hell university: রক্তের খেলা
✍️ লেখিকা: সামিয়া সুলতানা লিজা
পর্ব 4
Director-এর ঠোঁটে শান্ত হাসি।
কিন্তু তার চোখে এমন কিছু ছিল, যা দেখে নীরার শরীর কেঁপে উঠল।
পুরো করিডোর অন্ধকার।
শুধু লাল জরুরি আলো জ্বলছে।
Guardian এখনো সামিয়ার সামনে মাথা নিচু করে আছে।
Director ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।
“তোমাকে খুঁজতে আমাদের অনেক বছর লেগেছে।”
সামিয়া তার দিকে তাকিয়ে রইল।
“আমি তোমাকে চিনি না।”
Director হালকা হেসে বলল,
“তুমি এখনো মনে করতে পারছো না। এটাই স্বাভাবিক।”
“কিন্তু স্মৃতি কখনো হারিয়ে যায় না…”
“শুধু ঘুমিয়ে থাকে।”
হঠাৎ—
Director আঙুল তুলে সামিয়ার কপালের দিকে ইশারা করল।
সঙ্গে সঙ্গে সামিয়ার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো।
“আহ!”
সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
আর তখনই—
একটার পর একটা স্মৃতির ঝলক তার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল।
একটা বিশাল হলরুম।
অসংখ্য মানুষ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে।
সিংহাসনের উপর বসে আছে একটা মেয়ে।
তার চোখ লাল।
তার হাতে কালো আগুন।
আর সবাই তাকে ডাকছে—
“Princess…”
“Princess…”
“Princess…”
সামিয়া হঠাৎ চোখ খুলে ফেলল।
তার নিঃশ্বাস দ্রুত চলছে।
“না…”
“এগুলো সত্যি না…”
Director এবার প্রথমবারের মতো গম্ভীর হলো।
“সত্যি কখনো তোমার বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে না।”
ঠিক তখনই—
আয়ান সামনে এসে দাঁড়াল।
সে সামিয়া আর Director-এর মাঝখানে অবস্থান নিল।
“Enough.”
Director ভ্রু তুলল।
“তুমি আমাকে থামাবে?”
আয়ানের চোখ ঠান্ডা।
“যতক্ষণ না সে নিজে সিদ্ধান্ত নেয়।”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর Director মুচকি হাসল।
“Interesting.”
“তুমি তোমার বাবার মতোই জেদি।”
আয়ানের মুখ মুহূর্তেই বদলে গেল।
“আমার বাবার নাম মুখে আনবে না।”
চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।
নীরা বুঝতে পারল—
এদের মধ্যে পুরোনো কোনো সম্পর্ক আছে।
ঠিক তখনই—
পুরো ইউনিভার্সিটি আবার কেঁপে উঠল।
লাউডস্পিকারে আতঙ্কিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
“WARNING!”
“THE ABYSS HAS OPENED!”
“ALL STUDENTS EVACUATE IMMEDIATELY!”
Director-এর হাসি মিলিয়ে গেল।
প্রথমবার তার চোখে উদ্বেগ দেখা গেল।
দূরের অন্ধকারে বিশাল একটা ফাটল দেখা দিল।
সেই ফাটলের ভেতর কিছু নড়ছে।
কিছু একটা…
যেটা guardian-এর থেকেও ভয়ংকর।
Guardian মাথা তুলে গর্জে উঠল।
পুরো বিল্ডিং কেঁপে গেল।
Director ধীরে বলল,
“অসম্ভব…”
“ওটা এখন জাগার কথা না।”
ফাটলটা আরও বড় হতে লাগল।
ভেতর থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
আর সেই ধোঁয়ার মাঝখানে—
দুইটা বিশাল সোনালি চোখ খুলে গেল।
সবাই থেমে গেল।
নীরা ভয়ে কাঁদতে শুরু করল।
আয়ান দাঁত চেপে তাকিয়ে আছে।
Director-এর কপালে প্রথমবার ঘাম দেখা দিল।
আর সামিয়া…
সে জানে না কেন—
কিন্তু তার মনে হচ্ছে,
ওই সোনালি চোখ দুটো তাকে চিনে।
আর ঠিক তখনই—
ফাটলের ভেতর থেকে একটা গভীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
“আমি তোমাকে খুঁজছিলাম, সামিয়া…”
ফাটলের ভেতর থেকে ভেসে আসা কণ্ঠটা পুরো ইউনিভার্সিটিকে স্তব্ধ করে দিল।
“আমি তোমাকে খুঁজছিলাম, সামিয়া...”
সোনালি চোখ দুটো অন্ধকারের ভেতরে জ্বলছে।
সামিয়ার বুকের ভেতর হঠাৎ তীব্র একটা চাপ অনুভূত হলো।
যেন কোনো পুরোনো স্মৃতি জোর করে ফিরে আসতে চাইছে।
নীরা কাঁপা গলায় বলল,
“ওটা... ওটা কী?”
কেউ উত্তর দিল না।
কারণ Director, আয়ান, এমনকি Guardian-ও স্থির হয়ে গেছে।
হঠাৎ Guardian গর্জে উঠল—
“DO NOT COME CLOSER!”
ফাটলের ভেতরের কণ্ঠটা হালকা হাসল।
সেই হাসিতে পুরো বাতাস কেঁপে উঠল।
“তুমি এখনো তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছো?”
“কত বছর হয়ে গেল...”
Guardian আবার গর্জে উঠল।
কিন্তু এবার তার গর্জনের মধ্যে ভয় মিশে আছে।
সামিয়া সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারল।
তার মাথার ভেতর আবার ছবিগুলো ভেসে উঠতে লাগল।
একটা যুদ্ধ...
আগুন...
ধ্বংস হয়ে যাওয়া টাওয়ার...
আর একজন...
সোনালি চোখের একজন মানুষ।
হঠাৎ—
সামিয়া নিজের অজান্তেই বলে ফেলল,
“আরকান...”
চারপাশ এক মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
Director-এর চোখ বড় হয়ে গেল।
আয়ান অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল।
“তুমি নামটা মনে করতে পেরেছো?”
সামিয়া নিজেও অবাক।
সে জানে না কেন এই নাম তার মুখে এসেছে।
ঠিক তখনই—
ফাটলের ভেতরের কণ্ঠটা হাসল।
“অবশেষে...”
“তুমি আমাকে মনে করতে শুরু করেছো।”
ধীরে ধীরে অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা অবয়ব বেরিয়ে এলো।
লম্বা কালো পোশাক।
রূপালি চুল।
আর সেই ভয়ংকর সোনালি চোখ।
লোকটা বেরিয়ে আসতেই চারপাশের দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করল।
যেন তার উপস্থিতিই বাস্তবতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
নীরা ভয়ে পিছিয়ে গেল।
আয়ান সামনে এগিয়ে দাঁড়াল।
“এক পা-ও সামনে আসবে না।”
আরকান মুচকি হাসল।
“তুমি এখনো বেঁচে আছো দেখে অবাক হলাম।”
আয়ানের চোখ ঠান্ডা হয়ে গেল।
“দুর্ভাগ্য তোমার।”
আরকান তার দিকে আর তাকাল না।
তার পুরো মনোযোগ এখন সামিয়ার দিকে।
“তারা তোমাকে অনেক মিথ্যা বলেছে।”
“তোমার অতীত, তোমার শক্তি... সবকিছু নিয়ে।”
সামিয়া ধীরে বলল,
“তুমি কে?”
আরকানের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত এক বিষাদ ফুটে উঠল।
তারপর সে উত্তর দিল—
“আমি ছিলাম তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষ।”
“আর সেই কারণেই আমাকে তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু বানানো হয়েছে।”
Director হঠাৎ গর্জে উঠল,
“চুপ!”
এক ঝলক কালো শক্তি আরকানের দিকে ছুটে গেল।
কিন্তু আরকান শুধু হাত তুলল।
শক্তিটা মাঝ আকাশেই থেমে গেল।
তারপর ধুলোয় পরিণত হলো।
Director-এর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
“অসম্ভব...”
আরকান ধীরে ধীরে সামিয়ার দিকে হাত বাড়াল।
“এসো।”
“আমি তোমাকে সত্যিটা দেখাবো।”
সামিয়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
একদিকে Director...
অন্যদিকে আরকান...
আর মাঝখানে সে নিজে।
ঠিক তখনই—
তার হাতে থাকা লাল চিহ্নগুলো হঠাৎ জ্বলে উঠল।
মেঝেতে বিশাল একটা প্রতীক তৈরি হলো।
পুরো ইউনিভার্সিটি কেঁপে উঠল।
Guardian বিস্ময়ে ফিসফিস করল—
“The Throne...”
আরকানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
Director এক পা পিছিয়ে গেল।
কারণ তারা দুজনেই বুঝেছে—
সামিয়ার শক্তি জাগতে শুরু করেছে।
আর সেটা থামানোর ক্ষমতা হয়তো আর কারও নেই।
মেঝেতে জ্বলে ওঠা বিশাল প্রতীকটা ক্রমশ উজ্জ্বল হতে লাগল।
লাল আলো পুরো হলরুম ভরে ফেলল।
দেয়াল কাঁপছে।
ছাদ থেকে ধুলো ঝরছে।
আর সেই প্রতীকের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সামিয়া।
তার চোখ ধীরে ধীরে লাল আভায় জ্বলতে শুরু করেছে।
নীরা ভয় আর বিস্ময়ে ফিসফিস করে বলল,
“এটা... মানুষ করতে পারে?”
কেউ উত্তর দিল না।
কারণ সবাই সামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ—
প্রতীকের মাঝখান থেকে আলোর স্তম্ভ উঠে গেল আকাশের দিকে।
সেই আলোর ভেতর ভেসে উঠল অসংখ্য ছবি।
অতীতের টুকরো টুকরো স্মৃতি।
সামিয়া দেখতে পেল—
একটা বিশাল সিংহাসন।
সেই সিংহাসনের সামনে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে।
আর সিংহাসনে বসে আছে—
সে নিজেই।
তবে এই সামিয়া আলাদা।
তার চোখে কোনো দ্বিধা নেই।
কোনো ভয় নেই।
শুধু ক্ষমতা।
হঠাৎ সেই স্মৃতির সামিয়া মাথা তুলে তাকাল।
সরাসরি বর্তমানের সামিয়ার দিকে।
তারপর বলল—
“কতদিন আর পালাবে?”
সামিয়া কেঁপে উঠল।
“তুমি... কে?”
স্মৃতির সামিয়া হালকা হাসল।
“আমি তুমি।”
“যাকে তুমি ভুলে যেতে চেয়েছিলে।”
চারপাশের দৃশ্য আবার বদলে গেল।
এবার সে দেখল—
একটা ভয়ংকর যুদ্ধ।
আকাশ আগুনে লাল।
মাটি ধ্বংসস্তূপে ভরা।
Guardian লড়ছে।
আরকান লড়ছে।
অনেক মানুষ লড়ছে।
কিন্তু তারা একে অপরের বিরুদ্ধে না।
তারা সবাই একই শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
সামিয়া বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
“তাহলে...?”
ঠিক তখনই দৃশ্যটা ভেঙে গেল।
সে আবার বাস্তবে ফিরে এলো।
হাঁপাতে হাঁপাতে চারপাশে তাকাল।
Director-এর মুখ শক্ত।
আরকান চুপ।
আয়ান গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সামিয়া ধীরে বলল,
“তোমরা আমাকে পুরো সত্যি বলোনি।”
Director কিছু বলল না।
এটাই তার উত্তর।
আরকান মৃদু হাসল।
“আমি বলেছিলাম।”
“তারা তোমার কাছ থেকে সত্যিটা লুকিয়েছে।”
ঠিক তখনই—
পুরো ইউনিভার্সিটিতে আবার সাইরেন বেজে উঠল।
কিন্তু এবার শব্দটা আগের চেয়ে অনেক ভয়ংকর।
লাউডস্পিকার থেকে কাঁপা কণ্ঠ ভেসে এলো—
“CRITICAL WARNING!”
“THE VOID GATE IS OPENING!”
Director-এর চোখ বড় হয়ে গেল।
“না... এখন না!”
হঠাৎ দূরের দেয়াল বিস্ফোরণের মতো ভেঙে পড়ল।
কালো ঝড়ের মতো কিছু একটা ভেতরে ঢুকতে শুরু করল।
যেদিকে যাচ্ছে—
সেখানকার সবকিছু অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
দেয়াল।
মেঝে।
আলো।
সব।
যেন অস্তিত্বই মুছে যাচ্ছে।
নীরা আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল।
“ওটা কী?!”
Guardian গম্ভীর গলায় বলল—
“The Void.”
“যে শক্তির কারণে প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।”
সামিয়ার বুকের ভেতর হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হলো।
আরও একটা স্মৃতি ফিরে এলো।
সে দেখল—
বহু বছর আগে,
এই একই Void-এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে।
আর তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরকান।
দুজন একসাথে লড়ছে।
স্মৃতিটা মিলিয়ে যেতেই সামিয়া অবাক চোখে আরকানের দিকে তাকাল।
আরকানও তার দিকে তাকিয়ে আছে।
তার চোখে প্রথমবার আশার ঝলক।
“তুমি মনে করতে শুরু করেছো।”
Void-এর কালো ঝড় দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
Director দাঁত চেপে বলল,
“আর সময় নেই।”
“যদি Void পুরোপুরি জেগে ওঠে, তাহলে শুধু Hell University না... সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সামিয়া ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল।
তার চারপাশে লাল আলো ঘুরতে শুরু করল।
তার চোখে এখন আর শুধু বিস্ময় নেই।
একটা সিদ্ধান্তও আছে।
কারণ সে বুঝতে শুরু করেছে—
সে এখানে দুর্ঘটনাবশত আসেনি।
কেউ তাকে ডেকেছে।
আর সেই ডাকের পেছনে আছে এমন এক সত্য,
যা পুরো Hell University-র ইতিহাস বদলে দিতে পারে।
চলবে...