ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুই থাকলে গল্প জমে

পর্ব 1

লেখক: জিনিয়া

গল্পের নাম: তুই থাকলেই গল্প জমে!
পর্ব: ১
শিরোনাম: যেভাবে শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব
কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে একদম হঠাৎ করে। অথচ একসময় তারাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাদের সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলো একসময় অনেক বড় স্মৃতি হয়ে থাকে।
মায়া আর নীলার বন্ধুত্বটাও ঠিক এমনই ছিল।
মায়া ছিল একটু চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে। খুব বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলত না। অন্যদিকে নীলা ছিল একদম তার উল্টো। সারাক্ষণ কথা বলা, হাসাহাসি করা আর সবাইকে বিরক্ত করাই ছিল তার প্রধান কাজ।
তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল স্কুলের নতুন ক্লাসে।
সেদিন মায়া ক্লাসের এক কোণে একা বসে ছিল। হঠাৎ একটা মেয়ে এসে তার সামনে দাঁড়াল।
নীলা: এই যে, এখানে কি কেউ বসেছে?
মায়া: না, বসতে পারো।
নীলা: তোমার নাম কী?
মায়া: মায়া। তোমার?
নীলা: আমার নাম নীলা। আচ্ছা, তুমি এত চুপচাপ কেন?
মায়া: এমনিই। আর তুমি এত কথা বলো কেন?
নীলা: কারণ আমি কথা না বললে পৃথিবীতে নীরবতা নেমে আসবে!
মায়া কথাটা শুনে হেসে ফেলল।
নীলা মনে মনে ভাবল, মেয়েটা তো বেশ মজার!
সেদিন থেকেই তাদের কথাবার্তা শুরু হলো।
কয়েক দিনের মধ্যেই তারা বেশ ভালো বন্ধু হয়ে গেল। একসঙ্গে স্কুলে আসা, টিফিন ভাগ করে খাওয়া, ক্লাসের ফাঁকে গল্প করা—সবকিছুতেই তারা একসঙ্গে থাকত।
একদিন ক্লাসে শিক্ষক পড়া ধরলেন।
শিক্ষক: নীলা, বলো তো গতকালের পড়াটা কী ছিল?
নীলা দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাতে লাগল।
নীলা: স্যার, পড়াটা তো জানি, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার স্মৃতিশক্তি ছুটিতে গেছে!
পুরো ক্লাস হেসে উঠল।
মায়াও হাসতে হাসতে মাথা নিচু করে ফেলল।
ক্লাস শেষে মায়া বলল,
মায়া: তুই একটা আস্ত পাগলি!
নীলা: জানি। কিন্তু তুই তো আমার পাগলামি সহ্য করিস!
মায়া: আর কতদিন করব, সেটাই ভাবছি।
নীলা: সারাজীবন!
মায়া: আগে পরীক্ষায় পাস কর, তারপর সারাজীবনের কথা ভাবিস!
দুজন আবার হেসে উঠল।
দিন যেতে লাগল। তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হতে থাকল। নীলা কোনো দিন স্কুলে না এলে মায়ার দিনটা ভালো কাটত না। আর মায়া চুপচাপ থাকলে নীলারও কিছু ভালো লাগত না।
একদিন নীলা স্কুলে এল না।
মায়া বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছিল। ক্লাসে মন বসছিল না। টিফিনের সময়ও সে একা বসে রইল।
বাড়ি ফিরে ফোন হাতে নিয়ে নীলাকে মেসেজ দিল।
মায়া: কোথায় তুই?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।
নীলা: বাসায়।
মায়া: স্কুলে আসিসনি কেন?
নীলা: শরীরটা ভালো লাগছিল না।
মায়া: আগে বলবি না? আমি সারাদিন একা একা বসে ছিলাম।
নীলা: ওহ্! আমাকে এত মিস করেছিস?
মায়া: একদম না। শুধু আমার বিরক্ত করার মানুষ ছিল না।
নীলা: হাহাহা! বুঝেছি, আমাকে ছাড়া তোর চলে না।
মায়া: বেশি বুঝিস না।
নীলা: আচ্ছা, কাল দেখা হবে। আমার জন্য টিফিন নিয়ে আসবি।
মায়া: কেন?
নীলা: কারণ আমি অসুস্থ মানুষ। আমার যত্ন নেওয়া তোর দায়িত্ব!
মায়া: বাহ! অসুস্থতার সুযোগ নিচ্ছিস?
নীলা: অবশ্যই!
পরদিন নীলা স্কুলে ফিরল। মায়া তাকে দেখেই বলল,
মায়া: এই যে, মহারানি! অবশেষে দর্শন দিলেন?
নীলা: হ্যাঁ, প্রজাদের আর অপেক্ষা করানো যায় না।
মায়া: তোর কথা শুনলে আমার মাথা ব্যথা শুরু হয়।
নীলা: তাহলে আমার পাশে বসিস না।
মায়া: সেটা আবার হয় নাকি?
নীলা একটু থেমে মায়ার দিকে তাকাল। তারপর হেসে বলল,
নীলা: জানিস, তুই আমার খুব ভালো বন্ধু।
মায়া: হঠাৎ এসব বলছিস কেন?
নীলা: এমনিই। সবাই আমার সঙ্গে কথা বলে, হাসে। কিন্তু তুই আমার মন খারাপটাও বুঝতে পারিস।
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
মায়া: তুইও আমার খুব কাছের একজন। তাই বলে ভাবিস না, তোর সব ফাজলামি আমি সহ্য করব!
নীলা: আরে, তুই তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড!
মায়া: কে বলেছে?
নীলা: আমি বলেছি। ব্যস, হয়ে গেছে!
দুজনের হাসিতে ক্লাসরুমটা আবার মুখর হয়ে উঠল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবনে নতুন নতুন মানুষ আসতে শুরু করল। তাদের বন্ধুত্বের মাঝেও ছোটখাটো অভিমান জমতে লাগল।
একদিন স্কুলে নতুন একটি মেয়ে ভর্তি হলো। মেয়েটির নাম রিমি।
রিমি ছিল খুব মিশুক। প্রথম দিন থেকেই সে নীলার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল। নীলাও তার সঙ্গে বেশ ভালোভাবে মিশে গেল।
মায়া প্রথমে বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল। কারণ তার মনে হয়েছিল, নীলার নতুন বন্ধু হয়েছে, এতে সমস্যা কোথায়?
কিন্তু কয়েক দিন পর মায়া খেয়াল করল, নীলা এখন আর আগের মতো তার সঙ্গে সময় কাটায় না। স্কুলে এসেই রিমির কাছে চলে যায়। টিফিনের সময়ও দুজন একসঙ্গে বসে।
মায়া দূর থেকে তাদের দেখত আর নিজেকে বোঝাত, বন্ধুত্ব মানে তো কাউকে আটকে রাখা নয়।
তবুও তার মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে যেত।
একদিন ছুটির পর মায়া নীলাকে বলল,
মায়া: আজকাল তোকে অনেক ব্যস্ত দেখা যায়।
নীলা: কেন? কী হয়েছে?
মায়া: কিছু না। নতুন বন্ধু পেয়েছিস তো, তাই পুরোনোদের সময় দেওয়ার দরকার নেই!
নীলা: এই কথার মানে কী?
মায়া: কিছু না বললাম তো!
নীলা: মায়া, তুই কি আমার ওপর রাগ করেছিস?
মায়া: না। আমি আবার রাগ করব কেন?
নীলা: তোর মুখ দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে।
মায়া আর কিছু বলল না। শুধু ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল।
নীলা পেছন থেকে ডাকল,
নীলা: এই মায়া! দাঁড়া! আমার কথা শুনে যা!
কিন্তু মায়া সেদিন আর ফিরে তাকাল না।
সেদিন রাতে দুজনের কেউ কাউকে মেসেজ দিল না।
মায়া ফোন হাতে নিয়ে অনেকবার নীলার নামের দিকে তাকাল। লিখতে গিয়েও কিছু লিখল না।
অন্যদিকে নীলাও ভাবছিল, মায়া হঠাৎ এমন আচরণ করছে কেন?
তাদের বন্ধুত্বে এই প্রথম একটা নীরবতা নেমে এল।
যে দুজন প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত, তারা আজ একটা মেসেজও পাঠাল না।
তবে কি একটা নতুন বন্ধুত্ব পুরোনো বন্ধুত্বের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে দিল?
নাকি সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় কোনো অভিমান?
সেটা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে পরের পর্বের জন্য।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন