ফন্ট সাইজ:
থিম:
রানী মাধুবী

পর্ব 4

লেখক: কেয়া চৌধুরী

_____ বর্তমান! মিরা, হাতে ডাইরী টা নিয়ে ছাঁদে যাচ্ছে, আজ মন টা ফুরপুরে! ছাঁদের, লাইট অন করে, আশে পাশে তাকালো, সঙ্গে সঙ্গে হতভম্ব হয়ে গেলো! দেওয়ালে রক্ত! লেগে আছে পাশে একটি পুরোনো পাঠের তৈরী দরী!, বুঝা যাচ্ছে কাউকে বেঁধে রেখেচিলো! কি আজব কাহিনি ২৫ বছর হয়ে গেলো তবুও এসব এখানে?

! মিরা' ছাঁদের পাশে দেওয়াল ঘেঁসে বসলো, বই টার দিকে তাকিয়ে বললো,

,, সরি রানী মাধুবী, তোমার ডাইরী টা আমি পরছি, না পরেও পারছি, না-হ আমার যে জানতে হবেই, তোমার সাথে কী হয়েছে! বলেই ডাইরী টা খুললো!

__________________________________________
রাএ,8 টা মাধুবী বসে আছে' পড়ার টেবিলে' বিছানায়, মাহি বসে পুতুল খেলছে, মেয়ে টা হাতে পায়ে, লম্বা হলেও, বাচ্চামী কমে না-ই! মাধুবী, মাহির দিক থেকে চোখ সরিয়ে, তার নিজের হাতের দিকে তাকালো, বিকালের ঘটনা মনে পরলো'

মাঝি জমিদার, কুমার আর মাধুবীর বিবাহ ঠিক করেছে' আগামী শুক্রবার! আজ বুধবার! জীবন আজ কোন পর্যায় চলে গেছে' ভাবা যায়?

___এই মাহু কি লো পরতে মন চায় না? নাকি বোনের মতো হরিগো(শশুর বাড়ি) বাড়িত যাওয়ার ইচ্ছা হইতাছে?

নানীর কন্ঠ শুনে মাহি বিরক্ত হয়ে বললো,

হে গো বুড়ি, তোমার ভাতার এর সাথে যামু!

মাধুবী ধমক দিয়ে বললো: মাহি এসব কী ভাষা?

মাহি মুখ ভোঁতা করে খেলায় মন দিলো! মাধুবীর নানী বিছানায় গিয়ে পা উঠিয়ে বসলো,

লতা বেগম দুই মেয়ের জন্য, ডিম নিয়ে আসলেন, চোখ গেলো বিছানায় বসে থাকা তার মায়ের দিকে পায়ে' এক গাধা ময়লা! লতা বেগম ভারি শ্বাস ফেলে' মাধুবীর কাছ গেলো!

মাকে দেখে মাধুবী,, ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো, এতো,সময় কান্না চেপে রেখেছিল মেয়ে টা কিন্তু জননী মাকে দেখে আর আটকাতে' পারলো না কান্না, ! লতা বেগম মাধুবীর মাথায়, হাত দিয়ে শান্তনা দিচ্ছে '

প্রিয় বোনের কান্না দেখে বিছানায় বসে মাহি ও ফুঁপিয়ে উঠলো, মাধুবীর নানাী একবার মাহির দিকে তাকাচ্ছে, আবার মাধুবীর দিকে'

,,লতা বেগম, এক হাত বাড়িয়ে দিল, মাহির দিকে, মাহি৷ দ্রুত পায়ে, নেমে, মাকে, আপা কে জরিয়ে ধরলো,,

,,আপা... আপা কেঁদো না আমার কষ্ট হচ্ছে '

মাধুবী, মায়ের বুকে মুঝ রেখে কান্না করতে করতে বললো: আম্মা ও আম্মা তুমি বিশ্বাস করো আমি কিছু করি নি তুমি ও কী আমায় ভুল ভাবছো? সবার মতো?

,,লতা বেগম এর বুক টা ফেটে যাচ্ছে, দুই মেয়ের কান্নায়!

,,,কি রে তোগো কি হইলো? এমনে কান্দিস ক্যা?

পান খেতে খেতে বললো মাধুবীর নানী'

,,লতা বেগম, দুই মেয়ের মুখে হাত দিয়ে বললো, :আমি তোদের দু'জন কে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি আমার মেয়েরা কখনো কোন বাজে কাজ করবে না! এখন কান্না থামা, যা হওয়ার তাই হবে!

,,মাধুবী ওরনা দিয়ে চোখ মুছে নিলো' লতা বেগম দু'টি ডিম দিয়ে চলে গেলেন' বাহিরে আসতেই, চোখের পানি টুকু মুছে নিলো!

______ মাধুবী মাহি লতা বেগম বিছানয় শুয়ে আছে' মাহি, এটা সেটা বলছে আর মাধুবী খিলখিল করে হাসছে'

,,লতা বেগম, উপরে তাকিয়ে, আছেন' কী ভাবছেন কে জানে??

____________ কুমার আলভী, বসে আছে' অন্দর মহল এর ভিতরে, কুমার এর মা, হাতে শরবত এর কাপ নিয়ে আসলেন! মুখে তার হাসি!

,,কুমার নে তোর শরবত!

মায়ের কন্ঠ শুনে কুমার ঘুরে তাকিয়ে, শরবত টা নিলো, কুমার এর মা মলিহা বেগম বলে উঠলো,

,,তোর চাচ্চু বললো' আগামী কালকে নাকী ওই মেয়ে কে দেখতে যেতে হবে্?

,,হ্যা,

শুনেছি৷ মাইয়া টা নাকি অনেক সুন্দর হাছা নী??

,,কুমার মায়ের কথা'র উওর না দিয়ে, চায়ের কাপ টার দিকে তাকিয়ে রইলো,, আচমকা চায়ের কাপে, সে মাধুবীর উজ্জ্বল চেহারা টা দেখতে পেলো' কুমার মুচকি হাসলো, আলভী, কুমার কে এমন হাসতে দেখে কাঁধে ঠেলা দিয়ে বলো,

_কি রে কি হলো? মাইয়া ডা যে হতো এতো সুন্দর তাহলে খা*.....

আচমকা,, কুমার, আলভীর নাকে, ঘুশি* দিলো,, আলভী ভোরকে গেলা!

মালিহা বেগম, এসব দেখেও চলে গেলেন রান্না ঘরে'

,,আলভী জোরে ঠেলা দিয়ে সরিয়ে দিলো,, কুমার কে'

,,কি সমস্যা তোর? একটা মেয়ের জন্য তুই আমায় মারলি?

,,কুমার চিৎকার করে বললো:কলা নিচে নামিয়ে, কথা বল!

,,আলভী আর কিছু না বলে, চলে গেলো, তবে চোখ দিয়ে শাসিয়ে, গেলো যেন বলে গেলো " সে দেখে নিবে!তাকে

_________ মাধুবীর ঘুম আসছে, না এক হাত, নেড়ে, লতা বেগম কে খুঁজলো কিন্তু পেলো না-হ!

মাধুবী উঠে, বসলো,, বিছানা থেকে নেনে, হারিকেন যালালো, কিন্তু তেল না থাকার কারণে বন্ধ হয়ে গেলো' মাধুবী, এটা বুঝলো যে' লতা বেগম ঘরে নেই তাহলে গেলো কোথায়?

--জুতা পরে, ওরনা নিয়ে বাহিরে আসলো, মাধুবী,এলোমেলো চুল মাথায় কাপর দেওয়া' বাহিরে, চাঁদের হাল্কা আলো এসে পরছে মাধুবীর মুখে'

তখনি, রান্না ঘর এর পিছ থেকে কারো পায়ের শব্দ এলো' মাধুবী, দেরি না করে পা টিপে টিপে, গেল' তখনি, কেউ শক্ত হেঁচকা টান,দিয়ে বেতের' ঝাড়ি টার সাথে চেপে ধরলো' মাধুবী, নিঃশ্বাস নিতে পারছে না-হ!

শক্ত হাতে মাধুবীর মুখ চেপে ধরেছে', মাধুবী' উমমমম* শব্দ করছে' মাধুবীর মুখ বেয়ে লালা', পরতেই,, শক্ত হাত টি, হঠাৎ ছেড়ে দিলো! দৌড়ে চলে গেলো!

মাধুবী গলায় হাত দিয়ে কাসতে শুরু করলো' তার কষ্ট হচ্ছে ' মাধুবী, নিজে কে, সাবাভিক করে নিলো কিছু টা'

জামা ঠিক করে, লাল হয়ে যাওয়া মুখ টা নিয়ে ঘরে আসলো'

লতা বেগম কে, দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাধুবী আচমকা গিয়ে জরিয়ে ধরলো,

লতা বেগম, অবাক হলেন মেয়ের এমন কান্ডে'

,,আম্মা আম্মা তুমি কোথায় ছিলো?? আমার কলিজা বের হয়ে যাচ্ছিলো..

,,পাগল মেয়ে আমি বাহিরে গেছিলাম',

,,মাধুবী সেই ঘটনা টা লুকিয়ে রাখলো! লতা বেগম মেয়ে কে নিয়ে শুয়ে পরলেন' মাধুবী মায়ের বুকে মুখ দিয়ে,, শুয়ে আছে! মায়ের শরীলের ঘ্রাণ টা তার ভীষণ পছন্দ ' আচ্ছা মায়ের শরীল থেকে মা মা ঘ্রাণ টা কেন আসে?? এটা কেন এতো ভালো লাগে! ঘামের গন্ধ হলেও, যেন জান্নাত এর! ফুলের ঘ্রাণ লাগে, মাধুবীর কাছে!,

_______________সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে, লতা বেগম নামাজ পরে নিলেন' মাধুবীর রাএে পেট ব্যথা হয়েছিলো' নামাজ পরা যাবে না! তাই আজ নিজেই পরে নিলেন!

উঠান ঝাড়ু দিতে যাবে তখনি, মাধুবী ঘর থেকে বের হয়ে আসলো,

,,কি রে উঠে পরলি কেন? ঘুমা আর কিছু সময়'

,,মাধুবী কল পারে, যেতে যেতে বললো, :না মা আর ঘুম আসবে না!

গ্রামে তেমন পানির কল) নেই, লতা বেগম, নিজের বুদ্ধি 'তে পাইব' দিয়ে একটা বানিয়েছে!

____ আম্মা দেও আমি ঝারু দেই, লতা বেগম দিলেন তিনি গেলেন বাড়ির পাশে ' কচু পাতা আনতে! কচু পাতা নিয়ে চিংড়ি মাছ,,রান্না করে দিলে, মাধুবী, পেট ভোরে খায়!,

--- মাধুবী ঝারু দিতে দিতে, গেট এর কাছে, চলে এসেছে' পুরুষালী, পা, দেখে, মাধুবী কপাল কুঁচকে নিলো,, সে ঝারু টা নিয়ে,, বসে ভাবতে লাগলো, পা টা কার? এখানে কেন পা?

মাধুবীর এমন কান্ডে কুমার এর হাসি পাচ্ছে! শব্দ করে হেসে দিলো,, মাধুবী, হতভম্ব হয়ে গেলো, পা আবার হাসে নাকি?

,,এই যে আমার হৃদয়ের হরিণী কষ্ট করে একটু উপরে তাকান!

,,মাধুবী তাকালো, কুমার কে দেখে চোমকে গেলো' মাধুবী তাকিয়ে রইলো, কুমার এর দিকে বুঝার চেষ্টা করছে এই বেডা এতো সকালে এখানে কি করছে?

,,কুমার, মাধুবীর মুখের দিকে, তাকিয়ে, রইলো, আচমকা চোখ গিয়ে পরলো, মাধুবীর ফর্সা গলার দিকে' ঘামে, পরছে, সেই ঘাম, জামা ভেত* করে বুকে ঢুকছে, কুমার চোখ সরিয়ে নিলো,, শুকনো ঢোক গিলে বললো,

,,,আম্মা কোথায়??

,,আম্মা?

,,কুমার, আমতা আমতা করে বললো: মানে তোমার মা?

,,মাধুবী ঝারু টা কোমরে নিয়ে দাঁড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললো, : শুধু আমার আম্মা টা আপনার না!

,, বিয়ের পর তো তোমার আম্মা কে আমার আম্মা বলে ডাকতে হবে' তাই আগে থেকেই ট্রেনিং নিচ্ছি !

,,বিয়ের কথা শুনে, মাধুবী মাথা নিচু করে ফেললো, তার লজ্জা লাগছে',, কুমার সেই লজ্জা মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো : ভিতরে যেতে দিবা না??

মাধুবী, সরে গেলো, কুমার হাসি দিয়ে ভিতরে গেলো,

,,মাধুবী ভাবতে শুরু করলো, সে কি এতো সময়, এই বেডার দিকে তাকিয়ে ছিলো?? ছিহহ কি লজ্জা, এখন নিশ্চয়ই উনি আমাকে খারাপ ভাবতে শুধু করবেন!

_____ কুমার, ঘরে গিয়ে বসলো, মাধুবী মাথায় ওরনা দিয়ে মাহি কে ডাকলো, মাহি ঘুমাচ্ছে ইচ্ছা মতো, যেন এই মূহুর্তে বোমা ফুটলেও তার ঘুম ভাঙবে না ! মাধুবী হতাশ হলো, এই মেয়ে আজ আর উঠবে না"

মাধুবী, হাতে চা বিস্কুট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যাবে কি না? শেষ মেশ ডুকলো ভিতরে ,?

,,তখনি, দরজা ঠেলে, ডুকলো, কেউ কুমার হাসি মুখে তাকালো, সঙ্গে সঙ্গে হাসি মিলিয়ে গেলো!

মাধুবীর বদলে, তার নানাী এসেছে!

,,কি গো নাতী? আর সয্য করতে পারতাছো না? সকাল সকাল আসলা?

চলবে)

লেখার ভুল হলে সরি! পরের পাট এর জন্য অপেক্ষা করুন! নিজের রিভিউ জানান!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন