ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার গল্পে তুমি সেরা

পর্ব 2

লেখক: জান্নাত ইসলাম

পর্ব – ০২ | আবারও মুখোমুখি;
সকাল বেলা
জান্নাতের ঘরে অ্যালার্মের শব্দ বেজে চলেছে।
কিন্তু ম্যাডামের ঘুম ভাঙার কোনো নামই নেই।
হঠাৎ দরজা খুলে সুলতানা বেগম ঘরে ঢুকলেন।
জান্নাতের ঘুম ভাঙল মায়ের ডাকে।
— জান্নাত! এই মেয়ে, আর কত ঘুমাবি?
জান্নাত বিরক্ত হয়ে বালিশের নিচ থেকে মুখ বের করল।
— উফফ মা! আর পাঁচ মিনিট ঘুমাতে দাও না!
সুলতানা বেগম রাগী চোখে তাকালেন।
— তোর পাঁচ মিনিট যে কখনো শেষ হয় না, সেটা আমি ভালো করেই জানি।
জান্নাত: আম্মু, তুমি আমার ঘুমের শত্রু!
সুলতানা: দাঁড়া, আজ তোর আব্বুকে বলছি।
জান্নাত সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসল।
জান্নাত: না না! আব্বুকে কিছু বলবে না। আমি উঠছি!
সুলতানা বেগম মুচকি হেসে চলে গেলেন। আজকে জান্নাতের কলেজ ছুটি।
কিছুক্ষণ পর নাশতার টেবিলে এসে বসল সে।
মিজান খান পত্রিকা পড়ছিলেন। মেয়েকে দেখে বললেন,
— কী রে মা, আজ এত চুপচাপ কেন?
জান্নাত মুখে খাবার নিয়ে বলল,
— কিছু না বাবা। ওই অসভ্য ছেলেটার কথা মনে পড়ছে।
— কোন ছেলে?
— থাক বাবা! তোমাকে বললে তোমারও মাথা গরম হয়ে যাবে।
মিজান খান মুচকি হাসলেন।
তারপর জান্নাত তার রুমে গেল।
কিছুক্ষণ পর,
জান্নাত নিচে এসেলো-
জান্নাত: আমার পৃথিবীর সেরা আব্বু!
মিজান: আজ কোথাও যাবি?
জান্নাত: হ্যাঁ আব্বু। মিমের সঙ্গে একটু শপিং
করতে যাব।
মিজান: ঠিক আছে। তবে সাবধানে যাবি।
জান্নাত: জি, বস!
অন্যদিকে শহরের এক বিশাল অফিসে বসে আছে আরিয়ান খান।
কালো শার্ট, হাতে দামি ঘড়ি, চোখে গম্ভীর দৃষ্টি।
সে দেশের একজন পরিচিত বিলিয়নিয়ার
ব্যবসায়ী এবং একটি বড় প্রতিষ্ঠানের CEO।
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার বন্ধু রাফি।
— দোস্ত, আজকে তোর মেজাজ এত খারাপ কেন?
আরিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ না তুলেই বলল,
— নিজের কাজ কর।
রাফি হেসে বলল,
— বুঝেছি! কালকের সেই মেয়েটার কথা ভাবছিস, তাই না?
আরিয়ান এবার চোখ তুলে তাকাল।
— রাফি!
— আচ্ছা বাবা, চুপ করলাম!
দুপুর ১২টা।
জান্নাত তার বান্ধবী মিমকে নিয়ে শপিং মলে এসেছে।
শপিং মলে ঢুকেই জান্নাতের চোখ চকচক করে উঠল।
জান্নাত: আহা! এত সুন্দর সুন্দর ড্রেস!
মিম, আজকে আমি সব দেখব।
মিম: সব কিনবি নাকি?
জান্নাত: টাকা আমার আব্বুর, চিন্তা তোর কেন?
মিম: তুই একটা অসহ্য মেয়ে!
দুজনেই হেসে উঠল।
জান্নাত একটা গোলাপি রঙের ড্রেস হাতে নিয়ে দেখছিল।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।
হঠাৎ জান্নাতের চোখ পড়ল সামনের দিকে।সে দেখতে পেল;
একজন ছেলে কালো শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
চেনা চেনা লাগতেই তার মুখটা বিরক্তিতে ভরে গেল।
— সর্বনাশ! আবার এই লোক!
মিম অবাক হয়ে বলল,
— কে? কাকে দেখেছিস?
— ওই যে! আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিরক্তি!
ঠিক তখনই আরিয়ানও জান্নাতকে দেখতে পেল।
সে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— বাহ! আবার দেখা হয়ে গেল, মিস ঝগড়াটে।
জান্নাত কোমরে হাত দিয়ে বলল,
— আপনার মতো অসভ্য মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।
আরিয়ান শান্ত গলায় বলল,
— তাহলে চোখ খুলে হাঁটতে শিখুন।
— কী বললেন?
— কানে সমস্যা আছে নাকি?
মিম তাড়াতাড়ি জান্নাতের হাত ধরে বলল,
— জান্নাত, চল। এখানে ঝামেলা করে লাভ নেই।
জান্নাত যাওয়ার আগে আঙুল তুলে বলল,
— আপনার সঙ্গে আবার দেখা হলে খবর আছে!
আরিয়ান মুচকি হেসে বলল,
— অপেক্ষায় থাকব।
কিছুক্ষণ পর আরিয়ান তার বন্ধুর সঙ্গে বসে কফি খাচ্ছিল।
হঠাৎ তার চোখ গেল দূরে বসে থাকা জান্নাতের দিকে।
সে ওয়েটারকে ডাকল।
— ওই মেয়েটার জন্য একটা কফি নিয়ে যান।
ওয়েটার চলে গেল।
কফি সামনে আসতেই জান্নাত অবাক হয়ে তাকাল।
— এটা কে পাঠিয়েছে?
ওয়েটার আরিয়ানের দিকে ইশারা করল।
জান্নাত কফির কাপটা হাতে নিয়ে আবার রেখে দিল।
তারপর উঠে আরিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
— আপনার টাকা দিয়ে আমাকে কেন কফি খাওয়াতে হবে?
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— উপকার করতে চেয়েছিলাম।
— আপনার উপকার আপনার কাছেই রাখুন।
কথাটা বলে জান্নাত চলে গেল।
রাফি হেসে বলল,
— ভাই, জীবনে প্রথম দেখলাম কেউ তোর কফি ফিরিয়ে দিল!
আরিয়ান গম্ভীর মুখে বলল,
— বেশি কথা বলিস না।
কিন্তু তার চোখ তখনও জান্নাতের চলে যাওয়ার পথের দিকে।
বিকেল-৪ টা
জান্নাত বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকল।
সুলতানা: কী রে মা, শপিং কেমন হলো?
জান্নাত: ভালোই ছিল। কিন্তু একটা বিরক্তিকর
ছেলের সঙ্গে আবার দেখা হয়ে গেল।
সুলতানা: কেন? কী করেছে ছেলেটা?
জান্নাত: আম্মু, ছেলেটার নাম আরিয়ান।
প্রচণ্ড রাগী!
কথা বললেই মনে হয় পৃথিবীর সব রাগ তার মাথায় জমা আছে।
সুলতানা হেসে বললেন,
সুলতানা: তোর রাগের সামনে আবার আরেকজন রাগী মানুষ!
জান্নাত: আম্মু, তুমি হাসছ কেন?
আমি কিন্তু একদম মজা করছি না!
সুলতানা: আচ্ছা, আর কিছু বলব না।
জান্নাত রাগ করে নিজের ঘরে চলে গেল।
সন্ধ্যা ৭টা।
অন্যদিকে জান্নাত বাড়ি ফিরে ডায়েরি খুলেলো! নিজের ঘরে বসে জান্নাত ডায়েরি লিখছিল।
আজ আবার সেই রাগী ছেলেটার সঙ্গে দেখা হলো।
ছেলেটার এত অহংকার কেন বুঝি না! নিজেকে কী মনে করে সে!
কী অদ্ভুত মানুষ! সবসময় এমন রাগী মুখ করে থাকে কেন?'
অন্যদিকে, আরিয়ানের বাড়ি।
আরিয়ান নিজের ঘরে বসে ফোন দেখছিল। হঠাৎ তার ফোনে একটা মেসেজ এল।
রাফি মেসেজ করেছে—
বন্ধু, আজকে কিন্তু তোর সঙ্গে দেখা হওয়া মেয়েটা বেশ মজার!
আরিয়ান মেসেজটা পড়ে ফোনটা পাশে রেখে দিল।
তারপর নিজের মনেই বলল,
আরিয়ান: মেয়েটা সত্যিই অদ্ভুত! আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলার সাহস পেল কোথা থেকে?
কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটে উঠল।
সে নিজেও বুঝতে পারল না, কেন মেয়েটার কথা বারবার মনে পড়ছে।
কিন্তু সে জানত না, এই মেয়েটাই একদিন তার সাজানো জীবনের সব হিসাব বদলে দেবে।
চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন