একা একাই হেঁটে যাচ্ছে মেঘ, পেছন থেকে ক্লাসমেট সোহান এসে সঙ্গ দিলো। ঠিক সেই মুহূর্তে, বর্ষণের বাইক হঠাৎ থেমে গেলো, দূর থেকে যেনো লক্ষ্য করছে মেঘকে। হেলমেট খুলে রক্তাভ চোখে সরাসরি তাকালো সে; একমুহুর্ত তাকিয়েই আবার হেলমেট পরে বাইক নিয়ে এগোলো।
মেঘের জন্য সেই একমুহুর্ত তাকানোটাই যথেষ্ট, রাস্তার প্রতিটি পদক্ষেপে সোহানের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনই অনুভব হলো না। মন যেনো অবচেতনভাবে বার বার সেই মুহূর্তে ফিরে যায়; বাইকের দূরত্ব, হেলমেটের নিচে লুকানো চোখের তীব্রতা।
কলেজের ভেতর ঢুকতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো।
শুভ্রা ডেস্কে বেখেয়ালি হয়ে পা দুলিয়ে বসে আছে।
মেঘ কাছে এসে বসে জিজ্ঞেস করল,
-কি হয়েছে?
-তুহিন ছেলেটাকে আজ দেখতে পাচ্ছি না!
অনামিকা ফিক করে হেসে বললো,
- এদিকে বেচারাকে পাত্তা দিস না, আবার সে কলেজে এলো কি এলো না সেই খবরও রাখিস। কেসটা কি বল তো?
-কেসটা কি সেটা পরে। শুনলাম, কলেজ থেকে চারটে বাসে সবাই ট্যুরে যাচ্ছে। (রুবা)
-কি বলিস? আমি তো এমন কিছু শুনিনি! (মেঘ)
-কেনো, মেঘ, তুই যাবি নাকি? (তাহিয়া)
-সবাই যাবো। রুবা তোর বয়ফ্রেন্ড সাদাফও কী যাবে? (মেঘ)
-সে-ই তো খবর দিয়েছে। (রুবা)
-বর্ষণ ভাই যাবে? (মেঘ)
-কলেজের সকল স্যার-ম্যাম যাবেন। (রুবা)
মুহূর্তের মধ্যে মেঘের মুখে উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়লো।
ঠিক সেই মুহুর্তে তুহিনকে খুড়িয়ে খুড়িয়ে কলেজ গেটের ভেতরে আসতে দেখে অনামিকা চেঁচিয়ে বললো,
-কেউ শুভ্রাপাখিকে খবর দে, তার তুহিন প্রেমিক এসেছে!
শুভ্রা হাতের ইশারায় তাকে চুপ করতে বলল।
তুহিন সরাসরি এসে শুভ্রার সামনে দাঁড়ালো, এক হাতে অর্ধভাঙা ঘুড়ি, অন্য হাত দিয়ে পকেট থেকে বের করলো একটি চিঠি।
ঘুড়ি দেখেই শুভ্রা চিনে ফেললো, এটাই তার গতরাত্রে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া ঘুড়ি।
শুভ্রা কিছু বলার আগেই তুহিন ব্যাখ্যা করতে লাগলো,
- তোমার এলাকায় মানুষ এতো ছ্যাঁচোড় কেন? রোজ দেখি শুভ্রাপাখি রাতের আঁধারে ঘুড়ি উড়িয়ে দেয়। গতরাতে ঠিক করলাম, শুভ্রাপাখির ঘুড়ি নিয়ে আজ আমি উড়াল দেব। তুমি ঘুড়ির সুতো কেটে দিলে, ঘুড়ি ভাসতে লাগলো, আর পিছু পিছু আমিও।
ঘুড়িটা নিচে না নেমে গাছের ডালে আটকে গেলো। আমি গাছে উঠে নামাতে গেলাম, পাবলিক আমাকে নামালো, তাও আবার চোর অপবাদ দিয়ে।
শুভ্রা হাসি ধরে রাখতে পারলো না।
-জামাই আদরের পরিমাণ কি খুব বেশি হয়ে গিয়েছিলো? (তাহিয়া)
-সে কি আর বলতে শ্যালিকা? আমাকে দেখেই কি বুঝতে পারছো না! (তুহিন)
একমুহূর্ত থেমে তুহিন বলল,
- তোমার মনে এতো কষ্ট শুভ্রা?
তুহিনের প্রশ্নে শুভ্রা থতমত খেয়ে গেলো।
-আ, আপনি ক্লাসে যান, স্যার দেখলে সমস্যা হবে। (শুভ্রা)
- তাহলে বাইরে দেখা করি? (তুহিন)
-বললাম তো, এখন না। (শুভ্রা)
- ঠিক আছে। বলেই ঠোঁট উল্টিয়ে নিজ ক্লাসরুমের দিকে এগিয়ে গেলো তুহিন।
আজ আর ক্লাস হলো না। ক্লাসরুমে শুধু লিস্ট চললো, কে কে যাবে, কতক্ষণ থাকবে, এসব নিয়েই।
কলেজের বড় বড় ভাইবোনেরাও এই সফরে যাচ্ছেন।
হাতে সময় মাত্র দুই দিন, তাই বাড়ি ফিরে সব প্রস্তুতি সুনির্মাণ করতে হবে। আজ নিজের বইপত্র শুভ্রাকে দিয়ে মেঘ আদেশের স্বরে বললো, বইগুলো সাবধানে নিবি আবার কাল ফেরত নিয়ে আসবি।
শুভ্রা ভ্রু নাচিয়ে বললো,
-তুই কি করবি?
মেঘ বাঁকা হেসে উত্তর দিলো,
- আজ মেঘ বৃষ্টি বিলাস করবে।
সত্যি সত্যি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝুম বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা গায়ে মেখে উপভোগ করছে মেঘ।
হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো,
-ওহে বৃষ্টি, শুনছো? মেঘের বর্ষণ আসছে! মেঘের জীবনে জড়িয়ে থাকা একমাত্র সুপুরুষ।
রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েই বৃষ্টি বিলাস করছে মেঘ।আজ সে বড্ড খুশি, অকারণেই, অপ্রকাশিত আনন্দে বুকটা উড়ে যাচ্ছে।
পেছন থেকে বর্ষণের স্বর ভেসে এলো,
-এখানে কি করছিস?
-বৃষ্টি বিলাস।
-এটা রাস্তা, বৃষ্টি বিলাসের জায়গা নয়।
-জানি তো আমি।
-ঠান্ডা লাগবে মেঘ।
-তোমার সামনে দাঁড়িয়ে দু দন্ড কথাও বলা যায় না। একটা কথা জানার ছিলো, জিজ্ঞেস করব?
-বল, কি বলবি?
-গতকাল জুম্মার নামাজে কি চাইলে তুমি?
-তোকে। তোর সুন্দর ফুটফুটে সংসার হোক। বেয়াদব যা বাড়ি যা।
প্রথম কথায় মেঘের ভেতর অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করলেও সেই ভালো লাগা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বর্ষণের শেষের কথায় কপাল কুঁচকে মাথা নিচু করে বাড়ির পথ ধরলো সে।
রুবার বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু সুমি বেগম রাজি নন। বাবা হারানো মেয়েটিকে একা হাতে মানুষ করেছেন তিনি। ঘরে যখন খাবার ছিল না, কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি, কেউ একটু চাল দেয়নি।
এক মেয়ে নিয়ে সমাজের চোখে তিনি কম কলঙ্কিত হননি। লোকের কথায়, নারীর পাপ বেশি হলে অকালেই স্বামী হারায়, ভাগ্যের লিখনও কেউ মানতে চায় না।
তারপর একের পর এক কুপ্রস্তাব আসতে থাকলেও, তিনি একমাত্র মেয়েকে বুকে আগলে আজও বেঁচে আছেন। এখন তার একটাই উদ্দেশ্য, মেয়ে পড়ালেখা করে ভালো কিছু করবে, সমাজের কুনজর থেকে সুরক্ষিত থাকবে, আর ভালো একটা বাড়িতে বিয়ে হবে।
বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে মেঘ।
বৃষ্টিতে ভেজার সেই স্নিগ্ধ ঠান্ডা শরীরে লেগেছে, যেনো হৃদয়টাও প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে। রাজিয়া আহমেদ মেঘের জন্য গরম গরম রঙ চা নিয়ে এসেছেন।
কিন্তু মেঘ কি এসব খাওয়ার পাত্রী? মরে গেলেও এই রঙ চা সে খাবে না।
অবশেষে মেয়ের কাছে হার মানলেন রাজিয়া আহমেদ।
মেঘ মিনমিন গলায় বললো,
-কলেজ থেকে আগামী পরশু সবাই ট্যুরে যাচ্ছে। আমিও যাবো।
-না, তোমার যাওয়ার দরকার নেই।
-কেনো, আম্মু?
-দেখো মেঘ, তুমি জানো তোমার চাচার সাথে তোমার বাবার সম্পর্ক ভালো নয়। সেই রেস ধরে বর্ষণ যদি তোমার কোনো ক্ষতি করে?
-আম্মু, আমি একা নই। চারটে বাস যাচ্ছে, বুঝছো? কত স্টুডেন্ট যাবে ওখানে। আর বর্ষণ ভাই তো আমার সাথে কথা-ই বলে না কখনো।
-বলার দরকারও নেই।
-আম্মু, আমি যাবো। প্লিজ না করো না, সবাই যাচ্ছে।
-আচ্ছা, তোমার আব্বুর সাথে কথা বলে দেখছি।
মেঘ স্থির হয়ে বসে নাড়লো। মনে মনে ভেবেই রেখেছে, যাই হয়ে যাক না কেনো সে ট্যুরে যাবেই।
আনমনে ব্যালকনিতে বসে আছে বর্ষণ, চায়ের কাপ ঘুরাতে ঘুরাতে বন্ধুর কাছে ফোন দিলো।
- হ্যালো বর্ষণ।
- হুম, কি অবস্থা তোর?
- তোর কি অবস্থা সেটা বল, আজকাল তো তোকে দেখা-ই যায় না।
- ওই, একটু চাপের মধ্যে আছি।
- কেনো, কি হলো আবার?
- তেমন কিছু না।
- তোর বাবা চাচার ঝামেলা কি এখনো লেগে আছে?
- হুম, এসব ছাড়। রাখছি আমি, ভালো থাক। সময় সুযোগ করে কাল একবার দেখা হবে।
কল কেটে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল বর্ষণ। রুমে ফিরে লাগেজে জামা-কাপড় গোছাতে লাগলো সে। লাগেজ গোছাতে গোছাতে হাত গিয়ে ঠেকলো ড্রয়ারে, অতঃপর ছুঁয়ে দেখলো সেই বন্ধ ড্রয়ারটি, যে ড্রয়ার আজ অব্দি কাউকে খুলতে দেয়নি বর্ষণ। সবার চোখের সামনে থাকলেও, এই ড্রয়ারের রহস্য আজও কেউ জানতে পারেনি, আর নাতো সাহস করে কেউ কখনো খুলে দেখতে চেয়েছে। ড্রয়ারটা খুলে সে ধীরে ধীরে ভেতরের সবকিছু নেড়েচেড়ে দেখলো। তারপর ড্রয়ার লাগিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘর থেকে বের হলো বর্ষণ। মনে হলো, জীবনের সেই গোপনীয়তা এখনও তার সঙ্গেই আছে।
ফয়সাল চৌধুরীর কথা মেঘের মাথায় এসে বারবার বাজছে, “মেঘ ট্যুরে যাবে না, ওখানে বর্ষণ আছে, মানে মেঘ যাওয়ার প্রশ্ন-ই আসে না।”
মেঘ কেঁদে একাকার, সকলে যাচ্ছে কিন্তু সে কেনো যাবে না, এই প্রশ্ন ভেতরে ভেতরে তাকে চূর্ণ করে দিচ্ছে।
রাজিয়া আহমেদ ধীরে বললেন,
- এক কথা কতবার বলবো মেঘ?
রাজিয়া আহমেদের ধমকে মেঘ চুপ হয়ে গেলেও রাগে রাতের খাবার তো দূরে থাক একফোঁটা পানিও মুখে তুললো না। রাজিয়া আহমেদ অনেক ডেকেছেন, কিন্তু মেয়ে কোনো উত্তর দেনি। অবশেষে হাল ছেড়ে বললেন,
- আমিও দেখবো কতক্ষণ না খেয়ে থাকিস। যখন খিদে লাগবে, ঠিকই খাবি।
মেঘ চুপচাপ বসে আছে, চোখে অশ্রু জমেছে কিন্তু মুখে কোনো কথা নেই।
সকালে ঘুম থেকে উঠেও আজ মেঘ কিছুই খায়নি।
না খেয়েই কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো। ক্ষুধার জ্বালা মেঘ কখনোই সহ্য করতে পারে না, এটা সকলেই জানে। তাই রাজিয়া আহমেদ জোর করে কিছু খেতে বলেননি, তিনি জানেন, যদি এখন মেঘকে খেতে বলেন, মেয়ে ট্যুরে যাওয়ার অনুমতি চাইবে, তারচেয়ে এভাবেই থাকুক যখন খিদে পাবে তখন খাবে।
পথে হাঁটতে হাঁটতে মেঘের পেট যেন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে, বুকের ভেতর চিনচিন ব্যথা দাগ কাটছে। না খেলে তার বুকের ভেতর ব্যথা একটানা বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণত খাবার খাওয়ার এক ঘন্টার পর চলে যায়। আজও ব্যতিক্রম হয়নি, ব্যথার তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। কলেজে পৌঁছেও মেঘ কারো সঙ্গে কথা বলছে না। ভীষণ চুপচাপ, যেনো নীরবতার ঢাকনা দিয়ে নিজের কষ্টকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে। অনামিকা, রুবা, তাহিয়া, জ্যোতি সকলেই প্রশ্ন করছে, কিন্তু মেঘের একটাই উত্তর, ‘কিছু না।’
বর্ষণ এসে ক্লাস শুরু করাতে লাগলো। চোখ বার বার মেঘের দিকে যাচ্ছে। মেঘ পুরো ক্লাস টাইম ব্যাগের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছে।
- মেঘ?
- জ্বি স্যার।
- আর ইউ ওকে?
- ইয়েস।
- তাহলে এভাবে শুয়ে আছো কেনো?
- এমনি।
- এটা ক্লাস করার জায়গা, ঘুমানোর নয়। মাথা সোজা করে বসে পড়ায় মন দাও।
মেঘ ধীরে ধীরে মাথা তুলে বসলো। পুরোটা ক্লাস সে চুপচাপই ছিলো, বর্ষণ বার কয়েক বাইট্টা বলে ডাকলেও মেঘের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নি।
ক্লাস শেষে, কলেজ ছুটির সময় মেঘ হঠাৎই মাথা ঘোরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। প্রিন্সিপাল দ্রুত বর্ষণকে ডেকে বললেন,
- তোমার বোন বোধহয় অসুস্থ, জ্ঞান হারিয়েছে। সবাই তাকে হলরুমে নিয়ে গেছে।
বর্ষণ তড়িঘড়ি করে ফার্স্ট হল রুমের দিকে এগোলো।ইতিমধ্যে শুভ্রা ও অনামিকা পানি ছিটিয়ে মেঘের জ্ঞান ফিরিয়ে দিয়েছেন। মেঘ ধীরে ধীরে চোখ খুললো, চারপাশের আলো আর শব্দে নিজেকে সচেতন করতে লাগলো।
বর্ষণ গিয়ে মেঘের পাশে বসলো। মেঘের মাথা তার উরুর উপর রাখলো, যেনো তাকে নিজের বুকে আবদ্ধ করতে চায়।
- কি হয়েছে মেঘ?
- কিছু না।
বর্ষণ চোখে কঠোর রাগের রেখা নিয়ে বললো,
- তখনও আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। এই একই উত্তর দিয়েছিস ‘কিছু না’। তাহলে এবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছিস কেন?
শুভ্রা সবাইকে সতর্ক করে বললো,
- এখানে ঝামেলা করো না, হলরুম খালি করো। তাকে ডিস্টার্ব করা চলবে না, চলো সবাই বাইরে।
বলেই সবাইকে নিয়ে বাইরে চলে গেলো শুভ্রা।
প্রিন্সিপাল মেঘের অবস্থা জানতে চাইলেন। শুভ্রা মৃদু স্বরে বললো,
- বর্ষণ স্যার দেখছেন ব্যাপারটা।
বর্ষণ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো, তারপর মেঘের দিকে ঘুরে তার ছোট হাতটি শক্ত করে ধরে বললো,
- তুই না খেয়ে আছিস তাই তো?
- হুম।
- কারণ?
- তুমি ট্যুরে যাচ্ছো তাই আমাকে যেতে দিচ্ছে না।
বর্ষণ খুব গম্ভীর গলায় বলল,
- ছোট্ট একটা কারণ নিয়ে এইভাবে না খেয়ে থাকতে হবে? ইচ্ছে করছে থাপড়ে প্রত্যেকটা দাঁত নিচে ফেলে দেই।
মেঘ একেবারে স্থবির হয়ে গেলো, চোখে বিস্ময় আর ভয়। তবে বর্ষণের চোখের কোণে লুকানো স্নেহটাও দেখতে পায় সে।
বর্ষণ হালকা নিশ্বাস নিয়ে বললো,
- ঠিক আছে, আমি ট্যুরে যাবো না। ছোট চাচ্চুকে বলে দিস, উনি বুঝবে।
মেঘ কিছুটা অবাক হয়ে বললো,
- তুমি না গেলে, আমিও যাবো না বর্ষণ ভাই। আমার জন্য তুমি এই আনন্দ থেকে বাদ যাবে কেন?
বর্ষণ মেঘের কথাটা এড়িয়ে গেলো,
- দাঁড়াস, আমি আসছি।
বলেই মেঘের চুল টেনে দিয়ে মৃদু হেসে বাইরে বেরিয়ে লাবিবকে বললো ক্যান্টিন থেকে কিছু খাবার এনে দিতে।
কিছুক্ষণ পর খাবার নিয়ে ফিরে এলো বর্ষণ। নিজ হাতে ধীরে ধীরে মেঘকে খাওয়াতে লাগলো। প্রতিটি কামড় তাড়াহুড়ো না করে, ধীরে যত্নে খাওয়াতে লাগলো।
মেঘের দৃষ্টি বর্ষণের দিকেই নিবদ্ধ।
“বর্ষণ রাগে চোখ চওড়ে তাকিয়ে বললো”
-আর যদি এইভাবে না খেয়ে থাকিস, মনে রাখিস, আমি অন্য ছেলেমানুষের মতো ঠেলাঠেলি করব না, থাপড়ে প্রত্যেকটি দাঁত নিজের হাতে তুলে ফেলবো!
মেঘ মাথা নিচু করে বসে আছে। বর্ষণ শুভ্রা, অনামিকা, তাহিয়া আর জ্যোতিকে ডেকে গলায় বললো,
-যাও, মেঘকে বাড়ি দিয়ে এসো। আর শোনো, ছোট চাচ্চুকে বুঝিয়ে বলবে, আমরা সকলে মিলে যাচ্ছি, মেঘের দায়িত্ব আমাদের সবার। বর্ষণ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
শেষের কথাগুলো মেঘের দিকে তাকিয়েই বললো। তার গলাটা কেমন ধরে আসছিলো।
শুভ্রা মাথা নিচু করে সম্মতি জানালো।
মেঘকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরলো জ্যোতি, অনামিকা, তাহিয়া আর শুভ্রা। যেতে যেতে শুভ্রা দুষ্টুমি ভরা কণ্ঠে ফিসফিস করে বললো,
-দেখলি মেঘ, আমি কেমন বুদ্ধি খাটালাম! সবাইকে বাইরে নিয়ে গিয়ে স্যারকে কেমন তোর কাছে আসার সুযোগ করে দিলাম।
জ্যোতি হেসে বললো,
-ভালোই যখন বাসিস, তখন সরাসরি বলে দিচ্ছিস না কেনো মেঘ?
মেঘ থমকে গিয়ে নরম গলায় বললো,
-আমার ভয় হয়… যদি বর্ষণ ভাই এসব শুনে আমার থেকে দূরে সরে যায়, আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আমি কী করবো? বড় আব্বুর সাথে আমার আব্বু যা করেছে, আমি জানি সেটা অন্যায় ছিলো। সেই ক্ষোভ যদি এখনো বর্ষণ ভাইয়ের মনে থেকে যায়…?
শুভ্রা তার কাঁধে হাত রেখে ধীরে বললো,
-ওরকম কিছু না মেঘ। আমার মনে হয় না স্যার সেই পুরোনো ক্ষোভ নিয়ে বসে আছে। নাহলে তোকে নিয়ে এতটা চিন্তা করতো না, তোকে ঘিরে প্রতিটি জিনিসে এমন নজরদারি রাখতো না।
তাহিয়া মুচকি হেসে যোগ করলো,
-সত্যি বলছি, তার চোখে আমি যা দেখেছি সেটা রাগ নয়, বরং তোর প্রতি অদ্ভুত এক টান, মায়া, ভালোবাসা।
মেঘের বর্ষণ
আরেব্বা চৌধুরী
পর্ব ০২
পর্ব 2
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান