ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসার পূর্ণতা

পর্ব 2

লেখক: প্রাপ্তি দেব

মিমি কলেজ থেকে এসে দেখেন বাড়িতে সবাই কি আয়োজন করছে। সে এমন সময় এত হইচই দেখে ভ্রু কুচকালো কারণ এ সময় তো কেউ বাসায় থাকে না আব্বু ভাইয়ারা সবাই অফিসে জারা মিহিও স্কুলে তাকে তাইলে তো হইচই কিসের। মিমি মুনা বেগমের কাছে রান্না ঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করে
"কি হয়েছে মামনি এত আয়োজন কিসের কেউ আসবে নাকি "
মুনা বেগম কিছু উত্তর দেওয়ার আগে পিছন থেকে মিহি বলে ওঠে
" আসবে কেন বলছো আপ্পি এসে গেছে "
মিমি স্বাভাবিকভাবে টেবিলের কাছে গিয়ে গ্লাসে পানি নিয়ে পান করতে করতে বলে
" কে এসেছে রে "
তখন মিহি উত্তেজিত কন্ঠে বলে
" ভাইয়া আসছে আপ্পি আমাদের মাহাদি ভাইয়া। "
মিমি সবে পানি মুখে নিয়েচিলো কিন্তু এমন চমকালো খবর শুনে বিষমকে খেয়ে উঠে তার কাসির শব্দ শুনে রান্নাঘর থেকে সবাই বাহিরে আসে মুনা বেগম তার মাথায় আস্তে করে চাপড় দিতে দিতে বললেন
" উফ কি যে করিস না মিমি পানি খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই তুই কি এটাও জানিস না "
মিমি কিছু বলার আগেই পেছন থেকে গমগমে পুরুষালি কন্ঠ শুনতে পায়
" ওকে এসব বলছ কেন আম্মু ও তো এখনো বাচ্চাই রয়েছে আার ও এত বড় খবরটা নিতে পারে নাই তাই বিষম খেয়েছে "
পুরুষলী কণ্ঠ শুনে মিমি পেছনে তাকায় তাকাতেই তার চক্ষু চরগাচ হয়ে যায়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অতীব মায়াময় পুরুষ। মিমি তাকে আগে কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। দেখেছিল হয়তো ছোটবেলায় তার জন্মের সাত বছর পরই তো মাহাদি পড়াশোনার জন্য আমেরিকা চলে যায়। তার মনে হচ্ছে সে এই প্রথম এই লোকটাকে দেখেছে। মিমির তো একবার দেখেই চোখ আটকে গেছে। চেহারা তার শ্যাম বর্ণের গালে চাপ দাড়ি হালকা গোলাপি রঙের গায়ে টি শার্টটা এমন ভাবে সেটে রয়েছে মনে হচ্ছে জিম করা বডি টি শার্ট টা ছিড়ে বেরিয়ে আসবে। পড়নে তার কালো ট্রাউজার। মিমিতো এক দেখাতেই ঘায়েল হয়ে গেছে। এসবের মাঝে কখন যে মাহদি তার সামনে এসে দাঁড়ালো খেয়ালই করল না। এসে দু আঙুল দিয়ে তার সামনে তুরি বাজালো। তাতেই মিমি হুশে ফিরে। মাহদী দাঁত কিরিমিরি খেয়ে বলে
" হ্যাঁরে পানি খেতে হলে আস্তে ধীরে খাওয়া লাগে তা জানিস না, নাকি হাতে পায়েই শুধু বড় হয়েছিস জ্ঞানের দিক থেকে বাচ্চা "
মিমি আমতা আমতা করে বলে
"আ,,,,আসলে ভ,,,,ভাইয়া আপ,,,,,নি আসবেন সেটাতো আগে থেকে জানতাম নাহ তাই হঠাৎ এই খবরটা শুনে চমকে গেছিলাম আর কি "
" এখন তো জানেছিস তা পানি টা বসে খেগে পারিস নাহ "
মিমি খব করে বসে পড়ে চেয়ারে। এক নিঃশ্বাসে গ্লাসের সব পানি শেষ করে। কোনরকমে টেনে টেনে বলে
" ভা,,,,,,ইয়া আ,,,,সি এ,,খন "
মাহদি শান্ত অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বলে
"যা"
মিমি নিজের উত্তর পেয়ে এক দৌড় দেয় কিন্তু সিড়ির কাছে যেতেই তার হাটু চুই চুই চুলে টান অনুভুব করে চুলে হাত দিয়ে পিছনে ঘুরতেই দেখে মাহদি তার চুল টেনে ধরেছে।
মাহদি কটমট করে বলে
"এই এত তিরিংবিড়িং কিসের ভালোভাবে যেতে পারিস না লাফালাফি করিস কেন শান্তভাবে যেতে পারিস না "
মিমি মাথা নিচু করে নিচু সরে বলে
" সরি ভাইয়া"
মাহদি তখন আরো রেগে যায়,। সে রেগে গিয়ে বলে
"এই বেয়াদব মেয়ে যাতে বলছি যা এখান থেকে "
মিমি তার রাগের কারনটা বুঝতে পারে নাহ। কি হলো সরিইতো বললো। আর সে কখন বেয়াদবি করলো। উফ এই বেডা এসেছেই কি তাকে উঠতে বসতে বকবে বলে। মিমি নিজের চুল ছাড়িয়ে শান্তভাবে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে সামনে আসতেই তাড়াতাড়ি করে দরজা লাগিয়ে দেয়।
অন্যদিকে ড্রয়িং রুমে সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলো।
মুনা বেগম মাহদি কে বললেন
" হ্যাঁ রে বাবা ওকে বকলি কেন। তোর কথামতো বসে তারপর যেতে নিয়েছিল তুই বকা দেওয়ায় ও সরিও বললো তাহলপ শেষে ওকে বকলি কেনো "
মাহদি কিছু বলার আগেই মাহবুবা হাসি মুখে বললেন
" তাক আপ্পি ওকে যে কেউ শাসন করতে পেরেছে এটাই অনেক ভাই আর বাবার আাদরে তো বাদর হয়েছে "
মাহবুবা বেগম তো খুব খুশি ওনার মেয়েকে যে শাসন করার মানুষ আাছে এটা ভেবে।
মাহদি কিছু না বলে উপরে চলে যায়।
****************
সন্ধ্যা বেলা মাহদি তৈরি হয়ে নিচে নামে তখন প্রায় সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে শুধু মিমি বাদে। মাহদি তাদের সবার উদ্দশ্যে সালাম করলো সবাই সালানের উওর দিলো। মাহদিকে দেখে তার বাব মুছতাকিন চৌধুরী বললেন
" কোথাও বেড়োচ্ছো নাকি "
মাহদি স্বভাব সুলভ জবাব দিলো
" জি আব্বু আরিফদের কাছে যাচ্ছি"
মুছতাকিন চৌধুরী কিছুটা গম্ভীর সরে বললেন
" এলেই তো দুপুরবেলা আমাদের সাথে তো কথা বললে নাহ "
" জি আব্বু একটু বাহির থেকে আসি "
মুছতাকিন চৌধুরী ছেলের এমন কথায় আর না করতে পারলেন না। তিনি শান্ত সরে বললেন
" ঠিক আছে যাও কিন্তু তাড়াতাড়ি আসবে সবাই একসাতে রাতে খাবার খাবো। "
মাহদি " জি আচ্ছা " বেরিয়ে আসে কিন্তু তখনি আবার ফিরে এসে বলে
" সাদিক তুইও আয়তো "
মাহবুব চৌধুরী বললেন
"কেনো সামি ও গিয়ে কি করবে "
মাহদি শান্ত সরে বলে
"মেজো আব্বু একটু প্রয়োজন আছে"
"আচ্ছা যাও"
তাড়া বেরিয়ে আসে। সাদিককে নিয়ে মাহদি বাড়ির একটা গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।
***********
মিমি উকিঝুকি মেরে রুম থেকে বেড় হয়। সেই যে ভয়ে রুমে ডুকেছিলো আর এখন বেড় হলো। আগে খেতেও পারে নি ওই খচ্ছুর বেটার জন্য একন প্রচন্ড খুধা লাগছে তাই এবার না বেড়ুলেই নয়।
যখন দেখলো চারি পাশ ঠান্ডা তখন আস্তে আস্তে বেড় হয়ে নিচে নামলো তাকে দেকে আমিনা বেগম বললেন
"কিরে কিছু লাগবে "
"হ্যা ছোট আম্মু খুধা লাগছে খেতে দাও "
"তুই টেবিলে বস আমি আনছি"
"হুম"
*************
# চলবে
ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন প্লিজ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন