কিছু গল্পের সমাপ্তি সুন্দর
লেখিকা: জান্নাতুল ফেরদৌস
পর্ব – ০৭
সত্যের প্রথম ইঙ্গিত
রাত তখন প্রায় এগারোটা। ঘরের সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু মেহরিনের চোখে ঘুম নেই। তার ফোনের পর্দায় তখনো সেই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তাটি দেখা যাচ্ছে।
‘তোমার খাতার ব্যাপারটা নিয়ে বেশি চিন্তা কোরো না। সবকিছু যেমন দেখায়, আসলে সবকিছু তেমন নয়।’
বার্তাটি সে কতবার পড়েছে, তার হিসাব নেই। প্রতিবার পড়ার পর নতুন নতুন প্রশ্ন মাথায় আসছে। কে এই মানুষটি? তার খাতার ব্যাপারে এত কিছু জানে কীভাবে? আর যদি সত্যিই কিছু জানে, তাহলে সরাসরি নিজের পরিচয় দিচ্ছে না কেন?
একবার মনে হলো উত্তর দেবে। আবার ভাবল, অপরিচিত কাউকে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না। শেষ পর্যন্ত সে কোনো উত্তর না দিয়েই ফোনটা বন্ধ করে রাখল।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ফোনটা হাতে নিল। নতুন কোনো বার্তা আসেনি। সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। হয়তো বিষয়টা নিয়ে বেশি ভাবছে সে। কিন্তু মনের ভেতরের অস্বস্তিটা কিছুতেই কাটছিল না।
নাশতার সময় মা খেয়াল করলেন, মেহরিন আজ অন্য দিনের তুলনায় একটু চুপচাপ।
— কী হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে?
— না মা, শরীর ঠিক আছে।
— তাহলে এত চুপচাপ কেন?
— এমনিই। একটু পড়াশোনার চিন্তা করছি।
মা আর কিছু বললেন না। শুধু বললেন,
— পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করবি, ভালো কথা। কিন্তু অযথা বেশি চিন্তা করে নিজের মন খারাপ করিস না।
মেহরিন মায়ের কথায় মাথা নাড়ল। সে জানত, সব কথা মাকে বলা যায় না। আবার কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিজেকেই বুঝে নিতে হয়।
মাদ্রাসায় পৌঁছে সে সোজা ক্লাসে চলে গেল। রাইসা তখন জানালার পাশে বসে বই পড়ছিল। মেহরিনকে দেখে বই বন্ধ করে বলল,
— আজ এত দেরি হলো কেন?
— রাস্তায় একটু যানজট ছিল।
— তোমার চেহারা দেখে মনে হচ্ছে অন্য কোনো চিন্তা আছে।
মেহরিন প্রথমে কিছু বলতে চাইল না। কিন্তু রাইসার সঙ্গে কথা বলতে তার স্বস্তি লাগত। তাই কিছুক্ষণ পর ফোন বের করে বার্তাটা দেখাল।
রাইসা মনোযোগ দিয়ে পড়ল। তারপর জিজ্ঞেস করল,
— তুমি কি নম্বরটা চেনো?
— না। একেবারেই অপরিচিত।
— কাউকে বলেছ?
— না, তোমাকে ছাড়া কাউকে বলিনি।
রাইসা কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
— আমার মনে হয়, আপাতত উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। যদি আবার এমন বার্তা আসে, তাহলে কোনো বিশ্বস্ত বড় মানুষকে জানাবে।
মেহরিন মাথা নেড়ে বলল,
— আমিও সেটাই ভাবছি। কিন্তু আমার খাতার ব্যাপারে কেউ এত কিছু জানল কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।
— হয়তো যে খাতাটা পেয়েছিল, সে-ই কিছু জানে। তবে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে সন্দেহ করা ঠিক হবে না।
কথাটা মেহরিনের ভালো লাগল। সে চায় না কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাউকে দোষ দিতে।
সেদিন ক্লাসে শিক্ষিকা বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের প্রস্তুতির কথা বলল। মেহরিনও জানাল, সে নিয়মিত অনুশীলন করছে।
শিক্ষিকা বললেন,
— আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা হবে। তোমাদের প্রত্যেককে নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি বিপক্ষ দলের যুক্তিও মন দিয়ে শুনতে হবে। শুধু নিজের কথা বললেই ভালো বিতার্কিক হওয়া যায় না।
মেহরিন কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনল। সে বুঝতে পারল, নিজের বক্তব্য তৈরি করার পাশাপাশি অন্যের কথাও বোঝার অভ্যাস করতে হবে।
ক্লাস শেষে লাইব্রেরিতে যাওয়ার পথে সে খাদিজাকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখল। তাদের কথার মাঝে নিজের নাম শুনে মেহরিন থেমে গেল।
খাদিজা বলছিল,
— কিছু মানুষ আছে, যারা সবসময় নিজেকে সবার সামনে ভালো দেখাতে চায়। পড়াশোনা, অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা—সব জায়গায় নাম থাকতে হবে!
তার পাশে দাঁড়ানো মেয়েটি বলল,
— তুমি কি কাউকে নিয়ে বলছ?
খাদিজা হেসে বলল,
— না, এমনিই বললাম।
মেহরিন বুঝতে পারল, কথাগুলো তাকে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে। তবুও সে কিছু বলল না। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়াই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো।
লাইব্রেরিতে গিয়ে সে বিতর্কের জন্য প্রয়োজনীয় বই খুঁজতে লাগল। কিছুক্ষণ পর লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা আপা একটি বই এগিয়ে দিলেন।
— এই বইটা দেখো। তোমার বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য পাবে।
— ধন্যবাদ আপা।
বইটি হাতে নিয়ে মেহরিন পড়ার টেবিলে বসল। বইয়ের কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ার পর তার চোখ হঠাৎ পাশের তাকের দিকে গেল। সেই তাকের কাছেই একদিন তার হারিয়ে যাওয়া খাতাটি পাওয়া গিয়েছিল।
সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের অজান্তেই আপাকে জিজ্ঞেস করল,
— আপা, সেদিন আমার খাতাটা পাওয়ার পর কি কেউ এসে খোঁজ নিয়েছিল?
আপা একটু ভেবে বললেন,
— ঠিক মনে পড়ছে না। তবে একটা মেয়ে এসেছিল। খাতাটা কার, সেটা জানতে চেয়েছিল।
মেহরিনের বুকের ভেতর কেমন একটা ধাক্কা লাগল।
— কোন মেয়ে? আপনি চিনতে পেরেছিলেন?
— মুখটা ঠিক মনে নেই। অনেক শিক্ষার্থীই তো লাইব্রেরিতে আসে। তবে মেয়েটা খাতার কথা জানতে চেয়েছিল, এটা মনে আছে।
মেহরিন আর প্রশ্ন করল না। আপা নিজেও নিশ্চিত নন। তাই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাউকে সন্দেহ করা ঠিক হবে না।
লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে রাইসাকে সব বলল।
রাইসা মনোযোগ দিয়ে শুনে বলল,
— তাহলে কেউ খাতাটা পাওয়ার পর সেটার খোঁজ নিয়েছিল?
— হ্যাঁ। কিন্তু কে, সেটা জানা গেল না।
— তুমি কি মনে করো, সেই মেয়েটাই বার্তা পাঠিয়েছে?
— হতে পারে। আবার নাও হতে পারে।
রাইসা বলল,
— তাহলে এখন থেকে একটু সতর্ক থাকবে। আর বারবার এই বিষয় নিয়ে ভেবে নিজের মন খারাপ করবে না।
মেহরিন সম্মতি জানাল।
সেদিন বাড়ি ফিরে সে পড়তে বসেছিল। কিন্তু বারবার লাইব্রেরির আপার কথাটা মনে পড়ছিল। একটা মেয়ে এসে খাতার খোঁজ নিয়েছিল। ব্যাপারটা কি কাকতালীয়, নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো কারণ আছে?
বিকেলের দিকে মা তাকে বাজার থেকে কিছু জিনিস আনতে বললেন। মেহরিন ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল। ফেরার পথে এলাকার ছোট্ট বইয়ের দোকানটির সামনে দাঁড়াল। দোকানের সামনে কয়েকটি নতুন বই সাজানো ছিল। বইয়ের প্রচ্ছদগুলো দেখতে দেখতে তার মনে হলো, অনেক দিন নিজের জন্য নতুন কোনো বই কেনা হয়নি।
সে দোকানদারকে কয়েকটি বইয়ের দাম জিজ্ঞেস করল। পছন্দের একটি বই কিনে বাড়ির পথে হাঁটতে লাগল।
বাড়ি ফিরে ছোট ভাই বইটা দেখে বলল,
— আপু, আবার বই কিনেছ?
— হ্যাঁ। পড়ার জন্য।
— তুমি কি শুধু পড়তেই থাকো?
— আর কী করব?
— আমার সঙ্গে খেলবে!
মেহরিন হেসে বলল,
— আগে তোমার পড়া শেষ করো। তারপর দেখা যাবে।
সন্ধ্যায় পড়তে বসার আগে সে ফোনটা হাতে নিল। এবার সেই অপরিচিত নম্বর থেকে আরেকটি বার্তা এসেছে।
‘তুমি যাকে সন্দেহ করছ, সে হয়তো আসল মানুষ নয়।’
বার্তাটি পড়ে মেহরিনের হাত থেমে গেল।
এবার সে আর চুপ করে থাকতে পারল না। তবে কোনো আবেগের বশে উত্তর না দিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে লিখল,
‘আপনি কে? আমার খাতার ব্যাপারে কী জানেন? নিজের পরিচয় না দিলে আমি আর কোনো উত্তর দেব না।’
বার্তাটি পাঠানোর পর সে ফোনটা টেবিলে রেখে দিল। কয়েক মিনিট কেটে গেল। কোনো উত্তর এল না।
রাতের খাবারের পর বাবা তার পড়াশোনার খবর নিতে এলেন। মেহরিন তখন বই খুলে বসে আছে।
— প্রস্তুতি কেমন চলছে?
— ভালো বাবা। তবে আরও অনুশীলন করতে হবে।
— সেটা করো। আর একটা কথা, কোনো বিষয় নিয়ে অস্বস্তি হলে একা একা চিন্তা না করে আমাদের বলবে।
বাবার কথায় মেহরিন একটু থমকে গেল। সে কি বাবাকে বার্তাগুলোর কথা বলবে? কয়েক মুহূর্ত ভেবে বলল,
— বাবা, একটা কথা বলব?
— বলো।
মেহরিন ফোনটা বাবার হাতে দিয়ে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তাগুলো দেখাল। বাবা মনোযোগ দিয়ে সব পড়লেন।
— এই নম্বরটা কি তোমার পরিচিত?
— না বাবা।
— কেউ কি তোমাকে বিরক্ত করেছে বা আগে এমন কোনো বার্তা পাঠিয়েছে?
— না। তবে আমার হারিয়ে যাওয়া খাতার ব্যাপারে জানে।
বাবা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,
— অপরিচিত কারও কথায় ভয় পাবে না। ব্যক্তিগত কোনো তথ্য দেবে না। আবার কোনো সন্দেহের বশে কাউকে দোষও দেবে না। এমন বার্তা চলতে থাকলে আমাদের জানাবে। প্রয়োজনে নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া যাবে।
মেহরিন বলল,
— ঠিক আছে বাবা।
বাবা ফোনটা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন,
— এখন তোমার পড়াশোনায় মন দাও। সব রহস্যের সমাধান আজই করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
বাবার কথায় মেহরিন কিছুটা নিশ্চিন্ত হলো।
পরদিন মাদ্রাসায় গিয়ে সে দেখল, সুমাইয়া একা বসে আছে। মেহরিনের মনে হলো, অনেক দিন তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা হয়নি। সে এগিয়ে গিয়ে পাশে বসল।
— কেমন আছিস?
সুমাইয়া একটু অবাক হয়ে তাকাল।
— ভালো। তুমি?
— আমিও ভালো।
কিছুক্ষণ নীরবতা রইল। তারপর সুমাইয়া নিজেই বলল,
— তোমার বিতর্কের প্রস্তুতি কেমন?
— চলছে। তুমি কি অংশ নিচ্ছিস?
— না। আমার ইচ্ছা নেই।
মেহরিন বলল,
— আচ্ছা। তবে চাইলে তুইও চেষ্টা করতে পারিস।
সুমাইয়া মৃদু হেসে বলল,
— সবকিছু সবার ভালো লাগে না।
মেহরিন আর কিছু বলল না। তবে অনেক দিন পর সুমাইয়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে দু-একটি কথা বলতে পেরে তার ভালো লাগল।
ঠিক তখনই খাদিজা ক্লাসে ঢুকল। সে দুজনকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের জায়গায় চলে গেল।
মেহরিন বিষয়টি খেয়াল করলেও গুরুত্ব দিল না।
দিনের শেষ ক্লাসের পর শিক্ষিকা তাকে ডেকে বললেন,
— মেহরিন, তোমার বক্তব্যটা আরেকবার শুনতে চাই। আগামী প্রতিযোগিতায় তোমার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করছি।
মেহরিন একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
— জি ম্যাডাম। আমি চেষ্টা করব।
শিক্ষিকা বললেন,
— মনে রাখবে, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। অন্য কেউ কী বলল, সেটা নিয়ে বেশি ভাবলে নিজের কাজ ঠিকভাবে করা যায় না।
কথাগুলো শুনে মেহরিনের মনে হলো, শিক্ষিকা যেন তার মনের কথাই বুঝতে পেরেছেন।
বাড়ি ফেরার পথে রাইসা তাকে বলল,
— আজ তোমাকে অনেকটা স্বাভাবিক লাগছে।
— হ্যাঁ। বাবাকে সব বলেছি। উনিও বলেছেন অযথা চিন্তা না করতে।
— ভালো করেছ। সবকিছু নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখলে মন আরও ভারী হয়ে যায়।
মেহরিন মাথা নাড়ল।
সেদিন রাতে পড়া শেষ করে সে জানালার পাশে বসে নতুন কেনা বইটি পড়ছিল। হঠাৎ ফোনে একটি বার্তা এল।
সে ফোন হাতে নিল। এবার বার্তাটি আগের দুটির মতো ছিল না।
‘তোমার খাতার শেষ পাতায় যে কথাটা লেখা ছিল, সেটা তোমার জন্য লেখা হয়নি। যার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল, সে এখনো জানে না তুমি সেটা পড়েছ।’
মেহরিনের চোখ স্থির হয়ে গেল।
এবার বিষয়টা আর শুধু খাতা হারানোর ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। খাতার মধ্যে লেখা কথাটি যদি অন্য কারও উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তাহলে সেই মানুষটি কে? আর কেন তার খাতায় এমন কথা লেখা হয়েছিল?
সে বার্তাটির উত্তর দিতে চাইল। কিন্তু তার আগেই আরেকটি বার্তা এল।
‘সবকিছু জানতে চাইলে আগামীকাল লাইব্রেরির পুরোনো বইয়ের তাকের কাছে একবার খোঁজ করো। তবে কাউকে সন্দেহ করার আগে সত্যিটা জানার চেষ্টা কোরো।’
মেহরিনের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি তৈরি হলো। ভয়, কৌতূহল আর বিস্ময়—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করছে।
সে ফোনটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল।
এত দিন যে খাতার রহস্যকে নিজের সঙ্গে সম্পর্কিত ভেবেছিল, এখন মনে হচ্ছে ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কারও গল্পও জড়িয়ে আছে।
কিন্তু সেই মানুষটি কে?
আর যে অচেনা নম্বর থেকে বার্তাগুলো আসছে, সে কি সত্যিই মেহরিনকে সাহায্য করতে চাইছে, নাকি তাকে আরও বড় কোনো সমস্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
মেহরিন জানালার বাইরে তাকাল। রাতের আকাশে মেঘ জমেছে। বাতাসও যেন একটু ভারী হয়ে উঠেছে।
সে সিদ্ধান্ত নিল, পরদিন লাইব্রেরিতে যাবে। তবে একা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। প্রয়োজন হলে শিক্ষিকা বা বাবাকে সব জানাবে।
কারণ সত্য জানার আগ্রহ থাকলেও নিজের নিরাপত্তা আর সম্মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যায় না।
সেদিন ঘুমানোর আগে মেহরিন নিজের নতুন খাতায় লিখল—
‘কখনো কখনো আমরা যে গল্পের অংশ নই, অজান্তেই সেই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠি। কিন্তু অন্যের গল্পের সত্য জানতে গিয়ে নিজের গল্পের পথ হারিয়ে ফেলতে নেই।’
খাতাটা বন্ধ করে সে বাতি নিভিয়ে দিল।
পরদিন লাইব্রেরির পুরোনো বইয়ের তাকের কাছে কী অপেক্ষা করছে, তা সে জানত না।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—এবারের রহস্য শুধু তার হারিয়ে যাওয়া খাতার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একজনের গল্প, যার পরিচয় এখনো অন্ধকারে ঢাকা।
চলবে…