❤️ শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি
✍️ লেখক: Mafiya Queen 👑
দ্বিতীয় পর্ব: অজানা অনুভূতির শুরু
কিছু মানুষকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায় না। বরং তাদের সঙ্গে বারবার দেখা হতে হতে একসময় অজান্তেই তারা মনের একটা জায়গা দখল করে নেয়।
নীরার জীবনেও কি তেমন কিছু ঘটতে চলেছে?
সকাল ৮টা ৩০ মিনিট।
অ্যালার্মের শব্দে নীরার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলেই ফোনের দিকে তাকাল। গত রাতের সেই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা মেসেজটি এখনো তার ফোনে রয়েছে।
“আর নিজের খেয়াল রাখবেন।”
কথাটা মনে পড়তেই নীরা একটু হাসল।
নিজের মনেই বলল,
— বস মানুষটা যতই গম্ভীর হোক, মাঝে মাঝে ভালো কথাও বলতে পারে!
তারপর দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল।
আজ অফিসে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাই কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না।
নাশতা শেষ করে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
অফিসের নতুন দায়িত্ব
সকাল ৯টা ৫ মিনিট।
নীরা অফিসে পৌঁছে নিজের ডেস্কে বসল।
মেহের তাকে দেখেই বলল,
— এই যে নতুন ম্যাডাম! আজ তো বেশ সময়মতো এসেছ!
নীরা হেসে বলল,
— সময়মতো আসার চেষ্টা করছি।
— আরে, আমাদের বস তো তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন।
নীরা অবাক হলো।
— আমার জন্য?
— হ্যাঁ। সকালে রাফি ভাই এসে তোমাকে খুঁজেছেন।
— কেন?
— সেটা তো জানি না। যাও, আগে বসের কেবিনে যাও।
নীরা নিজের ফাইল হাতে নিয়ে আরিয়ানের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল।
দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল,
— কাম ইন।
নীরা ভেতরে ঢুকল।
— আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
আরিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে তাকাল।
— ওয়ালাইকুম আসসালাম। বসুন।
নীরা বসে পড়ল।
আরিয়ান একটি ফাইল তার দিকে এগিয়ে দিল।
— এই প্রজেক্টের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হচ্ছে।
নীরা ফাইলটি হাতে নিল।
— স্যার, আমি কি একাই কাজটা করব?
— না। আপনার সঙ্গে আরও দুজন কাজ করবে। তবে পুরো রিপোর্টের দায়িত্ব আপনার।
— ঠিক আছে, স্যার।
— আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নীরা ফাইল খুলে দেখতে লাগল।
কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর সে একটু চিন্তিত হয়ে বলল,
— স্যার, এখানে কিছু তথ্য অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে।
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কোন তথ্য?
নীরা নির্দিষ্ট জায়গাটি দেখিয়ে দিল।
আরিয়ান ফাইলটি নিজের দিকে টেনে নিল।
কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বলল,
— আপনি ঠিক বলেছেন। বিষয়টা আমি দেখছি।
নীরা অবাক হলো।
সে ভেবেছিল, তার কথা শুনে হয়তো আরিয়ান বিরক্ত হবে।
কিন্তু লোকটি বরং তার পর্যবেক্ষণের প্রশংসা না করলেও ভুলটি স্বীকার করল।
আরিয়ান বলল,
— কাজের সময় কোনো সমস্যা হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন।
— জি, স্যার।
— আর একটা কথা।
— বলুন।
— সবকিছু একা সামলানোর চেষ্টা করবেন না। টিমের সাহায্য নেবেন।
নীরা মাথা নাড়ল।
তারপর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
বন্ধুত্বের শুরু
দুপুর ১২টা।
নীরা ও মেহের একসঙ্গে বসে প্রজেক্টের কাজ করছিল।
মেহের হঠাৎ বলল,
— নীরা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— বলো।
— তুমি কি আগে কখনো প্রেম করেছ?
নীরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
— এমনি। তোমাকে দেখে মনে হয় তুমি খুব শান্ত স্বভাবের।
নীরা হেসে বলল,
— প্রেম করার সময় কোথায়? পড়াশোনা, পরিবার আর এখন চাকরি।
মেহের মুচকি হেসে বলল,
— তাহলে তোমার জীবনে এখনো কোনো বিশেষ মানুষ আসেনি?
নীরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— না। তবে আমি চাই, জীবনে এমন একজন মানুষ আসুক, যে আমাকে শুধু ভালোবাসবে না, সম্মানও করবে।
মেহের মাথা নাড়ল।
— কথাটা কিন্তু সুন্দর বলেছ।
নীরা আবার কাজে মন দিল।
ঠিক তখনই তাদের সামনে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
— কাজ শেষ হয়েছে?
দুজনেই তাকাল।
আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।
মেহের তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল।
— স্যার!
নীরাও উঠে দাঁড়াল।
আরিয়ান ফাইলের দিকে তাকিয়ে বলল,
— কাজের অগ্রগতি কেমন?
নীরা উত্তর দিল,
— স্যার, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কিছু অংশ এখনো বাকি।
— ভালো। বিকেলের মধ্যে আমাকে আপডেট দেবেন।
— জি, স্যার।
আরিয়ান চলে গেল।
মেহের নীরার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— দেখলে? বসের সামনে আমার তো কথা বলার শক্তিই থাকে না!
নীরা হেসে ফেলল।
একটি অপ্রত্যাশিত ফোনকল
বিকেল ৩টা।
নীরা কাজ করছিল।
হঠাৎ তার ফোনে একটি কল এল।
স্ক্রিনে বাবার নাম দেখে দ্রুত ফোন ধরল।
— বাবা, বলো।
ওপাশ থেকে বাবার কণ্ঠ কিছুটা চিন্তিত শোনাল।
— মা, তোর সঙ্গে একটা কথা ছিল।
— কী হয়েছে বাবা?
— তুই কি আজ একটু আগে বাসায় আসতে পারবি?
— কেন? তোমার শরীর খারাপ?
— না মা। তেমন কিছু না। একটা দরকারি কথা আছে।
নীরা একটু চিন্তিত হয়ে পড়ল।
— ঠিক আছে বাবা। অফিসের কাজ শেষ করে আসছি।
ফোন রেখে সে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল।
মেহের জিজ্ঞেস করল,
— কী হয়েছে?
— বাবা বাসায় যেতে বলেছেন। একটু চিন্তা হচ্ছে।
— সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি কাজটা শেষ করো।
নীরা মাথা নাড়ল।
আরিয়ানের জীবনের অজানা অধ্যায়
সন্ধ্যা ৬টা।
অফিসের কাজ শেষ করে আরিয়ান নিজের কেবিনে বসে ছিল।
ঠিক তখন রাফি ভেতরে প্রবেশ করল।
— স্যার, আজকের মিটিংয়ের রিপোর্ট।
আরিয়ান ফাইলটি হাতে নিল।
রাফি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলল,
— স্যার, একটা কথা বলব?
— বলো।
— আপনি কি নীরা ম্যাডামের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট?
আরিয়ান ফাইল থেকে চোখ না সরিয়েই বলল,
— কেন?
— না, উনি নতুন। তাই জানতে চাচ্ছিলাম।
আরিয়ান এবার তাকাল।
— মেয়েটা কাজ ভালো করছে। আশা করি সামনে আরও ভালো করবে।
রাফি মাথা নাড়ল।
তারপর হঠাৎ বলল,
— স্যার, আপনার মেজাজ আজকাল একটু ভালো মনে হচ্ছে।
আরিয়ান চোখ তুলে তাকাল।
— রাফি!
— জি, স্যার?
— কাজ না থাকলে বাইরে যাও।
রাফি হাসি চাপতে চাপতে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
আরিয়ান আবার কাজে মন দিল।
কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর তার মনে পড়ল নীরার কথাগুলো।
বিশেষ করে ইন্টারভিউয়ের দিন বলা সেই কথাটি—
“আপনি সব সময় এত গম্ভীর থাকেন?”
আরিয়ান অজান্তেই মৃদু হাসল।
বাবার দেওয়া প্রস্তাব
রাত ৮টা।
নীরা বাসায় ফিরে দেখল, বাবা বসার ঘরে বসে আছেন।
মা চা তৈরি করছেন।
নীরা ব্যাগ রেখে বাবার পাশে বসল।
— বলো বাবা, কী কথা ছিল?
বাবা একটু ইতস্তত করে বললেন,
— মা, তোর জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব এসেছে।
নীরা থমকে গেল।
— বিয়ের প্রস্তাব?
— হ্যাঁ। ছেলেটা ভালো পরিবারের। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ওদের পরিবার আমাদের পরিচিত।
নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর শান্তভাবে বলল,
— বাবা, আমি এখনই বিয়ে করতে চাই না।
বাবা মেয়ের দিকে তাকালেন।
— কেন মা? আমরা তোকে জোর করছি না। শুধু বললাম।
নীরা বাবার হাত ধরে বলল,
— আমি আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তোমাদের একটু স্বস্তি দিতে চাই। তারপর এসব নিয়ে ভাবব।
বাবা মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,
— তোর ইচ্ছাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নীরা বাবার কাঁধে মাথা রাখল।
কিন্তু তার মনে একটা অদ্ভুত অস্বস্তি রয়ে গেল।
রাতের অজানা মেসেজ
রাত ১০টা ৪০ মিনিট।
নীরা নিজের ঘরে বসে অফিসের ফাইল দেখছিল।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।
Unknown Number:
“আজকের রিপোর্টটা দেখেছি। ভালো কাজ করেছেন।”
নীরা নম্বরটি দেখে বুঝতে পারল, এটি আরিয়ানের নম্বর।
সে উত্তর দিল,
“ধন্যবাদ, স্যার। চেষ্টা করছি আরও ভালো করার।”
কিছুক্ষণ পর আবার মেসেজ এল।
আরিয়ান:
“চেষ্টা নয়, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”
নীরা মেসেজটি পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর লিখল,
“জি, স্যার। শুভরাত্রি।”
আরিয়ান মেসেজটি দেখল।
কিন্তু উত্তর দিল না।
সে ফোনটি টেবিলে রেখে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
তার জীবনে অনেক মানুষ এসেছে। কিন্তু কাউকে নিজের মনের কথা বলার প্রয়োজন সে কখনো অনুভব করেনি।
তবুও আজকাল ছোট ছোট কিছু বিষয় তার নজর এড়িয়ে যাচ্ছে না।
পরদিনের ঘটনা
পরদিন সকাল।
অফিসে পৌঁছে নীরা নিজের ডেস্কে বসতেই মেহের একটি খবর দিল।
— নীরা, শুনেছ?
— কী?
— আজ আমাদের অফিসে একজন বিশেষ অতিথি আসবেন।
— কে?
— স্যারের পরিবারের একজন।
নীরা অবাক হয়ে বলল,
— পরিবারের কেউ অফিসে আসবেন কেন?
মেহের কাঁধ ঝাঁকাল।
— সেটা জানি না। তবে শুনেছি, উনার সঙ্গে স্যারের বিয়ের কথাবার্তা চলছে।
নীরা কাজ করতে করতে হঠাৎ থেমে গেল।
— বিয়ের কথা?
— হ্যাঁ। মেয়েটির নাম নাকি তৃষা।
নীরা কিছু বলল না।
কেন জানি কথাটা শুনে তার ভেতরে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো।
সে নিজেকে বোঝাল,
আরিয়ান তার বস। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভাবার কোনো কারণ নেই।
ঠিক তখনই অফিসের প্রবেশদ্বারে একটি সুন্দরী মেয়ে প্রবেশ করল।
পরনে দামি পোশাক, হাতে একটি ব্যাগ। মুখে আত্মবিশ্বাসী হাসি।
রিসেপশনে দাঁড়িয়ে সে বলল,
— আমি আরিয়ান রহমানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
রিসেপশনিস্ট বললেন,
— আপনার নাম?
— তৃষা।
নামটি শুনে মেহের নীরার দিকে তাকাল।
তারপর নিচু স্বরে বলল,
— মনে হয় ইনিই সেই তৃষা!
তৃষার আগমন
কিছুক্ষণ পর তৃষা আরিয়ানের কেবিনে প্রবেশ করল।
— হাই, আরিয়ান!
আরিয়ান অবাক হয়ে তাকাল।
— তৃষা! তুমি এখানে?
তৃষা হাসতে হাসতে বলল,
— তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলাম। এত ব্যস্ত থাকো যে ফোনেও ঠিকমতো কথা বলো না।
আরিয়ান শান্তভাবে বলল,
— অফিসে এসেছ, বসো।
তৃষা তার সামনে বসে পড়ল।
— আজ সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় আসবে। বাবা তোমার সঙ্গে কথা বলতে চান।
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
— কী বিষয়ে?
তৃষা মুচকি হেসে বলল,
— তুমি জানো না?
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
তৃষা এবার একটু অভিমানী কণ্ঠে বলল,
— আমাদের বিয়ের বিষয়ে, আর কী!
আরিয়ান জানালার দিকে তাকাল।
তারপর বলল,
— তৃষা, এই বিষয়ে আমার এখনো কিছু ভাবার সময় হয়নি।
তৃষার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
— তুমি কি আমাকে পছন্দ করো না?
— বিষয়টা তা নয়।
— তাহলে কী?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
তৃষা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উঠে দাঁড়াল।
— ঠিক আছে। পরে কথা হবে।
সে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
নীরার সঙ্গে প্রথম ভুল বোঝাবুঝি
তৃষা কেবিন থেকে বেরিয়ে সরাসরি রিসেপশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
পথে নীরার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগল।
নীরার হাতে থাকা কয়েকটি কাগজ মেঝেতে পড়ে গেল।
— সরি ম্যাডাম!
নীরা নিচু হয়ে কাগজগুলো তুলতে লাগল।
তৃষা বিরক্ত হয়ে বলল,
— চোখে দেখতে পান না?
নীরা মাথা তুলে বলল,
— সরি, আমি খেয়াল করিনি।
তৃষা নীরাকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে বলল,
— নতুন এসেছেন?
— জি।
— নাম কী?
— নীরা রহমান।
তৃষা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— আচ্ছা।
নীরা নিজের কাগজগুলো নিয়ে ডেস্কে ফিরে গেল।
সে বুঝতে পারল না, মেয়েটি তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করল কেন।
অন্যদিকে তৃষা একবার নীরার ডেস্কের দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের কেবিনের দিকে ফিরে গেল।
তার মনে তখন একটি প্রশ্ন ঘুরছিল—
আরিয়ান কি এই মেয়েটিকে আগে থেকেই চেনে?
শেষ দৃশ্য: একটি নতুন রহস্য
সন্ধ্যা ৭টা।
অফিসের কাজ প্রায় শেষ।
নীরা নিজের ব্যাগ গুছিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ঠিক তখন রাফি এসে বলল,
— নীরা ম্যাডাম, স্যার আপনাকে কেবিনে ডাকছেন।
নীরা অবাক হলো।
— এখন?
— জি।
নীরা ধীরে ধীরে আরিয়ানের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল।
ভেতরে প্রবেশ করে দেখল, আরিয়ান একা বসে আছে।
— স্যার, আমাকে ডেকেছেন?
আরিয়ান মাথা তুলে তাকাল।
— বসুন।
নীরা বসে পড়ল।
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— আজ তৃষার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে?
নীরা একটু অবাক হয়ে বলল,
— জি স্যার। উনি ভুল করে আমার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিলেন।
— উনি আপনাকে কিছু বলেছেন?
নীরা মৃদু হেসে বলল,
— নতুন বলে হয়তো একটু বকেছেন।
আরিয়ান বিরক্ত মুখে বলল,
— আমি দুঃখিত। ওর ব্যবহারের জন্য।
নীরা এবার অবাক হয়ে গেল।
— স্যার, আপনাকে দুঃখিত বলতে হবে না। এটা কোনো বড় বিষয় নয়।
আরিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— নীরা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
— জি, স্যার।
— আপনি কি সব সময় অন্যের কথায় এত সহজে কষ্ট পান?
নীরা একটু চুপ করে থেকে বলল,
— সবাইকে দেখাই না, স্যার। কিন্তু কষ্ট তো মানুষেরই হয়।
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
নীরা উঠে দাঁড়াল।
— তাহলে আমি আসি, স্যার।
— ঠিক আছে। সাবধানে যাবেন।
নীরা বেরিয়ে গেল।
আরিয়ান নিজের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রইল।
কিছুক্ষণ পর তার ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে তৃষার নাম।
সে ফোন ধরল।
ওপাশ থেকে তৃষার কণ্ঠ ভেসে এল—
“আরিয়ান, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। ওই নীরা মেয়েটির সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কী?”
আরিয়ান বিস্মিত হয়ে গেল।
— কী বলছ তুমি?
তৃষা ঠান্ডা কণ্ঠে বলল,
“আমি কিন্তু সবকিছু জানতে চাই, আরিয়ান।”
ফোন কেটে গেল।
আরিয়ান কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর জানালার বাইরে তাকাল।
সে বুঝতে পারল না, হঠাৎ তৃষার মনে এমন সন্দেহ কেন তৈরি হলো।
কিন্তু সে জানত না, এই একটি প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে এমন এক জটিল অধ্যায়, যা নীরা ও আরিয়ান দুজনের জীবনকেই বদলে দেবে।
চলবে...
❤️ দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত ❤️
পরবর্তী পর্বে:
তৃষা কি নীরাকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করবে? আরিয়ানের জীবনে কি সত্যিই অন্য কেউ আছে? নাকি তার অতীতের কোনো গোপন অধ্যায় এখনো তাকে আটকে রেখেছে?
জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে তৃতীয় পর্বের জন্য।