#Our_Destiny
#লেখনিতে_জান্নাত_আরা
#পর্ব৪
সারাদিন ক্লাসে দুষ্টামি করে তো করেই রাস্তা দিয়েও শয়তানি ফাজলামি করতে করতে যায় তিন জন। এই তো আজকে মেইন রোড এ উঠে হাঁটা শুরু করলে একটা অটো এসে জারার গায়ে ধাক্কা দিতে যাবে ঠিক তখনি কবিতা টান দিয়ে সরিয়ে বলল
- ম* তোর মন কই থাকে আরেকটু হলেই তো মরতি!
- মরলে মরতাম তাতে কি? শোন আমি মরলে একদম কাঁদবি না সঙ্গে সঙ্গে তুইও মরবি বুঝলি, তারপর দুই পাপিষ্ঠ বান্ধবী মিলে শেওলা গাছে বসে বসে মানুষ কে ভয় দেখাবো!
- আর তাসমিন ওর কি হবে? আমাদের ছাড়া একা একা থাকবে কীভাবে?
- কীভাবে আবার? আমরা মরে ভুত হওয়ার পর ওরেও ভয় দেখিয়ে মারবো!তারপর আর কি ৩ জনে মিলে শেওলা গাছে বসবাস করবো।idea টা কেমন?
তাসমিন এইবার মুখ খুললো
- তুই কি পাগল?
জারা জানে ওকেই পাগল বলেছে তাও কবিতা কে মিন করে বললো
- তোকে যদি কেউ পাগল বলে একদম হতাশ হবি না! ঘরের এক কোনায় গিয়ে চুপিচুপি ভাববি তুই পাগল এটা ওরা জানলো কীভাবে
লে হো হো করে তিন জনের হাসি শুরু।জারার তো এটাও খেয়াল নেই ওর এই হাসিই কেউ একজন মুদ্ধ হয়ে দেখছে!
_______________
সামনের সপ্তাহেই প্রি-টেস্ট পরীক্ষা। এদিকে জারার প্রস্তুতি ভালো হলেও মেথ কমপ্লিট হয়নি।তাই তিনজন এবার প্লেন করলো গ্রুপ স্টাডি করবে। কিন্তু কার বাসায়? তাসমিনের বাসায় ওর বড় ভাই আছে।জারার বাসায় ওর ভাইয়েরা শুক্রবারে বাসায় থাকে সাথে ভাইসতাদের কান্নাকাটি ফ্রী! তাই অবশেষে কবিতাদের বাসা ই ফিক্সড হলো।তবে সমস্যা হলো যত সিরিয়াল এক্সামই হোক না কেন ওরা জীবনেও সিরিয়াস হয় না। গ্রুপ স্টাডি হয়ে যায় ককটেল পার্টি।
___শুক্রবার __
জারা- বাল কিসের পড়া পড়বো! কিছুই মাথায় ঢুকে না।
কবিতা- সারাবছর পড়িস? যে আজকে মাথায় ঢুকবে।
জারা - দুর বাল আর করতে পারতাম না। চল অন্য কিছু করি।
তাসমিন- কি?
জারা - ড্রামা!
কবিতা- মানে? বাই এনি চান্স তুই নিজেকে নায়িকা ভাবতে শুরু করলি না তো?
জারা- হোপ বেডি। আমি একা না তোরাও এক্ট করবি। হেনার কাহিনি মনে আছে তো?
ব্যাস শুরু হয়ে গেলো ত্রিপলা টিম।
লাইট ক্যামেরা একশন" ক্যামেরা তে ভিডিও অন করলো
জারা- চাচা হেনা কোথায়?
কবিতা- হেনা! হেনার তো বিয়ে হয়ে গেছে বাবা।
জারা- নাাাাাাাাাা! এ আমি বিশ্বাস করি না
তাসমিন- এ আমি মানি না
এরই মাঝে কবিতার ভাই হঠাৎ ই রুমে চলে আসে।সে তো এক প্রকার বিসুম খেলো ওদের নাটক দেখে।কবিতার ভাই এর নাম আয়ান। এ বছরই এইস এস সি পরীক্ষা শেষ করল।বয়সে বড় হওয়ায় জারা আর তাসমিন দুইজনেই লজ্জা পেল। দ্রুত ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকলো।
কবিতা- কিরে ভাইয়া তুই!?
আয়ান- আমার বোন যে আজকে আমার জন্য এমন এক সারপ্রাইজ দিবে ভাবতেই পারিনি!
আয়ান মূলত আজই পরীক্ষা শেষ করে বাসায় ফিরলো। যদিও ফেরার কথা ছিল আরো কয়েকদিন পর।
জারা কবিতা কে টান দিয়ে কানে কানে বলল- কিরে বইন তোর ভাই যে বাসায় আগে বলবি না?
কবিতা- আরে আমি জানতাম নাকি যে আজই ফিরে আসবে।
তাসমিন- আমাদের মান সম্মান সব শেষ!
আয়ান ওদের অসুবিধা বুঝলো হয়তো।রুম থেকে বের হয়ে গেলো।তবে যাওয়ার আগে আড় চোখে জারা কে দেখে গেল।
আয়ান বের হওয়ার পর পর ই কবিতা বলতে লাগলো
- তোদের আবার মান সম্মান, হাহ!
জারা ক্ষেপে গিয়ে বলল
- আমার মত শান্ত শিষ্ট, ভদ্র,নম্র,বুদ্ধিমান, লক্ষী মেয়ে কে বান্ধবী হিসেবে পেয়েছিস, তাও আবার free তে free তে free তে!একটু তো সম্মান কর।
- সম্মান!??
- হ্যাঁ, যা তুই একদম ই দিস না।
- জারা আপা, জাতির আপা,আমার আপা, সবার আপা আপনার বোনের ভুল মাপ করবেন।
হো হো করে হাসির শব্দে ঘর মুখরিত হলো।
[ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন। আশা করি সবার ভালো লাগবে। রেসপন্স করবেন দয়া করে]