ফন্ট সাইজ:
থিম:
রানী মাধুবী

পর্ব 3

লেখক: কেয়া চৌধুরী

__সুন্দর একটি সকাল এর সূচনা _
দরজার সামনে বসে লতা বেগম ' তার মাকে পান বানিয়ে দিচ্ছে ' তখনি গেট দিয়ে' ঢুকলো, দু'টি পুরুষ ' একজন কালো পানজাবী' কাঁধে মাফরাল '! দেওয়া আরেক জন হয় তো সহকারী' লতা বেগম, তাদের দেখে, কপাল কুঁচকে নিলেন'
,,আসসালামু আলাইকুম আন্টি
,ওয়ালাইকুম আসালাম, কে তোমরা বাবা?
,কুমার টিনের ঘর টার দিকে তাকিয়ে বললো,
কুমার মাহদী জমিদার বাড়ির বড় ছেলে' গতকাল রাজশাহী থেকে আসলাম!
লতা বেগম উঠে, হাসি মুখে বললো, কোথায় যে বসতে দেই বাবা কিছু মনে করো না,
,না না আন্টি সমস্যা নেই, আমি বসবো, না বিকালে, আব্বা ইস্কুল মাঠে, চাল ডাল দিবে, আপনারা যাবেন কিন্তু!
লতা বেগম খুশি হলেন' কুচার কপাল কুঁচকে ঘর টার দিকে তাকিয়ে আছে' হয় তো কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে খুঁজছে'
তা দেখে মাধুবীর নানী চোখ ছোট ছোট করে বললো,
,কি নাতী? কারে খুঁজো?
কুমার, আমতা আমতা করে বললো, আর কেউ নেই এ বাড়িতে',
লতা বেগম বলে উঠলো, না বাবা কেউ নেই!
কুমার চলে আসতে যাবে তখনি দুচোখ গেলো, ঘরের কাঠের, জানালার দিকে'এক জোরা চোখ তাকে দেখছে ' সেদিন এর হরীণ এর মতে চোখ গুলো চিনতে কুমার এর ভুল হলো না-হ!
দুজন এর চোখে চোখ পরতেই, মাধুবী' সরে গেলো, কুমার, হতাশ হয়ে গেট পেরিয়ে চলে গেলো'
"লতু মাঝির পোলা দেহি বড় হইয়া গেছে!
,,লতা বেগম মাটিতে বসতে বসতে বললো,
হবে না বড়? দেখতেও তো হয়েচে মাসা আল্লাহ
,,একবার জদি, ওই জমিদার, এর পোলা রে তোর মাইয়া' হাগল (পাগল) করতে হারে, তাইলে আমাগো কোহাল লাগবো রে!
,,মায়ের এমন রুচি হিন কথা শুনে' লতা বেগম, শাসিয়ে বললো,
,,এই লোভ করেই তো আমায় দিলা বিয়ে এখনে এখন দেখো কত সুখে আছি আমি "
, বয়স্ক মহিলা টা দোমে গেলো, এতো সময় জানালার পাশ দিয়ে সব শুনেছে, মাধুবী' মুচকি হাসি দিয়ে, রুমের ভিতরে চলে গেলো'
_______ জমিদার' একটা রাজপ্রাসাদ এর মতো, যে কেউ দেখলে বলবে এটা রাজপ্রাসাদ! অন্দর মহলে সোফায় বসে, আছে, কুমার, সামনে, তার আব্বা মাঝি রহমান'' কাজ করছে কিছু কাগজ নিয়ে ' রান্না ঘরে বাড়ির বউ(খাশবাদী) রান্না করছে!
কুমার মাঝি, রহমান এর দিকে তাকিয়ে হুট, করেই বলে উঠলো, আব্বা আমি বিয়ে করবো'
,,মাঝি রহমান পাত্তা না দিয়ে কাজে, মন দিলেন'
সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসলো, এই বাড়ির আরেক ছেলে, আলভী '
আলভী এসেছে, কুমার এর পাশে বসলো, কুমার পাত্তা না দিয়ে আবারো বললো,
,আব্বা শুনেছাে কি বলেছি আমি
আলভী, কিছু বুঝলো, না সে বলে উঠলো :কি হয়েছে? বড় বাবা কুমার কী বলছে?
,মাঝি রহমান এবার আলভীর দিকে তাকিয়ে বললো,:ও নাকি বিয়ে করবে শুনেছিস? এটা কি সম্ভব?
,আলভী চোমকে তাকালো, কুমার এর দিকে,: তুই পাগল হয়েছিস? তুই জানিস না জমিদার বাংশের পুরুষ টা বিয়ে করে না, তাদের শুধু খাশবাদী থাকে?
,,কুমার, শান্ত কন্ঠে বললো,
,আমি সব জানি বলতে হবে না কিন্তু আমি ওরে বিয়ে করবো ' মানবো না এই নিয়ম,! আমার ওকে লাগবেই এই নিয়ম ছিন্ন করে হলেও আমি বিয়ে করবো!
,,আলভী আর মাঝি সাহেব বুঝতে পারলো, কুমার কে এখন কিছু বলে লাভ নেই' বেশি কিছু বললে যা তা হয়ে যাবে এই মূহুর্তে!
,,মাঝি সাহেব,বললো: আচ্ছা ভেবে দেখছি' শান্ত হও!
আলভী, কুমার এর কাঁধে হাত দিয়ে বললো,
:কি রে কি হয়েছে তোর বল তো?
কুমার ঠোঁটে বাঁকা হাসি এনে, মাঝি রহমান এর দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো
_________তিরিশে দিছি পা, আর কবে বিয়ে করবাম.
লেট করলে হবে দেরি, কবে ইস,টু কুলু
করবাম..💋
ঘুম আসে না, ভালো লাগে না' বেকায়াদা
ব্যারাম!
আমায় বিয়ে দাও, বিয়া দাও, বাজান!!
___ কুমার এর এমন গান শুনে, মাঝি রহমান, ভোরকে গেলেন, আলভী, ফিক' করে হেঁসে দিল!
___________বিকাল ৪ টা' রানি'পুর ইস্কুল এর মাঠে, দাঁড়িয়ে আছে, লতা বেগম আর মাধুবী, বরকা পরে, অবশ্য লতা বেগম আসতে না করেছে, কিন্তু মাধুবী' মাকে একা ছাড়বে, না! শেষ মেশ লতা বেগম নিয়ে আসলেন' মাধুবী কে!
মাঝি জমিদার ' সবার সামনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে কথা বলছেন ' আর কুমার, লোকজন কে চাল ডাল দিচ্ছে '
মাধুবীর এমন কোলাহল মানুষ এর মাঝে ভালো লাগচে, না কেমন অস্থির লাগছে, সে লতা কে বলে ইস্কুল এর পিছে, পুকুর টায় গেলো'!
এদিকে, কুমার, চাল ডাল দিচ্ছে, তখনি তার সহকারী এসে কানে ফিসফিস করে কিছু বললো, কুমার, মুখে হাসি নিয়ে, মাঝি রহমান এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, পুকুর পার এর দিকে গেলো' বরকা পরিহিতা মাধুবী কে দেখে, সে গাছের সাথে হেলান, দিয়ে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলো'
,,কিছু সময়, এভাবেই পার, হলো, কুমার, এগিয়ে গেলো, মাধুবীর দিকে' মাধবী পিছ দিয়ে বসে আচে, তাই সে দেখতে পেলো না কুমার কে!
কুমার মাধুবী কে ডাক দিলো, পুরুষালী কন্ঠে পেয়ে, মাধুবী তারাহুরো করে উঠতে গিয়ে, পা পিছলে' মাধুবী পরে গলো, পানি'তে আচমকা এমন ঘটনায়, চমকে গেলো, কুমার, কি করবে বুঝতে না পেরে, নিজেও ঝাপ দিলো পুকুরে'
মাধুবী হাউ করছে আর পানি খাচ্ছে, কুমার তার এক হাত দিয়ে, মাধুবি কে টান দিয়ে বুকের সাথে নিয়ে বসল, মাধুবীর মুখের নিকাপ' খুলে গেলো,
,,ভিজা মুখে, বন্ধ চোখে অন্য রকম সুন্দর লাগছে, কুমার ' নির্বিকার হয়ে চোখে ছোট করে তাকিয়ে রইলো' ! যেন এই মায়াবী রুপের দিকে তাকিয়ে, সারাটা জীবন সে কাটিয়ে দিতে পারবে!
,,কুমার, এর হুস আসতেই, সে, পানি থেকে উঠে, মাটিতে, শুয়ে দিলো' মেয়ে টা পানি খেয়ে, হুস হারিয়ে ফেলেছে, চোখ খুলছে, না!
এই অবস্থায় কেউ দেখলেও সমস্যা আবার এক রেখেও যেতে পারবে না কি করবে সে?
,,হঠাৎ কুমার এর মনে পরলো, সিনেমার কথা' মাথায় বুদ্ধি আসতেই, কুমার, তার দু-হাত, তুলে মাধুবীর বুকের উপরে রাখতে যাবে'
তখন তার কেমন অস্থির লাগছে, একটা মেয়ের শরীলে সে কেমনে হাত দিবে?
কিন্তু সে তো জীবন বাঁচানোর জন্য করছে তাই না?!
কুমার, তার দু-হাত রাখলো, মাধুবীর বুকের উপরে' এরপর, জোরে চাপ* দিল, তখনি, নরম কিছু লাগতেই, কুমার হাত সরিয়ে নিলো,,
কুমার এর কেমন হাস ফাঁস লাগছে, এভাবে হবে না সে পারবে না' এরপর ভাবলো অন্য ভাবে টা-ই করবে!
কুমার আশে পাশে তাকালো এখন তেমন কেউ নেই' কুমার নিজের ঠোঁট জোরা এগিয়ে নিলো'
,,মাধুবীর গোলাপের মতো, নরম, ঠোঁট জোরা, নিজের ঠোঁট, লাগিয়ে, দম বন্ধ করে নিলো' যেন পানি টা বের হয়ে আসে!
কিছু সময়, পর মাধুবী, হাত নেড়ে, উঠলো, পানি গড়'গড় করে পরলো, কুমার বিজয়ের হাসি দিলো ' কিন্তু সেই হাসি বেশি সময় টিকলো না'
দূর থেকে এক বয়স্ক লোক এসে দেখে ছিহ ছিঃ করে বললো: ছিহ দিন দুপুর বেলা নষ্টামী করে বেড়াচ্ছো তাও তুমি কুমার?
কুমার,হতভম্ব হয়ে বললেো: কি যা তা বলছেন ও পা....

লোক টি কুমার কে বলতে না দিয়ে, সবাই কে ডাকতে শুরু করলো' কুমার ভোরকে গেলো,
মাধুবী, উঠে, বসলো, নিভু নিভু চোখে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো, সে কোথায়?
সব মনে পরতেই সে পাশে তাকালো আচমকা এক পুরুষ কে দেখে মাধুবী ভয় পেয়ে উঠে পরলো!,
_______ এতো সময় হুর হুর করে মাঠের সবাই এখন চলে আসলো, লতা বেগম মাধুবী কে এই অবস্থায় দেখে দৌড়ে গিয়ে বুকে জরিয়ে নিলো,! মাধুবী মাকে দেখে, ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো!
পাশ থেকে লোকজন বলছে,: এমন নষ্টা মেয়ে কেমনে জন্ম দিলা লতা?
,,আরেক জন বলে উঠলো:আরে বুঝেন না মেয়ের মতো মা ও হয় তো করেছে এমন'
লতা বেগম, চোখ লাল করে তাকালো, লোক গুলো ভয় পেলো কিছু টা' মাধুবীর শরীল ঘি ঘি করচে' এমন কথা শুনে!
কুমার রেগে, সেই লোকটার সাটের কলার ধরে গোরজে উঠে বললো'
,,,কি বললি তুই? ম....
মাঝি সাহেব, কুমার কে চোখ দিয়ে শাসিয়ে, সবাই কে থামিয়ে বললো'
,,আপনি কি দেখেছেন? ওরা নষ্টামী করছে কি দেখেছেন আপনি?
,,বয়স্ক লোক টি বললো, : আমি দেহি কুমার ওই ছেড়ির ছিহহ বলতে ও কেমন লাগে
মাঝি সাহেব, কুমার এর দিকে তাকিয়ে, তাকিয়ে বললো, :ঠিক আছে, তাহলে, আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই' আমার ছেলে কুমার কে তো আপনারা সবাই চিনেন, আমি ওর সাথে, মাধুবীর বিবাহ দিতে চাই!
এমন কথা শুনে, আশে পাশে কানা'ঘোসা শুরু হলো, লতা বেগম কিছু বললেন না কারণ এই মূহুর্তে এটা ছাড়া অন্য উপায় নেই! মাধুবীর কানে এই কথা আসতেই, সে
চোখ তুলে তাকালো, কুমার এর দিকে, কুমার তাকিয়ে, ছিলো, মাধুবী তাকাতেই, চোখাচোখি হলো, মাধুবীর চোখ থেকে এক ফোটা পানি পরলো,
তা কুমার দেখলো!! সে হিংস্র চোখে তাকালো মাধুবী কে বাজে কথা বলা লোক টার দিকে!

চলবে)
লেখার ভুল হলে ভক্ষা করবেন! পরের পাট এর জন্য অপেক্ষা করুন! নিজের রিভিউ জানান!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন