ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 3

লেখক: Mafiya Queen

❤️ শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

✍️ লেখক: Mafiya Queen 👑

তৃতীয় পর্ব: তুমি কার গল্পে জড়িয়ে পড়ছ?

কিছু সম্পর্কের কোনো নাম থাকে না। অথচ সেই সম্পর্কের সামান্য পরিবর্তনও হৃদয়ে অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম দেয়।

আরিয়ান কি সত্যিই নীরাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে? নাকি সবকিছুই কেবল কাকতালীয়?

তৃষার সন্দেহ

রাত ১০টা।

আরিয়ান নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। ঠিক তখনই তার ফোনে তৃষার মেসেজ এল।

তৃষা:
কাল তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে। দেখা করতে চাই।

আরিয়ান মেসেজটি দেখে কোনো উত্তর দিল না।

কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ এল।

তৃষা:
আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা কোরো না, আরিয়ান। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

আরিয়ান বিরক্ত হয়ে ফোনটি টেবিলে রেখে দিল।

তার জীবনে বিয়ে নিয়ে পরিবারের অনেক পরিকল্পনা থাকলেও সে এখনো নিজের মন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিশেষ করে তৃষাকে সে কখনো সেই দৃষ্টিতে দেখেনি, যেভাবে একজন মানুষ তার জীবনসঙ্গীকে দেখতে চায়।

কিন্তু পরিবারের সঙ্গে তৃষাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। তাই বিষয়টি সহজে এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

হঠাৎ তার মনে পড়ল অফিসের মেয়েটির কথা।

নীরা রহমান।

মেয়েটির চোখে এক ধরনের সরলতা আছে। নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে। আবার প্রয়োজনের বাইরে কারও সঙ্গে বেশি মিশতেও চায় না।

আরিয়ান নিজেকে প্রশ্ন করল,

— আমি ওর কথা এত ভাবছি কেন?

কোনো উত্তর পেল না।

নীরার সকাল

পরদিন সকাল।

নীরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল।

মা ঘরে এসে বললেন,

— মা, নাশতা করে যা। প্রতিদিন এভাবে তাড়াহুড়ো করলে শরীর খারাপ হয়ে যাবে।

নীরা হেসে বলল,

— আর মাত্র পাঁচ মিনিট, মা।

মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— চাকরিটা ভালোভাবে করিস। কিন্তু নিজের সম্মান আর আত্মমর্যাদার ব্যাপারে কখনো আপস করবি না।

নীরা মায়ের হাত ধরে বলল,

— তুমি চিন্তা কোরো না। আমি সব সময় তোমার কথাগুলো মনে রাখব।

নাশতা শেষ করে সে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।

আজ তার মনটা বেশ ভালো।

কারণ গত কয়েক দিনে সে নিজের কাজের মধ্যে কিছুটা আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছে।

অফিসে নতুন ঝড়

সকাল ৯টা ৩০ মিনিট।

নীরা অফিসে প্রবেশ করতেই মেহের তাকে ডাকল।

— নীরা! এদিকে আসো।

— কী হয়েছে?

মেহের চারপাশে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,

— আজ তৃষা ম্যাডাম আবার এসেছেন।

নীরা অবাক হলো।

— আবার?

— হ্যাঁ। সকাল থেকেই বসের কেবিনে আছেন।

নীরা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বলল,

— তাতে কী হয়েছে?

মেহের একটু হেসে বলল,

— কিছু না। তবে তোমাকে দেখলে উনি কেমন যেন তাকান।

নীরা বিরক্ত হয়ে বলল,

— আমি তো উনার কিছু করিনি।

— সেটা আমিও জানি।

ঠিক তখনই আরিয়ানের কেবিনের দরজা খুলে গেল।

তৃষা বাইরে বেরিয়ে এল।

তার চোখ সরাসরি নীরার দিকে পড়ল।

— এই যে, মিস নীরা!

নীরা উঠে দাঁড়াল।

— জি?

— একটু আমার সঙ্গে আসবেন?

নীরা কিছুটা অবাক হলেও তার সঙ্গে গেল।

অফিসের একটি নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে তৃষা থামল।

— আপনি কি জানেন আরিয়ান কে?

নীরা শান্তভাবে উত্তর দিল,

— জি। উনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের CEO।

তৃষা ঠোঁটে হালকা হাসি এনে বলল,

— শুধু CEO নয়। উনি খুব শিগগিরই আমার জীবনসঙ্গী হতে যাচ্ছেন।

নীরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— মাশাআল্লাহ। আপনাদের জন্য শুভকামনা।

তৃষা যেন এমন উত্তর আশা করেনি।

সে বলল,

— তাহলে একটা কথা মনে রাখবেন। অফিসে নিজের কাজ করবেন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরিয়ানের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

নীরার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

— আপনি ভুল বুঝছেন। আমি এখানে চাকরি করতে এসেছি। কারও ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করতে নয়।

তৃষা কিছু বলার আগেই নীরা সেখান থেকে চলে এল।

তার মনে হলো, অকারণে তাকে অপমান করা হচ্ছে।

আরিয়ানের প্রশ্ন

দুপুর ১২টা।

নীরা নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছিল।

হঠাৎ রাফি এসে বলল,

— নীরা ম্যাডাম, স্যার আপনাকে ডাকছেন।

নীরা ফাইল হাতে নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করল।

আরিয়ান বলল,

— বসুন।

নীরা বসল।

— তৃষা আপনার সঙ্গে কথা বলেছে?

নীরা একটু থেমে বলল,

— জি, স্যার।

— কী বলেছে?

— ব্যক্তিগত কিছু কথা। তবে স্যার, আমি চাই না অফিসের বাইরের কোনো বিষয় আমার কাজের ওপর প্রভাব ফেলুক।

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— ওর কথায় মন খারাপ করবেন না।

নীরা এবার সরাসরি তার দিকে তাকাল।

— স্যার, একটা কথা বলব?

— বলুন।

— আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে যদি অফিসে আমাকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটা আমার জন্য কঠিন হবে।

আরিয়ান এবার একটু গম্ভীর হলো।

— এমন কিছু হবে না। আপনার কাজের জায়গায় কেউ অযথা হস্তক্ষেপ করবে না।

নীরা মাথা নাড়ল।

— ধন্যবাদ, স্যার।

কেবিন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরিয়ান আবার ডাকল।

— নীরা!

সে ফিরে তাকাল।

— জি?

— নিজের কাজের প্রতি এই মনোযোগটা ধরে রাখবেন।

নীরা মৃদু হেসে বলল,

— চেষ্টা করব।

একটি পুরোনো ছবি

বিকেল ৪টা।

আরিয়ান নিজের কেবিনে বসে ছিল।

হঠাৎ তার ফোনে একটি পুরোনো ছবি ভেসে উঠল।

ছবিতে একজন নারী। পরনে সাদা পোশাক, মুখে মিষ্টি হাসি।

আরিয়ানের মুখ মুহূর্তেই বদলে গেল।

সে ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ফোনটি বন্ধ করে দিল।

ঠিক তখন রাফি কেবিনে প্রবেশ করল।

— স্যার, আগামীকালের মিটিংয়ের সময় পরিবর্তন হয়েছে।

আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।

রাফি আবার ডাকল,

— স্যার?

— হ্যাঁ, বলো।

— আপনি ঠিক আছেন?

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— রাফি, মানুষের জীবনে কি কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো চাইলেও ভুলে থাকা যায় না?

রাফি অবাক হয়ে গেল।

— স্যার, কিছু স্মৃতি হয়তো কখনো ভোলা যায় না। তবে সেগুলো নিয়ে সারাজীবন আটকে থাকলে বর্তমানটাও হারিয়ে যায়।

আরিয়ান জানালার দিকে তাকাল।

— কিছু ভুলের ক্ষমা হয় না, রাফি।

রাফি আর কোনো কথা বলল না।

কারণ সে জানে, আরিয়ানের অতীতে এমন কিছু আছে, যা নিয়ে সে কখনো কারও সঙ্গে কথা বলতে চায় না।

নীরার জীবনে নতুন সমস্যা

সন্ধ্যা।

অফিস থেকে ফিরে নীরা দেখল, বাসায় আত্মীয়স্বজন এসেছে।

বসার ঘরে তার বাবা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছেন।

নীরা মাকে জিজ্ঞেস করল,

— মা, কারা এসেছে?

মা বললেন,

— তোর বাবার এক পরিচিত মানুষ। তোর জন্য একটা ভালো সম্বন্ধ এনেছেন।

নীরা বিরক্ত হয়ে বলল,

— মা, আবার বিয়ের কথা?

মা মেয়েকে শান্ত করে বললেন,

— আগে মানুষটাকে তো চিনে নে। আমরা তোকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছি না।

নীরা ঘরে চলে গেল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাবা তাকে ডাকলেন।

— নীরা, একটু এদিকে আয় মা।

নীরা বসার ঘরে এল।

একজন মধ্যবয়সী ভদ্রলোক তার বাবার পাশে বসে আছেন।

বাবা পরিচয় করিয়ে দিলেন,

— ইনি মাহবুব সাহেব। আর যার কথা বলছিলাম, তার নাম সাদমান। ছেলেটি একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।

নীরা ভদ্রভাবে সালাম দিল।

মাহবুব সাহেব বললেন,

— মা, তোমার সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছি। আমার ছেলে তোমাকে পছন্দ করবে বলে আশা করি।

নীরা শান্তভাবে বলল,

— আঙ্কেল, আমি এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত নই।

ভদ্রলোক কিছুটা অবাক হলেন।

— কেন মা?

— আমি নিজের চাকরিটা একটু গুছিয়ে নিতে চাই। পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই।

বাবা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

— ওর কথাটা বুঝতে চেষ্টা করবেন। ও এখন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত।

কথাবার্তা সেখানেই শেষ হলো।

কিন্তু নীরার মনে অস্বস্তি থেকেই গেল।

অচেনা নম্বর

রাত ৯টা ১৫ মিনিট।

নীরা নিজের ঘরে বসে ছিল।

হঠাৎ ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল এল।

সে ফোন ধরল।

— হ্যালো?

ওপাশ থেকে পুরুষ কণ্ঠ বলল,

— আপনি কি নীরা রহমান?

— জি। আপনি কে?

— আমি সাদমান।

নীরা কিছুটা অবাক হলো।

— কোন সাদমান?

— আজ আপনার বাসায় আমার বাবা গিয়েছিলেন।

নীরা বুঝতে পারল।

— ওহ, জি। বলুন।

সাদমান বলল,

— আসলে আপনার সঙ্গে পরিচিত হতে চাচ্ছিলাম। আপনি যদি আপত্তি না করেন, আমরা কথা বলতে পারি।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— দুঃখিত। আমি এখন এসব বিষয়ে আগ্রহী নই।

— বুঝলাম। তবে পরিচিত হতে তো সমস্যা নেই।

— আমি দুঃখিত। আশা করি আপনি আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।

এই বলে নীরা ফোন রেখে দিল।

সে জানালার বাইরে তাকাল।

তার জীবনটা হঠাৎ যেন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।

অপ্রত্যাশিত দেখা

পরদিন দুপুর।

অফিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল।

নীরা নিজের রিপোর্ট নিয়ে কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করল।

সেখানে আরিয়ানসহ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

মিটিং শুরু হলো।

নীরা নিজের প্রস্তুত করা রিপোর্ট উপস্থাপন করতে দাঁড়াল।

প্রথমে কিছুটা নার্ভাস লাগলেও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল।

সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল।

প্রেজেন্টেশন শেষ হলে আরিয়ান বলল,

— ভালো হয়েছে। বিশেষ করে আপনার তথ্য বিশ্লেষণের অংশটি।

নীরা মৃদু হাসল।

— ধন্যবাদ, স্যার।

একজন কর্মকর্তা বললেন,

— নতুন হয়েও বেশ ভালো কাজ করছেন।

আরিয়ান উত্তর দিল,

— যোগ্যতা থাকলে নতুন-পুরোনো বিষয় নয়।

নীরা কথাটা শুনে কিছুটা অনুপ্রাণিত হলো।

মিটিং শেষে সবাই বেরিয়ে গেল।

নীরা নিজের ল্যাপটপ গুছিয়ে নিচ্ছিল।

আরিয়ান দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলল,

— মিস নীরা।

— জি, স্যার?

— আজকের কাজের জন্য ধন্যবাদ।

নীরা হেসে বলল,

— এটা তো আমার দায়িত্ব, স্যার।

আরিয়ান বলল,

— দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাটাও একটা যোগ্যতা।

নীরা কিছু বলল না।

শুধু মৃদু হাসল।

তৃষার নতুন পরিকল্পনা

সন্ধ্যা ৬টা।

তৃষা নিজের গাড়িতে বসে ছিল।

তার পাশে বান্ধবী রিমি।

রিমি বলল,

— তুই এখনো ওই মেয়েটাকে নিয়ে ভাবছিস?

তৃষা বিরক্ত হয়ে বলল,

— আরিয়ান ওকে নিয়ে এত চিন্তা করে কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না।

রিমি হেসে বলল,

— হতে পারে মেয়েটা ভালো কাজ করে।

তৃষা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।

— আমি কি বোকা? আমি বুঝতে পারছি কিছু একটা হচ্ছে।

রিমি বলল,

— তাহলে আরিয়ানের সঙ্গে সরাসরি কথা বল।

তৃষা ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,

— কথা বলব। তবে তার আগে আমাকে জানতে হবে, মেয়েটির জীবনে আর কে কে আছে।

সে ফোন হাতে নিল।

নীরার নাম লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুঁজতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর নীরার একটি ছবি সামনে এল।

তৃষা ছবিটির দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ফোন বন্ধ করে দিল।

রাতের শেষ মেসেজ

রাত ১১টা।

নীরা বিছানায় শুয়ে ছিল।

দিনভর অনেক কিছু ঘটেছে।

বাবার বিয়ের প্রস্তাব, সাদমানের ফোন, অফিসের কাজ—সব মিলিয়ে মাথাটা ভার হয়ে আছে।

ঠিক তখন ফোনে একটি মেসেজ এল।

আরিয়ান:

“আজকের প্রেজেন্টেশন ভালো হয়েছে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবেন।”

নীরা মেসেজটি পড়ে উত্তর দিল,

“ধন্যবাদ, স্যার। আপনার উৎসাহ পেলে কাজ করতে ভালো লাগে।”

মেসেজ পাঠানোর পর নীরা ফোনটি পাশে রাখল।

অন্যদিকে আরিয়ান উত্তরটি পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর লিখল,

“শুভরাত্রি, নীরা।”

নীরা মেসেজটি দেখে একটু অবাক হলো।

সাধারণত অফিসের বাইরের কথাবার্তা সে খুব একটা পছন্দ করে না।

তবুও উত্তর দিল,

“শুভরাত্রি, স্যার।”

আরিয়ান ফোনটি বন্ধ করে দিল।

তার মনে হঠাৎ পুরোনো একটি স্মৃতি ফিরে এল।

অনেক বছর আগে কেউ একজন তাকে ঠিক এভাবেই শুভরাত্রি বলত।

কিন্তু সেই মানুষটি আজ তার জীবনে নেই।

আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।

নিজের মনেই বলল,

— অতীতকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

শেষ দৃশ্য: যে সত্য কেউ জানে না

রাত ১২টা ২০ মিনিট।

আরিয়ানের ফোনে হঠাৎ একটি কল এল।

স্ক্রিনে অপরিচিত নম্বর।

সে ফোন ধরল।

— হ্যালো?

ওপাশ থেকে একজন নারীর কণ্ঠ শোনা গেল।

— আরিয়ান... তুমি কি আমাকে চিনতে পেরেছ?

আরিয়ান স্থির হয়ে গেল।

কণ্ঠটি তার খুব পরিচিত।

বহুদিন ধরে যে কণ্ঠ সে আর শোনেনি।

তার ঠোঁট কাঁপতে লাগল।

— তুমি?

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

— হ্যাঁ, আমি। তোমার জীবনের সেই মানুষ, যাকে তুমি একদিন হারিয়ে ফেলেছিলে।

আরিয়ান কয়েক মুহূর্ত কথা বলতে পারল না।

তারপর ধীরে বলল,

— এতদিন পর কেন ফোন করলে?

নারীটি বলল,

— কারণ তোমাকে একটা সত্য জানানো দরকার। এমন একটা সত্য, যা জানার পর তুমি হয়তো আর আগের মতো থাকতে পারবে না।

আরিয়ানের চোখে বিস্ময়।

— কী সত্য?

ওপাশ থেকে উত্তর এল,

— নীরা রহমানকে তুমি যতটা সাধারণ মেয়ে ভাবছ, সে আসলে ততটা সাধারণ নয়।

কথাটি শুনে আরিয়ান যেন জমে গেল।

— তুমি নীরাকে চেনো?

নারীটি মৃদু হেসে বলল,

— শুধু চিনি না, আরিয়ান। তার সঙ্গে আমার অতীতের একটা সম্পর্ক আছে।

ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

আরিয়ান স্থির হয়ে বসে রইল।

তার মাথায় একের পর এক প্রশ্ন ঘুরতে লাগল।

কে এই নারী?

নীরার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?

আর এতদিন পর সে ফিরে এল কেন?

চলবে...

❤️ তৃতীয় পর্ব সমাপ্ত ❤️

পরবর্তী পর্ব: চতুর্থ পর্ব — অতীতের ছায়া

একটি ফোনকল, একটি অজানা পরিচয় এবং এমন এক সত্য, যা নীরা নিজেও জানে না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন