ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাতেই পূর্নতা....

পর্ব 9

লেখক: আইরিশা/irisha

তোমাতেই পূর্ণতা

পর্ব ৯: ভালোবাসা, নাকি প্রতিশোধ?

লেখিকা: আরফা আইরিশা

সকাল ৮টা।

রহমান বাড়ির ডাইনিং টেবিলে বসে মেহের অন্যমনস্কভাবে নাশতা করছিল। তার সামনে রাখা খাবার ঠান্ডা হয়ে গেছে, অথচ সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।

মাথার ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—আরহান কি সত্যিই সেই ছোট্ট ছেলেটা, যাকে সে শৈশবে হারিয়ে ফেলেছিল?

আর যদি তাই হয়, তাহলে তাদের আলাদা করেছিল কে?

— মেহের!

মায়ের ডাকে সে চমকে উঠল।

— হ্যাঁ?

— কী হয়েছে তোর? সকাল থেকে এমন চুপচাপ কেন?

— কিছু না, মা।

মা মেয়ের সামনে বসে বললেন,

— কাল রাতে তোকে একটা কথা বলেছিলাম। আরহানকে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু ভালোভাবে জেনে নিস।

মেহের মায়ের দিকে তাকাল।

— মা, তুমি কি আরহানের পরিবারকে চেনো?

মা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন।

— চিনতাম।

— শুধু চিনতে, নাকি আরও কিছু ছিল?

মায়ের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল।

— সব প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে পাওয়া যায় না, মেহের।

মেহের দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— সবাই একই কথা বলে কেন? আরহান, তুমি, এমনকি ওই অচেনা মানুষটাও! কেউ সরাসরি কিছু বলতে পারো না?

মা মেয়ের হাত ধরে বললেন,

— কারণ কিছু সত্যি শুধু অতীতকে নয়, বর্তমানকেও বদলে দেয়।

মেহের আর কথা বাড়াল না।

তবে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, আজ সে আরহানের সঙ্গে দেখা করে সব প্রশ্নের উত্তর চাইবে।

যা-ই হোক, এবার আর সে পিছিয়ে আসবে না।

চৌধুরী বাড়িতে সকালবেলার মহাযুদ্ধ

— মা-আ-আ! আমার নাশতা কোথায়?

আরিশার চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।

নওরীন রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন,

— টেবিলের ওপরই তো রাখা আছে!

আরিশা প্লেটের দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকাল।

— মা, এটা নাশতা নাকি হাসপাতালের খাবার?

ঠিক তখন আরহান সিঁড়ি দিয়ে নামছিল।

— তোর এত সমস্যা হলে নিজে রান্না কর।

আরিশা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে নাটকীয়ভাবে বলল,

— দেখেছ মা? নিজের বোনের কষ্টটা পর্যন্ত বুঝতে পারে না! এই ছেলেকে কে বিয়ে করবে?

আরহান চেয়ারে বসতে বসতে বলল,

— তুই এত চিন্তা করিস কেন? আমার বিয়েতে তোকে দাওয়াত দেব না।

আরিশা চোখ বড় করে বলল,

— কী! নিজের একমাত্র বোনকে দাওয়াত দেবে না?

— তুই তো বলিস, আমাকে কেউ বিয়ে করবে না। তাহলে বিয়ে হবে কীভাবে?

নওরীন হেসে ফেললেন।

আরিশা কিছুক্ষণ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ মুচকি হাসল।

— আচ্ছা ভাইয়া, মেহের আপুকে কি আজ অফিসে দেখবে?

আরহান পানির গ্লাস হাতে নিয়ে থেমে গেল।

— তোর এত প্রশ্ন কেন?

— কারণ আমার গবেষণার বিষয় তুমি আর মেহের আপু।

— কীসের গবেষণা?

আরিশা গম্ভীর মুখে বলল,

— তোমার মতো রাগী মানুষের মনে ভালোবাসা নামক অনুভূতি কীভাবে প্রবেশ করল, সেটাই আমার গবেষণা!

আরহান গ্লাস নামিয়ে বলল,

— আরিশা, তুই কি চাস আমি তোকে বাসা থেকে বের করে দিই?

— না ভাইয়া, আমি চাই তুমি মেহের আপুকে বাসায় নিয়ে আসো!

নওরীন আবার হেসে উঠলেন।

আরহান কিছু না বলে উঠে দাঁড়াল।

কিন্তু গাড়িতে ওঠার আগে আরিশার দিকে তাকিয়ে বলল,

— তোর পরীক্ষা শেষ হলে তোকে একটা ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাব।

আরিশা পেছন থেকে চিৎকার করল,

— আগে নিজের মনের চিকিৎসা করাও, ভাইয়া!

আরহান এবার সত্যিই হেসে ফেলল।

কিন্তু সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।

পকেটে রাখা পুরোনো চিঠিটার কথা মনে পড়তেই তার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।

অফিসে মুখোমুখি

সকাল সাড়ে দশটা।

মেহের অফিসে ঢুকেই দেখল, আরহান কেবিনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

তাকে দেখেই আরহান বলল,

— আপনার সঙ্গে কথা আছে।

মেহের ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামিয়ে বলল,

— আমারও।

আরহান কেবিনের দরজা খুলে দিল।

— ভেতরে আসুন।

মেহের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ করে রইল।

অবশেষে মেহের বলল,

— আপনি কি আমাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন?

আরহান স্থির হয়ে গেল।

— কে বলেছে আপনাকে?

— প্রশ্নের উত্তর দিন।

আরহান কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থেকে ড্রয়ার থেকে ছবিটা বের করল।

ছবিটা দেখে মেহেরের চোখ বড় হয়ে গেল।

এটা সেই একই ছবি, যেটা সে গত রাতে নিজের বাক্সে পেয়েছিল।

মেহের কাঁপা গলায় বলল,

— এটা আপনার কাছে কীভাবে এল?

— আমার বাবার পুরোনো স্টাডির ঘর থেকে পেয়েছি।

— আপনার বাবা আমার মাকে চিনতেন?

— হ্যাঁ।

মেহের চেয়ারে বসে পড়ল।

— তাহলে এত বছর ধরে কেউ আমাকে কিছু বলেনি কেন?

আরহানও চুপ করে বসে পড়ল।

— আমি জানি না।

মেহের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।

— সত্যিই জানেন না, নাকি আপনিও কিছু লুকাচ্ছেন?

আরহান কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

— আমি যদি বলি, আমিও আপনার মতোই উত্তর খুঁজছি, বিশ্বাস করবেন?

মেহের উত্তর দিল না।

আরহান এবার পকেট থেকে চিঠিটা বের করে তার সামনে রাখল।

— এটা আমার বাবার লেখা।

মেহের চিঠিটা পড়তে শুরু করল।

“মেহেরকে ভুলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা আমার ছিল না। কিছু মানুষকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল এমন এক সত্যের কারণে, যা প্রকাশ পেলে দুটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত।”

চিঠিটা পড়ে মেহেরের চোখে পানি জমে উঠল।

— আমাদের আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল কেন?

আরহান ধীরে বলল,

— আমি জানি না। কিন্তু আমি সত্যিটা খুঁজে বের করব।

মেহের তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আর যদি সেই সত্যিটা আমাদের দুজনের জন্যই কষ্টের হয়?

আরহান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— তাহলে অন্তত আমরা জানব, এত বছর ধরে কেন আমাদের আলাদা থাকতে হয়েছে।

মেহেরের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।

সে জানত না, আরহানকে বিশ্বাস করা উচিত কি না।

কিন্তু তার চোখে এমন একটা অসহায়ত্ব ছিল, যা মেহেরের নিজের অনুভূতির সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল।

ঠিক তখন আরহানের ফোন বেজে উঠল।

অজানা নম্বর।

আরহান কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কণ্ঠ ভেসে এল,

— তোমরা দুজন একসঙ্গে আছ, তাই না?

আরহান গম্ভীর হয়ে বলল,

— আপনি কে?

— যে সত্যিটা তোমরা খুঁজছ, সেটা তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি।

— কী চান আপনি?

লোকটি হেসে বলল,

— আজ বিকেল পাঁচটায় পুরোনো রেলস্টেশনে এসো। সঙ্গে মেহেরকেও নিয়ে আসবে।

আরহান কিছু বলার আগেই কল কেটে গেল।

মেহের সব শুনেছে।

সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— আমরা যাব।

আরহান তার দিকে তাকাল।

— জায়গাটা নিরাপদ কি না, জানি না।

— আর কত দিন ভয়ে বসে থাকব? আমি আমার অতীত জানতে চাই।

আরহান মাথা নাড়ল।

— ঠিক আছে। তবে একটা শর্ত আছে।

— কী?

— আমরা একে অপরের কাছ থেকে কিছু লুকাব না। যা-ই ঘটুক, আগে কথা বলব।

মেহের কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,

— ঠিক আছে।

কিন্তু তাদের কেউই জানত না, সেই ফোনকলের আড়ালে আরও বড় একটি ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।

পুরোনো রেলস্টেশন

বিকেল পাঁচটা।

স্টেশনটা বহুদিন ধরে প্রায় পরিত্যক্ত। ভাঙা বেঞ্চ, মরচে ধরা রেললাইন আর চারদিকে জমে থাকা শুকনো পাতার মধ্যে অদ্ভুত এক নীরবতা।

আরহান ও মেহের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।

মেহের ধীরে বলল,

— আমার একটু ভয় করছে।

আরহান তার দিকে তাকাল।

— ভয় পেলে ফিরে যেতে পারি।

মেহের মাথা নাড়ল।

— না। এত দূর এসে ফিরে যাব না।

আরহান মৃদু স্বরে বলল,

— ঠিক আছে। তবে আমার কাছাকাছি থাকবেন।

মেহের ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,

— আপনি কি আমার বডিগার্ড?

আরহান ভ্রু কুঁচকে বলল,

— আপনার মতো মানুষকে পাহারা দিতে গেলে বডিগার্ডেরও বডিগার্ড লাগবে।

মেহের অবাক হয়ে তাকাল।

— মানে?

— মানে, আপনি বিপদ দেখলে পালানোর বদলে বিপদের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

মেহের মুখ বাঁকাল।

— আর আপনি সব সময় এমন কথা বলেন, যেন পৃথিবীর সব বুদ্ধি আপনার মাথায়!

আরহান মৃদু হেসে বলল,

— সব বুদ্ধি না। কিছুটা আপনার কাছেও আছে।

মেহের হেসে ফেলল।

কয়েক মুহূর্তের জন্য তাদের চারপাশের ভয় যেন মিলিয়ে গেল।

ঠিক তখনই স্টেশনের অন্য প্রান্ত থেকে একটি কণ্ঠ শোনা গেল।

— তোমরা এসেছ, ভালো হয়েছে।

দুজনেই ঘুরে তাকাল।

কালো পোশাক পরা একজন লোক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। তার মুখের বেশির ভাগ অংশ মাস্কে ঢাকা।

আরহান সামনে এগিয়ে বলল,

— আপনিই ফোন করেছিলেন?

লোকটি মাথা নাড়ল।

— হ্যাঁ।

— আমাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে কী জানেন?

লোকটি পকেট থেকে একটা পুরোনো খাম বের করে মেহেরের হাতে দিল।

— এটা তোমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া।

মেহেরের হাত কেঁপে উঠল।

— আমার মা আপনাকে দিয়েছিলেন?

— বহু বছর আগে। তিনি বলেছিলেন, একদিন যদি তোমার সঙ্গে আরহানের দেখা হয়, তাহলে এই চিঠিটা তোমাদের দিতে।

আরহান অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

— আমার নামও তিনি জানতেন?

লোকটি উত্তর দিল না।

সে শুধু বলল,

— চিঠিটা পড়ো। তারপর বুঝবে, তোমাদের আলাদা করার পেছনে শুধু পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিল না।

মেহের তাড়াতাড়ি খাম খুলল।

ভেতরে একটি চিঠি এবং ছোট্ট একটি ছবি।

চিঠিতে লেখা—

“আমার মেহের,

যদি কোনোদিন তুই এই চিঠি পড়িস, তাহলে বুঝবি, তোর অতীতের কিছু সত্যি আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আরহানকে দোষ দেওয়ার আগে মনে রাখিস, শিশুরা বড়দের ভুলের জন্য দায়ী নয়।

তোমাদের দুজনকে আলাদা করার পেছনে যে মানুষটি ছিল, সে আজও চায় না তোমরা একে অপরের কাছে ফিরে আসো।

আর একটা কথা—যে মানুষটাকে তুই এত দিন নিজের পরিবারের বন্ধু বলে জেনেছিস, তার কাছেই হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর আছে।”

চিঠির শেষ অংশ পড়ে মেহের থেমে গেল।

আরহান তার দিকে তাকাল।

— কী হয়েছে?

মেহের ছবিটা তার হাতে দিল।

ছবিতে আরহানের বাবা ও মেহেরের মা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের মাঝখানে আরও একজন মানুষ।

ছবির সেই মানুষটিকে দেখে আরহানের মুখের রং বদলে গেল।

— এটা অসম্ভব!

মেহের অবাক হয়ে বলল,

— আপনি ওনাকে চেনেন?

আরহান ধীরে মাথা নাড়ল।

— হ্যাঁ। উনি আমাদের পরিবারের বহু বছরের বন্ধু।

মেহেরের গলা শুকিয়ে গেল।

— কে উনি?

আরহান ছবির দিকে তাকিয়ে বলল,

— মাহির চৌধুরী। আমার বাবার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

ঠিক তখনই পেছন থেকে গাড়ির শব্দ শোনা গেল।

মুখোশ পরা লোকটি দ্রুত পিছিয়ে গেল।

আরহান মেহেরের হাত ধরে বলল,

— চলুন, এখান থেকে বের হতে হবে!

কিন্তু তারা যাওয়ার আগেই দুজন লোক এসে তাদের পথ আটকে দিল।

একজন গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

— ছবিটা আমাদের হাতে দিন।

আরহান মেহেরকে নিজের পেছনে সরিয়ে বলল,

— কেন দেব?

লোকটি পকেট থেকে আরেকটি ছবি বের করল।

ছবিতে ছোট্ট আরহান ও মেহের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।

ছবির নিচে লাল কালিতে লেখা—

“যদি সত্যিটা জানতে চাও, তাহলে প্রথমে জানতে হবে—সেই রাতে কে নিখোঁজ হয়েছিল।”

মেহের ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তার শৈশবের স্মৃতিতে হঠাৎ একটা দৃশ্য ভেসে উঠল।

একটি অন্ধকার ঘর।

একজন মানুষের চিৎকার।

আর ছোট্ট আরহানের কাঁপা কণ্ঠ—

“মেহের, কাউকে বলো না! প্লিজ!”

মেহের মাথা চেপে ধরল।

— না... না... আমি মনে করতে চাই না!

আরহান দ্রুত তাকে ধরে ফেলল।

— মেহের! কী হয়েছে?

মেহের কাঁপতে কাঁপতে বলল,

— আমি কিছু মনে করতে পারছি... কিন্তু পুরোটা নয়।

ঠিক তখনই লোক দুজনের একজন ফোন বের করে কারও সঙ্গে কথা বলল।

— স্যার, ওদের স্মৃতি ফিরে আসতে শুরু করেছে।

ওপাশ থেকে ঠান্ডা কণ্ঠ ভেসে এল,

— তাহলে আর দেরি করা যাবে না। ওদের আলাদা করে দাও।

কল কেটে গেল।

আরহান ও মেহের একে অপরের দিকে তাকাল।

তারা বুঝতে পারল, তাদের অতীতের রহস্য শুধু পুরোনো কোনো ভুল বোঝাবুঝি নয়।

সেই অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একটি ঘটনা, যা কেউ প্রকাশ হতে দিতে চায় না।

আর সেই ঘটনার সাক্ষী ছিল দুটি ছোট্ট শিশু—আরহান ও মেহের।

কিন্তু সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?

কে নিখোঁজ হয়েছিল?

আর কেন তাদের স্মৃতি থেকে সেই রাতটাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল?

চলবে...!!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন