ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ পর্যন্ত তুমি আমার

পর্ব 2

লেখক: ইসরাত জাহান রিশা

শেষ পর্যন্ত তুমি আমার

লেখিকা ইসরাত জাহান রিশা

পর্ব – ২

ক্লাসরুমে বসে আছে আরিশা। তার মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। মনে মনে সামিয়াকে একের পর এক গালি দিচ্ছে সে।

আরিশা (মনে মনে): এই মেয়েটার আসতে এতক্ষণ লাগে কেন? কখন আসার কথা ছিল, আর এখন কয়টা বাজে! এখনো আসার নাম নেই। এদিকে এখানে কাউকে চিনিও না। আল্লাহ, আমার যে কী হবে!

এসব ভাবতে ভাবতেই আরিশার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ একজন এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

সামিয়া: কী রে, বাপের আদরের দুলালি! কেমন আছিস?

আরিশা পেছনে ঘুরে তাকিয়ে চোখমুখ শক্ত করে বলল,

আরিশা: বেয়াদব মেয়ে! তোর এতক্ষণে আসার সময় হলো? আমি সেই কখন এসেছি! তুই তো আমার থেকেও বেশি অলস!

সামিয়া: আরে, রাগ করিস কেন? দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছি, তাই একটু দেরি হয়ে গেছে। রাগ করিস না, প্লিজ!

আরিশা মুখ ঘুরিয়ে নিল। সামিয়া তার পাশে বসতেই তাদের কথার মাঝে একটি মেয়ে এসে মিষ্টি গলায় বলল,

মেয়েটি: আচ্ছা, এখানে কি আমি বসতে পারি?

আরিশা আর সামিয়া দুজনেই মেয়েটির দিকে তাকাল।

মেয়েটির গায়ের রং ফর্সা, চোখ দুটো নীল আর লাল রঙের চুলগুলো হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। পরনে সুন্দর সাদা আর ছোট ছোট চেরি একটি গোল ফ্রক। দেখতে একদম ছোট্ট বাচ্চাদের মতো মিষ্টি!

মেয়েটিকে দেখে দুজনেই বলে উঠল,

আরিশা ও সামিয়া: মাশাআল্লাহ! তুমি তো অনেক মিষ্টি! একদম পরির মতো দেখতে!
আরিশা আবার বললো এতো ইশানী আর
এলিজাবেথ এর mix version

তাদের কথা শুনে মেয়েটি লজ্জা পেয়ে গেল।

আরিশা: আরে, লজ্জা পেয়ো না! তুমি এখানে বসো। কোনো সমস্যা নেই, সিট ফাঁকাই আছে।

মেয়েটি মিষ্টি করে হেসে তাদের পাশে বসে পড়ল।

সামিয়া: আচ্ছা, তোমার নাম কী?

মেয়েটি: আমার নাম রোজা চৌধুরী। তোমাদের নাম কী?

আরিশা: আমার নাম আরিশা খান। আর ও আমার ফ্রেন্ড, সামিয়া ইসলাম।

রোজা: আচ্ছা, আমি কি তোমাদের ফ্রেন্ড হতে পারি? আমি দূর থেকেই তোমাদের দেখছিলাম। তোমাদের দুজনকেই আমার খুব ভালো লেগেছে। তাই এখানে এসে বসেছি।

আরিশা হেসে বলল,

আরিশা: আরে পাগলি, ফ্রেন্ড হতে আবার অনুমতি লাগে নাকি? এখন থেকে আমরা ফ্রেন্ড। আর তুই করেই বলবি!

রোজাও হেসে ফেলল।

রোজা: আচ্ছা!

তাদের কথার মাঝেই একজন স্যার ক্লাসরুমে প্রবেশ করলেন। স্যারকে দেখামাত্র সবাই দাঁড়িয়ে গেল।

স্যার: সবাই বসো।

স্যারের নির্দেশে সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে পড়ল। আজ প্রথম দিন বলে স্যার তেমন কিছু পড়ালেন না। বরং সবার নাম ও পরিচয় জানতে চাইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলেন।

ক্লাস শেষ হতেই পুরো ক্লাসরুমে শুরু হয়ে গেল ফিসফাস। কেউ একজনের কানে কানে কিছু বলছে, আবার কেউ শুনে হাসছে।

আরিশা, সামিয়া আর রোজা কিছুই বুঝতে পারছিল না। কী নিয়ে সবাই এত কথা বলছে?

অবশেষে রোজা সামনে বসে থাকা একটি মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞেস করল,

রোজা: আচ্ছা, সবাই কী নিয়ে এত ফিসফাস করছে? আজ কি বিশেষ কিছু আছে?

মেয়েটি: জানো না? আজ নতুন প্রফেসর আসবেন! শুনেছি, স্যার নাকি দেখতে অনেক হ্যান্ডসাম। তবে খুব রাগীও! এসব নিয়েই সবাই কথা বলছে।

রোজা: ওহ্, আচ্ছা! থ্যাংক ইউ!

মেয়েটি: ইউ আর ওয়েলকাম!

মেয়েটি হেসে নিজের জায়গায় ফিরে গেল।

সব শুনে আরিশা বিরক্তির সঙ্গে বলল,

আরিশা: ও আচ্ছা! এই নিয়ে এত কথা! স্যারই তো আসবেন। এমন করছে, যেন ওদের জামাই আসছে!

সামিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

সামিয়া: তা করবে না কেন? আমিও শুনেছি ওই স্যারের কথা। উনি নাকি অনেক সুন্দর! সব মেয়ের ক্রাশ!

আরিশা: ক্রাশ না, বাঁশ! আসুক না তোর সেই ক্রাশ। তারপর দেখব কত সুন্দর!

সামিয়া আর কিছু বলার আগেই ক্লাসরুমের দরজা দিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রবেশ করলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একজন সুদর্শন যুবক।

যুবকটিকে দেখামাত্র ক্লাসের প্রায় সব মেয়ের চোখ তাঁর দিকে আটকে গেল। কেউ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে, কেউ আবার বান্ধবীর কানে কানে কিছু বলছে।

কিন্তু আরিশার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ!

তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মুখ হাঁ হয়ে গেল।

আরিশা (মনে মনে): এ কে রে ভাই! এ এখানে কী করছে? এ তো অস্ট্রেলিয়ায় ছিল! এসব কী হচ্ছে? আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি?

আরিশা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সে তাড়াতাড়ি সামিয়ার দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,

আরিশা: এই সামিয়া, আমাকে একটা চিমটি কাট তো!

সামিয়া: চুপ কর!

আরিশা: আরে, আগে চিমটি কাট!

সামিয়া বিরক্ত হয়ে আরিশার হাতে একটা চিমটি কাটল।

আরিশা: উফ্! লাগছে!

তারপর নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আবার মনে মনে বলতে লাগল,

আরিশা (মনে মনে): তার মানে আমি সত্যিই জেগে আছি! কিন্তু ফুপি আমাকে একবারের জন্যও বলেনি যে উনি এখানে আসবেন!

পাশ থেকে রোজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

রোজা: কী হয়েছে রে? কী বিড়বিড় করছিস?

আরিশা এখনো অবাক হয়ে যুবকটির দিকে তাকিয়ে আছে।

আরিশা: আরে, উনি আমার ভাইয়া! মানে আমার ফুপাতো ভাই। ওনাকে হঠাৎ এখানে দেখে শক খেয়েছি!

রোজা: কী! উনি তোর ভাই?

আরিশা: হ্যাঁ! কী হয়েছে? বিশ্বাস হচ্ছে না?

রোজা অবাক হয়ে আরিশার দিকে তাকিয়ে রইল। এর মধ্যেই ভাইস চ্যান্সেলর সবার উদ্দেশে বললেন,

ভাইস চ্যান্সেলর: সবাই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। ইনি হলেন তোমাদের নতুন প্রফেসর, রওনক চৌধুরী। ইনি তোমাদের ইংরেজি পড়াবেন। আজ থেকে ইংরেজি ক্লাস ইনিই নেবেন। আশা করি, তোমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করবে এবং স্যারের নির্দেশ মেনে চলবে।

কথা শেষ করে ভাইস চ্যান্সেলর রওনকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

রওনক সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,

রওনক: সবাই বসো।

সবাই বসে পড়ল।

এদিকে রোজা এখনো অবাক হয়ে আরিশার দিকে তাকিয়ে আছে।

রোজা (ফিসফিস করে): কী রে! এটা সত্যিই তোর ভাই?

আরিশা: হ্যাঁ রে! তোর বিশ্বাস হচ্ছে না কেন?

রোজা: বিশ্বাস হচ্ছে, কিন্তু তুই আগে বলিসনি কেন?

আরিশা: আরে, আমিই তো জানতাম না যে উনি এখানে আসবেন!

তাদের কথার মাঝেই রওনকের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।

রওনক: ওই যে, চার নম্বর বেঞ্চের মেয়েরা! তোমরা দুজন দাঁড়াও।

কথাটা শুনে আরিশা আর রোজা দুজনেই থমকে গেল।

আল্লাহ! স্যার কি তাদের কথা শুনে ফেলেছেন?

দুজনের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তারা আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল। মনে মনে দুজনেই বলছে,

আরিশা ও রোজা (মনে মনে): গেলাম! এবার আমাদের কী হবে?

ভয়ে বুক ধুকপুক করলেও বাইরে থেকে দুজনেই যথাসম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

রওনক ভ্রু সামান্য কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন,

রওনক: তোমাদের নাম কী?

আরিশা আর রোজা মনে মনে বলে উঠল,

আরিশা ও রোজা (মনে মনে): এমন ভাব করছেন, যেন জীবনে আমাদের কখনো দেখেননি!

কিন্তু মুখে কিছু বলার সাহস হলো না। দুজনেই নিজেদের নাম বলে দিল।

রওনক ঠোঁটের কোণে সামান্য বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বললেন,

রওনক: আচ্ছা, মিস রোজা আর মিস আরিশা! তোমরা দুজন কী নিয়ে কথা বলছিলে?

রোজার মুখ মুহূর্তেই শুকিয়ে গেল। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, সে রওনককে ভীষণ ভয় পায়।

রোজা: কিছু না, স্যার!

আরিশা পাশ থেকে রোজার দিকে তাকাল।

আরিশা (মনে মনে): বাহ্! আরেকটু হলেই তো সব ফাঁস করে দিতি! আরও ফাঁসানোর প্ল্যান আছে নাকি?

অবশেষে আরিশা নিজেই বলে উঠল,

আরিশা: স্যার, রোজা শুধু জিজ্ঞেস করছিল যে আপনাকে আমি চিনি কি না। এইটুকুই, স্যার। আর কিছু না!

রওনক এবার একটু বাঁকা হেসে বললেন,

রওনক: তাই নাকি? আপনারা দুজনেই তো আমাকে বেশ ভালো করে চেনেন!

কথাটা শুনে রোজার মুখ আরও চুপসে গেল।

রওনক: আচ্ছা, আর যেন এমন না হয়। অন্তত আমার ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না। বুঝতে পেরেছেন?

রোজা ও আরিশা: জি, স্যার!

আরিশা মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,

আরিশা (মনে মনে): কী ঢং দেখো! বাসায় কী করে, সেটা মনে হয় জানেই না! এখানে এসে একেবারে রাগী প্রফেসর সেজেছে!

রওনক এবার আরিশার দিকে তাকালেন।

রওনক: কিছু বলবেন, মিস আরিশা?

আরিশা তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ল।

আরিশা: না, স্যার!

রওনক: তাহলে বসুন।

আরিশা আর রোজা দুজনেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গায় বসে পড়ল তারা।

কিছুক্ষণ পর রওনক আবার বললেন,

রওনক: আচ্ছা, এবার তোমরা সবাই একে একে নিজেদের পরিচয় দাও। নাম, কোথা থেকে এসেছ এবং নিজের সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবে। শুরু করো সামনের বেঞ্চ থেকে।

এক এক করে সবাই নিজের পরিচয় দিতে শুরু করল।

কিন্তু আরিশার মাথায় তখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরিশা (মনে মনে): বাসায় দেখা হবে, মিস্টার রওনক চৌধুরী! ক্লাসে তো অনেক ভাব নিচ্ছ! দেখি বাসায় গিয়ে কত বড় প্রফেসর থাকিস!

আরিশা মনে মনে রওনককে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করতে লাগল।

অন্যদিকে রওনক গম্ভীর মুখে সবার পরিচয় শুনছিলেন। তবে মাঝে মাঝে তাঁর চোখ যে আরিশার দিকে চলে যাচ্ছিল, তা কেউ খেয়াল করল না।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন