জান্নাতের ছায়া
লেখিকা : জান্নাতুল নাঈমা
পর্ব ২ কর্মক্ষেত্রের পরীক্ষা ও ঘরে ফেরার প্রশান্তি
___
শহরের বুকে তখন শরৎকালের এক স্নিগ্ধ বিকেল। দুপুরের তীব্র গরমটা একটু কমে বাতাসে হালকা হিমেল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে।
সাদিকের ছোট্ট বাসাটির ড্রয়িংরুমটা খুব সাধারণ হলেও সবসময় পরিপাটি ও পরিষ্কার রাখা হয়।
আসবাবপত্রগুলোর মধ্যে কেবল একটি পুরোনো কাঠের আলমারি, একটা পড়ার টেবিল আর কয়েকটি বইয়ের তাক। দেয়ালে বাঁধানো একটি কাঠের ফ্রেমে চমৎকার ক্যালিগ্রাফিতে আয়াতুল কুরসি খোদাই করা। এই ঘরে প্রবেশ করলেই যে কেউ এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি অনুভব করবে।
সাদিক যখন প্রকাশনা সংস্থা থেকে বের হলেন, তখন দুপুরের চড়া রোদ পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে আসছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির হর্ন, মানুষের জটলা আর ধুলোবালি—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিবেশ।
এই কোলাহলপূর্ণ শহরে প্রতিটি মানুষ যেন কোনো এক অজানা দৌড়ে ছুটে চলেছে। কে কার চেয়ে আগে ধন-সম্পদ বা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবে, সেটাই যেন সবার একমাত্র লক্ষ্য।
কেউ বাসে ঝুলে অফিসে যাচ্ছে, কেউ দামি গাড়ির কাঁচ তুলে এসি বাতাসে গা এলিয়ে দিয়েছে, আবার কেউ ফুটপাথে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান চালিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছে।
এই বিশাল বৈচিত্র্যময় শহরের একটি ছোট গলি দিয়ে হেঁটে চলছিলেন সাদিক। তাঁর পরনে সাদামাটা একটি সুতির পাঞ্জাবি, কাঁধে ঝুলানো সেই পুরোনো কাপড়ের ব্যাগটি। বাহ্যিক দিক থেকে দেখলে তাঁকে সাধারণ দশটা মানুষের মতোই মনে হবে, কিন্তু তাঁর অন্তরের জগৎটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
আজ অফিসে সাদিকের একটি অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা গিয়েছে। প্রকাশনা সংস্থার একটি নতুন বৃহৎ প্রকল্পের বইয়ের মুদ্রণ, কাগজ কেনাবেচা এবং স্বত্ব হস্তান্তরের চুক্তি নিয়ে একটু বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাদিককে একটু একান্তে ডেকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চুক্তির কাগজপত্রে সামান্য কারচুপি বা কিছু গোপনীয়তা রক্ষা করলে কোম্পানির ফান্ড থেকে একটি বড় অংকের কমিশন বা বোনাস পকেটে ভরা সম্ভব।
এটি এমন এক লোভনীয় সুযোগ ছিল, যা বর্তমান যুগের কর্পোরেট কালচারে অন্ধের মতো সবাই লুফে নেয়। কেউ হয়তো মুহূর্তের জন্যও দ্বিতীয়বার ভাবত না। কেউ হয়তো বলত, "সবাই তো এই পথেই চলছে, একটু-আধটু এদিক-সেদিক করলে কোম্পানির কি এমন ক্ষতি হবে? নিজের ভাগ্য তো একটু ঝালাই করে নেওয়া উচিত!"
কিন্তু সাদিক এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধায় পড়েননি। যখন সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লোভের জাল বিস্তার করে একের পর এক সুযোগের কথা বুঝিয়ে বলছিলেন, তখন সাদিকের চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল ফাতেমার সেই সকালের পবিত্র মুখখানি এবং তাঁর বলা কথাগুলো—
"অফিসে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের সততা বজায় রাখবেন। রিযিক কম বা বেশি যাই হোক না কেন, তা যেন হালাল উপায়ে আসে।"
সাদিকের হৃদয়ে তখন আল্লাহর ভয় বা তাকওয়ার নূর এমনভাবে কাজ করছিল যে, ওই লোভনীয় প্রস্তাবটি তাঁর কাছে জোনাকির আলোর চেয়েও তুচ্ছ মনে হয়েছিল, যা পলকেই নিভে যায়।
সাদিক সেদিন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কিন্তু অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে সেই অনৈতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে স্পষ্ট ও শান্ত ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, দুনিয়াবি সামান্য কিছু কাগজ বা টাকার মোহে তিনি নিজের ইমান ও আখিরাতের চিরস্থায়ী শান্তি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত নন।
কর্মকর্তাটি হয়তো কিছুটা অবাক হয়েছিলেন, কেউ কেউ হয়তো তাঁকে বোকামির চোখেও দেখেছিল।
কর্মকর্তাটি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, "সাদিক, তুমি বড্ড বেশি সাধু সাজতে চাও! এই যুগে সততা দিয়ে পেট চলে না।" কিন্তু সাদিক মৃদু হেসে সেখান থেকে চলে এসেছিলেন।
অফিস থেকে বের হওয়ার পর তাঁর বুকের ভেতর যে অনাবিল প্রশান্তি কাজ করছিল, তার মূল্য দুনিয়ার সমস্ত সোনাদানা বা ধন-সম্পদের চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
➤কর্মব্যস্ত শহরের মাঝে আত্মিক প্রশান্তি ও ঘরে ফেরার আকুলতা-
অফিস শেষ করে বাসার দিকে ফেরার সময় সাদিকের মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিল।
সারাদিনের ক্লান্তি, অফিসের চারপাশের সেই গুমোট পরিবেশ আর সহকর্মীদের অদ্ভুত চাহনি—সবকিছু যেন কোথায় নিমিষেই উবে গেছে।
পকেটে হয়তো খুব বেশি টাকা নেই, মাসের শেষের দিকে সঞ্চয়ও প্রায় শূন্যের কোঠায়, তবুও তাঁর বুকভরা এক আত্মিক শক্তি ছিল।
তিনি জানেন, তাঁর ঘরের দরজা খুললেই এমন একজন মানুষ অপেক্ষা করছেন, যিনি তাঁর এই সততাকে পুঁজি করে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা করবেন না, বরং তাঁর এই নীতিবান হওয়াকে পরম গৌরবের বিষয় বলে মনে করবেন।
রাস্তার মোড় পেরিয়ে যখন সাদিক তাঁর চেনা গলিতে এসে পৌঁছালেন, তখন মাগরিবের আযান ধ্বনিত হতে শুরু করেছে।
মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা "হাইয়া আল সালাহ" (সালাতের দিকে এসো) ডাকটি তাঁর সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিল। তিনি দ্রুত পায়ে নিজের ফ্ল্যাটের সামনে এসে পৌঁছালেন।
বাসার দরজায় এসে যখন সাদিক কলিং বেল বাজালেন, ঠিক এক মুহূর্তের মধ্যেই দরজা খুলে গেল। ফাতেমা দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়।
পরনে একটি সাধারণ হালকা নীল রঙের সুতির শাড়ি, চুলে পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা। ফাতেমার মুখে সবসময় এক মায়াবী স্নিগ্ধ হাসি লেগেই থাকে।
তবে আজ যেন সেই হাসির আলোয় একটু বেশিই দীপ্তি ছিল। যেন তিনি দূর থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর স্বামী আজ এক বিরাট পরীক্ষায় জয়ী হয়ে ঘরে ফিরছেন।
দরজা খুলেই ফাতেমা খেয়াল করলেন সাদিকের কপালে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে এক বিজয়ের দ্যুতি জ্বলজ্বল করছে। তিনি আর কালক্ষেপণ না করে অত্যন্ত মমতায় সাদিকের কাঁধ থেকে ব্যাগটি নিজের হাতে নিলেন এবং আলতোভাবে বললেন,
"আসসালামু আলাইকুম, সাদিক। আজ ফিরতে একটু দেরি হলো যে? সবকিছু ঠিকঠাক তো?"
জুতো খুলতে খুলতে সাদিক মুচকি হেসে বললেন, "ওয়ালাইকুমুস সালাম, ফাতেমা। একটু দেরি হওয়ার কারণ আছে বটে। আজ অফিসে একটা বড় পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, তোমার কথাগুলো মনে রেখে আমি সেই পরীক্ষায় হেরে যাইনি, রবের রহমতে আমি জয়ী হয়েছি।"
ফাতেমা খাবার টেবিলের দিকে যেতে যেতে কৌতূহলী ও উজ্জ্বল চোখে বললেন, "কী এমন হলো অফিসে? হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে বসুন, তারপর সব বিস্তারিত শুনছি।"
➤চা ও বিশ্বাসের উষ্ণ আলোচনা: হালাল রিযিকের বরকত-
ওযু করে এসে সাদিক বসার ঘরে বসলেন। ফাতেমা এক কাপ গরম আদা চা ও ছোট একটি প্লেটে কিছু হালকা নাশতা এগিয়ে দিলেন সাদিকের দিকে।
জানালার বাইরে তখন গোধূলি বেলার ম্লান আলো মিলিয়ে গিয়ে রাতের প্রথম প্রহর নেমে আসছে।
সাদিক চায়ে একটা ছোট চুমুক দিয়ে আজকের সারাদিনের পুরো ঘটনাটি ফাতেমার কাছে সবিস্তারে খুলে বললেন—কীভাবে তাঁকে অনৈতিক উপায়ে বাড়তি অর্থ উপার্জনের লোভ দেখানো হয়েছিল, কীভাবে সবাই তাঁকে বোকামি বলেছিল এবং তিনি কীভাবে তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন।
সব শুনে ফাতেমার চোখের কোণ দুটো আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় চকচক করে উঠল। তিনি এক মুহূর্তের জন্য নিচের দিকে তাকিয়ে আলতোভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।
এরপর সাদিকের হাতের ওপর নিজের হাত রেখে নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, "আপনার এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, আমি আল্লাহর কাছে যে জীবনসঙ্গী চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তার চেয়েও উত্তম মানুষ দান করেছেন।"
"দুনিয়ার এই চারদিনের মোহে পড়ে যারা ইমান বিক্রি করে দেয়, তারা আসলে চিরকালের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের রিযিক যদি কমও হয়, তবুও হালাল রিযিকের ভেতরে যে বরকত, প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি আছে, কোটি টাকা দিলেও তা কেনা যায় না।"
"আপনি শুধু একটি প্রস্তাব ফেরাননি, আপনি আমাদের আগামী দিনের আখিরাতের সঞ্চয়কে সুরক্ষিত করেছেন।"
সাদিকের বুকটা ফাতেমার এই কথায় গর্ব, সম্মান ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। দুনিয়ার সমস্ত কষ্ট, অপমান বা প্রতিকূলতা যেন ফাতেমার এই কথাগুলোর কাছে একেবারেই তুচ্ছ হয়ে গেল।
তিনি বুঝতে পারলেন, একজন সত্যিকারের ধার্মিক, পরহেজগার ও গুণবতী স্ত্রী মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত।
সাদিক ফাতেমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধ হেসে বললেন, "তুমি পাশে আছ বলেই আমার পক্ষে এই পথে চলা এত সহজ হয়েছে, ফাতেমা।"
➤রাতের নিস্তব্ধতা ও জান্নাতের ফিকির: জীবনের আসল উদ্দেশ্য-
রাত গভীর হতে শুরু করল। শহরের কোলাহল থেমে গিয়ে চারপাশ আবার নিস্তব্ধ হয়ে এল। রাতের খাবার খুব সাধারণ ও সাদামাটা ছিল—গরম ভাত, ডাল আর ঘরের তৈরি একটি সাধারণ তরকারি।
কিন্তু সেই খাবারে যে তৃপ্তি ছিল, তা কোনো রাজকীয় ভোজসভাতেও মেলে না। খাওয়ার পর সাদিক ও ফাতেমা দুজনে মিলে ঘরের একটি ছোট লাইব্রেরি কর্নারে বসলেন। এটি ছিল তাদের প্রতিদিনের একটি সুন্দর অভ্যাস।
ঘুমানোর আগে অন্তত আধ ঘণ্টা তারা তাফসির বা কোনো ইসলামিক ইতিহাস ও কুরআনের আয়াত নিয়ে আলোচনা করেন।
আজ তারা আলোচনা করছিলেন পবিত্র কুরআনের সুরা আল-ইমরানের একটি অত্যন্ত গভীর আয়াত নিয়ে—যেখানে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকর্ষণ ও জান্নাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের তুলনামূলক চিত্র খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
সাদিক বইয়ের পাতা উল্টে ধীরে ধীরে পড়া শুরু করলেন, "আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—'মানুষের জন্য মোহগ্রস্ত করা হয়েছে নারীদের প্রতি, সন্তান-সন্ততির প্রতি, সোনারূপার স্তূপীকৃত ধনের প্রতি, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদিপশু এবং খেতখামারের প্রতি ভালোবাসা।
এ সমস্তই হলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী, আর আল্লাহ তাআলার নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল বা জান্নাত।' ফাতেমা, এই আয়াতটি পড়লেই আমার বুকটা কেঁপে ওঠে।
মনে হয়, আমরা আসলে এই দুনিয়ায় কেবল কিছুদিনের জন্য মুসাফির। আসল ঘর, আসল স্থায়ী ঠিকানা তো জান্নাতে।"
ফাতেমা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তিনি সাদিকের মুখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে বললেন, "ঠিক বলেছেন। দুনিয়ার এই সাময়িক মোহ আমাদের ধোঁকায় ফেলতে পারে যদি না আমাদের লক্ষ্য একদম ঠিক থাকে।"
"মানুষ যখন ভুলে যায় যে এই পৃথিবীটা কেবল একটা পরীক্ষার হল, তখনই সে টাকার পিছে ছুটতে গিয়ে নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দেয়। কিন্তু আমরা যদি সবসময় একে অপরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিই, তবে ইনশাআল্লাহ দুনিয়ার কোনো মোহ আমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।"
কথা বলতে বলতে ঘড়ির কাঁটা যখন রাত বারোটার ঘর পার হয়ে গেল, ফাতেমা উঠে গিয়ে বিছানা খুব সুন্দর করে গুছিয়ে এলেন। সাদিক জায়নামাজ ও বইপত্র গুছিয়ে রেখে ফাতেমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
"কাল সকালেও কিন্তু ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে ফাতেমা। তাহাজ্জুদের সেই প্রশান্ত পরিবেশ ও ইবাদতের আবহ কোনোভাবেই মিস করা যাবে না।"
ফাতেমা মিষ্টি হেসে উত্তর দিলেন, "ইনশাআল্লাহ, সাদিক। আপনার চোখ খুলার আগেই আমি আপনাকে জাগিয়ে দেব। আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান।"
বাইরে তখন ঝিরঝিরে বাতাস বইছে, জানালার পর্দাটা মৃদু দুলছে। সাদিক ও ফাতেমা আল্লাহর জিকির করতে করতে বিছানায় শুয়ে পড়লেন।
তাদের হৃদয়ে তখন কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা, আক্ষেপ বা অতৃপ্তি ছিল না; ছিল কেবল পরকালের মুক্তি, রবের সন্তুষ্টি এবং একে অপরকে ভালোবেসে জান্নাতে চিরকাল একসাথে থাকার এক বুক অদম্য আশা। এই সাধারণ ফ্ল্যাটেই যেন তৈরি হচ্ছিল জান্নাতের এক সুবাসিত ছায়া।
চলবে.....
গল্পটি কেমন লাগছে তা আমাকে কমেন্টে জানাবেন!!😊🌸💜