ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডাক্তার সাহেব বউ

পর্ব 3

লেখক: Umme Habiba

# 🎀🖤 ডাক্তার সাহেব বউ 🖤🎀
## 🌸 পর্ব — ০৩ 🌸
**✍️ লেখিকা — উম্মে হাবিবা**

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🏰 সরকার বাড়ির জমকালো পার্টি 🎉

বিশাল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটের ভেতরে রয়েছে বড়সড় ড্রয়িংরুম, তার পাশেই সুন্দর ডাইনিং রুম এবং আধুনিক সাজে সাজানো কিচেন। সবকিছুই যেন রাজকীয় আভিজাত্যের ছোঁয়ায় তৈরি।

ড্রয়িংরুমের পাশ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেছে দোতলায়। ওপরে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুন্দর ঘর।

সেদিন রাতে ছায়া ও ইয়ারা নিজেদের নতুন ফ্ল্যাটে ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে যার যার ঘরে চলে গেল। ইয়ারা নিজের ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে পড়ল। সারাদিনের ব্যস্ততা আর দীর্ঘ মিটিংয়ের ক্লান্তিতে চোখের পাতা যেন আর খুলে রাখতে পারছিল না।

অন্যদিকে ছায়াও নিজের ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে শুরু করল।

কিন্তু কে জানত, তাদের এই বিশ্রাম এত দীর্ঘ হবে!

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🌞 পরদিন বিকেল চারটা!

ঘড়ির কাঁটা তখন বিকেল চারটা ছুঁইছুঁই।

ইয়ারা ধীরে ধীরে চোখ খুলল। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ শুয়ে থাকার পর হঠাৎ তার মনে পড়ল গত রাতের কথা।

— ওহ মাই গড! এত বেলা হয়ে গেছে!

সে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে বসল। মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখে চোখ বড় বড় করে ফেলল।

— বিকেল চারটা! আমি এতক্ষণ ঘুমিয়েছি!

ইয়ারা বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর ছায়াকে খুঁজতে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।

— ছায়া! ও ছায়া!

কোনো উত্তর নেই।

সে ড্রয়িংরুমে গেল। সেখানে কেউ নেই। ডাইনিং রুমেও কেউ নেই। কিচেনেও ছায়ার দেখা মিলল না।

ইয়ারা এবার একটু অবাক হলো।

— মেয়েটা গেল কোথায়? বাসায় তো নেই মনে হচ্ছে!

সে ছায়ার ফোনে কল দিল, কিন্তু ফোন ধরল না।

ইয়ারা বিরক্ত হয়ে নিজের কপালে হাত রাখল।

— এই মেয়ে আবার কোথায় গেল! আজ যে আফিজার বিবাহবার্ষিকীর পার্টি আছে, সেটাও কি ভুলে গেল নাকি?

এদিকে সময় কিন্তু থেমে নেই।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে এলো। ঘড়ির কাঁটা যখন সাতটার কাছাকাছি, তখন ইয়ারা বুঝতে পারল, আর দেরি করা যাবে না।

কারণ, রাত আটটায় পার্টি শুরু হওয়ার কথা!

ইয়ারা দ্রুত নিজের ঘরের দিকে ছুটল।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 👑 ইয়ারা কাদেরের রাজকীয় সাজ 👑

ইয়ারা নিজের আলমারি খুলে কিছুক্ষণ পোশাক খুঁজল। তারপর তার চোখ আটকে গেল একটি সুন্দর নীল ও সাদা রঙের শাড়ির ওপর।

শাড়িটি দেখতে ছিল অসাধারণ সুন্দর। নীল ও সাদার মিশ্রণে তৈরি শাড়িটির সরল সৌন্দর্য যেন আলাদা করে নজর কাড়ে।

ইয়ারা শাড়িটি বের করে বিছানার ওপর রাখল।

তারপর নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন কোনো রাজকীয় উপন্যাসের নায়িকা বাস্তবে নেমে এসেছে!

নীল-সাদা শাড়ি, হালকা মেকআপ, চোখে মায়াবী কাজল, ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক। সঙ্গে মানানসই ডায়মন্ডের গয়না আর কালো হাই হিল।

তার লম্বা বাদামি চুলগুলো খোলা অবস্থায় পিঠের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে। চোখের নীল আভা যেন তার পুরো সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ইয়ারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ির আঁচল ঠিক করল।

তারপর মৃদু হেসে বলল,

— পারফেক্ট!

ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।

ফোনের স্ক্রিনে ছায়ার নাম দেখে সে দ্রুত কল রিসিভ করল।

— হ্যালো! তুই কোথায়?

ওপাশ থেকে ছায়ার কণ্ঠ ভেসে এলো,

— বাসায় আসছি। তুই রেডি হয়েছিস?

ইয়ারা বিরক্ত হয়ে বলল,

— রেডি হয়েছি মানে! আর একটু দেরি করলে তো পার্টি শেষ হয়ে যাবে! তুই কোথায় ছিলি এতক্ষণ?

ছায়া হেসে উত্তর দিল,

— আরে বাবা, আসছি তো! এত রাগ করিস কেন?

ইয়ারা চোখ ঘুরিয়ে বলল,

— তাড়াতাড়ি আয়। আমি কিন্তু আর অপেক্ষা করতে পারব না!

— আচ্ছা, ম্যাডাম। আসছি!

কল কেটে গেল।

ইয়ারা আবার আয়নার দিকে তাকাল। তারপর নিজের ব্যাগ হাতে নিয়ে নিচে নেমে এলো।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🖤 ছায়া কাদেরের সিম্পল লুক 🖤

কিছুক্ষণ পর দরজা খোলার শব্দ হলো।

ইয়ারা পেছনে ফিরে তাকাতেই দেখল, ছায়া বাড়িতে ঢুকছে।

ছায়ার পরনে সাদা ও কালো রঙের একটি সুন্দর শাড়ি। শাড়ির সঙ্গে মানানসই সাদা হাই হিল, হাতে সিম্পল জুয়েলারি এবং মুখে হালকা মেকআপ।

তার লম্বা বাদামি চুলগুলো সুন্দরভাবে সাজানো। মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব, চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস।

ছায়াকে দেখে ইয়ারা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— বাহ! ম্যাডামকে তো আজ বেশ সুন্দর লাগছে!

ছায়া মুচকি হেসে বলল,

— আমাকে সুন্দর লাগছে, নাকি তুই আজ নিজেকে বেশি সুন্দর মনে করছিস?

ইয়ারা সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— অবশ্যই আমাকে!

ছায়া হেসে ফেলল।

— হ্যাঁ, সেটা তো তোর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে!

ইয়ারা তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আচ্ছা, বাদ দে। এখন বল, কোথায় ছিলি এতক্ষণ?

ছায়া নিজের ব্যাগটা হাতে নিয়ে বলল,

— একটু কাজ ছিল। এখন চল, নইলে আফিজা আমাদের দুজনকে ফোন দিয়ে মাথা খারাপ করে দেবে!

ইয়ারা মাথা নেড়ে বলল,

— চল। আজ কিন্তু কোনো অজুহাত শুনব না!

দুজন একসঙ্গে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

বাইরে তাদের জন্য কালো রঙের বিলাসবহুল গাড়ি অপেক্ষা করছিল।

ড্রাইভার দরজা খুলে দিতেই ছায়া ও ইয়ারা গাড়িতে উঠে বসল।

— সরকার বাড়ি, ম্যাডাম? ড্রাইভার জিজ্ঞেস করল।

ইয়ারা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

— হ্যাঁ, চলো।

গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🌹 সরকার বাড়িতে দুই রহস্যময় সুন্দরী 🌹

ঢাকার অভিজাত এলাকায় অবস্থিত সরকার বাড়ি আজ অপরূপ সাজে সজ্জিত।

বাড়ির প্রধান ফটকে রঙিন আলো, সুন্দর ফুলের সাজসজ্জা এবং প্রবেশপথজুড়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাড়ির সামনে একের পর এক দামি গাড়ি এসে থামছে।

ভেতরে চলছে জমকালো আয়োজন।

বড় ড্রয়িংরুমে অতিথিদের ভিড়। কেউ গল্প করছেন, কেউ হাসিমুখে ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিচিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।

খান বাড়ি, চৌধুরী বাড়ি, সরকার বাড়ি ও নোমান বাড়ির সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিচিত ব্যবসায়ী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং অসংখ্য অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

সব মিলিয়ে সরকার বাড়ি যেন আনন্দের এক রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

ঠিক তখনই বাড়ির সামনে এসে থামল একটি বিলাসবহুল গাড়ি।

গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে নামল ছায়া। তারপর নামল ইয়ারা।

দুজনকে একসঙ্গে দেখে আশপাশের কয়েকজন অতিথি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।

নীল-সাদা শাড়িতে ইয়ারা আর সাদা-কালো শাড়িতে ছায়া—দুজনের সাজ আলাদা হলেও তাদের ব্যক্তিত্বে ছিল একই রকম আভিজাত্য।

তারা ধীর পায়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল।

ঠিক সেই সময় দূর থেকে আফিজা তাদের দেখতে পেল।

— আরে! আমার দুই প্রিয় মানুষ অবশেষে এসেছে!

আফিজা প্রায় দৌড়ে তাদের কাছে চলে এলো।

ইয়ারা হাসিমুখে বলল,

— এই যে, আমরা এসেছি! এবার তো খুশি?

আফিজা অভিমানী মুখ করে বলল,

— আর একটু দেরি করলে কিন্তু সত্যিই তোদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতাম!

ছায়া হেসে বলল,

— আচ্ছা, আচ্ছা। এখন তো এসেছি। এবার একটু হাসো!

আফিজা সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেলল।

তারপর সে দুজনকে নিয়ে অতিথিদের মাঝখানে এগিয়ে গেল।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🎤 আফিজার পরিচয়ে সবাই অবাক! 🎤

অতিথিদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আফিজা সবার উদ্দেশে বলল,

— সবাই একটু এদিকে আসুন তো! আপনাদের সঙ্গে দুজন বিশেষ মানুষের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

কথাটা শুনে অতিথিরা ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে এলেন।

আফিজা ইয়ারা ও ছায়ার পাশে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে বলল,

— আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার বিখ্যাত দুই ব্যবসায়ী এবং অসাধারণ দুই গায়িকা—ইয়ারা কাদের ও ছায়া কাদের!

কথাটা শুনে কয়েকজন অতিথি বিস্ময়ে একে অপরের দিকে তাকালেন।

একজন মহিলা অতিথি বলে উঠলেন,

— কী! আপনারা সেই ইয়ারা কাদের ও ছায়া কাদের? আপনাদের সম্পর্কে তো অনেক শুনেছি!

অন্য একজন বললেন,

— আপনাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা আমরা জানি। কিন্তু আপনারা যে এত সুন্দর গানও করেন, সেটা জানতাম না!

আরেকজন অতিথি আনন্দে বলে উঠলেন,

— ম্যাম, আপনাদের দুজনের কণ্ঠে একটা গান শুনতে পারি?

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ থেকে একই অনুরোধ আসতে লাগল।

— প্লিজ, ম্যাম!

— একটা গান শুনিয়ে দিন!

— আপনাদের গান সরাসরি শোনার সুযোগ কি আর সব সময় পাওয়া যায়?

ইয়ারা ও ছায়া একে অপরের দিকে তাকাল।

ছায়া মুচকি হেসে বলল,

— আচ্ছা, আপনারা যখন এত করে বলছেন, তাহলে একটা গান শোনানো যেতেই পারে।

ইয়ারা হাসিমুখে অতিথিদের দিকে তাকিয়ে বলল,

— বলুন তো, কোন গান শুনতে চান?

একজন মেয়ে আনন্দে বলে উঠল,

— ম্যাম, ‘চাইনা ছেলে তুমি অন্য কারো’ গানটা শুনতে চাই!

গানটির নাম শুনে কয়েকজন অতিথি উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন।

ইয়ারা ছায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

— কী বলিস? এই গানটাই গাইব?

ছায়া মাথা নেড়ে হাসল।

— অবশ্যই। চলো, শুরু করি!

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🎶 গানের তালে মুখরিত সরকার বাড়ি 🎶

বাড়ির ড্রয়িংরুমের মাঝখানে ছোট্ট একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের চারপাশে সুন্দর আলোকসজ্জা। অতিথিরা ধীরে ধীরে মঞ্চের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

ইয়ারা ও ছায়া মঞ্চে উঠে দাঁড়াল।

তাদের হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়া হলো।

চারপাশের কথাবার্তা ধীরে ধীরে থেমে গেল।

সবাই অপেক্ষা করছে তাদের কণ্ঠে গান শোনার জন্য।

ইয়ারা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হাসিমুখে বলল,

— তাহলে শুরু করা যাক!

ছায়া মাথা নাড়ল।

গান শুরু হলো।

ইয়ারা ও ছায়া পালা করে গাইতে লাগল। তাদের কণ্ঠের মেলবন্ধনে পুরো বাড়ির পরিবেশ যেন বদলে গেল। অতিথিরা মুগ্ধ হয়ে শুনতে লাগলেন।

কিছুক্ষণ পর অতিথিদের ভিড়ের মধ্য থেকে মিহি ও ইয়ানাও সামনে এগিয়ে এলো।

মিহি হাসিমুখে বলল,

— আচ্ছা, এবার আমরা একটু সাহায্য করি?

ইয়ারা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল,

— অবশ্যই! এসো, সবাই মিলে গাই!

এরপর মিহি ও ইয়ানা গানের তালে যোগ দিল।

চারজনের কণ্ঠে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল।

অতিথিরা হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দিতে লাগলেন।

একসময় গান শেষ হলো।

মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়ি হাততালিতে মুখর হয়ে উঠল।

— অসাধারণ!

— সত্যিই দারুণ গেয়েছেন!

— আরেকটা গান চাই!

ইয়ারা হেসে বলল,

— আরেকটা গান? আচ্ছা, আগে একটু দম নিতে দিন!

সবাই হেসে উঠল।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 💕 মিহি ও ইয়ানার মজার কাণ্ড 💕

গান শেষ হওয়ার পর মিহি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল,

— আচ্ছা, এবার আমাদের পালা! এতক্ষণ তো আপনারা মেয়েদের গান শুনলেন, এবার ছেলেদের কণ্ঠে একটা গান শোনা যাক!

কথাটা শুনে উপস্থিত ছেলেরা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল।

একজন ছেলে হেসে বলে উঠল,

— আপুরা, আমাদের কি আর ছাড় আছে? এবার তো গান গাইতেই হবে!

মিহি হাসতে হাসতে বলল,

— অবশ্যই! আজকে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!

ইয়ানা মজা করে বলল,

— ঠিক বলেছিস! আজকে সবাইকে গান গাইতে হবে!

ছেলেদের মধ্যে কয়েকজন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

— আচ্ছা, আচ্ছা! ঠিক আছে! আমরা গান গাইব!

কেউ হাসতে লাগল, কেউ আবার লজ্জায় মুখ লুকাতে লাগল।

মিহি হাততালি দিয়ে বলল,

— এই তো! এবার শুরু হোক আসল মজা!

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🎵 এবার ছেলেদের পালা! 🎵

মঞ্চের সামনে আবার সবাই জড়ো হলো।

মিহি ও ইয়ানা এক পাশে দাঁড়িয়ে রইল। ছায়া ও ইয়ারা হাসিমুখে তাদের পাশে দাঁড়াল।

একজন অতিথি প্রস্তাব দিলেন, এবার জনপ্রিয় হিন্দি গান ‘জঙ্গল মে আজ মঙ্গল’-এর তালে সবাই মিলে আনন্দ করা যাক।

প্রস্তাবটি শুনে কয়েকজন উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন।

মিহি হেসে বলল,

— আচ্ছা, তাহলে এই গানটাই হোক!

ইয়ানা হাততালি দিয়ে বলল,

— সবাই প্রস্তুত তো?

ছেলেরা একসঙ্গে বলে উঠল,

— হ্যাঁ!

গানের সুর বাজতেই সবাই আনন্দে মেতে উঠল। কেউ তালে তালে হাততালি দিচ্ছে, কেউ মজার ভঙ্গিতে নাচছে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি করছে।

মিহি ও ইয়ানা সামনে দাঁড়িয়ে সবাইকে উৎসাহ দিতে লাগল।

মিহি হেসে বলল,

— আরে, এভাবে হবে না! একটু মন খুলে আনন্দ করো!

একজন ছেলে মজা করে বলল,

— আপু, আপনারা সামনে থাকলে আমরা আর কীভাবে শান্ত থাকি!

কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠল।

ইয়ানা মাথা নেড়ে বলল,

— বাহ! গান গাওয়ার আগে তো সবাই খুব সাহস দেখাচ্ছিলে। এখন দেখি সবাই লজ্জা পাচ্ছে!

ছেলেরা আবার হাসতে শুরু করল।

এভাবেই গান, হাসি আর আনন্দে পুরো সরকার বাড়ি মুখর হয়ে উঠল।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🌸 খান, চৌধুরী ও সরকার পরিবারের মিলনমেলা 🌸

গানের আনন্দে একসময় বাড়ির প্রায় সব অতিথিই মঞ্চের সামনে এসে জড়ো হলেন।

খান পরিবারের সদস্যরা, চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা, সরকার পরিবারের আত্মীয়স্বজন এবং নোমান পরিবারের অতিথিরা—সবাই একসঙ্গে আনন্দে অংশ নিলেন।

বয়োজ্যেষ্ঠরা দূরে বসে হাসিমুখে তরুণদের আনন্দ উপভোগ করছিলেন। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যে পুরোনো স্মৃতি নিয়ে কথা বলছিলেন।

আফিজা একসময় ইয়ারা পাশে এসে দাঁড়াল।

— কেমন লাগছে আমার পার্টি?

ইয়ারা চারপাশে তাকিয়ে হেসে বলল,

— সত্যি বলতে, দারুণ! তুই তো পুরো বাড়িটাকে উৎসবের রাজ্যে পরিণত করেছিস!

আফিজা গর্ব করে বলল,

— আরে, আমার বিবাহবার্ষিকী বলে কথা! একটু আয়োজন তো করতেই হবে!

ছায়া মুচকি হেসে বলল,

— আয়োজন ভালো হয়েছে। আর সবচেয়ে ভালো হয়েছে, সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।

আফিজা এবার দুজনের হাত ধরে বলল,

— তোরা দুজন এসেছিস, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।

ইয়ারা স্নেহভরে তার দিকে তাকাল।

— আমরা তো তোরই মানুষ। তোর আনন্দে আমরা থাকব না, তা কি হয়?

আফিজা হাসিমুখে দুজনকে জড়িয়ে ধরল।

কিছু মুহূর্তের জন্য চারপাশের কোলাহল যেন দূরে সরে গেল। সেখানে শুধু ছিল পুরোনো বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর একসঙ্গে থাকার আনন্দ।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🖤 কিন্তু এই আনন্দের আড়ালে কী অপেক্ষা করছে? 🖤

রাত যত গভীর হতে লাগল, সরকার বাড়ির আনন্দও তত বাড়তে লাগল।

কেউ জানত না, এই রাতের অনুষ্ঠান শুধু একটি বিবাহবার্ষিকীর পার্টি হয়ে থাকবে না। এই বাড়িতে উপস্থিত কিছু মানুষের জীবন খুব শিগগিরই একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে যাবে, যা কেউ কল্পনাও করেনি।

ইয়ারা ও ছায়া এখনো জানে না, বাংলাদেশের এই নতুন জীবন তাদের কোথায় নিয়ে যাবে।

মিহি ও ইয়ানার হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে তাদের নিজেদের গল্প।

আর খান ও চৌধুরী পরিবারের জীবনে সামনে অপেক্ষা করছে নতুন কিছু ঘটনা।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

**এই পার্টিতেই কি এমন কারও সঙ্গে দেখা হবে, যে বদলে দেবে আমাদের গল্পের নায়িকার জীবন?**

নাকি আজকের রাত শুধু আনন্দের স্মৃতি হয়ে থাকবে?

উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী পর্বের জন্য।

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

### 🎀🖤 চলবে… 🖤🎀

**ডাক্তার সাহেব বউ**

**পর্ব — ০৩ সমাপ্ত।**

✍️ *লেখিকা — উম্মে হাবিবা*

🌸 *বন্ধুত্ব, আনন্দ, অভিমান আর রহস্যে ঘেরা গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ে আবার দেখা হবে।* 🌸

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন