ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার গল্পে তুমি সেরা

পর্ব 1

লেখক: জান্নাত ইসলাম

পর্ব – ০১
সকাল ৭টা।
~পাখির মিষ্টি ডাক আর জানালার পর্দা ভেদ করে আসা সূর্যের আলোয় ঘুম ভাঙল জান্নাতের।
~ কিন্তু ঘুম ভাঙলেও বিছানা ছেড়ে ওঠার কোনো ইচ্ছা নেই তার।
মেয়েটা একটু অলস প্রকৃতির।
তবে দেখতে যেমন মিষ্টি, কথাবার্তায়ও তেমনই চঞ্চল।
— জান্নাত! এই জান্নাত! আর কত ঘুমাবি? সকাল হয়েছে, ওঠ!
রান্নাঘর থেকে চিৎকার করে বললেন সুলতানা বেগম।
কিন্তু যার নাম ধরে চিৎকার করা হচ্ছে, তার কোনো খবর নেই। সে তখনও আরামের ঘুমে ব্যস্ত।
সুলতানা বেগম রাগে গজগজ করতে করতে মেয়ের ঘরে ঢুকলেন।
সুলতানা: এই মেয়ে! তোর কি আজ বিয়ে? এত ঘুমাস কেন?
জান্নাত: (চোখ বন্ধ রেখেই) আম্মু, বিয়ে হলে আমাকে ডাক দিও।
এখন একটু ঘুমাতে দাও।
সুলতানা: দাঁড়া, আজ তোর ঘুম ছুটাচ্ছি!
জান্নাত এক লাফে বিছানা থেকে উঠে বসল।
জান্নাত: আম্মু!
তুমি কি মা, নাকি অ্যালার্ম ঘড়ি? একটু শান্তিতে ঘুমাতেও দাও না!
সুলতানা: মুখে মুখে কথা বলবি না। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়।
জান্নাত: হুহ! এই বাড়িতে আমার কোনো স্বাধীনতা নেই।
সুলতানা: কী বললি?
জান্নাত: বললাম, তুমি পৃথিবীর সেরা মা!
সুলতানা বেগম মেয়ের কথা শুনে মুচকি হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
জান্নাত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করতে করতে বলল,
জান্নাত: উফ! আমার মতো সুন্দর একটা মেয়ের জীবনটাই শেষ করে দিল এই অ্যালার্ম ঘড়ি!
কিছুক্ষণ পর জান্নাত নিচে নেমে এল।
ডাইনিং টেবিলে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন মিজান খান।
মিজান: এই যে আমার রাজকন্যা, আজ এত দেরি হলো কেন?
জান্নাত: আব্বু, তোমার মেয়ে বলে কথা! একটু রাজকীয়ভাবে ঘুম থেকে উঠতে হয়।জান্নাতের মনটা ভীষণ ভালো।
সে নিজের মানুষদের জন্য
সবকিছু করতে পারে।
কিন্তু কেউ একবার তার বিশ্বাস ভেঙে দিলে তাকে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করা খুব কঠিন।
সে হাসতে ভালোবাসে, দুষ্টুমি করতে ভালোবাসে, আবার ছোট ছোট বিষয়েও অভিমান করে বসে।
মিজান হেসে ফেললেন।জান্নাত মিজান খানের একমাত্র মেয়ে।
মিজান খান একজন সফল ব্যবসায়ী।
মিজান: তোর মতো পাগলি মেয়ে আর একটাও নেই।
জান্নাত: আব্বু! আমি পাগলি না, আমি একটু স্পেশাল!
সুলতানা: হ্যাঁ, অনেক স্পেশাল! এখন নাশতা কর।
জান্নাত মুখ বাঁকিয়ে নাশতা করতে লাগল।জান্নাত নিজের আত্মসম্মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।
সে কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না।
জান্নাতরা জয়েন ফেমিলি।
পরিবারের মানুষদের সে ভীষণ ভালোবাসে।
বিশেষ করে বাবা-মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা অপরিসীম।
তার একটা বদঅভ্যাস আছে—রাগ হলে সে কারও কথা শুনতে চায় না। আর একটা ভালো অভ্যাস হলো, সে কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না।
অন্যদিকে...
শহরের একটি বিশাল বাড়ি।
~ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে একজন সুদর্শন যুবক। পরনে কালো শার্ট, চোখে রাগের ছাপ। তার নাম আরিয়ান।আরিয়ান খুব একটা হাসে না।
অকারণে কারও সঙ্গে কথা বলাও তার পছন্দ নয়।
সে নিজের কাজ নিজেই করতে ভালোবাসে। তার কাছে সময়ের মূল্য অনেক বেশি।
কিন্তু এই কঠিন ব্যক্তিত্বের আড়ালে আরিয়ানের একটা সুন্দর মন রয়েছে।
আরিয়ান খান।
রাগ যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। সামান্য ভুলও সে সহজে মেনে নিতে পারে না।
আরিয়ান: আমি একটা কাজ দিয়েছিলাম, সেটাও ঠিকমতো করতে পারলে না?
কর্মচারী: স্যার, আসলে একটু ভুল হয়ে গেছে।
আরিয়ান: আমি কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। পরেরবার যেন এমন ভুল না হয়।
কথাটা বলেই সে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
তার মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মা: আরিয়ান, বাবা, সবসময় এত রাগ করিস কেন?
আরিয়ান: মা, প্লিজ! এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।
মা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
মা: এই ছেলেটাকে কে যে একদিন সামলাবে!
দুপুর ১২টা।
জান্নাত তার বান্ধবী মিমের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলো।জান্নাত দেখতে মিষ্টি হলেও স্বভাবে ভীষণ রাগী। কেউ তার সঙ্গে
‌ অন্যায় করলে সে চুপ করে থাকে না। নিজের আত্মসম্মানের ব্যাপারে সে কখনো আপস করে
না। তবে বাবা-মায়ের কাছে সে ভীষণ আদরের।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মিমের সঙ্গে গল্প করছিল সে।
হঠাৎ সামনে থেকে একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
জান্নাত একটু সরে দাঁড়াল।
কিন্তু গাড়ির দরজা খুলে যে ছেলেটি নামল, তাকে দেখেই জান্নাতের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
ছেলেটি ফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল। অসাবধানতায় তার ধাক্কা লাগল জান্নাতের সঙ্গে।
জান্নাত: চোখে কি সমস্যা আছে নাকি? সামনে মানুষ দেখতে পান না?
আরিয়ান ফোন থেকে চোখ তুলে তাকাল।
আরিয়ান: কী বললেন?
জান্নাত: কানে কি কম শোনেন? ধাক্কা দিয়ে আবার কী বললেন জিজ্ঞেস করছেন!
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
আরিয়ান: নিজের ভাষা ঠিক করে কথা বলুন।
জান্নাত: আগে নিজের হাঁটার স্টাইল ঠিক করুন। রাস্তা কি আপনার বাবার?
আরিয়ান এবার রেগে গেল।
আরিয়ান: আপনি জানেন আমি কে?
জান্নাত: জানার কোনো ইচ্ছা নেই। আর জানলেও আমার কিছু যায় আসে না!
মিম পাশে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে জান্নাতের হাত টানল।
মিম: জান্নাত, চল না। প্লিজ!প্লিজ!
জান্নাত: দাঁড়া তো! আগে এই অহংকারী লোকটাকে বুঝিয়ে দিই।
আরিয়ান: আপনার মতো মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় আমার নেই।
জান্নাত: তাহলে কথা বলছেন কেন? রাস্তা মাপতে যান!
কথাটা বলেই জান্নাত মিমের হাত ধরে চলে গেল।
আরিয়ান রাগে দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইল।
আরিয়ান: অসভ্য একটা মেয়ে!
অন্যদিকে হাঁটতে হাঁটতে জান্নাত বলল,
জান্নাত: দেখেছিস মিম? কী অহংকার! মনে হয় পৃথিবীর সব রাস্তা তার বাবার!
মিম: কিন্তু ছেলেটা দেখতে তো বেশ সুন্দর!
জান্নাত: ধুর! সুন্দর হলেই কি মানুষ হওয়া যায়? রাগী একটা বানর!
আরিয়ান দূর থেকে তাদের কথা শুনতে পায়নি। কিন্তু সে মনে মনে ঠিক করল, এই মেয়েটির সঙ্গে আবার দেখা হলে এর জবাব সে নেবেই।
কিন্তু তারা কেউই জানত না, আজকের এই ছোট্ট ঝগড়াই তাদের জীবনের এক নতুন গল্পের শুরু হতে যাচ্ছে।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন