🥀 অচেনা শহরে পরিচিত তুমি
✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা
পাঠ ২ — প্রথম দেখা, প্রথম ঝগড়া! ☕💥
সকাল আটটা।
চৌধুরী বাড়ির পরিবেশ আজ অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশি ব্যস্ত। ডাইনিং টেবিলে বসে নাশতা করছে সবাই। কিন্তু মাহি চৌধুরী ওরফে মেহুর মন নাশতায় নেই। সে বারবার ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছে।
মিরাজ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কী হয়েছে তোর? সকাল থেকে ফোনের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? ফোনের মধ্যে কি গুপ্তধন আছে?
মেহু মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ভাইয়া, তোমার মতো বুড়ো মানুষের কাছে এসবের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব না!
— কী বললি? আমি বুড়ো?
— না না, তুমি তো একদম তরুণ! শুধু চুলের মধ্যে দু-একটা সাদা রঙের ডিজাইন হয়েছে।
আরিয়ান হো হো করে হেসে উঠল। মিরাজ চামচ নামিয়ে তার দিকে তাকাতেই সে দ্রুত গম্ভীর হয়ে গেল।
— আমি হাসিনি ভাইয়া। আমার গলায় পানি আটকে গিয়েছিল!
মাহমুদা আক্তার হাসি চাপতে চাপতে বললেন,
— তোরা দুজন সকালবেলায় শুরু করিস না। মেহু, তাড়াতাড়ি খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা।
মেহু ব্যাগ কাঁধে তুলে বলল,
— যাচ্ছি মা। আজ আমার বান্ধবী আফরিনের সঙ্গে অনেক জরুরি আলোচনা আছে।
মিরাজ সন্দেহের চোখে তাকাল।
— কী আলোচনা?
— সেটা তোমাকে বলা যাবে না। রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়!
কথাটা বলেই মেহু দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
মিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— এই মেয়েটাকে একদিন আমার হার্টের ডাক্তার দেখাতে হবে!
---
অন্যদিকে, মির্জা বাড়িতে সকাল থেকেই ব্যস্ততা চলছে।
মির্জা আরহান ফারহান, যাকে সবাই আদি বলে ডাকে, নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে কালো শার্টের হাতা ঠিক করছিল। আজ অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। তার মুখের গম্ভীর ভাব দেখে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান আজই তাকে করতে হবে।
ঠিক তখনই তার ছোট বোন আরিশা ঘরে ঢুকে বলল,
— ভাইয়া, তুমি কি জন্মের সময়ও এমন গম্ভীর ছিলে?
আদি আয়নার দিকে তাকিয়েই বলল,
— কী বলতে চাস?
— কিছু না। তোমাকে দেখে মনে হয়, হাসলে বুঝি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাবে!
পেছন থেকে রায়ান হেসে উঠল। সে আদির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়ও।
আদি এবার দুজনের দিকে তাকাল।
— তোমাদের দুজনের কাজ নেই?
আরিশা মিষ্টি হেসে বলল,
— আছে তো! তোমাকে বিরক্ত করা আমাদের পারিবারিক দায়িত্ব।
কথাটা বলেই সে পালিয়ে গেল।
রায়ান মাথা নেড়ে বলল,
— বন্ধু, তোর বিয়ে হলে বউয়ের কী অবস্থা হবে, ভাবতেই আমার ভয় লাগছে!
আদি ঘড়ি হাতে নিতে নিতে বলল,
— আমার বিয়ে নিয়ে চিন্তা করার আগে নিজের জীবনটা ঠিক কর।
— ঠিক আছে, জনাব ম্যানেজিং ডিরেক্টর!
---
সকাল দশটা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে বসে আছে মেহু। আফরিন তার পাশে বসে গল্প করছে। মেহু হঠাৎ উঠে বলল,
— আমি কফি নিয়ে আসছি। কেউ আমার জায়গা দখল করবি না!
আফরিন হেসে বলল,
— তোর সিংহাসন কেউ নেবে না, মহারানি!
মেহু কফি হাতে নিয়ে ফিরছিল। ঠিক তখনই সামনের দিক থেকে একজন লম্বা ছেলে ফোনে কথা বলতে বলতে এগিয়ে এল।
মেহু সামনে খেয়াল করেনি। পরমুহূর্তেই—
ছলকে পড়ল কফি!
ছেলেটির কালো শার্টের ওপর বাদামি দাগ ছড়িয়ে গেল।
মেহু থমকে দাঁড়াল।
ছেলেটি ফোন সরিয়ে ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল। তার চোখে বিরক্তি স্পষ্ট।
— চোখে দেখতে পাও না?
মেহুও কম যায় না।
— আপনি কি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে অফিস করেন? সামনে মানুষ আসছে, সেটাও দেখেননি!
— আমার শার্টের অবস্থা দেখেছ?
— দেখেছি। কিন্তু শার্টটা তো আর জাতীয় সম্পদ নয়!
ছেলেটি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকাল।
— ক্ষমা চাওয়ার বদলে তর্ক করছ?
মেহু এবার একটু থমকালেও মুখের ভাব শক্ত রাখল।
— আচ্ছা, সরি। কিন্তু আপনিও একটু সাবধানে হাঁটতে পারতেন।
— তোমার এই সরিটা রাখো। ভবিষ্যতে মানুষের চলার পথে বাধা হয়ো না।
মেহুর চোখ বড় হয়ে গেল।
— কী! আমি বাধা? আপনি নিজেকে কী ভাবেন, এই শহরের রাজা?
ছেলেটি ঠান্ডা গলায় বলল,
— অন্তত তোমার মতো বাচ্চাদের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝগড়া করি না।
মেহু রেগে গিয়ে বলল,
— বাচ্চা কাকে বললেন? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি!
— তাহলে আচরণেও সেটা দেখাও।
কথাটা বলে ছেলেটি চলে গেল।
মেহু পেছন থেকে চিৎকার করে বলল,
— আবার দেখা হলে বুঝিয়ে দেব, মাহি চৌধুরী কাকে বলে!
ছেলেটি একবারও পেছনে তাকাল না।
---
আফরিন এতক্ষণ দূর থেকে সব দেখছিল। মেহু ফিরে আসতেই সে মুখ চেপে হাসল।
— বাহ! সকাল সকাল কী সুন্দর পরিচয় হলো!
মেহু রাগী চোখে তাকাল।
— হাসবি না। লোকটা একটা আস্ত অহংকারী!
আফরিন বলল,
— তবে দেখতে কিন্তু বেশ সুদর্শন।
— তুই ওর পক্ষ নিচ্ছিস?
— না রে, আমি শুধু সত্যিটা বলছি।
মেহু বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব আজ থেকে শেষ!
আফরিন হেসে তার হাত ধরল।
— ঠিক আছে, আগে কফির টাকা দে। তারপর বন্ধুত্ব ভাঙিস।
দুজনেই হেসে উঠল। কিন্তু মেহুর মনে ছেলেটির অপমানজনক কথাগুলো ঘুরতে থাকল।
---
অন্যদিকে, গাড়িতে বসে নিজের শার্টের দাগ দেখছিল আদি। রায়ান পাশে বসে সব শুনে হাসতে হাসতে বলল,
— ভাই, মেয়েটা তোকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে!
আদি গম্ভীর গলায় বলল,
— মেয়েটার ব্যবহার অসহ্য।
— নাম জানিস?
— জানার দরকার নেই।
রায়ান মুচকি হেসে বলল,
— আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, আবার দেখা হবে।
আদি জানালার বাইরে তাকাল।
— অসম্ভব।
ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে মা জানালেন, সন্ধ্যায় তাদের চৌধুরী বাড়িতে যেতে হবে।
আদি বিরক্ত হয়ে বলল,
— আজই যেতে হবে?
— হ্যাঁ বাবা। দাদুর সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাই অপেক্ষা করবেন।
ফোন রেখে আদি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
রায়ান কৌতূহলী চোখে তাকাল।
— কী হয়েছে?
আদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— সন্ধ্যায় চৌধুরী বাড়িতে যেতে হবে।
রায়ানের মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
— চৌধুরী বাড়ি? তাহলে তোর কফিওয়ালি রাজকন্যার সঙ্গে আবার দেখা হয়ে যেতে পারে!
আদি কঠিন গলায় বলল,
— আর একটা কথা বললে তোকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেব।
রায়ান হাসতে হাসতে জানালার বাইরে তাকাল।
সে জানত না, এই ছোট্ট ঘটনাই একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় গল্পের শুরু হয়ে থাকবে।
চলবে... 🥀❤️
পর্ব 2
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান