মিমি খাবার খেয়ে উপরে চলে যায় তবে বাসা এতো শান্ত দেখে অবাক হলো বটে। কিন্তু কিছু বলে নি। ***************
রাত প্রায় ৮:৪০ নাগাদ মাহদি ও সাদিক বাসায় ফিরলো।
তারা সোজা নিজেদের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিছে নামে। ততক্ষণে মিমি বাদে সবাই খাবার টেবিলে চলে এসেছে। মাহদি চেয়ার টেনে বসতে বসতে মুনা বেগমের উদ্দেশ্য বলে
" কি ব্যাপার আম্মু মিমি খাবে না "
এ কথা উওর আমিনা বেগম করলেন
" ওতো সন্ধ্যাী সময় এসে খেয়ে গেলো বললো খুদা লাগছে এখন আর খাবে না মনে হয় "
মাহদি " ওহ্ " খাওয়া মনযোগ দিলো।
তখন মুছতাকিন চৌধুরী গলা খাকারি দিয়ে সবার মনযোগ এদিকে ফেরালেন।
তিনি রাশভারি সরে বললেন
"তা USA তুমার পড়াশোনা কেমন কাটলো এখন কি করবে ভাবচো"
মাহদিসহ সবাই ওনার কথা মনযোগ দিয়ে শুনলেন।
ওনার কথা শেসে মাহাদি শান্ত সরে বলে
" হ্যাঁ আব্বু USA ভালোই কেটেছে দিন গুলা আর কথা হচ্চে গিয়ে এখন নিজের একটা বিজনেস দাড় করাবো ভাবছি আপনি কি বলেন "
মুছতাকিন চৌধুরী এবার অতন্ত শান্ত সরে বললেন
"আমি আবার কি বলবো তুমার নিজে বিজনেস দাড় করাতে চাচ্ছো এটাতো ভালো কথা কিন্তু আমাদের কােম্পানির কি হবে "
"কিচ্ছু হবে না আব্বু সেকানে সাদিকওতো আছে আর বেশি প্রয়োজন হলে নাহয় আমি গিয়ে দেকে আসবো বা সব কিছু সামলে আসবো "
মুছতাকিন চৌধুরী এবার আর কিছু বলতে পারলেন নাহ। শুধু একটা কথাই বললেন
" তুমার যা ভালো মনে হয় করো তুমি এখন বড়ো হয়েছো তুমার মতামতেরও সম্পুর্ণ গুরুত্ব আছে "
মাহদি মুচকি হাসি দিয়ে বলে
"ধন্যবাদ আব্বু"
বিনিময়ে মুছতাকিন চৌধুরীও একটুকরো হাসি উপহার দিলেন।
খাবার টেবিলে সবাই স্থির নিশ্বাস ফেললো কারন মুছতাকিন চৌধুরীর মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারে না। আর মাহদি তার কথায় ওনড় সে যা ঠিক মনে করবে তাই ঠিক। আর সেখানে তো বাপ আর ছেলের ইচ্ছে নিয়ে কথা উঠে ছিলো মাহদি সবটা এতো সুন্দর করে সমলাবে তা সবাই ভাবতে পারে নি তবে সবাই ভিষণ খুশি হয়েছে।
সবাই খাবার খেয়ে যে যার মতো রুমে চলে গেলো।
************
পুরো নগর ঘুমে তলিয়ে তাকলেও ঘুম নেই মিমির চোখে সে গিটার নিয়ে ছাদে বসে বসে দুপুরের কথা ভাবছে।
সে ভাবছে:
" মাহদি ভাইয়া কত হ্যান্ডসাম তাই না ইস ওই রকম এক জন যদি আমার শখের মানুষ হতো "
নিজের ভাবনায় নিজেই লজ্জায় পড়ে যায় মিমি।
সে দুহাতে নিজের মুখ আড়াল করে নেয়। তখন সে বিরবির করে বলে
" আমি কি প্রেমেটেমে পরলাম নাকি"
বলতেই মিমি চোখ বড় বড় করে পেলে তারপর নিজেই চিল্লিয়ে বলে উঠে
" নাআআআআআআ সামনে HSC পরিক্ষা এখন এসব নিয়ে ভাবলে চলবে নাহ "
মিমি নিজের মাথায় নিজে চাটিমেরে ছাদ থেকে নেমে নিজের রুমে চলে যায়। কিন্তু এসবের মাঝে বেচারি মিমি খেয়ালো করলো নাহ যা ছাদ এক কোনায় অন্ধকারের মধ্যে তার এসব কর্ম কান্ড কেউ লক্ষ করেছে আর নিজ মনে হেসে।
*****************
" আম্মু আম্মু ওয় আম্মু কই এদিকে আসো "
সকাল সকাল মিমি এতো চেচানোতে মাহবুবা বেগম এবার রেগে রন্না ঘর থেকে কুন্তি হাতে নিয়ে মিমি ঘরের দিখে হাটা দরেন তার ঘরে গিয়ে মাহবুবা বেগম
রাগে গজগজ করতে করতে বললেন
" কি রে তর কি কান্ড জ্ঞান নেই এতো সকাল সকাল চেচাচ্ছিশ কেনো "
মিমি এবার কাদু কাদু কন্ঠে বলে
" আম্মু আমার নোট বুক খুজে পাচ্চি ওটা না নিয়ে গেলে স্যার নিশ্চিত আমায় কান ধরে দার করাবে ও আম্মু খুজে দাও না "
মাহবুবা এবার আরো রেগে গেলেন
" তর বই আমি কি করে খুজবো "
"প্লিজ আম্মু"
মাহবুবা বেগম এবার অনেক কষ্ট করে খুজে বের করেন মিমির নোট বুক। খাতাটা মিমি হাতে দিয়ে তিনি দাতঁ কিরমির করতে করতে বললেন
" ফারদার এমন ভুল আর করেচস নিজে বই খাতা গুছিয়ে না রেখে তখন দেখবি তর একদিন কি তো আমার যতো দিন লাগে "
বলে মাহবুবা বেগম চলে যান।
মিমি ব্যাগ কাধে নিয়ে রুম থেকে বের হয় তখনি মাহদিও বের হয়। মিমি ও মাহদির রুম পাশাপাশি হওয়ায় মিমি মাহদির সাথে ধাক্কা খেয়ে মেঝেতে পড়ে যায় তখন মিমি আর্দনাত করতে থাকে
" হায় আল্লাহ আমার কমোর গেলো গেলো গেলো গো আমার কমোরটা গেলো আম্মুগো "
" তর এই মরা কন্না শেষ হলে এবার উঠ নাকি এখানেই পড়ে তাকবি"
বলে মাহদি হাত বাড়িয়ে দিলে মিমি হাত না দরে উঠতে যাবে ঠিক আবার পড়বে পড়বে ভাব তখনি মাহদি এক হাতে তার কমোর অন্য হাতে মিমির এক হাত চেপে দড়ে। দুজনের দৃষ্টি মিলিত এই সুযোগে।
কেউ কারো চোখ থেকে চোখ সরায় নাহ তখনি মুনা বেগম হায় হায় করে আসেন। তার কন্ট সুনে দুজনেই স্বাভাবিক হয়। মুনা বেগম মিমির হাত ধরে বলেন "কিরে মিমি কোথাও লেগেছে কোতায় লেগেচে বল আমাকে"
মিমি জোর পূর্বক হাসি দিয়ে বলে
"না মামুনি তেমন কিছু নাহ ওই কমোরে একটু লেগেচে ঠিক হয়ে যাবে "
ততক্ষণে বাড়ির সবাি এসে জরো হয়েচে বারান্ধায়। মিমির একটু অসস্তি হয় সে কোনো রকমে বলে
" আমি একন আসি হ্যাঁ আজ একটা ক্লাস পরিক্ষা আছে সবাই দুয়া করবেন "
সবাইকে একসাথে সালাম করে মিমি কোনো রকমে বেড়িয়ে আসে কিন্তু তখন মাহদি পেচন থেকে বলে উঠে
" নাস্তা না খেয়ে এক পাও বাড়ির বাইরে ফেলবি নাহ নিইলে থাপ্পর একটাও মিস হবে নাহ "
মিমি ভয়ে ভয়ে খাবার টেবিলে এসে বসে। কোনো রকমে একটা রুটু আর একটু বাজি খেয়ে উঠে বেড়িয়ে পড়ে বাহিরে এসে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে যেনো সে হাফ ছেরে বেচেছে।
মিমি গারিতে উঠে কলেজের দিকে রওনা হয় তারপরপর মাহদিও বেড়িয়ে পড়ে
****************
#চলবে
আপনাদের এই উপন্যাসটা পড়ে ভালো লাগলে প্লিজ কমেন্ট করবেন আপনারা মন্তব্য দিলে আমি আরো উৎসাহিত হবো আর বানান ভুল হয়ে মানিয়ে নিয়েন প্লিজ 🙏