি মেয়েকে সত্যিটা বলবেন?
নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন?
অফিসে মুখোমুখি
সকাল দশটা।
চৌধুরী গ্রুপের অফিসে ঢুকেই মেহের দেখল, আরহান কেবিনে বসে কাজ করছে।
মেহের দরজায় টোকা দিল।
— আসতে পারি, স্যার?
আরহান চোখ না তুলেই বলল,
— দরজা খোলা।
মেহের ভেতরে ঢুকে ফাইলটা টেবিলে রাখল।
— আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য এনেছি।
আরহান ফাইল খুলে দেখল। আগের দিন যে হিসাবের অসংগতি নিয়ে তারা আলোচনা করেছিল, সেই বিষয়েই নতুন তথ্য।
— এগুলো কোথায় পেলে?
— হিসাব বিভাগের পুরোনো নথিতে। কয়েকটা লেনদেনের কাগজ ইচ্ছা করে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
আরহান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— তুমি নিশ্চিত?
— পুরোপুরি না। তবে বিষয়টা সাধারণ ভুল বলে মনে হচ্ছে না।
আরহান ফাইল বন্ধ করল।
— আপাতত এই তথ্যগুলো কাউকে দেবে না। আমি নিজে তদন্ত করব।
মেহের মাথা নাড়ল।
কিছুক্ষণ পর সে জিজ্ঞেস করল,
— আপনার মা কেমন আছেন?
আরহান একটু অবাক হলো।
— হঠাৎ মায়ের কথা?
মেহের দ্বিধা করে বলল,
— সেদিন পুরোনো ঘরে উনি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালেন, তাতে মনে হচ্ছে ছবিটা সম্পর্কে উনি অনেক কিছু জানেন।
আরহানের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।
— আমিও তাই ভাবছি।
— আপনি কি ওনার সঙ্গে কথা বলেছেন?
— চেষ্টা করেছি। কিন্তু মা বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
মেহের নিচু গলায় বলল,
— আমার মা-ও একই কাজ করছেন।
আরহান তার দিকে তাকাল।
— তোমার মা কী বলেছেন?
— ছোটবেলার কিছু স্মৃতি নিয়ে কথা বলছিলাম। উনি বললেন, সব সত্যি সব সময় বলা যায় না।
আরহান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
দুই পরিবার।
দুই মায়ের নীরবতা।
একটা পুরোনো ছবি।
আর সেই ছবিতে মেহেরের নাম।
এতগুলো ঘটনা কি কেবল কাকতালীয়?
মেহের হঠাৎ বলল,
— আরহান, আমি একটা কথা বলতে চাই।
— বলো।
— আপনি কি সত্যিই মনে করেন, আমাদের দুজনের পরিবারের অতীতের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে?
আরহান উত্তর দেওয়ার আগে কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।
— হ্যাঁ। আমার মনে হয়, আছে।
মেহের ধীরে মাথা নাড়ল।
— তাহলে সত্যিটা আমাদের একসঙ্গে খুঁজতে হবে।
আরহান বলল,
— ঠিক আছে। কিন্তু একটা শর্ত আছে।
— কী শর্ত?
— বিপদ হতে পারে এমন কোনো জায়গায় একা যাবে না। আর কোনো অচেনা মানুষের মেসেজ পেলে আমাকে জানাবে।
মেহের ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— আপনি কি আমার বস, নাকি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী?
আরহান গম্ভীর মুখে বলল,
— দুটোই হতে পারি।
মেহের হেসে ফেলল।
— স্বপ্ন দেখুন, মিস্টার চৌধুরী!
আরহানও হাসল।
কিন্তু তাদের কেউই জানত না, অফিসের বাইরের করিডোরে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ তাদের কথোপকথন শুনছে।
তার হাতে ফোন।
স্ক্রিনে মেহেরের ছবি।
লোকটি ধীরে একটা নম্বরে মেসেজ পাঠাল—
“ওরা একসঙ্গে সত্যিটা খুঁজছে।”
একটা ডিনার, একটা প্রশ্ন
সন্ধ্যায় অফিসের কাজ শেষ করে আরহান মেহেরকে বলল,
— আজ আমার সঙ্গে ডিনারে যাবে?
মেহের ভ্রু তুলে তাকাল।
— কেন? অফিসের কোনো নতুন ফাইল খুঁজে পেয়েছেন?
— না।
— তাহলে কি আপনার ল্যাপটপ নষ্ট হয়েছে?
আরহান বিরক্ত হয়ে বলল,
— মেহের, সব কথায় তর্ক করতে হয়?
মেহের হেসে বলল,
— না। তবে আপনার সঙ্গে তর্ক করতে ভালো লাগে।
কথাটা বলেই সে থেমে গেল।
আরহানও চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
মুহূর্তটা অদ্ভুতভাবে নীরব হয়ে গেল।
মেহের দ্রুত চোখ সরিয়ে বলল,
— আচ্ছা, যাব। তবে খাবারের বিল আপনি দেবেন।
আরহান মুচকি হেসে বলল,
— সেটা তো এমনিতেই জানি।
রেস্টুরেন্টে বসে মেহের মেনু কার্ড হাতে নিয়ে বলল,
— এত দামি জায়গায় আমাকে কেন এনেছেন? আমি তো সাধারণ খাবারেও খুশি।
আরহান শান্তভাবে বলল,
— মাঝে মাঝে নিজের জন্য ভালো কিছু করা উচিত।
মেহের তার দিকে তাকাল।
— আপনি নিজের জন্য ভালো কিছু করেন?
আরহান কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল,
— আগে করতাম না।
— এখন করেন?
— এখন চেষ্টা করছি।
মেহের আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।
খাবার আসার পর দুজনেই গল্প করতে লাগল। অফিসের কাজ, আরিশার দুষ্টুমি, রাফির অদ্ভুত রসিকতা—সবকিছু নিয়ে হাসাহাসি হলো।
হঠাৎ মেহের বলল,
— আরহান, আপনি কি কখনো কাউকে হারানোর ভয় পেয়েছেন?
প্রশ্নটা শুনে আরহানের হাসি মিলিয়ে গেল।
সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— হ্যাঁ।
— কাকে?
আরহান তার চোখের দিকে তাকাল।
— এমন একজনকে, যাকে হয়তো আমি ঠিকমতো চিনিও না।
মেহেরের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
— তাহলে তাকে চিনে নিন।
আরহান মৃদু হেসে বলল,
— চেষ্টা করছি।
তাদের চোখাচোখি হলো।
কেউ কিছু বলল না।
কিন্তু দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের সম্পর্কটা আর শুধু অফিসের বস আর কর্মচারীর মধ্যে আটকে নেই।
রাতের সেই ফোনকল
রাত সাড়ে দশটা।
আরহান নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল এল।
সে কল রিসিভ করল।
— হ্যালো?
ওপাশ থেকে পরিচিত সেই গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।
— মেহের রহমানের কাছ থেকে দূরে থাকুন।
আরহানের চোখ কঠিন হয়ে উঠল।
— আপনি কে?
— সেটা জানার দরকার নেই। শুধু বলছি, মেয়েটার সঙ্গে আপনার পরিবারের সম্পর্ক যতটা ভাবছেন, তার চেয়েও গভীর।
আরহান উঠে দাঁড়াল।
— পরিষ্কার করে বলুন!
লোকটি ধীরে বলল,
— আপনি যদি সত্যিটা জানতে পারেন, তাহলে হয়তো মেহেরকে আর আগের মতো দেখতে পারবেন না।
— কেন?
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর লোকটি বলল,
— কারণ মেহেরের অতীতের সঙ্গে আপনার পরিবারের এমন একটা ঘটনা জড়িয়ে আছে, যেটা আপনার মা আজও লুকিয়ে রেখেছেন।
আরহানের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
— আপনি কীভাবে জানেন?
লোকটি উত্তর দিল না।
শুধু শেষবার বলল,
— সাবধান থাকুন, আরহান চৌধুরী। ভালোবাসা শুরু হওয়ার আগেই যেন সব শেষ না হয়ে যায়।
কল কেটে গেল।
আরহান ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন।
মেহেরের অতীতের সঙ্গে তার পরিবারের কী সম্পর্ক?
তার মা কেন সব লুকিয়ে রাখছেন?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
সে কি সত্যিই মেহেরকে হারানোর ভয় পেতে শুরু করেছে?
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
নওরীন চৌধুরী ঘরে ঢুকলেন।
— আরহান, তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে।
আরহান মায়ের দিকে তাকাল।
— কী হয়েছে, মা?
নওরীন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— মেহেরের সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা ঠিক কী?
প্রশ্নটা শুনে আরহান থমকে গেল।
— কেন?
নওরীন চোখ নামিয়ে বললেন,
— কারণ তোমার ওর কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত।
আরহানের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
— মা, সবাই একই কথা বলছে। কেউ আমাকে কারণটা বলছে না। এবার তুমি বলো, মেহের কে?
নওরীনের চোখে জল চলে এল।
তিনি কাঁপা গলায় বললেন,
— মেহের এমন একজন, যার সঙ্গে তোমার পরিবারের অতীত জড়িয়ে আছে।
— কীভাবে?
নওরীন উত্তর দিতে পারলেন না।
শুধু বললেন,
— আমি চাই না, তুমি ওর জন্য কষ্ট পাও।
আরহান মায়ের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,
— মা, আমি যদি সত্যিটা না জানি, তাহলে কষ্ট পাওয়ার ভয়টা কখনোই শেষ হবে না।
নওরীন নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
আরহান জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
শহরের আলো ঝাপসা হয়ে আসছে।
তার মনে একটাই কথা—
মেহেরকে সে হারাতে চায় না। অথচ মেহেরকে পাওয়ার আগেই তার অতীত যেন তাদের দুজনকে আলাদা করে দিতে চাইছে।
ঠিক তখনই মেহেরের ফোনে একটা মেসেজ গেল।
অচেনা নম্বর থেকে।
“তুমি আরহান চৌধুরীর কাছাকাছি যাচ্ছ। কিন্তু তুমি কি জানো, তোমাদের দুজনের মধ্যে এমন একটা সত্যি আছে, যা জানলে তোমাদের সম্পর্ক চিরদিনের জন্য বদলে যাবে?”
মেহের মেসেজটা পড়ে স্থির হয়ে গেল।
তারপর ধীরে নিজের পুরোনো বাক্সটার দিকে তাকাল।
বাক্সের ভেতরে রাখা একটা ছবির কথা তার মনে পড়ল।
যে ছবিটা তার মা সব সময় লুকিয়ে রাখেন।
ছবিতে একটা ছোট ছেলে আর একটা ছোট মেয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।
মেয়েটার হাতে লাল ফিতা।
ছেলেটার মুখটা ছবির পেছনের আলোয় অস্পষ্ট।
ছবির নিচে লেখা—
“একদিন আবার দেখা হবে।”
মেহের ছবিটা হাতে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— আরহান… তুমি কি সেই ছেলেটা?
চলবে…!!